বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

Other

১. তিন মিনিটের মধ্যে কেউ ইমেইলের জবাব দিতে পারে! তিনি যদি হন আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা! স্তেফ তাই করলেন। ‘প্লিজ রিচ আউট টু মাই কলিগ….’ বলে স্তেফ এর ফিরতি ইমেইলটা এসেছে ৩.২০ মিনিটে। আমি তাকে ইমেইল করেছিলাম ৩.১৭ এ। এগুলো ৪ ফেব্রুয়ারির কথা।

 

২. স্তেফ, মানে স্তেফান দুজারিচ । জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র তিনি। দুপুরের নিয়মিত প্রেসব্রিফিং এ বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং তার ভাইদের নিয়ে প্রচারিত আল জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকরা  তাকে প্রশ্ন করেছিলো। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন,  দুর্নীতির অভিযোগ একটি গুরুতর বিষয়। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত। ’ তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে তাকে ইমেইল করা।  


স্তেফ এর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ই যোগাযোগ হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো আলোচনা থাকলেই তাকে ইমেইল করেছি। তিনি তার উত্তর দিয়েছেন, ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি বড় কোনো সাংবাদিক নই, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী না। মনে আছে, প্রথম ইমেইলে একবারই আমার সংক্ষিপ্ত একটা পরিচিতি তাকে দিয়েছিলাম, এ পর্যন্তই।  

আমার প্রশ্নগুলো যেহেতু জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনী এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বিষয়ক, সম্ভবত সেই কারনে তিনি নিজে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলেন। সঙ্গে তাঁর ইমেইল এড্রেসটি যুক্ত করে দিলেন।  

 ৩. স্তেফ এর পরামর্শ অনুসারে নিক বার্নব্যাককে আমার প্রশ্নগুলো পাঠিয়ে দেই। জাতিসংঘের ‘পিস অপারেশনস এর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনের প্রধান নিক আমার প্রশ্নের  প্রেক্ষিতে তাদের বক্তব্য পাঠান তিন ঘন্টার মধ্যে। বিকেল ৩.২২ এ পাঠানো ইমেইলের উত্তর আসে ৭.১৭ মিনিটে ।


যে কারণে দোয়া কবুল হয় না

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


 

৪. উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই দায়িত্বশীলতা আমাকে বিস্মিত করে, আপ্লুতও করে। আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটির মূখ্য লক্ষবস্তু বাংলাদেমের সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে রয়েছেন এবং আমেরিকার সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে বৈঠককে এই রিপোর্ট  কোনোভাবে প্রভাবিত করে কিনা, রিপোর্টার হিসেবে সেটি আমাকে আগ্রহী করে। সেই আগ্রহ থেকেই বৈঠকগুলো সম্পর্কে খোঁজ খবর করা। মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও আমাকে একইভাবে বিস্মিত করেছিলেন।

৫. জাতিসংঘে যোগাযোগের যদিও একটা সূত্র ছিলো,মার্কিন সেনাবাহিনীর যোগযোগের সম্পর্কে কোনো ধারনাই ছিলো না। পেন্টাগনের পাবলিক কমিউনিকেশনে ফোন করতেই তারা একটি ইমেইল এড্রেস দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করতে বললো। সেটি হচ্ছে ডিউটি অফিসারের ইমেইল এড্রেস। বুঝতে পারি, যিনি ডিউটিতে আছেন, তিনি ঠিক করবেন, এই ইমেইলটি কার কাছে পাঠাবেন, কখন পাঠাবেন। ৫.২২ মিনিটে পাঠানো  ইমেইলটির প্রাপ্তি স্বীকার আসে ৫.৫৯ মিনিটে মিনিটে। জানানো হয় এটি সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ৬.২৬ মিনিটে আমেরিকার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লে. কর্ণেল ম্যারি রিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ইমেইল পাঠান।

৬. জাতিসংঘ কিংবা পেন্টাগন বা আমেরিকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের যে অভিজ্ঞতার কথা আমি এতোক্ষণ আমি বললাম, সেটা সম্ভবত বিশেষ কিংবা ব্যতিক্রমী কিছু না। কোনো সংবাদ মাধ্যম, কোনো রিপোর্টার তথ্য চাইলে, তাকে যতোটা সম্ভব দ্রুততায় সেই তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করাকে তারা অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখে। মিডিয়াটি কোনপন্থী, রিপোর্টার কতো বড় না ছোটো- সেগুলো তারা বিবেচনায় নেয় না। কিংবা আল জাজিরার রিপোর্ট এবং তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি জেনারেলের বৈঠক নিয়ে মানুষের আগ্রহের বিষয়টি তারা বুঝতে পেরেছিলো। ’মানুষের আগ্রহ’- এটা বুঝতে পারা এবং সেই অনুসারে কাজ করা কিন্তু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।  

পাবলিক ইন্সটিটিউশন বা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ এবং অবাধ না হলে ভুল বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে পরে, গুজবের সৃষ্টি হয়।  

৭.আল জাজিরার রিপোর্ট, জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধানের বৈঠক নিয়েযেহেতু আমার ইমেইল চালাচালি,সেই ইমেইলের বক্তব্য সম্পর্কে আপনাদের না জানালে অন্যায় হবে।

জাতিসংঘের কাছে আমার প্রশ্ন ছিলো: (১) বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধানকে ঘিরে আল জাজিরার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধানের বৈঠকের কর্মসূচীতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা (২) আল জাজিরার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাপারে জাতিসংঘের কোনো ধরনের ‘অবস্থান’ বা ‘রিজার্ভেশন’ তৈরি হয়েছে কিনা (৩) বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধানকে ঘিরে আল জাজিরার প্রতিবদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাবাহিনীর প্রশ্নে বাংলাদেশের  সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপর  কোনো প্রভাব পরবে কিনা।

নিক বার্নাক উত্তর দিয়েছেন,The meeting between Under-Secretary-General Lacroix and General Ahmed is currently scheduled to take place next Monday. Bangladesh is the largest contributor of uniformed personnel to United Nations peacekeeping operations. The deployment of such personnel is pursuant to specific requirements identified by the United Nations that are reflected in agreements with Bangladesh for each of the peacekeeping operations concerned. The United Nations has not identified in these agreements a requirement for the capability provided by the operation of electronic equipment of the nature described in the Al Jazeera reporting and such equipment has not been deployed with Bangladeshi contingents in United Nations peacekeeping operations.”

 ৮. রাত পোহালেই (নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় সোমবার) জাতিসংঘের পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জিন পিয়েরে ফ্রাঙ্কোইস রিনদ ল্যাক্রোইক্স আর বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল আজিজের সভাটি নির্ধারিত আছে। সভার পর নিশ্চয়ই এ সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে।  

news24bd.tv/আলী

;