সূরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা ইখলাসের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত

সুরার নাম ‘ইখলাস’। ‘সূরা ইখলাস’ পবিত্র কোরআন শরীফের ১১২ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইখলাস অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।

এই সূরাটিকে ইসলামের শেষ পয়গম্বর মুহাম্মদ (সা:) বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।  তাৎপর্যের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এই আয়াতে আল্লাহ্‌র অস্তিত্ব ও সত্তার সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা রয়েছে। এটি কুরআনের অন্যতম ছোট একটি সূরা হিসেবেও বিবেচিত হয়ে থাকে। এই সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। 

হজরত আবু হোরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কোরআনের তিনভাগের একভাগ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাট করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এ সূরাটি কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান (মুসলিম ও তিরমিজী)।

যে ব্যক্তি অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার লাশ বহন করার জন্য হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।

রাসুল (সাঃ) এর সময় একবার এক এলাকার একজন ইমাম সাহেবের নামে বিচার এল। বিচারের দাবী ছিল যে সেই সাহাবী প্রতি ওয়াক্ত নামাজে শুধু সুরা ইখলাস পড়ত। এই প্রসঙ্গে সেই সাহাবীকে তিনি জিজ্ঞেস করলে সাহাবা উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সুরা ইখলাসে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এমনভাবে বর্ণিত আছে যে এই সূরা আমার অনেক ভাল লাগে। তাই আমি সব নামাজে এই সূরা পড়ি। 

এই কথা শুনে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কিছু বলার আগেই আল্লাহ বলে পাঠালেন যে শুধু তার সূরা ইখলাসের প্রতি এই ভালবাসাই তার জন্য জান্নাত নিশ্চত করে দিয়েছে।

আসুন জেনে নিই সূরা আল ইখলাসের অনুবাদ ও অর্থ-

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ।’ (মাখরাজসহ বিশুদ্ধ উচ্চারণ শিখে নেয়া জরুরি )
অর্থ : (হে রাসুল! আপনি) বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমতুল্য কেউ নেই।’ (সুরা ইখলাস)


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রোনালদোর গোলেও হোঁচট খেল জুভেন্টাস


সুরা ইখলাসের ফজিলত

সুরা ইখলাস-এর ভাব ও মর্মার্থ বুঝে পড়লে তাতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলী গেঁথে যাবে। মনে প্রাণে ওই ব্যক্তি হয়ে উঠবে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হবে। আর তার বিনিময়ে সে লাভ করবে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা ও ফজিলত।

একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।’ (বুখারি, তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঋণগ্রস্ত হলে তা ক্ষমা হবে না।’ (তিরমিজি)

হজরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দারিদ্র্যতার অভিযোগ করল তিনি বললেন, ‘যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সুরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছু দিনের মধ্যে তার দারিদ্র্যতা দূর হয়ে যায়।’ (তাফসিরে কুরতুবি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়।’ (ইবনে কাসির)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি বললেন, ‘এটা তার অধিকার।’ সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, তার অধিকার কী? তিনি উত্তরে বললেন- ‘তার অধিকার হচ্ছে জান্নাত।’ (মুসনাদে আহমাদ)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা ইখলাসের ভাব ও মর্মার্থ নিজেদের মধ্যে ধীর বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহর একত্ত্ববাদ ও ক্ষমতায় পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত মর্যাদা ও ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রোজা শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোজা শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

পবিত্র মাহে রমজান কবে থেকে শুরু হচ্ছে তা আজ জানা যাবে। আজ সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে বাংলাদেশে রোজা শুরুবিষয়ক সিদ্ধান্তটি আসবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সভাপত্বি করবেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি মো. ফরিদুল হক খান।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা পালন করবে মুসলিম উম্মাহ। আজ মঙ্গলবার ২৯ শাবান। এদিন সন্ধ্যায় রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে রাতেই তারাবিহ এবং আগামীকাল বুধবার রোজা পালন করবে মুসলিম উম্মাহ। আজ বাংলাদেশের আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সেক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে পবিত্র রমজানের রোজা।


আব্দুস সবুর খান বীর বিক্রম আর নেই

ফরিদা পারভীনের ফুসফুসের ৫০ শতাংশ আক্রান্ত

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও খোলা বসুন্ধরা সিটি শপিংমল

এদেশে জন্ম নেওয়া কি পাপ, প্রশ্ন নুরুর


বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। 

টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭।

এদিকে আজ মঙ্গলবার থেকে সৌদি আরবে রোজা শুরু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, মিসর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রোজার নিয়ত ও সেহরি-ইফতারের দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

রোজার নিয়ত ও সেহরি-ইফতারের দোয়া

রোজা পালনে সেহরি ও ইফতারের যেমন গুরুত্ব রয়েছে তেমনি রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়ার রয়েছে যথেষ্ট গুরুত্ব ও তাৎপর্য। সেহরি খাওয়ার পর রোজার নিয়ত করা জরুরি।

রোজার নিয়ত:

نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم

আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুম্মা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

ইফতারের আগ মুহূর্তে বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া সওয়াবের কাজ।

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الْعَظِيْم – اَلَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ اَلْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْم

আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।

ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোয়া পড়ে ইফতার করা

اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ وَ اَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِيْمِيْن

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক্বের মাধ্যমে ইফতার করছি।


একদিনে হেফাজতের ৪ নেতা আটক

বোনকে খুঁজে না পেয়ে ভাইয়ের জিডি, বলছেন তার বোনকেও বিয়ে করেছেন মাওলানা মামুনুল

সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

সক্রেটিস আইন মেনে মরলেন, রফিকুল আইন মানেন না

ইফতারের পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে দোয়া পড়া


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন-

ذَهَبَ الظَّمَاءُ وَابْتَلَتِ الْعُرُوْقُ وَ ثَبَتَ الْأَجْرُ اِنْ شَاءَ اللهُ

উচ্চারণ : ‘জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ।’

অর্থ : ‘(ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াবও স্থির হলো।’ (আবু দাউদ, মিশকাত)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তারাবির নামাজ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক

তারাবির নামাজ নিয়ে নতুন নির্দেশনা

করোনার সংক্রণে রোধে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’র বিষয়ে আদেশ জারি করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।  ‘সর্বাত্মক লকডাউনে’ বন্ধ থাকবে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। এমন অবস্থায় প্রতি ওয়াক্তে নামাজ ও তারাবীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। আসন্ন রমজানে দেশের সব মসজিদে তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ চালু থাকবে। রমজানে ইমাম, মুয়াজ্জিন, হাফেজসহ সর্বমোট ২০ জন মুসল্লি এতে অংশ গ্রহণ করতে পারবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। 

সোমবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়..

মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের  প্রতি ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

তারাবীর নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদিমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

জুম'আর নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিগণ অংশগ্রহণ করবেন।

সম্মানিত মুসল্লিগণকে পবিত্র রমজানে তিলাওয়াত ও যিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির জন্য দু'আ করার অনুরোধ করা হলো।

নির্দেশনায় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানায় মন্ত্রণালয়।

এর আগে ৬ এপ্রিল এক নির্দেশনায় রমজানে মসজিদে ইফতার ও সেহরির আয়োজন না করার বিষয়ে বলা হয় ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। এছাড়া যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ না করার বিষয় যুক্ত করে একটি অফিস আদেশ জারি করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতের ফজিলত

দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণে রয়েছে বিশেষ কিছু আয়াত। তার মধ্যে সূরা তাওবার শেষ দুই আয়াতও বিদ্যমান। এখানে তাওবার শেষ দুই আয়াত ও তার ফজিলত তুলে ধরা হলো

উচ্চারণ : লাক্বাদ ঝা-আকুম রাসু-লুম মিন আংফুসিকুম আযিযুন আলাইহি মা- আনিত্তুম হারিছুন আলাইকুম বিলমু’মিনি-না রাউ’-ফুর রাহি-ম। ফা ইং তাওয়াল্লাও ফাক্বুল হাসবিয়াল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা- হুয়া আলাইহি তাওয়াক্‌কাল্‌তু ওয়া হুয়া রাব্বুল আ’রশিল আজি-মি। (সুরা তাওবা : আয়াত ১২৮-১২৯ )

হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সূরা তাওবার শেষ দু’টি আয়াত সাতবার করে পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা তার সব কাজ সহজ করে দিবেন। (কুরতুবী)


সৌদিতে রোজা শুরু মঙ্গলবার

মাওলানা রফিকুল মাদানীর নামে আরেকটি মামলা, আনা হলো যেসব অভিযোগ

দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত ৫ হাজার ৮১৯ জন


অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি এ দুই আয়াত পাঠ করে কোনো বিচারকের সামনে যাবে বিচারক তার প্রতি সহৃদয়তা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে।

অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এ দুই আয়াত দিনে কমপক্ষে দু’বার পাঠ করবে, সে দিন তার মৃত্যু হবে না।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যেসব কারণে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

যেসব কারণে রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে

রোজা পালন করা মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ফরজ। আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদেরকে লক্ষ্য করে বলে দিয়েছেন যে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

রোজা রাখা ফরজ। তবে বিশেষ কয়েকটি অবস্থায় রোজা না রাখারও অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে এসব কারণে রোজা ছাড়লেও পরে তা কাজা করতে হবে।

যেসব কারণে রমজানে রোজা ছাড়ার অনুমতি রয়েছে। আসুন সে বিষয়গুলো জেনে নিই-

১. মুসাফির
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না। ’ -সূরা বাকারা : ১৮৫

মাসয়ালা : শরয়ি সফর (অর্থাৎ ৪৮ মাইল তথা ৭৭ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন যিনি) তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। তবে মুসাফিরের জন্য উত্তম হচ্ছে যদি কষ্ট কম হয়, তাহলে রোজা পালন করা। -সূরা বাকারা : ১৮৪; হেদায়া : ১/২২১; জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া : ১/২০

মাসয়ালা : অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরূহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে তা কাজা করে  নিতে হবে। আছিম (রহ.) বলেন, হজরত আনাস (রা.) কে সফরকালে রোজা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘যে রোজা রাখবে না সে অবকাশ গ্রহণ করল। আর যে রোজা রাখল সে উত্তম কাজ করল। ’ -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৬/১৩২

মাসয়ালা : সফর অবস্থায় নিয়ত করে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভাঙা জায়েজ নয়। কেউ ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে কাফফারা দিতে হবে না। শুধু কাজা করবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৪৩১
 
মাসয়ালা : যে ব্যক্তি মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) অবস্থায় সাহরি খেয়ে সফর শুরু করেছে তার জন্য সফরের অজুহাতে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। ভাঙলে গোনাহগার হবে এবং শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/২০৬
 
মাসয়ালা : মুসাফির সফরের কারণে রোজা রাখেনি, কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই মুকিম হয়ে গেছে। সেদিনের অবশিষ্ট সময় রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। আর পরে এ রোজার কাজা করে নেবে। -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৬/২২১, হাদিস : ৯৪৩৬-৯৪৩৮

২. অসুস্থ ব্যক্তি
মাসয়ালা : রোজা রাখার কারণে কোনো জটিল রোগ সৃষ্টি বা পুরাতন রোগ বৃদ্ধির প্রবল ধারণা হলে, তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি আছে। সুস্থ হওয়ার পর কাজা করে নেবেন। -সূরা বাকারা: ১৮৪

উল্লেখ্য, আশঙ্কা যদি সুস্পষ্ট হয় তাহলে তো কথা নেই। নতুবা একজন অভিজ্ঞ ও দ্বীনদার চিকিৎসকের মতামতের প্রয়োজন হবে। -আল মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৫৯; আদ দুররুল মুখতার: ২/৪২২

শুধুই খেয়ালের বশে রোজা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নেই। বরং যখন কোনো মুসলমান দ্বীনদার চিকিৎসক কর্তৃক রোজা না রাখার ব্যাপারে আদিষ্ট হবে, কেবল তখনই শরিয়ত রোজা ভাঙ্গার অনুমতি দেয়। -দুররে মুখতার : ২/৪৪২

মাসয়ালা : কঠিন কোনো কাজ করার ফলে ভীষণ পিপাসার্ত হয়ে পড়লে এবং এতে প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে রোজা ভেঙ্গে ফেলা জায়েজ আছে। পরবর্তিতে এর কাজা আদায় করতে হবে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা প্রয়োজনে এমন কাজ করা গোনাহ। কিন্তু কেউ যদি এতোই দরিদ্র বা দুঃস্থ হয় যে, ঘরে তার খোরাকির কোনো ব্যবস্থা নেই, তখন অপারগতাবশত এমন হলে গোনাহ নেই। -রদ্দুল মুহতার : ২/৪২০০

৩. দুর্বল ব্যক্তি
মাসয়ালা : অতিশয় বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে অক্ষম হলে। যে ব্যক্তি বার্ধক্যজনিত কারণে কিংবা কোনো স্থায়ী জটিল রোগের কারণে রোজা রাখতে অক্ষম, ভবিষ্যতেও সুস্থতা লাভের সম্ভাবনা নেই তিনি ফিদিয়া (প্রতি রোজার জন্য পৌঁনে দুই সের গম বা তার মূল্য) আদায় করবেন। কিন্তু যদি পরবর্তীকালে কখনো সুস্থ হয়ে যান, তাহলে এ রোজাগুলোর কাজা করে নেয়া জরুরি। -সূরা বাকারা : ১৮৪; রদ্দুল মুহতার : ২/৪২৭; জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া : ১/১২০

বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত সাবেত বুনানি (রহ.) বলেন, হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) যখন বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে সক্ষম ছিলেন না তখন তিনি রোজা না রেখে (ফিদইয়া) খাবার দান করতেন। -মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৫৭০

৪. গর্ভবতী
মাসয়ালা : রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী মহিলার নিজের কিংবা সন্তানের প্রাণহানি বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা হলে তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা জায়েজ। পরে এ রোজা কাজা করে নেবে। -আল মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৫৯

মাসয়ালা : রোজার কারণে দুগ্ধপোষ্য সন্তানের ক্ষতির পূর্ণ আশংকা বোধ করলে তিনিও রোজা রাখবেন না। -রদ্দুল মুহতার : ২/৪২২; আল ফাতাওয়াল হিন্দিয়া : ১/২০৭; আলহিদায়া : ১/২২২; আপকা মাসায়েল আওর উনকা হল : ৪/৫৬৭


মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়কে ব্যক্তিগত বললেন বাবুনগরী

মাওলানা রফিকুল মাদানীর নামে আরেকটি মামলা, আনা হলো যেসব অভিযোগ

দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত ৫ হাজার ৮১৯ জন


৫. দুগ্ধদানকারী নারী

মাসয়ালা : রোজার কারণে সন্তান দুধ না পেয়ে মৃত্যুবরণ করতে পারে এমন আশঙ্কা হলে দুগ্ধদানকারীনীও আপাতত রোজা ভাঙ্গতে পারবে এবং পরে কাজা করে নিবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৪২২ হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা মুসাফিরের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন এবং নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্যও রোজার হুকুম শিথিল করেছেন। -জামে তিরমিজি: ১/১৫২, হাদিস : ৭১৫

৬. ঋতুবর্তী মহিলা
মাসয়ালা : মাসিক ঋতুস্রাব তথা পিরিয়ডের (হায়েজ) সময় এবং সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ৪০ দিন (নেফাস) মহিলাদের ওয়াজিব হল রোজা বর্জন করা। এ অবস্থায় নামাজ ও রোজা কোনোটাই আদায় করা জায়েয হবে না। সুস্থতার পর তাদের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না। হাদিসে এসেছে, উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো হায়েজ থেকে পবিত্রতার পর মহিলারা কি নামাজ ও রোজার কাজা আদায় করবে? তিনি বললেন, ‘এ অবস্থায় আমাদের রোজার কাজা আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নামাজের নয়। ’ – সহিহ বোখারি ও মুসলিম

রোজা কাজা করা আর নামাজ কাজা না করা সম্পর্কে উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) যা বলেছেন সমস্ত উলামায়ে কেরাম তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন অর্থাৎ ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর