সিনড্রেলার গাড়িতে যদি ইঞ্জিন বসানো হতো

অনলাইন ডেস্ক

সিনড্রেলার গাড়িতে যদি ইঞ্জিন বসানো হতো

ব্রিটেনের অটোমোবাইল ডিজাইনার পল বেকন ওয়াল্ট ডিজনির একটি চলচ্চিত্র থেকে প্রেরণা নিয়েছেন। সিন্ডারেলার ঘোড়ার গাড়ির আদলে তিনি স্টিমপাংক শৈলি অনুযায়ী একটি গাড়ি তৈরি করেছেন। দেখলে মনে হবে সত্যি যেন রূপকথার জগতের কোনো গাড়ি!

তবে সেটি কিন্তু বিকট শব্দ করে। পল বলেন, ‘‘এই গাড়ি চালালে মনে হয় যেন ভিন্ন এ জগতে রয়েছি। আসলে মোটরগাড়ির জগত বড়ই ধূসর। তাই এমন গাড়ি চালালে যেন সঙ্গে সঙ্গে অন্য এক জগতে পৌঁছে যাই। এমন গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা সত্যি অনবদ্য। সেইসঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি জেগে ওঠে।’’


ইউনাটেড ৭৭৭ মডেলের সব বিমান চলাচল বন্ধ

উনকে নিজের প্লেনে করে বাড়ি পৌছেঁ দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প

মিয়ানমারে নিহত তরুণীর শেষকৃত্যে হাজার হাজার মানুষ

কঙ্কালের গায়ে লেগে থাকা শার্ট দেখে লাশ সনাক্ত করলেন স্ত্রী


‘অটোমেট্রন’ নামের এই গাড়ি তৈরি করতে চার বছর সময় লেগেছিল। অ্যালান হাল নামের এক সংগ্রহকারীর কাছে তিনি গাড়িটি বিক্রি করেছেন। পল বেকন বলেন, ‘‘ইঞ্জিনের সব অংশগুলিকে আমি আলাদা শিল্পকর্ম হিসেবে দেখতে চাই। বাসায় শিল্পকর্মের মতো দেখতে হলে সেগুলিকে গাড়িতেও বসানো যেতে পারে। একেবারে গোড়া থেকে আমি যে একটি ভিন্ন ধারার অনবদ্য গাড়ি তৈরি করতে পারি, সেটা প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম।’’

হাতে আঁকা স্কেচ দিয়ে সবকিছু শুরু হয়। ইংল্যান্ডের লেস্টার শহরে ছোট কর্মশালায় পল বেকন গাড়ি তৈরি করেন।৷ দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাতে করে এমন সব গাড়ি তৈরি হচ্ছে, যেমনটা আগে কখনো দেখা যায় নি।

তাঁর তৈরি প্রথম গাড়ির নাম ছিল ‘ডুয়ালাট্রন'। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পল বলেন, ‘‘সেটা ছিল অভিনব আকারের। সেই গাড়ি পথে নামলে মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হবে, সেটা ভেবেই আমি ডিজাইন করেছিলাম। দেখলে মনে হবে একটা নীচু কালো গাড়ি যেন ভেসে যাচ্ছে।’’

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খারাপ সংবাদেরও গুরুত্ব আছে

অনলাইন ডেস্ক

খারাপ সংবাদেরও গুরুত্ব আছে

মিডিয়ায় একটা কথা প্রচলিত আছে "ব্যাড নিউজ ইজ গুড নিউজ"। খারাপ সংবাদ খুব দ্রুত ছড়ায়। খারাপ সংবাদের কাটতিও বেশি। তাই মিডিয়া সব সময় মুখিয়ে থাকে এসব সংবাদের জন্য। এমনকি মানুষের মস্তিষ্কও খারাপ সংবাদ দ্রুত আকর্ষণ করে। আমাদের পাঠকদের কমন একটি কমপ্লেইন আছে মিডিয়ার প্রতি খারাপ সংবাদে ছেয়ে থাকে পত্রিকা বা টিভির স্ক্রল। 

সত্যি, সংবাদে খারাপ খবরের যেন শেষ নেই। কিন্তু আমাদের পৃথিবীর অবস্থা কি সত্যি এত খারাপ? এটা মানতেই হবে, যে বর্তমান করোনা ভাইরাস মহামারি এক বিরল সংকট। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে বিচার করে দেখলে অনেক ক্ষেত্রে আসলে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। যেমন শিশু-মৃত্যুর হার এর আগে কখনো এত কম ছিল না।

১৯৭০ সালের তুলনায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। মস্তিষ্ক বিজ্ঞানী হিসেবে প্রো. মারেন উর্নার মনে করেন, ‘‘আমাদের মস্তিষ্ক ইতিবাচক বা নিরপেক্ষ খবরের তুলনায় নেতিবাচক খবরগুলি আরও দ্রুত, আরও ভালো ও আরও নিবিড়ভাবে গ্রহণ করে। সে কারণে আমরাও এমন খবর বেশি সময় জুড়ে মনে রাখি। বিবর্তনের ইতিহাসের প্রেক্ষিতে নেতিবাচক খবর আমাদের জন্য বেশি সহায়ক। কারণ আদিম প্রাণীগুলির আমলে মানুষ নেতিবাচক খবর না পেলে অস্তিত্বের সংকটে পড়তো।’’

গবেষকেরা বিভিন্ন মহাদেশের মানুষের উপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছেন, যে খারাপ খবর শোনালেই তারা উত্তেজিত ও মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের একাংশ ঠিক এই প্রভাব কাজে লাগায়। কারণ গ্রাহকরা নেতিবাচক শিরোনাম পড়লে বেশি ক্লিক পাওয়া যায় বা আরও সংবাদপত্র বিক্রি করা যায়।


সাই পল্লবীর ফাঁস হওয়া ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

আনুশকাকে ধর্ষণের পর হত্যা দিহানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পেছাল

ডিভোর্সের গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন প্রেমে জড়ালেন শ্রাবন্তী!

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্থগিতের আহ্বান জাতিসংঘের


একাধিক গবেষণা অনুযায়ী বিশেষ করে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে নেতিবাচক খবর বেড়েই চলেছে। প্রশ্ন হলো, মিডিয়ায় এত নেতিবাচক খবর থাকা কি একটা সমস্যা? প্রো.উর্নার বলেন, ‘‘আসলে আমাদের সবার মনেই অত্যন্ত নেতিবাচক প্রত্যাশার মনোভাব রয়েছে। কারণ পৃথিবীকে বাস্তবের তুলনায় আরও খারাপ হিসেবে দেখাই আমাদের জীবনদর্শনের মূলমন্ত্র।’’

আমাদের উপর মিডিয়ার প্রভাব কতটা শক্তিশালী, বোস্টন ম্যারাথনের উপর হামলার ঘটনা তার ভালো দৃষ্টান্ত। দেখা গেল, সেখানে উপস্থিত মানুষের তুলনায় সেই সব মানুষ আরও মানসিক চাপ ও ভয়ের শিকার হলো, যারা সংবাদ মাধ্যমে ডুবে রয়েছে। এর অর্থ কী? প্রো. মারেন উর্নার বলেন, ‘‘সবার আগে যেটা ঘটে সেটা হলো, মানুষ নিজে সক্রিয় হয় না।

আমরা জানি, বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বকে নেতিবাচক চোখে দেখে। সেই অনুযায়ী মানুষের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। অথচ অসংখ্য মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা অনুযায়ী বাস্তবে মোটেই সেটা ঘটে না। সেইসঙ্গে ক্রনিকাল স্ট্রেস যোগ হতে পারে।

আমরা ইতোমধ্যে জানি, যে এমন লাগাতার মানসিক চাপ অন্য অনেক রোগের ভিত্তি হতে পারে। ডায়াবিটিস, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকে শুরু করে বিষণ্ণতার মতো মানসিক রোগ এভাবে দেখা দিতে পারে।’’

সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে সংবাদ পড়তে হবে। সব সময় পজেটিভ চিন্তা করার মানসিকতা থাকা খুবই দরকার। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ মাধ্যম থেকে সংবাদ শোনা এবং সেই অনুযায়ি রিয়েক্ট করা দরকার। 

সূত্র: ডয়েচে ভেলে 

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

উড়তে পারে যে মাছ

হারুন আল নাসিফ

উড়তে পারে যে মাছ

বিশ্বাস করুন আর নাই করুন উড়তে পারে এমন মাছও আছে। মাছটির নাম ‘উড়ুক্কু মাছ’। ইংরেজিতে বলে Flyingfish। সাগরের পানি থেকে লাফ দিয়ে পাখির মতই দ্রুতগতিতে অনেক দূর উড়তে পারে এই মাছ। আর অদ্ভুত বিষয় এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব আমাদের চিরচেনা উড়তে পারা পাখিদেরও অনেক অনেক আগে থেকে। এদের বক্ষ পাখনা (Pectoral fin) এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্রোণী পাখনাও (Pelvic fin) প্রসারিত হয়ে ডানার মতন গঠন তৈরি করে।

ডলফিন, স্কুইড ও বড় মাছের তাড়া খেয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য অতি দ্রুত সাঁতার কাটতে গিয়ে এ মাছ পানির একেবারে উপরিভাগে চলে আসে এবং পাখনা মেলে বাতাসে উড়াল দেয়। উড়াল দেয় বললে আসলে ভুল হবে। প্রকৃত ওড়া বলতে যেটা বোঝায় এটা ঠিক সেরকম ওড়া নয়। একে বলে গ্লাইডিং। এরা মূলত পানি থেকে লাফ দিয়ে তাদের পাখনার সাহায্যে বাতাসে ভেসে চলে।

পানির নিচে গড়পড়তা উড়–ক্কু মাছের বেগ হয় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের কাছাঁকাছি। সুগঠিত পাখনা বিশিষ্ট এসব মাছের কোনো কোনোটি জলের উপরিভাগ ৮-১০ মিটারের বেশি ওপর দিয়ে শূনে ভেসে চলে অনায়াসে ২০০ মিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তখন এদের ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি বা ৪৫ মাইলেরও বেশি হয়।

এ কারণে অনেক সময় এই মাছ আচমকা সমুদ্রগামী জাহাজের ডেকের ওপর আছড়ে পড়ে। জলের শত্রু থেকে বাঁচতে গিয়ে বাতাসে উড়াল দিয়ে এদের কখনো-কখনো শিকারি পাখির কবলেও পড়তে হয়।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


১০ থেকে ৩০ সেমি অব্দি লম্বা এই উড়ন্ত মাছটির মোট চারটি পাখনা আছে। এ পাখনার মধ্যে দুটি বড় বক্ষপাখনা এবং পেছনে দুটি ছোট পাখনা। পাখনার ভেতরে হাওয়া ভরা থাকায় ওজনেও হালকা এই বক্ষপাখনাগুলো প্রসারিত করেই এরা বাতাসে ভেসে থাকে। লেজও তুলনামূলকভাবে অনেক লম্বা যা এরা পানি থেকে ওপরে উঠতে ব্যবহার করে। 

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সাগরে উড়ুক্কু মাছেরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। পাখি ও ডাইনোসরদের আগে থেকেই এ মাছের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে। সম্প্রতি চীনের জাদুঘরে থাকা উড়ুক্কু মাছের ফসিল বা জীবাশ্ম গবেষণা করে গবেষকেরা বলছেন প্রায় ২৩ থেকে ২৪ কোটি বছর আগের মধ্য ট্রায়াসিক যুগে ‘পোটানিক্সাস কিংজিনসাস’ নামের উড়ুক্কু মাছের প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে, যা জুরাসিক যুগের ডাইনোসরদের চেয়েও ৫কোটি বছর আগেকার। 

মাছটির আদি নিবাস ভারত মহাসাগরে হলেও উষ্ণমন্ডলের সব সাগরেই এই মাছ দেখা যায়। খুজে পাওয়া প্রায় ৭১টি প্রজাতির এ মাছের অধিকাংশই সামুদ্রিক এবং সাধারণত বড় ঝাঁক বেঁধে চলে।


 
রঙ-বেরঙের আলোর প্রতি উড়ুক্কু মাছের রয়েছে মারাত্মক দুর্বলতা। এই আলোর নেশাকে কাজে লাগায় মাছ শিকারিরা। নজরকাড়া নানা রকম আলোর ফাঁদে সুকৌশলে ছড়ানো জালের মধ্যে আটকে ফেলে এদের। তখন সাঁতার হোক কিংবা ওড়া, সব জারিজুরি খতম হয়ে মানুষের খাদ্যে পরিণত হয়।

উড়ুক্কু মাছ খেতে সুস্বাদু। বাণিজ্যিকভাবে জাপান, ভিয়েতনাম, বার্বাডোস ও ভারতে খাওয়ার জন্য এ মাছ প্রচুর ধরা হয়। ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র বার্বাডোসের জাতীয় মাছ এটি। বাংলাদেশে ৩টি প্রজাতি পাওয়া যায়। আপনি খেতে চাইলে সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ আমাদের দেশের সমুদ্র তীরবর্তী অনেক খাবারের দোকানে খেতে পারবেন ফ্লাইংফিশ।

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অটোরিকশার মাথার ওপর পুরো বাড়ি

অনলাইন ডেস্ক

অটোরিকশার মাথার ওপর পুরো বাড়ি

একটি সাধারণ অটোরিকশা। সাধারণত ভারতীয় উপমহাদেশে এধরণের বাহন দেখা যায়। কিন্তু, একজন প্রকৌশলীর দক্ষতায় হলুদ রঙ্গের ওই অটোরিকশাটি সাজিয়েছেন ভিন্নভাবে। রীতিমত একটি বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন গাড়ির ওপরে। আর এই  খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এই বিশেষ অটোরিকশার ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন ভারতের মাহিন্দ্র গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনন্দ মাহিন্দ্র। ওই ছবিতে দেখা গেছে একটি ছোট হলুদ রঙের অটোরিকশার ওপরে তৈরি হয়েছে বাড়িসদৃশ অবকাঠামো।


মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে

বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে পরিবহন বন্ধ রাখায় বিচ্ছিন্ন রাজশাহী

শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. হানিফ আর নেই

নামাজের পূর্বের ৭টি ফরজ কাজ সম্পর্কে জানুন


আনন্দ মাহিন্দ্র টুইটার পোস্টে লিখেছেন, এই বিশেষ অটোরিকশা নকশা করার মধ্য দিয়ে ছোট জায়গাকেও কীভাবে কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করা যায়, তা প্রমাণিত হয়েছে।

জানা গেছে, এই বিশেষ অটোরিকশাটির নকশা করেছেন চেন্নাইভিত্তিক প্রকৌশলী অরুণ প্রভু এনজি। অটোরিকশার ওপর তৈরি এই ভ্রাম্যমাণ বাসস্থানের নাম তিনি দিয়েছেন ‘সলো ওয়ান’। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ভারতীয় রুপি।

এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে আনন্দ মাহিন্দ্র লিখেছেন, ‘অরুণ এ কাজের মধ্য দিয়ে কম জায়গাকেও কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তার এক নিদর্শন সৃষ্টি করেছেন।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রহস্যে ঘেরা ‘কঙ্কাল’ হ্রদ

অনলাইন ডেস্ক

রহস্যে ঘেরা ‘কঙ্কাল’ হ্রদ

ভারতের উত্তরখণ্ডের হিমালয়ে পর্বতমালার শৃঙ্গে রূপকুণ্ড হ্রদ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা কথা। তবে কঙ্কাল হ্রদ নামেই বেশি পরিচিত রহস্যে ঘেরা এই হ্রদ।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬,৫০০ ফুট উঁচুতে উত্তরাখণ্ডের ত্রিসুলে অবস্থিত রূপকুণ্ড হ্রদ। দীর্ঘদিন বরফের নীচে চাপা পড়ে থাকার পর বরফ গলতেই দেখা মেলে কঙ্কালের। যেন মানুষের হাড়গোড়ের একটি লেক। আহামরি সৌন্দর্য না থাকলেও কঙ্কালের এই রহস্যের কারণে বিজ্ঞানী, গবেষক ও নৃতাত্ত্বিকবিদদের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই রূপকুণ্ড হ্রদ।

১৯৪২ সালে ব্রিটিশ এক বনরক্ষক প্রথমবারের মতো এই বরফের চাদরে মোড়া হ্রদে মানুষের হাড় দেখতে পান। বছরের আট মাস হ্রদটি বরফে ঢাকা থাকলেও বরফ গলতে গলতে হাড়গোড় ও কঙ্কালের সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় ৮৭০ বছর আগে তুষারঝড়ে ভারতীয় কোন এক রাজা, রানিসহ তাদের সতীর্থদের সলিল সমাধি হয় এখানে। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, অবশিষ্ট কঙ্কালগুলো ভারতীয় যোদ্ধাদের, যারা ১৮৪১ সালে তিব্বত দখলের চেষ্টা করেছিলো। তাদেরকে প্রতিহত করা হলে পিছু হটতে গিয়ে এই হ্রদে তাদের মৃত্যু হয়। আবার অনেকেই বলেন, মহামারিতে মারা যাওয়াদের দেহাবশেষ এখানে সমাহিত করা হতো।

আবার গ্রামাঞ্চলের প্রচলিত বিশ্বাস মতে, নন্দাদেবীর তৈরি করা ঝড়ের কবলে পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়। তবে প্রথম দিকে কঙ্কালগুলো পর্যালোচনা করে জানানো হয়, লেকে যাদের মৃত্যু হয় তাদের সবার দৈহিক উচ্চতা স্বাভাবিক মানুষের উচ্চতার চেয়ে বেশি। তাদের অধিকাংশই মধ্য বয়সী। যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। তবে কিছু নারীর কঙ্কালের সন্ধান পাওয়া যায়। এছাড়া মৃতদের সবাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন বলেও ঐ গবেষণায় উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনায় এক দল মানুষের মৃত্যু হয়েছে এখানে।


ফাহাদ মুস্তফা যেন দাঁড়িসহ দীপিকা!

পরবর্তী নির্বাচনে আবারও অংশ নিবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সমঝোতা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে হতাশ যুক্তরাষ্ট্র

খাশোগি হত্যাকান্ড: রহস্যজনকভাবে বদলে গেল প্রতিবেদনে অভিযুক্তের নাম


সবশেষ টানা ৫ বছর ভারত, যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানভিত্তিক ১৬টি প্রতিষ্ঠান ও ২৮ জন গবেষক তাদের গবেষণায় বলেছে এ সব ধারণা সত্য নাও হতে পারে। ১৫ নারীসহ ৩৮টি দেহাবশেষের জেনেটিক পরীক্ষা করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই মরদেহের সবগুলোই ১২০০ বছর আগের। তারা বলছেন আলাদা আলাদা সময়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। রূপকুণ্ডের এই কঙ্কাল হ্রদ আজো এক রহস্য হলেও নির্দিষ্ট একটি ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক ইয়াডাওইন হার্নে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় আরো দেখা যায়, এই হ্রদে মেলা কঙ্কালের মধ্যে বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাসরত মানুষের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। এমনকি ইউরোপ ও গ্রিক আইল্যান্ডের মানুষের সঙ্গে সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।
কারো কারো আবার দাবি, বহু বছর আগে স্থানীয় গাইডদের সাহায্যে তীর্থযাত্রায় এসেছিল একটি দল। আচমকা মারাত্মক শিলাবৃষ্টির কারণে মৃত্যু হয় গোটা দলটির। প্রতিটি খুলির মাঝে ফাটল, এটা ছিল কঙ্কালগুলির বৈশিষ্ট্য। ছোট কিন্তু এই গভীর আঘাত থেকেই মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

তবে যে কারণেই হোক আজও এই হ্রদের রহস্য ভেদ করতে পারেনি কোন বিজ্ঞানী বা গবেষকেরা। এই পর্বত শৃঙ্গে এতো কঙ্কাল কী করে এলো তা আজও এক রহস্যই থেকে গিয়েছে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নরওয়ের গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে কিং কাঁকড়া

অনলাইন ডেস্ক

নরওয়ের গ্রামের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে কিং কাঁকড়া

কিং ক্রাব বা বড় কাঁকড়া নরওয়ের মাুনষের জন্য আর্শিবাদ হয়েছে। এই কাঁকড়া অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার সারা দুনিয়া জুড়েই। নরওয়ের উত্তরের ব্যুগোয়নেসের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষ খুব আর্থিক সংকটে ছিল। এমনকি নব্বইয়ের দশকে ওখানকার একটি গ্রাম বিক্রি করে দিতে চেয়েছেলেন। কিন্তু এই কাঁকড়া ওখানকার সব দৃশ্যপট পাল্টে দিল। 

নরওয়ের উত্তরে আর্থিক সংকটে থাকা এলাকায় এসব কিং ক্র্যাব সুখের বার্তা নিয়ে এসেছে। যেমন ব্যুগোয়নেসের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত জেলেদের গ্রামে।

জার্মানির ডিয়র্ক হাইজভাগার নামে একজন ট্যুর গাইড প্রায় ১২ বছর ধরে নরওয়ের উত্তরে বাস করছেন। তিনি আর্কটিক সাগর পছন্দ করেন। রাশিয়া সীমান্তের কাছে দর্শনীয় স্থান দেখাতে পর্যটকদের নিয়ে যান তিনি।  

কিং ক্র্যাব বা বড় কাঁকড়া দর্শনীয় বস্তুগুলির মধ্যে একটি। ট্যুর শুরুর একদিন আগে তিনি সাগরের ১৮০ মিটার গভীরে কাঁকড়া ধরার ফাঁদ পাতেন।

পরের দিন সেই ফাঁদে অনেক কাঁকড়া ধরা পড়ে। সারা বিশ্বেই এটি এক মজাদার খাবার। কিন্তু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। খরগোশের মতোই এদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।

১৯৮৯ সালে গ্রামবাসীরা তাদের গ্রাম বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কারণ আয়ের উৎস না থাকায় তরুণরা গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন।


শিক্ষা জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ মাকে বাঁচাতে ক্রিকেটে ফিরতে চান শাহাদাত

প্রেমিকের আশ্বাসে স্বামীকে তালাক, বিয়ের দাবিতে অনশন!

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা


এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সেখানে এখন থাকার হোটেল আর ছোট একটি রেস্তোরাঁও আছে।

কাঁকড়াগুলির উপস্থিতি জেলেদের জন্য সুখবর হলেও নরওয়ের পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীদের জন্য সেটা চিন্তার বিষয়। কারণ কাঁকড়াগুলি প্রায় সবকিছু খেয়ে ফেলে, যা আশেপাশের ইকোসিস্টেমের জন্য হুমকি। ইদানিং ব্যুগোয়নেস থেকে আরও দক্ষিণেও এদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে।

নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেরিন রিসার্চের ইয়ান সুন্ডেট বলেন, ‘‘আমরা গবেষণা করে দেখেছি যে, কাঁকড়াগুলি ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতেও মানিয়ে নিতে পারে। তার মানে তারা ভূমধ্যসাগরেও থাকতে পারবে! যেখানেই এই কাঁকড়া যায় সেখানেই সাগরের প্রাণিজগতকে ধ্বংস করে। ঝিনুক, তারামাছের মতো কিছু প্রজাতি একেবারে হারিয়ে গেছে।’’

কিং ক্র্যাব, যা মনস্টার ক্র্যাব নামেও পরিচিত, তাদের প্রাকৃতিক কোনো শত্রু নেই। এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নরওয়ের মৎস্যসম্পদ কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে।

ডিয়র্ক হাইজভাগার তার অতিথিদের অল্প সময়ের মধ্যে যে খাবার দিতে পারছেন সেটা সাধারণত ইউরোপ, এশিয়ার অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোতে পাওয়া যায়। বছরে প্রায় দুই হাজার টন কিং ক্র্যাব রপ্তানি করে নরওয়ে।

পর্যটক কিংবা স্থানীয় মানুষ, সবাই কাঁকড়া পছন্দ করেন। কর্তৃপক্ষকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে, কারণ ঐ অঞ্চলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা কাঁকড়ার সংখ্যা ধরে রাখতে চায়। পাশাপাশি সর্বগ্রাসী কাঁকড়া যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

যদিও এই কাঁকড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কিন্তু, মানুষের খাবারে এর ভেল্যু অনেক। এই কাঁকড়ার স্বাদ অতুলনীয়। 

সূত্র: ডয়েচে ভেলে 

news24bd.tv/আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর