আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ উপায় সকাল-সন্ধ্যার এসব আমল

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ উপায় সকাল-সন্ধ্যার এসব আমল

মানুষ মাত্রই চিন্তা করে কিভাবে নাজাত পাওয়া যায়। আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ সহজ উপায় কি? কোন আমল করলে সহজে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সামর্থ্য হবে।  সকাল ও সন্ধ্যার যিকর থেকে কয়েকটি বিশেষ নিয়মিত দুআ’ যেইগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী, প্রয়োজনীয় ও ফযিলতপূর্ন নিচে সেগুলোর বর্ণনা দেওয়া হল।

১.সকল ধরণের আসমানী এবং যমিনী বিপদাপদ থেকে হেফাজত থাকার দোয়া।

উসমান বিন আফফান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। যেই ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে এই দোয়াটি পাঠ করবে, তাকে কোনো জিনিসের ক্ষতি পৌঁছাতে পারবেনা। 

দোয়াটি হলো: উচ্চারণ: বিস্‌মিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদ্বুররু মা‘আ ইস্‌মিহী শাইউন ফিল্ আরদ্বি ওয়ালা ফিসসামা-ই, ওহুয়াস্ সামী‘উল-আলীম

অর্থ: ‘আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী’।(তিরমিজি, হাদিস-৩৪১০)

অর্থাৎ সেই বান্দা সব ধরণের বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত থাকবেন’।তাকে কোনো জিনিসে ক্ষতি করতে পারবেনা। 

২.কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্ট লাভের দোয়া।

হজরত ছাওবান রা. থেকে বর্ণিত  তিনি বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:’যে ব্যক্তি দৈনিক সকাল-সন্ধ্যা তিনবার এই দোয়া টি পড়বে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা নিজের ওপর আবশ্যকীয় করে নেন কেয়ামতের দিন সেই বান্দাকে খুশি করানোর।

দোয়ার উচ্চারণ : ‘রাযীতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বী-নাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা’।

অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।(সুনানে তিরমিজি,হাদিস- ৩০১১)

অর্থাৎ, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে অগণিত সাওয়াব দিয়ে সন্তুষ্ট করে দিবেন।এবং সে তখন এই সাওয়াবের পাল্লা ভারি হওয়ার কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে। 


যে কারণে দোয়া কবুল হয় না

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


 

৩.আল্লাহর (রাত-দিনের) শুকরিয়া আদায় করার দোয়া। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে গনাম রা. থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সকালে বলেন,

উচ্চারণ :- আল্লাহুম্মা মা আসবাহা বী মিন নি’মাতিন আও বি-আহাদিন মিন খলকিকা ফা-মিনকা ওহদাকা লা-শারীকা’লাক,লাকা’লহামদু ওলাকা-শশুকরু’।

অর্থ: ‘ইয়া আল্লাহ! এই সকালে আমার মাঝে বা আপনার যে কোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত, সব আপনারই তরফ থেকে। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং,আপনারই হামদ, আপনারই শোকর’

সে ব্যক্তি এ দিনের শোকর আদায় করল। আর যে সন্ধ্যায় (নিম্নোক্ত দোয়া) পড়লো সে ঐ রাতের শোকর আদায় করল।
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা মা আমসী বী মিন নি’মাতিন আও বি-আহাদিন মিন খালকিকা ফা-মিনকা ওহদাকা লা-শারীকা’লাক,লাকা’লহামদু ওলাকা-শশুকরু’।

অর্থ: ইয়া আল্লাহ! এই সন্ধ্যায় আমার মাঝে বা আপনার যে কোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত, সব আপনারই তরফ থেকে। আপনি একক, আপনার কোনো শরীক নেই। সুতরাং আপনারই হামদ, আপনারই শোকর।(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫০৭৩)(সুনানে তিরমিজি, হাদিস -৩৪১৩)

অর্থাৎ, সকালে দোয়া পড়ার সময় শুরুতে ‘মা আসবাহা বী’ আর সন্ধ্যায় দোয়া পড়ার সময় শুরুতে ‘মা আমসী বী’ বলতে হবে বাকী দুআ অভিন্ন।

৪.জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির দোয়া।

হজরত মুসলিম ইবনে হারেস তামিমি (রা.) বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কানে কানে বললেন, যখন মাগরিবের নামাজের সালাম ফেরাবে, তখন কারো সঙ্গে কথা বলার আগে এই দোয়াটি সাত বার পড়বে।

উচ্চারণ :’আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্ নার’।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন।

যদি তুমি পড় আর ওই রাতেই তুমি মারা যাও তাহলে তোমার জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা লিখে দেয়া হবে।ফজরের নামাজের পরও এ(উপরোক্ত) দোয়াটি একই নিয়মে সাতবার পড়বে।

যদি তুমি পড়ে থাক আর ওই দিনেই তুমি মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ফায়সালা লিখে দেয়া হবে। (আবু দাউদ-৫০৮১। নাসায়ি সুনানে কুবরা-৯৯৩৯, সহি ইবনে হিব্বান-২০২২)

অর্থাৎ, যদি কেউ মাগরিবের নামাজ শেষ করে সাতবার এই দোয়াটি পাঠ করে এবং ঐ রাতেই তার মৃত্যু হয় তবে সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এমনিভাবে যদি ফজরের পর পাঠ করে এবং ঐ দিন তার মৃত্যু হয় তাহলে সে জাহান্নামে থেকে মুক্তি পাবে।

৫.দুনিয়া ও আখেরাতে প্রশান্তি লাভের দোয়া।

হজরত ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হয়ে নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেন-

উচ্চারণ :আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল- ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দ্বীনী ওফী দুনইয়াইয়া, ওয়া আহ্‌লী ওয়া মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর ‘আওরা-তী ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তি। আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া শিমা-লী ওয়া মিন ফাওকী। ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহ্‌তী’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নীচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে’।(আবূ দাউদ,হাদিস- ৫০৭৪; ইবন মাজাহ্‌, হাদিস- ৩৮৭১)

৬.দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তি লাভের দোয়া।
হজরত আবূ সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি উক্ত দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করবে,আল্লাহ তায়ালা তার সমস্ত ঋণ ও দুশ্চিন্তা দূর করে দিবেন।দোয়াটি হলো-

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল হাম্মী, ওয়াল হুযনি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল আজযি, ওয়াল কাছালি, ওয়া-আউযুবিকা মিনাল বুখলি, ওয়াল জুবনি, ওয়া-আউযুবিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া-ক্বাহরির রিজাল’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে, আরও আশ্রয় নিচ্ছি অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আরও আশ্রয় নিচ্ছি কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে আরো আশ্রয় নিচ্ছি ঋণের প্রবলতা ও মানুষের চাপপ্রয়োগ থেকে’। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদিস-১৫৫৫)
৭.সকল অনিষ্ট থেকে হেফাজত থাকার দোয়া।(তিন কুল)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক বর্ষণমুখর অন্ধকার রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুঁজতে বের হলাম,যেন তিনি আমাদের নিয়ে নামায পড়েন। তাঁর সাথে যখন সাক্ষাৎ হল তিনি বললেন, ‘কুল’ অর্থাৎ, বল। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন,’কুল’ অর্থাৎ, বল। আমি নিশ্চুপ রইলাম। তিনি আবার বললেন, ‘কুল’অর্থাৎ বল। আমি আরজ করলাম, আল্লাহর রাসূল! কী বলব? তিনি বললেন;‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ ও ‘মুয়াওয়াযাতাইন’(অর্থাৎ, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক,সূরা নাস)সন্ধ্যায় ও সকালে তিনবার।এ (সূরাগুলো) পড়বে,সব কিছু থেকে তোমার হেফাজতের জন্য যথেষ্ট হবে।(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস-৫০৮২; জামে তিরমিযী, হাদীস -৩৫৭৫)

৮.বিষধর প্রাণীর ক্ষতি থেকে নিরাপত্তার দোয়া।

হজরত আবূ-হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :যে ব্যক্তি বিকাল বেলা এই দোয়াটি ৩ বার পড়বে, সে রাতে কোন বিষধর প্রানী তার ক্ষতি করতে পারবে না।

উচ্চারণ : ‘আ‘ঊযু বি কালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক্ব’

অর্থ :আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই’।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস-৩৬৬৫।মুসনাদে আহমাদ-২/২৯০, হাদিস-৭৮৯৮।নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদিস-৫৯০)
৯.দশটি দাস মুক্তির সাওয়াব এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া।

হজরত আবূ আয়্যাশ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছে: যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে এই দোয়া(নিম্নোক্ত) পড়ে এটা তার জন্য ইসমাঈল (আঃ) বংশীয় একটি গোলাম ‘আযাদ’ করার সমান হবে, তার জন্য দশটি পুণ্য হবে ও দশটি পাপ মোচন করা হবে এবং তার দশটি মর্যাদা বুলন্দ করা হবে এবং শয়তান থেকে নিরাপদ থাকবে যতক্ষণ না সন্ধ্যা হয়। আর যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তা বলে, তাহলে ভোর পর্যন্ত অনুরূপ ফজিলত পাবে। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় রয়েছেঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে স্বপ্নে দেখে প্রশ্ন করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আবূ আয়্যাশ (রাঃ) আপনার নামে এই এই বলেছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আবূ আয়্যাশ সত্যিই বলেছে।

দোয়াটি হলো-
উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর)।
অর্থ :একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান’।(আবূ দাউদ, হাদিস-৫০৭৭।বুখারী,হাদিস- ৩২৯৩। ইবন মাজাহ, হাদিস- ৩৭৯৮। আহমাদ হাদিস- ৮৭১৯।মুসলিম, হাদিস-২৬৯১।)

১০.জান্নাত পাওয়ার দোয়া (সাইয়্যিদুল ইসতিগফার)। হজরত শাদ্দাদ বিন আওস রাদি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনের শুরুতে সাইয়্যিদুল ইস্তেসফার পাঠ করবে, সে ঐ দিনে ইন্তিকাল করলে জান্নাতী হবে, আর যদি সন্ধ্যায় পাঠ করে এবং এ রাতেই তার ইন্তিকাল হয়, তাহলে সে জান্নাতী হবে।

দোয়াটি হলো- উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্বতানী ওয়া আনা আব্দুকা ওয়া আনা আলা- আহ্দিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাতা’তু আঊ-যুবিকা মিন শাররী মা সানা’তু আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবূউ বিযান্বি ফাগ্ফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আন্তা’। অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক।

আপনি ব্যতীত আর কোন উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর আছি যথাসম্ভব। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার উপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ব্যতীত আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না।(সহিহ বুখারী : ৬৩০৬)

১১.আয়াতুল কুরসী।
যে ব্যক্তি এই আয়াতুল কুরসী প্রতিদিন সকালে পড়বে সে বিকাল হওয়া পর্যন্ত জিন্ন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে, আর যে ব্যক্তি বিকালে তা পড়বে সে সকাল হওয়া পর্যন্ত জিন শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকবে

উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল কাইয়্যূমু লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহী। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম’।

অর্থ: আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ্ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তার। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।

আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে,সকাল-বিকাল উপরোল্লিখিত হাদিস সমূহের বিশেষ ফজিলত পূর্ণ দোয়া গুলো আমল করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

একজন অন্যজনের বিপদে এগিয়ে আসা, পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মী হওয়া, শুধু নিজের সুখের জন্য ব্যস্ত না হয়ে অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করাই মনুষ্যত্ব। পরোপকার মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার। 

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজে বাধা দেবে।’ (সুরা-৩ আলে-ইমরান, আয়াত: ১১০)। এ বিষয়ে বিশ্বনবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা জগদ্বাসীর প্রতি সদয় হও, তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি সদয় হবেন।’ (তিরমিজি: ১৮৪৭)।

মানুষের সদ্‌গুণাবলির অন্যতম হচ্ছে পরোপকার। একে অপরের সহযোগিতা ছাড়া জীবন যাপন করা কঠিন। যখন কোনো সমাজে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা হ্রাস পায়, সে সমাজের মানুষ সব দিক দিয়েই পিছিয়ে পড়ে। সে সমাজে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, শান্তি বিলুপ্ত হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা তিরোহিত হয়।

ইসলাম সহানুভূতির ধর্ম। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম বিষয়। রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। তাই পরোপকারের চেতনায় কোনো শ্রেণিভেদ নেই। বড়-ছোট, ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, স্বজাতি-বিজাতি, মুসলিম-অমুসলিম এসব ব্যবধানের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামের শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল-মুজামুল আওসাত: ৫৭৮৭)।

পরোপকারী হতে হলে অনেক ধনসম্পদের মালিক হতে হবে এমন নয়। প্রত্যেক মানুষই তার নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরোপকারী হতে পারে। পরোপকার নির্দিষ্ট সীমারেখায় আবদ্ধ নয়; ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে এবং শারীরিক, আর্থিক ও মানসিক কর্মকাণ্ডে এর পরিধি পরিব্যাপ্ত ও বিস্তৃত।

পরোপকার মানুষকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব মনীষী স্মরণীয়–বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন পরহিতৈষী। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম ওহিপ্রাপ্তির পর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে খাদিজা (রা.)-কে বললেন, ‘আমাকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমি আমার জীবনের আশঙ্কা করছি।’ তখন খাদিজা (রা.) নবীজি (সা.)-কে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ কখনোই আপনার অমঙ্গল করবেন না। কারণ, আপনি আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করেন, গরিব-দুঃখীর জন্য কাজ করেন, অসহায়-এতিমের ভার বহন করেন, 
তাদের কল্যাণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।’ (বুখারি: ৪৫৭)।

পরোপকারে নিজেরও কল্যাণ সাধিত হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘অবশ্যই দান-সদকা মানুষের হায়াত বৃদ্ধি করে। অপমৃত্যু থেকে বাঁচায় এবং অহমিকা দূর করে।’ (আল-মুজামুল কাবীর: ১৩৫০৮)।

অনাথ-অসহায় ও অনাহারির কষ্টে সমব্যথী হতে আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে রোজা ফরজ করেছেন। নিঃস্ব ও অভাবীর অভাব মোচনে জাকাত ফরজ ও সাদাকুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। দান-সদকা ও অন্যের জন্য খরচে উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। আল–কোরআনে রয়েছে, ‘কে আছে যে আল্লাহকে কর্জে হাসানা উত্তম ঋণ দেবে, তাহলে তিনি তার জন্য একে বর্ধিত করে দেবেন এবং তার জন্য সম্মানজনক প্রতিদানও রয়েছে।’ (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১১)।

কোরআন কারিমে রয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও তাদের সম্পদ খরিদ করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে, এর বিনিময়ে।’ (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ১১১)। ‘নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, যে ক্ষেত্রে তারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদের প্রতিদান বর্ধিত করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১৮)।

প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সমস্যাগুলোর একটি সমাধান করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (মুসলিম: ২৬৯৯)।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে যে তিনটি কাজ বেশি প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে যে তিনটি কাজ বেশি প্রিয়

যারা আল্লাহর দেয়া আদেশ পালন করেন, নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করেন আর সব সময় আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে সক্ষম হন; তারাই মহান রাব্বুল আলামিনের প্রিয় বান্দা।

হ্যাঁ, রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদিসের বর্ণনায় এ তিন শ্রেণির লোকের বর্ণনা ও তার কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে আলি! আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় কাজ তিনটি। তাহলো-

* যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তার ওপর ফরজকৃত কাজগুলো পালন করে; সে হলো সবচেয়ে বড় আবেদ।
* আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নিষেধকৃত কাজগুলো থেকে বিরত থাকে; সে হলো সবচেয়ে সংযমী।
*  আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তার জন্য যে জীবিকা নির্ধারিত করেছেন, তাতেই তুষ্ট থাকে; সে হলো সবচেয়ে বড় সামর্থ্যবান (কৃতজ্ঞ)।

হাদিসে উল্লেখিত তিনটি কাজ পালন করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। আর যারা এ নির্দেশ পালন করেন তারা মহান আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। এ কারণেই তাদের আবেদ, সংযমী ও সামথ্যবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের একাধিক স্থানে এ ৩টি বিষয় নিয়ে একাধিক আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘রাসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা হাশর : আয়াত ৭)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে একাধিক আয়াতে তার শুকরিয়া ও তাকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। বিনিময়ে তিনি বান্দার প্রতি তার নেয়ামত দান করবেন। বান্দাকে স্মরণ করবেন মর্মে আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

 ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫২)
 ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারাই সত্বর জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৬০)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে তার ফরজ করা বিষয়গুলো মেনে নেয়া যেমন জরুরি তেমনি তার নিষেধ করা কাজগুলো থেকে বিরত থাকাও একান্ত আবশ্যক। পাশাপাশি সব সময় মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের বিকল্প নেই। তিনিই তো বান্দার একমাত্র আশা-ভরসার স্থল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব ফরজ বিধি-নিষেধ এবং সব কাজে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার তাওফিক দিন। উল্লেখিত কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দিন। আমিন।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

অনলাইন ডেস্ক

নামাজে মনোযোগ বাড়ানোর উপায়

অধিকাংশ সময় আমরা নামাজে পুরোপুরি মনোযোগ রাখতে পারি না। কিন্তু ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। নামাজ মুমিনের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্যের প্রতীক। মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্র ও নৈকট্যশীল হওয়ার প্রধান মাধ্যম।  ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এই ইবাদতটি সঠিকভাবে আদায় করলে মানুষের সীমাহীন দৈহিক ও আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়। জাগ্রত হয় প্রভু ও দাসের মাঝে নিবিড় বন্ধনের সুখানুভূতি। যেটা প্রতিটি মানুষের চিরকামনায় বিষয়। 

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে নামাজ আদায়ের আদেশ, আদেশ উপেক্ষার ভয়াবহ শাস্তি এবং নামাজ আদায়ের বিনিময়ে অপরিসীম সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। আফসোসের বিষয় হলো, সারা পৃথিবীর মুসলিম জনগোষ্ঠীর মুষ্টিমেয় কিছু খোদাভীরু বান্দা ব্যতীত অনেক মানুষের এই অতিগুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটির প্রতি অমনোযোগিতা স্পষ্ট, গাফেল আচরণ দৃশ্যমান। অথচ স্বাভাবিক বিবেক বুদ্ধির সঠিক দাবি হলো, নামাজের প্রতিই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বক্তব্যের ভেতরে নামাজে আগ্রহী হওয়ার পন্থা ও পদ্ধতির কথা ফুটে উঠেছে যথাযথভাবে।

আল্লাহর ভয়, বড়ত্ব ও সীমাহীন শক্তির কথা স্মরণ করা নামাজে আগ্রহী হওয়ার প্রধানতম মাধ্যম। কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘এবং ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য লাভ কর। সালাতকে অবশ্যই কঠিন মনে হয়। কিন্তু তাদের পক্ষে (কঠিন) নয়, যারা খুশু (অর্থাৎ ধ্যান ও বিনয়)-এর সঙ্গে পড়ে। যারা এ বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখে যে, তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হবে এবং তাদেরকে তারই কাছে ফিরে যেতে হবে।’ (সুরা বাকারা : ৪৫-৪৬) আয়াতে উল্লিখিত ‘খুশু’ শব্দ দ্বারা অক্ষমতা ও অপারগতাজনিত সেই মানসিক অবস্থা বোঝানো হয়েছে, যা আল্লাহ তায়ালার মহত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং তার সামনে নিজের ক্ষুদ্রতা ও দীনতার অনুভ‚তি থেকে সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইবাদত উপাসনা সহজতর হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, তিনি মর্মন্তুদ শাস্তি দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসেব তার কাছে অবশ্যই দিতে হবে, এসব বিষয় স্থিরচিত্তে স্মরণ করলে নামাজে মনোযোগী হওয়া সহজ হবে।

যথাসময়ে নামাজ আদায়ের যেসব মহাপ্রতিদানের কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো অনুধাবন করা ও উপলব্ধি করার চেষ্টা করা নামাজে আগ্রহী হওয়ার আরেকটি পদ্ধতি। ইবনে মাসউদ (রা.) নবী করিমকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! সর্বোত্তম ইবাদত কোনটি? 


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

প্রবাসী স্বামীকে তালাক দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন!


 

নবী করিম (সা.) বললেন, ঈমানের পর সবচে’ উত্তম ইবাদত হলো সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা।’ (বুখারি : ৭৫৩৪)।

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, মনে করো তোমাদের কারো বাড়ির সম্মুখে একটি নদী আছে এবং সে প্রতিদিন পাঁচবার ওই নদীতে গোসল করে, তার শরীরে কি কোনো ময়লা থাকতে পারে? 

সাহাবাগণ উত্তর দিলেন, না, তার শরীরে কোনো ময়লা থাকতে পারে না। নবী করিম (সা.) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও অনুরূপ, আল্লাহ তায়ালা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিনিময়ে বান্দার সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন।’ (মুসলিম : ৬৬৭)

আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তার মধ্যবর্তী সময়ের, এক রমজান থেকে আরেক রমজান তার মধ্যবর্তী সময়ের, এক জুমা থেকে আরেক জুমা তার মধ্যবর্তী সময়ের সমস্ত গোনাহ ধ্বংস করে দেয়। যদি বান্দা কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।’ (মুসলিম : ২৩৩)। 

ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যথাসময়ে যথা নিয়মে নামাজ আদায় করবে, ওই নামাজ তার জন্য কেয়ামতের দিন আলো, প্রমাণ ও নাজাতের মাধ্যম হবে। আর যে ব্যক্তি সঠিকভাবে নামাজ আদায় করবে না, তার জন্য তার নামাজ কেয়ামতের দিন নূর, দলিল ও নাজাতের মাধ্যম হবে না। কেয়ামতের দিন সে কারুন, ফিরআউন, হামান ও উবাই ইবনে খালফের সঙ্গে থাকবে।’ (মুসনাদে আহমদ : ৬৫৭৫)

উপর্যুক্ত হাদিসগুলোতে নামাজি ব্যক্তির প্রতি সুসংবাদ ও সওয়াবের কথা ঘোষিত হয়েছে। প্রতিদানের কথায় মানুষ উৎসাহিত হয়। সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতি মনোযোগী ও আগ্রহী হয়ে ওঠে। উল্লিখিত হাদিস ব্যতীত আরও অসংখ্য হাদিসে নামাজের প্রতিদান স্বরূপ জান্নাতে প্রবেশ, গুনাহ মাফ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি, সফলতা অর্জন ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে।

নামাজের প্রতি অমনোযোগী ব্যক্তির জন্য যেসব হুঁশিয়ারি ও ধমকি উচ্চারিত হয়েছে, সে সব কথা হৃদয়ে ধারণ করা, জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি ও আজাবের কথা স্মরণ করা, নামাজে আগ্রহী হওয়ার আরেকটি পন্থা। কোরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবে অপরাধীদের সম্পর্কে যেকোনো জিনিস তোমাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করেছে? তারা বলবে, আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।’ (সুরা মুদ্দাসসির : ৪১-৪৩)

অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তারপর তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো এমন লোক, যারা নামাজ নষ্ট করল এবং ইন্দ্রিয় চাহিদার অনুগামী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই তাদের ‘গাইয়ার’ (পথভ্রষ্টতার) সাক্ষাৎ পাবে।’ (সুরা মারয়াম : ৫৯)। আয়াতে উল্লিখিত ‘গাইয়া’ শব্দের তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সেটা হলো জাহান্নামের একটি গর্ত, যার উত্তাপ অত্যন্ত বেশি, যদ্দরুন জাহান্নামের অন্যান্য গর্ত আল্লাহ তায়ালা কাছে তার থেকে পানাহ চায়। ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘গাইয়া’ জাহান্নামের একটি গর্ত, এতে সমগ্র জাহান্নামের চাইতে অধিক আজাবের সমাবশে রয়েছে।

আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা নিজ পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলমান ও অন্যদের মাঝে মূল পার্থক্য হলো নামাজ। যে ব্যক্তি নামাজ পরিত্যাগ করবে সে কাফের হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি : ২৬২১)

সম্ভব হলে নামাজের মধ্যে এমন পূর্ণাঙ্গ অনুভব ও ধ্যান রাখুন, আপনি যেনো মহাল আল্লাহকে দেখছেন, তার সামনে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এ রূপ চিন্তা বা অনুভব করতে না পারলে অন্তত এতটুকু ভাবুন যে, তিনি আপনার প্রতিটি কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। তার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। (ইবাদতে এমন ভাব আনার কথা হাদিসে উল্লেখ হয়েছে।

উপর্যুক্ত হাদিসসমূহে বর্ণিত আল্লাহর বড়ত্ব, নামাজ আদায় করার ফজিলত ও নামাজ আদায় না করার ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা গভীরভাবে ভাবলে, আলোচনা করলে প্রতিটি ব্যক্তির নামাজ আদায়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। আশা করা যায়, কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে। আল্লাহ কবুল করুন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

চোগলখোরের শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

চোগলখোরের শাস্তি

অন্যের কাছে নিজেকে আপন করে তুলতে বা নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে বা দুনিয়াবী সুযোগ-সুবিধা লাভে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে যে মানুষ একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ায়, সে হচ্ছে চোগলখোর।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পেছনে ও সামনে প্রত্যেক পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ-ধ্বংস।’ (সুরা হুমাজাহ, আয়াত : ০১)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে হুতামায় (জাহান্নামের একটি স্তর)। আর কিসে তোমাকে জানাবে হুতামা কি? আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন। যা হৃদপিণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। নিশ্চয় তা তাদের আবদ্ধ করে রাখবে। প্রলম্বিত স্তম্ভসমূহে। ’ (সুরা হুমাজাহ, আয়াত : ০৪)


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক আটকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!


আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আন্দাজ-অনুমান থেকে বেঁচে থেকো। কেননা অনুমান করে কথা বলা সবচেয়ে বড় মিথ্যা। (বুখারি, হাদিস নং: ২২৮৭; মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৬৩)

চোগলখোরের পরিনাম ভয়াবহ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন, ‘চোগলখোর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি, মুসলিম ও মিশকাত)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

সুরার নাম ‘ইখলাস’। ‘সূরা ইখলাস’ পবিত্র কোরআন শরীফের ১১২ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইখলাস অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।

এই সূরাটিকে ইসলামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্মদ (সা:) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।  তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কুরআনের অন্যতম ছোট একটি সূরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে। এই সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। 

হজরত আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কোরআনের তিনভাগের একভাগ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাট করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এ সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (মুসলিম ও তিরমিজী)।

যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার লাশ বহন করার জন্য হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।

রাসুল (সাঃ) এর সময় একবার এক এলাকার একজন ইমাম সাহেবের নামে বিচার এল। বিচারের দাবী ছিল যে সেই সাহাবী প্রতি ওয়াক্ত নামাজে শুধু সুরা ইখলাস পড়ত। এই প্রসঙ্গে সেই সাহাবীকে তিনি জিজ্ঞেস করলে সাহাবা উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সুরা ইখলাসে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এমনভাবে বর্ণিত আছে যে এই সূরা আমার অনেক ভাল লাগে। তাই আমি সব নামাজে এই সূরা পড়ি। 

এই কথা শুনে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কিছু বলার আগেই আল্লাহ বলে পাঠালেন যে শুধু তার সূরা ইখলাসের প্রতি এই ভালবাসাই তার জন্য জান্নাত নিশ্চত করে দিয়েছে।

আসুন জেনে নিই সূরা আল ইখলাসের অনুবাদ ও অর্থ-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রোনালদোর গোলেও হোঁচট খেল জুভেন্টাস


সুরা ইখলাসের ফজিলত

সুরা ইখলাস-এর ভাব ও মর্মার্থ বুঝে পড়লে তাতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলী গেঁথে যাবে। মনে প্রাণে ওই ব্যক্তি হয়ে উঠবে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হবে। আর তার বিনিময়ে সে লাভ করবে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা ও ফজিলত।

একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।’ (বুখারি, তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঋণগ্রস্ত হলে তা ক্ষমা হবে না।’ (তিরমিজি)

হজরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দারিদ্র্যতার অভিযোগ করল তিনি বললেন, ‘যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছু দিনের মধ্যে তার দারিদ্র্যতা দূর হয়ে যায়।’ (তাফসিরে কুরতুবি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়।’ (ইবনে কাসির)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি বললেন, ‘এটা তার অধিকার।’ সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, তার অধিকার কী? তিনি উত্তরে বললেন- ‘তার অধিকার হচ্ছে জান্নাত।’ (মুসনাদে আহমাদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা ইখলাসের ভাব ও মর্মার্থ নিজেদের মধ্যে ধীর বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর একত্ত্ববাদ ও ক্ষমতায় পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত মর্যাদা ও ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর