আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পচে গলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে

আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পচে গলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে

প্রথমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা মার খেলো, এরপর স্থানীয়দের মার খেলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুটো ঘটনাতেই প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।‌ 

বহুদিন ধরে বলে আসছি আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পচে গলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি-প্রোভিসি-প্রক্টরের দায়িত্বে যেসব লোকজন থাকে অধিকাংশ সময়ই তারা মেরুদণ্ডহীন। ফলে তারা শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেয়ার সাহস পায় না। 

এই তো দুদিন আগেই লিখেছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ শামসুজ্জোহা স্যারের কথা। এই দেশে তাঁর মতো শিক্ষকও ছিলেন; যিনি বলতেন আমার ছাত্রদের গুলি লাগার আগে আমার বুকে গুলি লাগবে। নিজের জীবন দিয়ে তিনি তা প্রমাণও করেছেন।‌ অথচ আজকে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা বলেন আমরা দায়িত্ব নিতে পারবো না।

না বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা আমার পেশা নয়।‌ আমি মাঝেমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেই। আমি প্রায়ই ভাবি, যাদের ক্লাস নিয়েছি কিংবা কোনদিন ক্লাস নেইনি, এমন কেউও যদি কোন বিপদে পড়ে আসে কী করে বলবো যে আমি তোমাদের দায়িত্ব নিতে পারব না? তাহলে আর আমি মানুষ থাকলাম কোথায়?

ভেবে দেখুন, এই দেশে শিক্ষকরা হতে পারতেন সবচেয়ে নীতিবোধ সম্পন্ন কিংবা সবচেয়ে মানবিক মানুষ। অথচ আজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেরুদন্ড বিকিয়ে দেওয়া কতগুলো জড় পদার্থ! 

ভীষণ কষ্ট লাগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চোখের সামনে আমরা ধ্বংস হয়ে যেতে দেখছি।‌ বিশেষ করে ভিসি প্রোভিসি প্রক্টরের দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের আচরণগুলো ভয়াবহ প্রশ্নবিদ্ধ। আমি জানিনা এর প্রতিকার হবে কীভাবে?


এটিএম শামসুজ্জামানের জানাজা-দাফনের সময় ও স্থান

এটিএম শামসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আর নেই

মেডিকেল সরঞ্জামাদি রপ্তানী খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা বাড়ছে


কিন্তু এটা জানি যদি প্রতিকার করতে না পারি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো এই দেশটাও  ধ্বংস হয়ে যাবে। কাজেই বোধসম্পন্ন শিক্ষকদের বলবো আপনারা এগিয়ে আসুন। নিজেদের বিবেক জাগ্রত করুন।

অন্যদিকে, নীতিনির্ধারকদের বলবো আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নজর দিন। আজকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই দশার জন্য রাষ্ট্র বা টু এই দেশের নোংরা রাজনীতিও কম দায়ী নয়। এদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাতে ভয়াবহ সংকট। মাথা নুইয়ে দেয়ার প্রবণতা এখান থেকেই শুরু হয়।

আর বেছে বেছে যাদেরকে ভিসি-প্রো-ভিসি- প্রক্টর বানানো হয়, তারা গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার নেতৃত্ব দেন। ফলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। ভীষণ অন্ধকার। 

কাজেই চলুন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে আমরা আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাঁচাই। আমাদের শিক্ষকদের বাঁচাই। বাঁচাই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে!

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আব্দুল মতিন খসরু একজন সহজ মানুষ

খালেদ মহিউদ্দিন

আব্দুল মতিন খসরু একজন সহজ মানুষ

১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এর সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও বাধ্যবাধকতা নিয়ে একটি স্টোরি করব বলে একমাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

আইনমন্ত্রীর মন্তব্য দরকার। বিষয়টা সরকারেরর জন্য একটু বিব্রতকর বলে মন্ত্রীকে পাই না তো পাই ই না।  অবশেষে তার ব্যক্তিগত সহকারি মারফত জানলাম, মন্ত্রী আমাকে সময় দিয়েছেন শুক্রবার সকাল পাঁচটায়। এইদিন তিনি তার কুমিল্লার বাড়িতে যাবেন। আমি ইচ্ছে করলে তার সঙ্গে যেতে পারি, বিকেলে তিনি ফিরবেন। আসা যাওয়ার পথে তাকে ইন্টারভিউ করা যাবে। 

আমার দরকার একটামাত্র কোট, তার জন্য ছুটির দিনের ছয় থেকে আট ঘণ্টা মাটি করব? ভাবলাম যা আছে কপালে! মন্ত্রী আমার সঙ্গে খেলছেন আমিও তার সঙ্গে খেলি।  চারটা ৫৫ মিনিটে মন্ত্রীর বাসায় হাজির হলাম। মন্ত্রীর এপিএস মাহবুব ভাই ছাড়া কাউকে চিনি না। তিনি অপেক্ষা করতে বললেন। মন্ত্রী সোয়া পাঁচটায় নামলেন। আমাকে দেখে অবাকই হলেন মনে হয়, সত্যি সত্যি ভোর পাঁচটায় আসব বোধহয় ভাবেন নাই। তার  গাড়িতে পাশাপাশি বসে রওনা হলাম কুমিল্লা।

পতাকার গাড়ি কাঁচপুর ধরতেই, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানতে চাইলাম। কড়া প্রস্তুতি ছিল আমার, উনি ডান বাম করতে চাইলেও মন্তব্য করতে একরকম বাধ্য করলাম তাকে। গাড়ি ছুটছে, মন্ত্রী একটু চুপ মেরে গেলেন। আমার রিপোর্ট হয়ে গেছে। আমি ফুরফুরে মেজাজে ঢাকার ধূসর পেছনে রেখে সবুজে ডুবে গেলাম জানালায় চোখ রেখে।

সাংবাদিক সাহেব আপনার বয়স কত? জ্বি ২৫। আইনমন্ত্রী আরও গম্ভীর হয়ে গেলেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নিয়ে তার মন্তব্য তাকে কতখানি ভোগাবে তাই ভাবছিলেন বোধ হয়। 

অনেকক্ষণ পর নিজেরে সামলে নিলেন, জানতে চাইলেন কী খাব দুপুরে? পুকুর থেকে ধরা তাজা মাছ দিয়ে মাসকলাই এর ডাল আর ভাত খাব। 

এতক্ষণে তার মুখ হাসি হাসি হয়ে উঠল। বললেন উত্তম প্রস্তাব। কিন্তু যাইতেছে মন্ত্রী ওরা কী আর ডালভাত খাওয়াবে? দেখি তবুও। পকেট থেকে মোবাইল ফোন বার করে ডিসিরে জানতে চাইলেন, দুপুরে খাওয়ার ব্যবস্থা কি? উত্তেজিত ডিসি মহোদয় পোলাও কোর্মা আর রোস্টের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, মন্ত্রী বললেন, একজন বাচ্চা জার্নালিস্ট আজকে আমার মেহমান। সে মাসকলাই এর ডাল আর ভাত খেতে চায়। আমি তারে কথা দিয়ে ফেলছি। আপনারা জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা পোলাও কোর্মা খান। আমার আর তরুণ জার্নালিস্টের জন্য ডাল আর ভাত। 

খিদে জিইয়ে রাখার জন্য সকাল থেকে আর কিছু খাইনি। জুমার আগেই দুপুরের খাবার দেওয়া হল। কুমিল্লার মানুষ সাক্ষী থাকল এক অদ্ভুত দৃশ্যের। সবাই খায় তিন চার পদের মাংস বড় মাছ। মন্ত্রী আর ছোট এক সাংবাদিক খায় ডালভাত। ফেরার সময় তার সঙ্গে খাওয়া নিয়ে বেশ হাসাহাসি হল। 

মন্ত্রী বললেন, আমার কল্যাণে তার ফেভারিট ডিশ খাওয়া হল। জানতে চাইলেন, আমার গ্রামের বাড়ি কই। ইনসিডেন্টালি আমরা তখন আমার দাদাবাড়ি পার হচ্ছি। বললাম। তিনি সবিস্ময়ে বললেন এতক্ষণ বল নাই কেন? আমি হাসলাম।

ওই ট্রিপ থেকে ফিরে আমার লিড স্টোরি নামল। সংসদের ভেতরে বাইরে তা নিয়ে কথা হল। সমালোচনার মুখে চুপ করে থাকলেন আইনমন্ত্রী। ঘনিষ্ঠজনেরা বললেন তার বিস্ময় নাকি আকাশ স্পর্শ করল যখন সপ্তাহ না ঘুরতে তিনি দেখলেন তারে নিয়া আমি প্রথম আলোর কমিক সাপ্লিমেন্ট আলপিনে একটা কাভার স্টোরি লিখেছি। আইনমন্ত্রীর সঙ্গে একদিন শিরোনামের ওই লেখায় দেখিয়েছি তিনি কেমন ফানি ক্যারেক্টার। তার মন্ত্রণালয়ের অনেকে হারেরেরে করে উঠলেও তিনি ছিলেন স্বাভাবিক। শুধু বললেন, ছেলেটা মনে হয় ভাল। 

আরও অসংখ্যবার তার পেছনে লেগেছি আমি, টকশোতে বিব্রত করেছি কত বার! কত লোকে কত কথা বলেছে, তিনি কিন্তু বলেছেন, ছেলেটা মনে হয় ভাল।

খসরু ভাই, ২২ বছর ধরে আমার আপনজন, আপনার জন্য আমার খারাপ লাগতেছে!

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিদায় আব্দুল মতিন খসরু

আনোয়ার সাদী

বিদায় আব্দুল মতিন খসরু

আনোয়ার সাদী

আব্দুল মতিন খসরুকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কুমিল্লা বোর্ডে। তখন আমি আইনের ছাত্র। সেখানে একটা সামার স্কুল হচ্ছিল মানবাধিকার বিষয়ে। মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মিজানুর রহমান স্যার ও আইন কমিশনের সাবেক সদস্য প্রফেসর শাহ আলম স্যার ছিলেন উদ্যোক্তা। এটি মানবাধিকার ও কমিউনিটি আইন সংস্কার বিষয়ে দেশের প্রথম আবাসিক ক্যাম্প ছিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সীমিত সংখ্যক ছাত্রছাত্রীরা সেই স্কুলে অংশ নিয়েছিলেন। 

আপনারা বুঝতেই পারছেন, সরাসরি আইনমন্ত্রীর মুখে মানবাধিকার প্রসঙ্গ ও আইনের সংস্কার বিষয়ে জানতে পারা কতো আনন্দের বিষয় ছিলো তখন। অল্প সময়ের জন্য  ফার্স্ট সামার স্কুলের সবাই দাবি করতেই পারি, এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরুর সরাসরি ছাত্র আমরা। এক ঘণ্টার জন্যে হলেও।   

বিশ্ববিদ্যালয় পার করে আমি সাংবাদিকতায় যোগ দেই । চ্যানেল আইয়ে থাকতে কোর্ট বিট করতে অসংখ্য বার উচ্চ আদালতে যেতে হয়েছে। যতবার তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, ততবারই তিনি আমাকে চিনতে পেরেছেন। সামার স্কুল তার মনে দাগ কেটে ছিলো। 

এরপর নিউজ টোয়েন্টিফোরে তিনি আমার উপস্থাপিত টকশোতে বেশ কয়েকবার গেস্ট হয়েছেন। অনেক অপ্রিয় প্রশ্নের সহজ সাবলীল জবাব দিয়েছেন। ক্যাসিনো কাণ্ডের পর এক শোতে তিনি আ্ওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের কথা বলতে গিয়ে তার কণ্ঠ  বাষ্পরুদ্ধ হয়ে যায়। 

বলেন, কতো কষ্ট করে মাঠ পর্যায় থেকে কাজ করে করে, দলের প্রথম সারিতে এসেছেন, কিন্তু হাইব্রিড ও দুর্নীতিবাজদের জন্য বড় দুর্নাম হয়ে গেলো দলের। তার বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠের রেশ ধরে সেদিন আমাকে  শো এর বিরতি টানতে হয়েছিলো।
 
আব্দুল মতিন খসরু বলতেন বেশ ভালো। সংসদে তার সরব উপস্থিতি ছিলো। অনেকে বলেন, মন্ত্রী নয় বরং এমপি থাকাকালে তিনি দলের বিবেচনায় দুর্দান্ত দুটি বক্তৃতা করেছিলেন। একটি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিষয়ে, অপরটি বেগম জিয়ার বাড়ি বিষয়ে। 

যাহোক, আ্ওয়ামী লীগ তাকে দলীয় বিবেচনায় মূল্যায়ন করবে, আর রাজনীতি তাকে সময়ের পরিক্রমায় বিবেচনা করবে। তবে ছাত্র অবস্থায় রাজনীতি শুরু করে মুল দলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলা আব্দুল মতিন খসরু রাজনীতির ছাত্রদের গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণীয় হবেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিদায় জনাব আব্দুল মতিন খসরু। 


আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এমন একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ চলে যাওয়া বেদনার

জুনাইদ আহমেদ পলক

এমন একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ চলে যাওয়া বেদনার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মানিত প্রেসিডিয়াম সদস্য, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত সভাপতি, সাবেক আইন মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

তিনি তৃনমূল থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতির চূড়ায় অবস্থান নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা থেকে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্য। এরপর তিনি অখন্ড কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক, সর্বশেষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম - সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ‌

১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, কিছুদিন পরে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।‌ তিনি ‌জাতীয় সংসদে কালাকানুন ইনডিমিনিটি আইন বাতিলের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের উপর তিনি জাতীয় সংসদে পরম আবেগ‌ ও যুক্তিনির্ভর যে ভাষণ দিয়েছেন তা সংসদীয় ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।

তিনি কুমিল্লা বার থেকে উঠে এসে ক্রমশ সর্বোচ্চ আদালতে একজন বিচক্ষণ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে অপরিহার্য করে গড়ে তুলেছিলেন। ‌যার ফলশ্রুতিতে মাত্র ক'দিন আগেই এই অমর ব্যক্তি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ‌ দুর্ভাগ্য তাঁর এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ হল না।‌

এমন একজন সাদা মনের রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞ আইনজীবী ও সমাজ সংস্কারকের অসময়ে চলে যাওয়া বড় বেশী বেদনার।‌

তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আমি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নিকৃষ্টতম সমাজেও “সেশন-জট” বলে কোন শব্দ নাই

রউফুল আলম

নিকৃষ্টতম সমাজেও “সেশন-জট” বলে কোন শব্দ নাই

রউফুল আলম

স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে যখন গবেষণা শুরু করলাম, আমার বয়স তখন উনত্রিশ। আমি লক্ষ করলাম, ল‍্যাবের অন‍্যান‍্যদের বয়স চব্বিশ-পঁচিশ। এই বিষয়টা আমাকে খুবই কষ্ট দিতো। আমার মাঝে মাঝে অসম্ভব খারাপ লাগতো। ল‍্যাবের যে পোস্টডক স্টুডেন্ট আমাকে শুরুর দিকে গাইড করতো, তার বয়স ছিলো আমার সমান। তার নাম পিলারস্কি। 

এখন সে সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। কাজের আগ্রহ ও অগ্রগতি দেখে, এই ছেলেটা আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলো, আমি কেন দেরি করে কাজ শুরু করেছি। আমি তাকে বহুবার সেশন-জট বিষয়টা বুঝানোর চেষ্টা করে ব‍্যর্থ হয়েছি। 

আমার প্রফেসরও আমাকে একই কথা কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলো। তাকেও বুঝাতে পারিনি। সেশন-জট আমার জীবন থেকে প্রায় চার বছর গায়েব করে দিয়েছে। সেই সময়গুলো খোয়া না গেলে হয়তো আরো এগুতে পারতাম। গর্ব করে বলছি না (ক্ষমা করবেন), প্রসঙ্গত বলছি, সেসময়ে আমার প্রফেসরের গ্রুপে বেস্ট কাজ এবং বেস্ট পাবলিকেশন করেছিলাম আমি। পিএইচডির দুই বছর যেতেই আমার থিসিস ডিফেন্স করার মতো পাঁচটা পাবলিকেশন ছিলো (JACS & ACIE সহ)। 

আমাদের দেশের অসংখ‍্য ছেলে-মেয়ের ভিতর একটা অফুরান আগ্রহ থাকে। সুপ্ত একটা জেদ থাকে। নেশা থাকে। লেগে থাকার শক্তি থাকে। এটা আমরা বের করে আনতে পারিনা। আমাদের ছেলে-মেয়েদরকে তো আমরা তেমন কোন সুবিধা দিতেই পারিন না, উপরন্তু জীবন থেকে সময় খেয়ে ফেলি। দুনিয়ার কোন নিকৃষ্টতম সমাজেও “সেশন-জট” বলে কোন শব্দ নাই। আমাদের দেশে এখনো আছে। জেলায় জেলায় ইউনিভার্সিটি খুলছি, আর ছেলে-মেয়েদের “সেশন-জট” উপহার দিচ্ছি। জাতীয় বিশ্ববিদ‍্যালয়ের কথা তো বলাই বাহুল‍্য!  


৮ দিনের লকডাউন শুরু, রাজধানীর সড়কে সুনসান নীরবতা

সূরা ফাতিহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

করোনাবিধ্বস্ত জনপদে উৎসবহীন পহেলা বৈশাখ আজ

ফের বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পুতুল


সেশন-জটের কারণে আমাদের অসংখ‍্য স্টুডেন্টদের স্পিরিট নষ্ট হয়ে যায়। পরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে যায়। মটিভেশনটাই ধূলোয় মিশে যায়। এটা বন্ধ করতে হবে, সব প্রতিষ্ঠান থেকে।   

স্টুডেন্টদেরকে বড়ো বড়ো স্বপ্ন দেখান। তাদেরকে দুনিয়ায় ছড়িয়ে যেতে বলুন। তারা যখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে তখনই বলুন, যাদের উচ্চতর গবেষণার আগ্রহ আছে, তারা যেনো মাস্টার্স করে সময় নষ্ট না করে। বিদেশে গিয়ে মাস্টার্স করতে বলুন। বহু স্টুডেন্ট এখন কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া, জাপান, ইরান, তুরস্ক—এসব দেশে গিয়ে মাস্টার্স করে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা ও পথ খুঁজে পায়। বহু ছেলে-মেয়ে এখন ব‍্যাচেলর শেষ হওয়ার আগেই জিআরই-টোফেল দিয়ে নর্থ আমেরিকায় চলে আসছে। স্টুডেন্টদের এই গতিস্রোতটাকে আরো জাগিয়ে দিন। 

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সমাজে গবেষণায় একটা রেভুল‍্যুশনের প্রস্তুতি পর্ব চলছে। এবং সেই প্রস্তুতি পর্বে অসংখ‍্য ছেলে-মেয়েকে দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই হবে। এছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। কারণ দেশে বসে তো ওরা কাটিং-এজ গবেষণার কিছুই শিখতে পারবে না। সুতরাং তাদের জীবনের সময়টুকু বাঁচিয়ে তাদেরকে বেড়িয়ে পড়তে সর্বাত্বক সহযোগিতা করুন। বিশ্বমানের তারুণ‍্য ছাড়া, বিশ্বমানের সমাজ কখনো গড়া যায় না। অসম্ভব! 

রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

আব্দুর নুর তুষার

এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়

আমি করোনা নিয়ে বহু কথা বলেছি। এখনো পর্যন্ত ভুল কিছু বলি নাই।  যা বলেছি কোনটাই নিজের জন্য না। আমি মনপ্রাণ দিয়ে চেয়েছি মানুষের উপকার হোক। আগে থেকে সতর্ক করেছি।  বারবার লিখেছি। বলেছি। প্রতিটি ঔষধ , প্রতিটি বিতর্ক, প্রতিটি নতুন খবর বিশ্লেষণ করেছি।

মৃদু কথায় কাজ না হলে জোরালো কন্ঠে , আঘাত করেও লিখেছি। মানুষ যেন শোনে , বোঝে, বাঁচে। আমি তো জানিই কি করা উচিত বা উচিত না। এসবই করেছি কারণ ভেবেছি সবার জীবন মূল্যবান। জানলে হয়তো ভালো হবে। একজনেরও যদি উপকার হয় তবে হোক। আমি বিবেকের কাছে দায়হীন থাকতে চেয়েছি। কেউ যদি প্রশ্ন করে সব জেনেও চুপ করেছিলেন কেন?

আমি বলতে পারবো , আমি চুপ করে ছিলাম না। গালাগাল দিয়েছেন অনেকে। আক্রমণ করেছেন। জঘন্য ভাষায়। সেটাও সহ্য করেছি। এসব আমাকে কখনো আক্রান্ত করে না। আমি কুকুরের ঘেউ শুনি না। আমি কোকিলের গান শুনি। ডাস্টবিনের ময়লা দিয়ে ভরাট করা জমিতে প্রাসাদের চেয়ে একটি ছিন্ন গোলাপও আমার কাছে অনেক দামী।

গত বছর এর শেষ থেকে যে ইউফোরিয়াতে সবাই ছিলেন সেটা নিয়েও আমি লিখেছিলাম। সাবধান করেছিলাম।  ব্লুমবার্গের রিপোর্টটির অন্তসারশূণ্যতা নিয়েও বলেছি। আমাকে বলা হয়েছে আমি নাকি হুদাই এসব বলি।  জীবন না থাকলে এই জীবিকা কি কাজে লাগবে?

যে পরিমান টাকা আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লুটেরারা লুট করেছে তার অর্ধেক দিয়ে জাতিকে তিনমাস লকডাউনে রাখা সম্ভব ছিলো। লকডাউন বাঁচার জন্য জরুরী। বাঁচলে আবার শুরু করা যায় সব। না থাকলে কোটি টাকাও কিছু না। কি কাজে লেগেছে টাকা তাদের?  যারা ৩০০০ কোটি ৬০০০ কোটি টাকা ধার করে মরে গেছেন? ফিউচার পার্ক কি ফিউচার এর নিশ্চয়তা দিতে পেরেছে? হাজার হাজার কোটি টাকার এক্সপোর্ট জোনের মালিক নিজের ভাইকে সাড়ে তিন হাতের বেশী জমি দিতে পেরেছে?  

এবছরেও সবার আগে লকডাউনের বিষয়ে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম, যখন লুংগী নৃত্যের ভিডিও তে ফেসবুক সয়লাব ছিলো। মৃত্যু যখন হবার তখনই হবে। এটা আমরা বলি কারণ হলো মৃত্যুকে রিভার্স করা যায় না।  কিন্তু আমরা ভুলে যাই জীবনে বহুবার সাবধানতা ও চিকিৎসার কারণে আমরা মৃত্যু থেকে বেঁচে গিয়েছি। 

টিকা না থাকলে আমাদের মধ্যে অনেকে শৈশবে গুটি বসন্ত, হাম, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, নিউমোনিয়া , টিটেনাসে মারা যেতাম। চিকিৎসা না থাকলে এখন যাদের হার্টে স্টেন্ট /রিং পরানো তাদের অনেকে থাকতেন না। ডায়ালিসিস এর রোগীরা বহু আগেই বাঁচতেন না।
ইনসুলিন না থাকলে বহু মানুষ ত্রিশ বছর বয়সে পৌঁছাতেন না।

তাই সতর্কতা ও সাবধানতা জরুরী। মৃত্যু যখন আসার তখনি আসে। কিন্তু গত এক বছর টিকা আসার আগেও যারা বেঁচে থাকলেন আর এখন আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছেন, এদের অনেকেই অসাবধান হয়ে গিয়েছিলেন। যেমন এখন জাতীগত ভাবে আমরা অসাবধান হয়ে গিয়েছি।পুরো মানবজাতি নির্মূল হবে না। কিন্তু সংক্রামক রোগের প্রতিটি মৃত্যু হবে মূলত: কারো না কারো অসাবধানতার কারণে।

এখনো বিজ্ঞানকে অবহেলা করে , জীবিকার কথা বলে বলে, যতো ধরনের তুঘলকি কাজ চলছে। ১৬ কোটি মানুষ, তাই সহজে আমরা নি:শেষ হবো না। কিন্তু প্রতিটি প্রাণের অবসানের জন্য কেউ না কেউ দায়ী হবো। সব কাজ ঠিক মতো করার পরেও ব্যর্থ হলে সেটাকে ভাগ্য বলা যায়। ভুল কাজ করে ব্যর্থ হলে সেটা ভাগ্য না, সেটা বোকামী।আমি এখন প্রতিদিন প্রিয়জনদের মৃত্যুর খবর পাচ্ছি আর লাশের হিসাব রাখছি। করোনা নিয়ে আর লিখবো কিনা সেটাও ভাবছি। 

আমার যে খালাতো ভাইটা করোনা হবার পরে নিজের কথা না ভেবে নিজের অসুস্থ স্ত্রীর কথা বলে কাঁদছিলেন, যিনি প্রতি সপ্তাহে আমার মন ভালো রাখার জন্য আমাকে ফোন করতেন, তিনি ৪ এপ্রিলে দুপুর বারোটায় আমার সাথে কথা বলে , ৮ এপ্রিলে মরে গেছেন। আমার যে বন্ধুটা করোনার মধ্যেও গরীব মানুষের চিকিৎসা করেছে, ফোন করে যার কাছে আমি রোগী পাঠিয়েছি, সে মরে গেছে। আমাকে সারাক্ষন মনের শান্তি খুঁজতে বলতেন যিনি সেই বন্ধুর মতো পর হয়েও আপনের চেয়ে বেশী শাকিল ভাইটাও মরে গেছে। আমার অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালক ফরিদ ভাই মরে গেছে। আমার প্রোডাকশন চিফ সামিউল ভাই মরে গেছে। আমার দুজন দুলাভাই মরে গেছে। 

আমি করোনায় বন্দীদশায় বসে বসে হিসাব রাখি দিন ভালো হলে যদি আমি বেঁচে থাকি তবে মোট কয়টা কবর জিয়ারত করতে হবে। এই দেশে আমি ও আমার মতো অনেকেই মূল্যহীণ ও অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু আপনারা নিজেদের মূল্য বুঝতে শিখুন।  নিজেকে বাঁচান। নিজের পরিবার পরিজনকে সুস্থ রাখুন। দয়া করে মানুষের সততা ও সৎচেষ্টাকে সাহায্য করুন। নিজে পারেন না বলতে। দালালী আর ভয় আপনার চামড়া থেকে রক্তে সর্বত্র।  সত্য বলতে না পারলে অসুবিধা নাই । মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকুন। তেলের শিশি পকেটে রেখে, হাতটা সাবান দিয়ে ধুয়ে নেন।

যার জন্য মিথ্যা বলছেন, তিনি বা তারা আপনার সাথে কোথাও যাবেন না। মৃত্যুর পরে তো দূরের কথা। আপনাকে দেখতে হাসপাতালেও যাবেন না। এই মহামারীতে কোন একজনের জন্য শোকের আগেই আরেকজনকে হারাতে হবে।

শোকের সময় কোথায়? নিজেকে মূল্য দিন। বাঁচার চেষ্টা করেন। প্রিয়জনকে বাঁচাতে নিজের ভোগ উপভোগ কমান। লোভের ওপর লাগাম টানুন।শত্রুতা আর ঘৃণা মেটাবার অনেক সময় পাবেন।  এই মহামারীতে শত্রুকেও ভালোবাসা দিন। হয়তো বিপদের দিনের পরে পৃথিবীটা আরো সুন্দর হবে। হয়তো আজকের সামান্য ভালোবাসার বীজ একদিন মহিরুহ হবে। 

সেই অনাগত দিনের কথা ভেবে বেঁচে থাকুন, নিরাপদে থাকার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানুন।

(এটা সবার জন্য নয়। যাদের জন্য বলা , তারা জানেন তারা কারা, আপনারা অনেকেই জানেন তারা কারা। আমাকে গালি দিতে চাইলে, আমার ওপরে রাগ হলেও তারা বেঁচে থাকুন।)

 লেখক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক আব্দুন নূর তুষার।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর