শতবর্ষের পুরনো পোড়াদহের জামাই মেলা

অনলাইন ডেস্ক

শতবর্ষের পুরনো পোড়াদহের জামাই মেলা

ছবি- সংগৃহীত

পোড়াদহের ঐতিহ্যবাহী মেলাকে জামাই মেলাও বলা হয়ে থাকে। এই উপলক্ষে আশপাশের গ্রামে চলে উৎসব। আগে থেকেই আসতে শুরু করেন মেয়ে জামাইসহ আত্মীয়স্বজন।

তবে এ মেলার প্রধান আকর্ষণ নানা প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ। বড় জাতের প্রায় সব ধরণের মাছই পাওয়া যায় এ মেলায়। শুধু মাছই নয়, মিষ্টি থেকে কাঠের ফার্নিচার সব কিছুই পাওয়া যায় এই মেলাতে।

কিন্তু এ মেলার একটি রেওয়াজ রয়েছে। এখানে জামাইকে মেলার বাজার করতে হয়। অনেক গরিব জামাইকে শ্বশুরই টাকা দেন মেলার বাজার করতে। জামাইরা মেলাতে গিয়ে বড় মাছসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বাজার করেন শ্বশুরবাড়ির জন্য।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলা গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে প্রতিবছর এ পড়াদহ মেলা বসে মাঘ মাসের শেষ বুধবার। কথিত রয়েছে  প্রায় ২০০ বছর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সন্ন্যাসীরা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে আস্তানা গাড়েন। এর প্রায় ৫০ বছর পর স্থানীয়রা এখানে সন্ন্যাসী পূজার পাশাপাশি গোড়াপত্তন করেন ঐতিহ্যবাহী এই মেলার।

সেই থেকে বর্তমানে এ মেলাটির সর্বজনীন মেলা হিসেবে বগুড়াসহ আশপাশে জেলায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। সব জাতি বর্ণের মানুষ আসেন এ মেলায় কেনাকাটা করার জন্য।


ট্রাম্পের শয্যাসঙ্গী হওয়া ছিল সবচেয়ে বিরক্তিকর, দাবি পর্নতারকার

ভিয়েতনামের হাতে ধরা অপরূপ সোনালি সেতু


এক সময় এই মেলার পরিধি ছিল প্রায় একশ একর জমির উপর। সরকারি সামান্য জমির পাশাপাশি আশপাশের জমি কয়েকদিনের জন্য লিজ নিয়ে মেলা কমিটি বড় পরিসরে মেলা বসাতেন। কালের বিবর্তনে মেলার আয়তন কমতে কমতে এখন পঞ্চশ একরে কম এসে ঠেকেছে। তবে মেলা নিয়ে আগ্রহ উৎসবের কমতি নেই এলাকাবাসীর।

গাড়ীদহ নদীর পার্শ্বে সন্ন্যাসী মন্দিরের পুরোহিত এবং পূজারীরা জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরানো এ স্থানে সন্ন্যাসীদের আগমন ঘটেছিল এই স্থানে। এরপর মন্দির তৈরি করে পূজা অর্চনা করা হতো। সেই থেকে প্রতিবছরই মাঘ মাসের শেষ মঙ্গলবার বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে পূজার আয়োজন থাকে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

নৃগোষ্ঠী পাঙন বা মণিপুরি মুসলিমদের কথা

হারুন আল নাসিফ

নৃগোষ্ঠী পাঙন বা মণিপুরি মুসলিমদের কথা

মণিপুরীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারী সম্প্রদায়টি ‘পাঙন’ বা ‘পাঙ্গান’ বা ‘পাঙ্গাল’ বা মণিপুরী মুসলিম হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশের সিলেট, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নানান স্থানে প্রায় পঁচিশ হাজার মণিপুরী মুসলিম বাস করে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাঙনরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য আজো বজায় রেখেছে। তাদের ঘরবাড়ি, পোষাক-পরিচ্ছেদ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্রে ভরপুর।

কথিত আছে যে, মণিপুর রাজ্যে ভারতবর্ষের কোনো এক অঞ্চলের পাঠান মুসলিম ব্যবসা-বাণিজ্য করতে মণিপুর যান। তাঁদের একজন এক মৈতৈ মণিপুরী মেয়ের সঙ্গে প্রেমে আবদ্ধ হন এবং তাঁকে বিবাহ করে সন্তানাদিসহ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। মৈতৈই  মা ও পাঠান মুসলিম পিতার বংশধররাই পরে পাঙান বা মণিপুরী মুসলিম নামে পরিচিতি পায়। তারা মায়ের ভাষায় কথা বলে এবং পিতার ধর্ম পালন করে। 

ইতিহাসবিদদের মধ্যে মণিপুরে ইসলামের সূচনা এবং পাঙ্গাল নামের উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ আছে। কোনো কোনো সূত্র সূচনা সালটি ৯৩০ সালের আগে-পরে বলে মনে করেন। তবে অধিকাংশ সূত্র সালটি ১৬০৬ বলে নিশ্চিত করেন। এ সালে মুসলিম সৈন্যরা বন্দুক প্রস্তুতকারক হিসাবে বা লবণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মণিপুর প্রবেশ করেন। ঘটনাক্রমে তারা একটি চুক্তির মাধ্যমে মণিপুরে থেকে যান।

 ইতোমধ্যে বার্মার সাথে যুদ্ধ বাঁধলে মণিপুরের রাজা মৈতৈ বাহিনির পক্ষে মুসলিম সৈন্যদের সাহায্য চান। যুদ্ধে তারা বীরত্বের পরিচয় দেন। মৈতৈ বাহিনি জিতে যায়। রাজা খুশি হয়ে তাদের ‘পাঙ্গাল’ উপাধি দেন। মৈতৈ ভাষায় পাঙ্গাল মানে শক্তি বা শক্তিশালী। এই সৈন্যরা মৈতৈ সম্প্রদায়ের মেয়েদের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং মৈতৈ সংস্কৃতির ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন দিকগুলো গ্রহণ করেন। কালক্রমে তাদের বংশধররা পাঙ্গাল বা পাঙন নামে পরিচিতি পায়।

পাঙনরা সুন্নী মুসলিম। তবে স্থানীয় বাঙালী মুসলিম জনগোষ্ঠির সঙ্গে পাঙনদের সামাজিক কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাদের ধর্মাচরণ, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতির সাথে বাঙালি মুসলমানদের পার্থক্য রয়েছে। পাঙনরা প্রচণ্ড ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল। পাঙন মেয়েরা কঠোর পর্দাপ্রথা মেনে চলে।  পাঙন সমাজ নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে বৈবাহিক সম্পর্ক অনুমোদন দেয় না। পাঙান মেয়েরা কুর্তি, সালোয়ার ও ফানেকের মতো নিজস্ব পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে। পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো লুঙ্গি ও পায়জামা।

পাঙনদের মসজিদগুলোতে কেবল পাঙন ইমামরাই ইমামতি করেন। নানান সামজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে কোরান শরিফের তর্জমা ও তাফসীর, বিভিন হাদিসের পাঠ ও ব্যাখ্যা সবকিছু মাতৃভাষায় করা হয়ে থাকে। এছাড়া বিয়ের দিনে ‘কাসিদা’ নামে পরিচিত এক ধরনের লোক ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গান ও নাচের অনুষ্ঠান থাকে যা পাঙনদের একান্ত নিজস্ব।

ঈদ পাঙনদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিনে গোত্র বংশ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর পাঙন এক কাতারে সমবেত হয় এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপন করার জন্য। ঈদের জামাতও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। বলা বাহুল্য, ঈদের জামাতে ইমামতির ভার থাকে যথারীতি পাঙন সম্প্রদায়েরই কোন মৌলভির ওপর। মসজিদে, দোকানে, হাটবাজারে, খেয়াঘাটে সবখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা চলে। 

আত্মীয় স্বজন ও পরিচিত জনদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হয়। পরিবারের সবার জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন মেয়েদের জন্য পর্দা কিছুটা শিথিল থাকে। ঈদের দিনে পাঙন মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পড়ে দল বেঁধে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার দৃশ্য চেয়ে দেখার মতো।

পাঙন জাতির নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাস মণিপুরীদের অপরাপর শাখা বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈদের থেকে আলাদা। যদিও তিনটি জনগোষ্ঠিই অষ্টাদশ শতাব্দিতে আদিভূমি মণিপুর ত্যাগ করে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তোলে। মণিপুরে মুসলমানদের সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ অভিভাসন ঘটে মোগল আমলে। 

পাঙনরা প্রচণ্ড পরিশ্রমী জাতি। ভিক্ষাবৃত্তিকে এরা মনুষ্যজন্মের নিকৃষ্ট পেশা বলে মনে করে। কৃষিকাজ ছাড়াও তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃষি সরঞ্জাম ও আসবাব তৈরিতে দক্ষ। পাঙন মেয়েরা কৃষিকাজে পুরুষের সমান পারদর্শী। এছাড়া তাঁতে কাপড় বোনা এবং সূঁচিকর্মে পাঙন মেয়েদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। মণিপুরীদের পরিধেয় ফানেক বা চাকসাবির ওপর পাঙন মেয়েদের সূঁই সুতার সুক্ষ্ম কারুকাজ দেখে বিস্মিত হতে হয়।

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায়

দানাদার শস্য কাউন চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার চরাঞ্চলের কৃষক

আব্দুস সালাম বাবু:

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় দানাদার শস্য কাউন চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার চরাঞ্চলের কৃষক। পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ ছাড়াই কাউনের ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিবছর বাড়ছে চাষের জমি। পাখির খাদ্য হিসেবে কাউনের চাহিদা বাড়ায় কৃষকও ভালো দাম পাচ্ছেন। 

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হওয়ায় যমুনা ও বাঙালি নদীর চরাঞ্চলে কাউন চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। সারিয়াকান্দিতে গত বছর ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হলেও এবছর তা বেড়ে ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

চরাঞ্চলের জমিতে বন্যার কারণে পলি জমে, উর্বর জমিতে কাউনের বীজ বপনের পর থেকেই গাছ বেড়ে উঠতে থাকে। অগ্রহায়ন থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত বীজ বপন এবং বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে কাউন কাটা-মাড়াই হয়। আর চলতি বছর কাউনের বাম্পার ফলনে লাভের আশা চাষিদের।

প্রতি মন কাউন ২ হাজার থেকে ২৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরাও ঝুঁকছেন কাউন চাষে। কাউন থেকে তৈরি হয় পায়েশ, পোলাও, খিচুড়ি, মলা ও বিস্কুটসহ মজাদার বিভিন্ন খাবার। পাখির খাদ্য হিসেবে কাউনের চাহিদাও বর্তমানে অনেক বেশি বেড়েছে।

চলতি বছর বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১হাজার ৭শ ১০ হেক্টর এবং সোনাতলা উপজেলার  ৪০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল  

পরবর্তী খবর

বিশ্বের বৃহত্তম আনারসের কথা

হারুন আল নাসিফ

বিশ্বের বৃহত্তম আনারসের কথা

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপের ব্যাটহার্স্ট জেলা আনারস চাষের জন্য সুপরিচিত। এখানকার সামারহিল খামারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আনারসটি অবস্থিত। ১৬.৭ মিটার বা ৫৫ ফুট উঁচু আনারসটি এ অঞ্চলের আনারস চাষের ঐতিহ্য ও গৌরব তুলে ধরার পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক পর্যটক আকর্ষষণ করে থাকে। 

ব্যাটহার্স্ট এলাকার ইতিহাস বেশ পুরানো। সেই ১৮২০ সালের কথা। এখানে বিটেন থেকে আসা কৃষকরা বসতি স্থাপন করেন। কয়েক দশক ধরে নানা ফসল চাষ করেও সাফল্যের মুখ দেখছিলেন না তারা। অবশেষে ১৮৬৫ সালে প্রথম আনারস চাষ করে তাদের ভাগ্য খুলে যায়।

সেই সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে শতাব্দীরও বেশি সময় পথ চলার পর ১৯৮০’র দশকে ব্যাটহার্স্টের কৃষক সমাজের সদস্যরা এ অঞ্চলের আনারস শিল্পকে আরও বেশি পরিচিতি দিতে এবং এই রসালো ও সুমিষ্ট ফলের সুনাম তুলে ধরতে সামারহিল খামারে একটি বিশাল আনারস-সৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত বৃহত্তম আনারসটির ভবন-নকশা কেনার উদ্যোগ নিতে পরিদর্শনের জন্য সেখানে দু’জন প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। অনুদান ও একটি সরকারি তহবিলও যোগাড় হয়। কুইন্সল্যান্ডের ১৬ মিটার বা ৫২ ফুট উঁচু আনারসটির নকশা করেন পেডল থ্রপ ও হার্ভে, পল লাফ, এবং গেরি স্মলকম্বে এন্ড অ্যাসোসিয়েটস। এটি ১৯৭১ সালে নির্মাণ করা হয়।

সফর সফল হয়। প্রতিনিধিরা ফিরে আসার পর ১৯৯০ সালে ব্যাটহার্স্টের বিশাল আনারসটির নির্মাণ শুরু হয়। স্টিল ও কংক্রিটের কাঠামোর ওপর ফাইবার গ্লাসের আবরণ দিয়ে নির্মাণ করা হয় এটি। টানা ১২ মাস ধরে পরিশ্রমের পর এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। 

আনারসটি অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের বিগ পাইনাপেলের প্রতিরূপ হলেও এটি প্রায় ৩ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে যাতে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও উঁচু আনারসের তকমা পায়। এছাড়া কুইন্সল্রান্ডের আনারস ভবনে রয়েছে দু’টি তলা, আর সামারহিলের আনারসটিতে রয়েছে তিনটি তলা।
 
ভবনটির প্রথম তলায় রয়েছে একটি গিফট শপ। এখানে আনারস ও আনারস থেকে তৈরি নানা খাদ্য সামগ্রী এবং আনারস থিমের টি-শার্ট, ব্যাাগ ইত্যাদি সুভেনির কিনতে পাওয়া যায়। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি মিউজিয়াম, যেখানে পর্যটকদের তথ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ‘আনারস কাহিনি’ প্রদর্শন করা হয়।

তৃতীয় তলায় আনারস চাষ ও এর ইতিহাস সম্পর্কে বিরতিহীন ও ধারাবাহিকভাবে ভিডিও উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। এর পর রয়েছে ভবনের শীর্ষে পর্যবেক্ষণ ডেক। এখান থেকে চারপাশের চাষের জমির ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য অবলোকন করা যায়। এমনকি পরিচ্ছন্ন আবহাওয়ায় এখানকার অবারিত বিস্তীর্ণ ক্ষেতের ওপর দিয়ে দৃষ্ট চলে যায় সুদূর ভারত মহাসাগর পর্যন্ত।

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

হারুন আল নাসিফ

ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

ইউরোপে অনেক অনন্য ভবন এবং সাংস্কৃতিক বিস্ময় রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কিছু একবারেই অনন্য-সাধারণ। এর মধ্যে ইকুইহেন বিচের বাড়িগুলো অন্যতম। বিচটি উত্তর ফ্রান্সের উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। 

ইউরো টানেলর ঠিক নিচে এই শান্তিপূর্ণ জায়গায় রয়েছে সুন্দর সৈকত, সুন্দর ক্যাম্পিং সাইট এবং স্থানীয় জেলেদের একটি ছোট্ট অদ্ভুত গ্রাম. যেখানকার সব ঘর উল্টানো নৌকা দিয়ে বানানো।

এ গ্রামের বাসিন্দারা উল্টানো নৌকার নিচে ঘর বানিয়ে বাস করে থাকেন। আধুনিক যুগে বাড়ির পরিবর্তে এতো ছোট জায়গায় বাস করা অপ্রয়োজনীয় বলেই মনে হয়। তবু, স্থানীয়রা তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

১৯ শতকের শুরুতে ইকুইহেন বিচ মাছ ধরার অন্যতম সেরা স্থান হিসাবে পরিচিত ছিল। অনেক নৌকা উপকূলে পড়ে থাকতে নষ্ট হয়ে যেতো। স্থানীয় জেলেরা তাদের হাতে তৈরি আশ্রয়স্থলের ছাদ হিসাবে এগুলো ব্যবহার করতো

দুর্ভাগ্যক্রমে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গ্রামের প্রায় প্রতিটি বোটহাউস ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয় পরিবারগুলো তাদের ঐতিহ্য বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। গ্রামের বাসিন্দারা কিছু পুরানো বোটহাউস পুনরুদ্ধার করে এবং কয়েকটি নতুন বোটহাউস তৈরি করে।

বর্তমানে তিন হাজারেরও বেশি লোক এই উল্টানো নৌকার নিচে বানানো ঘরে বাস করে। পর্যটকদের থাকার জন্যও কিছু উল্টানো নৌকাঘর পাওয়া যায়।

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

কোভিডের ভারতীয় ধরণ কী, এর বিরুদ্ধে টিকা কতোটা কার্যকর?

অনলাইন ডেস্ক

কোভিডের ভারতীয় ধরণ কী, এর বিরুদ্ধে টিকা কতোটা কার্যকর?

যে কোনো ভাইরাসই ক্রমাগত নিজের ভেতরে নিজেই মিউটেশন ঘটাতে করতে থাকে অর্থাৎ নিজেকে বদলাতে থাকে, এবং তার ফলে একই ভাইরাসের নানা ধরন তৈরি হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তন প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন মাথাব্যথার প্রয়োজন হয়না, কারণ নতুন সৃষ্ট অনেক ভ্যারিয়েন্ট মূল ভাইরাসের চেয়ে দুর্বল এবং কম ক্ষতিকর হয়।

কিন্তু কিছু ভ্যারিয়েন্ট আবার অধিকতর ছোঁয়াচে হয়ে ওঠে - যার ফলে টিকা দিয়ে একে কাবু করা দুরূহ হয়ে পড়ে।

করোনাভাইরাসের ভারত ভ্যারিয়েন্ট - যেটার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭ - প্রথম ভারতে শনাক্ত হয় অক্টোবর মাসে।

ভারত ভ্যারিয়েন্ট কি অধিকতর সংক্রামক বা বিপজ্জনক?

বিজ্ঞানীরা এখনও জানতে পারেননি যে ভারতে প্রথম শনাক্ত এই করোনাভাইরাসটি অন্যগুলোর তুলনায় দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় কিনা, বা এটির বিরুদ্ধে টিকা কার্যকর কিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ভাইরোলজিস্ট ড. জেরেমি কামিল বলেন ভারত ভ্যারিয়েণ্টে শনাক্ত একটি মিউটেশনের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্টে শনাক্ত মিউটেশনের মিল রয়েছে।

এই মিউটেশনটি দেহে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থায় তৈরি অ্যান্টিবডিকে পাশ কাটিয়ে যেতে ভাইরাসকে সাহায্য করতে পারে। সংক্রমণ এবং ভ্যাকসিন নিয়ে আগের বিভিন্ন পরীক্ষায় এটি দেখা গেছে।

কিন্তু অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন, বর্তমানে ব্রিটেনে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ কাজ করছে। ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টটি এখন ৫০টিরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

কেন ভারতে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ এত বিধ্বংসী

ওয়েলকাম স্যাংগের ইন্সটিটিউটের ড. জেফরি ব্যারেট বলছেন, করোনাভাইরাসের নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের সাথে ভারতের বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির যোগসূত্র থাকতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ এখনও নেই।

তিনি বলেন, “ভারতীয় এই ভ্যারিয়েন্টটি গত বছরের শেষ দিক থেকেই সেদেশে রয়েছে। যদি সত্যিই ঐ ভ্যারিয়েন্টের কারণেই বর্তমানের এই উঁচু সংক্রমণ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কাজ করতে কয়েক মাস সময় নিয়েছে। তার অর্থ এটির চেয়ে কেন্ট বি ১১৭ ভ্যারিয়েন্টটি (ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্ট) অনেক বেশি সংক্রামক।”

টিকা কি কাজ করবে?

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন বর্তমানে করোনাভাইরাসের যেসব টিকা রয়েছে তা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীদের চরম অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে।

তবে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত অধ্যাপক গুপ্ত এবং তার সহযোগীদের করা একটি গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এখন যেসব টিকা রয়েছে করোনাভাইরাসের কিছু ভ্যারিয়েন্ট সেগুলোতে মরবে না। ফলে, নতুন ধরণের ভ্যাকসিন আনতে হবে এবং বর্তমানের টিকাগুলোকে অদল-বদল করতে হবে।


আরও পড়ুনঃ


ট্রিও মান্ডিলি: এক আধুনিক রূপকথার গল্প

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়াঘাট ছাড়লো ফেরি

শত বছরের পুরনো বিয়ের রীতি ভাঙলেন ‘হার্ডকোর ফেমিনিস্ট’ যুবক

করোনা ঠেকাতে বিজেপি নেতার গোমূত্র পান, দিলেন পরামর্শও (ভিডিও)


তবে, যেসব টিকা এখন তৈরি হয়েছে সেগুলো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বা বিপদ কমাতে সক্ষম।

ড কামিল বলেন, “সিংহভাগ মানুষের ক্ষেত্রে যেটা সত্য তা হলো, ভ্যাকসিন নেওয়া বা না নেওয়ার ওপর নির্ভর করবে - তারা সংক্রমণ মুক্ত বা বড়জোর স্বল্পমাত্রায় সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকবেন, নাকি প্রাণ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে যাবেন।”

তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন দেওয়ার সুযোগ পেলে দয়া করে তা লুফে নিন। সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবেন না। শতভাগ অব্যর্থ কোনো ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষায় বসে থাকার মত ভুল করবেন না।”

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর