না মরি, আমরা প্রেমের নামে!

কাজী তাহমিনা

না মরি, আমরা প্রেমের নামে!

ঘটনা এক

দুইদিনের দারুণ ভ্রমণ শেষে শ্রীমঙ্গল ট্রেন স্টেশনে বসে আছি। ট্রেন আসতে দেরি হবে-ইনিয়ানার দৌড়াদৌড়িতে অস্থির। ওর পেছনে ছুটতে ছুটতেই খেয়াল করলাম, দুই তিন জনের জটলায় বছর বিশ বাইশের এক নারী ক্রমাগত কেঁদে যাচ্ছে। ভাবলাম, বিপদে পড়েছে কিনা জানা উচিত। প্রথমে কিছুই বললেন না। কাঁদছেন তো কাঁদছেনই। বেশ কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ করে দৌড়ে ট্রেনলাইনের দিকে যেতেই, জটলার দুই তিনজন তাকে ধরে নিয়ে আসলেন।

এবার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেলো। ইনিয়ানাকে সহযাত্রীর জিম্মায় রেখে আবার গিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই, হড়বড় করে তিনি সিলেটি ভাষায় যা বললেন, তার মর্মার্থ হলো, 'এ জীবন তিনি রাখবেন না, এখনই ট্রেনের তলে মাথা দেবেন, তার সর্বস্ব লুটপাট হয়ে গেছে, এখন আর বেঁচে থাকার কোন মানে নেই।' কাঁদতে কাঁদতেই জানালেন, তার একবছর ধরে ফোনে কথা একজনের সাথে, ফোনে কথা বলতে বলতেই প্রেম এবং দেখাসাক্ষাৎ। তারপর সেই প্রায় অচেনা প্রেমিকের পরামর্শ ও প্রলোভনে সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে সাতদিন আগে। পরিকল্পনামত তারা স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে থেকেছে এবং ঘুরেছে শ্রীমঙ্গল গত কয়েকদিন। ট্রেন স্টেশনে এসেছে, চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য, ওখানে গিয়েই বিয়ে রেজিস্ট্রি হবে। স্টেশনে মেয়েটিকে বসিয়ে রেখে, এখন কথিত স্বামী /প্রেমিক গত চার ঘণ্টা ধরে উধাও এবং তার ফোন ও ধরছেনা।

মেয়েটিকে যেহেতু তার বাবা মা ভাইবোন অচেনা ছেলের সাথে প্রেমের ব্যাপারে সাবধান করেছিল, এখন ফেরত গেলে সে ছোট হয়ে যাবে, আর বাবা মা গ্রামবাসীর কাছে মুখ দেখাতে পারবে না; তাই বাবা-মার বাড়ি সে ফেরত যাবে না। সুতরাং আত্মহত্যা তাকে করতেই হবে। 

মেয়েটির কাছ থেকে নাম্বার নিয়ে আমার ফোন থেকে ছেলের নাম্বারে ফোন করলাম, এবং ছেলে যথারীতি সব অস্বীকার করে জানালো, মেয়েটিকে সে চেনেই না। 

আত্মহত্যাপ্রবণ মেয়েটিকে কিছুক্ষণ কাউন্সেলিং করার চেষ্টা করলাম, তার বাবা-মার নাম্বার চাইলাম, এমনকি ঢাকা নিয়েও আসতে চাইলাম, কিছুতেই সে রাজি নয়। এ জীবন সে রাখবেই না। বুঝিয়ে কোন লাভ হচ্ছে না। আর আমার ট্রেনের সময় হয়ে আসায় স্টেশনের রেল পুলিশকে খুঁজে তাদের সব বলে মেয়েটিকে অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকা রওনা করলাম। ঢাকা এসেও কয়েকদিন ভেবেছি, মেয়েটির কথা, অনেকবার চোখের সামনে ভেসে উঠেছে তার জলেপড়া, ক্রন্দনরতা অসহায় চেহারা। শেষ পর্যন্ত  তার কি হলো, তা আর জানা হবে না কোনদিন।

ঘটনা দুই

আমার বাসায় সাহায্য করে যে মেয়েটি, সে এতো ভদ্র, গোছানো ও সৎ একজন মানুষ, যে তাকে আমরা প্রায় পরিবারের সদস্যের মতই মনে করি। এই মেয়েটি চট্টগ্রাম, বাঁশখালীর কোন এক সম্পন্ন গৃহস্থবাড়ির মেয়ে। প্রেমের ফাঁদপাতা ভুবনে, যখন সবই রঙিন লাগে, সেই বয়সে পালিয়ে এসেছিল ঢাকা। ফোনে পরিচয়, শুদ্ধভাষায় কথা বলা, বিএ পাশ দাবী করা প্রেমিক তাকে অবস্থাপন্ন ঘরের মোটামুটি নির্বিঘ্ন জীবন থেকে নামিয়ে এনেছে একরুমের প্রায় বস্তি বাসা আর চার বাড়ি কাজ করে, নিজের ও পাঁচ বছরের ছেলের ভাতকাপড়, পড়াশোনার খরচ যোগানের জীবনে। এবং পেশায় ড্রাইভার, নবম শ্রেণী পাশ, প্রায় শুদ্ধ কথা বলা স্বামী আবার ফোনে নতুন প্রেম করে যাচ্ছে, তার চোখের সামনে!

ঘটনা তিন
 
ফোনে পরিচয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিয়ে আলাপের শুরু। তড়িঘড়ি বিয়ের পর চিকিৎসক নারী জানতে পারলেন প্রতারিত হয়েছেন প্রেমের নামে। স্বামীজী ভর্তিই হয়েছিলেন, পাশ করে আর বেরোতে পারেননি। আর প্রেমে অন্ধ নারী এখন, মার খাচ্ছেন নিয়মিত আর স্বামীজীকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে তাবিজ কবচ করছেন, আর সংসারের যাবতীয় খরচ নিজেই টেনে যাচ্ছেন!

ঘটনা চার
 
পরিচিত একজন কিশোরী, প্রায় অপরিচিত ভাইয়ার সাথে কথা বলতে বলতে প্রেমে যখন খুবই বুঁদ, তখন 'ভাইয়া ' জানালেন, তিনি শুধু টাইমপাস করেছেন।

ঘটনা পাঁচ
 
ফোনে পরিচয়। ছেলে একটা মধ্যমমানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র, মেয়ে একটা বাসার গৃহকর্ম সহায়তাকারী। ফোনে দুমাস কথাবার্তা বলে মেয়েটির দৃঢ় বিশ্বাস, এই ছেলেটি ভালোবাসার টানে সমাজ পরিবার ছেড়ে তাকে বিয়ে করে স্বীকৃতি দেবে। ছেলেটির সাথে ফোনে কথা বলে জানা গেলো, ফোনে নানা শ্রেণী পেশার মেয়েদের সাথে কথা বলা, প্রেম- এগুলো তার সময় কাটানোর উপায়।

আরও পড়ুন:


বরের গাড়িতে কনের সাবেক প্রেমিকের হামলার ঘটনায় আটক ২

ব্রিটেনে গাড়ি নির্মাণের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে

৬৩ পৌরসভায় নির্বাচন কাল

রাশিয়ার টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিলো ইরান


ঘটনা ছয় 

ঢাবির এক বিভাগ থেকে পাশ করে মেয়েটি কোন চাকরিবাকরি খোঁজেনি, করেনি। যেই বয়স্ক বিপত্নীক ভদ্রলোকের সাথে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল, তিনিই মেয়েটির বাড়িভাড়া, বাজারখরচসহ সবরকম খরচ বহন করতেন। কিন্তু সামাজিক কোন স্বীকৃতি মেয়েটিকে দেননি, যদিও আশ্বাস দিয়েছেন এবং মেয়েটি অবলীলায় সে বিশ্বাস কয়েক বছর ধরে বহন করে এসেছে।

ভদ্রলোক সম্প্রতি মারা যাওয়ায় এখন মেয়েটির অথৈ সাগরে পড়ার দশা। তাকে বললাম, কোথাও টিউশন /চাকরির খোঁজ করতে ও কোন মহিলা হোস্টেলে উঠে যেতে। কিন্তু এতো অবোধ, পরনির্ভরশীলতার নাম ভালোবাসা কেমন করে হয়, তা আমি বুঝতে পারিনি।

মেয়েরা ভালোবাসলে, প্রেমে পড়লে যেন অন্ধ না হয়ে যায়, এটা কীভাবে যে বোঝানো যায়, তা-ই ভাবছি। আর ভাবছি মোবাইল ফোনের স্বল্প মূল্যের রাত বারোটার পরের প্যাকেজ,  আর ১০ টাকায় ১০০০ এসএমএসের অফারে কত ছেলে আর কত মেয়ে যে অজানা, অজ্ঞাতকুলশীল লোকজনের খপ্পড়ে পড়ে জীবন বরবাদ করছে, কে জানে!

একটা মানুষকে না চিনে, না জেনে, কি করে এতো ভাব-ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে, মানুষ অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা  ভুলে যায়- তা আমার মাথায় আসেনা। চেনাজানা থাকলেও প্রতারিত হওয়া সম্ভব- সেটা আরেকটা ইস্যু।

কিন্তু মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের কল্যাণে ছড়ানো অজানা অচেনা মানুষজনের সাথে প্রেমের মহামারীর ব্যাপারে ছেলেমেয়েদের, বিশেষ করে টিনএজারদের সচেতন করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে, বলে আমি মনে করি।

আসুন, আমরা ছেলেমেয়েদের বন্ধু হই, (স্পাই নয়) তাদেরকে 'ভাবিয়া করিও কাজ' নীতির সাথে পরিচিত করি, আবেগজনিত দুর্ঘটনার ব্যাপারে জানাই আর তাদেরকে ধ্বংসাত্বক প্রেমের ব্যাপারে তাদের সচেতন করি।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অনেকেই আছেন, যাদের বক্তব্যে নতুন চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক কিছুকেই নতুন করে, নতুন অ্যাঙ্গেলে দেখার একটা  আগ্রহ তৈরি করে। এঁদের আমি মনোযোগের সাথে অনুসরণ করি, কখনো কখনো অনুকরণও করি। 

ভার্চুয়াল কিংবা রিয়েল, সবক্ষেত্রেই আমার মনোযোগ থাকে নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখা।যার সঙ্গ আমাকে নতুন কিছু শেখায় না, নিদেনপক্ষে আনন্দ দেয় না- সেই সঙ্গ আমাকে বেশিক্ষণ টানতে পারে না।

২. ফেসবুক নিয়ে মুশফিক ওয়াদুদ একটা পোষ্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার একটা হাইপোথিসিস হচ্ছে, স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। বরং উপকার করে। উপকার করে এ অর্থে  যে, মানুষের ক্ষোভের ভেন্টিলেশন হয় এবং তারপর এই ক্ষোভ কিছুদিন পর হারিয়ে যায়।”

তার পরপরই মুরাদুল ইসলাম তার নিজের একটি পোষ্টে লিখেছেন, যখন ফেসবুকে কেউ কোন বিষয়ে মত দেন, তার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অনেকে এই বিষয়ে সেকন্ড থট দেন। এভাবে, মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মাণ হয়।কোন সমাজের ন্যারেটিভ বাজে হইলে বুঝতে হবে, এই সমাজে বাজে লোক বেশি এটাই না, এই সমাজে ন্যায় ন্যারেটিভে কথা বলার মত অল্প লোকও নাই “

মুশফিক এবং মুরাদুলকে আমি ফেসবুকে নিবিড়ভাবে ফলো করি। মুরাদুলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো বেশ কয়েক বছর আগে তার অণুগল্প পড়ে। মুশফিকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার ফেসবুকের পোষ্ট  পড়ে। এদের দুজনের কেউই আমার চিন্তার শতভাগ সমর্থক কিংবা আমি তাদের চিন্তার সমর্থক- বিষয়টা এমন না। কিন্তু এদের চিন্তার স্টাইল এবং দেখার চোখটা আমার পছন্দ।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক নিয়ে সারা দুনিয়ায় এখন বড় বড় গবেষণা হচ্ছে। এসব নিয়ে পশ্চিমের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতদের লেখা বইয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর সেল্ফ ঠাসা। ফেসবুক এখন কেবল নিজের বক্তব্য দেয়ার প্লাটফরমই না,  ফেসবুক এখন পড়াশোনার, জ্ঞানার্জনের একটি সাবজেক্টও।


দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

বিরোধীতার রকমফের

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?


৪. মুশফিকের  ‘স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না’ এবং মুরাদুলের ‘মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মান হয়’- এই দুটি বক্তব্য নিয়েই আলোচনার সুযোগ আছে। আমি নিজে মনে করি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকারও।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আমরা আসলে কিভাবে ব্যবহার করছি- সেই আলোচনাও প্রয়োজনীয়। ব্যক্তিজীবনে আপনার বাড়ীঘর, বাড়ীর্ চারপাশ এবং আপনার মেলামেশা বা আত্মীয়তা করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, ভার্চুয়াল জগতকে সাজানোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার বলে আমার নিজের মনে হয়। 

৫. সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে মুশফিক এবং মুরাদুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার নিজের কিছু বক্তব্য আছে। সেগুলো আলাদাভাবে কখনো বলা যাবে। আপাতত সাংবাদিকতায় আমার প্রথম সম্পাদক আলম রায়হানের একটা কথা এখানে উল্লেখ করি। 

সাংবাদিকতায় প্রথম কর্মস্থল ‘সাপ্তাহিক সুগন্ধা’র সম্পাদক ছিলেন আলম রায়হান। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘শুনেন, পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে। কারো লেখা যদি তার নিজের ভাবনার সাথে, চিন্তার সাথে মিলে যায়- তা হলে সেই লেখক, সাংবাদিককেও সে জ্ঞানী লোক মনে করে। নিজের চিন্তার বিপরীত হলে তাকে নানা উপাধীতে ভূষিত করে গালাগালি করে।’

আলম রায়হানের এই কথাটাই আজকাল সবচেয়ে সত্য বলে আমার কাছে মনে হয়।বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

বিসিএস দেশের সেরা মেধাবীদের বেছে নেয়ার পরীক্ষা। সেখানে কলাম্বিয়ার শহর Cartagena এর নাম বাংলায় লিখেছে কার্টাগেনা। ভাইরে এটার উচ্চারণ হবে কার্টাহেনা। 

কার্টাহেনা। Proper Noun যেভাবে উচ্চারিত হয় সেভাবেই লিখতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় অ্যালান গিন্সবার্গের কবিতার নাম লিখেছে September on The Jessore Road.

এই The আমদানী হলো কি করে? কবিতাটার নাম September on Jessore Road. 

ড. জিভাগো এর সঠিক বানান হলো Zhivago আর লেখকের নাম Pasternak. দুটো বানানই ভুল লেখা হয়েছে।

উপন্যাসকে নভেল বলার মধ্যে কি নভেলটি (Novelty) সেটা বুঝতে পারি নাই। মার্কিন তালিবান চুক্তির তারিখ কত এটা কি মনে রাখার জিনিষ? এটা কি পৃথিবীর ইতিহাসের কোন তাৎপর্যপূর্ণ তারিখ?

মোবাইল ফোনের বিল নিয়ে একটা অংক দিয়েছে। সবগুলি উত্তর ভুল। ৪২০ টাকার মোবাইল বিল বারোমাস/ একবছর পরে ১০% বাড়লে,১৩ তম মাসে এটা হবে । ৪২০ + ৪২ = ৪৬২ টাকা।

৬ মাস পরে এটা আরো ২০% বাড়লে এটা ১৮ মাস পরে কত হবে?


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


৬ মাস পরে এটা যদি বাড়ে তবে বিল হবে ১৯ তম মাসে। তাই ৬ মাস পরে ২০% বাড়লেও বিল কিন্তু ১২+৬ =  ১৮ মাস শেষ হলে ৪৬২ টাকাই থাকবে। ১৯ তম মাসে এটা হবে ৪৬২+৪৬.২০  =  ৫০৮.২০

১৯ তম মাসে তো বিল কত জানতে চায় নাই। ১৮ মাস শেষ হবার পরে বিল ২০% বাড়বে। উত্তর হওয়া উচিত ৪৬২ টাকা। কিন্তু অপশন আছে ৪৬০.২০/৫৫৪.৪০/৬২০.৬০/৭৩০.৮০.

হয়তো এগুলোর মধ্যে একটা ঠিক। আমি অংকে খুবই কাঁচা। তাই এই উত্তরগুলির ব্যাখ্যা কি সেটা জানার বড় ইচ্ছা। এরকম আরো কিছু বিষয় আছে যা দেখে মনে হয়েছে বিসিএস এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে।

এই সব প্রশ্ন কেউ মডারেট বা তদারক করে কি?

আব্দুন নূর তুষার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিরোধীতার রকমফের

আশরাফুল আলম খোকন

বিরোধীতার রকমফের

কেউ যদি এজেন্ডা নিয়ে কারো বিরোধিতা করে তার সাথে যুদ্ধটা নৈতিকতার মানদন্ডে বিচার করা যাবে না। এই এজেন্ডাবাজরা রাষ্ট্র ও সমাজের শত্রু। তারা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে দেশ বিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হয়। এটাই তাদের পেশা, রুটি রুজির পথ। কিন্তু কেউ যদি আদর্শগত কারণে বিরোধিতা করেন তার সাথে যুদ্ধটা আদর্শিকই হওয়া উচিত। আদর্শিক যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে। সমাজ আরও বেশি শিক্ষিত হবে। 

আবার আরেকগ্ৰুপ আছেন, যারা “সবসময় সব সরকার”এর দোষত্রুটি তুলে ধরেন। তাদের অবস্থা দেখলে মনে হবে তারা বিরোধী পক্ষের চেয়েও কট্টর। খুব শক্তভাবে কথা বলেন কারণ তাদের নৈতিকতার ভিত্তিটা অনেক শক্ত। তারা বিরোধিতা করেন আবার সরকারের ভালো কাজের পক্ষেও কথা বলেন। যা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেউ বিপথে গেলে তারা সেখানে একটা ঝাকুনি দিয়ে সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করেন। তাদেরকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই দরকার। 

দেশের সবাই আপনার আমার পক্ষের হবে না। কারণ সবাই একই আদর্শের মানুষ না। বিপক্ষ গ্ৰুপ থাকবেই। এখন কে কোন কারণে বিরোধীতা করেন তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সবার ক্ষেত্রে একরকমের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত নয়।


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মজার বিষয় হচ্ছে, যারা জেল খানায় জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের সমর্থনে কথা বলেন এবং হত্যাকারীদের আদর্শকে লালন করেন তারাও এখন সোচ্চার।

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

শরিফুল হাসান

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন ২৪ মে খুলবে? 

ছোট বাচ্চাদের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের বোধ কী কম? আর উচ্চমাধ্যমিক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষের ছেলেমেয়েদের বয়সের পার্থক্য তো ১-২ বছর। কলেজ খুললে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে সমস্যা কোথায়?


চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

চুয়াডাঙ্গায় নারীর রহস্যজন মৃত্যু, শাশুড়ি আটক

অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাকের চাপে বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ, স্ত্রীকে খুন


কাজেই স্কুল-কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ৩০ মার্চ খোলার দাবি জানাচ্ছি। অন্তত হলগুলো খোলা যেতে পারে। ক্লাস দরকার হলে পরে খোলা হোক। আমার বিশ্বাস ক্লাস ১৭ মে থেকে যদি হয়, হল যদি এর আগেও খুলে দেয়া হয় অধিকাংশ ছেলেমেয়ে হলে আসবে না, গাদাগাদিও হবে না হলে। কিন্তু যাদের থাকার কোন জায়গা নেই, ঢাকায় টিউশনি করে চলতে হয়, হল খুলে দিলে তাদের অন্তত থাকার জায়গাটা হবে। এই বিবেচনাতেও হল খুলে দেয়া উচিত।

(ফেসবুক থেকে)

লেখক: শরিফুল হাসান, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মানুষের ভালোবাসাটা এভাবেই ভালো থাক চিরকাল

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

মানুষের ভালোবাসাটা এভাবেই ভালো থাক চিরকাল

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

পৃথিবীতে সবাই ভালোবাসার মূল্য দিতে পারে না। কারণ ভালোবাসার মূল্য দিতে হলে একটা ভালো মন থাকতে হয়। যে মনটা স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো হতে হয়। স্বার্থরা যখন ভালো মনকে আক্রমণ করে তখন সে ভালো মনের  স্বার্থদের সাথে জীবনবাজি রেখে লড়াই করার মতো শক্তি অর্জন করতে হয়। মানুষের তো মন থাকে। মানুষের স্বার্থও থাকে। 

তবে স্বার্থপরতা মানুষের অস্তিত্বের একটা অংশ। কোথাও কম কোথাও বেশি। এটা কি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। মনস্তত্বের গবেষণা এটা নিয়ে ভাবতে পারে তবে সেটার সংখ্যাগত মান পরিমান করা হয়তো কঠিন। মনের ভালো মন্দ থাকলেও স্বার্থের ভালো নেই,  মন্দ আছে। যদিও ব্যাপক অর্থে বিবেচনা করলে স্বার্থেরও হয়তো ভালো একটা দিক কোনো না কোনো জায়গায় থাকে। যেমন একটা নতুন আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা বিনীতভাবে বলেন মানুষের কল্যাণের স্বার্থে আমাদের এই নতুন আবিষ্কার। তাহলে স্বার্থটা যখন নিজের না হয়ে অন্যের ভালোর জন্য হয় তখন সেটা স্বার্থ না হয়ে  ভালোবাসা হয়ে যায়। কি অদ্ভুত রূপান্তর। ভাবতেও শরীর শিহরিত হয়ে যায়।

অন্যের স্বার্থে যদি কেউ ত্যাগ করে তবে তা ভালোবাসা, নিজের স্বার্থে কেউ যদি ভোগ করে  তবে তা স্বার্থপরতা। রক্তের সম্পর্কের বাইরেও ভালোবাসা বাসা বাধে। অচিনপুরের অদেখা একটা মানুষের প্রতিও ভালোবাসা তৈরী হতে পারে। আবার যোজন যোজন দূরের দুই ভুবনের দুই বাসিন্দার মধ্যেও ভালোবাসা গড়ে উঠতে পারে। সেই মানুষটা যখন কাছে আসে তখন একটা ভালোবাসার টান মনকে আকুলি বিকুলি করে। সবটাই হয়তো কল্পনা, তারপরও মনে হয় কল্পনাটা স্বপ্নের ঘুম ভাঙিয়ে বাস্তবতাকে টেনে হেঁচড়ে এনেছে ভালোবাসার কাঙাল মানুষটার কাছে।

প্রাণের আকুলতা ও মনের ব্যাকুলতা দিয়ে যে মানুষটাকে মানুষ ভালোবাসে তার কাল্পনিক কিংবা বাস্তব উপস্থিতি মানুষের হৃদয়ের শূন্যতাকে  অপার আনন্দের ঝিকিমিকি আলোয় ভরিয়ে দেয়। চোখের পলকেই ভালোবাসার প্রার্থনায় বসে থাকা মানুষটার অসম্পূর্ণ সত্ত্বাকে ভালোবাসার আকাঙ্খিত মানুষটা  সঙ্গ দিয়ে  করে তোলে পরিপূর্ণ।  এ মানুষটিকেই প্লেটোর দর্শন নাম দিয়েছে  সোলমেট। 

সোলমেটের সান্নিধ্য কেন মানুষের  হৃদয়কে উদ্বেলিত করে তোলে। বিন্দু বিন্দু জলকণা আগুনের তীব্র দহনে যেমন বুদ্ বুদ্ করে উঠে তেমনি তা মানুষের মনে শ্রাবনের বৃষ্টি হয়ে পরিপূর্ণতার অনুভূতি জাগ্রত করে। সোলমেটকে মানুষ  কেন বেটার হাফ হিসেবে পেতে আগ্রহী হয়? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দর্শনতত্ত্বের ভিত্তিতে দিয়েছেন  গ্রিক দার্শনিক প্লেটো।  এই সোলমেটকে খুঁজতে গিয়ে প্লেটো  বলেছেন আরো বিচক্ষণতার সাথে আমাদের ভালোবাসতে হবে। প্লেটো মানবিক  সম্পর্কগুলোকে তাত্ত্বিকভাবে বিচার করার চেষ্টা করেছে। তার সিম্পোজিয়াম বইটিতে  ভালোবাসা আসলে কি  সেটা তিনি বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। একটি গল্পকে উপজীব্য করে তিনি এটির  ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্লেটো মানবিক সম্পর্কগুলোকে তাত্ত্বিকভাবে বিচার করার চেষ্টা করেছে | তার সিম্পোজিয়াম বইটিতে ভালোবাসা আসলে কি সেটা তিনি বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। একটি গল্পকে উপজীব্য করে তিনি এটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এখানে সুদর্শন কবি আগাথনের একটি নৈশভোজের দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছে। মূলত আগাথন এই ভোজে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন খাওয়া, পান করা ও ভালোবাসা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য। মূলত আগাথন এই ভোজে বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন খাওয়া, পান করা ও ভালোবাসা সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য। 

ভালোবাসা কি সে বিষয়ে একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেকরকম ছিল। সেখানে প্লেটোর শিক্ষক সক্রেটিসের ভালোবাসা সংক্রান্ত দর্শন তত্ত্বটি অন্যদের চিন্তাধারা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। সক্রেটিস ভালোবাসা সমন্ধে যা বলতে চেয়েছেন তা হলো একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে তখনই ভালোবাসে যখন সে মানুষটির মধ্যে ভালো কিছু গুণাবলী লক্ষ্য করে যা তার মধ্যে অনুপস্থিত থাকে। ভালোবাসার অন্তর্নিহিত সত্যটি  হচ্ছে সেই  মানুষটির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে যে মানুষটি তাকে ভালোবাসে সে  কিছুটা তার মতো হয়ে উঠতে পারে। সে মানুষটির গুণাবলী ভালোবাসার জড়তায় আক্রান্ত অপূর্ণ মানুষটির বিকাশের সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করে।

অন্যদিকে প্লেটো ভালোবাসাকে একধরণের শিক্ষা বলেছেন। মানুষ তখনই আরেকটি মানুষকে ভালোবাসতে পারে যখন সে তার দ্বারা নিজের ঘাটতিগুলো পুষিয়ে উঠে চায় এবং ক্রমান্বয়ে নিজের বিকাশকে নিশ্চিত করতে আগ্রহী হয়। ভালোবাসা হওয়া দরকার দুটি মানুষের  একে অন্যকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে একসাথে বেড়ে উঠার প্রচেষ্টা। এর অর্থ হচ্ছে মানুষকে এমন কোনো মানুষের কাছাকাছি আসতে হবে যে কিনা তার বিবর্তন  বা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন অনুপস্থিত অংশটিকে ধারণ করে। যেমন একজন মানুষের নতুন ধারণা তৈরির সক্ষমতা আছে কিন্তু সেটি আরেকজন মানুষের মধ্যে নেই। যে মানুষটির নতুন ধারণা তৈরির গুণাবলী নেই সে মানুষটি যে মানুষটির এই গুণাবলী আছে  তাকে ভালোবেসে বা তার সান্নিধ্যে এসে এই গুণাবলীটি অর্জনের চেষ্টা করবে।


নাসিরের স্ত্রীকে ‘জাতীয় ভাবী’ আখ্যা দিয়ে সুবাহ'র স্ট্যাটাস

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে খুলনায় পরিবহন চলাচল বন্ধ

১৩৮ বছরের পুরনো পরিত্যক্ত আদালত ভবনে চলে বিচার কাজ

নাইজেরিয়ায় হোস্টেল থেকে কয়েকশ ছাত্রীকে অপহরণ


আবার যে মানুষটির জীবনবোধ নেই, সে মানুষটি যে মানুষটির জীবনবোধ আছে তাকে ভালোবেসে তার জীবনবোধের ঘাটতি পূরণের প্রচেষ্টা চালাবে। এমন অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। তবে সব মানুষ সব বিষয়ে পূর্ণতা অর্জন করতে পারেনা। এই সীমাবদ্ধতার জায়গাটিতে এসে মানুষ তার প্রয়োজনের পরস্পর পরস্পরকে ভালোবেসে ও সাহচর্যে এসে নিজেদের মধ্যকার অনুপস্থিত গুণাবলীকে অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে পরস্পরের উন্নতি সাধনে ভূমিকা রাখবে। প্লেটো সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে সহনশীল হবার কথা বলেছেন। যেখানে অহংকার ও আগ্রাসী মনোভাব পরিত্যাগ করাকে উপযুক্ত উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোনো মানুষই সম্পূর্ণ নয়। যে মানুষটাকে মানুষ ভালোবাসবে তার কাছ থেকে শেখার মতো একটা সৃজনশীল মন থাকতে হবে। সেটা থাকলে  মানুষ তার অপূর্ণতাকে পূরণ করতে সক্ষম হবে। 

মানুষ ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকে শিখতে শিখতে একদিন তার সেরা সংস্করণে পরিণত হবে। এটি সহজে অর্জিত হবেনা বরং ভালোবাসার মানুষটির সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়ে তা অর্জন করতে হবে। এ যাত্রাপথ খুব জটিল ও বিপদসংকুল। তবে তা অসাধ্য নয়। মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে মানুষের প্রয়োজনে।  মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে মানুষের নিজের  প্রয়োজনে।  সক্রেটিস ও প্লেটোর ভালোবাসার দর্শনেও তাই স্বার্থের পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়। তবে সে স্বার্থের ভিতরে নিঃস্বার্থ শক্তি  হচ্ছে ভালোবাসার উদার মানুষটি। যে জানেনা তাকে যে ভালোবেসেছে সে ভালোবাসার অন্তরালে তার কোনো কোনো ভালো গুনকে চুরি করে নিচ্ছে।

মানুষ যদি মানুষকে ভালোবেসে তার কাছ থেকে শিখতে পারে তবে তা দোষের কিছু নয়। বরং তা অনেক মহত্বের। তবে অসম্পূর্ণ মানুষটি যখন সব শিখে গিয়ে সম্পূর্ণ হয়ে উঠে তখন যদি সে ভালোবাসার মানুষটিকে আঘাত দেয় তখন সে ভালোবাসার আর মূল্য থাকেনা। ভালোবাসায় কৃতজ্ঞতা থাকতে হয়। ভালোবাসায় প্রতিদান থাকতে হয়। কাটার সাথে ফুল থাকতে হয়। ফুলের সাথে ফুলের সুগন্ধ থাকতে হয়। 

ভালোবাসাকে ঘাতকেরা যতবার আঘাত করে ভালোবাসা তত মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে উঠে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে। যেমন অসহায় হয় সময়। যেমন অসহায় হয় প্রকৃতি। যেমন অসহায় হয় মানুষ। তবুও দর্শন, মনস্তত্ব, বিজ্ঞান, অর্থনীতি সব পরীক্ষায় জিততে জিততে ভালোবাসা শক্ত শেকড়ের উপর মেরুদন্ড শক্ত করে দাঁড়াক।

মা আর প্রেয়সীর বাস্তবতার টানাপোড়েন ভালোবাসার শক্তির  কাছে পরাভূত হোক। ভোগবাদী চরিত্র ভালোবাসার শক্তিতে ত্যাগের কাছে আত্মসমর্পণ করুক। সূর্যের আলো ভালোবাসার শক্তিতে নেমে আসুক পৃথিবীতে। মাটির গন্ধে সে সূর্যের আলো  মোহিত হয়ে মানুষের অন্তরে ঢেলে দিক অলৌকিক চিন্তার আনন্দ। যে চিন্তার আনন্দ ভালোবাসা হয়ে মানুষকে আবার মানুষ করে তুলবে। নগরের ইট পাথর ভেঙে গড়ে তুলবে  ভালোবাসার এক মাটির পৃথিবী। যার জন্ম আছে মৃত্যু নেই। মানুষের ভালোবাসাটা এভাবেই ভালো থাক চিরকাল।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর