লুসি দি এলিফ্যান্ট: স্থাপত্য ভাস্কর্য হস্তীভবন

হারুন আল নাসিফ, সাংবাদিক

লুসি দি এলিফ্যান্ট: স্থাপত্য ভাস্কর্য হস্তীভবন

লুসি দি এলিফ্যান্ট আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাচীন পর্যটক আকর্ষণ। লুসি নিউ জার্সি প্রদেশের মার্গেট সিটিতে অবস্থিত একটি অভিনব স্থাপত্য। এটি একই সঙ্গে ভাস্কর্যও বটে। অর্থাৎ একই সাথে ভাস্কর্য ও স্থাপত্য দুটোই।

এটি মূলত হাতির আকৃতির একটি ছয় তলা ভবন। ১৮৮১ সালে এটি তৈরি করা হয়। কাঠ ও টিনের শীট দিয়ে। এটি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ১২তম উঁচু ভাস্কর্য হিসাবে তালিকাভুক্ত।

জেমস ভি লাফার্টি নামে এক ব্যক্তি আটলান্টিক সিটির দক্ষিণে প্রায় পাঁচ মাইল (৮কিলোমিটার) দক্ষিণে এই স্থাপত্য ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। এর মূল নাম ছিলো এলিফ্যান্ট বাজার। লুসি নির্মিত হয়েছিল রিয়েল এস্টেট বিক্রয়, প্রচার ও পর্যটক আকর্ষণ করার জন্য। বার্নাম অ্যান্ড বেইলির গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের বিখ্যাত হাতি জাম্বোর আদলে নির্মিত হয় লুসি।

১৮৮১ সালে মার্কিন পেটেন্ট অফিস জেমস ভি লাফার্টিকে সতের বছর ধরে প্রাণীর আকৃতির ভবন তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রয় করার একচেটিয়া অধিকার দিয়ে একটি পেটেন্ট প্রদান করে। লাফার্টি তার প্রথম হাতি-আকৃতির ভবনের নকশা ও নির্মাণের অর্থায়ন করেন দক্ষিণ আটলান্টিক সিটিতে, যার নাম এখন মার্গেট সিটি। জেমস ভি লাফার্টি নকশার জন্য ফিলাডেলফিয়ার স্থপতি উইলিয়াম ফ্রি এবং জে ম্যাসন কার্বিকে নিযুক্ত করেন।

লুসির নির্মাণে ব্যয় হয় তখনকার মুদ্রায় ২৫ থেকে ৩৮ হাজার মার্কিন ডলার। কাঠামোটির উচ্চতা ৬৫ ফুট (১৯.৭ মি),  দৈর্ঘ ৬০ ফুট (১৮.৩ মি) ও প্রস্থ ১৮ ফুট (৫.৫ মিটার)। এর ওজন প্রায় ৯০ টন। লুসির নির্মাণে প্রায় ১০ লাখ টুকরা কাঠ, ২০০ কেজি পেরেক, ৪ টন বল্টু এবং লোহার বার প্রয়োজন হয়।

এর বহিরাবরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ১২ হাজার বর্গফুট ফুট টিনের শীট। পুরো কাঠামো জুড়ে স্থাপন করা হয় ২২টি জানালা।

মূলত ল্যাফার্টি সম্ভাব্য রিয়েল এস্টেট গ্রাহকদের লুসির হাওদা থেকে জমি প্লট দেখাতেন। হাওদা থেকে চমৎকারভাবে মার্গেট, আটলান্টিক সিটির দিগন্তরেখা, সৈকত ও আটলান্টিক মহাসাগরের অনন্য দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এটি আধুনিক দর্শকদের জন্য ভ্রমণকালে একটি পর্যবেক্ষণ ডেক হিসাবে কাজ করে।

১৮৮৭ সালে এই কাঠামোটি ফিলাডেলফিয়ার অ্যান্টন হার্টজেনকে বিক্রি করা হয়। ১৯৭০০ সাল পর্যন্ত এটি তার পরিবারের কাছে ছিলো। অ্যান্টনের পুত্রবধু সোফিয়া গার্টজেন ১৯০২ সালে কাঠামোটির নাম দেন ‘লুসি দ্য এলিফ্যান্ট’। লুসির মাথার আকৃতিটি এশিয়ান হাতির বৈশিষ্ট্যযুক্ত।

এর পুরুষ হাতিন মতো লম্বা দাঁত রয়েছে। তাই হাতিটিকে প্রথমদিকে পুরুষ হাতি হিসাবে উল্লেখ করা হত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি মাদি হাতি হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। 


মেধা যাচাই হবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়

রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে আজ

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

অন্যের ক্ষতির জন্য খুঁড়ে রাখা গর্তে নিজেকেই পরতে হয়


বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত লুসি রেস্তোঁরা, ব্যবসায়িক অফিস, কুটির ও সরাইখানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি অনেক স্যুভেনির, পোস্টকার্ডে চিত্রিত হয়। এটি ‘আটলান্টিক শহরের দি এলিফ্যান্ট হোটেল’ হিসাবেও পরিচিতি পায়। তবে হোটেলটি ছিলো হাতির ভেতরে নয়, কাছের একটি বিল্ডিংয়ে।

১৯৬০-এর দশকে লুসি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে এবং এটি অপসারণের সময় নির্ধারিত হয়। ১৯৬৯ সালে এডউন টি কার্পেন্টার এবং এক দল মার্গেট নাগরিক মার্গেট সিভিক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন ড়ড়ে তোলেন। পরে জোসেফাইন হারোন ও সিলভিয়া কার্পেন্টারের নেতৃত্বে এটি সেভ লুসি কমিটিতে পরিণত হয়। 

তাদের ভবনটি সরানোর জন্য নতুবা এটি অপসারণের অর্থ প্রদানের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এর জন্য বিভিন্ন তহবিল সংগ্রহ ইভেন্ট পরিচালিত হয়। শেষে স্বেচ্ছাসেবীরা ঘরে ঘরে গিয়ে অর্থ জোগাড় করেন।

১৯৭০ সালের ২০ শে জুলাই লুসিকে প্রায় ১০০ গজ পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে সিটির মালিকানাধীন একটি জায়গায় স্থানান্তর করা হয় এবং পুরোপুরি সংস্কার করা হয়। লুসিকে তার নতুন জায়গায় নিয়ে যেতে প্রায় সাত ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। কাঠামোগত মেরামত ও উন্নয়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত এটি দর্শকদেও জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। 

ভবনটির মূল কাঠের ফ্রেমটি নতুন ইস্পাত দিয়ে সজবুত করা হয় এবং পুরোনো হাওদাকে একটি নাতুন প্রতিরূপ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। হাওদা প্ল্যাটফর্মে সবুজ কাচের একটি প্লাগ সেট করা হয়, যা লুসির ভেতরে আলোক প্রতিফলন করে।

১৯৭৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপনকালে লুসি একটি জাতীয় ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক হিসাবে মনোনীত হয়। 


প্রতি ২০জুলাই শিশুদেও খেলাধূলা ও প্রচুর ধুমধামের সাথে লুসির জন্মদিন পালন করা হয়। 

২০০৬ সালে বজ্রপাতে লুসির দাঁতের আগা সামান্য কালো হয়। ২০১২ সালের অক্টোবরে মার্গেটের কাছে হারিকেন স্যান্ডি আঘাত হানে। লুসি অক্ষত থাকে। যদিও জলোচ্ছ্বাস লুসির প্রায় পায়ের কাছে পৌঁছে এবং পার্কিংয়ের একটি ছোট্ট বুথ উড়ে যায়। 

২০১৬ সালের ২৩ জুলাই লুসির কর্মীরা তার ১৩৫তম জন্মদিনের উদযাপন উপলক্ষ্যে মজা করে লুসিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করে। ২০১৬ সালে লুসি সাইটে ১৩৫,০০০ দর্শনার্থী আগমন করে। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ছিলো গাইডেড সফর।

২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি লুসি রাত যাপন করা যাবে এমন প্রথম ও একমাত্র জাতীয় ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক হয়। লুসি ২০২০ সালের ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ প্রতি রাতের জন্য ১৩৮ ডলার হিসেবে এয়ারবিএনবিতে তালিকাভুক্ত হয়। ১৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে লুসি বাড়ি হিসাবে ভাড়া হওয়ার পর এটি ছিলো প্রথমবারের মতো মানুষ বসবাসের অনুমতি।

news24bd.tv আয়শা

 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইয়ার্ড সেলে মিললো ৪ কোটি টাকার মূল্যবান চীনামাটির পাত্র!

অনলাইন ডেস্ক

ইয়ার্ড সেলে মিললো ৪ কোটি টাকার মূল্যবান চীনামাটির পাত্র!

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট রাজ্যে ঘটেছে এমনই এক আশ্চর্য ঘটনা। একটি ইয়ার্ড সেলে মাত্র ৩৫ মার্কিন ডলারে কেনা একটি চীনামাটির পাত্র শেষ পর্যন্ত পরিণত হল ১৫শতকের মূল্যবান এক চীনা আর্টিফ্যাক্টে।

এই চীনামাটির পাত্রটির মূল্য হতে পারে ৩ থেকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকা। সোথেবি নামে একটি কোম্পানি এই তথ্য জানিয়েছে। সোথেবি একটি ব্রিটিশ কোম্পানি যারা নিলামে মূল্যবান বস্তু কেনাবেচার কাজ করে।

সাদা রঙের চীনামাটির এই বাটিটি দৈর্ঘ্যে ৬ ইঞ্চি (১১ সে.মি.)। এতে সাদার উপরে কোবাল্ট ব্লু রঙের দৃষ্টিনন্দন ফুল ও অন্যান্য ডিজাইন করা রয়েছে।

একজন অ্যান্টিক কালেক্টর গতবছর কানেক্টিকাটের নিউ হাভেন এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে ইয়ার্ড সেলে এই চীনামাটির পাত্রটি দেখে অবাক হন। পরবর্তীতে তিনি মাত্র ৩৫ ডলারে পাত্রটি কিনে সোথেবি’র দুইজন চাইনিজ আর্টিফ্যাক্ট বিশেষজ্ঞ এঞ্জেলা ম্যাকাথির ও হাঙ ইন কে ইমেইল করেন।

সোথেবি’র চাইনিজ আর্ট বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাকাথির বলেন, “এটা দেখার সাথে সাথেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরা খুবই অসাধারণ কিছুর দিকে তাকিয়ে আছি। পাত্রটির উপরে পেইন্টিং, পাত্রটির আকৃতি, এমনকি এর নীল রঙ সাক্ষী দেয় যে এটি ১৫ শতকের একদম শুরুর দিকে তৈরি হয়েছিলো।“


আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

ভারতে বাড়ছে গাধার চাহিদা!

ভারতের মাদ্রাসায় পড়ানো হবে বেদ, গীতা, সংস্কৃত

এই নচিকেতা মানে কী? আমি তোমার ছোট? : মঞ্চে ভক্তকে নচিকেতার ধমক (ভিডিও)


এই পাত্রটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সাতটি পাত্রের একটি। আগামী ১৭ মার্চ নিউইয়র্কে এটি মূল্যবান চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ক্যাটাগরিতে নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ কোম্পানিটি।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও:

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য

ঠাকুরগাঁও জেলার গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা দিয়ে চলা ফেরা করলে চোখে সামনে ভেসে আসে লাল ফুলের পাপড়ির সৌন্দর্যের এক দৃশ্য। দূর থেকে মনে হবে কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছেন। পুরো গাছজুড়ে টকটকে লাল শিমুল ফুল।

কোনোই সুবাসনা না থাকলেও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন সকলেই। গাছগুলোতে পাখী আর মৌমাছিদের ভীর চোখে পড়ার মত। ফালগুন মানেই যেন শিমুল ফুল। ডালে ডালে টকটকে লাল ফুল ছাড়িয়ে জানান দেয় বসন্তের আগমন। দেশের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে শিমুল ফুলের দেখা মেলে না।

বুধবার (৩ মার্চ ) জেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ ঘুরে দেখা মিলে শিমুলের লাল ফুল। যতদুর দৃষ্টি সীমানা যায় শুধু লাল আর লাল। এই দুশ্য দেখে মনে হবে লাল গালিচা বিছানো এক গ্রাম। তবে গ্রামবাসীরর ভাষ্য মতে কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ এই সৌন্দর্য। শিমুল গাছের তুলা দিয়ে তৈরি হয় লেপ-তোষক ও বালিশ। এগুলো ব্যবহার যেমন আরামদায়ক তেমন স্বাস্থ্যসম্মত। শিমুল গাছ সংরক্ষণে সরকারিভাবে কোনো কার্যক্রম নেই।


বিক্রি হওয়া সেই শিশু ফিরে পেলেন মা

ভারতে বাড়ছে গাধার চাহিদা!

ভারতের মাদ্রাসায় পড়ানো হবে বেদ, গীতা, সংস্কৃত

জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা দাবি করলেন তিন যুবক


জনসচেতনতার অভাবে এ জেলা থেকে ক্রমেই হারিয়েই যাচ্ছে শিমুল গাছ। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা শিমুল গাছও ঠিক মতো চেনেন না। শিমুল গাছ বিলুপ্তির কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত তুলা থেকে।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পর্যটক নেই ফ্রান্সে

ফয়সাল আহাম্মেদ

করোনা ভাইরাস, এক বছর ধরে জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি করে রেখেছে। ঘর বন্দি হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে চাকুরীজীবী, ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। বিশেষ করে প্যারিস পর্যটন নির্ভর হওয়ায় ক্ষতির পরিমানটাও বেশি। 

পর্যটকদের তীর্থস্থান হিসেবে বিশ্ব নন্দিত প্যারিস শহর এখন অনেকটাই ভুতুড়ে নগরী। নেই আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য আর পথ-ঘাটের ভীড়। যুক্তরাজ্যের নতুন করোনাভাইরাসের ভেরিয়েন্ট শনাক্তের পর দ্বিতীয় দফা দীর্ঘ লকডাউনে পড়েছে ফ্রান্স। উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় সারাক্ষণ ফরাসীরা। চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। ব্যবসায় নেমেছে ধস। ফ্রান্স বাংলাদেশ চেম্বার এর সভাপতি কাজী এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন আর ছয় সপ্তাহ পরই স্বস্তির আশ্বাস দিয়েছে ম্যাক্রো সরকার। 


যে জায়গায় মিল পাওয়া গেছে বুবলী-দীঘির

সোনালির প্রেমে পড়ে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলেন যেসব তারকারা

পুলিশ হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

ভাসানচরে যাচ্ছে দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা


বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে ফ্রান্সের অর্থনীতি। দেশটির রাজস্ব আয়ের বড় অংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। মহামারীর প্রাদুর্ভাবে পর্যটক শূণ্য প্যারিস। গেলো এক বছর ধরে এই শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির কবলে। করোনা মোকাবিলা করে প্যারিস আবারো তার আপন মহিমা ফিরে পাবে, ফিরে আসবে আগের সেই কর্ম চাঞ্চল্য, এমনটাই প্রত্যাশা ফরাসিদের।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খারাপ সংবাদেরও গুরুত্ব আছে

অনলাইন ডেস্ক

খারাপ সংবাদেরও গুরুত্ব আছে

মিডিয়ায় একটা কথা প্রচলিত আছে "ব্যাড নিউজ ইজ গুড নিউজ"। খারাপ সংবাদ খুব দ্রুত ছড়ায়। খারাপ সংবাদের কাটতিও বেশি। তাই মিডিয়া সব সময় মুখিয়ে থাকে এসব সংবাদের জন্য। এমনকি মানুষের মস্তিষ্কও খারাপ সংবাদ দ্রুত আকর্ষণ করে। আমাদের পাঠকদের কমন একটি কমপ্লেইন আছে মিডিয়ার প্রতি খারাপ সংবাদে ছেয়ে থাকে পত্রিকা বা টিভির স্ক্রল। 

সত্যি, সংবাদে খারাপ খবরের যেন শেষ নেই। কিন্তু আমাদের পৃথিবীর অবস্থা কি সত্যি এত খারাপ? এটা মানতেই হবে, যে বর্তমান করোনা ভাইরাস মহামারি এক বিরল সংকট। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে বিচার করে দেখলে অনেক ক্ষেত্রে আসলে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। যেমন শিশু-মৃত্যুর হার এর আগে কখনো এত কম ছিল না।

১৯৭০ সালের তুলনায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। মস্তিষ্ক বিজ্ঞানী হিসেবে প্রো. মারেন উর্নার মনে করেন, ‘‘আমাদের মস্তিষ্ক ইতিবাচক বা নিরপেক্ষ খবরের তুলনায় নেতিবাচক খবরগুলি আরও দ্রুত, আরও ভালো ও আরও নিবিড়ভাবে গ্রহণ করে। সে কারণে আমরাও এমন খবর বেশি সময় জুড়ে মনে রাখি। বিবর্তনের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে নেতিবাচক খবর আমাদের জন্য বেশি সহায়ক। কারণ আদিম প্রাণীগুলির আমলে মানুষ নেতিবাচক খবর না পেলে অস্তিত্বের সংকটে পড়তো।’’

গবেষকেরা বিভিন্ন মহাদেশের মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছেন, যে খারাপ খবর শোনালেই তারা উত্তেজিত ও মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের একাংশ ঠিক এই প্রভাব কাজে লাগায়। কারণ গ্রাহকরা নেতিবাচক শিরোনাম পড়লে বেশি ক্লিক পাওয়া যায় বা আরও সংবাদপত্র বিক্রি করা যায়।


সাই পল্লবীর ফাঁস হওয়া ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা দিহানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পেছাল

ডিভোর্সের গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন প্রেমে জড়ালেন শ্রাবন্তী!

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিতের আহ্বান জাতিসংঘের


একাধিক গবেষণা অনুযায়ী বিশেষ করে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে নেতিবাচক খবর বেড়েই চলেছে। প্রশ্ন হলো, মিডিয়ায় এত নেতিবাচক খবর থাকা কি একটা সমস্যা? প্রো.উর্নার বলেন, ‘‘আসলে আমাদের সবার মনেই অত্যন্ত নেতিবাচক প্রত্যাশার মনোভাব রয়েছে। কারণ পৃথিবীকে বাস্তবের তুলনায় আরও খারাপ হিসেবে দেখাই আমাদের জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র।’’

আমাদের উপর মিডিয়ার প্রভাব কতটা শক্তিশালী, বোস্টন ম্যারাথনের উপর হামলার ঘটনা তার ভালো দৃষ্টান্ত। দেখা গেল, সেখানে উপস্থিত মানুষের তুলনায় সেই সব মানুষ আরও মানসিক চাপ ও ভয়ের শিকার হলো, যারা সংবাদ মাধ্যমে ডুবে রয়েছে। এর অর্থ কী? প্রো. মারেন উর্নার বলেন, ‘‘সবার আগে যেটা ঘটে সেটা হলো, মানুষ নিজে সক্রিয় হয় না।

আমরা জানি, বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বকে নেতিবাচক চোখে দেখে। সেই অনুযায়ী মানুষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। অথচ অসংখ্য মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী বাস্তবে মোটেই সেটা ঘটে না। সেইসঙ্গে ক্রনিকাল স্ট্রেস যোগ হতে পারে।

আমরা ইতোমধ্যে জানি, যে এমন লাগাতার মানসিক চাপ অন্য অনেক রোগের ভিত্তি হতে পারে। ডায়াবিটিস, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকে শুরু করে বিষণ্ণতার মতো মানসিক রোগ এভাবে দেখা দিতে পারে।’’

সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে সংবাদ পড়তে হবে। সব সময় পজেটিভ চিন্তা করার মানসিকতা থাকা খুবই দরকার। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মাধ্যম থেকে সংবাদ শোনা এবং সেই অনুযায়ি রিয়েক্ট করা দরকার। 

সূত্র: ডয়েচে ভেলে 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

উড়তে পারে যে মাছ

হারুন আল নাসিফ

উড়তে পারে যে মাছ

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন উড়তে পারে এমন মাছও আছে। মাছটির নাম ‘উড়ুক্কু মাছ’। ইংরেজিতে বলে Flyingfish। সাগরের পানি থেকে লাফ দিয়ে পাখির মতই দ্রুতগতিতে অনেক দূর উড়তে পারে এই মাছ। আর অদ্ভুত বিষয় এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব আমাদের চিরচেনা উড়তে পারা পাখিদেরও অনেক অনেক আগে থেকে। এদের বক্ষ পাখনা (Pectoral fin) এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রোণী পাখনাও (Pelvic fin) প্রসারিত হয়ে ডানার মতন গঠন তৈরি করে।

ডলফিন, স্কুইড ও বড় মাছের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য অতি দ্রুত সাঁতার কাটতে গিয়ে এ মাছ পানির একেবারে উপরিভাগে চলে আসে এবং পাখনা মেলে বাতাসে উড়াল দেয়। উড়াল দেয় বললে আসলে ভুল হবে। প্রকৃত ওড়া বলতে যেটা বোঝায় এটা ঠিক সেরকম ওড়া নয়। একে বলে গ্লাইডিং। এরা মূলত পানি থেকে লাফ দিয়ে তাদের পাখনার সাহায্যে বাতাসে ভেসে চলে।

পানির নিচে গড়পড়তা উড়–ক্কু মাছের বেগ হয় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের কাছাঁকাছি। সুগঠিত পাখনা বিশিষ্ট এসব মাছের কোনো কোনোটি জলের উপরিভাগ ৮-১০ মিটারের বেশি ওপর দিয়ে শূনে ভেসে চলে অনায়াসে ২০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তখন এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি বা ৪৫ মাইলেরও বেশি হয়।

এ কারণে অনেক সময় এই মাছ আচমকা সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকের ওপর আছড়ে পড়ে। জলের শত্রু থেকে বাঁচতে গিয়ে বাতাসে উড়াল দিয়ে এদের কখনো-কখনো শিকারি পাখির কবলেও পড়তে হয়।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


১০ থেকে ৩০ সেমি অব্দি লম্বা এই উড়ন্ত মাছটির মোট চারটি পাখনা আছে। এ পাখনার মধ্যে দুটি বড় বক্ষপাখনা এবং পেছনে দুটি ছোট পাখনা। পাখনার ভেতরে হাওয়া ভরা থাকায় ওজনেও হালকা এই বক্ষপাখনাগুলো প্রসারিত করেই এরা বাতাসে ভেসে থাকে। লেজও তুলনামূলকভাবে অনেক লম্বা যা এরা পানি থেকে ওপরে উঠতে ব্যবহার করে। 

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাগরে উড়ুক্কু মাছেরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। পাখি ও ডাইনোসরদের আগে থেকেই এ মাছের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে। সম্প্রতি চীনের জাদুঘরে থাকা উড়ুক্কু মাছের ফসিল বা জীবাশ্ম গবেষণা করে গবেষকেরা বলছেন প্রায় ২৩ থেকে ২৪ কোটি বছর আগের মধ্য ট্রায়াসিক যুগে ‘পোটানিক্সাস কিংজিনসাস’ নামের উড়ুক্কু মাছের প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে, যা জুরাসিক যুগের ডাইনোসরদের চেয়েও ৫কোটি বছর আগেকার। 

মাছটির আদি নিবাস ভারত মহাসাগরে হলেও উষ্ণমন্ডলের সব সাগরেই এই মাছ দেখা যায়। খুজে পাওয়া প্রায় ৭১টি প্রজাতির এ মাছের অধিকাংশই সামুদ্রিক এবং সাধারণত বড় ঝাঁক বেঁধে চলে।


 
রঙ-বেরঙের আলোর প্রতি উড়ুক্কু মাছের রয়েছে মারাত্মক দুর্বলতা। এই আলোর নেশাকে কাজে লাগায় মাছ শিকারিরা। নজরকাড়া নানা রকম আলোর ফাঁদে সুকৌশলে ছড়ানো জালের মধ্যে আটকে ফেলে এদের। তখন সাঁতার হোক কিংবা ওড়া, সব জারিজুরি খতম হয়ে মানুষের খাদ্যে পরিণত হয়।

উড়ুক্কু মাছ খেতে সুস্বাদু। বাণিজ্যিকভাবে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোস ও ভারতে খাওয়ার জন্য এ মাছ প্রচুর ধরা হয়। ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোসের জাতীয় মাছ এটি। বাংলাদেশে ৩টি প্রজাতি পাওয়া যায়। আপনি খেতে চাইলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আমাদের দেশের সমুদ্র তীরবর্তী অনেক খাবারের দোকানে খেতে পারবেন ফ্লাইংফিশ।

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর