আল্লাহর কাছে যে তিনটি কাজ বেশি প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে যে তিনটি কাজ বেশি প্রিয়

যারা আল্লাহর দেয়া আদেশ পালন করেন, নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করেন আর সব সময় আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে সক্ষম হন; তারাই মহান রাব্বুল আলামিনের প্রিয় বান্দা।

হ্যাঁ, রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাদিসের বর্ণনায় এ তিন শ্রেণির লোকের বর্ণনা ও তার কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছেন। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘হে আলি! আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় কাজ তিনটি। তাহলো-

* যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তার ওপর ফরজকৃত কাজগুলো পালন করে; সে হলো সবচেয়ে বড় আবেদ।
* আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নিষেধকৃত কাজগুলো থেকে বিরত থাকে; সে হলো সবচেয়ে সংযমী।
*  আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তার জন্য যে জীবিকা নির্ধারিত করেছেন, তাতেই তুষ্ট থাকে; সে হলো সবচেয়ে বড় সামর্থ্যবান (কৃতজ্ঞ)।

হাদিসে উল্লেখিত তিনটি কাজ পালন করা মহান আল্লাহর নির্দেশ। আর যারা এ নির্দেশ পালন করেন তারা মহান আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। এ কারণেই তাদের আবেদ, সংযমী ও সামথ্যবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের একাধিক স্থানে এ ৩টি বিষয় নিয়ে একাধিক আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘রাসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা হাশর : আয়াত ৭)

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে একাধিক আয়াতে তার শুকরিয়া ও তাকে স্মরণ করার কথা বলেছেন। বিনিময়ে তিনি বান্দার প্রতি তার নেয়ামত দান করবেন। বান্দাকে স্মরণ করবেন মর্মে আয়াত নাজিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

 ‘সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদের স্মরণ রাখবো এবং আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর; অকৃতজ্ঞ হয়ো না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫২)
 ‘তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারাই সত্বর জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৬০)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে তার ফরজ করা বিষয়গুলো মেনে নেয়া যেমন জরুরি তেমনি তার নিষেধ করা কাজগুলো থেকে বিরত থাকাও একান্ত আবশ্যক। পাশাপাশি সব সময় মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের বিকল্প নেই। তিনিই তো বান্দার একমাত্র আশা-ভরসার স্থল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব ফরজ বিধি-নিষেধ এবং সব কাজে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করার তাওফিক দিন। উল্লেখিত কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দিন। আমিন।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ফজর নামাজের ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

ফজর নামাজের ফজিলত

নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ নামাজ। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের প্রিয় নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার নামাজের তাগিদ পেয়েছেন।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি ৮২ বার সালাত শব্দ উল্লেখ করে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।  

নামাজ কায়েম করো সূর্য ঢলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত এবং কায়েম করো ফজরের নামাজ। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ উপস্থিতির সময়। (সূরা: বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৭৮ (দ্বিতীয় পর্ব)।

নামাজের মধ্যে যেমন ফজরের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব, তেমনি সময়ের মধ্যে ফজরের সময়ের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। পবিত্র কোরআনে ‘ফজর’ নামে একটি সূরাও রয়েছে। ওই সূরার শুরুতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘শপথ ফজরের। ’ (সূরা: ফজর, আয়াত : ১)

হাদিসে ফজরের নামাজের বিশেষ তাগিদ রয়েছে। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭)


জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনার ভিডিও বার্তা

বিমানবন্দরে গুলিসহ আটক, কাগজপত্র দেখিয়ে ছাড়া পেলেন দম্পতি

লকডাউন শেষে যা যা বন্ধ রাখার পরামর্শ

চিকিৎসকের সঙ্গে বিতণ্ডা: সেই ম্যাজিস্ট্রেট বদলি


অন্য হাদিসে ফজরের নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যাদের জন্য রমজানে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক

নিজস্ব প্রতিবেদক

যাদের জন্য রমজানে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক

মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। কিন্তু মুসলিম হলেই কি রমজানের রোজা রাখা বাধ্যতামূলক? নাকি এরমধ্যেও বিধি নিষেধ আছে? ইসলামি শরিয়তে রমজানের রোজা রাখার ব্যাপারে নির্দেশনাই বা কী?

রমজানের রোজা ফরজ ইবাদত ও আল্লাহর নির্দেশ। ঈমানদারদের জন্য রোজা রাখা যে ফরজ তা জানিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দেন-

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)

যাদের জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক

হ্যাঁ, সবার জন্য রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়, বরং রোজা পালনের জন্যও রয়েছে শর্ত। যেসব শর্ত সাপেক্ষে রোজা ফরজ তাহলো-

- মুসলমান হতে হবে। অমুসলিমদের জন্য ইসলামে রোজা রাখার কোনো হুকুম নেই।

- বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। মুসলিম ছেলে-মেয়ের বয়স ৭ বছর হলেই রোজা রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া। যদি তারা রোজা পালনে সক্ষম হয়। তবে আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ নামাজের সঙ্গে তুলনা করে ১০ বছর বয়সে রোজা না রাখলে দৈহিক শাস্তির কথা বলেছেন।

- তবে ৭ বছর বয়স থেকে ছেলে-মেয়ে রোজা রাখলে তারা সাওয়াব পাবে। আর ভালো কাজে উৎসাহিত করার কারণে উৎসাহ দাতা বা বাবা-মাও সাওয়াব পাবেন। হাদিসে এসেছে-

‘যখন আশুরার রোজা ফরজ ছিল তখন আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে রোজা রাখাতাম। আর খাবারের জন্য কান্না করলে তাদেরকে তুলা দিয়ে তৈরি আকর্ষণীয় খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আমরা এটা করতাম ইফতারের সময় পর্যন্ত।’ (বুখারি)

- মুকিম বা স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি সফরে বের না হয়, তবে তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। যদি কেউ দীর্ঘ সফরে বের হয় তবে তার জন্য রোজার বিধানকে সহজ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন-

‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তবে সে অন্য সময় গণনা পূরণ (পালন) করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

- শারীরিকভাবে সুস্থ ও রোজা রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয় কিংবা রোজা রাখলে জীবননাশের আশংকা থাকে তবে এ পরিস্থিতিতে রোজা বিধান সহজ। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ কিংবা সফরে থাকে তবে সে অন্য সময় তা পালন করবে।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৪)

- নারীদের হায়েজ (মাসিক ঋতুস্রাব) ও নেফাস (সন্তান জন্মের পর রক্তস্রাব) থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ইসলামে নারীদের মাসিক ঋতুস্রাবকে কে হায়েজ বলা হয়। হায়েজ অবস্থায় নারীরা অপবিত্র থাকে। এ সময় তাদের জন্য রোজা রাখার হুকুম নেই।

আর সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর নারীদের প্রথম ৪০ দিন হলো নেফাসের সময়। এ দুই সময়ে নারীদের রোজা বিধান থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।

- রমজানের মাসের দিনের বেলায় যদি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয় তবে সে সময় থেকে রোজা রাখা ফরজ।

- রমজান মাসের দিনের বেলায় যদি কোনো ছেলে-মেয়ে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়।

- রমজান  সময় যদি কোনো পাগল ভালো হয়ে যায়। তবে তারা রোজা হুকুমের আওতায় এসে যাবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে ইফতারের সময় পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

তবে ইসলাম গ্রহণকারী, বালেগ হওয়া ছেলে-মেয়ে কিংবা ভালো হওয়া পাগল ব্যক্তির আগের রোজা আদায় তাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কেননা আগের রোজাগুলো অবস্থার প্রেক্ষিতে তাদের ওপর আবশ্যক ছিল না।

আরও পড়ুন


যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতেন বিশ্বনবী

সমঝোতার চেষ্টায় হেফাজত

এবার রাজশাহীতে ডিজিটাল আইনে নুরের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশিদের ওমানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা


- যারা মাঝে মাঝে পাগল হয়ে যায় আবার মাঝে মাঝে ভালো হয়ে যায় তবে ভালো থাকার সময় তাদের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। রোজা অবস্থায় যদি কেউ পাগল হয়ে যায় কিংবা অজ্ঞান হয়ে যায় তবে তাদের জন্য রোজা হুকুম বাতিল হবে না।

- রমজান মাসে কোনো মানুষ মারা গেলে অবশিষ্ট রোজা রাখায় তাদের জন্য কোনো হুকুম নেই। আত্মীয়দের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির রোজা রাখায়ও বাধ্যবাধকতা নেই।

- যদি কেউ রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার ব্যাপারে অজ্ঞতায় থেকে রোজা না রাখে, তবে কোনো কোনো আলেমের মতে সে ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হবে না। রোজা ফরজ হওয়ার বিষয়টি জানার পরপর তার ওপর রোজা রাখা বধ্যতামূলক।

- আবার কেউ যদি রমজান মাসের দিনের বেলায় না জানার কারণে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাসে মিলিত হয় তবে অধিকাংশ আলেমের মতে সে দোষী সাব্যস্ত হবে না। তবে মুসলিম এলাকায় বসবাস করে রোজা ফরজ কিনা কিংবা সহবাস হারাম কিনা এ বিষয়ে জানা নেই বললে এ ওজর গ্রহণযোগ্য হবে নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের ফরজ রোজা পালনে এর হুকুম-আহকাম জেনে নেয়ার তাওফিক দান করুন। রমজানের ফরজ রোজা যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

যেভাবে ইসলামের দাওয়াত দিতেন বিশ্বনবী

ইসলামের দিকে দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি কেমন হবে- এ সম্পর্কে কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোম সম্রাটকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়ে সে পদ্ধতির বাস্তব নমুনা তুলে ধরেছেন। যাতে ইসলামের দিকে দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি ফুটে ওঠেছে।

দাওয়াতের ব্যাপারে উভয় পক্ষের জন্য সাধারণ একটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাবলিগের নির্দেশ এসেছে কুরআনুল কারিমে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْاْ إِلَى كَلَمَةٍ سَوَاء بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلاَّ نَعْبُدَ إِلاَّ اللّهَ وَلاَ نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلاَ يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضاً أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللّهِ فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُولُواْ اشْهَدُواْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
(হে রাসুল! আপনি) বলুন, ‘হে আহলে-কিতাবগণ! একটি বিষয়ের দিকে আস। যা আমাদের মধ্যে এবং তোমাদের মধ্যে সমান। (তাহলো) যে আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করব না, তাঁর সঙ্গে কোনো শরিক সাব্যস্ত করব না এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পালনকর্তা বানাব না। তারপর যদি তারা স্বীকার না কর, তাহলে বলে দাও যে, `সাক্ষী থাক আমরা তো অনুগত। (সূরা আল-ইমরান : আয়াত ৬৪)

আয়াতের ব্যাখ্যামূলক অনুবাদ

হে রাসুল! আপনি বলে দিন, হে আহলে কিতাব তথা আসমানি কিতাবের অনুসারি ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা, আস এমন কথার দিকে; যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে একই রকম। একই সমান তার বিষয়সমূহ। তাহলো- আমরা আল্লাহ ব্যতিত কারও ইবাদত করি না, কোনো কিছুকেই তাঁর সঙ্গে শরিক করি না। তোমরা যেমন তোমাদের ধর্মের অভিজ্ঞ ও সন্ন্যাসীদেরকে ‘রব’ বলে মেনে নিয়েছ, তেমনি আমাদের কেউ আল্লাহ ব্যতিত অপর কাউকেও রব বলে গ্রহণ করে না। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া থেকে বিমুখ হয় তবে তোমরা তাদের বল- তোমরা আমাদের ব্যাপারে এ কথার উপর সাক্ষী থাকা যে, আমরা আত্মসমার্পনকারী অর্থাৎ তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের অবলম্বনকারী। (তাফসিরে জালালাইন)

দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি ঘোষণা

আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে দাওয়াত ও তাবলিগের মূলনীতি, পদ্ধতি কেমন হবে তা ঘোষণা করেছেন। আর তাহলো- ‘আস! ওই বিষয়ের দিকে, যা আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সমান’। এ আয়াত থেকে তাবলিগ ও ধর্মের প্রতি কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলকে আহ্বান করার মূলনীতি জানা যায়। তাহলো এমন যে-
‘ভিন্ন মতের কাউকে ধর্মের প্রতি আহ্বান জানাতে হলে প্রথমে তাকে শুধু এমন বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানানো উচিত, যে বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হতে পারেন।’

আরও পড়ুন


সমঝোতার চেষ্টায় হেফাজত

এবার রাজশাহীতে ডিজিটাল আইনে নুরের বিরুদ্ধে মামলা

বাংলাদেশিদের ওমানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশের নারীদের গড় আয়ু ৭৫, পুরুষের ৭১


রোম সম্রাটকে ইসলামের দাওয়াত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রোম সম্রাটকে ইসলামের দাওয়াত দেন, তখন এমন বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে উভয়েই একমত ছিলেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের প্রতি। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতটি ছিল এমন-
‘আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি- যিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু। এ পত্র আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের প্রতি। যে হেদায়েতের পথ অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অতপর আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানাই। মুসলমান হয়ে যান; শান্তি লাভ করবেন। আর্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন।

আর যদি বিমুখ হন তবে আপনার প্রজা সাধারণের গোনাহ আপনার উপর পতিত হবে। (অতপর কুরআনের উক্ত আয়াত তুলে ধরেন)- হে আহলে কিতাবগণ! এমন এক বিষয়ের দিকে আস, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন। তা এই যে- আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করব না; তাঁর সঙ্গে কাউকে অংশীদার করব না এবং আল্লাহকে ছেড়ে একে অন্যকে পালনকর্তা সাব্যস্ত করব না।’

অতপর আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ তাআলা সাক্ষী থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন এইভাবে যে- ‘অতপর তোমরা বলে দাও যে, তোমরা সাক্ষী থাক; আমরা আত্মসমার্পনকারী মুসলমান।’ (তাফসিরে মারেফুল কুরআন)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসলামের দিকে আহ্বান করার তাওফিক দান করুন। বিশ্বনবির শেখানো পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে সম্পৃক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দোয়া মাছুরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

অনলাইন ডেস্ক

দোয়া মাছুরা বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

নামাজ মানুষের জন্য ফরজ ইবাদাত। ফরজ নামাজ ছাড়াও রয়েছে ওয়াজিব, সুন্নাত, নফল নামাজসহ অনেক নামাজ। সব নামাজেই দোয়াই মাছুরা পড়া ফরজ। আসুন দোয়াটির উচ্চারণ ও অর্থটা জেনে নেই। 

দোয়া মাছুরা বাংলা উচ্চারণ: 

আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুল্মান কাসীরাওঁ ওয়ালা ইয়াগ ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা; ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ার হামনী ইন্নাকা আন্তাল গফুরুর রাহীম।

দোয়া মাছুরা বাংলা অর্থ:

হে আল্লাহ্‌! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র তুমিই; অতএব তুমি আপনা হইতে আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়ালু।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এবার চার মাসের জন্য আকসা মসজিদের ইমামের ওপর নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক

এবার চার মাসের জন্য আকসা মসজিদের ইমামের ওপর নিষেধাজ্ঞা

নবি-রাসুলদের স্মৃতিধন্য পূণ্যভূমি মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদে আকসার ইমাম শায়খ ইকরিমা সাবেরির ওপর চার মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। সোমবার (১৯ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইমাম শেখ ইকরিমা সাবরির কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিটি ইসরায়েলের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী এরিয়ে ডেরির স্বাক্ষরিত ছিল বলে জানা গেছে। তবে কেনো এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তার কোনো জবাব বা মন্তব্য পাওয়া যায় নি। 

নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে আল-আকসার ইমাম বলেন, ইসরায়েলের এই আদেশ অন্যায়। জেরুজালেম ফিলিস্তিনিদের। এটা ইসরাইল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

১৯ জানুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করেছিল জেরুজালেম ও মসজিদে আকসার দখলদার ইসরাইল। অবশেষে তাকে ৪ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করল দখলদার ইসরাইল।

এর আগে গত ২৬ মার্চও শেখ ইকরিমার ওপর একমাসের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সে মেয়াদ শেষ হবার আগেই এবার আরও ৪ মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল।

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ৮২ বছর বয়সী এই ইমামকে বহুবার ইসরাইলের পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, কিন্তু কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি।  

অবশ্য এ জাতীয় ঘটনা এবারই প্রথম নয়। বিগত কয়েক বছরে অনেকবার মসজিদে প্রবেশে বাধার মুখোমুখি হয়েছেন মসজিদুল আকসার এ খতিব।

news24bd.tv/আলী

 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর