যদি নিবন্ধনের পর টিকা নেওয়ার এসএমএস না পান

জ. ই. মামুন

যদি নিবন্ধনের পর টিকা নেওয়ার এসএমএস না পান

প্রথম চালানের করোনা ভ্যাকসিনের মেয়াদ শেষ হবে এপ্রিলে। তার আগে উপযুক্ত (৪০ বছরের বেশি বয়সী এবং জরুরি পেশায় নিয়োজিত ফ্রন্টলাইনার) সবাই অন্তত প্রথম ডোজের টিকা নিয়ে নিন।

যদি নিবন্ধনের পর টিকা নেওয়ার তারিখ সংবলিত এসএমএস না পান, ক্ষতি নেই। নিবন্ধনের কাগজটি নিয়ে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টার মধ্যে আপনার আশপাশের যে কোনো টিকাদান কেন্দ্রে চলে যান, আপনাকে টিকা দিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:


ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে ডাকাতি

‌‘দূর সম্পর্কের বোনের’ সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক, সাজা বাতিল হলো কিশোরের

দেশীয় বিলুপ্ত প্রজাতির শকুনটিকে খাওয়ানো হচ্ছে মাংস

তুরস্ককে বাইডেন প্রশাসনের হুমকি


যদি নিবন্ধন না-ও করে থাকেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আশপাশের টিকাকেন্দ্রে যান, সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন করে আপনার টিকা দিয়ে দেওয়া হবে।

এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ সকল কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

জ. ই. মামুন, সিনিয়র সাংবাদিক

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

তিনটি গল্প

মুম রাহমান

তিনটি গল্প

ইফতারি জার্নালে অনেক গভীর কথাবার্তা হলো, কিছু জ্ঞান চর্চাও হলো। আজ না হয় একটু হাল্কা ভাবেই লিখি। মানেই গল্প বলি আপনাদের। গল্প মৌলিক নয়। জগতের কয়টি গল্পইবা মৌলিক হয়। যাহোক, আজ তিনটি গল্প পাঠ করা যাক। জেন বুদ্ধদের এই গল্পতিনটি আপনাদের জন্য অনুবাদ করে দিলাম   ---

গল্প ১
বুদ্ধ তার শিষ্যদের সঙ্গে এক সকালে বসে আছেন। 
একজন লোক এলো।
জিজ্ঞেস করলো, ‘ভগবান বলে কারো অস্তিত্ব আছে?’
‘তিনি আছেন’, বুদ্ধ বললেন, মৃদু হাস্যে।
দুপুরের দিকে আরেক লোক এলো। এবার সেই লোকটি বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলো একই প্রশ্ন, ‘ভগবান বলে কিছু কি আছে?’
বুদ্ধ বললেন, ‘না, তার কোন অস্তিত্ব নেই।’
সেই লোকটি চলে গেলো। দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো প্রায়।
আবার আরেকজন এসে সেই একই প্রশ্ন, ‘ভগবান আছেন?’
বুদ্ধ এবার উত্তর দিলেন, ‘সেটা তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

লোকটি চলে গেলো। বুদ্ধের শিষ্যদের একজন এবার খানিকটা উত্তেজিত হলেন। তিনি বিরক্তি নিয়ে বললেন, এটা তো অসম্ভব কথা প্রভূ! আপনি কেমন করে একই প্রশ্নের এমন ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দিলেন!’
বুদ্ধ হাসলেন।

বললেন, ‘ওরা তো সবাই ভিন্ন ভিন্ন লোক। প্রথম জন আমি যা বললাম তাই বিশ্বাস করবে। দ্বিতীয় জন আমি যা বললাম তা ভুল প্রমাণ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠবে। আর তৃতীয় জন কেবল সেটাই বিশ্বাস করবেন যা তার বিশ্বাস করার কথা। ’ 

গল্প ২
কিতোর বয়স যখন ১২ তখন তাকে শিক্ষকের কাছে পাঠানো হলো। বারো বছর ধরে সে জ্ঞানার্জন করলো। ২৪ বছর বয়সে সে তার শিক্ষাকাল সমাপ্ত করে ঘরে ফিরে এলো। সে তখন বেশ গর্বিত। 

তার বাবা তাকে বললো, ‘তুমি তো অনেক কিছু শিখে এলে। তুমি তো খুব শিক্ষত। এখন আমাকে বলো আমরা দেখি না এমন জিনিসকে কিভাবে মানবো? কেমন করো বুঝবো যে সর্বক্ষমতাধারী ভগবান সব জায়গায় আছেন।’

তরুণ কিতো তখন নানা ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেয়া শুরু করলো। নানা রকমের বাণী আওড়াতে লাগলো। বাবা তাকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, ‘এই তো বড় জটিল সব কথা বলছো বাবা। ভগবানের অস্তিত্ব আছে এটি বোঝানোর সহজতর কোন উপায় কি নেই?’
‘না, বাবা। আমি যা জানি তাই বললাম। আমি একজন শিক্ষিত লোক। আমাকে নিজের শিক্ষা ও বিদ্যা ব্যবহার করে সব কিছু ব্যখা করতে বলা হয়েছে। ঐশ্বরিক জ্ঞানও বোঝাতে হলে উদ্ধৃতি লাগবেই।’

‘নাহ, তোমার পেছনে আমি অহেতুক অর্থ অপচয় করেছি। খামাখায় তোমাকে আমি আশ্রমে শিক্ষা নিতে পাঠিয়েছিলাম। এসো আমার সাথে।’
তিনি পুত্রকে হাতে ধরে টেনে নিয়ে গেলেন। রান্না ঘরে গেলেন তারা। তিনি সেখানে একটা বড় পাত্র নিলেন। তারমধ্যে লবণ মেশালেন। তারপর তারা একসাথে বাইরে গিয়ে একটু হাঁটাহাটি করলেন।

ফিরে এসে তিনি পুত্রকে বললেন, ‘পানির মধ্যে যে লবণটুকু আমি মিশিয়েছিলাম, সেটা নিয়ে আসো।’
কিন্তু পুত্র কিতো সে লবণ তো আনতে পারলো না। কারণ লবণ তো পানিতে মিশে গেছে।

বাবা বললেন, ‘তাহলে তুমি তো লবণটুকু এখন দেখতে পাচ্ছো না। লবণ অদৃশ্য হয়ে গেছে। এবার এক কাজ করো এই পাত্রের উপর দিকের একটু পানি চেখে দেখো।’

পুত্র চেখে দেখে জানালো এর স্বাদ নোনতা। পিতা বললেন, ‘এবার পাত্রের মাছামাছি জায়গা থেকে একটু পানি পান করো।’
পুত্র তাই করলো।

‘এবার পাত্রের তলার পানি চেখে দেখো।’
পুত্র যথাবিহিত সে পানি চেখেও দেখলো নোনতা পানি। পাত্ররে উপরের, মাঝের এবং তলার পানি একই রকম নোনতা। 
বাবা বললেন, ‘তুমি এতো বছর ব্যয় করলে পড়ালেখায়। কিন্তু সহজ করে বুঝতে পারলে না অদৃশ্য ঈশ্বর কেমন করে সবখানে একই সাথে থাকতে পারে! এই একপাত্র পানি আর লবণ দিয়ে আমি একজন কৃষককেও ব্যাপারটা বোঝাতে পারি। এতো তত্ত্ব কথা আর জ্ঞানের জটিলতা লাগে না মহাপ্রভূকে বুঝতে। আর সেই জ্ঞান ভুলে যাওয়াই ভালো যে জ্ঞান বিভাজন আনে।’ 
পুত্র কিতো মাথা নিচু করে নিজের নখ কামড়াতে লাগলো।

গল্প ৩
সাধু তেৎসুগেন একটা স্বপ্ন বা ইচ্ছা ছিলো। তিনি চেয়েছিলেন জাপানী ভাষায় সকল পবিত্র গ্রন্থগুলো একত্রে প্রকাশ করবেন। নিজের এই স্বপ্নপূরণের জন্যে তার অনেক টাকা লাগবে। তিনি সাধু সন্ত মানুষ। অতো টাকা পাবেন কোথায়। তাই টাকার সংগ্রহের জন্য পথে নামলেন। বহু জায়গা ঘুরে তিনি টাকা সংগ্রহও করে ফেললেন।

যখন পর্যাপ্ত টাকা হাতে এলো তিনি ফিরে এলেন নিজের মাটিতে। কিন্তু এসে দেখেন উজি নদীতে বান নেমেছে আর বন্যায় ভেসে গেছে চারপাশের লোকালয়। বন্যার্ত মানুষেরা ভয়ঙ্কর দূর্দশায় পড়ে গেছে। তেৎসুগেন তার সংগ্রহীত সব টাকা মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। গৃহহীন ঘর তুললো, খাদ্যহীন খাবার পেলো।

তারপর তিনি আবার বেরিয়ে পড়লেন। দুয়ারে দুয়ারে সাহায্য ভিক্ষা চাইতে লাগলেন। তিনি তার গ্রন্থ প্রকাশের স্বপ্ন পূরণের জন্য আবার টাকা যোগাড় করতে লাগলেন। মানুষ চাইলে কী না-পারে। তিনি জাপানের এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে ঘুরে ঘুরে ঠিকই পর্যাপ্ত টাকা পেয়ে গেলেন। আবার ফিরে এলেন নিজের ঘরে। তিনি তখন ক্লান্ত, খানিকটা বিধ্বস্তও।

কিন্তু ঠিক সেই সময় পুরো ইদো সাম্রাজ্যে কলেরার মহামারি নেমে এলো। দেশ তখন মৃত্যুপুরী। অসুস্থ্য মানুষ চিকিৎসা পায় না, সেবা পায় না, খাদ্য পায় না। সন্ত তেৎসুগেন আবার তার টাকা বিলিয়ে দিলেন। অসুস্থ, আর্ত, অসহায় পরিবারদের তিনি অর্থ সাহায্য দিলেন। তার বইটি এবারও প্রকাশ করা হলো না।

কিন্তু সাধু তেৎসুগেন বিচলিত হলেন না। আবার তিনি পথে নামলেন টাকা সংগ্রহের আশায়। দ্বারে দ্বারে ঘুরতে লাগলেন তিনি। 
অবশেষে বিশ বছরের চেষ্টায় তিনি পবিত্র গ্রন্থের সাত হাজার কপি ছাপতে সক্ষম হলেন।

জ্ঞানীরা বলেন যে, সবাই দেখেছে সাধু তেৎসুগেন পবিত্র গ্রন্থসমূদের একটি মাত্র সংস্করণ করেছেন। কিন্তু আসলে তিনি তিনবার পবিত্র ধর্মগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন, তবে প্রথম দু’বারের পবিত্র গ্রন্থগুলো বইয়ের পাতায় নেই, রয়েছে মানুষের মনে।   
গল্প সমাপ্ত।
কি বুঝলেন?
কিছু বলতে ইচ্ছা করলে কমেন্ট বক্সে বলে যান। 
চাইলে এই গল্পদুটো আপনারাও শেয়ার করতে পারেন।
শুভ রাত। সবার শুভ হোক।

গল্পগুলো আমি প্রিয় Jisu Baruaকে উৎসর্গ করলাম। সে আমাকে বুদ্ধের বাণী আর গল্পের অনেক বই উপহার দিয়েছিলো। 
ইফতারি জার্নাল, মুম রহমান
#ইফতারিজার্নাল, #মুমরহমান

পরবর্তী খবর

বলা যায় এটা সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, জঙ্গি তৎপরতা

অনলাইন ডেস্ক

বলা যায় এটা সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, জঙ্গি তৎপরতা

গতকাল (৯ মে) ছিল বিশ্ব মা দিবস। বিশেষ এই দিনে মাকে শ্রদ্ধা জানাতে অনেকেই মায়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগাভাগি করেছেন।

তেমনই একটি ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। ক্যাপশনে লেখেন ‘মা’। মায়ের সঙ্গে সন্তানের এমন স্থিরচিত্রও পড়েছে সাম্প্রদায়িকতার রোষানলে। নেটিজেনদের কেউ কেউ চঞ্চলের ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। তবে অধিকাংশই এই সকল বিরূপ মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন।

ধর্ম নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠতেই অস্বস্তি প্রকাশ করেন ‘আয়নাবাজি’খ্যাত এই অভিনেতা। প্রতিবাদও করেছেন।

জানিয়ে দেন- ধর্ম নয়, মানুষ হিসেবেই তার পরিচয়টা মুখ্য। এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। তিনি এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন-

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও অভিনেত্রী ভাবনার সাথে ফেসবুকে তাদের ও তাদের মায়ের ধর্ম পরিচয় নিয়ে যা করা হয়েছে সেটা সাধারণ কোনো সাইবার বুলিং নয়। বলা যায় সাম্প্রদায়িক আক্রমণ। ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য জঙ্গি তৎপরতা হিসেবে দেখা উচিত রাষ্ট্রের...

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

আপনি শান্তিতে কাজ করতে থাকুন চঞ্চল চৌধুরী

ফাহমিদুল হক

আপনি শান্তিতে কাজ করতে থাকুন চঞ্চল চৌধুরী

কট্টর মুসলমানদের তো এক অভিনেতার পেইজে /প্রফাইলে আসার কথা নয়। যেহেতু তিনি ইমেজের কারবারি, তিনি পরিত্যাজ্য, হিন্দু হলে পরিত্যাগ-উপলক্ষ্য হিসেবে বরং তিনি আদর্শ।

মডারেট মুসলমানদের অনেকে কিরকম ভালনারেবল থাকেন, তা এই ঘটনায় প্রমাণ হয়। চঞ্চল চৌধুরীর ধর্মপরিচয় জানামাত্র কেউ কেউ তাকে পরিত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার মডারেট মুসলমানের ওপর আস্থা হারালেও চলে না। ওরকম মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শক্তভাবেই হয়েছে। চঞ্চল শেষ অব্দি মানসিক শান্তিই পাবেন। আপনি শান্তিতে কাজ করতে থাকুন চঞ্চল চৌধুরী।

কিন্তু এরকম মহাখ্যাত অভিনেতার এরকম বেসিক এক তথ্য না জেনে এ কেমন ফ্যানলিভিং!?

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

এতো এতো ধর্মের দেশে, এতো অর্ধম কি করে হয়

রাউফুল আলম

এতো এতো ধর্মের দেশে, এতো অর্ধম কি করে হয়

অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ফেইসবুকে মা’কে নিয়ে ছবি দিয়েছেন। মায়ের সাথে সন্তানের ছবি—কতো পবিত্র, কতো সুন্দর। সে পোস্টেও তিনি ধর্মীয় রোষানলের শিকার।

পৃথিবীর সেরা অলরাউন্ডার সাকিব তার স্ত্রীকে নিয়ে ছবি দিলে, সেখানেও ধর্মীয় রোষানল।
ক্রিকেটার মুস্তাফিজ তার স্ত্রীকে নিয়ে ছবি দিলো! সেখানেও ধর্মের বাণী। ধর্মের পরামর্শ। ধর্মের শিক্ষা।

আপনি মা’কে নিয়ে ছবি দিতে পারবেন না। বোনকে নিয়ে কিংবা স্ত্রীকে নিয়ে ছবি দিতে পারবেন না। লোকজন এসে আপনাকে ধর্ম শিক্ষা দেওয়া শুরু করবে। কী জঘন‍্য!

আপনি বিজ্ঞান নিয়ে কিছু লিখবেন—সেখানে লোকজন ঝাপিয়ে পড়বে ধর্মজ্ঞান নিয়ে। সত্য ধর্ম, মিথ্যা ধর্ম, বিজ্ঞান ভিত্তিক ধর্ম, শ্রেষ্ঠ ধর্ম—এমনসব বিতর্কে জড়াবে। অশ্রাব‍্য ভাষায় কমেন্ট করবে।

আপনি হয়তো এমন বিষয়ে লিখেছেন, যেটার সাথে ধর্মের দূরতম সম্পর্ক নেই—সেখানেও কেউ না কেউ এসে ধর্ম নিয়ে ঢুকে পড়বে। তারপর শুরু হবে যুদ্ধ। নোংরামি। এইসব ইতরদের হাত থেকে যেনো রেহাই পাওয়াটাই দূরহ! 

ধর্ম ছাড়া যেনো আর ভাবার মতো, বলার মতো, প্রকাশের মতো কোন শব্দ নেই। বাক‍্য নেই। 

এতো এতো ধর্মের দেশে, এতো অর্ধম কি করে হয়—সেটা ভেবে দিশেহারা হই! আমাদের মুখে যতো ধর্ম, কর্মে ততোই দূষণ!

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর

ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলোকে দোষ দিয়ে আর লাভ কী?

শওগাত আলী সাগর

ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলোকে দোষ দিয়ে আর লাভ কী?

১. বিমানে কিংবা প্রাইভেট কারে যারা এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যান-তারা পথে পথে ভাইরাস ছড়ানোর কিংবা নিজে সংক্রমিত হওয়ার পথ তৈরি করে যান না। তাদের এই যাত্রাটা তূলনামূলক ঝুঁকিহীন। কিন্তু গাদাগাদি করে ফেরিতে যাওয়া মানুষগুলোর সাথে  বিমানে বা প্রাইভেট কারে কোথাও যাওয়ার তূলনা যারা করেন এবং বৈষম্য খুঁজে পান- তারা আসলে বিজ্ঞান বোঝেন না, এক বছরেও কোভিড ভাইরাস সম্পর্কে তারা কোনো খোঁজ খবর রাখেননি। সেটি মিডিয়া হোক, সাংবাদিক হোক, রাজনীতিক হোক আর আম জনতা হোক।

২. আমি শুরু থেকেই ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলোকে দোষারুপ করা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছি। বরং প্রশ্ন করেছি, আমরা কি তা হলে এদের কাছে সঠিক বার্তাটুকু পৌঁছাতে পারিনি! যে বার্তা তাদের কাছে গেলে মহামারী সম্পর্কে অন্য মানুষের, নিজের স্বজনদের পরিবারকে বিপদে ফেলার ভয় তাদের মধ্যে তৈরি হবে!

৩. ঈদ যাত্রা নিয়ে যারা বৈষমের প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছে, ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষগুলোকে দোষ দিয়ে আর লাভ কী। আমরা নিজেরাই তো ‘আসলে বার্তাটা কি’ তা শিখে উঠতে পারিনি। আমরা অন্যকে, দেশের সাধারণ মানুষকে আর কী শেখাব!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv তৌহিদ

পরবর্তী খবর