বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

শওগাত আলী সাগর

বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

১. তিন মিনিটের মধ্যে কেউ ইমেইলের জবাব দিতে পারে! তিনি যদি হন আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা! স্তেফ তাই করলেন। ‘প্লিজ রিচ আউট টু মাই কলিগ….’ বলে স্তেফ এর ফিরতি ইমেইলটা এসেছে ৩.২০ মিনিটে। আমি তাকে ইমেইল করেছিলাম ৩.১৭ এ। এগুলো ৪ ফেব্রুয়ারির কথা। 

২. স্তেফ, মানে স্তেফান দুজারিচ । জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র তিনি। দুপুরের নিয়মিত প্রেসব্রিফিং এ বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং তার ভাইদের নিয়ে প্রচারিত আল জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকরা  তাকে প্রশ্ন করেছিলো। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন,  দুর্নীতির অভিযোগ একটি গুরুতর বিষয়। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা তদন্ত হওয়া উচিত।’ তার এই বক্তব্যের সূত্র ধরেই কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে তাকে ইমেইল করা। 


স্তেফ এর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ই যোগাযোগ হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো আলোচনা থাকলেই তাকে ইমেইল করেছি। তিনি তার উত্তর দিয়েছেন, ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি বড় কোনো সাংবাদিক নই, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মী না। মনে আছে, প্রথম ইমেইলে একবারই আমার সংক্ষিপ্ত একটা পরিচিতি তাকে দিয়েছিলাম, এ পর্যন্তই। 

আমার প্রশ্নগুলো যেহেতু জাতিসংঘের শান্তিরক্ষাবাহিনী এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বিষয়ক, সম্ভবত সেই কারনে তিনি নিজে উত্তর না দিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিলেন। সঙ্গে তাঁর ইমেইল এড্রেসটি যুক্ত করে দিলেন। 

 ৩. স্তেফ এর পরামর্শ অনুসারে নিক বার্নব্যাককে আমার প্রশ্নগুলো পাঠিয়ে দেই। জাতিসংঘের ‘পিস অপারেশনস এর স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনের প্রধান নিক আমার প্রশ্নের  প্রেক্ষিতে তাদের বক্তব্য পাঠান তিন ঘন্টার মধ্যে। বিকেল ৩.২২ এ পাঠানো ইমেইলের উত্তর আসে ৭.১৭ মিনিটে ।


যে কারণে দোয়া কবুল হয় না

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


 

৪. উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই দায়িত্বশীলতা আমাকে বিস্মিত করে, আপ্লুতও করে।আল জাজিরার ডকুমেন্টারিটির মূখ্য লক্ষবস্তু বাংলাদেমের সেনাবাহিনী প্রধান। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে রয়েছেন এবং আমেরিকার সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের সঙ্গে বৈঠককে এই রিপোর্ট  কোনোভাবে প্রভাবিত করে কিনা, রিপোর্টার হিসেবে সেটি আমাকে আগ্রহী করে। সেই আগ্রহ থেকেই বৈঠকগুলো সম্পর্কে খোঁজ খবর করা। মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও আমাকে একইভাবে বিস্মিত করেছিলেন।

৫. জাতিসংঘে যোগাযোগের যদিও একটা সূত্র ছিলো,মার্কিন সেনাবাহিনীর যোগযোগের সম্পর্কে কোনো ধারনাই ছিলো না।পেন্টাগনের পাবলিক কমিউনিকেশনে ফোন করতেই তারা একটি ইমেইল এড্রেস দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করতে বললো। সেটি হচ্ছে ডিউটি অফিসারের ইমেইল এড্রেস। বুঝতে পারি, যিনি ডিউটিতে আছেন, তিনি ঠিক করবেন, এই ইমেইলটি কার কাছে পাঠাবেন, কখন পাঠাবেন। ৫.২২ মিনিটে পাঠানো  ইমেইলটির প্রাপ্তি স্বীকার আসে ৫.৫৯ মিনিটে মিনিটে। জানানো হয় এটি সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। ৬.২৬ মিনিটে আমেরিকার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লে. কর্ণেল ম্যারি রিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ইমেইল পাঠান।

৬. জাতিসংঘ কিংবা পেন্টাগন বা আমেরিকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের যে অভিজ্ঞতার কথা আমি এতোক্ষণ আমি বললাম, সেটা সম্ভবত বিশেষ কিংবা ব্যতিক্রমী কিছু না। কোনো সংবাদ মাধ্যম, কোনো রিপোর্টার তথ্য চাইলে, তাকে যতোটা সম্ভব দ্রুততায় সেই তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করাকে তারা অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখে। মিডিয়াটি কোনপন্থী, রিপোর্টার কতো বড় না ছোটো- সেগুলো তারা বিবেচনায় নেয় না। কিংবা আল জাজিরার রিপোর্ট এবং তার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি জেনারেলের বৈঠক নিয়ে মানুষের আগ্রহের বিষয়টি তারা বুঝতে পেরেছিলো। ’মানুষের আগ্রহ’- এটা বুঝতে পারা এবং সেই অনুসারে কাজ করা কিন্তু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। 

পাবলিক ইন্সটিটিউশন বা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ এবং অবাধ না হলে ভুল বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে পরে, গুজবের সৃষ্টি হয়। 

৭.আল জাজিরার রিপোর্ট, জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধানের বৈঠক নিয়েযেহেতু আমার ইমেইল চালাচালি,সেই ইমেইলের বক্তব্য সম্পর্কে আপনাদের না জানালে অন্যায় হবে।

জাতিসংঘের কাছে আমার প্রশ্ন ছিলো: (১) বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধানকে ঘিরে আল জাজিরার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধানের বৈঠকের কর্মসূচীতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা (২) আল জাজিরার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যাপারে জাতিসংঘের কোনো ধরনের ‘অবস্থান’ বা ‘রিজার্ভেশন’ তৈরি হয়েছে কিনা (৩) বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধানকে ঘিরে আল জাজিরার প্রতিবদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাবাহিনীর প্রশ্নে বাংলাদেশের  সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপর  কোনো প্রভাব পরবে কিনা।

নিক বার্নাক উত্তর দিয়েছেন,The meeting between Under-Secretary-General Lacroix and General Ahmed is currently scheduled to take place next Monday. Bangladesh is the largest contributor of uniformed personnel to United Nations peacekeeping operations. The deployment of such personnel is pursuant to specific requirements identified by the United Nations that are reflected in agreements with Bangladesh for each of the peacekeeping operations concerned. The United Nations has not identified in these agreements a requirement for the capability provided by the operation of electronic equipment of the nature described in the Al Jazeera reporting and such equipment has not been deployed with Bangladeshi contingents in United Nations peacekeeping operations.”

 ৮. রাত পোহালেই (নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় সোমবার) জাতিসংঘের পিস অপারেশনের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জিন পিয়েরে ফ্রাঙ্কোইস রিনদ ল্যাক্রোইক্স আর বাংলাদেশের সেনা প্রধান জেনারেল আজিজের সভাটি নির্ধারিত আছে। সভার পর নিশ্চয়ই এ সম্পর্কে আরো তথ্য জানা যাবে। 

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বৃদ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী

আসিফ নজরুল

বৃদ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী

মিটুনের (আনিসুল হক) কিছু জিনিষ ভালো লাগে না। সে যথেষ্ঠ প্রতিবাদী না, উপন্যাসিক হিসেবে একটু ওভাররেটেড, নিজের পত্রিকাগুলোয় তার প্রচারণা বেশী। এগুলো হলো ঈর্ষা বা হয়তো আমার ছোটলোকী থেকে ভাবা। 

কিন্তু আসল কথা হলো আমি তাকে শ্রদ্ধা করি, সমীহ করি এবং তার প্রতিভায় মুগ্ধ হই। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে মিটুনের পড়াশোনা ও লেখার ক্ষমতা অসাধারন, মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা অপরিসীম, দেশপ্রেম নিখাদ এবং আশাবাদী থাকার ক্ষমতা অতুলনীয়। মেধায় সে জিনিয়াস পর্যায়ের।  


জামালপুরে নারীর সঙ্গে ভিডিও ফাঁস হওয়া সেই ডিসির বেতন কমল

‘পরমাণু সমঝোতার একমাত্র পথ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’

এইচ টি ইমামের জানাজা ও দাফনের সময়

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর শোক


মিটুনকে বোধহয় আমি ভালোওবাসি। করোনার সময় তার একটা ষ্ট্যাটাস পড়ে সাথে সাথে দোয়া পড়তে শুরু করেছিলাম। মিঠুন যথন তার মৃত্যু-প্রেম বা প্রস্তুতি নিয়ে লিখে, আমার সমস্ত অন্তরাত্মা প্রতিবাদ করে ওঠে। মনে হয়, এমন বাজে সংবাদ কখনো যেন পেতে না হয় আমাদের।  

তিনদশক আগে একটা অন্যায় করেছিলাম তার সাথে। পরে অনেকবার ভেবেছি ক্ষমা চাই। তারপর মনে হতো এতো অনুভূতিপ্রবণ মানুষ, নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন এজন্য কতোটা লজ্জিত আমি। এসব তার বোঝার কথা। কিন্তু এটা হয়তো বুঝতে পারেন না আমিও তাকে কতোটা ভালোবাসি এখন। বৃ্দ্ধ বয়েসের ভালোবাসা খাঁটি বেশী। শুভ জন্মদিন মিটুন।

আসিফ নজরুল, শিক্ষক, ঢাবি। 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

হারুন আল নাসিফ

রঙ, সৌন্দর্য ও অবচেতন

ফর্সা বা সাদা আর সুন্দর কখনোই এক নয়। সৌন্দর্য মূলত বর্ণনিরপেক্ষ। রঙের মধ্যে সৌন্দর্য খোঁজার কারণ কুসংস্কার ও অশিক্ষা। বিশেষ কোনো রঙকে সুন্দর ভাবা এক ধরণের বর্ণবাদিতা তো বটেই। সাধারণ শিক্ষা এই বর্ণবাদিতা অপনোদন করতে পারে না। কখনো বরং আরো পোক্ত করে।

আধুনিক শিক্ষিত মানুষের চেতনা বা মনের গহীনে তাই এই বর্ণবাদিতা বিদ্যমান থাকে বা খাকতে পারে। কারো জ্ঞাতে, কারো বা অজ্ঞাতে। সাধারণভাবে এটা ধরা পড়ে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে তা ঠিকই বেরিয়ে আসে। মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েডের ভাষায় এটা হলো সাব-কনশাস। অনেকে বাংলায় এটাকে অবচেতন বলেন। এটি যে সবসময় ব্যষ্টিক হয়, তা নয়, এটি সামষ্টিকও হতে পারে।

‘কালো, তবু সুন্দর’-এই ধরনের বাক্যে মনের গভীরে ওঁত পেতে থাকা ‘কালো সাধারণত সুন্দর হয় না‘ এই কুসংস্কার ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে আসে। এই বেরিয়ে আসাটা স্বাভাবিক। ভেতরে আছে বলেই বাইরে বের হয়। প্রমাণিত হয়, বর্ণ-কুসংস্কার আছে। যদিও অধিকাংশ লোক থাকা উচিত নয় বলে মনে করে। উচিত-অনুচিত এক, বাস্তবতা আরেক। কিন্তু এই বেরিয়ে আসাটা ভালো। ফলে আমরা অনুচিতের বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ পাই।

এই প্রসঙ্গ বা আলাপ থেকে আরো একটা জিনিস প্রমাণিত হয়, তা হলো মনে যা-ই থাক, সমাজ প্রকাশ্যে কালোকে অসুন্দর বলা সমর্থন করে না। কালোর বিপক্ষে বলাটা সমাজের বিপক্ষে যাওয়ার সামিল। তাই যারা কালোকে সুন্দর মনে করে না, তারা তা প্রকাশ্যে বলার সাহস করে না বা বলে বিরোধিতার মুখে পড়ার কিংবা বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে তাদেরকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেদের মত বা বিশ্বাসকে চেপে রাখতে হয়। 

ফ্রয়েডের ভাষায় এটা অবদমন। এই অবদমিত ‘বিষয়’ অবচেতনে লুকিয়ে থেকে বাইরে বের হওয়ার সুযোগ খোঁজে। অসাবধানতা বশত বা অবদমনের দুয়ার আলগা পেলে তা স্ববভাবতই বেরিয়ে আসে। আসবেই।


কাদের এতো প্রতিহিংসা আমাকে নিয়ে?

সৌদি আরবের উট-সংস্কৃতি ও উটের ভাস্কর্যের বিশ্ব রেকর্ড

কিউবিস্ট ভাস্কর্য: অদৃশ্য কলাকার


কুসংস্কার মন থেকে দূর না হলে তা ‘মুখ বা কলম ফস্কে’ বেরিয়ে এসে নিজেকে বা সমাজকে বিব্রত করতেই পারে। বিশেষ রঙকে অসুন্দর বা সুন্দর মনে করার সংস্কার মানুষের বা সমাজের মনের গভীরে প্রোথিত। পশ্চিমা ধর্মবিশ্বাস ও ইতিহাস এক্ষেত্রে অনেকটা উসকানি হিসেবে কাজ করে থাকে। এই কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব না হলেও একেবারে সহজ নয়, অদূর ভবিষ্যতে তো নয়ই।

ফলে আমাদের দেশে বিশেষ করে কালো-বিদ্বেষের কুৎসিত চেহারা মাঝে-মধ্যে এভাবে বেরিয়ে এসে যে আমাদের বিব্রত করবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এই বিব্রত হওয়াটা কিন্তু ইতিবাচক। বিব্রত না হতে চাওয়াটা যতো আন্তরিক ও সুদৃঢ় হবে, বর্ণ-কুসংস্কার থেকে মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ততো বাড়বে।

হারুন আল নাসিফ: কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মাসুদা ভাট্রি

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

এ বছরও পৃথিবী স্বাভাবিক হবে না, নতুন রূপে মহামারী ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে— এই ভয়ের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। কোনো দেশই খুলছে না নিজেদের, ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে নিজেদের মতো করে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, এখানেও যতটা সম্ভব জীবন-জীবিকা বাঁচানোর তাগিদ ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে লক্ষ্যমান।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখনও কেবল তরতাজা যুক্তরাষ্ট্রের নয়া সরকারের কায়কারবার আর মধ্যপ্রাচ্য। ইওরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো খবর নেই। আর দক্ষিণ এশিয়ায়ও ভারতই কেবল শিরোনামে।


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


বাংলাদেশকে নিয়ে চেষ্টা হচ্ছে প্রবল কিন্তু করোনা-রাজনীতি বা করোনা-পরিণাম কোনোটিই বাংলাদেশকে ঠিক ‌‘বাটে’ ফেলতে পারছে না। এর কারণ নিশ্চয়ই একেকজনের কাছে একেক রকম, আমি ভাবছি এই যে বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আবার পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মানুষে মানুষে যদি যোগাযোগই না থাকে তবে কীসের বেঁচে থাকা কীসের কী বিশ্বায়ন? তৃতীয় মাসে পা দিল ২০২১, কেউ কি বুঝতে পারছেন ২০২০-এর চেয়ে আজকের দিনটি ভিন্ন?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

নাজনীন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ

নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম

গতকাল সময় পাইনি তাই আজকে লিখলাম। সপ্তাহ পেরুলেই যখন নারী দিবস, যখন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে, নারীর অগ্রগতির চ্যালেঞ্জ গুলো নিয়ে চুলচেরা আলোচনা করব আমরা, ঠিক তখনই জাতীয় কোনো বড় দৈনিকে যখন পুরো একটি ক্রোড়পত্রের শিরোনাম হয় "কালো তবু সুন্দর", তখন প্রশ্ন জাগে, কোন ঢাল তলোয়ার নিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা লড়াই করছি আমরা?


কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন তুরস্কের, ভারতের ক্ষোভ

আবারও ইকো ট্রেন চলবে ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তানে

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে বিজিবির অভিযান, বিপুল গোলাবারুদ উদ্ধার

দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে কি না?


হয়তো ওই রিপোর্ট এর উদ্দেশ্য ছিল নারীর চলার পথের সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে পর্যালোচনা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যে শিরোনাম ব্যবহৃত হলো তার মধ্যেই প্রোত্থিত আছে নারীর অবমাননা। নারীর অগ্রযাত্রার সংগ্রামে মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম । তাই এক্ষেত্রে যারা অগ্রবর্তী এবং শক্তিশালী তাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীলতা আশা করি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

জসিম মল্লিক

এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা কবিতার মতো রোমান্টিক!

আমার যখন ২৮ বছর বয়স তখন আমার একটা বড় ধরণের সার্জারি হয়েছিল। সেটা ১৯৯১ সাল। সার্জারি করতে হলে যে এনেসথেসিয়া দিতে হয় বিষয়টা আমার ভাল জানা ছিল না। এনেসথেসিয়া মানে যে চেতনাহীন করা তাও জানা ছিল না। এমনকি চেতনা যে ফিরে নাও আসতে সে তথ্যও আমার জানা ছিল না। এসব বিষয় আমি অনেক পরে জেনেছি। সেটা ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। 

আমার ডাক্তার একদিন বললেন, জসিম তোমার লাম্বার ওয়ান এবং টুর মধ্যে সমস্যা আছে। ফ্লুইড জমেছে। তাই তোমার পেইন হচ্ছে। অপারেশন লাগবে। তুমি কি অপারেশন করতে চাও? 

আমি প্রফেসর রশীদ উদ্দীনকে বললাম, স্যার একশবার করতে চাই। হাজার বার করতে চাই। তিনি পাগলা কিসিমের হলেও দেশের শ্রেষ্ঠ নিউরোলোজিষ্ট তখন। যথেষ্ট গুরুগম্ভীর মানুষ হলেও তিনি হেসে বললেন,  একবার করলেই তুমি ভাল হবা। যাও হাসপাতালে ভর্তি হও।

আমি তৎকালীন পিজি হাসপাতালে ভর্তি হলাম। আমার কেবিনে অন্য একজন বয়ষ্ক রোগি ছিলেন। তার আ্ত্মীয় স্বজন আসে তাকে দেখতে। আমি তাদের সুযোগ দিতে তেমন একটা কেবিনে থাকি না। হাজিরা দিয়েই অফিসে চলে যাই। কবে অপারেশনের ডেট পাব জানি না। কারন ডাক্তার সাব গেছেন ইরান টেনিস দলের সাথে। 

তিনি তখন টেনিস ফেডারেশনের সভাপতি। ফিরতে একমাস। চেষ্টা তদবির করে যেমন হাসপাতালে কেবিন পেয়েছিলাম তেমনি একদিন একই পদ্ধতিতে অপারেশনের ডেট পেলাম। বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীও তদবির করেছিলেন। তিনি তখন পিজি হাসাপাতালে প্রিজন সেলে ছিলেন। আমি একদিন দেখা করে এসেছি। তিনি জেনেছেন যে আমি অপারেশনের ডেটের জন্য অপেক্ষা করছি। আমি বিচিত্রার মানুষ জেনেই তিনি আমাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

৩০ জুন সকাল দশটা। আজকে অপারেশন। সবাই হাসপাতালে উপস্থিত। সবাই বলতে আমার স্ত্রী আর শাশুড়ি। অপরেশন থিয়েটার সম্ভবতঃ আট তলায়। এখন আর মনে নেই। বহুবছর আগের কথা। আমি ছিলাম তিল তলায় কেবিনে। আমি হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারেৱ দিকে হেঁটে যাচ্ছি। মনের মধ্যে গভীর আনন্দ। 


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


আহা কি দারুণ ব্যপার। অপারেশনের পরই আমি ভাল হয়ে যাব। আমার আর ব্যাকপেইন থাকবে না। এই আনন্দে আমি পারিপার্শ্ব ভুলে গেলাম। একবার যদি পিছনে তাকাতাম তাহলে হয়ত দেখতাম ওড়নার আঁচলে মুখ চাপা দিয়ে আছে আমার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। আমার চলে যাওয়া দেখছে। হয়ত ভাবছে আর কি ফিরবে! 

আমি একদল ডাক্তার আর নার্সদের সামনে দিব্যি বেডে শুয়ে পরলাম। তারপর আমার নাকে মুখে এনেথেসিয়ার পাইপ লাগানো হলো। মাত্র তিন কি চার সেকেন্ডের ব্যাপার। কিন্তু ওই সময়টুকুই ছিল আমার কাছে দারুণ সুখকর। গভীর এক ঘুমের রাজ্যে আমি তলিয়ে যাচ্ছি, যাচ্ছি, যাচ্ছি। এনেসথেসিয়া ব্যাপারটা যে এতো রোমান্টিক কে জানত! কবিতার মতো।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল যখন এনেসথেসিয়া থেকে ফিরে আসতে শুরু করলাম তখন। রোমান্টিকতা আর থাকল না। চেতনা ফিরে আসতেই গলা কাটা গরুর মতো তীব্র এক যন্ত্রণায় ঝটফট করতে লাগলাম। এমনকি জেসমিনকেও চিনতে পারছিলাম না। আজকাল ব্যাপারটা অনেক আরমাদায়ক হয়ে গেছে। কানাডায় একবার আমি ফুল, দুইবার হাফ(লোকাল) এনেসথেসিয়া করেছি। তেমন কিছুই টের পাইনি।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর