সামনের নির্বাচন ভালো হবে, রক্তপাত হবে না: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক

সামনের নির্বাচন ভালো হবে, রক্তপাত হবে না: সিইসি

এরপর থেকে যে নির্বাচন হবে, ভালো হবে। সুষ্ঠু হবে সংঘাত-সংঘর্ষ হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

তিনি বলেছেন, কোথাও কোথাও ভোটে সংঘাত হয়। এগুলো চলে গেলে খুশি হব, কিন্তু যাচ্ছে না। আজকেও আমরা চট্টগ্রাম, যশোরে কথা বলেছি। ১৪ তারিখ ভালোবাসা দিবসের নির্বাচনকেও ভালোবেসে ফেললাম। আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে যা যা দরকার আমরা সব ঠিকভাবে দেখেছি।

আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসির (আরএফইডি) নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

কে এম নূরুল হুদা বলেন, এত রক্তপাত হয়েছে, এতো সংঘাত হয়েছে- তা নয়। কিছু হয়েছে তা প্রার্থীদের কারণে। প্রচুর পুলিশ, র‌্যাব ও ম্যাজিস্ট্রেট থাকে তারপরও হঠাৎ ঘটনা (সংঘাত) ঘটে যায়। এটা অপ্রত্যাশিত। এতে আমাদের করার কিছু থাকে না। তবে এতে ব্যাপকভাবে সংঘাত হয়েছে তা বলা যাবে না। পুরো নির্বাচনে ৩-৪টি জায়গায় সংঘাত ঘটেছে।

তিনি বলেন, তবে যেগুলো হয়েছে আমাদের কাম্য নয়। এগুলো হয় প্রার্থী ও প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে। আমাদের পুলিশ থাকে, কিন্তু একটা ঘটনা ঘটে গেলে তো কিছু করার থাকে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য থাকে, ম্যাজিস্ট্রেট থাকে। তারপরও এগুলো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। প্রার্থী ও প্রার্থীদের সমর্থকদের সহনশীল থাকতে হবে। আর আমাদের প্রচেষ্টা তো আছেই। তবে এটাকে ঢালাওভাবে বলবেন না। ব্যাপকভাবে হয়েছে তা নয়।

আরও পড়ুন:


বিএনপির ডাকা চট্টগ্রামের সমাবেশ স্থগিত

বাঙালীদের আত্মপরিচয় ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে: মহাদেব সাহা

সেবা বৈষম্য নিয়ে ক্ষুব্ধ নতুন যুক্ত ওয়ার্ডের বাসিন্দারা

কমলাপুর স্টেশন অক্ষত রেখেই মেট্রোরেলের পরিকল্পনা


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কোনো বার্তা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা তাদের অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রাখি। প্রত্যেকটি জায়গায় র‍্যাব, বিজিব, আনসার সদস্য আছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২ থেকে ১৮ জন আর্মড পুলিশ এবং আনসার নিয়োজিত থাকবে। তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনাররা কথা বলেছেন। তারা আরো সুষ্ঠুভাবে তদারকি করবে। আগামী ১৪ তারিখ যে নির্বাচন আছে, সেগুলো তারা মনিটর করবে। কোনো জায়গায় খারাপ খবর পেলে, কমিনাররা কথা বলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন।

দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপি রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ২২ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ছয় ধাপে চার হাজারেরও বেশি ইউপির ভোট হয়েছিল। সেবারই প্রথম দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছিল। এবারও দলীয় প্রতীকে হবে।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এইচ টি ইমামের জানাজা ও দাফনের সময়

অনলাইন ডেস্ক

এইচ টি ইমামের জানাজা ও দাফনের সময়

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে শোকাহত পুরো আওয়ামী লীগ পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে কাজ করছেন তিনি। মরহুমের জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান এরইমধ্যে জানানো হয়েছে।

এইচ টি ইমামের প্রথম জানাজা তার নিজ এলাকা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) সকাল ১১টায় উল্লাপাড়া আকবর আলী সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে মরদেহ আবারও ঢাকায় নিয়ে আসা হবে।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:


এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর শোক

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক

বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের গুরুত্ব, উচ্চারণ ও অনুবাদ

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


এইচ টি ইমাম বুধবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুবরণ করেন। গত কয়েক দিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার থেকে তার শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হয়।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর শোক

অনলাইন ডেস্ক

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর শোক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (০৪ মার্চ) এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম-এর মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া এবং চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করা এইচ টি ইমাম ২০১৪ সাল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

আরও পড়ুন:


এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে ওবায়দুল কাদেরের শোক

বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের গুরুত্ব, উচ্চারণ ও অনুবাদ

নামাজের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ১৪টি কাজ

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক


১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকারের চাকরিতে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ত্যাগ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন এইচ টি ইমাম। পরবর্তীতে, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হন তিনি।

এর আগে বুধবার (০৩ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এইচ টি ইমাম।

মৃত্যুকালে হোসেন তৌফিক ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছিল।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

অনলাইন ডেস্ক

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (০৩ মার্চ) রাতে আলাদা বার্তায় তারা এ শোক প্রকাশ করেন।

শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এইচ টি ইমামের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে আজীবন কাজ করে গেছেন। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সদ্য স্বাধীন দেশে সরকার পরিচালনায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুম এইচ টি ইমামের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আরও পড়ুন:


এইচ টি ইমাম আর নেই

এশিয়ায় বিস্ময়কর ‘ডিজিটাল লিডার’ বাংলাদেশ

১২ তলা থেকে পড়েও বেঁচে আছেন তিন বছরের শিশু (ভিডিও)

তৃতীয় দফা করোনা টেস্টেও তামিমরা নেগেটিভ


উল্লেখ্য, বুধবার (০৩ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এইচ টি ইমাম।

মৃত্যুকালে হোসেন তৌফিক ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি কিডনির জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। তাকে অসুস্থ অবস্থায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছিল।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এইচ টি ইমাম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

এইচ টি ইমাম আর নেই

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আর নেই। বুধবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি....রাজিউন)।

এইচ টি ইমাম দীর্ঘদিন ধরেই কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে অসুস্থতা বাড়লে তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হোসেন তৌফিক ইমাম।  তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এইচ টি ইমাম নামেই বেশি পরিচিত।  ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণকারী সাবেক এ সরকারি কর্মকর্তার বর্তমান বয়স ৮২ বছর।


পাপুলের আসনে উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

বিক্রি হওয়া সেই শিশু ফিরে পেলেন মা

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ সৌন্দর্য

১২ তলা থেকে পড়েও বেঁচে আছেন তিন বছরের শিশু (ভিডিও)


১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর পর তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে ক্যাবিনেট সচিবের দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ১৯৭৫-এর ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ক্যাবিনেট সচিবের পদে নিযুক্ত ছিলেন। 

১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি সড়ক এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব-এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত পরিকল্পনা সচিবের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ও স্বাধীন বাংলাদেশ পরিচালনায় তার অবদান ছিল স্মরণীয়। দেশের নির্বাচন পরিচালনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এইচ টি ইমাম। তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হলো। 

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এশিয়ায় বিস্ময়কর ‘ডিজিটাল লিডার’ বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

এশিয়ায় বিস্ময়কর ‘ডিজিটাল লিডার’ বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউজউইক’ এ বুধবারে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। তার শিরোনাম হল ‘বাংলাদেশ: এ সারপ্রাইজ ডিজিটাল লিডার ইন এশিয়া’

প্রবন্ধটি তুলে ধরা হলো-

এক দশকেরও বেশি আগে বাংলাদেশ ঘোষণা করেছিল, প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী বা ২০২১ সালের মধ্যে প্রযুক্তিতে অগ্রগামী দেশ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। আমরা যে এটা করতে পারব তা খুব বেশি মানুষ বিশ্বাস করেনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে যখন দায়িত্ব নিলেন তখন দেশের মাত্র ২ কোটি মানুষের হাতে মোবাইল ফোন ছিল। অথচ এখন কমপক্ষে ১২ কোটির বেশি বাংলাদেশির হাতে মোবাইল ফোন এবং লাখ লাখ মানুষের কাছে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ আছে, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। ফলে জীবন উন্নত ও নিরাপদ হয়েছে দেশের অগণিত মানুষের।

২০০৯ সালে উচ্চাভিলাষী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয় দ্রুত সেবা দেওয়া, কাগজভিত্তিক সরকারি সেবাকে ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনভিত্তিক প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সহজ করে তোলার লক্ষ্যে। ই-সিগনেচার ও ইলেকট্রনিক ফাইলিং ব্যাপকভাবে চালু করা হয়।

সরকার সারাদেশে ৮৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের একটি নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করেছে, যার মাধ্যমে জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সব ধরনের সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। জন্ম নিবন্ধন, চাকরি প্রাপ্তি ও অনলাইনে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি অনেক সহজ হয়েছে। অনেক জাতীয় কর্মসূচি এখন অনলাইনে চলে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছর লকডাউন দেওয়া হয়, তখনও সরকারি সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

নতুন একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আদালতের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। কৃষিভিত্তিক একটি পোর্টাল থেকে কৃষকরা আবহাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও অন্যান্য তথ্য পাচ্ছেন। কোভিড-১৯ সম্পর্কিত তথ্য সাধারণ নাগরিকদের মোবাইলের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম সরকারি পোর্টাল, যার মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের সরকারি সেবা পাওয়া যায়। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো- সরকারি শতকরা ৮৫ সেবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শতকরা ১০ ভাগ সেবা পৌঁছে যাবে তাদের ঘরের দরজায়। আর বাকি শতকরা সেবা পেতে মানুষকে সরকারি অফিসগুলোতে যেতে হবে।

পাসপোর্ট পাওয়া থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনসহ সবকিছুই পাওয়া যায় অনলাইনে। এ সফলতার একটি মূল উপাদান মোবাইল ফোন। বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে টোল-ফ্রি জাতীয় জরুরি সেবা হেল্পলাইন ৯৯৯- দুর্ঘটনা, সাইবারক্রাইমসহ যে কোনো অপরাধ, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, অগ্নিকাণ্ড এবং জরুরি চিকিৎসা সেবায় নাগরিকরা এটি ব্যবহার করেন।

ধন্যবাদ সম্মিলিত জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য কৌশলের প্রতি। টেলিমেডিসিন এখন শুধু সম্ভবই নয়, একটি সাধারণ বিষয়, বিশেষ করে অনগ্রসর গ্রামীণ এলাকায়। এ কর্মসূচি মৌলিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে থাকে, যা একটি সুস্থ জাতি গঠনে নেতৃত্ব দেয়। এ ছাড়া সরকার আরও বেশি জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠেছে। সরকারি সেবা বা পণ্য সম্পর্কে অনলাইনে অভিযোগ জমা দেওয়া যায় সহজেই।

ব্যাপক সংযুক্তি দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করছে। দক্ষ ও ডিজিটাল জ্ঞানসম্পন্ন কর্মশক্তি গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং প্রতি বছর ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েট কর্মী তৈরি হচ্ছে। শুধু গত বছর তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় এসেছেন কমপক্ষে ৬৫ হাজার মানুষ।

ডিজিটাল সেন্টারগুলোই কর্ম সৃষ্টির নিয়ামক। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনটি পদের মধ্যে কমপক্ষে একজন নারী। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। ফলে বাংলাদেশ হলো সাইবার কর্মীদের জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র। এই সুযোগ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে যুব সমাজ। অতীতে তাদের বেশিরভাগই নিজেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে জীবন বেছে নেওয়ার কথা কল্পনাও করতেন না। কিন্তু বর্তমানে তরুণ বাংলাদেশিরা ক্রমবর্ধমান হারে শহরমুখো, গতিশীল এবং নতুন অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে প্রস্তুত।

ডিজিটালাইজেশন থেকে দারুণ সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ লাখের বেশি প্রযুক্তি পেশাদার কাজে যুক্ত হয়েছেন। আছেন ১০ হাজারের বেশি প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোক্তা। সবমিলে, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সেবা থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ১০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনছেন। এ ছাড়া সাশ্রয় হচ্ছে ২০০ কোটি ঘণ্টা সময়, ৮০০ কোটি ডলার এবং সরকারি অফিসে ১০০ কোটি বার যাওয়া।

আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশ ঊর্ধ্বপানে ছুটে চলেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম যোগাযোগবিষয়ক স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করে। এই স্যাটেলাইট নানাবিধ টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

এক বিস্ময়কর আরোহণ!

২০০৮ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক অভ্যন্তরীণ জাতীয় প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) হার ছিল শতকরা প্রায় ৫ ভাগ। কিন্তু বর্তমানে এটা শতকরা ৮ ভাগের ওপরে। সহজলভ্য উচ্চমাত্রার যোগাযোগ ব্যবস্থা এই প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। তবে তার কোনোটিই বাংলাদেশের ইন্টারনেট যুগের নাটকীয় অগ্রগতির চেয়ে বেশি চমকপ্রদ নয়। এমনকি এখন আমরা আমাদের ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের রফতানি করছি।

এশিয়ায় আমাদের প্রতিবেশী মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কায় ডিজিটালাইজেশনের কাজে সহায়তা করছেন বাংলাদেশি প্রশিক্ষকরা। এটা যে সম্ভব মাত্র এক দশক আগে কেউ তা চিন্তাও করতে পারতেন না।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর