মৌমাছি নিয়ে কুরআনের বাণীকেই মেনে নিলো বিজ্ঞান

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌমাছি নিয়ে কুরআনের বাণীকেই মেনে নিলো বিজ্ঞান

পবিত্র কুরআন এমন একটা গ্রন্থ যার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বাক্যে অনেক কিছু বলা হয়। আর এটা কোন বিজ্ঞান গ্রন্থ নয়। এটা ধর্ম গ্রন্থ, কিন্তু পবিত্র কুরআনে বিজ্ঞানের অনেক কিছুর সমাধান পাওয়া যায়, যা বিজ্ঞান স্বীকার করে নিয়েছে এবং কুরআনের কোন আয়াত আজও কেউ ভুল প্রমাণ করতে পারেনি।  এই মহাবিশ্ব যিনি সৃষ্টি করেছেন তার কাছেই রয়েছে সব কিছুর সঠিক সমাধান। দিনে দিনে বিজ্ঞানও কুরআনের বাণীকে মেনে নিচ্ছে। মৌমাছি মহান আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি। যাকে আরবিতে বলা হয় ‘নাহল’। পবিত্র কোরআনে ‘নাহল’ নামে একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরাটি পবিত্র কোরআনের ১৬তম সূরা। সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১২৮টি। এই সূরার ৬৮ আয়াতের থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে।

আমরা আগে জানতাম মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে বিভিন্ন ফুল থেকে অতঃপর তা মৌচাকে মজুদ করে রাখে সরাসরি। আসলে তা নয়, বিজ্ঞান কিছুদিন আগে প্রমাণ করেছে মৌমাছির শরীর থেকে মধু বের হয়। অথচ পবিত্র কোরআন প্রায় সাড়ে ১৪ শ’ বছর আগেই বলে দিয়েছে মধু মৌমাছির শরীর থেকে বের হয়।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে,
  
وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ
অর্থ: ‘আপনার পালনকর্তা মধু মক্ষিকাকে আদেশ দিলেন: পর্বতগাহ্রে, বৃক্ষ এবং উঁচু চালে গৃহ তৈরি কর। (সূরা: নাহল, আয়াত: ৬৮)।  

ثُمَّ كُلِي مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلاً يَخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاء لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
অর্থ: এরপর সব প্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।’ (সূরা: নাহল, আয়াত: ৬৯)।

মৌমাছি আমাদের জন্য উৎকৃষ্ট মধু আহরণ করে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মধু খেতে খুব ভালোবাসতেন। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ১২১)।

১৯৭৩ সালে, ‘কার্ল ভন ফ্রিচ’(karl von frisch) মৌমাছির আচরণ ও যোগযোগের উপর গবেষণার জন্য নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।

‘মৌমাছি কোন নতুন ফুলের বাগানের সন্ধান পেলে মৌচাকে ফিরে আসে এবং মৌমাছির নাচ’নামক আচরণ দ্বারা অন্যান্য সাথীদেরকে সে বাগানের হুবুহু দিক ও মানচিত্র বলে দেয়।অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিকে তথ্য দেয়ার লক্ষ্যে এ আচরণের বিষয়টি ক্যামেরার সাহায্যে ছবি গ্রহণ সহ অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে আবিষ্কৃত সত্য। 

টাইম ট্রাভেল কুরআনের পথেই হাটছে বিজ্ঞান

উপরোক্ত আয়াতে, পবিত্র কোরআন মৌমাছি কিভাবে নিজ দক্ষতার মাধ্যমে নিজ প্রভূর প্রশস্ত পথের সন্ধান পায় তা তুলে ধরা হয়েছে।

অধিকন্তু,উপরোক্ত আয়াতে উল্লেখিত ক্রিয়াপদে স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহূত হয়েছে।(অর্থাৎ (আরবী)এবং (আরবী) চল ও খাও) এর দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, খাদ্যের অন্বেষণে বাসা ত্যাগকারী মৌমাছি হল স্ত্রী মৌমাছি। 

অন্যকথায়, সৈনিক বা কর্মী মৌমাছি হল স্ত্রী জাতীয়। মূলতঃ শেক্সপিয়ারের ‘Henry the fourth’নাটকের কিছু চরিত্রে মৌমাছি সম্পর্কে আলোচনা এসেছে।সেখানে মৌমাছিকে সৈনিক উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তাদের একজন রাজা আছে।

শেক্সপিয়ারের যুগে মানুষে এরকমই চিন্তা করত।তাদের ধারণা যে,শ্রমিক মৌমাছিরা পুরুষ।তারা ঘরে ফিরে রাজা মৌমাছির কাছে জবাবদীহি করে।যাই হোক এটা সত্য নয়।শ্রমিক মৌমাছিরা স্ত্রী জাতীয় এবং তারা রাজার কাছে নয়,বরং বাণীর কাছে জবাবদিহী করে।

আজ থেকে ৩শ বছর আগে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছে। যা ১৯৭৩ সালে, ‘কার্ল ভন ফ্রিচ’(karl von frisch) এর মাধ্যমে পুর্ণতা পেয়েছে। অথচ মহান আল্লাহর বাণী পবিত্র আলো কোরআনে তা ১৪শ বছর আগ বলা হয়েছে।

হজরত ইবনে ওমর (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তার শরীরে ফোঁড়া বের হলেও তিনি তাতে মধুর প্রলেপ দিয়ে চিকিৎসা করতেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কি বলেননি যে, তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। (কুরতুবী)।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ফজিলতপূর্ণ ইবাদত তাহাজ্জুদের নামাজ

অনলাইন ডেস্ক

ফজিলতপূর্ণ ইবাদত তাহাজ্জুদের নামাজ

রহমতের শ্রেষ্ঠ সময় তাহাজ্জুদের সময়। এর প্রতিটি রাতেই আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ফরিয়াদ শোনেন। কোরআনুল করিমে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব (সা.) কে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এবং রাত্রির কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থান-মাকামে মাহমুদে।’ (সুরা ১৭ ইসরা, আয়াত ৭৯)।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তার স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে দেন। অতঃপর তিনি (তার স্ত্রী) তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন। এমনকি যদি তিনি (স্ত্রী) ঘুম থেকে জাগ্রত হতে না চান, তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেন। ’ -আবু দাউদ ও নাসাঈ

হাদিসে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি অধিক সম্মানের অধিকারী বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে আল কোরআনে অভিজ্ঞ ও তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি সম্মানের অধিকারী হবেন। ’ –বায়হাকি


কানাডার শীর্ষ নেতাদের সবাই অস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন নিচ্ছেন

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের দোয়া


এক হাদিসে রাসূল সা: ফরমাইয়েছেন, ‘আল্লাহ প্রতি রাতেই নিকটবর্তী আসমানে অবতীর্ণ হন যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে। তিনি তখন বলতে থাকেন- কে আছো যে আমায় ডাকবে, আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আর আমি তাকে তা দান করব? কে আছো যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব? (বুখারি ও মুসলিম)

 হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ফরজ নামাজসমূহের পর উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। (মুসলিম, আলফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৯৭, হাদিস ৪০৫)।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়

অনলাইন ডেস্ক

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়

রোজা একটি ফরজ ইবাদত। এই রোজা পালনের কিছু বিধি-বিধান রয়েছে। সেগুলো মেনে অত্যন্ত পবিত্রতার সাথে রোজা পালন করতে বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মে। ছোটখাটো কিছু ভুল থেকে শুরু করে বড় বড় কিছু কাজে রোজা মাকরুহ হয়ে যেতে পারে। এর পবিত্রতা নষ্ট হতে পারে।

মাকরুহ কী : মাকরুহ অর্থ অপছন্দনীয়। যে সকল কাজ করলে গুনাহ হয় না কিন্তু কাজগুলোকে অপছন্দ করা হয়েছে ইসলামে, সেসব কাজগুলোই মাকরুহ।

অনেকের প্রশ্ন থাকে যে, কেন মাকরুহ হয় রোজা? এবার তাহলে রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণগুলো জেনে নেয়া যাক-

১. সারাদিন সঠিকভাবে রোজা করার পরও সন্ধ্যায় যদি হারাম খাদ্য দিয়ে ইফতার করা হয় তাহলে রোজা মাকরুহ হবে।

২. কারণ ছাড়া কোনো কিছু চিবুতে থাকলে।

৩. কোনো কিছু সরাসরি মুখে পুরে রাখলেন, না খাওয়ার পরও মাকরুহ হবে রোজা।

৪.পানি দিয়ে মুখ গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়ায় মাকরুহ হয় রোজা। এসব করার সময় পানি যদি পেটে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

৫.স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যদি মুখের লালা পেটে যায় তাহলে সমস্যা নেই। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে 

৬.দীর্ঘক্ষণ মুখে থুথু জমিয়ে রেখে গিলে ফেললে মাকরুহ হবে রোজা।

৭.সারাদিন শরীর যদি নাপাক (অপবিত্র) থাকে তাহলেও মাকরুহ হবে রোজা।

৮.কোনো বিষয়ে অস্থির হয়ে উঠলে বা কোনো কারণে কাতরতা দেখালেও কোনো কোনো ব্যাখ্যায় রোজা মাকরুহ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

৯. পেস্ট, মাজন ও পাউডার দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে মাকরুহ হয়ে যায় রোজা।

১০. গুল ব্যবহার করা মাকরুহ এবং থুথুর সঙ্গে যদি মুখের গুল গলার ভেতরে প্রবেশ করে তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।


কী পরিণতি হলো পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা সেই যুবকের

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা

বাংলা ভাষা থেকে তুই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

সোনারগাঁয়ের সেই ওসি রফিকুল এবার অবসরে


১১. রোজা থেকে কোনো ব্যক্তির গিবত বা পরনিন্দা করলে মাকরুহ হয় রোজা।

১২. মিথ্যা বলা মহাপাপ। রোজা রেখে মিথ্যা বললে রোজা মাকরুহ হবে।

১৩. রোজা রেখে ঝগড়া-বিবাদে জড়ালে মাকরুহ হবে রোজা।

১৪. যৌন উদ্দীপক বা উত্তেজক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এতেও মাকরুহ হয় রোজা।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা হুদে আছে মূর্তি-পূজার বিরুদ্ধে নবী-রাসূলের ভুমিকার কথা

অনলাইন ডেস্ক

সুরা হুদে আছে মূর্তি-পূজার বিরুদ্ধে নবী-রাসূলের ভুমিকার কথা

সুরা হুদ পবিত্র কুরআনের ১১ নম্বর সুরা। সুরা হুদের সব আয়াতই পবিত্র মক্কায় নাজিল হয়েছিল। বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা হযরত আবু তালিব (আ.) ও হযরত খাদিজা (সা. আ.)’র ইন্তেকালের পর এই সুরা নাজিল হয়।

মক্কায় মহানবী (সা.)’র অবস্থানের শেষের বছরগুলোতে যখন এই সুরা নাজিল হচ্ছিল তখন মুসলমানদের ওপর শত্রুদের চাপ চরম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। সুরা হুদে রয়েছে ১২৩ আয়াত ও দশটি রুকু।

এই সুরার বেশিরভাগ অংশেই এসেছে ইসলামের নানা মূল নীতি ও বিশেষ করে, হযরত নুহ (আ.)’র ঘটনাসহ শির্ক আর মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জড়িত অতীতের অনেক নবী-রাসূলের জীবনের ঘটনা ।

সূরা হুদের ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিরোনাম হল: আল্লাহই জীবিকাদাতা, আকাশ ও পৃথিবীর ছয় দিনে সৃষ্টি হওয়া, মনুষের অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য, রাসূল (সা.)-এর উপদেশ, কুরআনের বাস্তবতার প্রমাণ, রাসূলের সাক্ষী কে, হযরত নুহ (আ.)-এর ঘটনা, অবাধ্যতার কারণে তাঁর সন্তানের বংশচ্যুত হওয়া, হুদ (আ.)’র জাতির ঘটনা, তওবা ও ইস্তিগফারের উপকারিতা, হযরত সালেহ (আ.)-এর ঘটনা, হযরত ইসহাক (আ.)-এর জন্মগ্রহণ, হযরত লূত (আ.)-এর ঘটনা, হযরত শোয়াইব (আ.)-এর ঘটনা, আখেরি ইমাম হযরত ইমাম মাহদি (আ.)- সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী, হযরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা, মু’মিনদের জন্য দৃঢ়তার উপদেশ এবং শত্রুর ব্যাপক ঘৃণা ও তীব্র হামলা সত্ত্বেও ময়দান খালি করে না দেয়া, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন, কিয়ামতের দিন মানুষের দু’ধরনের শ্রেণী-বিভাগ, জালিমকে সাহায্য করাও জুলুম এবং পাঁচ ওয়াক্তের নামায ইত্যাদি।

এই সুরার নাম হুদ রাখা হয়েছে। কারণ, এ সুরার ৫০ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে খুব সুন্দরভাবে হুদ (আ.)’র জীবনের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

সুরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহকে রিজিকদাতা ও সব বিষয়ে জ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে:

'আর পৃথিবীতে কোনো জীব বা প্রাণী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নেননি, তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী আবাসস্থল সম্পর্কেও জানেন। সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে (সংরক্ষিত)রয়েছে।'

মহান আল্লাহ সব জীবের কেবল স্রস্টাই নন, তাদের জীবিকাও দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও আল্লাহ আলো, পানি, অক্সিজেন, তাপ ও বাতাসসহ এমন সব উপকরণ যুগিয়ে দেন যাতে তারা জীবিত থাকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। মায়ের গর্ভের শিশু ও গহীন অরণ্যের ক্ষুদ্র জীব এবং গভীর সাগরের প্রাণী থেকে শুরু করে সব জীবই জীবনের এইসব উপকরণ পেয়ে থাকে। অবশ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবিকা দান ও মানুষের প্রচেষ্টা সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় নয়। হালাল ও পবিত্র রিজিক প্রচেষ্টা ছাড়া অর্জিত হয় না।

সুরা হুদের ২৬টি আয়াতে হযরত নুহ (আ.) জীবনের শিক্ষণীয় কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে। নুহ (আ.)'র জাতি ছিল অত্যন্ত দুর্বিনীত ও অত্যাচারী। সুরা হুদের ২৫ ও ২৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

'আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির কাছে পাঠিয়েছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী।

তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আজাবের ভয় করছি।'

হযরত নুহ (আ.)'র যুগে তার জাতির মধ্যে নৈরাজ্য ও অনাচার ছড়িয়ে পড়েছিল। লোকেরা ন্যায়বিচার ও একত্ববাদের ধার ধারতো না এবং মূর্তি পূজা করতো। সে সময় ধনী ও দরিদ্রদের ব্যবধান দিনকে দিন বাড়ছিল। সবলরা দুর্বলদের অধিকার পদদলিত করতো। আর এ অবস্থায় নুহ (আ.)-কে নবী হিসেবে মনোনীত করেন মহান আল্লাহ এবং তাঁকে দান করেন ধর্মগ্রন্থ ও খোদায়ী বিধান তথা শারিয়াত। কিন্তু নুহ (আ.)'র জাতির লোকেরা এই মহান নবীর আহ্বানগুলো প্রত্যাখ্যান করে। শুধু তাই নয়, তাদের নেতৃস্থানীয়রাও নুহ নবীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তারা বলে যে, হে নুহ! তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ। যারা তোমার অনুসারী তারা সরলমনা বা বোকা মানুষ ও বিভ্রান্ত। আমাদের চেয়ে তোমার মধ্যে বেশি কিছু তো দেখছি না। আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলেই মনে করছি।

নুহ (আ.) তার জাতির লোকদেরকে খোদায়ী শাস্তির ভয় দেখালেন এবং তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যেতে লাগলেন। শাস্তির ভয় দেখানোর কারণ হলো এটা যে, মানুষ যতক্ষণ না বিপদ অনুভব করে ততক্ষণ পর্যন্ত নিজ অবস্থানে অনড় থাকে। যারা সচেতন তারা এইসব সতর্কবাণীর মুখে নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করে। কিন্তু যারা অচেতন ও বস্তুবাদী কিংবা সম্পদ ও ক্ষমতার কারণে দাম্ভিকে পরিণত হয়েছে তারা এইসব সতর্কবাণীকে গুরুত্ব দেয় না।

এ অবস্থায় নুহ (আ.) তাদের উদ্দেশে বললেন: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ধারণা কর, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং

তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ হতে এমন অনুগ্রহ দান করেন যা তোমাদের দৃষ্টিগোচর নয়, (তবুও কি তোমরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে?) আমি কি এ বিষয়ে তোমাদের বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?' (হুদ-২৮)

এরপরও হযরত নুহ (আ.) খোদাদ্রোহী এই জাতিকে সুপথ দেখানোর জন্য এবং তাদেরকে বিভ্রান্তির ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো ও যুক্তি তুলে ধরা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু তারা বিভ্রান্তিতে অবিচল থাকে। তারা বললো:

'হে নুহ! তুমি আমাদের সঙ্গে অনেক কথা বলেছো। আর তর্ক করতে চাই না। যদি যা বলছো তা সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে তোমার কথিত সেই খোদায়ী শাস্তি আমাদের ওপর প্রয়োগ করো!' এভাবে তারা হযরত নুহ (আ.) আন্তরিক ও ভালবাসাপূর্ণ দাওয়াতের জবাব দিতে থাকে চরম দম্ভ, বিদ্বেষ ও অজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে। নুহ (আ.)'র জাতির খুব কম মানুষই তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।

এ পর্যায়ে মহান আল্লাহ ওহির মাধ্যমে নুহ নবীকে (আ.) জানিয়ে দেন, অল্প যে কয়জন তোমার প্রতি ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না। অর্থাৎ ওদেরকে সতর্ক করে বা সত্যের দাওয়াত দিয়ে আর লাভ নেই। ওরা সুপথে আসবে না। তাই দরকার পরিশুদ্ধি ও বিপ্লব। এর পরে কি হয়েছিল তা আমরা তুলে ধরবো আমাদের আলোচনার আগামী পর্বে। আশা করছি তখনও আপনাদের সঙ্গ পাব।

সুরা হুদের বাংলা অনুবাদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে দুই সুরা কিয়ামতের দিন দুই খণ্ড মেঘ হয়ে পাঠকারীর পক্ষে কথা বলবে

অনলাইন ডেস্ক

যে দুই সুরা কিয়ামতের দিন দুই খণ্ড মেঘ হয়ে পাঠকারীর পক্ষে কথা বলবে

এখন পবিত্র মাহে রমজান। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মানুষের রমজানের রুটিন ভিন্ন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্ব ঘরবন্দি। মসজিদগুলোয় তারাবির নামাজ পর্যন্ত সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি দেখে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

এবারের ঘরবন্দি রমজান আমরা উদ্যাপন করতে পারি ভিন্নভাবে। যেহেতু এটি কোরআনের মাস, তাই এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। কারণ কঠিন কিয়ামতের দিন এই কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। কারণ কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সে সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সুরা অর্থাৎ সুরা আল-বাকারা এবং সুরা আলে ইমরান পড়ো। কিয়ামতের দিন এ দুটি সুরা এমনভাবে আসবে যেন তা দুই খণ্ড মেঘ অথবা দুটি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাঁক উড়ন্ত পাখি, যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সুরা আল-বাকারা পাঠ করো। এ সুরাটিকে গ্রহণ করা বারাকাতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীরা এর মোকাবেলা করতে পারে না। হাদিসটির বর্ণনাকারী আবু মুআবিয়া বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে বাতিলের অনুসারী বলে জাদুকরদের বলা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ১৭৫৯)

কোরআন এতটাই সম্মানী যে রাসুল (সা.) সর্বদা কোরআনের ধারকদের প্রাধান্য দিতেন। ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা অধিক কোরআন জানতেন তাঁদের কবরে নামানোর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ওহুদ যুদ্ধের শহীদদের দুজনকে একই কাপড়ে দাফন করেছিলেন। জড়ানোর পর জিজ্ঞেস করতেন, এদের মধ্যে কে অধিক কোরআন জানে, যখন কোনো একজনের প্রতি ইশারা করা হতো তখন তিনি তাকেই কবরে আগে নামাতেন এবং বলতেন, কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য সাক্ষী হব। সেদিন তিনি তাদেরকে তাদের রক্তসহ দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের জানাজাও পড়ানো হয়নি এবং তাদের গোসলও দেওয়া হয়নি। (বুখারি, হাদিস : ৪০৭৯)

সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ

সুরা ইমরানের বাংলা অনুবাদ

news24bd.tv তৌহিদ 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে দোয়া শিখিয়েছেন। যা তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিন আ’জাবিল ক্বাবরি; ওয়া মিন আ’জাবি জাহান্নাম; ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ’ইয়া ওয়াল্ মামাতি; ওয়া মিং সাররি ফিতনাতিল্ মাসীহিদ্-দাজ্জাল।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাকে কাবরের আজাব থেকে রক্ষা করো,আমাকে জাহান্নামের আজাব, এবং দুনিয়ার ফিৎনা ও মৃত্যুর ফেতনা এবং দাজ্জালের ফিৎনা থেকে রক্ষা করো। (বুখারি ও মুসলিম)


সাতদিনের রিমান্ডে মাওলানা মামুনুল হক

এবার লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর

মিশরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১১

অর্থমন্ত্রীর জামাতা দিলশাদ হোসেন মারা গেছেন


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ে কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর