যে সময়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন

অনলাইন ডেস্ক

যে সময়ে আয়াতুল কুরসি পাঠ করবেন

আয়াতুল কুরসি পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ কোরআনুল কারিমের সবচেয়ে বড় ও দ্বিতীয় সূরা আল বাকারার ২৫৫তম আয়াত। যা পুরো কোরআনের সবচেয়ে বড় আয়াতও বটে। এ আয়াতের রয়েছে অনেক ফজিলত।  আয়াতুল কুরসির ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে অনেক বর্ণনা রয়েছে।

উবাই ইবনু কাব (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে আবুল মুনযির (উবাইয়ের ডাকনাম)! তুমি কি বলতে পারো, তোমার জানামতে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলই ভালো জানেন।’ (এরপর) তিনি (আবারো) বললেন, ‘হে আবুল মুনযির! তুমি বলতে পারো কি, তোমার জানামতে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সর্বশ্রষ্ঠ?’ এবার আমি বললাম, ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ূম (আয়াতুল কুরসি- ২৫৫ নম্বর আয়াত)।’ উবাই বলেন, এরপর তিনি আমার বুকে (মৃদু) আঘাত করে বললেন, ‘হে আবুল মুনযির! ইলম তোমাকে উপকৃত করুক।’ (মুসলিম, আস-সহিহ: ৮১০)।

অন্য বর্ণনায় হাদিসটির বাকি অংশে আরো বলা হয়েছে, ‘সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এর (আয়াতুল কুরসির) জিহ্বা হবে, ঠোঁট হবে এবং এটি আরশের পাদদেশে মালিকের পবিত্রতা বর্ণনা করবে।’ (আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৫/১৪; আবু দাউদ ত্বয়ালিসি, আল-মুসনাদ: ১/২৪; আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ৩৪১০; হাদিসটি সহিহ)।


ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তে হয়

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত


 

যে কারণে আয়াতুল কুরসির এই শ্রেষ্ঠত্ব: ইমাম নববি (রাহ.) বলেন, আলেমরা বলেন, ‘আয়াতুল কুরসি শ্রেষ্ঠত্বের বৈশিষ্টে বৈশিষ্টমণ্ডিত হওয়ার কারণ হলো, এর মাঝে ইলাহিয়্যাত, একত্ববাদ, জীবন, জ্ঞান, রাজত্ব, কুদরত ও ইচ্ছা- আল্লাহর এই সাতটি গুণবাচক নাম ও গুণাগুণের নীতিমালার সমাবেশ ঘটেছে।’ (নববি, শারহু মুসলিম)।

তাছাড়া আয়াতুল কুরসির প্রথম বাক্যটিতে আছে আল্লাহর ইসমে আযম।

আয়াতুল কুরসি পাঠের বিশেষ সময়গুলো-
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক (ফরজ) নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, মৃত্যু ব্যতীত কোনো কিছু তার জান্নাতে প্রবেশে বাধা দিতে পারবে না।’ (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা: ৬/৩০; আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৫৯৫; হাদিসটি সহিহ)।

প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায়: উবাই ইবনু কা’ব (রা.) এর সাদাকার মাল চুরি করতে এসে এক জিন ধরা পড়ে যায়। তখন উবাই (রা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি?’ সে বলে, ‘এই আয়াতটি—আয়াতুল কুরসি। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পড়বে, সে সকাল পর্যন্ত আমাদের থেকে পরিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি সকালে এটি পড়বে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের থেকে নিরাপদে থাকবে।’ সকাল হলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন এবং ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘটনা শুনে) বলেন, ‘খবিসটি সত্য বলেছে।’ (ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৭৯১; আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৪৭০; হাদিসটি সহিহ)।

ঘুমানোর পূর্বে: একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের জাকাতের মাল-সম্পদ দেখাশুনার দায়িত্ব দেন আবু হুরায়রা (রা.)-কে। কিন্তু রাতের বেলা জাকাতের মাল থেকে এক ব্যক্তি চুরি করতে এসে পরপর তিনদিন ধরা খেয়ে যায়। তবে, বিভিন্ন কৌশলে ও মিথ্যা বলে সে বেঁচে যায়। সর্বশেষ দিন আবু হুরায়রা (রা.) তাকে রাসূলের (সা.) কাছে নেয়ার কথা বললে সে বলে, ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে এমন কতগুলো শব্দ শিখিয়ে দেবো, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন।’ আমি বললাম, ‘সেগুলো কী?’ সে বললো, ‘যখন তুমি (ঘুমানোর জন্য) বিছানায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পাঠ করে ঘুমাবে। তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবেন। সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না।’ তখন আবু হুরায়রা (রা.) তাকে ছেড়ে দেন এবং এই ঘটনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে জানান। তিনি এটি শুনে বললেন, ‘শোনো! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবু হুরাইরা! তুমি কি জানো, তিন রাত ধরে তুমি কার সঙ্গে কথা বলেছিলে?’ আবু হুরায়রা (রা.) বললেন, ‘জি না।’ তিনি বললেন, ‘সে ছিলো শয়তান!’ (বুখারি, আস-সহিহ: ২৩১১)।

আয়াতুল কুরসির আরবি ও বাংলা উচ্চারণসহ অর্থ:

اللّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ    وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيم
‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্কাইয়্যুম। লা তা’খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিসসামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্। মান যাল্লাযী ইয়াস ফায়ু ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম্ মিন ইল্ মিহি ইল্লা বিমা শা'আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিয়্যূল আজিম।

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, সবই তার। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তার অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তার জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তার কুরসি (সিংহাসন) সমস্ত আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তার পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আয়াতুল কুরসির আমল করার এবং কোরআন হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না?

অনলাইন ডেস্ক

দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না?

স্ত্রীকে স্পর্শ করার একমাত্র উপায় হলো বিয়ে সম্পন্ন করা। বিয়ে সম্পন্ন করার শর্ত তিনটি। এক. প্রস্তাব দেওয়া ও কবুল করা, দুই. দেনমোহর দেয়া, তিন. কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী থাকা।

দেনমোহর বিয়ের আকদের পর প্রদান করাতে কোন সমস্যা নেই। তবে সহবাসের পূর্বে প্রদান করাই উত্তম। তবে যদি স্ত্রী দেনমোহর প্রদান করা ছাড়াই সহবাসের অনুমতি প্রদান করে তাহলে কোন সমস্যা নেই। বাকি দেনমোহর প্রদান করা ছাড়া প্রথম সহবাসের পূর্বে স্ত্রী বাঁধা প্রদান করতে পারবে। কিন্তু একবার সহবাস হয়ে গেলে আর বাঁধা দিতে পারবে না। কিন্তু স্বামীর জিম্মায় দেনমোহর আদায় না করলে তা ঋণ হিসেবে বাকি থেকে যাবে।

স্ত্রী যদি উক্ত দেনমোহর মাফ না করে, আর স্বামীও তা পরিশোধ না করে, তাহলে কিয়ামতের ময়দানে স্বামীর অপরাধী সাব্যস্ত হবে। তাই দেনমোহরের টাকা পরিশোধ করে দেয়া জরুরী।

وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا [٤:٤]

আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশীমনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। (সূরা নিসা-৪)

فَمَا اسْتَمْتَعْتُم بِهِ مِنْهُنَّ فَآتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ فَرِيضَةً ۚ وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا تَرَاضَيْتُم بِهِ مِن بَعْدِ الْفَرِيضَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا [٤:٢٤]

অন্তত তাদের মধ্যে যাকে তোমরা গ্রহণ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না। যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ। (সূরা নিসা-২৪)

আরও পড়ুন:


নামাজের ভিতরের ৭টি ফরজ কাজ জেনে নিন

মেয়েকে কখনো নিজ বাড়িতে, কখনো ঢাকা-চট্টগ্রামে যৌন কাজে পাঠাতেন মা

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জানে আলম আর নেই

স্বর্ণের দাম আরও কমল


وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ [٥:٥]

তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলমান নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তোমাদের পূর্বে, যখন তোমরা তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর। (সূরা মায়িদা-৫)

وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ أَن تَنكِحُوهُنَّ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ  [٦٠:١٠]

তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। (সূরা মুমতাহিনা-১০)

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের ভিতরের ৭টি ফরজ কাজ জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের ভিতরের ৭টি ফরজ কাজ জেনে নিন

নামাজ প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। সয়ং আল্লাহ তাআলা নামাজ কায়েমে নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বিতীয় রুকন। যা প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ্য মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমদের জন্য আদায় করা ফরজ। নামাজের ভিতরেও রয়েছে সাতটি ফরজ কাজ। জেনে নিন সেই ফরজ কাজগুলো কি?

০১. তাকবিরে তাহরিমা: আল্লাহর মহত্ত্ব প্রকাশ পায় এমন শব্দ দ্বারা নামাজ আরম্ভ করা ফরজ। আর তা হচ্ছে তাকবিরে তাহরিমা তথা আল্লাহু আকবার। যা দ্বারা নামাজের বাহিরের সব ধরণের কাজকে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ বলেন- তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর। (সূরা মুদদাসসির: আয়াত ৩)

০২. কিয়াম করা: নামাজের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়ানো। আল্লাহ বলেন, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াবে। (সূরা বাক্বারা: আয়াত ২৩৮)

০৩. কিরাত পড়া: সূরা ফাতিহার পর সুরা মিলানো। ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতে এবং ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফল নামাজের সব রাকাআতে সুরা মিলানোই ফরজ। আল্লাহ বলেন- তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয়, ততটুকু পড়। (সূরা মুযযাম্মিল: আয়াত ২০)

০৪. রুকু করা: প্রত্যেক রাকাআতে একবার রুকু করা ফরজ। রুকু হচ্ছে- দাঁড়ানো থেকে অর্ধনমিত হওয়া, যেন দু`হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌছে যায়। মাথা এবং পিঠ এক সমান্তরালে চলে আসে। আর বসে নামাজ পড়ার সময়ও ঝুঁকতে হবে, যেন কপাল হাঁটু বরাবর গিয়ে পৌঁছে। আল্লাহ বলেন-তোমরা রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর। (সূরা বাক্বারা: আয়াত ৪৩)

০৫. সিজদা করা: প্রতি রাকাআতে দু`টি সিজদা করা ফরজ। সিজদার সময় নাক ও কপাল মাটিতে রাখা। আল্লাহ বলেন- হে ঈমানদারগণ! তোমরা রুকু কর এবং সিজদা কর। (সূরা হজ: আয়াত ৭৭)

০৬. শেষ বৈঠকে বসা: নামাজের শেষ রাকাআতে সিজদার পর তাশাহহুদ পড়তে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু পরিমাণ সময় বসা (অবস্থান করা) ফরজ। তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব, দরূদ ও দোয়া পড়া সুন্নাত।

০৭. সালাম ফিরানো: সালামের মাধ্যমে নামাজ সমাপ্ত করা ফরজ।

সুতরাং প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত, নামাজের ভিতরের ফরজগুলো যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে নামাজ আদায় করা। হে আল্লাহ! সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে সঠিকভাবে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

আরও পড়ুন:


মেয়েকে কখনো নিজ বাড়িতে, কখনো ঢাকা-চট্টগ্রামে যৌন কাজে পাঠাতেন মা

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জানে আলম আর নেই

স্বর্ণের দাম আরও কমল

৪৭ কিশোরকে আটক করে ওসি বললেন, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের রাস্তায় পেলেই ব্যবস্থা


 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা লাহাবের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা লাহাবের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ

সুরা লাহাব পবিত্র কুরআনের ১১১ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৫ এবং সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওয্‌যা। সে ছিল আবদুল মোত্তালিবের অন্যতম সন্তান। 

গৌরবর্ণের কারণে তার ডাক নাম হয়ে যায় আবু লাহাব। কোরআন পাক তার আসল নাম বর্জন করেছে। কারণ সেটা মুশরিকসুলভ। এছাড়া ‘আবু লাহাব’ ডাক নামের মধ্যে জাহান্নামের সাথে বেশ মিলও রয়েছে। 

সে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) - এর কট্টর শত্রু ও ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিল এবং রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে কষ্ট দেয়ার প্রয়াস পেত। তিনি যখন মানুষকে ঈমানের দাওয়াত দিতেন, তখন সে সাথে সাথে যেয়ে তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রচার করত।

আরবি:

 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
١  تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ 
٢ مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ 
٣ سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ 
٤ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ 
٥ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ 

উচ্চারণ:

‘বিসমিল্লাহ-হির রহমা-নির রাহীম’

ত্বাব্বাত ইয়াদা- আবী লাহাবিউ ওয়া তাব্বা. মা আগনা- 'আনহু মা-লুহু ওয়ামা- কাসাব. ছাইয়াছলা-না-রানযা-তা লাহাবিউ ওয়ামরাআতুহ, হাম্মা- লাতাল হাত্বোয়াব. ফীজী দিহা- হাবলুম মিম মাসাদ. 


রাজশাহীতে চলছে বিএনপির মহাসমাবেশ

করোনায় দেশে আরও ৭ জনের মৃত্যু

বিমানের মধ্যেই মৃত্যু, পাকিস্তানে ভারতীয় বিমানের জরুরি অবতরণ

কুয়েতে দিনার ছিটিয়ে ‘অশ্লীল নাচ’, ৪ বাংলাদেশিকে খুঁজছে দূতাবাস


বাংলায় অনুবাদ:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১. আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
২. কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
৩. সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
৪. এবং তার স্ত্রীও - যে ইন্ধন বহন করে,
৫. তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি ।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন

নামাজ আদায় করতে আল্লাহ তাআলা কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। এটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বিতীয় রুকন। যা প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ্য মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম পুরুষ ও মহিলার জন্য আদায় করা ফরজ। নামাজ শুরু করার পূর্বে রয়েছে সাতটি ফরজ কাজ।

১. পবিত্রতা অর্জন: সমূদয় অপবিত্রতা থেকে শরীর পবিত্র হওয়া। আল্লাহ বলেন- তোমরা অপবিত্র হলে পাক সাফ হয়ে যাও। (সূরা মায়িদা: আয়াত ৬)

২. পোশাক পবিত্র হওয়া: নামাজের পরিধেয় জামা, পাজামা, টুপিসহ যে সব পোশাক পরিধানে থাকবে তা পবিত্র হওয়া আবশ্যক। অপবিত্র হলে নামাজ হবে না। আল্লাহ বলেন- তোমার পোশাক পবিত্র কর।’ (সূরা মুদ্‌দাসসির: আয়াত ৪)

৩. স্থান পবিত্র হওয়া: নামাজি ব্যক্তি যে স্থানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়বে, যেখানে হাঁটু ও হাত রেখে সিজদা করবে এসব স্থান অবশ্যই পবিত্র হতে হবে।

৪. আওরাতে সতর: পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং মহিলাদের দু’হাতের কবজি, পাদ্বয় এবং মুখমণ্ডল ব্যতিত সমস্ত দেহ ঢেকে রাখা ফরজ। আল্লাহ বলেন- হে বনি আদম! প্রত্যেক নামাজের সময় তোমরা সুন্দর সাজসজ্জা/পরিচ্ছদ পরিধান করে নাও। (সূরা আরাফ: আয়াত ৩১)

আরও পড়ুন:


নামাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীদের পরিণতি কী?

বাংলাদেশের মিডিয়া মুক্ত ও সোচ্চার: বিক্রম দোরাইস্বামী

আন্তর্জাতিক ১৩ প্রেস মুশতাক হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত চায়: নুর

বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ


৫. সময়মতো নামাজ পড়া: প্রত্যেক ওয়াক্তের সময়ে ঐ নামাজ আদায় করা। আল্লাহ বলেন- নির্ধারিত সময়ে নামাজ কায়ম করা ঈমানদারের জন্য আবশ্যক। (সূরা নিসা: আয়াত ১০৩)

৬. কিবলামুখী হওয়া: নামাজি ব্যক্তি বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে নামাজ আদায় করবে। আল্লাহ বলেন- তোমরা (নামাজের সময়) কা’বার দিকে মুখ কর। (সূরা বাক্বারা: আয়াত ১৫০)

৭. নিয়ত করা: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আমলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (বুখারি)

উপরোক্ত কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে। যা বান্দার জন্য ফরজ বা আবশ্যক। হে আল্লাহ! সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে নামাজপূর্ব গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো যথাযথভাবে মেনে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীদের পরিণতি কী?

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারীদের পরিণতি কী?

প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য নামাজ ফরজ। আল্লাহ তাআলা সব কিছু ছাড় দিতে পারেন কিন্তু নামাজের বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এই নামাজ যারা ত্যাগ করবে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে পদে পদে লাঞ্ছনা, অসহায়ত্ব, কষ্ট এবং কঠিন শাস্তি। যার কিছু তুলে ধরা হলো-

দুনিয়ার জীবনে...

ক. আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার জীবনে সবকিছু থেকে বরকত কেড়ে নিবে।
খ. নামাজ ত্যাগকারীর চেহারায় কোনো নূর থাকবে না।
গ. আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আমলের পুরস্কার পাবে না।
ঘ. অন্য কোনো লোক তার জন্য দোয়া করলে, সে দোয়া তার কোনো কাজে আসবে না।
ঙ. দুনিয়ার সকল সৃষ্টিজীবের নিকট সে হবে ঘৃণিত ব্যক্তি।

মৃত্যুকালীন অবস্থা...

ক. বেনামাজি অপদস্থ-লাঞ্ছিত হয়ে মৃত্যু বরণ করবে।
খ. প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে।
গ. এমন পিপাসিত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে, দুনিয়ার সব সাগরের পানি পান করলেও তার পিপাসা মিটবে না।

কবরের অবস্থা...

ক. বেনামাজির কবরকে এমন সংকীর্ণ করা হবে যে, এক পাঁজরের হাড় অন্য পাঁজরে ঢুকে পড়বে।
খ. কবরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হবে, যে আগুনের আঙরা বা জ্বলন্ত কয়লার ওপর রাত-দিন পলটি খেতে থাকবে।
গ. কবরে এমন এক বিষাক্ত সাপ নিযুক্ত করা হবে। এ সাপটি দৈনিক পাঁচ বার বিষাক্ত ছোবল দিবে। ফজরের নামাজ তরক করার কারণে ফজর থেকে জোহর পর্যন্ত, জোহরের নামাজ তরক করার কারণে জোহর থেকে আছর পর্যন্ত, এভাবে আছর থেকে মাগরিব এবং মাগরিব থেকে ইশা পর্যন্ত। এর ছোবল এতটাই বিষাক্ত হবে যে, প্রতি ছোবলে বেনামাজি ৭০ গজ মাটির নিচে চলে যাবে।

আরও পড়ুন:


বাংলাদেশের মিডিয়া মুক্ত ও সোচ্চার: বিক্রম দোরাইস্বামী

আন্তর্জাতিক ১৩ প্রেস মুশতাক হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত চায়: নুর

বিশ্ববাজারে সিমেন্টের কাঁচামালের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ওই সব লোক এখানে এসে মাতব্বরি করবে কেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী


কিয়ামতের দিনের অবস্থা...

ক. আগুনের কয়লার উপর চেহারাকে টানা-হেঁচড়া করা হবে।
খ. হিসাবের সময় আল্লাহ তাআলা গজবের দৃষ্টি তাকাবে যার ফলে তার চেহারার গোস্ত খসে পড়ে যাবে।
গ. হিসাব হবে কঠিন। অতপর জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে।

এসব কঠিন আযাবের কথা চিন্তা করে আসুন সবাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। আল্লাহ তাআলা সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত শাস্তি থেকে হিফাজত করুন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর