আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় যে চার তাসবিহ

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় যে চার তাসবিহ

তাসবিহ পাঠ করার সময় অনেকেই অনেকভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে থাকেন, তবে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় বাক্য চারটি, তার যে কোনটি দিয়েই শুরু করাতে তোমার কোনো ক্ষতি নেই। আর তা হলো - 
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ 
উচ্চারণ: সুবহানাল্লা-হি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার
আল্লাহ পবিত্র-মহান। সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান।

সালাতুত তাসবিহ পড়ার নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সালাতুত তাসবিহ, তাসবিহের নামাজ নামেও পরিচিত। এই নামাজে তিনশতবার তাসবিহ পাঠ করা হয়। আর তাসবিহ বলতে ‘সুবাহানাল্লাহ, ওয়াল হামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’ এ শব্দগুলো বোঝানো হয়েছে। যে নামাজে এসব তাসবিহ পড়ানো হয় তাই সালাতুত তাসবিহ।

হাদীস শরীফে ‘সালাতুত তাসবিহ’র অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে। এই নামাজ পড়লে পূর্বের গুনাহ বা পাপ মোচন হয় এবং অসীম সওয়াব পাওয়া যাবে। সালাতুত তাসবিহ বাধ্যতামূলক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মতো নয়। আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) তার অনুসারীদেরকে এ নামাজ পালনে উৎসাহিত করছেন। জীবনে একবার হলেও মুসলমানরা যেন এ নামাজ পড়ে সে বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
 
এই নামাজ সম্ভব হলে দৈনিক একবার, তা না হলে সপ্তাহে একবার, তা না হলে মাসে একবার, যদি তাও না হয় বছরে একবার পড়া উচিত। যদি এটাও সম্ভব না হয় তাহলে জীবনে একবার হলেও নামাজটা পড়ে নেবেন। বিখ্যাত ওলামায়ে কেরামদের মতে, বিপদ-আপদ এবং চিন্তার অবসানের জন্য সালাতুত তাসবিহের চেয়ে কার্যকর নামাজ আর নেই।

সালাতুত তাসবিহ নামাজের নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ নামাজ চার রাকাত। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর, যে কোনো সুরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাজের বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে, চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ পড়তে হবে।

তাসবিহ: (اَكْبرُ سُبْحاَنَ الله وَالْحَمدُ للهِ وَلآَ اِلَهَ اِلاَّاللهُ وَاللهُ) উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

আরও পড়ুন:


আরো ২০ লাখ ডোজ টিকা আসছে

সুখবর আসছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর

চার বছরে নির্বাচন কমিশন ঘিরে যত বিতর্ক

বিএনপি এখন গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সেজেছে: ওবায়দুল কাদের


১ম রাকাত এ সানা পড়ার পরে তাসবিহ টি ১৫ বার পড়তে হবে। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা অথবা অন্তত তিন আয়াত পড়ার পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।

এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবিহ পরার পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে।
এরপর রুকু হতে দাড়িয়ে গিয়ে “রাব্বানা লাকাল হামদ” পড়ার পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে।
এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবিহ পরে তাসবিহ টি ১০ বার পড়তে হবে ।
তারপর একই ভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে, ( সুরা ফাতিহা পড়ার আগে তাসবিহ টি ১৫ বার পড়তে হবে ।)

অতপর ২য়রাকাত এর ২য় সিজদার পর “আত্তহিয়্যাতু…” পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে , ২য় রাকাত এর মতো ৩য় এবং ৪র্থ রাকাত একই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে (তাসবিহ টি ১৫ বার পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়তে হবে) ।

কোন এক স্থানে উক্ত তাসবিহ পড়তে সম্পূর্ণ ভুলে গেলে বা ভুলে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম পড়লে পরবর্তী যে রুকনেই স্মরণ আসুক সেখানে তথাকার সংখ্যার সাথে এই ভুলে যাওয়া সংখ্যাগুলোও আদায় করে নিবে। আর এই নামাযে কোন কারণে সাজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে সেই সাজদা এবং তার মধ্যকার বৈঠকে উক্ত তাসবিহ পাঠ করতে হবে না। তাসবিহের সংখ্যা স্মরণ রাখার জন্য আঙ্গুলের কর গণনা করা যাবে না, তবে আঙ্গুল চেপে স্মরণ রাখা যেতে পারে।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়

অনলাইন ডেস্ক

যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়

রোজা একটি ফরজ ইবাদত। এই রোজা পালনের কিছু বিধি-বিধান রয়েছে। সেগুলো মেনে অত্যন্ত পবিত্রতার সাথে রোজা পালন করতে বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মে। ছোটখাটো কিছু ভুল থেকে শুরু করে বড় বড় কিছু কাজে রোজা মাকরুহ হয়ে যেতে পারে। এর পবিত্রতা নষ্ট হতে পারে।

মাকরুহ কী : মাকরুহ অর্থ অপছন্দনীয়। যে সকল কাজ করলে গুনাহ হয় না কিন্তু কাজগুলোকে অপছন্দ করা হয়েছে ইসলামে, সেসব কাজগুলোই মাকরুহ।

অনেকের প্রশ্ন থাকে যে, কেন মাকরুহ হয় রোজা? এবার তাহলে রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণগুলো জেনে নেয়া যাক-

১. সারাদিন সঠিকভাবে রোজা করার পরও সন্ধ্যায় যদি হারাম খাদ্য দিয়ে ইফতার করা হয় তাহলে রোজা মাকরুহ হবে।

২. কারণ ছাড়া কোনো কিছু চিবুতে থাকলে।

৩. কোনো কিছু সরাসরি মুখে পুরে রাখলেন, না খাওয়ার পরও মাকরুহ হবে রোজা।

৪.পানি দিয়ে মুখ গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়ায় মাকরুহ হয় রোজা। এসব করার সময় পানি যদি পেটে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

৫.স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যদি মুখের লালা পেটে যায় তাহলে সমস্যা নেই। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে 

৬.দীর্ঘক্ষণ মুখে থুথু জমিয়ে রেখে গিলে ফেললে মাকরুহ হবে রোজা।

৭.সারাদিন শরীর যদি নাপাক (অপবিত্র) থাকে তাহলেও মাকরুহ হবে রোজা।

৮.কোনো বিষয়ে অস্থির হয়ে উঠলে বা কোনো কারণে কাতরতা দেখালেও কোনো কোনো ব্যাখ্যায় রোজা মাকরুহ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

৯. পেস্ট, মাজন ও পাউডার দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করলে মাকরুহ হয়ে যায় রোজা।

১০. গুল ব্যবহার করা মাকরুহ এবং থুথুর সঙ্গে যদি মুখের গুল গলার ভেতরে প্রবেশ করে তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।


কী পরিণতি হলো পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করা সেই যুবকের

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যা বললেন হেফাজত নেতারা

বাংলা ভাষা থেকে তুই তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

সোনারগাঁয়ের সেই ওসি রফিকুল এবার অবসরে


১১. রোজা থেকে কোনো ব্যক্তির গিবত বা পরনিন্দা করলে মাকরুহ হয় রোজা।

১২. মিথ্যা বলা মহাপাপ। রোজা রেখে মিথ্যা বললে রোজা মাকরুহ হবে।

১৩. রোজা রেখে ঝগড়া-বিবাদে জড়ালে মাকরুহ হবে রোজা।

১৪. যৌন উদ্দীপক বা উত্তেজক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এতেও মাকরুহ হয় রোজা।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা হুদে আছে মূর্তি-পূজার বিরুদ্ধে নবী-রাসূলের ভুমিকার কথা

অনলাইন ডেস্ক

সুরা হুদে আছে মূর্তি-পূজার বিরুদ্ধে নবী-রাসূলের ভুমিকার কথা

সুরা হুদ পবিত্র কুরআনের ১১ নম্বর সুরা। সুরা হুদের সব আয়াতই পবিত্র মক্কায় নাজিল হয়েছিল। বিশ্বনবী (সা.)’র চাচা হযরত আবু তালিব (আ.) ও হযরত খাদিজা (সা. আ.)’র ইন্তেকালের পর এই সুরা নাজিল হয়।

মক্কায় মহানবী (সা.)’র অবস্থানের শেষের বছরগুলোতে যখন এই সুরা নাজিল হচ্ছিল তখন মুসলমানদের ওপর শত্রুদের চাপ চরম পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। সুরা হুদে রয়েছে ১২৩ আয়াত ও দশটি রুকু।

এই সুরার বেশিরভাগ অংশেই এসেছে ইসলামের নানা মূল নীতি ও বিশেষ করে, হযরত নুহ (আ.)’র ঘটনাসহ শির্ক আর মূর্তি পূজার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জড়িত অতীতের অনেক নবী-রাসূলের জীবনের ঘটনা ।

সূরা হুদের ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিরোনাম হল: আল্লাহই জীবিকাদাতা, আকাশ ও পৃথিবীর ছয় দিনে সৃষ্টি হওয়া, মনুষের অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য, রাসূল (সা.)-এর উপদেশ, কুরআনের বাস্তবতার প্রমাণ, রাসূলের সাক্ষী কে, হযরত নুহ (আ.)-এর ঘটনা, অবাধ্যতার কারণে তাঁর সন্তানের বংশচ্যুত হওয়া, হুদ (আ.)’র জাতির ঘটনা, তওবা ও ইস্তিগফারের উপকারিতা, হযরত সালেহ (আ.)-এর ঘটনা, হযরত ইসহাক (আ.)-এর জন্মগ্রহণ, হযরত লূত (আ.)-এর ঘটনা, হযরত শোয়াইব (আ.)-এর ঘটনা, আখেরি ইমাম হযরত ইমাম মাহদি (আ.)- সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী, হযরত মুসা (আ.)-এর ঘটনা, মু’মিনদের জন্য দৃঢ়তার উপদেশ এবং শত্রুর ব্যাপক ঘৃণা ও তীব্র হামলা সত্ত্বেও ময়দান খালি করে না দেয়া, মৃত্যু-পরবর্তী জীবন, কিয়ামতের দিন মানুষের দু’ধরনের শ্রেণী-বিভাগ, জালিমকে সাহায্য করাও জুলুম এবং পাঁচ ওয়াক্তের নামায ইত্যাদি।

এই সুরার নাম হুদ রাখা হয়েছে। কারণ, এ সুরার ৫০ থেকে ৬০ নম্বর আয়াতে খুব সুন্দরভাবে হুদ (আ.)’র জীবনের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

সুরা হুদের ৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহকে রিজিকদাতা ও সব বিষয়ে জ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে:

'আর পৃথিবীতে কোনো জীব বা প্রাণী নেই, যার জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ নেননি, তিনি তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী আবাসস্থল সম্পর্কেও জানেন। সবকিছুই সুস্পষ্ট কিতাবে (সংরক্ষিত)রয়েছে।'

মহান আল্লাহ সব জীবের কেবল স্রস্টাই নন, তাদের জীবিকাও দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও আল্লাহ আলো, পানি, অক্সিজেন, তাপ ও বাতাসসহ এমন সব উপকরণ যুগিয়ে দেন যাতে তারা জীবিত থাকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত। মায়ের গর্ভের শিশু ও গহীন অরণ্যের ক্ষুদ্র জীব এবং গভীর সাগরের প্রাণী থেকে শুরু করে সব জীবই জীবনের এইসব উপকরণ পেয়ে থাকে। অবশ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবিকা দান ও মানুষের প্রচেষ্টা সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় নয়। হালাল ও পবিত্র রিজিক প্রচেষ্টা ছাড়া অর্জিত হয় না।

সুরা হুদের ২৬টি আয়াতে হযরত নুহ (আ.) জীবনের শিক্ষণীয় কিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে। নুহ (আ.)'র জাতি ছিল অত্যন্ত দুর্বিনীত ও অত্যাচারী। সুরা হুদের ২৫ ও ২৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

'আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির কাছে পাঠিয়েছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী।

তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করবে না। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আজাবের ভয় করছি।'

হযরত নুহ (আ.)'র যুগে তার জাতির মধ্যে নৈরাজ্য ও অনাচার ছড়িয়ে পড়েছিল। লোকেরা ন্যায়বিচার ও একত্ববাদের ধার ধারতো না এবং মূর্তি পূজা করতো। সে সময় ধনী ও দরিদ্রদের ব্যবধান দিনকে দিন বাড়ছিল। সবলরা দুর্বলদের অধিকার পদদলিত করতো। আর এ অবস্থায় নুহ (আ.)-কে নবী হিসেবে মনোনীত করেন মহান আল্লাহ এবং তাঁকে দান করেন ধর্মগ্রন্থ ও খোদায়ী বিধান তথা শারিয়াত। কিন্তু নুহ (আ.)'র জাতির লোকেরা এই মহান নবীর আহ্বানগুলো প্রত্যাখ্যান করে। শুধু তাই নয়, তাদের নেতৃস্থানীয়রাও নুহ নবীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তারা বলে যে, হে নুহ! তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ। যারা তোমার অনুসারী তারা সরলমনা বা বোকা মানুষ ও বিভ্রান্ত। আমাদের চেয়ে তোমার মধ্যে বেশি কিছু তো দেখছি না। আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলেই মনে করছি।

নুহ (আ.) তার জাতির লোকদেরকে খোদায়ী শাস্তির ভয় দেখালেন এবং তাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যেতে লাগলেন। শাস্তির ভয় দেখানোর কারণ হলো এটা যে, মানুষ যতক্ষণ না বিপদ অনুভব করে ততক্ষণ পর্যন্ত নিজ অবস্থানে অনড় থাকে। যারা সচেতন তারা এইসব সতর্কবাণীর মুখে নিজেদের সংশোধনের চেষ্টা করে। কিন্তু যারা অচেতন ও বস্তুবাদী কিংবা সম্পদ ও ক্ষমতার কারণে দাম্ভিকে পরিণত হয়েছে তারা এইসব সতর্কবাণীকে গুরুত্ব দেয় না।

এ অবস্থায় নুহ (আ.) তাদের উদ্দেশে বললেন: ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কি ধারণা কর, আমি যদি আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং

তিনি যদি আমাকে তাঁর পক্ষ হতে এমন অনুগ্রহ দান করেন যা তোমাদের দৃষ্টিগোচর নয়, (তবুও কি তোমরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে?) আমি কি এ বিষয়ে তোমাদের বাধ্য করতে পারি যখন তোমরা তা অপছন্দ কর?' (হুদ-২৮)

এরপরও হযরত নুহ (আ.) খোদাদ্রোহী এই জাতিকে সুপথ দেখানোর জন্য এবং তাদেরকে বিভ্রান্তির ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো ও যুক্তি তুলে ধরা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু তারা বিভ্রান্তিতে অবিচল থাকে। তারা বললো:

'হে নুহ! তুমি আমাদের সঙ্গে অনেক কথা বলেছো। আর তর্ক করতে চাই না। যদি যা বলছো তা সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে তোমার কথিত সেই খোদায়ী শাস্তি আমাদের ওপর প্রয়োগ করো!' এভাবে তারা হযরত নুহ (আ.) আন্তরিক ও ভালবাসাপূর্ণ দাওয়াতের জবাব দিতে থাকে চরম দম্ভ, বিদ্বেষ ও অজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে। নুহ (আ.)'র জাতির খুব কম মানুষই তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।

এ পর্যায়ে মহান আল্লাহ ওহির মাধ্যমে নুহ নবীকে (আ.) জানিয়ে দেন, অল্প যে কয়জন তোমার প্রতি ঈমান এনেছে তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না। অর্থাৎ ওদেরকে সতর্ক করে বা সত্যের দাওয়াত দিয়ে আর লাভ নেই। ওরা সুপথে আসবে না। তাই দরকার পরিশুদ্ধি ও বিপ্লব। এর পরে কি হয়েছিল তা আমরা তুলে ধরবো আমাদের আলোচনার আগামী পর্বে। আশা করছি তখনও আপনাদের সঙ্গ পাব।

সুরা হুদের বাংলা অনুবাদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে দুই সুরা কিয়ামতের দিন দুই খণ্ড মেঘ হয়ে পাঠকারীর পক্ষে কথা বলবে

অনলাইন ডেস্ক

যে দুই সুরা কিয়ামতের দিন দুই খণ্ড মেঘ হয়ে পাঠকারীর পক্ষে কথা বলবে

এখন পবিত্র মাহে রমজান। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মানুষের রমজানের রুটিন ভিন্ন। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্ব ঘরবন্দি। মসজিদগুলোয় তারাবির নামাজ পর্যন্ত সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি দেখে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

এবারের ঘরবন্দি রমজান আমরা উদ্যাপন করতে পারি ভিন্নভাবে। যেহেতু এটি কোরআনের মাস, তাই এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। কারণ কঠিন কিয়ামতের দিন এই কোরআন আমাদের জন্য সুপারিশকারী হবে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন পাঠ করো। কারণ কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সে সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুটি উজ্জ্বল সুরা অর্থাৎ সুরা আল-বাকারা এবং সুরা আলে ইমরান পড়ো। কিয়ামতের দিন এ দুটি সুরা এমনভাবে আসবে যেন তা দুই খণ্ড মেঘ অথবা দুটি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাঁক উড়ন্ত পাখি, যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সুরা আল-বাকারা পাঠ করো। এ সুরাটিকে গ্রহণ করা বারাকাতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীরা এর মোকাবেলা করতে পারে না। হাদিসটির বর্ণনাকারী আবু মুআবিয়া বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে বাতিলের অনুসারী বলে জাদুকরদের বলা হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ১৭৫৯)

কোরআন এতটাই সম্মানী যে রাসুল (সা.) সর্বদা কোরআনের ধারকদের প্রাধান্য দিতেন। ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হওয়া সাহাবিদের মধ্যে যাঁরা অধিক কোরআন জানতেন তাঁদের কবরে নামানোর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ওহুদ যুদ্ধের শহীদদের দুজনকে একই কাপড়ে দাফন করেছিলেন। জড়ানোর পর জিজ্ঞেস করতেন, এদের মধ্যে কে অধিক কোরআন জানে, যখন কোনো একজনের প্রতি ইশারা করা হতো তখন তিনি তাকেই কবরে আগে নামাতেন এবং বলতেন, কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য সাক্ষী হব। সেদিন তিনি তাদেরকে তাদের রক্তসহ দাফন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদের জানাজাও পড়ানো হয়নি এবং তাদের গোসলও দেওয়া হয়নি। (বুখারি, হাদিস : ৪০৭৯)

সুরা বাকারার বাংলা অনুবাদ

সুরা ইমরানের বাংলা অনুবাদ

news24bd.tv তৌহিদ 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের দোয়া

কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে দোয়া শিখিয়েছেন। যা তুলে ধরা হলো-

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’জুবিকা মিন আ’জাবিল ক্বাবরি; ওয়া মিন আ’জাবি জাহান্নাম; ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ’ইয়া ওয়াল্ মামাতি; ওয়া মিং সাররি ফিতনাতিল্ মাসীহিদ্-দাজ্জাল।

অর্থ : হে আল্লাহ! তুমি আমাকে কাবরের আজাব থেকে রক্ষা করো,আমাকে জাহান্নামের আজাব, এবং দুনিয়ার ফিৎনা ও মৃত্যুর ফেতনা এবং দাজ্জালের ফিৎনা থেকে রক্ষা করো। (বুখারি ও মুসলিম)


সাতদিনের রিমান্ডে মাওলানা মামুনুল হক

এবার লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর

মিশরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১১

অর্থমন্ত্রীর জামাতা দিলশাদ হোসেন মারা গেছেন


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়ে কবরের আজাব থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইফতারের আগে যে দোয়াটি বেশি বেশি পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

ইফতারের আগে যে দোয়াটি বেশি বেশি পড়বেন

চলছে পবিত্র রমজান মাস। রহমতের ষষ্ঠ রমজান আজ। আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ঈমানদাররা রোজা রাখছেন। রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া ও ইফতার করা সুন্নাত। বিশেষ কিছু না পেলে সামান্য খাদ্য বা কেবল পানি পান করলেও ইফতারের সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।

ইফতার খুরমা কিংবা খেজুর দ্বারা করা সুন্নাত। তা না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে। ইফতার আয়োজনে অপচয় বা লোক দেখানো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

ইফতারের পূর্বে এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়তে হবে

يَا وَا سِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ: ইয়া ওয়াসিয়াল মাগফিরাতি, ইগফিরলী।

অর্থ: হে মহান ক্ষমা দানকারী! আমাকে ক্ষমা করুন। (শু‘আবুল ঈমান: ৩/৪০৭)

بِسْمِ اللهِ وَعَلى بَرَكَةِ اللهِ

বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আলা বারাকাতিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করবে এবং ইফতারের পর নিম্নের দুটি দোয়া পড়বেঃ

১. اَللّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلي رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়ালা রিযকিকা আফতারতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি, এবং তোমারই দেয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করলাম। (আবূ দাঊদ: ১/৩২২)


এবার লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন নুর

মিশরে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১১

অর্থমন্ত্রীর জামাতা দিলশাদ হোসেন মারা গেছেন


২. ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْـتَلَّتِ العُرُوْقُ وَثَبَتَ الاَ جْرُ اِنْ شَاءَ الله تَعَا لى

উচ্চারণ: যাহাবাযযমা ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহু তায়ালা।

অর্থ: পিপাসা দূরিভূত হয়েছে, ধমনীসমূহ সতেজ হয়েছে, এবং ইনশাআল্লাহ রোজার সওয়াব নিশ্চিত হয়েছে। (আবূ দাঊদ: ১/৩২১)

news24bd.tv নাজিম 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর