যে কাজে আগের ছোট-বড় গোনাহ ক্ষমা করেন আল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক

যে কাজে আগের ছোট-বড় গোনাহ ক্ষমা করেন আল্লাহ

আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে কত উদার সে কথা হয়তোবা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য সুযোগ রেখে দিয়েছেন। সকল অপরাধের ক্ষমার জন্য শুধু ভাল মনে আল্লাহ’র চাইতে হবে। তাহলেই আল্লাহ দিতে প্রস্তুত। 

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা কুফরি করেছে (হে রাসুল!) আপনি তাদের বলে দিন, যদি তারা এর থেকে বিরত হয় তাহলে অতিতে যা হয়েছে সব ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যদি তা পুনরায় করে তবে পূর্ববর্তীদের (ব্যাপারে আল্লাহর) রীতি তো গত হয়েছে।’ (সূরা আনফাল : আয়াত ৩৮)

হজরত আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন- বান্দা যখন উত্তমরূপে ইসলাম গ্রহণ করেন, আল্লাহ তাআলা তার আগের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। এরপর শুরু হয় প্রতিদান; একটি সৎকাজের বিনিময় দশ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত। আর একটি মন্দ কাজের বিনিময়ে ঠিক তার সমপরিমাণ মন্দ প্রতিফল দেয়া হয় (এর বেশি নয়)। অবশ্য আল্লাহ যদি ক্ষমা করে দেন তবে সেটা ভিন্ন কথা।’ (বুখারি)

কুরআনুল কারিমের উল্লেখিত আয়াত এবং হাদিসের বর্ণনা থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, কোন কাজে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার আগের সব গোনাহ শর্তহীনভাবে ক্ষমা করে দেন। কুরআন-সুন্নাহর এ ঘোষণা অমুসলিমদের জন্য; যখন তারা নিজ নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের ঘটনায় এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি নিজেই তা বর্ণনা করেন - আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ করলাম; হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনার ডান হাত বাড়িয়ে দেন। আমি বায়আত গ্রহণ করতে চাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, (তখন) আমি আমার হাত টেনে নিলাম।

(রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আমর, কী ব্যাপার? (অর্থাৎ তোমার হাত সরিয়ে নিলে কেন?)
তিনি বলেন, আমি বললাম- তার (বাইয়াত গ্রহণের) আগে আমার একটি শর্ত আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- কী শর্ত? আমি বললাম, আল্লাহ যেন আমার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন।

আরও পড়ুন:


লালমনিরহাটে নৌকার নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ

ইউএস বাংলার ফ্লাইটে ৭ কেজি স্বর্ণ (ভিডিও)

‘এভাবেই আগলে রাখিস’, নিষাদের জন্মদিনে শাওন

হেফাজত নেতাকে পেছন থেকে ছুরি মেরে পালাল দুর্বৃত্তরা

তিনি বললেন, আমর! তুমি কি জান না যে-
ইসলাম (গ্রহণ করলে) আগের সব অন্যায়/গোনাহ মিটিয়ে দেয়?
হিজরত (করলে) আগের সব গোনাহসমূহ মিটিয়ে দেয়? এবং
হজ আগের সব গোনাহ মিটিয়ে দেয়?’ (মুসলিম)

কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, ইসলাম গ্রহণ করলে, কুফরি থেকে বিরত থাকলে, নাস্তিকতা ছেড়ে দিলে কিংবা শিরকসহ অন্যান্য সব ছোট-বড় গোনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেবেন। ইমাম নববি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন- হজরত আমর ইবনুল আস কর্তৃক বর্ণিত হাদিস থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, ইসলাম গ্রহণ, হিজরত করা এবং হজের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা ফুটে উঠেছে। আর এর প্রত্যেকটি কাজেই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার জীবনের ছোট-বড় সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন।’ (শরহে মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা সব মানুষকে ইসলামের উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের তাওফিক দান করুন। কুফরি থেকে ফিরে থাকার তাওফিক দান করুন। শিরক করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর আমল করে গোনাহ মুক্ত জীবন লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজ এবং জামাআত নিয়ে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক

নামাজ এবং জামাআত নিয়ে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশনা

আল্লাহর মুমিন বান্দাগণ যদি জামাআতে নামাজ আদায় করেন তবে সে নামাজ কবুল হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাআতে নামাজ পড়ার জোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাই জামাআতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব ও অত্যধিক।

নামাজ শব্দের আরবি প্রতি শব্দ হচ্ছে সালাত। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দোয়া। আলাহ্ তাআলা বলেন, ‘আর তুমি তাদের জন্য দো’আ করো। নিশ্চয়ই তোমার দোআ তাদের জন্য শান্তি স্বরূপ।’ (সূরা তাওবা : আয়াত ১০৩)

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَلْیُجِبْ، فَإِنْ كَانَ صَائِماً فَلْیُصَلِّ অর্থাৎ ‘তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেয়া হলে সে যেন উক্ত দাওয়াতে উপস্থিত হয়। অতঃপর সে যদি রোজাদার হয়ে থাকে তা হলে সে যেন মেজবানের জন্য বরকত, কল্যাণ ও মাগফিরাতের ‘দোআ’ করে।’ (মুসলিম)

শরীয়তের পরিভাষায় সালাত বলতে এমন এক ইবাদাতকে বুঝানো হয় যা হবে একমাত্র আলাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাঁর সাওয়াবের আশায় এবং যাতে রয়েছে বিশেষ কিছু কথা ও কাজ যার শুরু তাকবির দিয়ে এবং শেষ হবে সালাম দিয়ে। যা আমাদের নিকট নামায নামেই অধিক পরিচিত।

উক্ত নামাজকে সালাত এ জন্যই বলা হয় কারণ, তাতে উভয় প্রকারেরই দোয়া রয়েছে। তার একটি হচ্ছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো ফায়েদা হাসিল কিংবা কোন ক্ষতি তথা বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া অথবা যে কোনো প্রয়োজন পূরণের দোয়া। যাকে সরাসরি প্রার্থনা তথা চাওয়া-পাওয়ার দোয়াই বলা হয়। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ইবাদাতের দোয়া তথা ক্বিয়াম, কিরাত, রুকু’ ও সিজদার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট সাওয়াবের আশা করা। যার মূল লক্ষ্যও আল্লাহ্ তাআলার মাগফিরাতই হয়ে থাকে।

জামাআতে নামাজ

‘জামাআত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কোন জিনিসের আধিক্য। তেমনিভাবে কিছু সংখ্যক মানুষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কোথাও একত্রিত হওয়াকেও ‘জামাআত’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। অর্থাৎ জামাআতে নামাজ হচ্ছে আল্লাহর নিকট বান্দার সম্মিলিত দোয়া কবুলের আবেদন।

আরও পড়ুন:


পানির প্রবাহ বেড়েছে ঢাকা উত্তর সিটির ১৪টি খালে

বেশিরভাগ সুপারশপেই নেই গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা

এক যুগেও শেষ হয়নি বিডিআর হত্যার দুই মামলার বিচার

ফেনীতে ফুড কারখানায় ভয়াবহ আগুন


শরীয়তের পরিভাষায় ‘জামাআত’ বলতে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক (ইমাম ও মুক্তাদি) ব্যক্তির মসজিদ অথবা সেরূপ কোনো জায়গায় একই সময়ে একত্রিত হওয়াকে বুঝানো হয়। এবং সবার সম্মিলিত নামাজ তথা দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

জামাআতে নামাজ আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি হাদিস হচ্ছে এই যে, জনৈক অন্ধ সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, আমাকে মসজিদে নিয়ে আসার মতো কোনো লোক নেই। তাই আমাকে ঘরে নামায পড়তে অনুমতি দিবেন কি? তিনি তাকে বললেন, তুমি কি আযান শুনতে পাও? সে বললো: জি হাঁ! তিনি বললেন, তাহলে তোমাকে মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দিয়ে মসজিদে এসে নামাজ পড়তে হবে।’ (মুসলিম)

মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দেয়া মানে যদি শুধু নামায পড়াই হতো, চাই তা যেখানেই পড়া হোক না কেন তা হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উক্ত সাহাবিকে তার ঘরে নামায পড়ার অনুমতি চাওয়ার পর আর তাকে আজান শুনার প্রশ্ন ও মুয়াজ্জিনের ডাকে সাড়া দেয়ার আদেশই করতেন না। কারণ, সে তো ঘরে নামায পড়ার অনুমতিই চাচ্ছিলো। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জামাআতে সহিত নামাজ আদায় করে তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে সূরা নিয়মিত পাঠ করলে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না

অনলাইন ডেস্ক

যে সূরা নিয়মিত পাঠ করলে কখনই দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না

অন্তিম রোগশয্যায় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) - এর শিক্ষাপ্রদ কথোপকথন: ইবনে - কাসীর ইবনে আসাকীরের বরাত দিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) যখন অন্তিম রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন আমীরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান (রাঃ) তাঁকে দেখতে যান। তখন তাঁদের মধ্যে শিক্ষাপ্রদ যে কথোপকথন হয় তা নিম্নরুপ...

-হযরত ওসমানঃ ما تشتكي আপনার অসুখটা কি?
-হযরত ইবনে মাসউদঃ ذنوبي আমার পাপসমূহই আমার অসুখ৷
-ওসমান গণীঃ ما تشتهي আপনার বাসনা কি?
-ইবনে মাসউদঃ رحمة ربي আমার পালনকর্তার রহমত কামনা করি৷
-ওসমান গণীঃ আমি আপনার জন্যে কোন চিকিৎসক ডাকব কি?
-ইবনে মাসউদঃ الطبيب امرضني চিকিৎসকই আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন৷
-ওসমান গনীঃ আমি আপনার জন্যে সরকারী বায়তুল মাল থেকে কোন উপটৌকন পাঠিয়ে দেব কি?
-ইবনে মাসউদঃ لاحاجة لي فيها এর কোন প্রয়োজন নেই৷
-ওসমান গণীঃ উপটৌকন গ্রহণ করুন৷ তা আপনার পর আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে৷
-ইবনে মাসউদঃ আপনি চিন্তা করছেন যে, আমার কন্যারা দারিদ্র ও উপবাসে পতিত হবে৷ কিন্তু আমি এরুপ চিন্তা করি না৷ কারণ, আমি কন্যাদেরকে জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে, তারা যেন প্রতিরাত্রে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করে৷

আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ)— কে বলতে শুনেছি,
من قرأ سورةالواقعة كل ليلة لم تصبه فاقة ابدا”
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠ করবে, সে কখনও উপবাস করবে না৷

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াক্বিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সূরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। (বাইহাকি: শুআবুল ঈমান-২৪৯৮)

আরও পড়ুন:


বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও অনুরোধ

নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

কাদের মির্জার অশালীন ফোনালাপ ফাঁস (অডিওসহ)

ধর্ষণের শিকার নারী-শিশুকে পুনর্বাসনসহ ক্ষতিপূরণ দিতে রুল


সূরা আর রাহমান, সূরা হাদিদ ও সূরা ওয়াকিয়া’র তেলাওয়াতকারীকে কেয়ামতের দিন জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিবাসী হিসেবে ডাকা হবে। অন্য এক হাদিসে আছে, সূরা ওয়াকিয়াহ হলো ধনাঢ্যতার সূরা, সুতরাং তোমরা নিজেরা তা পড় এবং তোমাদের সন্তানদেরকেও এ সূরার শিক্ষা দাও। অন্য এক বর্ণনায় আছে: তোমাদের নারীদেরকে এ সূরার শিক্ষা দাও। আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) কে এ সূরা তেলাওয়াত করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল।

তাছাড়া অভাবের সময় এ সূরার আমলের কথাটা তো হাদিস দ্বারাই প্রমানিত। এমনকি বর্ণিত আছে যে হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) কে যখন তার সন্তানদের জন্য একটি দিনারও রেখে না যাওয়ার কারণে তিরস্কার করা হলো তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন, তাদের জন্য আমি সূরা ওয়াকিয়াহ রেখে গেলাম। (ফয়জুল কাদির-৪/৪১)

সুবহানাল্লাহ! মহান রাব্বুল ইজ্জতের পবিত্র কালামের বরকত কত পাওয়ারফুল আপনি-আমি তা অনুধাবন করতে পারি কি? তাই আসুন সকলে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠের এই অতি মূল্যবান আমলটি প্রতিদিন আদায় করার চেষ্টা করি৷ আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তাওফিক দিন। আমীন

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা মূলক পাঠের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা মূলক পাঠের ফজিলত

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআন পাকে ত্রিশ আয়াতের একটি সূরা আছে,

যা এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছে, ফলে তাকে মাফ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সূরাটি “তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক”

(আহমদ, তিরমিযী,আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাযাহ)

ব্যাখ্যা: (ঐ সূরা সুপারিশ করবে বা করেছে) বাক্যের মধ্যে দুইটা সম্ভাবনা আছে।

প্রথম যে, ঐ বাক্য অতীত কালের খবর দিচ্ছে যে, এক ব্যক্তি সূরা মুলক পড়তেন এবং সূরা মুলকের বহু ইজ্জত-সম্মান করতেন। যখন ঐ ব্যক্তি মারা গেল, তখন ঐ সূরা আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে ঐ ব্যক্তির মুক্তির জন্য।

অত:পর আল্লাহ তায়ালা ঐ সূরার সুপারিশ কবুল করেন।

দ্বিতীয় যে, ঐ বাক্য ভবিষ্যৎকালের খবর দিচ্ছে, যে ব্যক্তি ঐ সূরা পাঠ করবে। কিয়ামতের দিন ঐ সূরা আল্লাহর দরবারে ঐ ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে। এবং আল্লাহ তার সুপারিশকে কবুল করবেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) একবার নবী কারীম (সা.) এর কোন এক সাহাবী একটি কবরের উপর তাবু খাটালেন। তিনি জানতেন না যে, এখানে একটি কবর আছে। হঠাৎ তিনি দেখেন তার মধ্যে একটি লোক “তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক পড়তেছে।


ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছেছে টাইগাররা

স্পেনে ঢুকতে অভিবাসীর অভিনব পন্থা

গোয়েন্দাদের ব্যর্থতাতেই ক্যাপিটলে হামলা

মিয়ানমারের ১০৮৬ নাগরিককে ফেরত পাঠালো মালয়েশিয়া


এমনকি তা শেষ করে ফেলেছে, অত:পর তিনি নবী কারীম (সা.) এর নিকট আসলেন এবং তাকে এই সংবাদ জানালেন, নবী কারীম (সা.) বললেন, এই সূরাটি হচ্ছে আযাব বাধা দানকারী এবং মুক্তি দানকারী। যা পাঠককে আল্লাহ আযাব হতে মুক্তি দিয়ে থাকে।

(তিরমিযী ইহা নিজেই বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, হাদীসটি গরীব)

ব্যাখ্যা:

যে সাহাবী কবরের উপর তাবু খাটালেন, তিনি মৃত ব্যক্তির সূরা মুলক পড়া শুনলেন জাগ্রত অবস্থায় অথবা ঘুমন্ত অবস্থায়।

জাগ্রত অবস্থায় শুনাটা অগ্রাধিকার যোগ্য। সূরা মুলক আযাব হতে বাধা দানকারী এর উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি এই সূরা পাঠ করবে, ঐ ব্যক্তিকে ঐ সূরা মুক্তি দিবে কবরের আযাব থেকে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা আল- ওয়াক্বিয়া’র গুরুত্ব ও পাঠের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা আল- ওয়াক্বিয়া’র গুরুত্ব ও পাঠের ফজিলত

সূরা আল- ওয়াক্বিয়াহ মহাগ্রন্থ আল কোরআনের ৫৬তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৯৬, রুকু আছে ৩টি। সূরা আল-ওয়াকিয়াহ মক্কায় অবতীর্ণ হয়, পারার ক্রম হচ্ছে ৩০। সূরা আল- ওয়াক্বিয়া’র নামের অর্থ, নিশ্চিত ঘটনা।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা ওয়াক্বিয়াহ  পাঠ করবে, সে কখনো ক্ষুধায় কষ্ট ভোগ করবে না।’

এই সূরা পাঠ করলে দরিদ্রতা গ্রাস করতে পারেনা। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াক্বিয়াহ তেলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) তার মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সূরা তেলাওয়াত করার আদেশ করতেন। (বাইহাকি:শুআবুল ঈমান-২৪৯৮)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতে সূরা ওয়াক্বিয়াহ তিলাওয়াত করবে তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) তাঁর মেয়েদেরকে প্রত্যেক রাতে এ সূরা তিলাওয়াত করার আদেশ করতেন। (বাইহাকি: শুআবুল ঈমান-২৪৯৮)

আরও পড়ুন:


নাসির-তামিমার ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে লেখা নিয়ে যা বললেন শবনম ফারিয়া

নীলক্ষেত মোড় অবরোধ

সৈয়দ আবুল মকসুদের জানাজা ও দাফন বুধবার

জীবনে একবারই না বলেছিলেন তিনি


হাদিসে নারীদের এ সূরা শিক্ষা দেয়ার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। মা আয়েশা (রাঃ)-কে এ সূরা পাঠের জন্য নির্দেশ করা হয়েছিলো। সূরা ওয়াক্বিয়াহ জুমাবার পড়া যেতে পারে। এছাড়া রাতে পড়ার জন্যে হাদিসে বলা আছে।

সুবহানাল্লাহ! মহান রাব্বুল ইজ্জতের পবিত্র কালামের বরকত কত পাওয়ারফুল আপনি-আমি তা অনুধাবন করতে পারি কি?
তাই আসুন সকলে সূরা ওয়াক্কিয়া পাঠের এই অতি মূল্যবান আমলটি প্রতিদিন আদায় করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তাওফিক দিন। আমীন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

পরোপকারের গুরুত্ব ও ফজিলত

পরোপকার মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজে বাধা দেবে।’ (সুরা-৩ আলে-ইমরান, আয়াত: ১১০)। 

এ বিষয়ে বিশ্বনবী (সা.) বলেন, ‘তোমরা জগদ্বাসীর প্রতি সদয় হও, তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি সদয় হবেন।’ (তিরমিজি: ১৮৪৭)।

ইসলাম সহানুভূতির ধর্ম। পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা ইসলামের অন্যতম বিষয়। রাসুলে কারিম (সা.) বলেছেন, সমগ্র সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। তাই পরোপকারের চেতনায় কোনো শ্রেণিভেদ নেই। বড়-ছোট, ধনী-গরিব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, স্বজাতি-বিজাতি, মুসলিম-অমুসলিম এসব ব্যবধানের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামের শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিন মিলেমিশে থাকে। তার মধ্যে ভালো কিছু নেই, যে মিলেমিশে থাকতে পারে না। যে ব্যক্তি মানুষের বেশি উপকার করে, সে-ই শ্রেষ্ঠ মানুষ।’ (আল-মুজামুল আওসাত: ৫৭৮৭)।

পরোপকারী হতে হলে অনেক ধনসম্পদের মালিক হতে হবে এমন নয়। প্রত্যেক মানুষই তার নিজ নিজ অবস্থানে থেকে পরোপকারী হতে পারে। পরোপকার নির্দিষ্ট সীমারেখায় আবদ্ধ নয়; ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রে এবং শারীরিক, আর্থিক ও মানসিক কর্মকাণ্ডে এর পরিধি পরিব্যাপ্ত ও বিস্তৃত।

পরোপকার মানুষকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব মনীষী স্মরণীয়–বরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের প্রত্যেকেই ছিলেন পরহিতৈষী। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথম ওহিপ্রাপ্তির পর ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে খাদিজা (রা.)-কে বললেন, ‘আমাকে কম্বল দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমি আমার জীবনের আশঙ্কা করছি।’ তখন খাদিজা (রা.) নবীজি (সা.)-কে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ কখনোই আপনার অমঙ্গল করবেন না। কারণ, আপনি আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করেন, গরিব-দুঃখীর জন্য কাজ করেন, অসহায়-এতিমের ভার বহন করেন, তাদের কল্যাণের জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।’ (বুখারি: ৪৫৭)।

পরোপকারে নিজেরও কল্যাণ সাধিত হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘অবশ্যই দান-সদকা মানুষের হায়াত বৃদ্ধি করে। অপমৃত্যু থেকে বাঁচায় এবং অহমিকা দূর করে।’ (আল-মুজামুল কাবীর: ১৩৫০৮)।

অনাথ-অসহায় ও অনাহারির কষ্টে সমব্যথী হতে আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে রোজা ফরজ করেছেন। নিঃস্ব ও অভাবীর অভাব মোচনে জাকাত ফরজ ও সাদাকুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। দান-সদকা ও অন্যের জন্য খরচে উদ্বুদ্ধ করে অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। আল–কোরআনে রয়েছে, ‘কে আছে যে আল্লাহকে কর্জে হাসানা উত্তম ঋণ দেবে, তাহলে তিনি তার জন্য একে বর্ধিত করে দেবেন এবং তার জন্য সম্মানজনক প্রতিদানও রয়েছে।’ (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১১)।


বিমান বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যায় মামলা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

সোহানা সাবার প্রাণপণে চাওয়া‍!


কোরআন কারিমে রয়েছে, ‘আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও তাদের সম্পদ খরিদ করে নিয়েছেন, তাদের জন্য জান্নাত আছে, এর বিনিময়ে।’ (সুরা-৯ তাওবা, আয়াত: ১১১)। ‘নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, যে ক্ষেত্রে তারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান করে তাদের প্রতিদান বর্ধিত করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক প্রতিদান।’ (সুরা-৫৭ হাদিদ, আয়াত: ১৮)।

প্রিয় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সমস্যাগুলোর একটি সমাধান করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (মুসলিম: ২৬৯৯)।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর