গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে - কোন অভিযোগই উড়িয়ে না দিয়ে তদন্ত করা

শওগাত আলী সাগর

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে - কোন অভিযোগই উড়িয়ে না দিয়ে তদন্ত করা

১. অভিযোগটা কানাডার সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল জনাথন ভান্সের বিরুদ্ধে। সেনাবাহিনী পুলিশ সেটির তদন্তও করছে। তবু সংসদীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে-ফেডারেল লিবারেল সরকার অভিযেগের ব্যাপারে ঠিকঠাকমতো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে শুনানী করবে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রত্যেকেই এই ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।

২. সাবেক সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০১২ সালে তিনি পদমর্যাদায় তার অনেক নিচের কোনো কোনো নারী সহকর্মীকে এমন মন্তব্য করেছেন, যেটি যৌন হয়রানির পর্যায়ে পরে। গত পাঁচ বছর জনাথন ভান্স কানাডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ছিলেন, এই সময়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে যৌন হয়রানি বন্ধে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। প্রতিরক্ষা বাহিনীর পদ থেকে অবসরে যাবার পরই গ্লোবাল নিউজ তার বিরুদ্ধে এই ধরনের একটি গুরুতর অভিযোগ সম্বলিত খবর প্রকাশ করে।

গ্লোবাল নিউজ অবশ্য বলেছে, জেনারেল ভান্সের বিরুদ্ধে সহকর্মী কোনো নারীর সাথে জোরপূর্বক কিংবা সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কোনো অভিযোগ নেই (পদমর্যাদায় নিচের কোনো নারীর সাথে সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক নিয়েও আপত্তি আছে, কেননা সেখানে প্রচ্ছন্ন প্রভাব কাজ করে)। অভিযোগ হচ্ছে তিনি কোনো কোনো নারীকে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যেটি যৌন হয়রানির পর্যায়ে পরে। জেনারেল ভান্স বলেছেন, তিনি কাউকে যৌন হয়রানি করেছেন, এমন কথা তার মনে পরছে না। ঠাট্টা করে হয়তো কিছু বলে থাকতে পারেন, আর সেটির জন্য তিনি ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত আছেন।

আরও পড়ুন:


সৌদি আরবে আইনি সংস্কার ও বর্তমান শরীয়াহ আইন

জিয়াউর রহমান এবং আত্মস্বীকৃত ৪ খুনির ‘মুক্তিযোদ্ধা খেতাব’ বাতিলের সিদ্ধান্ত

সম্মানবোধের শিক্ষাটা আসে পরিবার থেকে: সামিয়া রহমান

শ্রমিক নেয়াসহ যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হল মালদ্বীপের সাথে


৩. প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সেনাবাহিনীর প্রভাব থেকে মুক্ত স্বাধীন একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। যেই কমিটি অভিযোগ খতিয়ে থাকবে। সেনা বাহিনী পুলিশের নিজস্ব তদন্তের বাইরে এটি ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ। আর সরকার, সেনাবাহিনীর তদন্ত ঠিকমতো হচ্ছে কী না  সেটি দেখতে চায় সংসদীয় কমিটি।

 ৪. গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে- কোনো অভিযোগকে উড়িয়ে না দিয়ে, ঠিক কি ঘটেছে তা খুঁজে বের করা। সেটি কে করলেন, কোন পদ মর্যাদাল লোক করলেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ না। সরকার, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ঠিক মতো তাদের দায়িত্ব পালন করছে কিনা সেটি দেখার মতো সক্ষমতা সংসদ সদস্যদের, সংসদীয় কমিটির থাকতে হয়।সেটি সামরিক  কিংবা বেসামরিক প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রী কিংবা রাজনীতিক, যেই হোক না কেন।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল আইন বাতিলে লাভ কি?

আসিফ নজরুল

ডিজিটাল আইন বাতিলে লাভ কি?

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন আমিও বাতিল চাই। তবে আমি মনে করি এতে খুব একটা লাভ হবে না। যাকে দমন করার তীব্র ইচ্ছে হবে তাকে সরকার অন্য আইন দিয়ে দমন করবে, না হয় তাকে স্রেফ গুম করে ফেলা হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল হলে দমন করাটা একটু কঠিন হয়ে পড়বে, বাক স্বাধীনতা অল্প কিছুটা বাড়বে, ভয়ের কালো মেঘ সামান্য ফিঁকে হয়ে যাবে -এগুলোই যা লাভ। তবে যদি আমরা যদি মনে করি এর ফলে দমন, নিপীড়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, বাক স্বাধীনতা উল্লেখজনকভাবে বাড়বে -সেটা ভুল হবে। কারন নিপীড়ন করার সুযোগ অন্য  আইনেও আছে।

একজন ভয়ংকর মানুষের হাত থেকে একটা অস্র নিয়ে নিলে সে অন্য অস্র ব্যবহার করবে। কোন অস্র না থাকলে গলা টিপে কাউকে মেরে ফেলবে। বিনা ভোটের সরকার হচ্ছে ভয়ংকর সরকার। কারন সে ক্ষমতার আসে ও থাকে অত্যাচার, নির্যাতন ও দূর্নীতির উপর ভর করে।  এসব কাজে ডিজিটাল আইনের মতো সহায়ক আইন না থাকলে সে অন্য আইন ব্যবহার করবে, বা আইন ছাড়াই কাজ চালাবে।

প্রকৃত নির্বাচিত সরকার গঠনের আন্দোলন ছাড়া তাই আমাদের বিকল্প নেই। এমন নির্বাচিত সরকারও অত্যাচারী হবে, তবে বিনা ভোটের সরকারের মতো নয়। জাষ্ট আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারের সাথে ২০১৮ সালেল সরকারের তুলনা করলে বিষয়টি বোঝা যাবে।

আরও পড়ুন:


আবারও স্বর্ণের দরপতন, ৯ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দাম

রণবীরের সঙ্গে ক্যাটরিনার খোলামেলা ছবি বিশ্বাস হয়নি সালমানের

রানার গ্রুপে চাকরির সুযোগ

‘ভয়ঙ্কর একটি শক্তি’ ভিন্নমতের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে: ফখরুল


প্রকৃত নির্বাচনের পরের ধাপে (বা সাথে সাথে) আমাদেরকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে (সংসদীয় কমিটি, উচ্চ আদালত, স্থানীয় প্রশাসন) শক্তিশালী ও স্বাধীন করার আন্দোলন করতে হবে।

ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যক্ট বাতিলের দাবীর সাথে সাথে অবিলম্বে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবী তোলা উচিত বলে আমি মনে করি। না হলে এই আইন বাতিলের সুফল খুব একটা পাওয়া যাবে না।

এই  বিভাগের সব লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।

আসিফ নজরুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক (ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নয়, লেখালেখি করি দেশের জন্য

শরিফুল হাসান

কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে নয়, লেখালেখি করি দেশের জন্য

সিদ্ধান্ত নিয়েছি লেখালেখি প্রতিবাদ সব বন্ধ করে দেব। আর সবার মতো চুপ থাকব। ফুল-লতাপাতা নিয়ে লিখব। খাওয়ার চেক ইন দেব, বেড়ানোর। কী দরকার লেখালেখি করে ক্ষমতাশালীদের রোষনলে পড়ার? কী দরকার এতো মানুষকে এতো ব্যাখ্যা দেওয়ার?

১৯ বছর ধরে সাংবাদিকতা এবং লেখালেখি করছি। সবসময় ক্ষমতাসীনদের গালিগালাজ-হুমকি-মামলা এমনকি মাইরও খেতে হয়েছে। তারপরেও স্বপ্ন দেখে গিয়েছি দেশটা একদিন ঠিক হবে। নিশ্চয়ই একদিন ঠিক হবে। আমি এখন আশা হারাচ্ছি। বলতে দ্বিধা নেই ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ভেবেছিলাম এইবার বুঝি দেশটা ঠিক হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর ভেবেছিলাম সব জঞ্জাল দূর হবে। কিন্তু আশাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
 
গত ১২ বছরে দেখছি অন্য এক বাংলাদেশ। একসময়ে যাদের মনে হতো বিপ্লবী এখন দেখি তারাই ক্ষমতার স্বাদে বা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে অন্যায়কে ন্যায় বলে। চুপ করে থাকে। উল্টো অন্যায়ের বৈধতা দেয়ার জন্য নানা কথা বলে। ভীষণ লজ্জা লাগে। ভীষণ অচেনা মনে হয় এদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেতার কথা ভুলবো না। জহরুল হক হলে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পরোক্ষভাবে হুমকি দিলো, বললো তারেক রহমান নাকি আমাকে টাকা দিয়েছে কোটা সংস্কার নিয়ে সাংবাদিকতা করার জন্য। ভীষণ কষ্ট পেলাম। এর কয়দিন পর দেখি তারেক রহমানের সঙ্গে আমার ফেসবুক আলাপের ভুয়া স্ক্রিনশট। ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। না তারপরেও থেমে যাইনি। মনে হয়েছিল, দেশের জন্য লড়াই করি।
 
আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন কিন্তু আমি ভুলিনি মোবাশ্বার হাসান সিজারের কথা। তাকে মুক্ত করার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানা জায়গা থেকে গালি খেয়েছি। এর মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়েছে আরেকদল পঙ্গপাল। এরা কথায় কথায় বলবে, ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কেন লিখি না? আরেকদল এসে বলবে, আওয়ামী লীগের দালাল। যাচ্ছে তাই ভাষায় গালিগালাজ করবে। এতোসব হ্যাপা নেয়ার দরকার কী? এর চেয়ে ভালো লেখালেখি বন্ধ করে দেই।
 
শুধু আপনাদের বলি, আপনারা যারা আওয়ামী লীগের লোক বলে গালি দেন আচ্ছা আওয়ামী লীগের লোকজন যখন যাচ্ছেতাই ভাষায় গালিগালাজ করে তখন কোথায় থাকেন আপনারা? যখন সাংবাদিক শফিক রেহমানের বাড়িতে হামলা হয়েছে শুনে অফিসের ফোন পেয়ে সেই অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেদের হাতে বেদম পিটুনি খাই কোথায় থাকেন আপনারা? যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রিয় বন্ধুরা সতর্ক করে দিয়ে বলে, এইসব লেখালেখি বন্ধ করেন তখন কোথায় থাকেন আপনারা?
না একটা কথা সত্য আমি লিখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমি লেখি একটা সুন্দর বাংলাদেশের জন্য। আপনারা সরকারবিরোধী যারা ভাবেন আমি সরকার পতনের জন্য লেখালেখি করবো, সারাক্ষণ আপনাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে গালিজালাজ করবো আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি কোন দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য লেখালেখি করি না। করবোও না।

আবার আপনারা ক্ষমতাসীন দলের লোকজন যারা ভাবেন আমি আপনাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে লেখালেখি করবো, আমি এমনভাবে লিখবো যাতে আপনাদের কেউ গালি না দেয়, তারাও আমাকে ক্ষমা করবেন। কাউকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা আমার কাজ নয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো কাউকে ক্ষমতায় না নেওয়ার জন্যই যদি আমি লিখি, আবার কারও ক্ষমতা সুসংসহত করতেই যদি না লিখি তাহলে আমি লিখি কেন? আমি আসলে লিখি এই দেশের জন্য। মানুষের জন্য। আমার কোন লেখায় যদি তারুণ্যের সমস্যার সমাধান হয়, আমার কোন লেখায় যদি মানুষের উপকার হয় এই আশায় লিখি। আমি সৎভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। তাই লিখি।

আরও পড়ুন:


সৌদির কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ২৪ ঘন্টায় ৩ বার ড্রোন হামলা ইয়েমেনের

চাকরি দেবে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস

ইসরাইলি জাহাজে হামলার দাবি নাকচ ইরানের

উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে বেড়েছে সিমেন্টেরও দাম


আরও শুনবেন? আমি লিখি একটা সুন্দর বাংলাদেশের জন্য। আমি চাই এমন একটা দেশ যেখানে দুর্নীতি-লুটপাট থাকবে না। থাকবে না অপশাসন। কোন মানুষ ক্রসফায়ার-গুমে মারা যাবে না। কোন অপশাসন থাকবে না। আমি চাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। আমি চাই আমার চার বছরের ছেলেটা একটা সুন্দর বাংলাদেশ পাবে।

আমি লিখি এই কারণে যে এই বাংলাদেশ ছাড়া আমাদের আর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আজকাল মনে হয় এই বাংলাদেশ গড়ার লড়াইটা করতে পারছি না। তাই ভাবছি এতো সবার বিরাগভাজন হওয়ার চেয়ে লেখালেখি বন্ধ করে দেই। কারণ এই বাংলাদেশ বোধহয় চায় না আমরা লিখি। ছবি আঁকি। কার্টুন আঁকি। কাজেই আপনারা থাকেন আপনাদের ক্ষমতা নিয়ে। আমরা বরং লেখালেখি বন্ধ করে দেই। চুপ থাকি।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও কিছু কথা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও কিছু কথা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

আমাদের মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভন্ন সময়ের বক্তব্য, কথা এবং জীবনযাপন নিয়ে গবেষকরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে যাচ্ছেন। গবেষকরা বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয় আশয় নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন ইতিবাচক তথ্য উপাত্ত আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন। 

গবেষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পেয়ে আমরা বাঙ্গালীরা আমাদের মহাকাব্যিক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে জেনে আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করছি। একটা সময় ছিল বিরুদ্ধবাদীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নেতিবাচক ও বিকৃত ইতিহাস আমাদের সামনে উপস্থাপন করে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল। 

এই সময়টা ছিল ১৯৭৫এর পরবর্তী সময় থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। বিরুদ্ধবাদীরা ভেবেছিল বন্দুকের নলের সামনে দেশের জনগণকে জিম্মি করে রেখে, তারা যা ইচ্ছে তা করতে পারবে। তখন বিরুদ্ধবাদীরা বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়ার উপর এমন সব অলিখিত বিধি নিষেধ আরোপ করে, যা দেখে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির লোকজন ভয়াবহ আতংকের মাঝে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। 

কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা এ কথা বুঝেনি মেঘরাশি সূর্যের কিরণকে তার ছায়া দিয়ে ঢেকে রাখতে যতই চেষ্টা করুক না কেন, তাতে সূর্যের আলোকরাশি নিভে যায় না। মেঘ সরে গেলেই সূর্যের অয়ন রেখা পৃথিবীকে তার আলো দ্বারা আলোকিত করে তুলে। 

ঠিক তেমনি করে বিরুদ্ধবাদী দক্ষিণপন্থী আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তির লোকজনও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মজীবনে যে অবদান নিজের জীবনবাজি রেখে এদেশের মানুষের জন্য রেখে গেছেন, তা তারা মুছে ফেলতে পারেনি। 

মেঘরাশি যতই সূর্যের আলোকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুক না কেন, তাতে কিন্তু সূর্যের আলো বিলোপ কিংবা মিথ্যে হয়ে যায় না। ঠিক সেই ভাবেই বিরুদ্ধবাদীদের জঘন্য মিথ্যাচার আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে খাটো করতে পারেনি। 

এদেশের মাটিতেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে হয়েছে। বিচারে দোষীদের সাজা হয়েছে। পলাতক আসামি ছাড়া অনেকের সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল কিংবা যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নেড়েছিল, তারা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে এবং তাদের সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। 

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং তাদের সহযোগীরা ভুলে গিয়েছিল পাপ বাপকেও ছাড়ে না। পাপ যে বাপকে ছাড়ে না এ কথা তারাই ভুলে যায়, যারা সারা জীবন পাপের মধ্যে বসবাস করে থাকে।

আমরা যদি আমাদের মহাকাব্যিক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় আশয় নিয়ে তাত্ত্বিক বিচার বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাবো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু বলেছেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এই যে মুক্তির সংগ্রামের কথা বঙ্গবন্ধু বলেছেন, তাতে কোন মুক্তির কথা রয়েছে তা আমরা একটু চিন্তা ভাবনা করলেই বুঝে নিতে পারবো। এই মুক্তির সংগ্রাম হচ্ছে সেই সব মানুষের মুক্তি সংগ্রাম, যারা ক্রমাগত ভাবে ১৯৪৭ এর পর থেকে পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ভাবে শোষন ও পীড়নের শিকার  হয়ে আসছে। এই মুক্তির সংগ্রাম কথাটা দিয়ে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের ভৌগলিক মুক্তির কথাই শুধু বুঝান নাই, এই মুক্তি সংগ্রাম দিয়ে এদেশের দরিদ্র মেহনতি মানুষের এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক মুক্তির কথাই বঙ্গবন্ধু বুঝিয়েছেন। 

যার পরবর্তীতে আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাকশাল গঠন করেছেন। যদিও বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এদেশীয় কিছু সংখ্যক দালাল, দক্ষিণপন্থী প্রতিবিপ্লবীরা এবং তাদরে সঙ্গে থাকা অতিবিপ্লবীরা এক হয়ে বঙ্গবন্ধুর বাকশালের বিরোধীতা করে আসছিল। 

অতিবিপ্লবীরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বলতো দুই কুকুরের লড়াই। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দালালদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিচার বিশ্লেষণ করতো। অথচ এই অতিবিপ্লবীরা মুখে মুখে সাধারণ মানুষের অর্থাৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুক্তির কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ড কখনো সাধারন মানুষের পক্ষ শক্তির পক্ষে ছিল না। 

তাদের কথাবার্তা আর প্রতিক্রীয়াশীল দক্ষিণপন্থীদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড এক রকমই  ছিল। এই অতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারা শ্রেণী শত্রু খতমের নামে বিভিন্ন জায়গায় অনেক দেশপ্রেমিক নেতাদের হত্যা করেছে। 

এমন অভিযোগও আছে অতিবিপ্লবীরা কল-কারখানায় এবং পার্টের গুদামে আগুন দিয়েছে তাদের বিপ্লবের অভিপ্রায়ে। অনেকেই বলে থাকেন তাদের বিশ্বাস ছিল জনগণ দ্বারা মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। বন্দুকের নলের মাধ্যমেই মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। এই শ্রেণির লোকরা অর্থাৎ অতিবিপ্লবীরা জনগণই ক্ষমতার উৎস তা বিশ্বাস করতো না। তারা মনে করতো বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। 

এই রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মেধাবী তরুণ প্রাণ মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে। তারা নিজেরা যেমন মরেছে। তেমনি করে অন্যকেও মেরেছে। আবার নিজেরা নিজেরা কাটাকাটি মারামারি করে প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। 

অতিবিপ্লবীরা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি তাদের ভুল রাজনীতির জন্য। যে কোনো কাজই করতে হয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে। নিয়মের বাইরে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়। যা আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী জাসদের রাজনীতিতে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছেন এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন এই দেশের মানুষের জীবন যাপন সহজ করতে হলে এবং এদেশের মানুষের দারিদ্রতা দূর করতে হলে প্রথমই যে কাজটি করতে হবে, তাহলো আমাদের দেশমাতৃকাকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। 

বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বুঝেছেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের দেশকে শোষনের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো চাইবে না এদেশের মানুষেরা সুখে শান্তিতে থাকুক। তারা চাইবে আমার এই দেশ থেকে কি ভাবে মূল্যবান সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে নেয়া যায় এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে সম্পদশালী করা যায়। বঙ্গবন্ধু দেখেছেন এদেশের মানুষ বিভিন্ন সময় জনগন দ্বারা নির্বাচিত হয়েও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বা যেতে পারেনি। 

১৯৫৪ ইংরেজিতে বাঙ্গালী জয় লাভ করেছে। কিন্তু কি পেয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ সাধারন নির্বাচনে জয়লাভ করেও ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে বাঙ্গালীদেরকে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছেন পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো এদেশের মানুষকে ক্ষমতার স্বাদ দেবেনা। তাই তাদের কাছে ন্যায্য কিছু আশা করে পাওয়া যাবে না। তারা এদেশের মানুষকে মানুষ বলেই গন্য করে না। 

আমরা দেখেছি পশ্চিম পাকিস্তানিরা একের পর এক ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে করে গেছে। তারা অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানিরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী আমাদের মহাকাব্যিক মুক্তি সংগ্রামের ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার জন্য মিথ্যা ভাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করেছিল। যাতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য বাঙ্গালী নেতাদেরকে হত্যা করা যায়। কিন্তু জনতার আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানিরা ভেসে যায়। 

পশ্চিম পাকিস্তানিরা মিথ্যা এবং তাদের মনগড়া ভাবে সাজানো ষড়যন্ত্র মূলক মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। যে মামলাটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়ে থাকে। আমরা এমন এক ভাগ্যবান জাতি যে, আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো একজন সাহসী এবং নির্লোভী নেতা পেয়েছিলাম। যিনি এদেশের মানুষকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু কোনোদিন ভাবতে পারেননি বাঙ্গালী তাকে হত্যা করতে পারে। কিন্তু বিরুদ্ধবাদী দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রীয়াশীলরা তাদের একাত্তরের পরাজয়ের কথা ভুলে যেতে পারেনি। বিরুদ্ধবাদী আমাদের মুক্তি সংগ্রামের বিপক্ষ শক্তির লোকজন তাদের একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবার জন্য অস্থির হয়ে থাকে। এই বিরুদ্ধবাদীরা তাদের একাত্তরের প্রতিশোধ নেবার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। 

বলা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরাও জড়িত ছিল। এছাড়া পর্দার অন্তরালে থেকে অনেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে কলকাঠি নেড়ে জড়িত থেকেছেন। 


আমি সত্যের পক্ষে থাকব, সত্যেও কথা বলব: এমপি একরাম

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষা; সাহসী উদ্যোগ বৈশাখী টিভির

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ: হানিফ

যে কারণে বুড়ো সাজলেন রনবীর


আজ দেশের জনগণ পর্দার অন্তরালে থেকে যারা কলকাঠি নেড়ে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি তুলছেন। আজ জনগণের মনে প্রশ্ন জেগেছে, আর প্রশ্নটা হল যারা পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে কাজ করেছে, তাদেরকে কেন বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে না।

আমরা যদি সামগ্রীক ভাবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন বিচার বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখবো আমাদের মহান নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগত ভাবেই ছিলেন গরিব মানুষের বন্ধু এবং তিনি ছিলেন ভয়হীন চীত্তের অধিকারী। 

আমি জানি আমার মতো একজন সাধারণ মানের লেখকের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের বিচার বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তবে এইটুকু বুঝতে পারি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের মধ্যেই আমাদের স্বাধীনতার বীজ রোপণ করা ছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে দেশের মানুষ জাগ্রত হয়েছিল এই জন্য যে, মানুষ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে তাদের অন্তরের কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পেয়েছে।

তাই বলছিলাম, আমাদেরকে ধরে নিতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে বাঙ্গালীর মুক্তির ইতিহাস লিখতে গেলে যে বিষয়টার ওপর জোর দিতে হবে, তা হল বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। আমার মনে হয় বাঙ্গালীর অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনেরই প্রেরণা হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। এ ব্যাপারে মনে হয় না কেউ বিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল-আইনজীবী, কবি, গল্পকার

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ওষুধের ব‍্যাপারে সেইফটি প্রোটকল ব‍্যবহার করা উচিত

রউফুল আলম

ওষুধের ব‍্যাপারে সেইফটি প্রোটকল ব‍্যবহার করা উচিত

রউফুল আলম

প্রেসক্রিপশন ড্রাগের (ওষুধ) বোতলে রোগীর নাম, ঠিকানা, ডাক্তারের নাম ইত‍্যাদি বিস্তারিত তথ‍্য থাকাটা হলো নিরাপদ। এটা হলো মাল্টি-লেয়ার সেইফটি এপ্রোচ। 

কেউ যেন ভুল ওষুধ বিতরণ না করে এবং কোন রোগী যেনো ভুল করে ভুল ওষুধ সেবন না করে, সে জন্য সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করা। উন্নত দেশগুলোতে এই এপ্রোচটা ফলো করা হয়।

যেমন, আমেরিকায় একটা প্রেসক্রিপশন ড্রাগের বোতলে রোগীর নাম, ঠিকানা থাকে। যে ডাক্তার প্রেসক্রাইব করেছে তার নাম থাকে। যে ফার্মাসিস্ট ওষুধটা দিয়েছে তার নাম থাকবে। 


আমি সত্যের পক্ষে থাকব, সত্যেও কথা বলব: এমপি একরাম

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষা; সাহসী উদ্যোগ বৈশাখী টিভির

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ: হানিফ

যে কারণে বুড়ো সাজলেন রনবীর


এমনকি ট‍্যাবলেট বা ক‍্যাপসুলে বিভিন্ন কোড দিয়ে সেটাকে ইউনিক করা হয় এবং সেই তথ‍্যটা লেবলে দেয়া থাকে। যেমন, এই বোতলের প্রতিটি ট‍্যাবলেটের এক পাশে CIPLA এবং অন‍্যপাশে 159 লেখা আছে। 

ওষুধের ব‍্যাপারে আমাদের দেশেও বিভিন্ন প্রকার সেইফটি প্রোটকল ব‍্যবহার করা উচিত। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ সেবন ও বিক্রয় ধীরে ধীরে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করা উচিত। এটা গণমানুষের নিরাপদ স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খেলা হবে

আনোয়ার সাদী

খেলা হবে

পশ্চিম বঙ্গের রাজনীতিতে এখন আলোচিত দুটি শব্দ হলো-খেলা হবে। ভোটের প্রচারণায় এই শব্দের বহুল ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এই শব্দের ব্যবহার এতোটাই ব্যাপক যে, আনন্দবাজার পত্রিকায় এনিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘আসুন, খেলা হয়ে যাক।’’ তাঁর অন্যতম সেনাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হুঙ্কার, ‘‘ভয়ঙ্কর খেলা হবে।’’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ পাল্টা দিচ্ছেন, ‘‘আমরাও বলছি খেলা হবে। তোমাদের (তৃণমূল) খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।’’ ‘খেলা হবে’-র বার্তা দিয়ে নবান্ন অভিযান করেছেন বাম ছাত্র-যুবরা। হুমকিতে, চ্যালেঞ্জে, গানে, প্যারোডিতে, পোস্টারে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে— খেলা হবে, খেলা হবে!

বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে এই শব্দ ভারতে রপ্তানি হলো। সেই ক্রেডিট দিতে অবশ্য গড়িমসি করেনি আনন্দবাজার। তারা এর উদ্ভাবক শামীম ওসমানের বক্তব্য নিয়েছে। 

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের এই বক্তব্য এর আগে বাংলাদেশে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই ইউটিউবে তার এই বক্তব্য শেয়ার করেছেন। এর ওপর নানারকম মন্তব্য করেছেন। এবার এর একটি আন্তর্জাতিক ভার্সন যুক্ত হলো। 

যহোক, রাজনীতিতে খেলা শব্দের ব্যাপক ব্যবহার হলেও রাজনীতি কোনোভাবেই ছেলে খেলা নয়।এর অনেক নিয়ম আছে, সৌন্দর্যী আছে, আছে মানুষের উপকার করার আকাঙ্ক্ষাও। ফলে, এই আকাঙ্ক্ষা কিছু ক্ষমতার জন্ম দেয়। অনেক সময় অনেকে রাজনীতি থেকে পাওয়া ক্ষমতা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারে না। ফলে, অনেক কিছু ধংস হয়ে যায়। 

রাজনীতি মানুষের গন্তব্য ঠিক করে দেয়। রাজনীতিবিদরা ভবিষ্যতে মানুষের ভালো থাকা মন্দ থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। যে রাজনীতিবিদ দূরদর্শী তার চিন্তা মানুষের ভালো করে, যিনি অপরিণামদর্শী তিনি ক্ষতি করে দেন। ফলে, তাদের চিন্তা বা কাজ করার পদ্ধতিকে যদি খেলা নামে অভিহিত করা যায়, তাহলে সে খেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বলছিলাম রাজনীতি ছেলে খেলা নয়। খেলায় শেষ কথা হলো জয়। নির্ধারিত সময়ে এই জয় না এলে খেলার সময় বাড়ানো হয়। মীমাংসা না হলে টাইব্রেকার হয়। কোনো কোনো খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ড্র হয়। কিন্তু ফাইনাল খেলায় অবশ্যই একজনকে বা একটা দলকে হেরে যেতে হয়। রাজনীতিও অনেকটা এমনই। শেষ বিচারে কাউকে না কাউকে বিজয়ের মালা পরতে হয়। অন্য জন বা দলকে জানাতে হয় অভিনন্দন। তারপরো রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত কথা হলো, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। তাহলে কী পুরো রাজনীতি একটা খেলা নয়। বরং রাজনীতিতে অবস্থান গড়ে নেওয়ার নাম খেলা? 


ছেলের প্রেমিকাকে রাত জেগে পাহারা দিলেন বাবা

পানি পানে আসা কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা ও মাটিচাপা

কালো পোশাকে নতুন এক জয়া

সৌদি যাত্রীর ছোট ব্যাগ থেকে মিলল ৫ কেজি স্বর্ণ


এর অনেক ব্যাখ্যা আছে। খেলার বিপরীতে খেলার হুমকী থাকতে পারে, তারও ব্যাখ্যা আসতে পারে।সবকিছু শেষে জনকল্যানই চাহিদা সাধারণ মানুষের।

যাহোক, সম্প্রতি খেলা বিষয়ে আরেকটি বাক্য ভাইরাল হয়েছে। এটি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে ছিটকে পড়া নাসির এর বউ তামিমা। তিনি বলেছেন, তিনি চান নাসির খেলুক, মাঠে হোক আর যেখানেই হোক, নাসির খেলুক। 

নাসির অবশ্য তার বিয়ে নিয়ে বেশ আলোচিত বলা ভালো সমালোচিত হয়েছেন। বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যতন্ত। কিন্তু পুরো ঘটনায় আমার ট্রয় সিনেমা মনে পড়েছে বারবার। সেখানেও অন্যের বউকে নিয়ে আসার ঘটনা ছিল। ছিনতাই করে আনা হয়নি। ভালোবেসে ঘটনায় নায়ক নিয়ে আসেন হেলেনকে। 

এর ফলাফল রক্তক্ষয়, যুদ্ধ, সাম্রাজ্যের পতন। কারণ এই ভালোবাসার বিপরীতে ঘৃণা আর এর সঙ্গে রাজনীতি ও লোভ মিলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ট্রয় এর গল্পে তা মোটেও খেলা নয়। তেমনি খেলা নয় মানুষের মন ও জীবন। কথায় বলে না মানুষের মন নিয়ে খেলা করো না। তেমনি সম্পর্ক নিয়েও খেলা করা যায় না। ফলে, কোনো ঘটনা যদি একজনের জন্য প্রেম, অন্যের জন্য আইন অমান্য হয় তাহলে তা যথেষ্ট জটিল হয়ে যায়। এর মাঝে নাসির মাঠে খেলুক, নেতারা রাজনীতির মাঠে, আমরা শুধু চাইবো, শান্তি যেনো বজায় থাকে সবখানে। 

খেলা হবে- এই শব্দের অর্থ যেনো সব সময় হয় ইতিবাচক।

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর