ভিয়েতনামের হাতে ধরা অপরূপ সোনালি সেতু

হারুন আল নাসিফ

ভিয়েতনামের হাতে ধরা অপরূপ সোনালি সেতু

ভিয়েতনামের দা নাংয়ের অদূরে অবস্থিত সোনালি সেতুটি এর আশপাশের অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও অভিনব ডিজাইনের জন্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ ও অভিভূত করে।

সেতুটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে- দেখলে মনে হয়, দুটি বিশাল পাথুরে হাত সেতুটিকে উঁচিয়ে ধরে আছে। এটি দশনার্থীদের বিস্মিত ও বিমুগ্ধ করে।

সেতুটি বা না হিলসের পাশ ঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ শ মিটার ওপরে স্থাপিত। এখানকার উদ্যানের সাথে ক্যাবল কার স্টেশনকে সংযুক্ত করতে এটি তৈরি করা হয়।

সেতুটির মূল আকর্ষণ বিশাল হাতের পাতা দুটি দেখতে পাথরের তৈরি মনে হলেও আদতে এগুলো স্টীলের তৈরি।

১৫০ মিটার বা ৪৯৯ ফুট দীর্ঘ এই বক্রাকার পথচারী সেতুটি পর্যটকদের চারপাশের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগের জন্য চমৎকার সুযোগ এনে দেয়।

প্রকল্পটির ক্লায়েন্ট হলো সান গ্রুপ। হো চি মিন সিটি-ভিত্তিক টিএ ল্যান্ডস্কেপ আর্কিটেকচার কোম্পানি সেতুটির নকশা প্রণয়ন করে।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ভু ভিয়েত আনহ ছিলেন এই প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার। সেতু ডিজাইনার ছিলেন ট্রান কোয়াং হ্যাং এবং সেতুরর ডিজাইন ম্যানেজার ছিলেন এনগুইন কোয়াং হু তুয়ান।


ট্রাম্পের শয্যাসঙ্গী হওয়া ছিল সবচেয়ে বিরক্তিকর, দাবি পর্নতারকার

দীর্ঘ ১৬০০ বছর হাত ধরে পাশাপাশি শুয়ে আছেন 'দুইজন পুরুষ'


২০১৭ সালের জুলাই মাসে সেতুটির নির্মাণ শুরু হয় এবং শেষ হয় ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে। ২০১৮ সালের জুন মাসে সেতুটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়।

বছরে প্রায় ১৫ লাখ পর্যটক সেতুটি দেখতে ভিয়েতনামে ভিড় করে। আয় হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইয়ার্ড সেলে মিললো ৪ কোটি টাকার মূল্যবান চীনামাটির পাত্র!

অনলাইন ডেস্ক

ইয়ার্ড সেলে মিললো ৪ কোটি টাকার মূল্যবান চীনামাটির পাত্র!

যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাট রাজ্যে ঘটেছে এমনই এক আশ্চর্য ঘটনা। একটি ইয়ার্ড সেলে মাত্র ৩৫ মার্কিন ডলারে কেনা একটি চীনামাটির পাত্র শেষ পর্যন্ত পরিণত হল ১৫শতকের মূল্যবান এক চীনা আর্টিফ্যাক্টে।

এই চীনামাটির পাত্রটির মূল্য হতে পারে ৩ থেকে ৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৪ কোটি টাকা। সোথেবি নামে একটি কোম্পানি এই তথ্য জানিয়েছে। সোথেবি একটি ব্রিটিশ কোম্পানি যারা নিলামে মূল্যবান বস্তু কেনাবেচার কাজ করে।

সাদা রঙের চীনামাটির এই বাটিটি দৈর্ঘ্যে ৬ ইঞ্চি (১১ সে.মি.)। এতে সাদার উপরে কোবাল্ট ব্লু রঙের দৃষ্টিনন্দন ফুল ও অন্যান্য ডিজাইন করা রয়েছে।

একজন অ্যান্টিক কালেক্টর গতবছর কানেক্টিকাটের নিউ হাভেন এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে ইয়ার্ড সেলে এই চীনামাটির পাত্রটি দেখে অবাক হন। পরবর্তীতে তিনি মাত্র ৩৫ ডলারে পাত্রটি কিনে সোথেবি’র দুইজন চাইনিজ আর্টিফ্যাক্ট বিশেষজ্ঞ এঞ্জেলা ম্যাকাথির ও হাঙ ইন কে ইমেইল করেন।

সোথেবি’র চাইনিজ আর্ট বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাকাথির বলেন, “এটা দেখার সাথে সাথেই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরা খুবই অসাধারণ কিছুর দিকে তাকিয়ে আছি। পাত্রটির উপরে পেইন্টিং, পাত্রটির আকৃতি, এমনকি এর নীল রঙ সাক্ষী দেয় যে এটি ১৫ শতকের একদম শুরুর দিকে তৈরি হয়েছিলো।“


আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

ভারতে বাড়ছে গাধার চাহিদা!

ভারতের মাদ্রাসায় পড়ানো হবে বেদ, গীতা, সংস্কৃত

এই নচিকেতা মানে কী? আমি তোমার ছোট? : মঞ্চে ভক্তকে নচিকেতার ধমক (ভিডিও)


এই পাত্রটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সাতটি পাত্রের একটি। আগামী ১৭ মার্চ নিউইয়র্কে এটি মূল্যবান চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ক্যাটাগরিতে নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ কোম্পানিটি।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য

আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও:

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য

ঠাকুরগাঁও জেলার গ্রাম-গঞ্জের রাস্তা দিয়ে চলা ফেরা করলে চোখে সামনে ভেসে আসে লাল ফুলের পাপড়ির সৌন্দর্যের এক দৃশ্য। দূর থেকে মনে হবে কেউ লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছেন। পুরো গাছজুড়ে টকটকে লাল শিমুল ফুল।

কোনোই সুবাসনা না থাকলেও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন সকলেই। গাছগুলোতে পাখী আর মৌমাছিদের ভীর চোখে পড়ার মত। ফালগুন মানেই যেন শিমুল ফুল। ডালে ডালে টকটকে লাল ফুল ছাড়িয়ে জানান দেয় বসন্তের আগমন। দেশের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে শিমুল ফুলের দেখা মেলে না।

বুধবার (৩ মার্চ ) জেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ ঘুরে দেখা মিলে শিমুলের লাল ফুল। যতদুর দৃষ্টি সীমানা যায় শুধু লাল আর লাল। এই দুশ্য দেখে মনে হবে লাল গালিচা বিছানো এক গ্রাম। তবে গ্রামবাসীরর ভাষ্য মতে কালের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ এই সৌন্দর্য। শিমুল গাছের তুলা দিয়ে তৈরি হয় লেপ-তোষক ও বালিশ। এগুলো ব্যবহার যেমন আরামদায়ক তেমন স্বাস্থ্যসম্মত। শিমুল গাছ সংরক্ষণে সরকারিভাবে কোনো কার্যক্রম নেই।


বিক্রি হওয়া সেই শিশু ফিরে পেলেন মা

ভারতে বাড়ছে গাধার চাহিদা!

ভারতের মাদ্রাসায় পড়ানো হবে বেদ, গীতা, সংস্কৃত

জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা দাবি করলেন তিন যুবক


জনসচেতনতার অভাবে এ জেলা থেকে ক্রমেই হারিয়েই যাচ্ছে শিমুল গাছ। বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা শিমুল গাছও ঠিক মতো চেনেন না। শিমুল গাছ বিলুপ্তির কারণে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত তুলা থেকে।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পর্যটক নেই ফ্রান্সে

ফয়সাল আহাম্মেদ

করোনা ভাইরাস, এক বছর ধরে জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি করে রেখেছে। ঘর বন্দি হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে চাকুরীজীবী, ব্যবসায়িসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। বিশেষ করে প্যারিস পর্যটন নির্ভর হওয়ায় ক্ষতির পরিমানটাও বেশি। 

পর্যটকদের তীর্থস্থান হিসেবে বিশ্ব নন্দিত প্যারিস শহর এখন অনেকটাই ভুতুড়ে নগরী। নেই আগের মতো প্রাণচাঞ্চল্য আর পথ-ঘাটের ভীড়। যুক্তরাজ্যের নতুন করোনাভাইরাসের ভেরিয়েন্ট শনাক্তের পর দ্বিতীয় দফা দীর্ঘ লকডাউনে পড়েছে ফ্রান্স। উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় সারাক্ষণ ফরাসীরা। চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। ব্যবসায় নেমেছে ধস। ফ্রান্স বাংলাদেশ চেম্বার এর সভাপতি কাজী এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন আর ছয় সপ্তাহ পরই স্বস্তির আশ্বাস দিয়েছে ম্যাক্রো সরকার। 


যে জায়গায় মিল পাওয়া গেছে বুবলী-দীঘির

সোনালির প্রেমে পড়ে স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলেন যেসব তারকারা

পুলিশ হেফাজতে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

ভাসানচরে যাচ্ছে দুই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা


বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে ফ্রান্সের অর্থনীতি। দেশটির রাজস্ব আয়ের বড় অংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। মহামারীর প্রাদুর্ভাবে পর্যটক শূণ্য প্যারিস। গেলো এক বছর ধরে এই শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির কবলে। করোনা মোকাবিলা করে প্যারিস আবারো তার আপন মহিমা ফিরে পাবে, ফিরে আসবে আগের সেই কর্ম চাঞ্চল্য, এমনটাই প্রত্যাশা ফরাসিদের।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খারাপ সংবাদেরও গুরুত্ব আছে

অনলাইন ডেস্ক

খারাপ সংবাদেরও গুরুত্ব আছে

মিডিয়ায় একটা কথা প্রচলিত আছে "ব্যাড নিউজ ইজ গুড নিউজ"। খারাপ সংবাদ খুব দ্রুত ছড়ায়। খারাপ সংবাদের কাটতিও বেশি। তাই মিডিয়া সব সময় মুখিয়ে থাকে এসব সংবাদের জন্য। এমনকি মানুষের মস্তিষ্কও খারাপ সংবাদ দ্রুত আকর্ষণ করে। আমাদের পাঠকদের কমন একটি কমপ্লেইন আছে মিডিয়ার প্রতি খারাপ সংবাদে ছেয়ে থাকে পত্রিকা বা টিভির স্ক্রল। 

সত্যি, সংবাদে খারাপ খবরের যেন শেষ নেই। কিন্তু আমাদের পৃথিবীর অবস্থা কি সত্যি এত খারাপ? এটা মানতেই হবে, যে বর্তমান করোনা ভাইরাস মহামারি এক বিরল সংকট। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে বিচার করে দেখলে অনেক ক্ষেত্রে আসলে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। যেমন শিশু-মৃত্যুর হার এর আগে কখনো এত কম ছিল না।

১৯৭০ সালের তুলনায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। মস্তিষ্ক বিজ্ঞানী হিসেবে প্রো. মারেন উর্নার মনে করেন, ‘‘আমাদের মস্তিষ্ক ইতিবাচক বা নিরপেক্ষ খবরের তুলনায় নেতিবাচক খবরগুলি আরও দ্রুত, আরও ভালো ও আরও নিবিড়ভাবে গ্রহণ করে। সে কারণে আমরাও এমন খবর বেশি সময় জুড়ে মনে রাখি। বিবর্তনের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে নেতিবাচক খবর আমাদের জন্য বেশি সহায়ক। কারণ আদিম প্রাণীগুলির আমলে মানুষ নেতিবাচক খবর না পেলে অস্তিত্বের সংকটে পড়তো।’’

গবেষকেরা বিভিন্ন মহাদেশের মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছেন, যে খারাপ খবর শোনালেই তারা উত্তেজিত ও মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের একাংশ ঠিক এই প্রভাব কাজে লাগায়। কারণ গ্রাহকরা নেতিবাচক শিরোনাম পড়লে বেশি ক্লিক পাওয়া যায় বা আরও সংবাদপত্র বিক্রি করা যায়।


সাই পল্লবীর ফাঁস হওয়া ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা দিহানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পেছাল

ডিভোর্সের গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন প্রেমে জড়ালেন শ্রাবন্তী!

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিতের আহ্বান জাতিসংঘের


একাধিক গবেষণা অনুযায়ী বিশেষ করে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে নেতিবাচক খবর বেড়েই চলেছে। প্রশ্ন হলো, মিডিয়ায় এত নেতিবাচক খবর থাকা কি একটা সমস্যা? প্রো.উর্নার বলেন, ‘‘আসলে আমাদের সবার মনেই অত্যন্ত নেতিবাচক প্রত্যাশার মনোভাব রয়েছে। কারণ পৃথিবীকে বাস্তবের তুলনায় আরও খারাপ হিসেবে দেখাই আমাদের জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র।’’

আমাদের উপর মিডিয়ার প্রভাব কতটা শক্তিশালী, বোস্টন ম্যারাথনের উপর হামলার ঘটনা তার ভালো দৃষ্টান্ত। দেখা গেল, সেখানে উপস্থিত মানুষের তুলনায় সেই সব মানুষ আরও মানসিক চাপ ও ভয়ের শিকার হলো, যারা সংবাদ মাধ্যমে ডুবে রয়েছে। এর অর্থ কী? প্রো. মারেন উর্নার বলেন, ‘‘সবার আগে যেটা ঘটে সেটা হলো, মানুষ নিজে সক্রিয় হয় না।

আমরা জানি, বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বকে নেতিবাচক চোখে দেখে। সেই অনুযায়ী মানুষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। অথচ অসংখ্য মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী বাস্তবে মোটেই সেটা ঘটে না। সেইসঙ্গে ক্রনিকাল স্ট্রেস যোগ হতে পারে।

আমরা ইতোমধ্যে জানি, যে এমন লাগাতার মানসিক চাপ অন্য অনেক রোগের ভিত্তি হতে পারে। ডায়াবিটিস, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকে শুরু করে বিষণ্ণতার মতো মানসিক রোগ এভাবে দেখা দিতে পারে।’’

সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে সংবাদ পড়তে হবে। সব সময় পজেটিভ চিন্তা করার মানসিকতা থাকা খুবই দরকার। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মাধ্যম থেকে সংবাদ শোনা এবং সেই অনুযায়ি রিয়েক্ট করা দরকার। 

সূত্র: ডয়েচে ভেলে 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

উড়তে পারে যে মাছ

হারুন আল নাসিফ

উড়তে পারে যে মাছ

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন উড়তে পারে এমন মাছও আছে। মাছটির নাম ‘উড়ুক্কু মাছ’। ইংরেজিতে বলে Flyingfish। সাগরের পানি থেকে লাফ দিয়ে পাখির মতই দ্রুতগতিতে অনেক দূর উড়তে পারে এই মাছ। আর অদ্ভুত বিষয় এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব আমাদের চিরচেনা উড়তে পারা পাখিদেরও অনেক অনেক আগে থেকে। এদের বক্ষ পাখনা (Pectoral fin) এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রোণী পাখনাও (Pelvic fin) প্রসারিত হয়ে ডানার মতন গঠন তৈরি করে।

ডলফিন, স্কুইড ও বড় মাছের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য অতি দ্রুত সাঁতার কাটতে গিয়ে এ মাছ পানির একেবারে উপরিভাগে চলে আসে এবং পাখনা মেলে বাতাসে উড়াল দেয়। উড়াল দেয় বললে আসলে ভুল হবে। প্রকৃত ওড়া বলতে যেটা বোঝায় এটা ঠিক সেরকম ওড়া নয়। একে বলে গ্লাইডিং। এরা মূলত পানি থেকে লাফ দিয়ে তাদের পাখনার সাহায্যে বাতাসে ভেসে চলে।

পানির নিচে গড়পড়তা উড়–ক্কু মাছের বেগ হয় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের কাছাঁকাছি। সুগঠিত পাখনা বিশিষ্ট এসব মাছের কোনো কোনোটি জলের উপরিভাগ ৮-১০ মিটারের বেশি ওপর দিয়ে শূনে ভেসে চলে অনায়াসে ২০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তখন এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি বা ৪৫ মাইলেরও বেশি হয়।

এ কারণে অনেক সময় এই মাছ আচমকা সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকের ওপর আছড়ে পড়ে। জলের শত্রু থেকে বাঁচতে গিয়ে বাতাসে উড়াল দিয়ে এদের কখনো-কখনো শিকারি পাখির কবলেও পড়তে হয়।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


১০ থেকে ৩০ সেমি অব্দি লম্বা এই উড়ন্ত মাছটির মোট চারটি পাখনা আছে। এ পাখনার মধ্যে দুটি বড় বক্ষপাখনা এবং পেছনে দুটি ছোট পাখনা। পাখনার ভেতরে হাওয়া ভরা থাকায় ওজনেও হালকা এই বক্ষপাখনাগুলো প্রসারিত করেই এরা বাতাসে ভেসে থাকে। লেজও তুলনামূলকভাবে অনেক লম্বা যা এরা পানি থেকে ওপরে উঠতে ব্যবহার করে। 

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাগরে উড়ুক্কু মাছেরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। পাখি ও ডাইনোসরদের আগে থেকেই এ মাছের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে। সম্প্রতি চীনের জাদুঘরে থাকা উড়ুক্কু মাছের ফসিল বা জীবাশ্ম গবেষণা করে গবেষকেরা বলছেন প্রায় ২৩ থেকে ২৪ কোটি বছর আগের মধ্য ট্রায়াসিক যুগে ‘পোটানিক্সাস কিংজিনসাস’ নামের উড়ুক্কু মাছের প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে, যা জুরাসিক যুগের ডাইনোসরদের চেয়েও ৫কোটি বছর আগেকার। 

মাছটির আদি নিবাস ভারত মহাসাগরে হলেও উষ্ণমন্ডলের সব সাগরেই এই মাছ দেখা যায়। খুজে পাওয়া প্রায় ৭১টি প্রজাতির এ মাছের অধিকাংশই সামুদ্রিক এবং সাধারণত বড় ঝাঁক বেঁধে চলে।


 
রঙ-বেরঙের আলোর প্রতি উড়ুক্কু মাছের রয়েছে মারাত্মক দুর্বলতা। এই আলোর নেশাকে কাজে লাগায় মাছ শিকারিরা। নজরকাড়া নানা রকম আলোর ফাঁদে সুকৌশলে ছড়ানো জালের মধ্যে আটকে ফেলে এদের। তখন সাঁতার হোক কিংবা ওড়া, সব জারিজুরি খতম হয়ে মানুষের খাদ্যে পরিণত হয়।

উড়ুক্কু মাছ খেতে সুস্বাদু। বাণিজ্যিকভাবে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোস ও ভারতে খাওয়ার জন্য এ মাছ প্রচুর ধরা হয়। ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোসের জাতীয় মাছ এটি। বাংলাদেশে ৩টি প্রজাতি পাওয়া যায়। আপনি খেতে চাইলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আমাদের দেশের সমুদ্র তীরবর্তী অনেক খাবারের দোকানে খেতে পারবেন ফ্লাইংফিশ।

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর