শনিবার ঢাকার যে সব মার্কেট বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার ঢাকার যে সব মার্কেট বন্ধ

জরুরি প্রয়োজনে ঢাকার কোথাও বের হবেন? তার আগে দেখে নিন শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে।

অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে যেসব এলাকা:
বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, শ্যামবাজার, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঙ্খারপুল, গুলিস্থানের দক্ষিণ অংশ।


ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তে হয়

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে মহানবী (সা.) যে দোয়া পড়তে বলেছেন

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত


 

অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট:
আজিমপুর সুপার মার্কেট, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ইসলামপুর কাপড়ের দোকান, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সামনের দিন খারাপ হতে পারে

তালুকদার বিপ্লব

সামনের দিন খারাপ হতে পারে

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার নো মাস্ক নো সার্ভিস নির্দেশনা জারি করলেও তা মানছেন না অনেকেই। বিশেষ করে রাজধানীর বেশিরভাগ কাচাঁবাজার ও নামিদামি রেস্তোরাগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি উপক্ষিত। এ অবস্থা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রবেশের পথকে প্রশস্ত করবে বলে মতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে সরকার। একই সাথে মাস্ক না পরার কারণে জরিমানাও করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে  নো মাস্ক, নো সার্ভিস কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর বেশির ভাগ খোলাবাজার ঘুরে দেখা যায় মাস্ক পরার প্রবণতা নেই দোকানিদের মধ্যে। মাস্ক ছাড়াই কেনাবেচা করছেন, কথাও বলছেন ক্রেতাদের সাথে।

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না রাজধানীর জনসমাগম স্থলের বিভিন্ন ফাস্টফুড দোকান এবং নামিদামি হোটেল-রেস্তরাগুলোয়। অবশ্য সিটি কর্তৃপক্ষ বলছে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

৬ গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের আসরে স্বামী!

মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাবস ব্যবহার ছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাচাঁর বিকল্প নেই বলে মনে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মরামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ রোধে অধিক সচেতনতার বিকল্প নেই বলেই মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

‘ধর্ষকের শাস্তি হোক ফায়ারিং স্কোয়াডে’

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ষকের শাস্তি ফায়ারিং স্কোয়াডে দেওয়ার ব্যাপারে মত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব আব্দুল করিম।বুধবার নিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড যেমন সমর্থন করা যায় না ঠিক তেমনি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ড কাম্য। 

‘যে জঘন্য বাবা নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করে সে জঘন্য বাবার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে তাকে যদি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে জনসন্মুখ্যে হত্যা করা হয় তাহলে এর একটা ইফেক্ট পড়বে। যেমন সৌদি আরবে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি দেওয়া হয় জনসন্মুখে। এমন দু চার টা শাস্থি দেওয়া হলে এর একটা ইফেক্ট পড়বে। এটা যদি সম্ভব না হয় তাহলে দ্রুত বিচার আইনে তাকে যদি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাহলে এই কলঙ্ক থেকে আংশিক মুক্তি মিলবে।’

আনোয়ার সাদীর উপস্থাপনায় ‘পিছু ছাড়ছে না সংকট’ শীর্ষক আলোচনাটিতে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

সজীব ওয়াজেদ জয় তারুণ্যের জাদুকর

ড. কাজী এরতেজা হাসান

সজীব ওয়াজেদ জয় তারুণ্যের জাদুকর

প্রজন্ম কথাটা আমরা ইদানিং খুব ব্যবহার করি। ‘তরুণ প্রজন্ম’ কথাটা আজ বিশ্বের সব জায়গায় বহুল ব্যবহৃত শব্দ।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একজন আইকন একটা প্রজন্মের জন্য হয়ে ওঠেন বদলে দেওয়ার জয়গান। বাংলাদেশের এমন একজন তরুণ আইকন, যিনি বদলে দিয়েছেন দেশের বেকার যুবকদের ভাগ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা এবং সেই স্বপ্ন পূরণের পথে দুর্বার গতিতে আমাদের ছুটে চলা যার হাত ধরে, তিনি সজীব ওয়াজেদ জয়।

লেখার শুরুতেই তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা বক্তব্য খুব মনে পড়ছে। ২০১৮ সালে জুলাই মাসের ২৫ তারিখ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, নিজে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালেই ‘টাকার অভাবে’ একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়াতে পারেননি। ছেলে-মেয়ে ও ভাগনে-ভাগ্নিদের লেখাপড়া নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করেছে, চাকরি করেছে। পড়ার মাঝে গ্যাপ দিয়ে চাকরি করে আবার পড়াশোনা করেছে।

একবার গ্র্যাজুয়েশন হয়েছে, কিছু দিন চাকরি করেছে, স্টুডেন্ট লোন নিয়েছে, সেটা শোধ দিয়েছে আবার ভর্তি হয়েছে মাস্টার্স ডিগ্রি করেছে। আবার সেই লোন শোধ দিয়েছে। এইভাবে পড়েছে। পড়াশোনা করা অবস্থায়ও ঘণ্টা হিসেবে কাজ করেছে, পার ঘণ্টা একটা ডলার পেত, সেটা দিয়ে তারা চলত। ’ টাকার অভাবে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিতে দুই সেমিস্টার পড়ে ছেলে জয়ের সেখান থেকে চলে আসার কথাও বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভারতের ব্যাঙ্গালোর ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করার পর জয় কিছু দিন চাকরি করে এরপর আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য এমআইটিতে (আমেরিকা) চান্স পেল। আমি তার শিক্ষার খরচ দিতে পারিনি। দুটো সেমিস্টার পড়ার পর নিজে কিছু দিল, আমাদের কিছু বন্ধুবান্ধব সহযোগিতা করল, যার জন্য যেতে পারল। আর আব্বার বন্ধু আমার ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিয়েছিলেন। উনি বলতেন, তুমি পলিটিক্স করো এটা আমার ওপর ছেড়ে দাও। তিনি না থাকলে আমি পড়াতে পারতাম না। এমনকি মিশনারি স্কুলে তারা পড়েছে। সাত দিনই সবজি বা ডালভাত খেতে হতো, একদিন শুধু মাংস খেতে পারত। এভাবে কৃচ্ছ সাধন করে এরা বড় হয়েছে। ’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘যখন এমআইটিতে দিতে পারলাম না। আমি প্রধানমন্ত্রী, আমার দ্বিধা হল, কাকে বলব টাকা দিতে বা কীভাবে আমি টাকা পাঠাবো, বুঝতে পারিনি। কার কাছে দেনা হব? আমার কারণে তার পড়া হল না। দুটো সেমিস্টার করে তাকে বিদায় নিতে হল। তারপর সে চাকরিতে ঢুকল। ’

সজীব ওয়াজেদ জয় ২০০৭ সালে মায়ের অনুরোধেই হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদন করেন। সেই সময়ের কথা তুলে ধরে হাসিনা বলেন, ‘২০০৭ সালে বউমা অসুস্থ হলে দেখতে গেলাম। তখন তাকে অনুরোধ করলাম। কারণ আমার ভেতরে এই জিনিসটা খুব কষ্ট লাগত যে, আমি প্রধানমন্ত্রী হলেও তার পড়ার খরচ দিতে পারিনি। তখন আমি বললাম, তুমি হার্ভার্ডে আবেদন কর। আমি অনুরোধ করার পর সত্যি সে আবেদন করল। চান্স পেয়ে গেল। ’ ছেলেকে প্রথম সেমিস্টারের টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হয়ে তা আর সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম, ফার্স্ট সেমিস্টারের টাকা আমি দেবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার আগে গ্রেফতার হয়ে গেলাম। তবে আমি চেয়েছিলাম, চান্স যখন পেয়েছে যেভাবে পারুক চালাক। পরে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে তা ভাড়া দিয়ে সেই ভাড়ার টাকা দিয়ে, কলেজ থেকে দূরে বাসা নিল যাতে সস্তায় বাসা পায়, গাড়ি রেখে মোটরসাইকেল চালিয়ে সে আসত। রেহানার মেয়ে অক্সফোর্ডে চান্স পেয়েছে সে পড়াশোনা করল- স্টুডেন্ট লোন নিয়ে তারপর পড়াশোনা শেষে চাকরি করে লোন শোধ দিল, সে ২১ বছর বয়স থেকে চাকরি করে। কয়েক বছর চাকরি করার পর সে মাস্টার্স ডিগ্রি করল। আবার চাকরি করল। ’

সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন। পরে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই। বাংলাদেশের জাতির জনক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়। শৈশব, ছেলেবেলা আর সাধারণের মতো কাটেনি তার। তার জন্মের সময় থেকে তার মা-নানিসহ পরিবারের সবাই গৃহবন্দি। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি। ভারতের নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বেকারত্ব ছিল বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অভিশাপ। সেই অভিশপ্ত জনশক্তিই এখন বাংলাদেশের সম্পদ। এখন তরুণ প্রজন্ম চাইলে নিজেকে চাকুরির বাজারে না নিয়েই ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারে। হতে পারে উদ্যোক্তা। এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হচ্ছে সুলভ মূল্যে বেশি গতির ইন্টারনেট। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে এবং দিকনির্দেশনায় কমতে থাকে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য।  

১৯৯৬ সালে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যখন ক্ষমতায় তখন থেকেই সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। দলের জন্য কাজ করতে গিয়েই তিনি বুঝতে পারেন তরুণ প্রজন্মকে ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই ভাবনা থেকেই তিনি তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। তার এই দূরদর্শিতার কারণের খুব অল্প সময়ের মধ্যে সীমিত জনবল নিয়েও বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ার সাথে ভালোভাবেই সংযুক্ত করতে পেরেছে।

২০০০ থেকে ২০০৮ এই সময়ে বাংলাদেশ ছিল অন্ধকার জনপদ। দেশের তেমন কোনো উন্নয়ন তো হয়ইনি বরং দেশের হতাশ তরুণ প্রজন্মও জড়িয়ে যাচ্ছিল জঙ্গিবাদের করাল গ্রাসে। সেই অবস্থা থেকে আজকের ২০১৯ এর বাংলাদেশ অনেকটাই পরিপক্ব, সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় শক্ত অবস্থান পেয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বেই।

১৭ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে সজীব ওয়াজেদ জয়কে শেখ হাসিনার সম্মানসূচক আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বলে রাখা ভালো এ পদের জন্য কোনো বেতন নেন না তিনি। এই সময়েই শুরু হয় বাংলাদেশের মহাকাশে পদার্পণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গাজীপুরের বেতবুনিয়া কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের মধ্য দিয়ে মহাকাশ গবেষণার স্বপ্নের যে বীজ বপন করেছিলেন তারই সফল বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাই বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের এমন একটি অভিজাত ক্লাবের সদস্য যেখানে মাত্র ৫৬টি দেশের অবস্থান। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অনেকটা এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে।

তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে দেশে তৈরি করা হচ্ছে হাইটেক পার্ক। তরুণ প্রযুক্তিবিদদের মিলনমেলা ঘটছে এসব হাইটেক পার্কে। গাজীপুরে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা-সমৃদ্ধ হাইটেক পার্কে করা হবে দেশের প্রথম ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল তৈরি করেছে বাংলাদেশ, যেখানে যুক্ত রয়েছে পঁচিশ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট। সুদক্ষ পরিকল্পনা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই আজ বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সারদের দুনিয়ায় শক্ত অবস্থান করে নিতে পেরেছে। বাংলাদেশ সরকারের টেকসই উন্নয়নের যে মহাপরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই শিক্ষিত দক্ষ প্রযুক্তিমুখী তরুণ প্রজন্ম।

সজীব ওয়াজেদ জয় জানেন আজকের দুনিয়ায় “ডাটা” কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেশের প্রতিটা মানুষের ডাটা ডিজিটালি সংরক্ষণের চিন্তা থেকেই বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্রকে করা হয় “স্মার্ট”। পাসপোর্টকে করা হয় মেশিন রিডেবল। এতসব প্রজেক্টে থাকা ডাটাগুলোকে আবার নিয়ে আসা হয় একটা সেন্ট্রাল ডাটাবেসে। যেখান থেকে এখন সেবাপ্রদানকারী সংস্থাগুলো যে কারো পরিচয় সহজেই নিশ্চিত হতে পারে।

আমরা অবাক হয়ে দেখি এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে অনেক দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে ফেলতে পারছে এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারছে। এসবই সম্ভব হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ায়। দেশের আইসিটি খাতকে এগিয়ে নিতে এবং পূর্ণাঙ্গ-স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুইটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এর একটি হচ্ছে, ক্যাশলেস সমাজ গঠন অর্থাৎ সকল লেনদেন নগদের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে করা। অপরটি হচ্ছে সকল সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসা।

ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি কমে যাবে; সরকারের আয় বাড়বে। সবার টাকার একটা ‘ট্রেস’ থাকবে। আর সরকারি সেবাগুলোকে পুরোপুরি অনলাইনে নিয়ে আসতে হবে। জনগণ যেন ‘ইন লাইন’ (অপেক্ষমাণ) না থাকেন বরং ‘অনলাইন’ থাকেন সেই বিষয়ে সজীব ওয়াজেদ কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫০তম জন্মদিন আজ। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালে ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জয় নাম রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় মা ও বাবার সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন জয়। পরে মায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ভারতে চলে যান তিনি। তার শৈশব ও কৈশোর কাটে ভারতে। সেখানকার নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজে লেখাপড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক করেন তিনি। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০০২ সালের ২৬ অক্টোবর ক্রিস্টিন ওভারমায়ারকে বিয়ে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম কর্তৃক গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড হিসেবে নির্বাচিত হন সজীব ওয়াজেদ জয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানটি যুক্ত হয় তার নেপথ্যে ছিলেন জয়।

পরবর্তী সময়ে পর্দার অন্তরালে থেকে গোটা দেশে তথ্য-প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটান এই তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে অবৈতনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

লেখাপড়া করা অবস্থায় রাজনীতির প্রতি অনুরক্ত থাকলেও জয় সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান ২০১০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিতৃভূমি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ দেয়া হয় তাকে, যার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে আসেন তিনি। বর্তমানে মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আজ আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নেই।  

আমরা প্রত্যেকেই স্বপ্নচারী। আমাদের মতো সজীব ওয়াজেদ জয়ও একজন স্বপ্নচারী মানুষ। তিনিও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। তবে আমাদের অনেকের চেয়ে তিনি যে কারণে আলাদা সেটি হচ্ছে তিনি শুধু স্বপ্ন দেখেনই না, সেই স্বপ্ন অন্যকে দেখাতেও পারেন, সেই স্বপ্নকে আমাদের হাতের মুঠোয় দিয়ে দিতে পারেন। বলা যায় তিনি একজন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। সজীব ওয়াজেদ জয় একজন স্বপ্নচারী মানুষ, একজন তারুণ্যের জাদুকর। স্বপ্নাতুর এই মানুষটির জন্মদিনে শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্য পিপলস টাইমস। পরিচালক: এফবিসিসিআই।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

পরবর্তী খবর

সমুদ্রে তেলাপোকা সদৃশ প্রাণীর সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

সমুদ্রের গভীরে তেলাপোকার মতো দেখতে বড় একটি প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ভারত মহাসাগরের গভীর থেকে এই প্রাণী ধরেছেন সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমুদ্র বিজ্ঞানীরা।
প্রাণীটির রয়েছে ১৪ খানা পা, বিশাল দুই শুঁড়। বীভৎস মুখ আর বিকট আকার। গভীর, রহস্যময় সমুদ্রের অন্দরে যে আজব ও অচেনা প্রাণীরা বাস করে তাদের ধরতেই ১৪ দিনের অভিযানে নেমেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা উপকূলে শুরু হয়েছিল সেই অভিযান। গভীর সমুদ্রে বাস করে এমন ১২ হাজার প্রাণীকে খুঁজে বার করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মধ্যেই ছিল এই বিশাল তেলাপোকা। তবে এটি সাধারণ তেলাপোকার মতো নয়। একই রকমের দেখতে হলেও পায়ের সংখ্যা ছয়ের বদলে চৌদ্দ। মুখের সামনে বিশাল দুই শুঁড়। কিছুটা সামুদ্রিক লবস্টারের সঙ্গে মিল আছে। এই প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে ব্যাথিনোমাস রাকসাসা।

পরবর্তী খবর

সেদিন কেঁদেছিল বাংলাদেশ

ড. কাজী এরতেজা হাসান

সেদিন কেঁদেছিল বাংলাদেশ

দিনটি ছিল ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই। ক্ষণটি ছিল ঠিক পবিত্র সুবেহ সাদিকের আগ মুহূর্ত। চারদিক থেকে একটি বাড়িকে ঘিরে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাড়িটি বঙ্গবন্ধুর বড় জামাতা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার। নামকরণও করা হয়েছে ড. ওয়াজেদ মিয়ার নামে, ‘সুধাসদন’। ড. ওয়াজেদ মিয়া ঘনিষ্ঠজন ও পরিবারের সদস্যদের নিকট ‘সুধামিয়া’ নামে পরিচিত। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সুবেহ সাদিকের আগেই বত্রিশ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনটি ঘিরে ফেলেছিল মুশতাক-জিয়ার মদদপুষ্ট অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কতিপয় খুনী সেনাসদস্য, যারা ভোর হবার আগেই সেদিন বঙ্গবন্ধু ভবনে চালিয়েছিল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। শহীদ হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু সপরিবারে। সৌভাগ্যক্রমে বিদেশে অবস্থান করার কারণে বেঁচে গিয়েছিলেন তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সুধাসদন ঘিরে ফেলার কারণ হলো আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা। তাকে বন্দী করে বাঙালীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির চলমান আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়া, রুদ্ধ করা। বিরাজনীতিকরণের মাধ্যমে পাকিস্তানী আদলে সেনাবাহিনীর পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ চিরস্থায়ী শাসন কায়েম করা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার নবতর যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা। বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা, যে কারণে বঙ্গবন্ধুকেও হত্যা করা হয়েছে। দেশী-বিদেশী কুচক্রীমহল ভাল করেই জানত, শেখ হাসিনাকে বাইরে রেখে অথবা তাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে না পারলে অর্থাৎ রাজনীতি থেকে মাইনাস না করতে পারলে তাদের অশুভ অভিলাষ চরিতার্থ করতে পারবে না। তাই এ গ্রেফতার অভিযান।


২০০৭ সালের ১৬ জুলাই। বাঙালির ইতিহাসে একটি কালো দিন। প্রিয় বাংলাদেশের বুকে তখন চেপে বসেছে ‘তত্ত্বাবধায়ক’ নামের এক অপশক্তি। অবরুদ্ধ গণতন্ত্রের সেই সময়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাকে থামাতে গ্রেফতার কৌশল নিলেন ওয়ান-ইলেভেনে চেপে বসা তত্ত্বাবধায়ক নামের ত্রাসরা।
ব্যস্ত নগরী ঢাকায় তখন রাত পৌনে ৪টা। সূর্য উঠার আগেই যৌথ বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সুধাসদন- শেখ হাসিনার বাড়ি। সেদিন প্রবল বৃষ্টি ছিল। ভোর ৬টায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সুধাসদনে প্রবেশ করে যৌথবাহিনী। সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা এর আগেই ফজরের নামাজ আদায় করেন। যৌথবাহিনীর কাছে তিনি জানতে চান, কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেশে সামরিক শাসন জারি হয়েছে কিনা জানতে চান। কোনো উত্তর দিতে পারেনি যৌথবাহিনীর লোকজন।

প্রথমে শেখ হাসিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার সিএমএম আদালতে। সেখানে আদালত বসার দুই ঘণ্টা বাকি থাকতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জামিন নামঞ্জুর করা হয়। পরে সংসদ ভবনে অস্থায়ী সাব-জেলে পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধু কন্যাকে। তবে সিএমএম আদালতে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার কন্যা সরকারের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে আইনি ভাষায় ৩৬ মিনিটের একটি বক্তব্য রাখেন।

এদিকে গ্রেফতারের ঠিক আগেই শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখে যান। এই চিঠি ইতিহাসের অনন্য দলিল। এই চিঠির শক্তিতে মানুষ আশার আলো দেখতে পায়। গণতন্ত্র প্রিয় বাঙালি প্রতিবাদী হয়ে উঠে। চিঠিতে দেশবাসীর প্রতি শেখ হাসিনার আস্থার কথা ফুটে উঠে। এছাড়া সেই চিঠিতে নেতা-কর্মীদের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা ছিল। চিঠিটি হুবহু তুলে ধরছি-

প্রিয় দেশবাসী!
আমার সালাম নিবেন। আমাকে সরকার গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় জানি না। আমি আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেই সারাজীবন সংগ্রাম করেছি। জীবনে কোন অন্যায় করিনি। তারপরও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
উপরে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ও আপনারা দেশবাসী আপনাদের ওপর আমার ভরসা। আমার প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছে আবেদন কখনও মনোবল হারাবেন না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন। যে যেভাবে আছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। মাথা নত করবেন না। সত্যের জয় হবেই।
আমি আছি আপনাদের সাথে, আমৃত্যু থাকব। আমার ভাগ্যে যাহাই ঘটুক না কেন আপনারা বাংলার জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যান। জয় জনগণের হবেই। জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বই। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবোই।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

শেখ হাসিনা
১৬.০৭.২০০৭

বঙ্গবন্ধুকন্যার এই চিঠিতে আবেগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ৩৩১ দিন জেলে থাকা অবস্থায় এই চিঠি দেশের মানুষকে শক্তি ও প্রেরণা দিয়েছে। সেই সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হয়েছে। কারাগারে মানসিক যন্ত্রণা দেয়ার চেষ্টা চলেছে। তবে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসবে সফল হয়নি। উল্টো এসব কারণে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আরও চাঙ্গা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্য ছিল- সেই সময়ের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়া। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বাধাগ্রস্ত করা। বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। ষড়যন্ত্রকারীরা এটা জানতো- শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস না করলে তাদের অশুভ ইচ্ছে সফল হবে না। তাই জাতির পিতার কন্যাকে গ্রেফতার করা হয়।

তখন ‘মাইনাস টু’ নামে একটি ফর্মুলা বাজারজাত করা হয়। তবে আসল উদ্দেশ্য ছিল একটাই- শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা। কেননা দেশি-বিদেশি অপশক্তি পিছনে থেকে পঁচাত্তরের পনের আগস্টের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে চেয়েছিল।

শেখ হাসিনাকে যেদিন গ্রেফতার করা হয়, সম্ভবত তার পরদিন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, খুনী মুশতাকের সহচর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সহাস্য বদনে মন্তব্য করেছিল, ‘শেখ হাসিনা অপরিপক্ব রাজনীতিবিদ। তাকে ১৭টি মামলা মোকাবেলা করতে হবে।’ ইতিহাস সাক্ষী , শেখ হাসিনা নয়, মইনুল হোসেনরাই অপরিপক্ব ও অর্বাচীন রাজনীতিবিদ। শেখ হাসিনা শুধু জেল থেকে মুক্তই হননি, তিনি গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার জয়যাত্রায় সগৌরবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। আর মইনুল হোসেনরা রাজনৈতিক এতিমে পরিণত হয়েছে। শুধু মইনুল হোসেনই নয়, যেসব মিডিয়া মাফিয়া মিথ্যা রিপোর্ট ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে শেখ হাসিনাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণের চেষ্টা করেছিল, তারাও যে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে তা নিশ্চিত। তবে একটি বিষয় সবসময়ই সক্রিয় বিবেচনায় রাখতে হবে। মইনুল হোসেন ও মিডিয়া মাফিয়া এখনও কিন্তু প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করেই চলেছে। মিথ্যাচারে ভরা একেকটা নিউজ ও প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টায় মদদ দিচ্ছে। তাদের সর্বশেষ এজেন্ডা হচ্ছে কোটাবিরোধী আন্দোলন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, এ আন্দোলনেও কিন্তু জামায়াত-বিএনপি ও মিডিয়া মাফিয়ারা শুরুতেই ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে নতুন উপসর্গ যুক্ত হয়েছে কথিত বামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি।

মাইনাস টু নামক এক অভিনব ফর্মুলা বাজারজাত করা হলেও আসলে মূল ফর্মুলা ছিল একটাই। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা। কেননা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যে অপশক্তির ক্রীড়নক হয়ে তারা খেলছিল, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা। আর সেই মিশনে পনেরো আগস্টের মতোই আওয়ামী লীগের কতিপয় কেন্দ্রীয় নেতাকে জোটাতে সক্ষম হয়েছিল। কেউবা জুটেছিলেন স্বেচ্ছায়, কেউবা চামড়া বাঁচাতে। যেভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তাঁর মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা স্বেচ্ছায় বা নিজেদের জীবন ও চামড়া বাঁচাতে কাপুরুষের মতো খুনী মুশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহ দাফন করারও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।

শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। ইতোপূর্বে বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে কয়েকবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলেও তাদের উত্তরসূরিরা ভিন্নভাবে তাকে মাইনাস করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামে। আইওয়াশ হিসেবে অনেক ছলনা ও কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। প্রথমেই সদ্য বিদায়ী জোট সরকারের কিছু মন্ত্রী-এমপিদের গ্রেফতার করে। তারেক-কোকোকেও গ্রেফতার করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও গ্রেফতার-নির্যাতন থেকে রেহাই পায়নি। এরপর শুরু হয় তাদের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ। প্রথমেই শেখ হাসিনার চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা ও তাঁর সঙ্গে সুধাসদনে দেখা করতে আসা নেতা-কর্মীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরতে চাইলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তিনি যখন দেশে ফিরে আসেন এবং লাখো জনতা সকল প্রকার ভয়ভীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যখন প্রাণের চেয়ে প্রিয় নেত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানায়, তখনই তিন উদ্দিনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বুঝতে পারে তাকে বাইরে রাখা ঠিক হবে না, এখনই গ্রেফতার করা দরকার। তারা মনে করেছিল তাকে গ্রেফতার করলেই নিষ্কন্টক হয়ে যাবে। কিন্তু তারা অনুধাবন করতে পারেনি, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা মানে তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া।

একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে শেখ হাসিনা তা বুঝতে পেরেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই কারাবাস যে দীর্ঘায়িত হবে ও মানসিকভাবে দুর্বল করার জন্য তার ওপর বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করা হবে তাও তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। আর এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশও জড়িত তাও আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই গ্রেফতার হবার আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটো কাজ তিনি করেন:

প্রথমত: দলের সিনিয়র নেতা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের পরীক্ষিত বন্ধু জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন। যদিও জিল্লুর রহমানের বয়স ও অসুস্থতার কারণে দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব পালন অত্যন্ত দুরূহ ছিল। তবুও তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই বয়সেও অসুস্থ শরীরে গায়ে আদালতের পোশাক জড়িয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়েছেন। সংস্কারবাদীদের বিরুদ্ধে দলের নেতা-কর্মীদের সাহস যুগিয়েছেন, শেখ হাসিনা ও গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য লড়াইয়ে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। দ্বিতীয় কাজটি শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে দিক নির্দেশনামূলক একটি চিঠি লিখেন। চিঠিতে তিনি দেশবাসীকে ওই সংকটকালীন সময়ে কি কি করা প্রয়োজন সেইসব নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের এক চরম দুর্দশার সময় তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। ১৯৮১ এর ১৭ মে ‘হতাশার কাফন মোড়ানো বিবর্ণ স্বদেশে ফিরে এসে’ শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব। কিন্তু প্রতি পদে তিনি বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। একাত্তরের পরাজিত শক্তি, পঁচাত্তরের খুনি চক্র, মৌলবাদী চক্র, আমেরিকা-পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দাসহ আন্তর্জাতিক কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী, দেশীয় সামরিক-বেসমারিক আমলা ও এলিটদের সুবিধাবাদী  অংশ, এমনকি দলের নেতৃত্বের একাংশ অসংখ্যবার চেষ্টা করেছে তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পুলিশ-বিডিআরের গুলি, ২০০০ সালের ২০শে জুলাই গোপালগঞ্জে সমাবেশে ও হ্যালিপেডে দেড় মন ওজনের বোমা পুঁতে রাখা, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলাসহ ১৯ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে পুলিশ-বিডিআরের গুলি চালানোর সময় এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে বাঁচান তাকে। প্রতিবারই তিনি অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছেন। কোনো ষড়যন্ত্রই তাকে দমাতে পারেনি। এত এত ষড়যন্ত্র, প্রতিকূলতা, বিরুদ্ধশক্তিকে মোকাবিলা করে তিনি যে এখনও বেঁচে আছেন, টিকে আছেন, সেটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় বিস্ময়!

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ষড়যন্ত্রকারীরা বুঝতে পারেনি, শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা মানে তাদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়া। পরে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনের চাপে বাধ্য হয়ে ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর থেকে এখনও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলছেন শেখ হাসিনা। তবে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের দিন গণতন্ত্রকামী বাংলাদেশ কেঁদেছিল। তারপর মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা থেকে বেরিয়ে এসে শক্তহাতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একসময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লড়াই করতেন জানেন। কীভাবে সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। তাই এই মহামারি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ী হবেন, ইনশাল্লাহ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক: দৈনিক ভোরের পাতা ও দ্যা পিপলস টাইমস,

পরিচালক: এফবিসিসিআই

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

পরবর্তী খবর