কারাবন্দীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানো কে এই আসমা?
কারাবন্দীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানো কে এই আসমা?
উপঢৌকন দিতেন জেলারদের আসমা

কারাবন্দীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানো কে এই আসমা?

অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের ভেতরে হলমার্ক কেলেঙ্কারির সাজাপ্রাপ্ত বন্দি তুষারের সাথে সাক্ষাৎ ও একান্তে সময় কাটাতে যাওয়া নারীর পরিচয় মিলেছে। আসমা শেখ ওরফে সুইটি  নামের এই নারী একজন ব্যবসায়ী।   হাতিরঝিল সংলগ্ন পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং সেন্টারের ৪র্থ তলায় রয়েছে তার বিউটি বাজ নামের ফ্যাশন হাউজ। এর আগে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন।

এই ফ্যাশন হাউজ থেকে ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন সস্ত্রীক কেনাকাটাও করতেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারা কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে আসমাকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন তুষার। তার দাবি, মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের আগে তিনি আসমার সঙ্গে কারাগার থেকে মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথা বলতেন। ফোনেই তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তুষার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার প্রথম স্ত্রী নাজনিন সুলতানা মিষ্টি দুই সন্তানকে নিয়ে বিদেশে চলে যান। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। তবে তুষারের দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের কেউ কিছু জানেন না।

তুষারের প্রথম স্ত্রীর বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ছোট বোন ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে তুষারের বিয়ে হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। তুষার গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের তেমন কোনো যোগাযোগও নেই।

সূত্র জানায়, তুষারের সঙ্গে এর আগেও একাধিকবার দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন আসমা। করোনার আগে নিয়মিতই তিনি কাশিমপুর কারাগারে যেতেন। কাশিমপুর কারাগারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মিত তার ফ্যাসন হাউজে কেনাকাটাও করেন। সর্বশেষ কাসিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন সস্ত্রীক আসমার ফ্যাশন হাউজে গিয়ে ৭৫ হাজার টাকার কেনাকাটা করেন। তবে কোনো টাকা দেননি। সবটাই উপঢৌকন হিসাবে তাকে দেয়া হয়।

আবারও আসছে ‘গেম অব থ্রোনস’

স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর কৌশল

বাইডেন-বরিস ফোনালাপে যা কথা হলো

সাকলাইন ছাড়াও কারা অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আসমার বিউটি বাজ থেকে মোটা অঙ্কের শপিং করেছেন।  

তবে দোকানের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, কাশিমপুর কারাগারের ঘটনা মিডিয়ায় আসার পর থেকে মালিক কিছুটা আড়ালে থাকছেন। অপরিচিত কারও ফোনও তিনি রিসিভ করছেন না। মেহেদী বলেন, আমাদের দোকানের মালিক তার স্বামীর সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গেছেন। এতে অন্যায়ের কিছু নেই বলে দাবি করেন তিনি।

২০১২ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর অদ্যাবধি কারাগারে আছেন তুষার আহমেদ। কারা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি কারাগারে থাকেন অনেকটা ভিআইপি স্টাইলে।  

এদিকে, গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এ  আসমার সঙ্গে হলমার্কের বন্দি তুষার আহমেদের একান্ত সময় কাটানোর ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদেরকে প্রত্যাহার করে কারা সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন।   তিনি জানান, কারাগারে নারীর সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির সময় কাটানোর ঘটনায় সিনিয়র জেল সুপার, জেলারসহ মোট পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে তিনজন ও আজ দুজনকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে যে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয় তারা হলেন- ডেপুটি জেল সুপার মোহাম্মদ সাকলাইন, সার্জেন্ট আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী খলিলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

news24bd.tv/আলী