সবার আগে টিকা পাওয়ার অধিকার ডা. জাফরুল্লাহর

শওগাত আলী সাগর

সবার আগে টিকা পাওয়ার অধিকার ডা. জাফরুল্লাহর

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেন, ‘পয়লা টিকাটা প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উচিত। পাবলিকলি টেলিভিশনের সামনে টিকা উনি নিলে লোকের আস্থা জন্মাবে। পাশাপাশি প্রত্যেক মন্ত্রীর জেলা শহরে গিয়ে সবার আগে টিকা নেওয়া উচিত। তাহলে লোকের আস্থা জন্মাবে এবং তাদের বুঝিয়ে বলা যাবে।’

করোনার টিকার ব্যাপারে জনগণকে বুঝিয়ে বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীদের টিকা নিতে হবে কেন? কোন বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে ডা, জাফরুল্লাহ এই প্রেসক্রিপশন করছেন?

করোনার টিকা বিজ্ঞানের আবিষ্কার। এ নিয়ে কোনো কথা বলতে হলে অবশ্যই বিজ্ঞানের তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতেই বলতে হবে। যেহেতু এটি একটি নতুন বিষয়, সেই হেতু সাধারণ জনগণের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিধা সংশয় থাকাটা স্বাভাবিক। অতীতের যে কোনো টিকার ক্ষেত্রেই এই পরিস্থিতি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দায়িত্ব তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে সেই সংশয় দূর করা।একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডা. জাফরুল্লাহর দায়িত্বও সেটা।

বিজ্ঞানী, চিকিৎসকরা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলেন। অনেক রাজনীতিকই যুক্তিবিহীন সস্তা বাকোয়াজ করেন। ডা, জাফরুল্লাহ একজন চিকিৎসক। কিন্তু টিকা নিয়ে তার প্রেসক্রিপশনটি চিকিৎসক সুলভ নয়। করোনার মতো একটি স্পর্শকাতর মহামারীর  টিকা নিয়ে মানুষের মনে অবৈজ্ঞানিক চিন্তা থেকে উৎসারিত সংশয়কে তিনি উসকে দেয়ার চেষ্টা করছেন!

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবেই কেবল নয়, বয়সের বিবেচনায় টিকা প্রাপ্তির আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তালিকায় যারা স্থান পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ  সেই ক্যাটাগরিতে পরেন। তিনি বরং নিজে টিকা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি।

মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞান নয়। করোনা রাজনীতির উপাদান নয়। করোনার টিকা নিয়ে বিজ্ঞানের তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলা উচিৎ।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুন দেশ, কানাডা

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আমার এখন কোনো দেশের তালিকায় থাকব তাতো পরিস্কার বুঝতে হবে।

বলা হচ্ছে আমরা এলডিসি (Least Developed Country বা সংক্ষেপে LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) হতে যাচ্ছি।  কথাটির মানে হয় না।

এটা সত্য, এবং একটা গৌরবের বিষয়ও যে আমরা এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসব।  কিন্তু আমরা সবসময়েই উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, কারণ এলডিসি হলো উন্নয়নশীল দেশ (Developing country)-গুলোর মধ্যেই কিছু দেশের গ্রুপ (উপ-গ্রুপ বা sub-group) যারা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে কিছু সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট তিনটি সূচকের অনগ্রসরতা দিয়ে চিহ্নিত হয়; আমরা সেই সূচকের শর্তগুলো পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের সেই উপ-গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি, নতুন কিছু হতে যাচ্ছি না।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে কোনো দেশ নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবি করে কিছু সুযোগ চাইতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর সেই দাবি মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল না উন্নত দেশ তা নিয়ে এই মুহূর্তে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কাজেই সেদিক থেকেও আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ এটা ঘোষণা দেবার কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না।

লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

আতিকা রহমান

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

মানুষের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নাই। কে ফর্সা আর কে কালো, গায়ের রং কালো বলে তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা কিংবা কঠাক্ষ করে কথা বলা আমার একদম পছন্দ না।

গায়ের রং নিয়ে এমন বর্ণবাদী আচরণ আমি খুব অপছন্দ করি।  আমি মনে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্টতম কাজ। নোংরা মানসিকতার পরিচয়।

গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করি না কখনো।

তারপরও  কালো বলে খোঁচা মারা কথা শোনার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই আছে। আমার আব্বা আম্মা ফর্সা। তাই অনেকেই আমাকে বলতো, তুমি তো তোমার মায়ের মতো হওনি। মানে ইনডাইরেক্টলি, আমি কালো আমার মা ফর্সা। 
আমার মেয়েকে নিয়েও এরকম কথা শুনতে হয় আমাকে। অনেকেই বলে তোমার মেয়ে অনেক সুন্দর কিউট। আপনার মেয়ে তো একেবারে রাজকন্যা। রূপকথা তো আপনার মতো হয়নি। আপনার সাথে তো মিল নাই। কার মতো হইছে দেখতে?


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


একজন তো বলেই বসলেন,  আপনার মেয়ে এত ফর্সা আর  সুন্দর হলো কীভাবে??

আমি বললাম, আমি কালো বলে আমার মেয়ের ফর্সা হতে তো কোন বাধা নাই। 

অনেকেই ইনডাইরেক্টলি মেয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে আমার ার আমার মেয়ের গায়ের রং এর পার্থ্যক্য বুঝায় দেয়। 
আমার বিয়ের দুই/তিন বছর আগে। তখন বিয়ে করবো না বলে ডিটারমাইন্ড ছিলাম। কোন এক ঈদের পরে, একদিন এক ভদ্রমহিলা আর ভদ্রলোক এলো আমাদের বাসায়। তাদের ছেলের বউ দেখার উদ্দেশ্যে। তারা চাকরিজীবী মেয়ে চায়। 
তো আমাকে দেখে তারা হতাশ হলেন। আমি কালো জন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেবেনা। তারা ফর্সা মেয়ে খুজতেছে। 
ভদ্র মহিলা এবং ভদ্রলোকের গায়ের রং কালো। আমাকে দেখে অপছন্দ ভাবটা বুঝলাম।  আমি ভদ্র মহিলাকে বললাম। আন্টি আপনার ছেলের ছবি দেখান।   মহিলা কেন জানি খুব অপ্রস্তুত বোধ করে ছবি দেখালো। আর বললো, আমার ছেলে একটু কালো। ছবিতে দেখলাম। একটু টা ছেলে টা বেশ কালো।

মহিলা আমতা আমতা করে হেসে বললো, আসলে আমার ছেলে অনেক কালো তো। তাই ফর্সা মেয়ে খুঁজতেছি। কারণ নাতি-নাতনি যাতে ফর্সা হয়।

আমি বললাম, দোয়া করি যেন ফর্সা একটা বউ পান। মহিলা আমার এরকম কথায় বেশ অবাক হলেন।

গত বছর আমার খুব ঘনিষ্ট একজন মেয়ের বিয়ের জন্য এক ভদ্রলোককে বললাম। মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত, সব রকম যোগ্যতা আছে সব কিছু ভালো। কিন্তু তারা রিজেক্ট করলেন কারন মেয়ে টা কালো।

কিছু লোকজন আবার সরাসরি কালো বলে না, সৌজন্য করে বলে একটু বেশি শ্যামলা, গায়ের রং টা একটু চাপা। 
এই হলো আমাদের দেশের মানুষের নোংরা মেন্টালিটি।

আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ কালো মেয়েদের জন্ম থেকে কবর যাওয়া পর্যন্ত কথা শুনতে হয়।

আমার নিজের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মন খারাপ বা হীনমন্যতা নাই। আমি আমার মতো। আমি আমার মতো সুন্দর। আমার মন সুন্দর। এটা নিয়েই আমি গর্ববোধ করি। মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মনটা সুন্দর হওয়া জরুরি। 
যারা গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিচার করে তাদের আমি ঘৃণা করি।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

সামিয়া রহমান

যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা: সামিয়া রহমান

শুনলাম আমার এই প্রেস কনফারেন্সে চরম ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত, এবং আমাকে একেবারে ধ্বংস করতে প্রতিশোধপরায়ন হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উচ্চপদস্থ ক্ষমতাধর নারী। যেহেতু তার নামটিও চলে এসেছে আমার বক্তব্যে প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে বিভিন্ন ইন্টারভিউতে অথবা প্রেস কনফারেন্সে।

তিনি এখন ভয়াবহ প্রতিশোধপরায়ন হয়ে গতকাল সকল সাংবাদিকদের ডেকে ডেকে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য উসকাচ্ছেন। বলছেন যে কোনোভাবে সামিয়াকে ধ্বংস করে দিতে হবে। যে কোনো নিউজ দিয়ে, তা মিথ্যা হোক আর যাই হোক। সাংবাদিকদের কাছেই শুনলাম যাদের যাদের তিনি ফোন দিয়েছিলেন। 

বললেন মিথ্যা সত্যের ধার ধারিনা, যে কোনো মূল্যে সামিয়াকে শেষ করতে হবে। যে কোনো নিউজ করতে হবে সামিয়ার বিরুদ্ধে। প্রয়োজন হলে আমার সকল আর্টিকেলকে প্লেজারিজম বলে প্রমাণ করতে হবে। কারন পদ ক্ষমতা তার হাতে, তিনি যদি বলেন তবে এগুলো জনগণ মেনে নেবে। সাংবাদিকরা বললে জনগণ মেনে নেবে। যে করেই হোক সামিয়াকে টিকতে দেয়া হবেনা। সামিয়ার এতো বড় সাহস আমাদের বিরুদ্ধে প্রেস কনফারেন্স করে! এবার আমি তাকে শেষ মারটা দেব। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


উনার এতো ক্ষোভ কেন আমার বিরুদ্ধে? প্রথম থেকে উনি এবং উনার চামচারা কেন মিডিয়ার সামনে এতো সোচ্চার আমাকে নিয়ে? অ্যালেক্স মার্টিনের মিথ্যা চিঠির ষড়যন্ত্রের কি তিনিই তাহলে হোতা? প্রকাশ হয়ে যাবার ভয়ে আমাকে শেষ মার দেবার চেষ্টা? তার ষড়যন্ত্র প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে তাই আমাকে নিয়ে সাংবাদিকদের নতুন করে উসকানোর চেষ্টায় তিনি এখন অতি ব্যস্ত। 

আচ্ছা যার নিজের বিরুদ্ধে প্লেজারিজমের অভিযোগ আসে, তার ক্ষমতার ভয়ে ২/৩ টি বাদে আর কোনো মিডিয়া সাহস পায়না কাভারেজ দেবার, যিনি নিজে প্লেজারিজমের সাথে যুক্ত অন্তত ৫/৬ টি আর্টিকেলে, তিনি আবার কিভাবে অন্যকে নৈতিকথার কথা বলেন? বিচারক হবার যোগ্যতা তিনি আর রাখেন কি? 

ক্ষমতা পেয়ে কি তিনি এতোটাই করাপ্টেড হতে পারেন ? তিনি এতোই প্রবল প্রতাপশালী যে দিনকে রাত করেন, কোনো সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে লিখলে তার চাকরী চলে যায়, তার বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখা ১ ঘন্টার মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে যায়। আমার ফেসবুক বন্ধুদের জানিয়ে রাখলাম, এই মহিলা আবার আমার বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছেন সাংবাদিকদের ফোন দিয়ে, ডেকে ডেকে। তবে আমি এখন প্রায় নিশ্চিত আমার বিরুদ্ধে শিকাগো জার্নালের মিথ্যা চিঠির, পুরো ষড়যন্ত্রের হোতা কে? তিনি ছাড়া আর কি কেউ হতে পারেন?

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

করোনা বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিয়ত আমাদের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা নিচ্ছে। শরীরে  ভিটামিন সি এবং ডি ঠিক আছে কিনা, জিঙ্ক আছে কিনা ইত্যাদি মাথায় রাখতে হয়। মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে আছে ভীতি এবং শংকা। সর্দি, কাশি হলেই ভয়, জ্বর হল তো কথাই নেই। 

একবার আমার সর্দি, কাশি হলে আমার স্ত্রী বললেন, তুমি কোত্থেকে করোনা বাধিয়ে এসেছ, আল্লাহ মালুম; গতকাল থেকে আমারো কাশি শুরু হয়েছে। দু দিন পর আমার কাশি ভাল হয়ে গেল; তার ও হল। কিছুদিন পর তাঁর কাশি শুরু হল ভয়ানক ভাবে। আমার ও শুরু হল। 

আমি আর ভয়ে বলতেই পারলাম না তোমার কাছ থেকে আমার কাশি শুরু হয়ে গেছে যদিও বা দুজনেরই ছিল নরমাল কাশি। যাই হোক,  শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার পাশাপাশি করোনা অত্যন্ত মহা গুরুতপুর্ন আরেকটা পরীক্ষা নিয়েছে, সেটা হল দাম্পত্য পরীক্ষা। 

প্রথম আলোর রিপোর্ট ও বলছে করোনার সময়ে বিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক বছর বা তার কম তারা বেশ ভাল সময় কাটিয়েছেন। যারা ঠিকে গছেন, তাদের দাম্পত্য নিয়ে ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা কম। 

দুজনেই ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন, তাদের ফাস্ট ইন কমান্ড কে আর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কে। বেড়াল যা মরার ইতিমধ্যে মরেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তারাও মোটামুটি এই সময়ের মধ্যে লকডাউনে থেকে পারস্পরিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছেন। তারা বুঝেছেন ফাস্ট ইন কমান্ড যাই কিছু বলুক, নীরবে সয়ে যেতে হবে। 

যদি পুরুষ ফাস্ট ইন কমান্ড হয় (সম্ভাবনা ক্ষীন!) সেক্ষেত্রে অযৌক্তিক কিছু বললেও স্ত্রীকে মেনে নিতে হয়েছে কারণ বাপের বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই; দরজা বন্ধ। আবার স্ত্রী যদি ফাস্ট ইন কমান্ড হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি কিছু বললে পুরুষকে মেনে নিতে হয়েছে; রাগ দেখিয়ে বের হওয়ার উপায় নেই আর কষ্টেসৃষ্টে বের হলেও বাইরে হোটেল বন্ধ। 

যাদের বিয়ের বয়েস দশ বছরের বা বিশ বছরেরও বেশি তাদের পরীক্ষা ছিল সবচেয়ে কঠিন; যদিওবা কেউ কেউ বলেন, স্বামী-স্ত্রী বিশ বছর সংসার করলে তাদের সম্পর্ক টা অনেকটা ভাই বোনের মত হয়ে যায়। 

যাই হোক, তারা সত্যিকার অর্থে করোনার মধ্যে খুব কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। নরমাল রুটিন হল, স্ত্রী মশারি টাঙ্গাবে বা স্বামী সারাদিন চাকরি করেন তাই স্ত্রী বাসায় রান্না করে। করোনার সময় দেখা গেল রুটিন পাল্টে গেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী বেচারা মশারি টাঙ্গিয়েছেন অথবা বাসায় রান্না করেছেন। এর বাইরে আরও কাজ আছে, যেমন ঘর ঝাড়ু দেয়া, ঘর মোছা ইত্যাদি। অর্থাৎ বহু দিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ভেঙ্গে গেল। 

আবার স্ত্রী কে কাটতে হয়েছে চুল। আমার কাছে মনে হয় এটা ছিল, স্বামীর বা স্ত্রীর অনেকটা মানোন্নয়ন পরীক্ষার মতো বা প্রমোশনের ইন্টারভিউ এর মত। প্রশ্নকর্তার খুব বেশি আগ্রহ নেই প্রশ্ন করার প্রতি আর উত্তর দাতার ও আগ্রহ কম উত্তর দেয়ার দিকে। বিশ বছরের দম্পতি রবীন্দ্রনাথ এর কথা কে ফলো করেছেন। 

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “লোকে ভুলে যায়, দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন ওকে নতুন করে সৃষ্টি করা চাই”। বিশ বছরের দম্পতি্র পক্ষে তো আর প্রতিদিন দাম্পত্য সৃষ্টি করা সম্ভব না; করলেও মহা সমস্যা হয়ে যাবে। একটা কৌতুক বলি। স্ত্রী স্বামীকে বলছে, 
“কাল থেকে তোমার অফিস খুলবে, তাই আমার খুব  মন খারাপ।“
স্বামী জিজ্ঞেস করল “কেন”? স্ত্রী বলল, “তোমার হাতের কাজ আমাদের বাসার বুয়ার চেয়ে বহুগুণ ভালো”।  

এসময় একটা জিনিসের দারুন চর্চা হয়েছে। সেটা হলো রান্না। যারা পারেন তারা তো করেছেন। যারা পারেন না, তারা  তাদের বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করেছেন। রমজানের ইফতারির মধ্যে জিলাপি খুব প্রিয় একটা আইটেম। রমজানের মধ্যে ইফতারির জন্য জিলাপির বানানোর দারুন চর্চা হয়েছে। নতুন নতুন জিলাপি উদ্ভাবিত হয়েছে। 

আমরা  জানি, জিলাপি আড়াই প্যাঁচ দিয়ে হয়। কেউ কেউ আবার সাড়ে তিন প্যাঁচ দিয়ে  জিলাপি বানিয়েছে। তারা হয়তো ভেবেছে, প্যাঁচ তো লাগানোর জিনিস, আস্তে আস্তে লাগাতে হয় তাই একটু বেশি করে দিলেই ভালো। এরমধ্যে আবার এসেছে পুরুষ জিলাপি। পুরুষ জিলাপি বুঝলেন না তো? পুরুষ জিলাপি হলো একদম সোজা, কোন প্যাঁচ থাকবে না। 

এখানেও একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। যিনি রান্না পারেন না, তার বানানো জিলিপি বা অন্য কোন কিছু খেতে গেলেই যিনি খাবেন, তিনি বুঝতে পারবেন দুর্গতি টা কি! খাওয়ার সময় কিছুই বলা যাবে না; কোন বদনাম করা যাবেনা শুধু আলতো করে মুখে একটা মিষ্টি হাসি ধরে রেখে বলতে হবে, “তুমি কেমন করে গান কর হে গুনি, আমি অবাক হয়ে শুনি”!   

করোনার মধ্যে আবার সিনেমা বিশারদদের দেখলাম বেশ কদর রয়েছে। সিনেমা তো কমবেশি সবাই দেখি। কেউ ক্লাসিক পছন্দ করেন, কেউ একশন ধর্মী, কেউ আবার রোমান্টিক ঘরানার। অথবা কেউ পছন্দ করেন এডভেঞ্চারাস। ফেসবুকে দেখলাম, অনেককে সিনেমার লিস্ট জিজ্ঞেস করছে, কোন কোন সিনেমা দেখা দরকার। তখন সিনেমা বিশারদ যারা আছেন, তারা দেখলাম লিস্ট দিয়েছে। 

লিষ্টের মধ্যে আবার ভাগ আছে; আর্জেন্ট, সেমি  আর্জেন্ট, অডিনারি ইত্যাদি। লিস্ট এর মধ্যে সিনেমার নামের পাশে লেখা থাকে এটা কি রোমান্টিকধর্মী সিনেমা নাকি একশনধর্মী। রোমান্টিক সিনেমার ক্ষেত্রে আবার পাশে ডট ডট আছে। মানে, এই সিনেমাতে ডট ডট  আছে সুতরাং এটা একা একা দেখতে হবে। 


পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়, প্রশ্ন আইজিপির

আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

বিমা খাতে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও প্রচার প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

পোশাক খাতে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেললো বাংলাদেশ


তবে অনেকের কমেন্ট পড়ে এবং সিনেমার লিস্ট থেকে মনে হয়েছে, ডট ডট ঘরানার সিনেমা গুলো একটু বেশি জনপ্রিয়! একটা কৌতুক বলি। মাননীয় প্রেসিডেন্ট মহোদয়ের বক্তৃতা থেকে শুনেছি। তাঁর এক বন্ধু একবার সিনেমা হলে গিয়ে একটা ছবি ৪/৫ বার দেখেছেন। ওই সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল, নায়িকা গোসল করছে আর সেই সময় একটা মেইল ট্রেন চলে যায়। তাঁর বন্ধু সিনেমাটা দেখেছিলেন ৫/৬ বার এই আশায় যে যদি একবার মেইল ট্রেন একটু লেট করে আসে!!

পুনশ্চঃ করোনার সময় সবাই সবাইকে সাবধান করেছে, এখন করোনা, ঘর থেকে খবরদার বের হবে না; তবে বের না হয়ে আবার জনসংখ্যা বাডিয়োনা। আল্লাহর রহমতে এখন করোনা কিছুটা কমেছে, তাই উপদেশ দেয়ার মত কেউ নেই। সে সুযোগে যদি কেউ দারুন উৎসাহে কাজে নেমে পড়েন আর গাইতে থাকেন, " আজ খেলা ভাংগার খেলা, খেলবি আয়, আয়, আয় আজ......" তাহলেই বিপদ। সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

রাখী নাহিদ, নিউইয়র্ক

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের কাছে পৃথিবীর সকল আনন্দ নস্যি। এর মত মজা দুনিয়ায় আর কিছু নাই। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য আমাদের কোন কাজে লাগেনা তবুও আমরা আড়ি পেতে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কথা শুনতেও পছন্দ করি। 

আর আমি মনে করি মানুষকে আনন্দ দেয়ার মত পুণ্যের কাজ আর কিছু নাই। তাই আমার ব্যাপারে আজকে কিছু নতুন FAQ এর আন্সার। 
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- দুলাভাই কেমন আছে ? উনার অনুভূতি কি ? - দুলাভাই এর স্ত্রী বিদেশ। উনি সামান্য খারাপ থাকবেন এটাই স্বাভাবিক তবে উনার সাথে আমার দিনে ঊনচল্লিশ বার কথা হয়।

উনার সাথে আমার সামান্য টানাপোড়েন আছে যা পৃথিবীর তাবৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দাম্পত্যে থাকে। এটা খুব স্বাভাবিক। আর সুযোগ থাকলে টানাপোড়েন না বাড়িয়ে মানুষের উচিত সামান্য ভৌগলিক দূরত্ব বাড়ানো। কারন কখনো কখনো ফিজিক্যাল প্রেজেন্স মেন্টাল ডিস্ট্যান্স আরো বাড়িয়ে দেয় কিন্তু সাময়িক দূরত্ব মানুষকে আবার কাছে আনে।

তবে আমার এই অন্তর্ধান এর পেছনে দুলাভাই এর ভূমিকা সামান্যই। আমিই এর মূল কারন। আমি মনে করি দুলাভাই এর স্ত্রী এবং পুত্রদের মাতা হওয়া ছাড়াও আমার একটা পরিচয় আছে, স্বাতন্ত্র্য আছে। আমার একটা আমি আছে। সেই আমিটা যেমন সংসারী ঠিক তেমনই  বৈরাগী। 

সেই সংসারী আমি চোখ বেঁধে সংসার করেছি একুশ বছর। আমার জীবনের অর্ধেকের বেশী। তারপর বছর খানেক আগে হঠাত বৈরাগী আমি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। 

সত্য কথা হল, সেই শিশু বয়সে বিয়ে, তারপর সন্তান, সংসার, বাজার, রান্না এই এক রুটিনে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম।যে বয়সে মানুষ বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোড় করে, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবে, সেই বয়সে আমি কোলে দুই কোলে দুই বাচ্চা নিয়ে নাক মুখ গুজে সংসার করেছি।১৮ বছরের পর থেকে আমার নিজের কোন জীবন নাই।


রাজধানীতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহবান জাতিসংঘের

ইরানের সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র

সুইপার থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক


কোন পার্থিব জিনিসের অভাব ছিল না। But some very important elements had been missing. সারাক্ষণ কি যেন নাই কি যেন নাই অনুভূতি।পরে খুঁজে বের করলাম আমার আসলে কাজ নাই। 

সারাক্ষণ মনে হত এই যে মহামূল্যবান জীবনটা আল্লাহ দিলেন এইটার তো কোন সদ্ব্যবহার করা হল না।সামান্য লেখালেখির অভ্যাস সেই ঘা এ কিছুটা মলমের কাজ করছিলো।কিন্তু তবুও আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। 

I was tired of the being secured , I was tired of being protected. I was tired of being so sure of everything around me. 
আমি সেই সোনার খাঁচার বাইরে বের হয়ে জগতটাকে দেখতে চাইলাম। নিজের এবিলিটি পরখ করতে চাইলাম। দেখতে চাইলাম সারাজীবন পুরুষের কাঁধে ভর দিয়ে চলা একজন নারী একা সারভাইব করতে পারে কি না।

তারপর আর কি? Veni, Vidi, Vici অর্থাৎ এলাম দেখলাম এবং জয় করলাম। শারীরিক কষ্টে অনভ্যস্ত আমি সাতদিন সাতদিন কাজ করি এখন। শরীরে হাতুড়ি পেটা টাইপ ব্যথা নিয়ে ঘরে ঢুকি, পরেরদিন আবার যাই। জানি একদিন এই কষ্ট সয়ে যাবে। সবারই যায়। 

এই ভিন দেশে এসে পিজা বেচবো, ট্র্যাভেল এজেন্সিতে টিকেট বুকিং দিবো এমনও কোন টার্গেট না। সাতদিন কষ্ট করতে হবে এরও কোন কারন নাই।প্রথমে কাজ পাচ্ছিলাম না এখন ছাড়তে পারছি না। 

আর স্বামী সন্তান রেখে আরেক দেশে এসে ডলার ইনকাম করে খুব মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলছি তাও না। কিন্তু মনে হয় আরেকবার সুযোগ পেলে আমি দারুণ কিছু করব, আরেকবার আমাকে বড় হতে দিলে আমি আমার সমস্ত মেধাকে কাজে লাগাবো, আরেকবার সুযোগ পেলে আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলতে পারবো আমি আমার মহামূল্যবান জীবনের সৎ ব্যবহার করেছি।এমনি এমনি নষ্ট করি নি। 

আমি আবার আঠারো বছর বয়স থেকে শুরু করতে চাই, অনেক পড়তে চাই, অনেক কাজ করতে চাই, বিশ্বজয় করতে চাই। আমি সদ্য কিশোরীর মত চিৎকার করে বলতে চাই-
Give me some sunshine. Give me some rain. 
Give me another chance, I will grow up once again....

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর