সেই ভাইরাল বয় এখন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার
সেই ভাইরাল বয় এখন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার

সেই ভাইরাল বয় এখন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনের পর ছবিটি ভাইরাল হয়েছিলো। চৌকস একটি ছাত্র রিক্সা চালাচ্ছে। সিটে বসে আছেন তার বাবা, পরনে সমাবর্তনের গাউন, পাশে মা, মাথায় সমাবর্তনের টুপি। আপনাদের মনে পড়েছে নিশ্চয়ই।

 

সেই ছেলেটি ২০১৯ সাল থেকে কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসাবে কুমিল্লায় কর্মরত আছেন। তার নাম মোঃ ওয়ালি উল্লাহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের উনিশতম ব্যাচের ছাত্র।  

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার বিষয়ে অনেকের আগ্রহ জাগে।   ওয়ালি উল্লাহ এখন কি করছেন তা জানতে চান অনেকেই। নিউজটোয়েন্টিফোর বিডি ডট টিভির পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ছবিটি ভাইরাল করার কোনো ইচ্ছে তার ছিলো না।  

মাকে তিনি মাথার মুকুট মনে করেন, তাই সমাবর্তনের টুপি পরিয়ে দিয়েছিলেন মায়ের মাথায়। ওয়ালি উল্লাহ জানান, তিনি খুবই নিন্ম মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান। নিজেকে তার পরিবারের সারাজীবনের সঞ্চয় মনে করেন। তার বাবা মা ও বড়ভাই যেভাবে তাকে আগলে রেখে বড় করেছেন, তিনিও চান পরিবারের সদস্যদেরকে সারা জীবন আগলে রাখতে। এই ভাব মনে রেখে তিনি ছবিটি তুলেছিলেন। ছবিটিকে তিনি প্রতীকী মনে করেন।  

কৃষক বাবা যেমন সারাজীবন বিভিন্ন প্রতিকূলতা থেকে ওয়ালি উল্লাহ কে রক্ষা করেছেন, তিনিও বাবাকে গাউন পরিয়ে রক্ষা করার মনোভাব প্রকাশ করেছেন। মা মাথার মুকুট।

news24bd.tv

আর, রিক্সা হলো ভার বহনের প্রতীক। ওয়ালি উল্লাহ সারাজীবন তাদের ভার বহন করতে চান।  


লিবিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

ট্রাম্পকে গোয়েন্দা তথ্য জানানো হবে না: বাইডেন

ব্যাডমিন্টন কোর্টে ঝড় তুললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার


দুই সন্তানের পরিবারে ওয়ালি উল্লাহ ছোট। তার বড় ভাই মোঃ মনির হোসেন, তিনি প্রবাসে আছেন দীর্ঘসময় । প্রবাসী ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই এই মেধাবী ছাত্রের। নরসিংদীর শিবপুর থেকে তিনি ক্লাস এইটে টেলেন্টপুল বৃত্তি পেয়েছেন, এসএসসিতে স্কলারশিপসহ গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এইচএসসিতে নটরডেম কলেজ থেকে টেলেন্টপুলে স্কলারশিপ সহ গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। বোর্ডের দেওয়া স্কলারশিপে তিনি সেকেন্ড হয়েছিলেন বলে জানান।  

লেখাপড়ায় ভালো করার পেছনে পরিবারের অবদানের পাশাপাশি শেখ ফরিদ আহেমেদ এফসিএ-কে বিশেষ ভাবে স্মরণ করেন ওয়ালি উল্লাহ। তিনি ওয়ালি উল্লাহকে ক্লাস এইট থেকে এসএসসি পর্যন্ত হোস্টেলে ফ্রি রেখেছিলেন। তিনি প্রতি বছর ভালো রেজাল্টের একটা টার্গেট দিতেন, তা পূরণ করতে পারলে, সেই বছরের একাডেমিক, থাকা খাওয়া, হোস্টেল খরচ ফ্রি করে দিতেন। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা জানান অভিভাবকতুল্য শিক্ষকদের।

নিয়োগের প্রথম পরীক্ষাতেই ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে চাকরি পান ওয়ালি উল্লাহ। তৃণমূলের খেটে খাওয়া মানুষের  উপকার করতে চান বলেই তিনি সরকারি চাকরীতে যোগদান করেছেন এবং আরো বড় পরিসরে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন এই স্বপ্ন বুকে নিয়ে মেধাবী এই তরুণ এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।

news24bd.tv নাজিম

;