জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময়

ইতিহাসের প্রথম জুমা

অনলাইন ডেস্ক

ইতিহাসের প্রথম জুমা

উম্মতে মুহাম্মদির কিছু বিশেষ প্রাপ্তি রয়েছে, যা অন্যান্য নবীর উম্মতেরা পাননি। তন্মধ্যে একটি হলো জুমার দিন। হাদিস শরিফে এই দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।  হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিস্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পরে রাখলেন। দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিস্টানরা উম্মতে মুহাম্মদির পড়ে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির আগে থাকব। (মুসলিম : ১৪৭৩)

জুমার দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে। (মুসলিম : ৮৫৪)। জুমার দিনকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজা : ১০৮৪)

শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সপ্তাহের এদিনে জুমার খতিব উম্মতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা ও সমাধানমূলক উপদেশ দেবেন তার খুতবায়।

ইতিহাসের প্রথম জুমা:

জুমার নামাজ ফরজ হয় প্রথম হিজরিতে। প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতকালে কুবাতে অবস্থান শেষে শুক্রবার দিনে মদিনা পৌঁছেন এবং বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছে জোহরের ওয়াক্ত হলে সেখানেই তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।

জুমার দিনের ফজিলত:

সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুমার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে ফেরেশতারা বিশেষ রেজিস্টার নিয়ে মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা মসজিদে আগমনকারী মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। অতঃপর যখন ইমাম সাহেব এসে যান, তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন।


দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


জুমার নামাজের ফজিলত ও তা আদায়কারীদের জন্য ঘোষিত পুরষ্কার-

(১) কোরবানি করার সমান সওয়াব অর্জিত হয়: 

দিনে আগে ভাগে মসজিদে গেলে দান-খয়রাত বা পশু কোরবানি করার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যাক্তি জুমার দিন ফরজ গোসলের মতো গোসল করে প্রথম দিকে মসজিদে হাজির হয়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল, দ্বিতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সে যেন একটি গরু কোরবানি করল, তৃতীয় সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ছাগল কোরবানি করল। অতঃপর চতুর্থ সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে গেল সে যেন একটি মুরগী কোরবানি করল। আর পঞ্চম সময়ে যে ব্যাক্তি মসজিদে প্রবেশ করল সে যেন একটি ডিম কোরবানি করল। অতঃপর ইমাম যখন বেরিয়ে এসে মিম্বরে বসে গেলেন খুৎবার জন্য, তখন ফেরেশতারা লেখা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যায়।’ (বুখারি: ৮৮১, ইফা ৮৩৭, আধুনিক ৮৩০)।

(২) মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে ফেরেশতারা অগ্রগামীদের নাম তালিকাভুক্ত করেন: 

জুমার সালাতে কারা অগ্রগামী, ফেরেশতারা এর তালিকা তৈরি করে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতা এসে হাজির হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা সর্বাগ্রে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকে। প্রথম ভাগে যারা মসজিদে ঢুকেন তাদের জন্য উট, দ্বিতীয়বারে যারা আসেন তাদের জন্য গরু, তৃতীয়বারে যারা আসেন তাদের জন্য ছাগল, চতুর্থবারে যারা আসেন তাদের জন্য মুরগী, ও সর্বশেষ পঞ্চমবারে যারা আগমন করেন তাদের জন্য ডিম কুরবানী বা দান করার সমান সওয়াব লিখে থাকেন। আর যখন ইমাম খুৎবা দওয়ার জন্য মিম্বরে উঠে পড়েন ফেরেশতারা তাদের এ খাতা বন্ধ করে খুৎবা শুনতে বসে যান।’ (বুখারি ৯২৯, ইফা ৮৮২, আধুনিক ৮৭৬)। 

(৩) দশ দিনের গুনাহ মাফ হয়:

জুমার দিনের আদব যারা রক্ষা করে তাদের দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যাক্তি ভালভাবে পবিত্র হলো অতঃপর মসজিদে এলো, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শুনতে চুপচাপ বসে রইল, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী এ সাত দিনের সঙ্গে আরো তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে খুৎবার সময় যে ব্যক্তি পাথর, নুড়িকণা বা অন্য কিছু নাড়াচাড়া করল সে যেন অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম: ৮৫৭)।

(৪) জুমার আদব রক্ষাকারীর দশ দিনের গুনাহ মুছে যায়:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার সালাতে তিন ধরনের লোক হাজির হয়। (ক) এক ধরনের লোক আছে যারা মসজিদে প্রবেশের পর তামাশা করে, তারা বিনিময়ে তামাশা ছাড়া কিছুই পাবে না। (খ) দ্বিতীয় আরেক ধরনের লোক আছে যারা জুমায় হাজির হয় সেখানে দোয়া মুনাজাত করে, ফলে আল্লাহ যাকে চান তাকে কিছু দেন আর যাকে ইচ্ছা দেন না। (গ) তৃতীয় প্রকার লোক হল যারা জুমায় হাজির হয়, চুপচাপ থাকে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কারও ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে আগায় না, কাউকে কষ্ট দেয় না, তার দুই জুমার মধ্যবর্তী ৭ দিন সহ আরো তিনদিন যোগ করে মোট দশ দিনের গুনাহ খাতা আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন।’ (আবু দাউদ: ১১১৩)।

(৫) প্রতি পদক্ষেপে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছরের সারারাত তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব অর্জিত হয়:

যে ব্যাক্তি আদব রক্ষা করে জুমার সালাত আদায় করে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার জন্য পুরো এক বছরের রোজা পালন এবং রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার সওয়াব লিখা হয়।

আউস বিন আউস আস সাকাফী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন যে ব্যাক্তি গোসল করায় (অর্থাৎ সহবাস করে, ফলে স্ত্রী ফরজ গোসল করে এবং) নিজেও ফরজ গোসল করে, পূর্বাহ্ণে মসজিদে আগমন করে এবং নিজেও প্রথম ভাগে মসজিদে গমন করে, পায়ে হেঁটে মসজিদে যায় (অর্থাৎ কোনো কিছুতে আরোহণ করে নয়), ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসে, মনোযোগ দিয়ে খুৎবা শোনে, কোনো কিছু নিয়ে খেল তামাশা করে না; সে ব্যাক্তির প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য রয়েছে বছরব্যাপী রোজা পালন ও সারা বছর রাত জেগে ইবাদত করার সমতুল্য সওয়াব।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৬৯৫৪, ১৬২১৮)।

(৬) দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা:

জুমার সালাত আদায়কারীদের জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ বেলা সালাত আদায়, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে হয়ে যাওয়া সব (সগীরা) গুনাহের কাফফারা স্বরূপ, এই শর্তে যে, বান্দা কবীরা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।’ (মুসলিম: ২৩৩)।

জুমার দিনে দোয়া কবুলের সময়:

জুমার ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪)।

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটা? এ সম্পর্কে ৪৫টা মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় দোয়া কবুলের সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের কাঙ্ক্ষিত সময়টা হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা: ৫৪৬০, তিরমিজি : ৪৮৯)।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা লাহাবের বাংলা অর্থসহ উচ্চারণ

অনলাইন ডেস্ক

সূরা লাহাবের বাংলা অর্থসহ উচ্চারণ

পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ পারার ১১১ নম্বর সূরা ‘সূরা লাহাব’। এটি মাক্কী সূরা। এর আয়াত ৫ এবং রুকু একটি। 

আরবি:

 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
١  تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ 
٢ مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ 
٣ سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ 
٤ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ 
٥ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ 

উচ্চারণ:

‘বিসমিল্লাহ-হির রহমা-নির রাহীম’

ত্বাব্বাত ইয়াদা- আবী লাহাবিউ ওয়া তাব্বা. মা আগনা- 'আনহু মা-লুহু ওয়ামা- কাসাব. ছাইয়াছলা-না-রানযা-তা লাহাবিউ ওয়ামরাআতুহ, হাম্মা- লাতাল হাত্বোয়াব. ফীজী দিহা- হাবলুম মিম মাসাদ।


ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী আজ 

১৭ এপ্রিল, ইতিহাসের এই দিনে

কবরীর মৃত্যুতে বুবলীর আবেগঘন স্ট্যাটাস

‘কেজিএফ টু’র ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ


বাংলায় অনুবাদ:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
১. আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে,
২. কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে।
৩. সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে
৪. এবং তার স্ত্রীও - যে ইন্ধন বহন করে,
৫. তার গলদেশে হবে এক খর্জুরের রশি ।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেহরিতে বিশ্বনবী যা খেতেন

অনলাইন ডেস্ক

সেহরিতে বিশ্বনবী যা খেতেন

রাসুল (সা.) এর সাহারিও ছিল খুব সাধারণ। তিনি (সা.) দেরি করে একেবারে শেষ সময়ে সেহরি খেতেন। সেহরিতে তিনি দুধ ও খেজুর পছন্দ করতেন। সেহরিতে সময় নিয়ে কঠোরতা করা তিনি পছন্দ করতেন না।

বেশিরভাগ সামান্য ভেজা বা শুকনো খেজুর আর পানি দিয়ে ইফতার করতেন তিনি। ভেজা খেজুর সেহরিতে পছন্দ করতেন তিনি। সেহরি ও ইফতারে কখনো জাঁকজমক কিছু ছিল না তার। রমজানে রাসুলের এ আচরণ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়। 

এরকম কয়েকটি হাদিস হলো: হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, (كان النبي صلي الله عليه و سلم يفطر قبل أن يصلي على رطبات، فإن لم تكن رطبات فتميرات، فإن لم تكن تميرات حسا حسوات من ماء ) রাসুল (সা.) নামাজ আদায়ের আগে কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, যদি ভেজা খেজুর না থাকত, তবে সাধারণ শুকনো খেজুরই গ্রহণ করতেন। যদি তাও না থাকত, তবে কয়েক ঢোক পানিই হত তার ইফতার। [তিরমিজি : ৬৯৬] 


২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন কাদের মির্জা (ভিডিও)

প্রকৃত কোন মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারে না: ভিপি নুর

‘মুভমেন্ট পাস’ বিড়ম্বনা, বিবৃতিতে যা বললো ডিএমপি

কামড়ে ধরতেই লাঠি দিয়ে বাঘকে পিটিয়ে ছেলেকে ছিনিয়ে আনলেন বাবা


আরেকটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, উপরোক্ত কিছুই যদি না থাকে, তবে রোজাদার যে কোনো হালাল খাদ্য দিয়ে ইফতার করে নিবে। তবে, খাদ্যই যদি না থাকে, তাহলে ইফতারের নিয়ত করবে। ইফতারের নিয়তই হবে তার জন্য ইফতার।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুরা মায়েদা ও সুরা আনয়ামের বাংলা অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা মায়েদা ও সুরা আনয়ামের বাংলা অনুবাদ

আল কোরআন বিশ্ব মানবতার মুক্তি, ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের উত্থান, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং একটি সুন্দর শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের পথ দেখায়।

তাই এ কোরআন পড়তে হবে বাংলা অর্থ বুঝে এবং সেই মোতাবেক আমল করলেই তবেই মিলবে মুক্তি। 

পবিত্র মাহে রমজানে পাঠকদের জন্য আল কোরআনের বাংলা অনুবাদ জানার সুযোগ করে দিয়েছে নিউজ টোয়েন্টিফোর অনলাইন। আজ আমরা তুলে ধরব সুরা মায়েদা ও সুরা আনয়ামের বাংলা অনুবাদ।

সুরা মায়েদার বাংলা অনুবাদ

সুরা আনয়ামের বাংলা অনুবাদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইফতারের আগে দোয়া কবুলের জন্য যে আমল করা উচিত

অনলাইন ডেস্ক

ইফতারের আগে দোয়া কবুলের জন্য যে আমল করা উচিত

মানবজাতীর হেদায়েত গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয় মাহে রমজানে। তাই এ মাসে ইবাদত-বন্দেগীর সাওয়াব অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি। রমজানে সেহরির মতোই অন্যতম হচ্ছে ইফতার। ইফতার করা সুন্নত। তাই ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজা খোলা বা ছাড়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন হাদিসে।

ইফতারের আগ মুহূর্তে দোয়া কবুল হওয়ার প্রসঙ্গে অনেকেরই জানার আগ্রহ থাকে।


আল্লাহ ফেরআউনকেও সুযোগ দিয়েছিলেন ছেড়ে দেননি: বাবুনগরী

আল্লাহ ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না

রমজানে ইবাদত সম্পর্কে হযরত আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তান ভালো কাজের প্রতিদান দশ থেকে সাতশ’ গুণ বেশি পাবে। রোজা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ নিজেই এর প্রতিদান দেবেন। (মুসলিম–২৭০৭)

এ থেকে এটা স্পষ্ট যে, রমজানে ইবাদত করলে অন্যান্য মাস বা সময়ের থেকে দশ থেকে সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব পাবে বান্দারা। আর আল্লাহ তা’আলা নিজে রোজার প্রতিদান দেবেন।

এছাড়া রমজন মাসে সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় ইফতার সামগ্রী নিয়ে সূর্যাস্ত সময়ের জন্য অপেক্ষা করা মহান আল্লাহ’র কাছে পছন্দের দৃশ্য। কেননা, বান্দা খাবার সামনে নিয়ে বসে থাকার পরও আল্লাহ’র ভয়ে মুখে তোলা থেকে বিরত থাকছেন। এ সময় আল্লাহ’র কাছে বেশি বেশি দোয়া ইস্তেগফার করা ভালো।

ইসলামিবীদরা বলে থাকেন, রোজাদারের মন নরম থাকে, এ কারণে মোনাজাতে তার আবেগও বেশি থাকে। তাই ইফতারের আগে দোয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া বেশি প্রয়োজন। এই সময় দোয়ায় দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে চাওয়া হয়ে থাকে। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া আত্মীয়-স্বজনসহ মা-বাবার জন্যও দোয়া করা উচিত এ সময়।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কখন রোজা ভাঙলে গোনাহ হবে না

অনলাইন ডেস্ক

কখন রোজা ভাঙলে গোনাহ হবে না

ইসলামের ৫টি স্তম্ভ। এর মধ্যে রোজা অন্যতম একটি। রোজা রাখা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ও সবল মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য। তবে বিশেষ কিছু কারণে রোজা ভঙ্গা যাবে। যা ইসলামে বলা রয়েছে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক কখন রোজা ভাঙলে গুনাহ হবে না।

১। অসুস্থ হলে:
অসুস্থতা মানুষের শরীর ও মনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং নষ্ট করে কর্মক্ষমতা। রোজা না রাখার অবকাশ আছে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে অন্য সময় ওই সংখ্যক রোজা রাখতে হবে।’ 

শর্ত হলো, অসুস্থতা এমন পর্যায়ের হওয়া, যাতে ব্যক্তির বড় ধরনের ক্ষতি, কষ্টের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, সুস্থতা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে কোনও দ্বীনদার, আল্লাহভীরু ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক রোজা না রাখার পরামর্শ দিলে ছেড়ে দেওয়া যাবে রোজা। তবে পরে তার কাজা আদায় করতে হবে।

২। বার্ধক্য:
ইসলামি শরিয়ত অতিশয় বৃদ্ধ নারী ও পুরুষের যদি রোজা রাখার শারীরিক সামর্থ্য না থাকে তবে তাদের না রাখার অবকাশ দিয়েছে। যদি এমন হয় যে, বৃদ্ধ নারী ও পুরুষ বছরের কোনও সময় (দিন ছোট বা বড় হোক, শীত বা গ্রীষ্ম হোক) রোজা কাজা করতে পারবে না, তাহলে তারা কাফফারা আদায় করবে। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘রোজার কারণে যাদের খুব বেশি কষ্ট হয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদিয়াস্বরূপ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা।’ 

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আয়াতটি এখনও রহিত হয়নি। এমন বৃদ্ধ পুরুষ ও নারী যাদের রোজা রাখার সামর্থ্য নেই, তারা প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন অভাবগ্রস্তকে খাবার খাওয়াবে।’

৩। গর্ভধারণ:
অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারী যদি নিজের ও সন্তানের ব্যাপারে কোনও ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তবে তার জন্য রোজা না রাখার অবকাশ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের জন্য রোজা ও অর্ধেক নামাজ ছাড় দিয়েছেন এবং অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারীর জন্য রোজার ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন।’ 

তবে পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করতে হবে। আর ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে তার জন্য রোজা ছেড়ে দেওয়া জায়েজ হবে না।

৪। সফর:
সফররত ব্যক্তির জন্য রমজানের রোজা না রাখার অবকাশ আছে। পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারায় ১৮৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে অন্য সময় ওই সংখ্যক রোজা রাখতে হবে।’

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘আমরা রমজানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে রমজানে সফর করেছি। তখন রোজাদার ব্যক্তি রোজা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তিকে এবং রোজা ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তি রোজাদার ব্যক্তিকে দোষারোপ করেনি।’ 

শর্ত হলো, যতটুকু পরিমাণ সফর করলে নামাজ কসর করা বৈধ, ততটুকু সফর করা। তবে নামাজ কসর করার মতো রোজা ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক নয়; বরং ব্যক্তি চাইলে রোজা রাখতে পারবে আবার তা ভাঙতেও পারবে। রোজা ভাঙলে পরবর্তী সময়ে তা কাজা করে নিতে হবে। 

৫। অনিবার্য কারণে:
বিশেষ প্রয়োজন পূরণ ও আপাতত বিপদের হাত থেকে বাঁচতে কখনো কখনো রোজা না রাখার অবকাশ আছে। যেমন ডুবে যাওয়া বা আগুনে পোড়া ব্যক্তির চিকিৎসা রোজা ভঙ্গ না করলে করা সম্ভব হয় না। তবে এমন ব্যক্তিও পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করবে। 

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে রোজা রেখে মক্কার উদ্দেশে সফর করেছিলাম। আমরা একজন এক জায়গায় যাত্রাবিরতি দিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের শত্রুর নিকটবর্তী হয়েছ। রোজা ভঙ্গ করাই তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবে।’

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর