হয়তো সেটাই মানুষের নিঃশব্দ আহ্বান

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

হয়তো সেটাই মানুষের নিঃশব্দ আহ্বান

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছে তারা নিজেও হয়তো জানে না নীরবে নিভৃতে তারা পৃথিবীর কত উপকার করে চলেছে। এমন মানুষটা কখনো নিজে বুঝে উঠতে পারে না তার বুকের ভিতর লুকিয়ে থাকা দায়িত্ববোধ কত মানুষের জীবন বদলে দিচ্ছে। একটুকরো কুড়িয়ে পাওয়া লেখা খুব মূল্যবান মনে হলো। লেখাটা অনেকটা এমন ছিল চোখ বন্ধ করে বুকের উপর হাত রাখলে একটা ডাক শুনতে পাওয়া যায়। সেটা আর কিছু নয়, সেটা প্রাণের ব্যাকুলতা, মনের টান। হয়তো সেটাই আহ্বান। যতক্ষণ পৃথিবীতে এই আহ্বান আছে ততক্ষণ বুঝতে হবে পৃথিবীর কেউ না কেউ পিছনে দাঁড়িয়ে সবার অজ্ঞাতেই মানুষের নতুন করে বেঁচে উঠার বীজ বুনে যাচ্ছে। এই মানুষগুলো নিজেরা কখনো জানতেও পারে না সেই বীজ একদিন বড় একটা বৃক্ষে পরিণত হবে। যে বৃক্ষের ভেঙে পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, দমে যাবার কোনো পদচিহ্ন নেই। কারণ সেই বৃক্ষটি যে মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে উপরে উঠার মতো অসীমশক্তি তার মধ্যে গড়ে তুলেছে! যে মানুষটা নিভৃতে এই কাজটি করে চলেছে সে কখনো হয়তো জানতেও পারবে না যে বৃক্ষের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে সে তীব্র রোদের সাথে লড়াই করে চলেছে সেই বৃক্ষটার জন্ম তার হাত ধরেই হয়েছে। সুকান্ত ভট্টাচার্যের রানার কবিতাটার কথা মনে পড়ে গেলো। এটা কবিতা না জীবনের গভীরে লুকিয়ে থাকা অমোঘ সত্য তা সেটার ভিতরে ঢুকেই বের করে আনাটা সম্ভব। যেমন সুকান্ত ভেবেছেন তার দর্শন থেকে এমন করে:

রানার ছুটেছে তাই ঝুম্‌ঝুম্ ঘণ্টা বাজছে রাতে

রানার চলেছে, রানার!

রাত্রির পথে পথে চলে কোনো নিষেধ জানে না মানার।

দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছোটে রানার-

কাজ নিয়েছে সে নতুন খবর আনার।
হয়তো এমনটাই জীবনের আহ্বান। যে রানার একটুকরো মূল্যহীন কাগজে কালো অক্ষরের চিঠির বোঝার ভার কাঁধে বয়ে নিয়ে চলেছে সে হয়তো নিজেও জানেনা সে অনেক মানুষের জীবন বদলের স্বপ্ন বুনে চলেছে। মুঠো মুঠো করে, তিল তিল করে। একটা বেকার ছেলের চাকরির পাওয়ার সাফল্যের চিঠিটা রানার নিয়ে আসে। সন্তানের চিঠি পাবার জন্য মায়ের দীর্ঘ ব্যাকুলতায় আনন্দ অশ্রু এনে দেয় রানার। প্রিয়ার চিঠি পাবে বলে এক জীবনসঙ্গিনীর বসে থাকা ভালোবাসার বিষন্ন চোখ অলৌকিক আনন্দে চিকচিক করে উঠে রানার কাঁধের বোঝা থেকে বেরিয়ে আসা চিঠির মাধ্যমে। প্রিয়জন হারানোর দুঃস্বপ্নটা রানারের চিঠির ঝুলিতে কঠিন এক কষ্টের সুর তোলে। সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনার মহাকাব্য হয়ে উঠে চিঠিগুলো। কখনো আবার চিঠিগুলো ইতিহাস হয়। রানার- কি আছে তার কিছু নেই। মানুষ তাকে তাচ্ছিল্য করে, অবহেলা করে, বঞ্চিত করে, শোষণ করে। কিন্তু রানার তো মহামূল্যবান, সে তা নিজে জানেনা, নিজে বুঝে না। কিন্তু মানুষের চোখে রানার তো মূল্যহীন। কত মানুষের জীবন বদলে দেয় রানার তা সে নিজে জানে না। কত মানুষের স্বপ্ন গড়ে দেয় রানার তা সে নিজে বুঝেনা। নিজের অজ্ঞাতেই রানার মহানায়ক হয়ে উঠে। মানুষের পোড়া চোখ আর বিবর্ণ কপাল তা বোঝার ক্ষমতা রাখেনা। সময়ও রানারকে বুঝতে পারেনি। প্রযুক্তির ধোয়া তুলে সময় কাগজের চিঠিকে মূল্যহীন করেছে। কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে রানার। কিন্তু নীরবে নিভৃতে তার না জানা মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ আজও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। রানার কবিতাটি লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু সুকান্ত সমন্ধে বলেছেন এমন করে -“গর্কীর মতো, তার চেহারাই যেন চিরাচরিতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। কানে একটু কম শোনে, কথা বেশি বলেনা, দেখামাত্র প্রেমে পড়ার মতো কিছু নয়, কিন্তু হাসিটি মধুর, ঠোঁট দু’টি সরল”।


তৃতীয় ধাপে পৌরসভার ভোটগ্রহণ শুরু

চিঠির মাধ্যমে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

শনিবার ঢাকার যেসব বন্ধ


বুদ্ধদেব বসু সুকান্তের বিষয়ে জানাতে গিয়ে বলেছেন, “যে চিলকে সে ব্যঙ্গ করেছিলো, সে জানতো না সে নিজেই সেই চিল; লোভী নয়, দস্যু নয়, গর্বিত নিঃসঙ্গ আকাশচারী, স্খলিত হয়ে পড়লো ফুটপাতের ভিড়ে, আর উড়তে পারলো না, অথবা সময় পেলো না। কবি হবার জন্যই জন্মেছিলো সুকান্ত, কবি হতে পারার আগে তার মৃত্যু হলো”। শেষের কথাটা খুব মর্মস্পর্শী। "কবি হবার জন্যই জন্মেছিলো সুকান্ত, কবি হতে পারার আগে তার মৃত্যু হলো"। জীবনবোধের কথা, শেকড়ের খুব গভীরের কথা । কবি হতে পারেননি হয়তোবা সুকান্ত, কিন্তু তিনি কবিদের কবি হয়েছেন। কবিতা লিখেছেন দু'হাত খুলে। নিজের বিশ্বাসকে নিজের আবেগের সাথে মিলিয়েছেন মহানন্দে । হয়তোবা কবি হতে চাননি তিনি। মানুষের কঠিন জীবনের কথা বলতে চেয়েছেন। মানুষের নগ্ন মুখটাকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে শুভবোধের ভাবনায় নিজেকে যুক্ত করতে চেয়েছেন । এভাবেই নিজের অজান্তেই তিনি ক্ষণজন্মা কবি হয়েছেন। ছাড়পত্র লিখেছিলেন তিনি। যক্ষা রোগের সাথে লড়তে লড়তে মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে ছাড়পত্র নেন। মৃত্যুর আগে যে তিনি অনেককিছু আমাদের দিয়েছেন তা হয়তো তিনি বুঝে উঠতে পারেননি। কিন্তু তার মৃত্যু আমাদের জানিয়ে দিলো আমরা কি হারিয়েছি। যা হারিয়েছি তা ছিল মহাজীবন, যেমনটা তিনি নিজে ভেবেছেন:

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়

এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,

পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক

গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!

প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—

কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:

পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি॥
ফেসবুকে একটা লেখা পেলাম। কে লিখেছে জানিনা। হয়তো নিভৃতে নিজের অজান্তে তিনি লিখছেন। কিন্তু সে লেখাটি আমার কাছে খুব মূল্যবান হয়ে উঠলো। হয়তো এটাই নিজের চোখের আড়ালে দায়িত্ববোধ। মানুষের জন্য চিন্তা। লেখাটা অনেকটা এমন: একটা পুরাতন নৌকাকে ভালো করে রঙ করার জন্য একজন রঙ মিস্ত্রিকে নিয়োজিত করা হলো।

রং মিস্ত্রী নৌকায় রং করতে করতে লক্ষ্য করলেন নৌকার তলায় একটা ছোট ফুটো রয়েছে। রং মিস্ত্রি তার দায়িত্ব অনুযায়ী নৌকাটি সুচারুভাবে রং করার পর এর নিচে থাকা ফুটোটিকে মেরামত করে সেটির উপরে রং লাগানোর পর মজুরি নিয়ে চলে গেলেন।

ঠিক এর পরদিন নৌকার মালিক রং মিস্ত্রীর বাড়িতে এলেন ও তাকে বড় অংকের একটা চেক দিতে চাইলেন। রং মিস্ত্রি অনেকটা অবাক হয়ে বললো আমি তো গতকাল আমার প্রাপ্য মজুরি পেয়েছি। তবে, এই বাড়তি অনেকগুলো টাকার চেক আবার কেন আমাকে দিচ্ছেন?

নৌকার মালিক উত্তরে বললেন, আমি খুব বেশি দিচ্ছিনা বরং অনেক কম দিচ্ছি। আপনি আমার যা করেছেন তা টাকার অংকেও দেওয়া সম্ভব না।

কথাটা শুনে রং মিস্ত্রি আবার অনেকটা অবাক হয়ে বললেন, আমি তো আপনার কোনো কথায় বুঝতে পারছি না। আমি আপনার কি এমন উপকার করলাম যার জন্য আপনি আরো বাড়তি টাকা দিতে চাচ্ছেন।

নৌকার মালিক বললো, খুব ব্যস্ততার কারণে আমি আপনাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম নৌকার নিচে একটা ফুটো আছে। অথচ, আপনি নিজ দায়িত্বে সেটি মেরামত করে দিয়েছেন।

রংমিস্ত্রি বললেন, অরে ওটাতো সামান্য একটা ফুটো, সেজন্য এতো টাকার চেকের কি প্রয়োজন?

নৌকার মালিক বললেন, না, সেটা সামান্য না। আমি কাজ থেকে ফিরে এসে দেখি ঘাটে আমার নৌকা নেই। রং শুকানোর পরপরই আমার দুই ছেলে নদীতে নৌকা ভ্রমণে বের হয়েছে। নৌকার তলানিতে যে ফুটো আছে তারা তা জানতো না। বুঝতেই পারছেন আমি কতটা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। সন্ধ্যা হবার পরও ছেলেরা নৌকা নিয়ে ফিরছেনা দেখে আমার অস্থিরতা বেড়েই চলছিল। ছেলেদের ফেরার আসায় দীর্ঘক্ষণ নদীর দিকে মুখ চেয়ে বসেছিলাম। কোনো নৌকা ঘাটে ভিড়লেই মনে হচ্ছিলো এই বুঝি আমার ছেলেরা ফিরে এসেছে। অস্থিরতায় ছটপট করতে করতে আপনার বাসায় এসে দেখি আপনিও বাড়িতে নেই বাজারে গেছেন। এরপর আবার নদীর ঘাটে ফিরে আসি। হঠাৎ দেখি আমার ছেলেরা নৌকা নিয়ে ফিরছে। আমার আদরের ধন দুটো ছেলে বুকে জড়িয়ে ধরি। ওরা বুঝে উঠতে পারছিলো না কি এমন ঘটনা ঘটেছে। এরপর নৌকা পরীক্ষা করে দেখি আপনি নৌকার নিচে থাকা ফুটো সবার অজান্তে মেরামত করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে কাজটি অতি সামান্য মনে হলেও এই সামান্য কাজটি যদি আপনি না করতেন তবে আমার আদরের সন্তানরা আজ নৌকা ডুবিতে মারা যেতো। আপনার দায়িত্ববোধ ও ঈশ্বরের কৃপায় তারা আজ বেঁচে এসেছে।

এরপর সংগৃহিত লেখার শেষাংশে বলা হয়েছে:

‘‘জীবনের ঘাটে ঘাটে এরকম কত রং মিস্ত্রী আছে। যারা নিজেও হয়তো জানে না; নীরবে নিভৃতে নৌকার ছিদ্র গুলো বন্ধ করে দিয়ে কত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। চোখ বন্ধ করে বুকের উপর হাত রাখলে একটা ডাক শুনতে পাওয়া যায়... আহ্বান। যতক্ষণ পৃথিবীতে এই আহ্বান আছে ততক্ষণ বুঝতে হবে পৃথিবীর কেউ না কেউ কারো সামান্য সহযোগিতা পেয়ে পুরো একটা নতুন জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে।’’

একটা ছোট পিঁপড়া ও তার মতো অসংখ্য পতঙ্গরা নিজেদের অজান্তে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা করে চললেও তারা তা কখনো জানতে পারে না। একটা শ্রমিক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আধুনিক সভ্যতা গড়ে তুললেও সে জানে না এই পৃথিবী বদলানোর কাজটা তার মাধ্যমেই ঘটে চলেছে। একজন শীর্ণকায় কৃষক সারাজীবন প্রাণের তাগিদে ফসল ফলায় কিন্তু সে কখনো জানতে পারে না মানুষের মুখের অন্নের সংস্থান তার মাধ্যমেই হয়। মা তার সন্তানদের পরম যত্নে মানুষ করে তুললেও প্রতিদানে মা সন্তানদের কাছে কি পাবে তা কখনো ভেবে দেখে না। এমন করে প্রতিদিন কত মানুষ তার নিজের অগোচরে পৃথিবীর উপকার করে চলেছে তার খবর সে নিজেও রাখে না। চারপাশের মানুষেরাও রাখে না। সব কিছু যে স্বার্থের পৃথিবী। স্বার্থের খেলা। সে খেলায় কেউ হারে, কেউ জিতে। কিন্তু নিভৃতে কাজ করে যাওয়া মানুষটা আমৃত্যু তার দায়িত্বটা দায়িত্ব ভেবে জীবনের অতিরিক্ত মূল্যটা দিয়ে যায়। সেটা হয়তো সে বুঝে কিন্তু বুঝতে চায় না। হয়তো এটাই মানুষের জীবন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও কিছু কথা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও কিছু কথা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

আমাদের মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভন্ন সময়ের বক্তব্য, কথা এবং জীবনযাপন নিয়ে গবেষকরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে যাচ্ছেন। গবেষকরা বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয় আশয় নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন ইতিবাচক তথ্য উপাত্ত আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন। 

গবেষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পেয়ে আমরা বাঙ্গালীরা আমাদের মহাকাব্যিক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে জেনে আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করছি। একটা সময় ছিল বিরুদ্ধবাদীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নেতিবাচক ও বিকৃত ইতিহাস আমাদের সামনে উপস্থাপন করে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল। 

এই সময়টা ছিল ১৯৭৫এর পরবর্তী সময় থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। বিরুদ্ধবাদীরা ভেবেছিল বন্দুকের নলের সামনে দেশের জনগণকে জিম্মি করে রেখে, তারা যা ইচ্ছে তা করতে পারবে। তখন বিরুদ্ধবাদীরা বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়ার উপর এমন সব অলিখিত বিধি নিষেধ আরোপ করে, যা দেখে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির লোকজন ভয়াবহ আতংকের মাঝে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। 

কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা এ কথা বুঝেনি মেঘরাশি সূর্যের কিরণকে তার ছায়া দিয়ে ঢেকে রাখতে যতই চেষ্টা করুক না কেন, তাতে সূর্যের আলোকরাশি নিভে যায় না। মেঘ সরে গেলেই সূর্যের অয়ন রেখা পৃথিবীকে তার আলো দ্বারা আলোকিত করে তুলে। 

ঠিক তেমনি করে বিরুদ্ধবাদী দক্ষিণপন্থী আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তির লোকজনও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মজীবনে যে অবদান নিজের জীবনবাজি রেখে এদেশের মানুষের জন্য রেখে গেছেন, তা তারা মুছে ফেলতে পারেনি। 

মেঘরাশি যতই সূর্যের আলোকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুক না কেন, তাতে কিন্তু সূর্যের আলো বিলোপ কিংবা মিথ্যে হয়ে যায় না। ঠিক সেই ভাবেই বিরুদ্ধবাদীদের জঘন্য মিথ্যাচার আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে খাটো করতে পারেনি। 

এদেশের মাটিতেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে হয়েছে। বিচারে দোষীদের সাজা হয়েছে। পলাতক আসামি ছাড়া অনেকের সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল কিংবা যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নেড়েছিল, তারা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে এবং তাদের সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। 

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং তাদের সহযোগীরা ভুলে গিয়েছিল পাপ বাপকেও ছাড়ে না। পাপ যে বাপকে ছাড়ে না এ কথা তারাই ভুলে যায়, যারা সারা জীবন পাপের মধ্যে বসবাস করে থাকে।

আমরা যদি আমাদের মহাকাব্যিক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় আশয় নিয়ে তাত্ত্বিক বিচার বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাবো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু বলেছেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এই যে মুক্তির সংগ্রামের কথা বঙ্গবন্ধু বলেছেন, তাতে কোন মুক্তির কথা রয়েছে তা আমরা একটু চিন্তা ভাবনা করলেই বুঝে নিতে পারবো। এই মুক্তির সংগ্রাম হচ্ছে সেই সব মানুষের মুক্তি সংগ্রাম, যারা ক্রমাগত ভাবে ১৯৪৭ এর পর থেকে পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ভাবে শোষন ও পীড়নের শিকার  হয়ে আসছে। এই মুক্তির সংগ্রাম কথাটা দিয়ে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের ভৌগলিক মুক্তির কথাই শুধু বুঝান নাই, এই মুক্তি সংগ্রাম দিয়ে এদেশের দরিদ্র মেহনতি মানুষের এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক মুক্তির কথাই বঙ্গবন্ধু বুঝিয়েছেন। 

যার পরবর্তীতে আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাকশাল গঠন করেছেন। যদিও বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এদেশীয় কিছু সংখ্যক দালাল, দক্ষিণপন্থী প্রতিবিপ্লবীরা এবং তাদরে সঙ্গে থাকা অতিবিপ্লবীরা এক হয়ে বঙ্গবন্ধুর বাকশালের বিরোধীতা করে আসছিল। 

অতিবিপ্লবীরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বলতো দুই কুকুরের লড়াই। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দালালদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিচার বিশ্লেষণ করতো। অথচ এই অতিবিপ্লবীরা মুখে মুখে সাধারণ মানুষের অর্থাৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুক্তির কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ড কখনো সাধারন মানুষের পক্ষ শক্তির পক্ষে ছিল না। 

তাদের কথাবার্তা আর প্রতিক্রীয়াশীল দক্ষিণপন্থীদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড এক রকমই  ছিল। এই অতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারা শ্রেণী শত্রু খতমের নামে বিভিন্ন জায়গায় অনেক দেশপ্রেমিক নেতাদের হত্যা করেছে। 

এমন অভিযোগও আছে অতিবিপ্লবীরা কল-কারখানায় এবং পার্টের গুদামে আগুন দিয়েছে তাদের বিপ্লবের অভিপ্রায়ে। অনেকেই বলে থাকেন তাদের বিশ্বাস ছিল জনগণ দ্বারা মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। বন্দুকের নলের মাধ্যমেই মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। এই শ্রেণির লোকরা অর্থাৎ অতিবিপ্লবীরা জনগণই ক্ষমতার উৎস তা বিশ্বাস করতো না। তারা মনে করতো বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। 

এই রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মেধাবী তরুণ প্রাণ মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে। তারা নিজেরা যেমন মরেছে। তেমনি করে অন্যকেও মেরেছে। আবার নিজেরা নিজেরা কাটাকাটি মারামারি করে প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। 

অতিবিপ্লবীরা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি তাদের ভুল রাজনীতির জন্য। যে কোনো কাজই করতে হয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে। নিয়মের বাইরে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়। যা আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী জাসদের রাজনীতিতে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছেন এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন এই দেশের মানুষের জীবন যাপন সহজ করতে হলে এবং এদেশের মানুষের দারিদ্রতা দূর করতে হলে প্রথমই যে কাজটি করতে হবে, তাহলো আমাদের দেশমাতৃকাকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। 

বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বুঝেছেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের দেশকে শোষনের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো চাইবে না এদেশের মানুষেরা সুখে শান্তিতে থাকুক। তারা চাইবে আমার এই দেশ থেকে কি ভাবে মূল্যবান সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে নেয়া যায় এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে সম্পদশালী করা যায়। বঙ্গবন্ধু দেখেছেন এদেশের মানুষ বিভিন্ন সময় জনগন দ্বারা নির্বাচিত হয়েও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বা যেতে পারেনি। 

১৯৫৪ ইংরেজিতে বাঙ্গালী জয় লাভ করেছে। কিন্তু কি পেয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ সাধারন নির্বাচনে জয়লাভ করেও ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে বাঙ্গালীদেরকে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছেন পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো এদেশের মানুষকে ক্ষমতার স্বাদ দেবেনা। তাই তাদের কাছে ন্যায্য কিছু আশা করে পাওয়া যাবে না। তারা এদেশের মানুষকে মানুষ বলেই গন্য করে না। 

আমরা দেখেছি পশ্চিম পাকিস্তানিরা একের পর এক ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে করে গেছে। তারা অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানিরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী আমাদের মহাকাব্যিক মুক্তি সংগ্রামের ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার জন্য মিথ্যা ভাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করেছিল। যাতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য বাঙ্গালী নেতাদেরকে হত্যা করা যায়। কিন্তু জনতার আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানিরা ভেসে যায়। 

পশ্চিম পাকিস্তানিরা মিথ্যা এবং তাদের মনগড়া ভাবে সাজানো ষড়যন্ত্র মূলক মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। যে মামলাটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়ে থাকে। আমরা এমন এক ভাগ্যবান জাতি যে, আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো একজন সাহসী এবং নির্লোভী নেতা পেয়েছিলাম। যিনি এদেশের মানুষকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু কোনোদিন ভাবতে পারেননি বাঙ্গালী তাকে হত্যা করতে পারে। কিন্তু বিরুদ্ধবাদী দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রীয়াশীলরা তাদের একাত্তরের পরাজয়ের কথা ভুলে যেতে পারেনি। বিরুদ্ধবাদী আমাদের মুক্তি সংগ্রামের বিপক্ষ শক্তির লোকজন তাদের একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবার জন্য অস্থির হয়ে থাকে। এই বিরুদ্ধবাদীরা তাদের একাত্তরের প্রতিশোধ নেবার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। 

বলা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরাও জড়িত ছিল। এছাড়া পর্দার অন্তরালে থেকে অনেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে কলকাঠি নেড়ে জড়িত থেকেছেন। 


আমি সত্যের পক্ষে থাকব, সত্যেও কথা বলব: এমপি একরাম

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষা; সাহসী উদ্যোগ বৈশাখী টিভির

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ: হানিফ

যে কারণে বুড়ো সাজলেন রনবীর


আজ দেশের জনগণ পর্দার অন্তরালে থেকে যারা কলকাঠি নেড়ে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি তুলছেন। আজ জনগণের মনে প্রশ্ন জেগেছে, আর প্রশ্নটা হল যারা পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে কাজ করেছে, তাদেরকে কেন বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে না।

আমরা যদি সামগ্রীক ভাবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন বিচার বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখবো আমাদের মহান নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগত ভাবেই ছিলেন গরিব মানুষের বন্ধু এবং তিনি ছিলেন ভয়হীন চীত্তের অধিকারী। 

আমি জানি আমার মতো একজন সাধারণ মানের লেখকের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের বিচার বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তবে এইটুকু বুঝতে পারি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের মধ্যেই আমাদের স্বাধীনতার বীজ রোপণ করা ছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে দেশের মানুষ জাগ্রত হয়েছিল এই জন্য যে, মানুষ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে তাদের অন্তরের কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পেয়েছে।

তাই বলছিলাম, আমাদেরকে ধরে নিতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে বাঙ্গালীর মুক্তির ইতিহাস লিখতে গেলে যে বিষয়টার ওপর জোর দিতে হবে, তা হল বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। আমার মনে হয় বাঙ্গালীর অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনেরই প্রেরণা হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। এ ব্যাপারে মনে হয় না কেউ বিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল-আইনজীবী, কবি, গল্পকার

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ওষুধের ব‍্যাপারে সেইফটি প্রোটকল ব‍্যবহার করা উচিত

রউফুল আলম

ওষুধের ব‍্যাপারে সেইফটি প্রোটকল ব‍্যবহার করা উচিত

রউফুল আলম

প্রেসক্রিপশন ড্রাগের (ওষুধ) বোতলে রোগীর নাম, ঠিকানা, ডাক্তারের নাম ইত‍্যাদি বিস্তারিত তথ‍্য থাকাটা হলো নিরাপদ। এটা হলো মাল্টি-লেয়ার সেইফটি এপ্রোচ। 

কেউ যেন ভুল ওষুধ বিতরণ না করে এবং কোন রোগী যেনো ভুল করে ভুল ওষুধ সেবন না করে, সে জন্য সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করা। উন্নত দেশগুলোতে এই এপ্রোচটা ফলো করা হয়।

যেমন, আমেরিকায় একটা প্রেসক্রিপশন ড্রাগের বোতলে রোগীর নাম, ঠিকানা থাকে। যে ডাক্তার প্রেসক্রাইব করেছে তার নাম থাকে। যে ফার্মাসিস্ট ওষুধটা দিয়েছে তার নাম থাকবে। 


আমি সত্যের পক্ষে থাকব, সত্যেও কথা বলব: এমপি একরাম

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষা; সাহসী উদ্যোগ বৈশাখী টিভির

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ: হানিফ

যে কারণে বুড়ো সাজলেন রনবীর


এমনকি ট‍্যাবলেট বা ক‍্যাপসুলে বিভিন্ন কোড দিয়ে সেটাকে ইউনিক করা হয় এবং সেই তথ‍্যটা লেবলে দেয়া থাকে। যেমন, এই বোতলের প্রতিটি ট‍্যাবলেটের এক পাশে CIPLA এবং অন‍্যপাশে 159 লেখা আছে। 

ওষুধের ব‍্যাপারে আমাদের দেশেও বিভিন্ন প্রকার সেইফটি প্রোটকল ব‍্যবহার করা উচিত। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ সেবন ও বিক্রয় ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। এটা গণমানুষের নিরাপদ স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খেলা হবে

আনোয়ার সাদী

খেলা হবে

পশ্চিম বঙ্গের রাজনীতিতে এখন আলোচিত দুটি শব্দ হলো-খেলা হবে। ভোটের প্রচারণায় এই শব্দের বহুল ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এই শব্দের ব্যবহার এতোটাই ব্যাপক যে, আনন্দবাজার পত্রিকায় এনিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আসুন, খেলা হয়ে যাক।’’ তাঁর অন্যতম সেনাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হুঙ্কার, ‘‘ভয়ঙ্কর খেলা হবে।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পাল্টা দিচ্ছেন, ‘‘আমরাও বলছি খেলা হবে। তোমাদের (তৃণমূল) খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ ‘খেলা হবে’-র বার্তা দিয়ে নবান্ন অভিযান করেছেন বাম ছাত্র-যুবরা। হুমকিতে, চ্যালেঞ্জে, গানে, প্যারোডিতে, পোস্টারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে— খেলা হবে, খেলা হবে!

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে এই শব্দ ভারতে রপ্তানি হলো। সেই ক্রেডিট দিতে অবশ্য গড়িমসি করেনি আনন্দবাজার। তারা এর উদ্ভাবক শামীম ওসমানের বক্তব্য নিয়েছে। 

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এই বক্তব্য এর আগে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ইউটিউবে তার এই বক্তব্য শেয়ার করেছেন। এর ওপর নানারকম মন্তব্য করেছেন। এবার এর একটি আন্তর্জাতিক ভার্সন যুক্ত হলো। 

যহোক, রাজনীতিতে খেলা শব্দের ব্যাপক ব্যবহার হলেও রাজনীতি কোনোভাবেই ছেলে খেলা নয়।এর অনেক নিয়ম আছে, সৌন্দর্যী আছে, আছে মানুষের উপকার করার আকাঙ্ক্ষাও। ফলে, এই আকাঙ্ক্ষা কিছু ক্ষমতার জন্ম দেয়। অনেক সময় অনেকে রাজনীতি থেকে পাওয়া ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারে না। ফলে, অনেক কিছু ধংস হয়ে যায়। 

রাজনীতি মানুষের গন্তব্য ঠিক করে দেয়। রাজনীতিবিদরা ভবিষ্যতে মানুষের ভালো থাকা মন্দ থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। যে রাজনীতিবিদ দূরদর্শী তার চিন্তা মানুষের ভালো করে, যিনি অপরিণামদর্শী তিনি ক্ষতি করে দেন। ফলে, তাদের চিন্তা বা কাজ করার পদ্ধতিকে যদি খেলা নামে অভিহিত করা যায়, তাহলে সে খেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বলছিলাম রাজনীতি ছেলে খেলা নয়। খেলায় শেষ কথা হলো জয়। নির্ধারিত সময়ে এই জয় না এলে খেলার সময় বাড়ানো হয়। মীমাংসা না হলে টাইব্রেকার হয়। কোনো কোনো খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ড্র হয়। কিন্তু ফাইনাল খেলায় অবশ্যই একজনকে বা একটা দলকে হেরে যেতে হয়। রাজনীতিও অনেকটা এমনই। শেষ বিচারে কাউকে না কাউকে বিজয়ের মালা পরতে হয়। অন্য জন বা দলকে জানাতে হয় অভিনন্দন। তারপরো রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত কথা হলো, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। তাহলে কী পুরো রাজনীতি একটা খেলা নয়। বরং রাজনীতিতে অবস্থান গড়ে নেওয়ার নাম খেলা? 


ছেলের প্রেমিকাকে রাত জেগে পাহারা দিলেন বাবা

পানি পানে আসা কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও মাটিচাপা

কালো পোশাকে নতুন এক জয়া

সৌদি যাত্রীর ছোট ব্যাগ থেকে মিলল ৫ কেজি স্বর্ণ


এর অনেক ব্যাখ্যা আছে। খেলার বিপরীতে খেলার হুমকী থাকতে পারে, তারও ব্যাখ্যা আসতে পারে।সবকিছু শেষে জনকল্যানই চাহিদা সাধারণ মানুষের।

যাহোক, সম্প্রতি খেলা বিষয়ে আরেকটি বাক্য ভাইরাল হয়েছে। এটি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে ছিটকে পড়া নাসির এর বউ তামিমা। তিনি বলেছেন, তিনি চান নাসির খেলুক, মাঠে হোক আর যেখানেই হোক, নাসির খেলুক। 

নাসির অবশ্য তার বিয়ে নিয়ে বেশ আলোচিত বলা ভালো সমালোচিত হয়েছেন। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যতন্ত। কিন্তু পুরো ঘটনায় আমার ট্রয় সিনেমা মনে পড়েছে বারবার। সেখানেও অন্যের বউকে নিয়ে আসার ঘটনা ছিল। ছিনতাই করে আনা হয়নি। ভালোবেসে ঘটনায় নায়ক নিয়ে আসেন হেলেনকে। 

এর ফলাফল রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, সাম্রাজ্যের পতন। কারণ এই ভালোবাসার বিপরীতে ঘৃণা আর এর সঙ্গে রাজনীতি ও লোভ মিলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ট্রয় এর গল্পে তা মোটেও খেলা নয়। তেমনি খেলা নয় মানুষের মন ও জীবন। কথায় বলে না মানুষের মন নিয়ে খেলা করো না। তেমনি সম্পর্ক নিয়েও খেলা করা যায় না। ফলে, কোনো ঘটনা যদি একজনের জন্য প্রেম, অন্যের জন্য আইন অমান্য হয় তাহলে তা যথেষ্ট জটিল হয়ে যায়। এর মাঝে নাসির মাঠে খেলুক, নেতারা রাজনীতির মাঠে, আমরা শুধু চাইবো, শান্তি যেনো বজায় থাকে সবখানে। 

খেলা হবে- এই শব্দের অর্থ যেনো সব সময় হয় ইতিবাচক।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সামিয়া রহমান

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সামিয়া রহমান

এখন প্রভাবশালী, ক্ষমতাধর, নাটের গুরুদের বক্তব্য-শিকাগো জার্নালের চিঠি মিথ্যা তো কি হয়েছে। অভিযোগ তো সত্য। প্লেজারিজম তো হয়েছে। তাদের চামচারাও সুর মিলিয়ে, তাল মিলিয়ে বলছেন, আরে হ্যাঁ তাইতো, অভিযোগ তো সত্য। চিঠিতে কি এসে যায়! ভুলে যাও চিঠির কথা।

ভাই এই মিথ্যা চিঠির ভিত্তিতেই তো তদন্ত শুরু হলো। চিঠিটা তৈরি করলেন কে তাহলে?  এখন এই কথা বলছেন কেন? পাছে চিঠি তৈরির পেছনের রহস্যে তাদের জড়িত থাকার যদি প্রমান মিলে যায়, তাই ?  ঘটনা তো অন্যদিকে ঘোরাতেই হবে।  

ঘটনা প্লেজারিজমে নিয়ে গেলে, জনগণ তাদের নোংরামি, তাদের ষড়যন্ত্র বুঝবে না, তাই আজ এই সুর! একটা জিনিষের শুরুটাই যখন মিথ্যা তখন বুঝতে হবে পুরোটাই ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা।  

ভাইরে প্লেজারিজমের অভিযোগও মিথ্যা। যে মিথ্যা চিঠি তৈরি করেছেন, অভিযোগ প্রমানীত না হওয়া সত্তেও, সেটাকে সত্যি বলে প্রচার করছেন- সেই চিঠির অস্তিত্ব যেমন মিথ্যা, তেমনি পুরো বিষয়ে আমার জড়িত থাকার প্রমাণও মিথ্যা। 

প্রেস কনফারেন্সে যথেষ্ট বলেছি, তারপরও যাদের মগজে ঢোকেনি, ক্রমাগত বলেই যাচ্ছেন ক্ষমতাধরদের তুষ্ট করতে, ফেসবুকে নোংরামি করতে-তাদের আবার বলছি-মারজান তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েছিল লেখা সেই জমা দিয়েছিল, সেই রিভিউ করেছিল, এটা তার অনিচ্ছাকৃত ও অনভিজ্ঞতাবশত ভুল।  

এর জন্য সে দুঃখ প্রকাশও করেছিল। লেখা জমা দেয়া থেকে ছাপানো পর্যন্ত আমার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তদন্ত কমিটিও পায়নি (যে তদন্ত কমিটি শুরু থেকে নাটের গুরু হিসেবে প্রতিহিংসা বিলিয়েই যাচ্ছেন মিডিয়ার সামনে)। 

তদন্ত কমিটি বলেছে আমার জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণ অষ্পষ্ট।  আমার কাছ থেকে লেখা জমা নেবার যেমন কোনো প্রমাণ নেই, তেমনি রিভিউয়ারের কপিও আমার কাছে পৌছায়নি ট্রাইব্যুনালের সদস্য ড. জিনাত হুদাই বলছেন।  মারজানের নিজে জমা দেবার ও রিভিউ করার লিখিত স্বীকারোক্তির পরও কেমন করে তদন্ত কমিটি বলে দালিলিক প্রমান অষ্পষ্ট ? 

কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে? চিঠি কি তবে তারাই তৈরি করেছেন?  ট্রাইব্যুনাল বলছে প্লেজারিজম হয়নি। দরকার হলে ট্রাইব্যুনালের সদস্য ড.জিনাত হুদাকে জিজ্ঞেস করুন। ট্রাইব্যুনালের আহবায়ক ড. রহমতউল্লাহ তো নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েই দিয়েছেন এটা প্লেজারিজম হয়নি। সিন্ডিকেট অন্যায় করেছে, তিনিই বলছেন।  


হুইল চেয়ারে বসেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রায় জাফরুল্লাহ

পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি তৃণমূল নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে: কাদের

দেশের থানাগুলোতে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা চলমান

পুলিশ হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ


সিন্ডিকেট সকল প্রমাণ উপেক্ষা করে ক্ষমতার বলে গায়ের জোরে সিদ্ধান্ত চাপালে মূল ষড়যন্ত্রের সাথে কারা কারা জড়িত প্রমাণ কিন্তু মিলে যায়।

ড. আরেফিন স্যারকে জিজ্ঞেস করুন ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি তাকে আর্টিকেল দেখিয়ে পরামর্শ চেয়েছিলাম কিনা! তিনিই তো আমাকে বলেছিলেন ড. ফরিদউদ্দিনকে বলো বিষয়টি সিন্ডিকেটে তুলতে। ফরিদ স্যার তুললেন না কেন? 

কেন ঘটনাটি সবাই জানার সাত মাস আগে ৫ ফেব্রুয়ারি লেখা প্রত্যাহারের চিঠিতে ডিন ফরিদউদ্দিনের সাক্ষর থাকা সত্ত্বেও সেটি গ্রহণ করেনা তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট? কেন ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মারজানকে দেয়া আমার মেইলটিও ( যেখানে স্পষ্ট করে লেখা আছে মারজান সব জমা দিয়েছে, সে রিভিউ করেছে) সেটি তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট গ্রহণ করেনা। কেন তাদের এতো প্রতিহিংসা আক্রোশ আমার বিরুদ্ধে? 

আমি রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে তিনবার অ্যাপিল করার পর বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়ে দেয় আমাকে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হবেনা। কেন? কোন আইন বলে? বিশ্ববিদ্যালয় কি কারো বাপের বাড়ি? নিজের সম্পত্তি? তাই মনে হয় এখন। আপনারা রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টে ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি চান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে, সেখানেই সব প্রমাণ দেখতে পাবেন। ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হবে বলেই কি আমাকে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না?

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

সেদিক থেকে আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ

এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আমার এখন কোনো দেশের তালিকায় থাকব তাতো পরিস্কার বুঝতে হবে।

বলা হচ্ছে আমরা এলডিসি (Least Developed Country বা সংক্ষেপে LDC) থেকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) হতে যাচ্ছি।  কথাটির মানে হয় না।

এটা সত্য, এবং একটা গৌরবের বিষয়ও যে আমরা এলডিসি-এর তালিকা থেকে বেরিয়ে আসব।  কিন্তু আমরা সবসময়েই উন্নয়নশীল দেশ (Developing country) ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, কারণ এলডিসি হলো উন্নয়নশীল দেশ (Developing country)-গুলোর মধ্যেই কিছু দেশের গ্রুপ (উপ-গ্রুপ বা sub-group) যারা বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে কিছু সুযোগ সুবিধা পাবার জন্য সুনির্দিষ্ট তিনটি সূচকের অনগ্রসরতা দিয়ে চিহ্নিত হয়; আমরা সেই সূচকের শর্তগুলো পূরণ করে উন্নয়নশীল দেশের সেই উপ-গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি, নতুন কিছু হতে যাচ্ছি না।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) অধীনে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। তবে কোনো দেশ নিজেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দাবি করে কিছু সুযোগ চাইতে পারে, যদিও অন্য দেশগুলোর সেই দাবি মেনে নেবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল না উন্নত দেশ তা নিয়ে এই মুহূর্তে কেউ প্রশ্ন তুলবে না। কাজেই সেদিক থেকেও আমার একটি উন্নয়নশীল দেশ এটা ঘোষণা দেবার কোনো দরকার আছে বলে মনে হয় না।

লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর