এক পিতার জবানবন্দি

কাজী মাহমুদুর রহমান

এক পিতার জবানবন্দি

বহু দিন ধরে আমরা চুপ করেই ছিলাম। প্রায় চারটি বছর। আইনগত কিছু বাধ্যবাধকতা ছিল। অনেকে বারবার বলেছেন সামিয়া রহমান এতদিনেও চুপ করে আছে কেন? একবার ক্ষমতাধর ষড়যন্ত্রকারীদের খপ্পরে পড়ুন তো, আইনগত জটিলতায় পড়ুন, তারপর বুঝবেন কখন কথা বলা যায়, আর কখন নয়! রাষ্ট্রের আইনের প্রতি আমার কন্যা শ্রদ্ধাশীল বলেই তার প্রতি এত চরম অন্যায় হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো জবানবন্দি দেয়নি। তদন্তাধীন বিষয়ে সামিয়ার পক্ষে নিজে থেকে এই লেখা সম্ভব নয় বলেই, আমি নিজে তার পিতা হয়ে কলম ধরতে বাধ্য হয়েছি।। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় এক মাসের তদন্তকে টেনেহিঁচড়ে প্রায় চার বছরে এনে রায় দিয়েছে। এমনকি এই সিন্ডিকেট ট্রাইব্যুনালের একটা সিদ্ধান্তও মানেনি। কারণ সামিয়াকে যে শাস্তি দিতেই হবে। ২০১৯ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী মেজবাহ সাহেবকে বিষয়টি স্ক্রুটিনি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তার সিদ্ধান্তও সিন্ডিকেট মানেনি। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রশাসনের কাছ থেকে এই রায় প্রতীক্ষিতই ছিল। তদন্ত শুরুর আগে থেকেই ক্ষমতাধরদের কেউ কেউ যেভাবে আমার কন্যা সামিয়া রহমানকে গালমন্দ এবং হুমকি দিচ্ছিলেন তাতে বোঝাই যাচ্ছিল তাদের মোটিভ। সর্বত্র সেই ক্ষমতাধর চরিত্র আমার মেয়ের চরিত্র, আমার মেয়ের পোশাক, আমার মেয়ের চেহারা নিয়ে সরবে বিনোদনমূলক আলোচনা করতেন। বিভিন্ন পত্রিকা টেলিভিশন আমার মেয়ে সামিয়া রহমানের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে তার বিরুদ্ধে নিউজ করার জন্য, একবারও তার কোনো বক্তব্য না নিয়ে। এই নাকি আমাদের সাংবাদিকতা। যদিও ঘটনার ২/৩ দিন পর দু-তিনটি হাতেগোনা পত্রিকা ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমার মনে হয় এবার সময় এসেছে, বক্তব্য খোলাসা করার।

আমার কন্যা সামিয়া রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। কোনো বাবা, চাচা, শ্বশুর সূত্রে যোগদানে সহায়তা নেয়নি। সামিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে ১৯৯৫ সালে সম্মান এবং ১৯৯৬ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দু-দুবার প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে তার কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ দুবার স্বর্ণপদক অর্জন করে। দলীয়করণের রাজনীতি বোধহয় তখন এত প্রবল ছিল না বলেই সর্বোচ্চ স্থান পেয়েছিল আমার মেয়েটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু মেধার জোরে চাকরিও হয়েছিল তার।

“A New Dimension in Colonialism and Pop Culture: A Case Studz of the Cultural Imperialism” প্রবন্ধটিতে সামিয়ার নাম লেখক হিসেবে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো জার্নালে কোনো নিবন্ধ জমা দেওয়ার সময় লেখকের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। উক্ত নিবন্ধটি প্রকাশনার জন্য এডিটোরিয়াল বোর্ডে দাখিল করা থেকে প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত কোনো ধাপেই সামিয়ার কোনো স্বাক্ষর, সম্পৃক্ততা এবং উপস্থিতি ছিল না, যা তদন্ত কমিটিও খুঁজে পায়নি। ট্রাইব্যুনালের রিপোর্টেও এটা স্পষ্টাক্ষরে লেখা আছে। এবং মারজান তদন্ত কমিটির কাছে লিখিতভাবে স্বীকারও করেছে লেখাটি সেই জমা দিয়েছে। এবং সাইটেশনের ভুলটিও ছিল মারজানের অনভিজ্ঞতাবশত ভুল (তদন্ত কমিটির কাছে মারজানের দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী)।

রিভিউয়ারের লেখাও মারজান গ্রহণ করে, সামিয়াকে দেখায়নি পর্যন্ত। প্রমাণস্বরূপ এ সংক্রান্ত মেইলটিও তদন্ত কমিটির কাছে সামিয়া জমা দিয়েছিল। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী লেখক কোনো নিবন্ধ জমা দেওয়ার পর সেই নিবন্ধটি এডিটোরিয়াল বোর্ড যাচাই-বাছাই করে প্রকাশের যোগ্য মনে করলে একজন রিভিউয়ারের কাছে পাঠান, রিভিউয়ার সেটি সংশোধন করে তাঁর ইতিবাচক বা নেতিবাচক মতামত লিখিতভাবে এডিটোরিয়াল বোর্ডকে জানান। অতঃপর রিভিউয়ার এর রিপোর্টের আলোকে, এডিটোরিয়াল বোর্ড নিবন্ধটি পুনরায় লেখকের কাছে সংশোধনের জন্য পাঠান। লেখক সংশোধন করে দিলে এডিটোরিয়াল বোর্ড নিবন্ধটি পুনরায় পর্যালোচনা করে যথাযথ ও মানসম্মত বিবেচনা করলে তা জার্নালে প্রকাশিত হয়। বর্ণিত নিবন্ধটি সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান ডিন অফিসে জমা দিয়েছিল মর্মে তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেন। অতঃপর রিভিউয়ারের প্রতিবেদন প্রাপ্তি, নিবন্ধের সংশোধিত কপিতে স্বাক্ষর এবং সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার ইস্যু কোনো ক্ষেত্রেই সামিয়ার কোনো অবগতি ও সম্পৃক্ততা ছিল না।

প্রকৃতপক্ষে তর্কিত নিবন্ধটির আইডিয়াসহ ইতিপূর্বে প্রকাশিত আরও কিছু নিবন্ধের আইডিয়া আমার কন্যা সামিয়া রহমান মারজানকে দিয়েছিল। মারজানের অনুরোধে Cultural Imperialism এর বিষয়ে Edward Said এবং Michel Foucault এর দুটো নিবন্ধের কিছু নির্বাচিত অংশ ২০১৫ সালে সামিয়া মারজানকে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রেরণ করে। তার প্রদত্ত আইডিয়াটি ছিল, Edward Said এর কালচারাল ইম্পিরিয়ালিজমকে তুলে ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি কীভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন করছে এবং ফুকোর প্রিজনকে তুলে ধরে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের আচরণকে ব্যাখ্যা করা। ২০১৫ সালের ওই ই-মেইলে সামিয়া মূলত Edward Said এবং Michel Foucault-এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মারজানকে প্রেরণ করে এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিষয়ে ব্যাখ্যা করে লেখাটি সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব মারজান নিয়েছিল। পরবর্তীতে তৎকালীন সোশ্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ডিন ড. ফরিদউদ্দীন এবং ক্রিমিনোলজির অধ্যাপক ড. জিয়ার সঙ্গে মারজান বেয়াদবি করায়, তারা আমার কন্যা সামিয়াকে বিষয়টি অবহিত করলে, সামিয়া মারজানকে প্রশ্ন করে। উল্টো মারজান সামিয়ার সঙ্গেও উদ্ধত আচরণ করে। মারজানের সঙ্গে সে সময় আমার কন্যার দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আমার বড় কন্যার স্বামীর মৃত্যুসংবাদে সামিয়াকে তাৎক্ষণিক সেখানে যেতে হয়। ওই সময় ঢাকা বিমানবন্দরে থাকা অবস্থায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অফিস থেকে সামিয়াকে ফোন করে জানানো হয়, সামিয়ার এবং মারজানের যৌথ একটি নিবন্ধের কপি তারা হারিয়ে ফেলেছে এবং কপিটি পুনরায় তাদেরকে পাঠানো যাবে কিনা। উক্ত সংবাদে সামিয়া আশ্চর্য হয় এই কারণে যে, সাম্প্রতিককালে প্রকাশনার জন্য সে কোনো লেখা ডিন অফিসে জমা দেয়নি। তার ওপর ডিন অফিস থেকে একই সঙ্গে কোনো লেখার হার্ড কপি এবং সফট কপি কীভাবে হারায়? সামিয়া তাৎক্ষণিকভাবে মারজানকে ফোন দিলে সে সামিয়াকে জানায়, ২০১৫ সালে তাকে দেওয়া সামিয়ার তথ্য সমূহের ওপর নির্ভর করে সে একটি লেখা সম্পূর্ণ করেছে এবং তা “Social Science Review” Journal-এ প্রকাশের জন্য জমা দিয়েছে। লেখাটির চূড়ান্ত ভার্সন সামিয়াকে না দেখানোর কারণে সামিয়া তাকে ভর্ৎসনা করলে মারজান প্রতিউত্ত্যুরে উদ্ধতভাবেই জানায়, রিভিউয়ার লেখাটি গ্রহণ করেছেন। যেহেতু লেখাটিতে সাঈদ ও ফুকোর লেখার উদ্ধৃতি ছিল, সামিয়া মারজানকে সেই উদ্ধৃতি সঠিকভাবে দিয়েছে কিনা, বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিতে গবেষণা করেছে কিনা বারবার জিজ্ঞাসা করে। মারজান সামিয়াকে বারবার আশ্বস্ত করেছিল যে, সে প্রবন্ধটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছে এবং রিভিউয়ার কিংবা সম্পাদনা পরিষদ রেফারেন্সের বিষয়ে কোনো আপত্তি করেননি। বরং অ্যাকসেপ্ট করেছেন। সামিয়া মারজানকে ডিন অফিসে যোগাযোগ করতে বলে এবং সামিয়া ফিরে না আসা পর্যন্ত লেখাটির বিষয়ে কোনো রকম সিদ্ধান্ত নিতে মানা করে। কিন্তু বিদেশে থাকাকালীন সময়েই লেখাটি ছাপা হয়ে যায়। অফলাইন জার্নাল বলে সেটা জানার সুযোগ সামিয়ার ছিল না।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন জনাব অধ্যাপক ড. ফরিদউদ্দীন আহমদ-ফোন করে সামিয়াকে জানান, সামিয়া এবং মারজানের যৌথ নামে যে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে সে ব্যাপারে সামিয়া অবগত আছে কিনা? পূর্বে উল্লিখিত বিষয়টি সামিয়া সংক্ষিপ্তভাবে উনাকে জানালে, ড. ফরিদউদ্দীন জানান নিবন্ধটিতে রেফারেন্সের ঘাটতি আছে এবং এ বিষয়ে সামিয়ার বিভাগের দুজন শিক্ষক তাঁর কাছে অভিযোগ করে সামিয়ার শাস্তি দাবি করেছেন। তখনো জার্নালটির কোনো কপি সামিয়া হাতে না পাওয়ায় মারজানকে ফোন দিলে সে বলে সবকিছু ঠিক আছে। সামিয়াকে না দেখিয়ে লেখাটি জমা দেওয়ার জন্য সামিয়ার সঙ্গে মারজানের বাদানুবাদ হয়। সামিয়া অনতিবিলম্বে ডিন অফিসে এসে অধ্যাপক ড. ফরিদউদ্দীন-এর কাছ থেকে জার্নালটি নিয়ে লেখাটি দেখে এবং সঙ্গে সঙ্গেই উক্ত লেখাটি অত্যন্ত দুর্বল এবং তাতে পর্যাপ্ত ফুট নোটের অভাব দেখতে পায়। যেহেতু নিবন্ধটির লেখক হিসেবে সামিয়ার নামও প্রকাশিত হয়েছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে জার্নাল থেকে নিবন্ধটি প্রত্যাহারের জন্য ০৫/০২/২০১৭ তারিখে সামিয়া আবেদন করে। তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ফরিদউদ্দীন নিজ স্বাক্ষর যুক্তে সামিয়ার ওই আবেদন গ্রহণ করেন এবং ওই আবেদনপত্রের কপি তদন্ত কমিটির কাছে সামিয়ার লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে দাখিল করে। যেক্ষেত্রে সামিয়া নিজেই সব পারিপার্শ্বিক বিষয় বর্ণনা করে Social Science Review-তে প্রকাশিত নিবন্ধটি দুর্বল ও নিজস্ব পর্যালোচনাবিহীন এবং প্রতি পাতায় ফুট নোটের অভাব লক্ষ্য করে ৫ ফেব্রুয়ারি সেটা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল, সেক্ষেত্রে সাত মাস পর ওই নিবন্ধটির বিষয়ে জনৈক Alex Martin নামীয় একজন ব্যক্তির একটি কথিত ই-মেইলের সূত্র ধরে সামিয়াকে Plagiarism এর অভিযোগে অভিযুক্ত করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। যদিও বর্তমান তদন্ত কমিটি এই বিষয়টিকে আমলেই নেয়নি যে সামিয়া ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতেই লেখাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল। উপরন্ত তৎকালীন ভিসি ড. আরেফিন সিদ্দিককে তাৎক্ষণিকভাবে লেখাটি দেখালে তিনি নিজেও বলেন, এটি প্লেজারিজম নয়, এটি সাইটেশন এরর। এবং সবচেয়ে বড় কথা এখানে সামিয়ার কোনো স্বাক্ষরই নেই, তাই এখনই যেন ডিন ড. ফরিদউদ্দীন এ বিষয়টি সিন্ডিকেটে তোলেন। সামিয়া বিষয়টি ডিন মহোদয়কে জানালে তিনি বিষয়টি চেপে যান। সামিয়ার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি ড. আরেফিন সিদ্দিকের সিন্ডিকেটে বিষয়টি তুলতে রাজি হন না। এর ঠিক সাত মাস পর ড. ফরিদউদ্দীন সামিয়াকে ফোন দিয়ে বলেন, এবার তিনি নতুন ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সিন্ডিকেটে বিষয়টি তুলবেন। এই প্রশাসন সামিয়াকে ড. আরেফিনের অনুসারী মনে করে এবং এরা সামিয়ার বিরুদ্ধে। এবার তিনি মারজানকে শাস্তি দেবেন। কারণ মারজান তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। ড. আরেফিন সিদ্দিক নাকি ড. ফরিদউদ্দীনকে ১০ মিনিটের মাথায় ডিন পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন, এটি হবে তাদের প্রাপ্য শাস্তি। আমার কন্যা শুধু বারবার প্রশ্ন করেছিল এখানে সে কীভাবে জড়িত হচ্ছে। ড. ফরিদউদ্দীনের বক্তব্য ছিল, সামিয়া রহমান ড. আরেফিন সিদ্দিকের অনুসারী এবং সামিয়ার বিভাগের দুজন শিক্ষক সামিয়ার বিরুদ্ধে শিকাগো ইউনিভার্সিটির কাছে অনুরোধ করে লিখেছে, যেন সামিয়ার শাস্তির জন্য শিকাগো ইউনিভার্সিটি চিঠি লেখে। এটি নাকি হবে ড. ফরিদউদ্দীনের জন্য ন্যাচারাল জাস্টিস। সামিয়া তাকে প্রশ্ন করেছিল তবে তিনি কেন সাত মাস আগে ড. আরেফিন সিদ্দিক ভিসি থাকার সময় বিষয়টি তুললেন না? কেন কালক্ষেপণ করলেন? ড. ফরিদউদ্দীনের বক্তব্য ছিল, ড. আরেফিনের প্রশাসন এটিকে প্লেজারিজম মনে করে না। ড. আরেফিন সিদ্দিক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একজন সিনিয়র নারী শিক্ষকের প্লেজারিজমের বিষয়টি সিন্ডিকেটে মাফ করে দিয়েছিলেন। ওই নারী শিক্ষক তার বিভাগের একজন শিক্ষকের লেখা হুবুহু কপি করেছিলেন। আর বর্তমান প্রশাসন সামিয়ার বিরুদ্ধে, তাই তাদের কাছেই তিনি সামিয়ার শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন। তিনি শুধু বোঝাতে চেয়েছিলেন, তার টার্গেট সামিয়া নয়, বরং মারজান। তিনি এও জানালেন, তার কাছে সমুদয় কপি আছে ডিন অফিসের, যেখানে জমা দেওয়া থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কার্যকলাপের সঙ্গে মারজান যুক্ত। যদিও অদ্ভুত বিষয় হলো তদন্ত কমিটি তাদের রায়ে জানিয়েছে ডিন অফিসে কাগজ পত্র লেনদেন কে করেছে, সেটি অস্পষ্ট। দালিলিক প্রমাণ নাকি পাওয়া যায়নি। অথচ মারজান নিজে তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেছে সে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছে। রিভিউয়ারের কপিও সে নিয়েছে। সে জমা দিয়েছে। তারপরও ডিন অফিস এবং তদন্ত কমিটি কেন দালিলিক প্রমাণ অস্পষ্ট জানাল সেটি বরং আমাদের কাছে সন্দেহজনকভাবে অস্পষ্ট হয়ে আছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রেরিত কারণ দর্শানোর নোটিসে প্রথমবারের মতো সামিয়া জানতে পারে যে, ‘এই প্রবন্ধটির রিভিউয়ার স্পষ্টতই এতে মৌলিক অসংগতি রয়েছে বলে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।’ রিভিউয়ারের এরকম নেতিবাচক মন্তব্যের পরও তর্কিত নিবন্ধটি সামিয়ার কোনো সংশোধন, স্বাক্ষর কিংবা সম্মতি ছাড়া জার্নালে কীভাবে প্রকাশিত হলো সে বিষয়ে বরং তদন্ত করার জন্য সামিয়া অনুরোধ করেছিল। কিন্তু সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি বরাবরের মতো নিশ্চুপ। আর সিন্ডিকেট এ বিষয়গুলোকে আমলেই নেয়নি। কেন সামিয়াকে শুরু থেকে একবারও অবহিত করার প্রয়োজন মনে করলেন না এডিটোরিয়াল বোর্ড, সেটি রবং আমাদের কাছে বড় একটি প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। বরং আমি পিতা হিসেবে মনে করি সামিয়ার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রের এটি ছিল প্রথম একটি ধাপ। ডিন অফিস থেকে একই সঙ্গে সফট কপি এবং হার্ড কপি হারিয়ে যায় কেমন করে? কেমন করে মূল লেখকের স্বাক্ষর ছাড়া লেখা প্রকাশ হয়? কেমন করে রিভিউয়ারের কপি মূল লেখকের কাছে পৌঁছানোর কোনো তাগিদ এডিটোরিয়াল বোর্ড মনে করেন না? কেমন করে রিভিউয়ারের নেতিবাচক মন্তব্যের পরও কোনো রকম সংশোধন ছাড়া লেখা প্রকাশিত হয়? কেমন করে এডিটোরিয়াল বোর্ড দুই বছরেও কোনো রকম বার্ষিক সভা ছাড়া লেখা অনুমোদন করেন? তবে কি সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউতে যে কেউ গরুর রচনা লিখে পাঠিয়ে দিলে সেটাও অ্যাকসেপ্ট হয়ে যাবে? কেননা এডিটোরিয়াল বোর্ড তো কে লেখক, তার স্বাক্ষর কোথায়, রিভিউয়ার কী মন্তব্য করছেন, রিভিউয়ারের মন্তব্য লেখকদের কাছে পাঠানোর প্রয়োজন আছে কি না? লেখাটি ছাপার যোগ্য কি না- তার তোয়াক্কা করেননি।

আমার মেয়ে সামিয়া রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ছাত্রজীবন থেকে তার সাফল্য এবং পরবর্তীকালে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির কারণে তার বিভাগের শিক্ষকদের একটি অংশ তার প্রতি ভয়ঙ্কর ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সামিয়ার বিরুদ্ধে আনীত ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল তাদের কর্মকান্ড পক্ষপাতদুষ্ট এবং তদন্ত কমিটি সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। উক্ত পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে তদন্ত সমাপ্তির জন্য এক মাস সময় দেওয়া হলেও তদন্ত কমিটি তিন বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত কার্য দীর্ঘায়িত করেছেন এবং এ সময়ে তদন্ত কমিটির কোনো কোনো সদস্য বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সামিয়ার বিরুদ্ধে প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, ভুয়া, উসকানিমূলক ও মানহানিকর তথ্য সরবরাহ করেছেন। তদন্ত কমিটির কার্যক্রম গোপনীয় হওয়া সত্ত্বেও প্রতি মিটিংয়ের তথ্য, মিটিং সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় সরবরাহ করা হয়েছে।

ক্ষমতা মানুষকে সর্বোচ্চ শক্তিমান ভাবতে ধারণা দেয়। কিন্তু ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আদালত আছে, আইন আছে। তারা নিশ্চয়ই দালিলিক প্রমাণ দেখবেন। শিক্ষক রাজনীতির প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টায় কারও বিরুদ্ধে শত্রুতায় ব্যস্ত থাকবেন না, এটুকুই শুধু আমার প্রত্যাশা।

যারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে সামিয়ার ক্ষতিতে আনন্দ করছেন, তাদের জন্য আমার করুণা। কারণ মানুষ হিসেবে তারা অতি নিকৃষ্ট, ক্ষুদ্র। তাদের প্রতি করুণা ছাড়া আর কোনো অনুভূতি আমার অন্তরে নেই। প্রমাণ নিশ্চয়ই একদিন হবেই হবে। যারা সামিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখেননি, তাদের প্রতি আমার কোনো বক্তব্য নেই, আল্লাহ খোদা বলে যদি কেউ থাকেন, তবে তিনিই প্রমাণ দেবেন। আর যারা বিশ্বাস করে পাশে আছেন, ভরসা রাখুন, আইন নিশ্চয়ই প্রমাণ দেখবে, নষ্ট শিক্ষক রাজনীতির প্রতিহিংসা দেখবে না।

লেখক : সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক, বাংলাদেশ বেতার

শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী সামিয়া রহমানের পিতা।

সূত্র- বিডি প্রতিদিন

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

রাখী নাহিদ, নিউইয়র্ক

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের মতো আর কিছু নাই

অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার আনন্দের কাছে পৃথিবীর সকল আনন্দ নস্যি। এর মত মজা দুনিয়ায় আর কিছু নাই। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য আমাদের কোন কাজে লাগেনা তবুও আমরা আড়ি পেতে সম্পূর্ণ অপরিচিত মানুষের কথা শুনতেও পছন্দ করি। 

আর আমি মনে করি মানুষকে আনন্দ দেয়ার মত পুণ্যের কাজ আর কিছু নাই। তাই আমার ব্যাপারে আজকে কিছু নতুন FAQ এর আন্সার। 
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- দুলাভাই কেমন আছে ? উনার অনুভূতি কি ? - দুলাভাই এর স্ত্রী বিদেশ। উনি সামান্য খারাপ থাকবেন এটাই স্বাভাবিক তবে উনার সাথে আমার দিনে ঊনচল্লিশ বার কথা হয়।

উনার সাথে আমার সামান্য টানাপোড়েন আছে যা পৃথিবীর তাবৎ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘ দাম্পত্যে থাকে। এটা খুব স্বাভাবিক। আর সুযোগ থাকলে টানাপোড়েন না বাড়িয়ে মানুষের উচিত সামান্য ভৌগলিক দূরত্ব বাড়ানো। কারন কখনো কখনো ফিজিক্যাল প্রেজেন্স মেন্টাল ডিস্ট্যান্স আরো বাড়িয়ে দেয় কিন্তু সাময়িক দূরত্ব মানুষকে আবার কাছে আনে।

তবে আমার এই অন্তর্ধান এর পেছনে দুলাভাই এর ভূমিকা সামান্যই। আমিই এর মূল কারন। আমি মনে করি দুলাভাই এর স্ত্রী এবং পুত্রদের মাতা হওয়া ছাড়াও আমার একটা পরিচয় আছে, স্বাতন্ত্র্য আছে। আমার একটা আমি আছে। সেই আমিটা যেমন সংসারী ঠিক তেমনই  বৈরাগী। 

সেই সংসারী আমি চোখ বেঁধে সংসার করেছি একুশ বছর। আমার জীবনের অর্ধেকের বেশী। তারপর বছর খানেক আগে হঠাত বৈরাগী আমি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। 

সত্য কথা হল, সেই শিশু বয়সে বিয়ে, তারপর সন্তান, সংসার, বাজার, রান্না এই এক রুটিনে চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম।যে বয়সে মানুষ বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোড় করে, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবে, সেই বয়সে আমি কোলে দুই কোলে দুই বাচ্চা নিয়ে নাক মুখ গুজে সংসার করেছি।১৮ বছরের পর থেকে আমার নিজের কোন জীবন নাই।


রাজধানীতে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

সৌদি যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহবান জাতিসংঘের

ইরানের সঙ্গে আইএইএ’র সম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র

সুইপার থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক


কোন পার্থিব জিনিসের অভাব ছিল না। But some very important elements had been missing. সারাক্ষণ কি যেন নাই কি যেন নাই অনুভূতি।পরে খুঁজে বের করলাম আমার আসলে কাজ নাই। 

সারাক্ষণ মনে হত এই যে মহামূল্যবান জীবনটা আল্লাহ দিলেন এইটার তো কোন সদ্ব্যবহার করা হল না।সামান্য লেখালেখির অভ্যাস সেই ঘা এ কিছুটা মলমের কাজ করছিলো।কিন্তু তবুও আমি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। 

I was tired of the being secured , I was tired of being protected. I was tired of being so sure of everything around me. 
আমি সেই সোনার খাঁচার বাইরে বের হয়ে জগতটাকে দেখতে চাইলাম। নিজের এবিলিটি পরখ করতে চাইলাম। দেখতে চাইলাম সারাজীবন পুরুষের কাঁধে ভর দিয়ে চলা একজন নারী একা সারভাইব করতে পারে কি না।

তারপর আর কি? Veni, Vidi, Vici অর্থাৎ এলাম দেখলাম এবং জয় করলাম। শারীরিক কষ্টে অনভ্যস্ত আমি সাতদিন সাতদিন কাজ করি এখন। শরীরে হাতুড়ি পেটা টাইপ ব্যথা নিয়ে ঘরে ঢুকি, পরেরদিন আবার যাই। জানি একদিন এই কষ্ট সয়ে যাবে। সবারই যায়। 

এই ভিন দেশে এসে পিজা বেচবো, ট্র্যাভেল এজেন্সিতে টিকেট বুকিং দিবো এমনও কোন টার্গেট না। সাতদিন কষ্ট করতে হবে এরও কোন কারন নাই।প্রথমে কাজ পাচ্ছিলাম না এখন ছাড়তে পারছি না। 

আর স্বামী সন্তান রেখে আরেক দেশে এসে ডলার ইনকাম করে খুব মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলছি তাও না। কিন্তু মনে হয় আরেকবার সুযোগ পেলে আমি দারুণ কিছু করব, আরেকবার আমাকে বড় হতে দিলে আমি আমার সমস্ত মেধাকে কাজে লাগাবো, আরেকবার সুযোগ পেলে আমি সৃষ্টিকর্তাকে বলতে পারবো আমি আমার মহামূল্যবান জীবনের সৎ ব্যবহার করেছি।এমনি এমনি নষ্ট করি নি। 

আমি আবার আঠারো বছর বয়স থেকে শুরু করতে চাই, অনেক পড়তে চাই, অনেক কাজ করতে চাই, বিশ্বজয় করতে চাই। আমি সদ্য কিশোরীর মত চিৎকার করে বলতে চাই-
Give me some sunshine. Give me some rain. 
Give me another chance, I will grow up once again....

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে

শওগাত আলী সাগর

১. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন অনেকেই আছেন, যাদের বক্তব্যে নতুন চিন্তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেক কিছুকেই নতুন করে, নতুন অ্যাঙ্গেলে দেখার একটা  আগ্রহ তৈরি করে। এঁদের আমি মনোযোগের সাথে অনুসরণ করি, কখনো কখনো অনুকরণও করি। 

ভার্চুয়াল কিংবা রিয়েল, সবক্ষেত্রেই আমার মনোযোগ থাকে নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখা।যার সঙ্গ আমাকে নতুন কিছু শেখায় না, নিদেনপক্ষে আনন্দ দেয় না- সেই সঙ্গ আমাকে বেশিক্ষণ টানতে পারে না।

২. ফেসবুক নিয়ে মুশফিক ওয়াদুদ একটা পোষ্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমার একটা হাইপোথিসিস হচ্ছে, স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না। বরং উপকার করে। উপকার করে এ অর্থে  যে, মানুষের ক্ষোভের ভেন্টিলেশন হয় এবং তারপর এই ক্ষোভ কিছুদিন পর হারিয়ে যায়।”

তার পরপরই মুরাদুল ইসলাম তার নিজের একটি পোষ্টে লিখেছেন, যখন ফেসবুকে কেউ কোন বিষয়ে মত দেন, তার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা অনেকে এই বিষয়ে সেকন্ড থট দেন। এভাবে, মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মাণ হয়।কোন সমাজের ন্যারেটিভ বাজে হইলে বুঝতে হবে, এই সমাজে বাজে লোক বেশি এটাই না, এই সমাজে ন্যায় ন্যারেটিভে কথা বলার মত অল্প লোকও নাই “

মুশফিক এবং মুরাদুলকে আমি ফেসবুকে নিবিড়ভাবে ফলো করি। মুরাদুলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো বেশ কয়েক বছর আগে তার অণুগল্প পড়ে। মুশফিকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার ফেসবুকের পোষ্ট  পড়ে। এদের দুজনের কেউই আমার চিন্তার শতভাগ সমর্থক কিংবা আমি তাদের চিন্তার সমর্থক- বিষয়টা এমন না। কিন্তু এদের চিন্তার স্টাইল এবং দেখার চোখটা আমার পছন্দ।

৩. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক নিয়ে সারা দুনিয়ায় এখন বড় বড় গবেষণা হচ্ছে। এসব নিয়ে পশ্চিমের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পন্ডিতদের লেখা বইয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর সেল্ফ ঠাসা। ফেসবুক এখন কেবল নিজের বক্তব্য দেয়ার প্লাটফরমই না,  ফেসবুক এখন পড়াশোনার, জ্ঞানার্জনের একটি সাবজেক্টও।


দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

বিরোধীতার রকমফের

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?


৪. মুশফিকের  ‘স্যোসাল মিডিয়া একটিভিজম নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করে না’ এবং মুরাদুলের ‘মত প্রকাশ, চিন্তা, আরো মত প্রকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজের ন্যারেটিভ নির্মান হয়’- এই দুটি বক্তব্য নিয়েই আলোচনার সুযোগ আছে। আমি নিজে মনে করি, এগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকারও।

একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া আমরা আসলে কিভাবে ব্যবহার করছি- সেই আলোচনাও প্রয়োজনীয়। ব্যক্তিজীবনে আপনার বাড়ীঘর, বাড়ীর্ চারপাশ এবং আপনার মেলামেশা বা আত্মীয়তা করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, ভার্চুয়াল জগতকে সাজানোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার বলে আমার নিজের মনে হয়। 

৫. সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে মুশফিক এবং মুরাদুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার নিজের কিছু বক্তব্য আছে। সেগুলো আলাদাভাবে কখনো বলা যাবে। আপাতত সাংবাদিকতায় আমার প্রথম সম্পাদক আলম রায়হানের একটা কথা এখানে উল্লেখ করি। 

সাংবাদিকতায় প্রথম কর্মস্থল ‘সাপ্তাহিক সুগন্ধা’র সম্পাদক ছিলেন আলম রায়হান। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘শুনেন, পাঠক সবসময় নিজেকেই সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ভাবে। কারো লেখা যদি তার নিজের ভাবনার সাথে, চিন্তার সাথে মিলে যায়- তা হলে সেই লেখক, সাংবাদিককেও সে জ্ঞানী লোক মনে করে। নিজের চিন্তার বিপরীত হলে তাকে নানা উপাধীতে ভূষিত করে গালাগালি করে।’

আলম রায়হানের এই কথাটাই আজকাল সবচেয়ে সত্য বলে আমার কাছে মনে হয়।বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

দেখে মনে হয়েছে বিসিএস-এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে

আব্দুন নূর তুষার

বিসিএস দেশের সেরা মেধাবীদের বেছে নেয়ার পরীক্ষা। সেখানে কলাম্বিয়ার শহর Cartagena এর নাম বাংলায় লিখেছে কার্টাগেনা। ভাইরে এটার উচ্চারণ হবে কার্টাহেনা। 

কার্টাহেনা। Proper Noun যেভাবে উচ্চারিত হয় সেভাবেই লিখতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় অ্যালান গিন্সবার্গের কবিতার নাম লিখেছে September on The Jessore Road.

এই The আমদানী হলো কি করে? কবিতাটার নাম September on Jessore Road. 

ড. জিভাগো এর সঠিক বানান হলো Zhivago আর লেখকের নাম Pasternak. দুটো বানানই ভুল লেখা হয়েছে।

উপন্যাসকে নভেল বলার মধ্যে কি নভেলটি (Novelty) সেটা বুঝতে পারি নাই। মার্কিন তালিবান চুক্তির তারিখ কত এটা কি মনে রাখার জিনিষ? এটা কি পৃথিবীর ইতিহাসের কোন তাৎপর্যপূর্ণ তারিখ?

মোবাইল ফোনের বিল নিয়ে একটা অংক দিয়েছে। সবগুলি উত্তর ভুল। ৪২০ টাকার মোবাইল বিল বারোমাস/ একবছর পরে ১০% বাড়লে,১৩ তম মাসে এটা হবে । ৪২০ + ৪২ = ৪৬২ টাকা।

৬ মাস পরে এটা আরো ২০% বাড়লে এটা ১৮ মাস পরে কত হবে?


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


৬ মাস পরে এটা যদি বাড়ে তবে বিল হবে ১৯ তম মাসে। তাই ৬ মাস পরে ২০% বাড়লেও বিল কিন্তু ১২+৬ =  ১৮ মাস শেষ হলে ৪৬২ টাকাই থাকবে। ১৯ তম মাসে এটা হবে ৪৬২+৪৬.২০  =  ৫০৮.২০

১৯ তম মাসে তো বিল কত জানতে চায় নাই। ১৮ মাস শেষ হবার পরে বিল ২০% বাড়বে। উত্তর হওয়া উচিত ৪৬২ টাকা। কিন্তু অপশন আছে ৪৬০.২০/৫৫৪.৪০/৬২০.৬০/৭৩০.৮০.

হয়তো এগুলোর মধ্যে একটা ঠিক। আমি অংকে খুবই কাঁচা। তাই এই উত্তরগুলির ব্যাখ্যা কি সেটা জানার বড় ইচ্ছা। এরকম আরো কিছু বিষয় আছে যা দেখে মনে হয়েছে বিসিএস এর প্রশ্নপত্রের করোনা হয়েছে।

এই সব প্রশ্ন কেউ মডারেট বা তদারক করে কি?

আব্দুন নূর তুষার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিরোধীতার রকমফের

আশরাফুল আলম খোকন

বিরোধীতার রকমফের

কেউ যদি এজেন্ডা নিয়ে কারো বিরোধিতা করে তার সাথে যুদ্ধটা নৈতিকতার মানদন্ডে বিচার করা যাবে না। এই এজেন্ডাবাজরা রাষ্ট্র ও সমাজের শত্রু। তারা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে দেশ বিরোধী অপকর্মে লিপ্ত হয়। এটাই তাদের পেশা, রুটি রুজির পথ। কিন্তু কেউ যদি আদর্শগত কারণে বিরোধিতা করেন তার সাথে যুদ্ধটা আদর্শিকই হওয়া উচিত। আদর্শিক যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে। সমাজ আরও বেশি শিক্ষিত হবে। 

আবার আরেকগ্ৰুপ আছেন, যারা “সবসময় সব সরকার”এর দোষত্রুটি তুলে ধরেন। তাদের অবস্থা দেখলে মনে হবে তারা বিরোধী পক্ষের চেয়েও কট্টর। খুব শক্তভাবে কথা বলেন কারণ তাদের নৈতিকতার ভিত্তিটা অনেক শক্ত। তারা বিরোধিতা করেন আবার সরকারের ভালো কাজের পক্ষেও কথা বলেন। যা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেউ বিপথে গেলে তারা সেখানে একটা ঝাকুনি দিয়ে সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করেন। তাদেরকে রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই দরকার। 

দেশের সবাই আপনার আমার পক্ষের হবে না। কারণ সবাই একই আদর্শের মানুষ না। বিপক্ষ গ্ৰুপ থাকবেই। এখন কে কোন কারণে বিরোধীতা করেন তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। সবার ক্ষেত্রে একরকমের প্রতিক্রিয়া হওয়া উচিত নয়।


স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

রমজান মাসেও খুলা থাকবে স্কুল-কলেজ: শিক্ষামন্ত্রী

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আগুন


লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খুঁজে বের করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মজার বিষয় হচ্ছে, যারা জেল খানায় জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের সমর্থনে কথা বলেন এবং হত্যাকারীদের আদর্শকে লালন করেন তারাও এখন সোচ্চার।

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

শরিফুল হাসান

স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন ২৪ মে?

৩০ মার্চ দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো স্কুল-কলেজ যদি ৩০ মার্চ খুলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন ২৪ মে খুলবে? 

ছোট বাচ্চাদের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের বোধ কী কম? আর উচ্চমাধ্যমিক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষের ছেলেমেয়েদের বয়সের পার্থক্য তো ১-২ বছর। কলেজ খুললে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে সমস্যা কোথায়?


চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে দুই নৌকা ডুবি

চুয়াডাঙ্গায় নারীর রহস্যজন মৃত্যু, শাশুড়ি আটক

অতিরিক্ত পাথর বোঝাই ট্রাকের চাপে বেইলী ব্রিজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ, স্ত্রীকে খুন


কাজেই স্কুল-কলেজের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ৩০ মার্চ খোলার দাবি জানাচ্ছি। অন্তত হলগুলো খোলা যেতে পারে। ক্লাস দরকার হলে পরে খোলা হোক। আমার বিশ্বাস ক্লাস ১৭ মে থেকে যদি হয়, হল যদি এর আগেও খুলে দেয়া হয় অধিকাংশ ছেলেমেয়ে হলে আসবে না, গাদাগাদিও হবে না হলে। কিন্তু যাদের থাকার কোন জায়গা নেই, ঢাকায় টিউশনি করে চলতে হয়, হল খুলে দিলে তাদের অন্তত থাকার জায়গাটা হবে। এই বিবেচনাতেও হল খুলে দেয়া উচিত।

(ফেসবুক থেকে)

লেখক: শরিফুল হাসান, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর