পানির নীচে পৃথিবীর অষ্টম মহাদেশের খোঁজে

অনলাইন ডেস্ক

পানির নীচে পৃথিবীর অষ্টম মহাদেশের খোঁজে

জিল্যান্ডিয়া! দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে যার অবস্থান! আর একেই ভূতাত্ত্বিকগণ দাবি করছেন পৃথিবীর অষ্টম মহাদেশ হিসেবে। 

অস্ট্রেলিয়া পূর্বপার্শ্বে সন্ধান পাওয়া পানির নীচে লুকিয়ে থাকা এই বিস্তৃত এলাকায় এই মহাদেশের পানির ওপরে থাকা একমাত্র অংশ নিউজিল্যান্ড। আর আকারে এটি প্রায় ভারতীয় উপমহাদেশের সমান। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এই ‘মহাদেশ’টির নাম দিয়েছেন জিল্যান্ডিয়া।

জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা বলেন, জিল্যান্ডিয়ার আয়তন ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার, যা পার্শ্ববর্তী অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান। কিন্তু জিল্যান্ডিয়ার প্রায় ৯৪ শতাংশই তলিয়ে আছে সাগরের পানিতে।

আর মহাদেশের স্বীকৃতি পেতে যা যা দরকার, জিল্যান্ডিয়া তার সব কটিই পূরণ করেছে বলেও দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা। এখন তাঁরা চেষ্টা করছেন নব আবিষ্কৃত তলিয়ে যাওয়া ভূখণ্ডের জন্য মহাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের। স্বীকৃতি পেলে জিল্যান্ডিয়া হবে পৃথিবীর অষ্টম এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।

বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, জিল্যান্ডিয়া দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই এই মহাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ইন্ডিয়া দুই দেশ মিলিয়ে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নিউজিল্যান্ড আসলে এই মহাদেশেরই জেগে থাকা অংশ। বলা যেতে পারে, এই মহাদেশের পর্বতচূড়া।

২০১৭ সালে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ১১ জন ভূতাত্ত্বিকের দীর্ঘ গবেষণার ফলাফল এই যে, জিল্যান্ডিয়াকে একটি মহাদেশ বিবেচনা করার জন্য প্রয়োজনীয় চারটি বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। অন্যসকল বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এর ভূখন্ডের উচ্চতা মহাসাগরীয় ভূত্বকের তুলনায় উচ্চে অবস্থিত, তাছাড়া এর বৈচিত্র্যময় ভূখন্ডে আগ্নেয়, রূপান্তরিত ও পাললিক শিলার উপস্থিতি একে মহাদেশ হিসেবে বিবেচনায় শক্ত অবস্থানে রেখেছে। জিল্যান্ডিয়ার ভূত্বক, পার্শ্ববর্তী সমুদ্রতলের চেয়ে পুরু, কম ঘন এবং এর এলাকা পর্যাপ্ত যাতে একে মাইক্রো মহাদেশ থেকে আলাদা করেছে।

তবে আপাতত জিল্যান্ডিয়াকে বৃহৎ, সমন্বিত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, যার অর্থ এর মহাদেশ অবস্থা দাবী করতে পারে না। কিন্তু স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং সমুদ্র তলের মাধ্যাকর্ষণ মানচিত্র ব্যবহার করে সম্প্রতি জিল্যান্ডিয়ার একটি সমন্বিত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এই ভিত্তিতে ভূতাত্ত্বিকগণ জিল্যান্ডিয়াকে মহাদেশ হিসেবে দাবি করছেন।


বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইলেন সেনাপ্রধান

পাষণ্ড মামার ধর্ষণচেষ্টায় তিন বছরের শিশু রক্তাক্ত

ডিজে নেহার খদ্দেরের তালিকায় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা!


জাতিসংঘের সমুদ্রসীমা আইন অনুযায়ী, সমুদ্র পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তাদের সামরিক সীমার পাশাপাশি ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০ কিলোমিটার) পর্যন্ত তার অর্থনৈতিক সীমানা নির্ধারণ করতে পারে। এই হিসেবে মহাদেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেলে নিউজিল্যান্ডের সামুদ্রিক সীমানা প্রায় ছয়গুণ বেড়ে যাবে এবং এই নতুন মহাদেশের খনিজ সম্পদ থেকে শুরু করে এই বিশাল এলাকার বিপুল সম্পদের অধিকার পাবে নিউজিল্যান্ড।

সূত্রঃ বিবিসি

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

উড়তে পারে যে মাছ

হারুন আল নাসিফ

উড়তে পারে যে মাছ

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন উড়তে পারে এমন মাছও আছে। মাছটির নাম ‘উড়ুক্কু মাছ’। ইংরেজিতে বলে Flyingfish। সাগরের পানি থেকে লাফ দিয়ে পাখির মতই দ্রুতগতিতে অনেক দূর উড়তে পারে এই মাছ। আর অদ্ভুত বিষয় এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব আমাদের চিরচেনা উড়তে পারা পাখিদেরও অনেক অনেক আগে থেকে। এদের বক্ষ পাখনা (Pectoral fin) এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রোণী পাখনাও (Pelvic fin) প্রসারিত হয়ে ডানার মতন গঠন তৈরি করে।

ডলফিন, স্কুইড ও বড় মাছের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য অতি দ্রুত সাঁতার কাটতে গিয়ে এ মাছ পানির একেবারে উপরিভাগে চলে আসে এবং পাখনা মেলে বাতাসে উড়াল দেয়। উড়াল দেয় বললে আসলে ভুল হবে। প্রকৃত ওড়া বলতে যেটা বোঝায় এটা ঠিক সেরকম ওড়া নয়। একে বলে গ্লাইডিং। এরা মূলত পানি থেকে লাফ দিয়ে তাদের পাখনার সাহায্যে বাতাসে ভেসে চলে।

পানির নিচে গড়পড়তা উড়–ক্কু মাছের বেগ হয় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের কাছাঁকাছি। সুগঠিত পাখনা বিশিষ্ট এসব মাছের কোনো কোনোটি জলের উপরিভাগ ৮-১০ মিটারের বেশি ওপর দিয়ে শূনে ভেসে চলে অনায়াসে ২০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তখন এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি বা ৪৫ মাইলেরও বেশি হয়।

এ কারণে অনেক সময় এই মাছ আচমকা সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকের ওপর আছড়ে পড়ে। জলের শত্রু থেকে বাঁচতে গিয়ে বাতাসে উড়াল দিয়ে এদের কখনো-কখনো শিকারি পাখির কবলেও পড়তে হয়।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


১০ থেকে ৩০ সেমি অব্দি লম্বা এই উড়ন্ত মাছটির মোট চারটি পাখনা আছে। এ পাখনার মধ্যে দুটি বড় বক্ষপাখনা এবং পেছনে দুটি ছোট পাখনা। পাখনার ভেতরে হাওয়া ভরা থাকায় ওজনেও হালকা এই বক্ষপাখনাগুলো প্রসারিত করেই এরা বাতাসে ভেসে থাকে। লেজও তুলনামূলকভাবে অনেক লম্বা যা এরা পানি থেকে ওপরে উঠতে ব্যবহার করে। 

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাগরে উড়ুক্কু মাছেরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। পাখি ও ডাইনোসরদের আগে থেকেই এ মাছের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে। সম্প্রতি চীনের জাদুঘরে থাকা উড়ুক্কু মাছের ফসিল বা জীবাশ্ম গবেষণা করে গবেষকেরা বলছেন প্রায় ২৩ থেকে ২৪ কোটি বছর আগের মধ্য ট্রায়াসিক যুগে ‘পোটানিক্সাস কিংজিনসাস’ নামের উড়ুক্কু মাছের প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে, যা জুরাসিক যুগের ডাইনোসরদের চেয়েও ৫কোটি বছর আগেকার। 

মাছটির আদি নিবাস ভারত মহাসাগরে হলেও উষ্ণমন্ডলের সব সাগরেই এই মাছ দেখা যায়। খুজে পাওয়া প্রায় ৭১টি প্রজাতির এ মাছের অধিকাংশই সামুদ্রিক এবং সাধারণত বড় ঝাঁক বেঁধে চলে।


 
রঙ-বেরঙের আলোর প্রতি উড়ুক্কু মাছের রয়েছে মারাত্মক দুর্বলতা। এই আলোর নেশাকে কাজে লাগায় মাছ শিকারিরা। নজরকাড়া নানা রকম আলোর ফাঁদে সুকৌশলে ছড়ানো জালের মধ্যে আটকে ফেলে এদের। তখন সাঁতার হোক কিংবা ওড়া, সব জারিজুরি খতম হয়ে মানুষের খাদ্যে পরিণত হয়।

উড়ুক্কু মাছ খেতে সুস্বাদু। বাণিজ্যিকভাবে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোস ও ভারতে খাওয়ার জন্য এ মাছ প্রচুর ধরা হয়। ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোসের জাতীয় মাছ এটি। বাংলাদেশে ৩টি প্রজাতি পাওয়া যায়। আপনি খেতে চাইলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আমাদের দেশের সমুদ্র তীরবর্তী অনেক খাবারের দোকানে খেতে পারবেন ফ্লাইংফিশ।

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অটোরিকশার মাথার ওপর পুরো বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

অটোরিকশার মাথার ওপর পুরো বাড়ি

একটি সাধারণ অটোরিকশা। সাধারণত ভারতীয় উপমহাদেশে এধরণের বাহন দেখা যায়। কিন্তু, একজন প্রকৌশলীর দক্ষতায় হলুদ রঙ্গের ওই অটোরিকশাটি সাজিয়েছেন ভিন্নভাবে। রীতিমত একটি বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন গাড়ির ওপরে। আর এই  খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এই বিশেষ অটোরিকশার ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন ভারতের মাহিন্দ্র গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনন্দ মাহিন্দ্র। ওই ছবিতে দেখা গেছে একটি ছোট হলুদ রঙের অটোরিকশার ওপরে তৈরি হয়েছে বাড়িসদৃশ অবকাঠামো।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


আনন্দ মাহিন্দ্র টুইটার পোস্টে লিখেছেন, এই বিশেষ অটোরিকশা নকশা করার মধ্য দিয়ে ছোট জায়গাকেও কীভাবে কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তা প্রমাণিত হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিশেষ অটোরিকশাটির নকশা করেছেন চেন্নাইভিত্তিক প্রকৌশলী অরুণ প্রভু এনজি। অটোরিকশার ওপর তৈরি এই ভ্রাম্যমাণ বাসস্থানের নাম তিনি দিয়েছেন ‘সলো ওয়ান’। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ভারতীয় রুপি।

এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে আনন্দ মাহিন্দ্র লিখেছেন, ‘অরুণ এ কাজের মধ্য দিয়ে কম জায়গাকেও কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তার এক নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রহস্যে ঘেরা ‘কঙ্কাল’ হ্রদ

অনলাইন ডেস্ক

রহস্যে ঘেরা ‘কঙ্কাল’ হ্রদ

ভারতের উত্তরখণ্ডের হিমালয়ে পর্বতমালার শৃঙ্গে রূপকুণ্ড হ্রদ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা কথা। তবে কঙ্কাল হ্রদ নামেই বেশি পরিচিত রহস্যে ঘেরা এই হ্রদ।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬,৫০০ ফুট উঁচুতে উত্তরাখণ্ডের ত্রিসুলে অবস্থিত রূপকুণ্ড হ্রদ। দীর্ঘদিন বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকার পর বরফ গলতেই দেখা মেলে কঙ্কালের। যেন মানুষের হাড়গোড়ের একটি লেক। আহামরি সৌন্দর্য না থাকলেও কঙ্কালের এই রহস্যের কারণে বিজ্ঞানী, গবেষক ও নৃতাত্ত্বিকবিদদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই রূপকুণ্ড হ্রদ।

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ এক বনরক্ষক প্রথমবারের মতো এই বরফের চাদরে মোড়া হ্রদে মানুষের হাড় দেখতে পান। বছরের আট মাস হ্রদটি বরফে ঢাকা থাকলেও বরফ গলতে গলতে হাড়গোড় ও কঙ্কালের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় ৮৭০ বছর আগে তুষারঝড়ে ভারতীয় কোন এক রাজা, রানিসহ তাদের সতীর্থদের সলিল সমাধি হয় এখানে। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, অবশিষ্ট কঙ্কালগুলো ভারতীয় যোদ্ধাদের, যারা ১৮৪১ সালে তিব্বত দখলের চেষ্টা করেছিলো। তাদেরকে প্রতিহত করা হলে পিছু হটতে গিয়ে এই হ্রদে তাদের মৃত্যু হয়। আবার অনেকেই বলেন, মহামারিতে মারা যাওয়াদের দেহাবশেষ এখানে সমাহিত করা হতো।

আবার গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত বিশ্বাস মতে, নন্দাদেবীর তৈরি করা ঝড়ের কবলে পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়। তবে প্রথম দিকে কঙ্কালগুলো পর্যালোচনা করে জানানো হয়, লেকে যাদের মৃত্যু হয় তাদের সবার দৈহিক উচ্চতা স্বাভাবিক মানুষের উচ্চতার চেয়ে বেশি। তাদের অধিকাংশই মধ্য বয়সী। যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। তবে কিছু নারীর কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া মৃতদের সবাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন বলেও ঐ গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় এক দল মানুষের মৃত্যু হয়েছে এখানে।


ফাহাদ মুস্তফা যেন দাঁড়িসহ দীপিকা!

পরবর্তী নির্বাচনে আবারও অংশ নিবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে হতাশ যুক্তরাষ্ট্র

খাশোগি হত্যাকান্ড: রহস্যজনকভাবে বদলে গেল প্রতিবেদনে অভিযুক্তের নাম


সবশেষ টানা ৫ বছর ভারত, যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানভিত্তিক ১৬টি প্রতিষ্ঠান ও ২৮ জন গবেষক তাদের গবেষণায় বলেছে এ সব ধারণা সত্য নাও হতে পারে। ১৫ নারীসহ ৩৮টি দেহাবশেষের জেনেটিক পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই মরদেহের সবগুলোই ১২০০ বছর আগের। তারা বলছেন আলাদা আলাদা সময়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। রূপকুণ্ডের এই কঙ্কাল হ্রদ আজো এক রহস্য হলেও নির্দিষ্ট একটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ইয়াডাওইন হার্নে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় আরো দেখা যায়, এই হ্রদে মেলা কঙ্কালের মধ্যে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসরত মানুষের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। এমনকি ইউরোপ ও গ্রিক আইল্যান্ডের মানুষের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।
কারো কারো আবার দাবি, বহু বছর আগে স্থানীয় গাইডদের সাহায্যে তীর্থযাত্রায় এসেছিল একটি দল। আচমকা মারাত্মক শিলাবৃষ্টির কারণে মৃত্যু হয় গোটা দলটির। প্রতিটি খুলির মাঝে ফাটল, এটা ছিল কঙ্কালগুলির বৈশিষ্ট্য। ছোট কিন্তু এই গভীর আঘাত থেকেই মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

তবে যে কারণেই হোক আজও এই হ্রদের রহস্য ভেদ করতে পারেনি কোন বিজ্ঞানী বা গবেষকেরা। এই পর্বত শৃঙ্গে এতো কঙ্কাল কী করে এলো তা আজও এক রহস্যই থেকে গিয়েছে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নরওয়ের গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে কিং কাঁকড়া

অনলাইন ডেস্ক

নরওয়ের গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে কিং কাঁকড়া

কিং ক্রাব বা বড় কাঁকড়া নরওয়ের মাুনষের জন্য আর্শিবাদ হয়েছে। এই কাঁকড়া অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার সারা দুনিয়া জুড়েই। নরওয়ের উত্তরের ব্যুগোয়নেসের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষ খুব আর্থিক সংকটে ছিল। এমনকি নব্বইয়ের দশকে ওখানকার একটি গ্রাম বিক্রি করে দিতে চেয়েছেলেন। কিন্তু এই কাঁকড়া ওখানকার সব দৃশ্যপট পাল্টে দিল। 

নরওয়ের উত্তরে আর্থিক সংকটে থাকা এলাকায় এসব কিং ক্র্যাব সুখের বার্তা নিয়ে এসেছে। যেমন ব্যুগোয়নেসের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত জেলেদের গ্রামে।

জার্মানির ডিয়র্ক হাইজভাগার নামে একজন ট্যুর গাইড প্রায় ১২ বছর ধরে নরওয়ের উত্তরে বাস করছেন। তিনি আর্কটিক সাগর পছন্দ করেন। রাশিয়া সীমান্তের কাছে দর্শনীয় স্থান দেখাতে পর্যটকদের নিয়ে যান তিনি।  

কিং ক্র্যাব বা বড় কাঁকড়া দর্শনীয় বস্তুগুলির মধ্যে একটি। ট্যুর শুরুর একদিন আগে তিনি সাগরের ১৮০ মিটার গভীরে কাঁকড়া ধরার ফাঁদ পাতেন।

পরের দিন সেই ফাঁদে অনেক কাঁকড়া ধরা পড়ে। সারা বিশ্বেই এটি এক মজাদার খাবার। কিন্তু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। খরগোশের মতোই এদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।

১৯৮৯ সালে গ্রামবাসীরা তাদের গ্রাম বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কারণ আয়ের উৎস না থাকায় তরুণরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন।


শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা


এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সেখানে এখন থাকার হোটেল আর ছোট একটি রেস্তোরাঁও আছে।

কাঁকড়াগুলির উপস্থিতি জেলেদের জন্য সুখবর হলেও নরওয়ের পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীদের জন্য সেটা চিন্তার বিষয়। কারণ কাঁকড়াগুলি প্রায় সবকিছু খেয়ে ফেলে, যা আশেপাশের ইকোসিস্টেমের জন্য হুমকি। ইদানিং ব্যুগোয়নেস থেকে আরও দক্ষিণেও এদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে।

নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেরিন রিসার্চের ইয়ান সুন্ডেট বলেন, ‘‘আমরা গবেষণা করে দেখেছি যে, কাঁকড়াগুলি ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতেও মানিয়ে নিতে পারে। তার মানে তারা ভূমধ্যসাগরেও থাকতে পারবে! যেখানেই এই কাঁকড়া যায় সেখানেই সাগরের প্রাণিজগতকে ধ্বংস করে। ঝিনুক, তারামাছের মতো কিছু প্রজাতি একেবারে হারিয়ে গেছে।’’

কিং ক্র্যাব, যা মনস্টার ক্র্যাব নামেও পরিচিত, তাদের প্রাকৃতিক কোনো শত্রু নেই। এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নরওয়ের মৎস্যসম্পদ কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিয়র্ক হাইজভাগার তার অতিথিদের অল্প সময়ের মধ্যে যে খাবার দিতে পারছেন সেটা সাধারণত ইউরোপ, এশিয়ার অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায়। বছরে প্রায় দুই হাজার টন কিং ক্র্যাব রপ্তানি করে নরওয়ে।

পর্যটক কিংবা স্থানীয় মানুষ, সবাই কাঁকড়া পছন্দ করেন। কর্তৃপক্ষকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে, কারণ ঐ অঞ্চলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা কাঁকড়ার সংখ্যা ধরে রাখতে চায়। পাশাপাশি সর্বগ্রাসী কাঁকড়া যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

যদিও এই কাঁকড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিন্তু, মানুষের খাবারে এর ভেল্যু অনেক। এই কাঁকড়ার স্বাদ অতুলনীয়। 

সূত্র: ডয়েচে ভেলে 

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সৃজনশীলদের সাফল্যের সূত্র

অনলাইন ডেস্ক

সৃজনশীলদের সাফল্যের সূত্র

সৃজনশীল কাজে সফলতা সবার কাছে ধরা দেয় না। এজন্য প্রয়োজন হয় বেশ কিছু গুণের। সৃজনশীলরা যখন এসব গুণ নিয়ে চর্চা করে তখন সাফল্য অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নিয়ে আমাদের মধ্যে নানা ধরনের ভুল ধারণা আছে। কেউ ভাবেন, সৃজনশীলেরা বুঝি একদম শূন্য থেকে কোনো কিছু তৈরি করেন। আবার কেউ মনে করেন, সৃজনশীল হতে গেলে বুঝি সব জেনে-বুঝে অনেক জ্ঞান অর্জন করে তবেই শুরু করতে হয়।

লেখক, কবি, কপিরাইটার ও ওয়েব ডিজাইনার অস্টিন ক্লেয়নের লেখা বিখ্যাত বই—স্টিল লাইক অ্যান আর্টিস্ট পড়লে বিষয়গুলো আপনার কাছে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। বইটিতে লেখক বেশ সৃজনশীলভাবে সৃজনশীলতার কথা বলেছেন। তাঁর পরামর্শ বা ভাবনাগুলো পড়ে আপনার মনে হতে পারে—ইশ, আগে যদি জানতাম!

পৃথিবীতে কোনো কিছুই একদম শূন্য থেকে আসে না। প্রতিটি নতুন ধারণা বা আইডিয়াই আগের এক বা একাধিক আইডিয়ার সংমিশ্রণ। শিল্পী তাঁর চারপাশের পরিবেশ ও সমাজ থেকে ধারণা নেন। তবে তিনি যে চারপাশের সবকিছু নিয়ে নেন, ব্যাপারটা তেমন নয়। তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, সেরাটা বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নিজের মতো করে উপস্থাপন করেন। 

তাই যে কান বিষয় খুব ভাল করে পড়া এবং সব সময় সঙ্গে একটি নোটবুক রাখা। যেখানে টুকে রাখা যায় মাথায় আসা মাত্র। একজন শিল্পী অন্যদের চেয়ে বেশ সৃজনশীলতা নিয়ে কাজ করেন। তিনি যা করেন, তা কিন্তু প্লেজারিজম বা অন্যের কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া নয়।


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রোনালদোর গোলেও হোঁচট খেল জুভেন্টাস


পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে আমরা সবাই অভিনেতা। যতক্ষণ না আপনি আপনার ক্ষেত্রে সফল হচ্ছেন, ততক্ষণ অভিনয় করা যেতেই পারে। ধরা যাক, আপনি একজন লেখক হতে চান। তাহলে বসে পড়ুন এক কাপ চা আর কাগজ-কলম নিয়ে! অনুশীলনের ক্ষেত্রে অন্যের কাজ কপি করা একটি ভালো উপায়। 

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি যদি একজন গ্রাফিক ডিজাইনার হতে চান, তবে আপনার কাজ হবে বড় বড় ডিজাইনারদের কাজ দেখে ঠিক সে রকমটা আবার তৈরি করা। আশা করা যায়, এমনটা করতে করতেই আপনি একসময় নিজের স্টাইল বা ধরন তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

আপনি যে জিনিসটি চান, সেটিই তৈরি করুন। এমন ছবি আঁকুন, যা আপনি নিজে দেখতে ভালোবাসেন। এমন বই লিখুন, যা আপনি পড়তে চান। এমন পণ্য তৈরি করুন, যা আপনি ব্যবহার করতে চান। মোট কথা, আপনি যে জিনিসটি তৈরি অবস্থায় দেখতে চান, সেটি নিয়ে কাজ করুন।

অস্টিন ক্লেয়নের পরামর্শ—এমন কিছু করো, যা তোমাকে সত্যিকারের কিছু তৈরি করার স্বাদ দেয়। হাতে-কলমে আইডিয়া নিয়ে কাজ করে তারপর সেই আইডিয়াকে কম্পিউটারে তুলে ফেলা যেতে পারে। লেখক নিজের অফিসকে দুই ভাগে ভাগ করেন: অ্যানালগ ও ডিজিটাল। অ্যানালগ অংশে কাজ হয় শুধুই কাগজ-কলমে। আর ডিজিটাল অংশে তিনি কাজ করেন কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ে।

লেখক মনে করেন, আপনি একসঙ্গে একাধিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে পারেন। এর ফলে যখন একটা প্রকল্পে আটকে যাবেন, কাজ এগোতে চাইবে না, তখন চাইলে অন্য একটি প্রকল্পে মন দিতে পারেন। আপনার একই সঙ্গে দু-তিনটা শখ বা প্যাশনের জায়গা থাকতেই পারে; একটাই মাত্র প্যাশন থাকতে হবে এমন চিন্তায় আটকে যাওয়া ঠিক হবে না।

শিল্প নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। কোনো ক্ষেত্রে পা রাখা মাত্রই আপনি খ্যাতিমান হয়ে যাবেন না। কিন্তু এই খ্যাতি না থাকারও বেশ কিছু সুবিধা আছে। সেগুলোকে কাজে লাগান। আপনি কারও আতশি কাচের নিচে নেই। ফলে কে কী ভাবল, তা নিয়ে আপনাকে খুব বেশি মাথা ঘামাতে হচ্ছে না। নিয়মিত ভালো কাজ করে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এই ‘শেয়ার’ করা তো বেশ সহজ হয়ে গেছে।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে দূরত্ব এখন আর কোনো বাধা নয়। ঘর ছেড়ে বের হোন, ভ্রমণ করুন। ভ্রমণের ফলে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে মেশা যায়। নতুন পরিস্থিতি আমাদের মস্তিষ্ককে স্বস্তি (কমফোর্ট জোন) থেকে বের করে আনে। ফলে আমরা নতুন করে পৃথিবীকে দেখতে শিখি।

সৃজনশীল বন্ধু তৈরি করুন। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসরণ করুন। দেখুন তাঁরা কী নিয়ে কাজ করছেন; তাঁদের কাজ থেকে শেখার চেষ্টা করুন, বোঝার চেষ্টা করুন তাঁরা কী নিয়ে কথা বলছেন। প্রয়োজন প্রচুর কৌতূহল, ভালো স্বাস্থ্য ও উদারতা। আপনার কাজ সম্পর্কিত ইতিবাচক আলোচনাগুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারেন। যখন ভালো লাগবে না, তখন এসব দেখলে আপনি কাজের অনুপ্রেরণা পাবেন।

সৃজনশীল ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ ব্লক বা সৃজনশীল কিছু তৈরি না করতে পারার সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় হতে পারে সীমিত আকারে কাজটি চালিয়ে যাওয়া।

মোটকথা আপনি কোন বিষয়ে যদি গভীর মনযোগ দেন এবং যত্নসহকারে কাজটি তেকে কিছু সৃষ্টিশীল করতে চান তাহলে অবশ্যই পারবেন। একটু সময় লাগবে এই যা। তবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারলে সাফল্য নিশ্চিত। পৃথিবীতে যারাই সাফল্য পেয়েছে, দেখা গেছে তারা সবাই খুবই ধৈর্যশীল। সাফল্য না আসা পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়া।  

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর