কী অসাধারণ আমাদের বোধ

শওগাত আলী সাগর

কী অসাধারণ আমাদের বোধ

আমরা মোশতাককে মেরে ফেলি, কাজলকে অর্ধমৃত করে ফেলি, কিশোরকে মৃত্যুর জন্য ওয়েটিং লিস্টে রেখে দেই। আরো আরো অনেককে জীবন্মৃত হয়ে থাকতে বলি। এভাবে আমরা রাষ্ট্রের, সরকারের ভামূর্তির উজ্জলতা বাড়াই।

লাশের অলংকারে রাষ্ট্রের শোভা বাড়ানোর কী অসাধারণ এক দক্ষতা আমরা অর্জন করেছি! কী অসাধারণ আমাদের বোধ!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নজিব ভাইয়ের জীবনও কেড়ে নিল করোনা

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

নজিব ভাইয়ের জীবনও কেড়ে নিল করোনা

(ছবি-বাঁদিক থেকে) আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, নজিবুর রহমান

এসএসসির সার্টিফিকেট অনুযায়ী নজিবুর রহমান ভাই আমার চেয়ে এক বছরের বড়। উনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন ১৯৬৮ সালে, আমি দিয়েছি ১৯৬৯ সালে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। বাংলাদেশে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। 

তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয় আট বছর আগে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল। ১১ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চারটি দিন আমরা এক সঙ্গেই ঘুরেছি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসি’র বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে। মাত্র তিন দিনে আমাদের মাঝে যে নিবিড় হয়েছিলাম, বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা সাক্ষাতেও সে সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। তাঁর নাম নজিবুর রহমান। আমার পরিচিত জগতে অত্যন্ত সহজ-সরল, নির্মোহ-নিরহঙ্কার ব্যক্তিত্ব। 

তিনি ছিলেন ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি: এর হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বশীল সাবেক এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর। ব্যাংকের চাকুরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি জিএমএস নিটিংয়ের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার পরিস্থিতির  অবনতি ঘটে। তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং গতকাল ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদৌসে দাখিল করুন।

নজিবুর রহমান ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে তাঁর মেয়ে তাজকিয়া বিনতে নাজিবের Tazkia Binte Najib মাধ্যমে। তাজকিয়া দিগন্ত টেলিভিশনে সংবাদ পাঠক ছিলেন। এটি ছিল তার খন্ডকালীন কাজ। তিনি মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতেন। 

সংবাদ মাধ্যমের অনেক কর্মী আমার ফেসবুক বন্ধু। তাজকিয়াও আছেন। ঢাকায় থাকাকালে তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়নি। ফেসবুকে টেক্সট বিনিময় বা টেলিফোনে কথা হয়নি। ২০১২ সালের শেষ দিকে তাজকিয়া আমাকে জানান যে তার আব্বা ফ্লোরিডায় আসছেন কোনো বাংকিং সেমিনারে। সেখান থেকে নিউইয়র্কে যাবেন এবং ব্রঙ্কসে তাঁর এক বোনের বাড়িতে উঠবেন। আমার সময় সুযোগ হলে আমি যাতে তাকে কিছু দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যাই। 

ফ্লোরিডার কনফারেন্স শেষে তিনি নিউইয়র্কে আসার পর আমি ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সকালে ব্রঙ্কস থেকে তাঁকে নিয়ে ম্যানহাটানের কিছু স্থান, ব্রুকলিনের ওয়াল স্ট্রিট, সাউথ ফেরি, কুইন্সের বাঙালি এলাকা জ্যাকসন হাইটস ঘুরিয়ে দেখাই। ওয়াশিংটন ডিসিতে যেতে চান কিনা জানতে চাইলে তিনি সম্মত হন। আমরা পরদিন সকালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। 

আমার ওই সময়ের সকল কাজে সহায়তাকারী কামাল ভাইকে ফোন করে ওয়াশিংটনে পরিচিত কাউকে জানাতে বলি যাতে ১২ এপ্রিল তিনি আমাদের বাস স্টপেজ থেকে নিয়ে রাত্রিযাপন ও পরদিন নগরী ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করেন। কামাল ভাই করিৎকর্মা মানুষ। সকল আয়োজন সম্পন্ন করে তিনি আমাকে একটি ফোন নাম্বার দেন। ওই নাম্বারে কল কলেই কেউ এসে আমাদের নিয়ে যাবেন। 

১২ এপ্রিল দুপুরের পর ব্রঙ্কস থেকে নজিবুর রহমান ভাইকে নিয়ে লোয়ার ম্যানহাটানের চায়না টাউনে এসে ক্যানাল স্ট্রিট থেকে বাসে ওঠে ওয়াশিংটন ডিসি’র উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। তিনি বাস ভাড়া এবং আগের দিন ঘোরাঘুরি ও চা-নাশতা খেতে যা খরচ হয়েছে তা আমার পকেটে গুঁজে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বার বার বলছিলেন, ‘আপনাকে খরচ করিয়েছি শুনলে আমার মেয়ে আমাকে খুব বকাবকি করবে। এমনিতেই আপনার অনেক সময় নিয়ে নিচ্ছি।’ আমি তাঁকে নিরস্ত করে বলি, ‘আপনার মেয়ে আমারও মেয়ে। 

ফেসবুকের কথাবার্তায় আমি ওর নাম ধরে নয়, ‘মা’ বলে সম্বোধন করি। তাছাড়া আমি আপনাকে বিমানে তুলে নিয়ে যাচ্ছি না।’ চায়না বাসে অবিশ্বাস্য কম ভাড়ায় যাতায়াত করা যায়। যাত্রী পিছু রিটার্ন টিকেট মাত্র ২৬ ডলার। ওয়ানওয়ে ভাড়া একটু বেশি ১৭ ডলার। রিটার্ন টিকেট ব্যবহারের দিন তারিখ নির্ধারিত থাকে না; যেকোনো সময় ব্যবহার করা যায়। 

নিউইয়র্ক থেকে বাসে ওয়াশিংটন ডিসি চার ঘন্টার দূরত্ব। আমাদের বাস সন্ধ্যার পর পৌঁছে। কামাল ভাইয়ের দেয়া নাম্বারে কল করার কিছুক্ষণ পরই রেজাউল নামে একজন আসেন। তার বাড়ি পাবনা। নজিবুর রহমান ভাইয়ের বাড়িও পাবনায়। অতএব স্বচ্ছন্দ হতে সময় লাগে না। তিনি আমাদের এক বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান। আমাদেরকে উপলক্ষ করে ওয়াশিংটনের আরও কয়েকজন বাংলাদেশীকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান হয়েছে। আমরা বিব্রত বোধ করলেও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা জানান যে আমাদের পক্ষে ডিসি’র অধিকাংশ দর্শনীয় স্থান দেখা সম্ভব হবে না। কারণ পরদিন ১৩ এপ্রিল চেরি ফেস্টিভ্যাল। সিটির অধিকাংশ এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে চেরি উৎসব দেখতে পারবো এবং হাঁটা দূরত্বে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো দেখতে পারবো। এর আগে আমি বেশ ক’বার ওয়াশিংটন ডিসি গেলেও চেরি ফেস্টিভ্যাল দেখা হয়নি। এবার দেখতে পাবো। নজিবুর রহমান ভাইকেও বললাম যে, আমরা ভালো একটি সময়ে এসেছি। ওয়াশিংটনের চেরি ফেস্টিভ্যাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে তো বটেই, বাইরের দেশগুলো থেকেও অনেকে আসে। কারণ চেরি ফেস্টিভ্যাল শুধু চেরি ফুল ফোটা দেখা নয়। সপ্তাহ জুড়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হোটেলগুলো অগ্রিম বুকড হয়ে যায়। রেস্টুরেন্টে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন ধরতে হয়। 

ডিসি থেকে কয়েক মাইল দূরে ভার্জিনিয়ার ছোট্ট এক সিটিতে আমরা এক বাংলাদেশী ভদ্রলোকের বাড়িতে রাত কাটালাম। সকালে রেজা ভাই এসে আমাদের নিয়ে ডিসি’র উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। দূরত্ব কম হলেও ডিসিমুখী গাড়ির ভিড়ে পথ শেষ হচ্ছিল না। তিন মাইল যেতে বোধ হয় এক ঘন্টার বেশি সময় লেগেছিল। যেখান থেকে ডিসিতে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে রেজা ভাই আমাদের সেখানে নামিয়ে পথের দিশা বলে দিলেন। তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির একজন বাংলাদেশী ছাত্রকেও বলে দেবেন, যিনি চেরি ফেস্টিভ্যাল ছাড়াও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো যথাসম্ভব ঘুরিয়ে দেখাবেন। 

নজিবুর রহমান ভাই না এলে আমার চেরি ফেস্টিভ্যাল দেখা হতো কিনা জানি না। কারণ তিনি আসার আগেও আমি এ ফেস্টিভ্যাল দেখিনি, পরেও আর দেখা হয়নি। প্রতিবছর চেরি ফেস্টিভ্যাল আসে। নজিবুর ভাইয়ের কথা মনে পড়ে। আমরা একসঙ্গে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অবলোকন করেছি। অন্য কোনো সৌন্দর্যের সঙ্গে এর তুলনা হয় না। কয়েক ঘন্টা ধরে আমরা চেরির সৌন্দর্য দেখলাম ছবি তুললাম। ইতোমধ্যে বাংলাদেশী ছাত্রটি (দু:খিত  তার নাম ভুলে গেছি) চলে এসেছিলেন। তিনি আমাদের লিঙ্কন মেমোরিয়াল, অ্যারোস্পেস মিউজিয়াম, ভিয়েতনাম ওয়ার মেমোরিয়াল, ক্যাপিটল হিল, হোয়াইট হাউসসহ আরও কিছু স্থাপনা দেখানোর পর ন্যাশনাল প্রেস বিল্ডিংয়ে নিয়ে যান লাঞ্চ করাতে। 


রাহমানিয়া মাদ্রাসায় রাজনীতি ঢোকান বাবা আজিজুল, দখল করে রাখেন ছেলে মাওলানা মামুনুল, অভিযোগ শিক্ষকদের

ফর্মুলা দেবে রাশিয়া, করোনার টিকা উৎপাদন করবে বাংলাদেশ

আরমানিটোলায় কেমিক্যাল গোডাউনের আগুনে বাড়লো নিহতের সংখ্যা

নিয়োগ দেবে আজকের ডিল ডটকম


দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমরা একটি টেবিল পাই। ভিড়ের কারণে সার্ভিসও বিলম্বিত ছিল। লাঞ্চ সেরে আমরা তাকে বিদায় জানিয়ে নিউইয়র্কের বাস ধরতে চলে আসি। নিউইয়র্ক পৌছতে রাত ৯টার মতো বেজে গিয়েছিল। তাঁকে সাবওয়ের ব্রঙ্কসগামী সিক্সথ ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে, একটি ম্যাপ ধরিয়ে বার বার বলে দেই কোন্ স্টেশনে নামতে হবে। বাড়ি ফিরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ফোন করি যে তিনি তার বোনের বাড়িতে ঠিকঠাক পৌঁছেছেন। 

পরদিন ১৪ এপ্রিল তিনি কারও সঙ্গে জ্যাকসন হাইটসে এসে আমাকে কল করেন। তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় এসেছেন। আমি সেখানে নিয়ে আবার বের হই এবং জ্যাকসন হাইটসে ঘুরে চা সিঙ্গারা খেয়ে তাকে পৌছে দেই এবং বিদায় নেই। তিনি আর দু’দিন থাকবেন। তাজকিয়ার এক সময়ের সহকর্মী স্পোর্টস রিপোর্টার আলমগীর হোসেন, তার বাড়িও পাবনা, তিনি নজিবুর ভাইকে সিটির আরও কিছু দর্শনীয় স্থান দেখাবেন। 

তাঁর সঙ্গে এই সম্পর্ক পারিবারিক পর্যায়ে পৌছে। আমি তাকে কল করি, তিনিও কল করে আমার খোঁজখবর নেন। আমার গিন্নি ঢাকা গেলে তিনি ও তার কন্যা দাওয়াত করেন। ঘোরার জন্য নিজের গাড়ি দিয়ে দেন। তাঁর স্ত্রী ও কন্যা আমার জন্য উপহার পাঠান। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে আমার ছেলে সাদের স্ত্রী নাইমা কন্যা সন্তানের জন্ম হয় মিরপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে। নজিবুর রহমান ভাই তখন ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। 

তিনি সার্বক্ষণিক আমার ছেলের স্ত্রী ও নবজাত কন্যার অবস্থার খবর নিয়েছেন। ভাবি ও তাজকিয়া হাসপাতালে গিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ রেখেছেন। এমনকি হাসপাতালের বিলে যা ছাড় দেয়া সম্ভব সে ব্যবস্থাও করেছেন। আমরা পুরো পরিবার তার কাছে কৃতজ্ঞ। নানা ব্যস্ততায় আমি অনেকদিন পর্যন্ত তাঁর খোঁজ নিতে পারিনি। তাঁর ইন্তেকালের খবরে গ্লানি বোধ করছি। আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন। নাজিব ভাইয়ের পরকালীন শান্তি কামনা করি।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আমি সত্যি সত্যি ক্ষমা চাই, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই

শওগাত আলী সাগর

আমি সত্যি সত্যি ক্ষমা চাই, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই

আমি আবারো বলি,আমি ভুল করেছি, আমি সত্যি সত্যি ক্ষমা চাই, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই।’- ইটোবিকোতে  মায়ের বাড়ীর ব্যাকইয়ার্ড থেকে কথাগুলো যখন তিনি বলেন, তার গলা ধরে আসে। কোভিডে মৃত্যুবরনকারী মানুষের সংখ্যাটা উল্লেখ করতে গিয়ে পেছন দিকে ঘুরে চোখ মুছে নেন প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড। 

ব্যক্তিগত কর্মকর্তা কোভিড পজিটিভ হ্ওয়ায় মায়ের বাড়ীতে আইসোলেশনে আছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার। সেখান থেকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। 

তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারছি, আমাদের সিদ্ধান্ত, পদক্ষেপ নাগরিকদের ক্ষুব্দ করেছে, আহত করেছে। আমি শুধু বলতে চাই, আমরা একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি, সেটা ভুল হয়েছে। আমরা ভুল করেছি। সে জন্য ক্ষমা চাই।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিলো লক ডাউনের । কিন্তু মানুষকে ঘরে রাখার জন্য পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ তাদের ছিলো না। প্রভিন্সিয়াল কনজারভেটিভ সরকার পুলিশকে বাড়তি ক্ষমতা দিয়েছিলেন- বাড়ীর বাইরে আসা যে কোনো গাড়ি বা ব্যক্তিকে থামিয়ে জ্ঞিাসাবাদ করা এবং প্রয়োজনে জরিমানা করার।

শহরের খেলার মাঠে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার সুপারিশও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ছিলো না। কিন্তু প্রভিন্সিয়াল সরকার শহরের সব খেলার মাঠ, পার্কে বাচ্চাদের খেলনায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলো। ফলে প্রভিন্সিয়াল সরকারকে তুমুল সমালোচনার মুখে পরতে হয়। প্রভিন্সিয়াল সরকার অবশ্য প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেই সব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। তারপরও  রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের তুমুল সমালোচনার মুখে প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড আজ সাত সকালে উঠেই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চান।  ঘুরে  ফিরে বার বার নিজের ভুল স্বীকার করেন।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

শহীদ জিয়ার বেছে আনা মানুষগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছেন একে একে

মারুফ কামাল খান

শহীদ জিয়ার বেছে আনা মানুষগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছেন একে একে

বামে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল ও ডানে সদ্য প্রয়াত বিএনপি নেতা এন আই খান।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এন আই খানকে চিনবেন না। তবে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত, সেনাপতি এরশাদের ক্ষমতা দখলের মতন দুর্বিপাক জাতীয়তাবাদী আদর্শের শিখাকে নিভিয়ে দেয়ার যে আশঙ্কা তৈরি করেছিল, সেই ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ দিনগুলোতে  সামান্য সংখ্যক যে মানুষগুলো দলকে দৃঢ়তার সঙ্গে টিকিয়ে রাখতে ভুমিকা রেখেছিলেন এই খান সাহেব তাঁদের একজন। আদর্শবাদী, নিভৃতচারী, প্রচারবিমুখ, নীতিতে অটল এই সজ্জনেরা জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দলকে সমুন্নত রাখতে কেবল দিয়েই গেছেন, বিনিময় চাননি কখনো। শহীদ জিয়ার বেছে আনা এ মানুষগুলো ফুরিয়ে যাচ্ছেন একে একে।

উনার মেয়ে নাহরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালেয়ের শিক্ষিকা, বর্তমানে জার্মানিতে প্রবাসী, আমার পরম স্নেহভাজনদের একজন। গতকালই নাহরিনের বার্তায় জেনেছি উনি লাইফ সাপোর্টে, দোয়া চেয়েছে নাহরিন।

আমাদের সকলের দোয়া ব্যর্থ করে তিনি আজই চলে গেলেন অনন্তলোকে। আল্লাহ্ তাঁকে বেহেশত নসিব করুন। এন আই খানদের মতন নির্লোভ, আদর্শবাদী, সৎ, নিষ্ঠাবান মানুষ আমাদের দেশের দুর্জন-কবলিত বর্তমান রাজনীতিতে যে সময় খুব বেশি দরকার তখন তাদের জায়গাগুলো ক্রমাগত শূণ্য হচ্ছে। সেই শূণ্যতাগুলো আর পূর্ণ হচ্ছে না, এটাই দুঃখ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেলের ফেসবুক হতে নেয়া।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হিরো আলমের চাইনিজ গানের পর থেকে আমাদের কষ্ট শুরু

নজরুল ইসলাম​

হিরো আলমের চাইনিজ গানের পর থেকে আমাদের কষ্ট শুরু

হিরো আলমের আরবি গান
ঢাকা শহরে যত্রতত্র এবং উম্মুক্ত জায়গায় মূত্র বিসর্জনের হাত থেকে রেহাই পেতে বেশ আগে ধর্ম মন্ত্রণালয় এক ইউনিক কনসেপ্ট বের করেছিলেন। যেসব জয়গায় মানুষ সহজে দাঁড়িয়ে যায় কিংবা লুঙ্গি উঠিয়ে বসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে সেখানটায় লিখে দিলেন- يحظر التبول هنا  "ইয়াহঝুর আলবাতাউল হুনা"( এখানে প্রসাব করা নিষেধ।) ব্যস, আর কিছুই করা লাগলো না। লুঙ্গি উঠাতে গিয়েই এ লেখা দেখার সাথে সাথে মূত্র উর্দ্ধগামী। অথচ এর আগে কত "প্রসাব করা নিষেধ" কে যে তীব্রতায় দেয়াল থেকে মুছে দিয়েছে তার ইয়ত্তা নাই।

আহ! আরবীর প্রতি কত সম্মান আমাদের! এ  দুর্বলতার সুযোগে পবিত্র রমজানে  হিরো আলম আরবী গান নিয়ে হাজির। বাংলা,হিন্দি, ইংলিশ, চাইনিজ এবং সর্বশেষ আরবি। মারহাবা!  বাংলা,হিন্দি এমনকি ইংলিশ পর্যন্ত মেনে নিয়েছি। 

তবে চাইনিজ গানের পর থেকে আমাদের কষ্ট শুরু।

বাংলাদেশী এক লোকের এক চীনা বন্ধু ছিল, নাম তার চিং হোয়াই। তার সাথে  দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব হলেও লোকটি চীনা ভাষা জানে না। চিং হোয়াইও চীনা ভাষা ছাড়া আর কোনো ভাষা জানে না। কয়েক মাস আগে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল চিং। ওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দেখে, বেচারার করুণ হাল। নাকে-মুখে অক্সিজেনের নল লাগানো। বাংলাদেশী বন্ধু কে কাছে পেয়েই ও কাতর হয়ে উঠল, বলল, ‘লি কায় ওয়াং কি গুয়ান', বলতে বলতেই বেচারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। অনেকদিন পর এক দোভাষীকে পেয়ে বন্ধুর বিদায় বেলায় বলে যাওয়া কথাটির জানতে চাইলো আমাদের দেশীয় লোকটি। অর্থটা খুব সহজ ‘ভাই দয়া করে অক্সিজেনের নলটার ওপর থেকে একটু সরে দাঁড়াও!'

এর মধ্যে আবার আরবদের পোশাকে  আরবি  গান  নিয়ে উপস্থিত হিরো আলম। তিনি কি জানেন না আমাদের আরবীর হালত "মাফি মুশকিল" টাইপ!

মজনু নামে একজন সৌদি আরবে গিয়ে বাড়িতে ফোন কর বলে," এখানে সব কিছু আরবিতে শুধু আযানটা বাংলায় "। মজনু যার  অধীনে গেছে সে সৌদি তারে জিজ্ঞেস করে, "হাল এইনদিক আকামা?" মজনু বলে "আমি এদিক ওদিক কোনদিকে কোন আকাম করিনাই।" এ কথা শুনে সৌদি কয়, "হাল আনতা মজনুন? মজনু মনে মনে বলে "শালা নামটাও তো জাইনা ফালাইছে"।

এ যখন আমাদের "আরবীর" অবস্থা, হিরো আলম, আপনি কোন দুঃখে আমাদের আরবী গান শোনাতে গেলেন।

অবশ্য চট্টগ্রামের কিছু মানুষ বলেছেন "আরবি গানটি  ভাল হয়েছে,আরবিকে আমরা একটু বেশি মহব্বত করি।" ঠিক আছে, কিন্তু আপনাদের ভাল লাগলেও তা অন্যদের কষ্টের কারণ হতে পারে-

ভিন্ন ড্রিস্ট্রিকের একজন কৃষি অফিসার চট্টগ্রামে বদলি আসলেন। তিনি এক কৃষককে উন্নত ধানের বীজ দিলেন চাষের জন্য । কয়েকমাস পর তিনি কৃষককে জিজ্ঞেস করলেন," ধান কেমন হয়েছে?
কৃষক বলে, " ধান গম অইয়্যি"
অফিসার চিন্তায় পড়ে গেলেন, "দিলাম ধান হইলো গম!

নজরুল ইসলাম​ (ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আমি আমার আব্বুকে ঘৃনা করতে চাইনা আন্টি,প্লিজ কিছু করেন!

রাখী নাহিদ

আমি আমার আব্বুকে ঘৃনা করতে চাইনা আন্টি,প্লিজ কিছু করেন!

একটা বাচ্চা মেয়ে,১৬ ১৭ বছর বয়স হবে,বেশ কিছুদিন ধরে আমাকে ইনবক্স করে!!রিলেশনশিপ সংক্রান্ত কিছু জটিলতা নিয়ে কথা বলতে চায়!! আমি প্রথমদিন তার মেসেজ পেয়ে যার পর নাই বিরক্ত হলাম!!পুত্রের প্রায় সমবয়সী কারো সাথে তাদের জিএফ বিএফ নিয়ে আলোচনা করাটা একটু অস্বস্তিকর লাগে তাই এই ধরনের মেসেজ আমি একটু এভয়েডই করি!!

কিন্তু সে নাছোরবান্দা!!মেসেজ পাঠাতেই থাকে!!দুইদিন আগে মোটামুটি বাধ্য হয়ে রিপ্লাই দিতে বসলাম!!
-বল তোমার প্রবলেম 
- আমার প্রবলেম টা আমার আব্বু কে নিয়ে
-আব্বু কে নিয়ে??আব্বুকে নিয়ে কি প্রবলেম??
-আমার আব্বু খুব ভালো আন্টি!!সে জীবনেও আমাদের দুই ভাই বোনকে কখনো ধমক দিয়েও কথা বলেনি,মার দেয়া তো পরের কথা!!আমাদের কে আব্বু এখনো প্রায়ই মুখে তুলে ভাত খাওয়ায়!!এমন কোনো আবদার নাই যা আব্বু পূরণ করে না!!আমরা একদিকে পুরো পৃথিবী একদিকে!!
-বাহ,এটা তো খুব ভালো কথা!!তাহলে প্রবলেম কি??
-প্রবলেম হলো,এত ভালো হওয়ার পরেও আমি আমার আব্বুকে ভালবাসতে পারছিনা!!
-মানে কি??কেন পারছনা??
-কারণ আমার আর আমার ভাই এর সবচেয়ে আপন,সবচেয়ে ভালবাসার মানুষ মানে আমার আম্মুর প্রতি আব্বু দিনের পর দিন অন্যায় করে এসেছেন!!আগে ছোট ছিলাম তাই বুঝতে পারতাম না!!এখন বুঝি,আব্বু কখনই আমার আম্মুকে ভালোবাসেনি,সম্মান করেনি!!অনেক দিন আমাদের সামনেই আম্মুর গায়ে হাত তুলেছে,গালি দিয়েছে!!

শুধু তাইনা,আরো এমন কোনো ঘটনাও আছে যার কারণে আমার আম্মু রাতের বেলা বালিশে মুখ গুজে কাঁদে!!আমি জানি কারণ লাস্ট তিন চার বছর আম্মু আমার সাথেই ঘুমায়!!

-আচ্ছা 

-আন্টি আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি!!আমি এখন বড় হয়েছি!!প্রত্যেকটা জিনিস আমি এখন বুঝি!!আমার আম্মু কোনদিন সংসারের প্রতি,আব্বুর প্রতি অবহেলা করেনি!!তাহলে কেন সে এই কষ্ট ভোগ করবে??আমি এটা কোনো ভাবেই মানতে পারছিনা!!আব্বু মন খারাপ করবে ভেবে আমি প্রতিবাদও করতে পারিনা!!কিন্তু আমি চাই আমার ভাই প্রতিবাদ করুক!!

আমি সত্যি সত্যি পাগল হয়ে যাচ্ছি!!আমি আমার আব্বুকে ঘৃনা করতে চাইনা আন্টি!!প্লিজ কিছু করেন!!

আমি তার প্রবলেম শুনলাম,কিছু পরামর্শও দিলাম কিন্তু তার সাথে আরেকটা জিনিস বুঝলাম!!আমরা আমাদের বাচ্চাদেরকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসলেও সবচেয়ে বেশি ইগনোরও বোধয় করি তাদেরকেই!!আমরা ভুলে যাই তারাও একটা আলাদা সত্ত্বা!!তাদেরও ভালো মন্দ,ন্যায় অন্যায় বোঝার ক্ষমতা আছে!!আমরা তাদের চোখে একজন ভালো বাবা বা মা হতে পারি,তাদের আম্মু বা বাবার আদর্শ জীবন সঙ্গী হতে পেরেছি তো??

একটা বিখ্যাত উক্তি আছে,পৃথিবীতে খারাপ মানুষ অনেক আছে কিন্তু খারাপ বাবা একটাও নেই!!কথাটা হয়ত একটা লিমিট পর্যন্ত সত্যই ছিল কিন্তু ভালো বাবাটা যদি তাদের মায়ের স্বামী হিসেবে খারাপ হয় তাহলে কিন্তু অঙ্কটা পুরোপুরি উল্টো হয়ে যেতে পারে..........
আরো একটা উক্তি দিয়ে শেষ করি"সেই পুরুষই শ্রেষ্ট বাবা যে তার সন্তানের মা কে ভালবাসে"
তাই,পৃথিবীর সকল সন্তানের বাবারা,অতীতে যা করসেন করসেন,আজকে থেকে আপনার সন্তানের মাকে অনেক অনেক ভালবাসেন,পিলিজ.........

রাখী নাহিদ, নিউইয়র্ক (ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর