সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই

জিয়াউল হক

করোনা বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিয়ত আমাদের শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা নিচ্ছে। শরীরে  ভিটামিন সি এবং ডি ঠিক আছে কিনা, জিঙ্ক আছে কিনা ইত্যাদি মাথায় রাখতে হয়। মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে আছে ভীতি এবং শংকা। সর্দি, কাশি হলেই ভয়, জ্বর হল তো কথাই নেই। 

একবার আমার সর্দি, কাশি হলে আমার স্ত্রী বললেন, তুমি কোত্থেকে করোনা বাধিয়ে এসেছ, আল্লাহ মালুম; গতকাল থেকে আমারো কাশি শুরু হয়েছে। দু দিন পর আমার কাশি ভাল হয়ে গেল; তার ও হল। কিছুদিন পর তাঁর কাশি শুরু হল ভয়ানক ভাবে। আমার ও শুরু হল। 

আমি আর ভয়ে বলতেই পারলাম না তোমার কাছ থেকে আমার কাশি শুরু হয়ে গেছে যদিও বা দুজনেরই ছিল নরমাল কাশি। যাই হোক,  শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার পাশাপাশি করোনা অত্যন্ত মহা গুরুতপুর্ন আরেকটা পরীক্ষা নিয়েছে, সেটা হল দাম্পত্য পরীক্ষা। 

প্রথম আলোর রিপোর্ট ও বলছে করোনার সময়ে বিচ্ছেদ বেড়ে গেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক বছর বা তার কম তারা বেশ ভাল সময় কাটিয়েছেন। যারা ঠিকে গছেন, তাদের দাম্পত্য নিয়ে ভবিষ্যতে কোন সমস্যা হবার সম্ভাবনা কম। 

দুজনেই ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন, তাদের ফাস্ট ইন কমান্ড কে আর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড কে। বেড়াল যা মরার ইতিমধ্যে মরেছে। যাদের বিয়ের বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, তারাও মোটামুটি এই সময়ের মধ্যে লকডাউনে থেকে পারস্পরিক সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছেন। তারা বুঝেছেন ফাস্ট ইন কমান্ড যাই কিছু বলুক, নীরবে সয়ে যেতে হবে। 

যদি পুরুষ ফাস্ট ইন কমান্ড হয় (সম্ভাবনা ক্ষীন!) সেক্ষেত্রে অযৌক্তিক কিছু বললেও স্ত্রীকে মেনে নিতে হয়েছে কারণ বাপের বাড়ি যাওয়ার উপায় নেই; দরজা বন্ধ। আবার স্ত্রী যদি ফাস্ট ইন কমান্ড হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি কিছু বললে পুরুষকে মেনে নিতে হয়েছে; রাগ দেখিয়ে বের হওয়ার উপায় নেই আর কষ্টেসৃষ্টে বের হলেও বাইরে হোটেল বন্ধ। 

যাদের বিয়ের বয়েস দশ বছরের বা বিশ বছরেরও বেশি তাদের পরীক্ষা ছিল সবচেয়ে কঠিন; যদিওবা কেউ কেউ বলেন, স্বামী-স্ত্রী বিশ বছর সংসার করলে তাদের সম্পর্ক টা অনেকটা ভাই বোনের মত হয়ে যায়। 

যাই হোক, তারা সত্যিকার অর্থে করোনার মধ্যে খুব কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন। নরমাল রুটিন হল, স্ত্রী মশারি টাঙ্গাবে বা স্বামী সারাদিন চাকরি করেন তাই স্ত্রী বাসায় রান্না করে। করোনার সময় দেখা গেল রুটিন পাল্টে গেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী বেচারা মশারি টাঙ্গিয়েছেন অথবা বাসায় রান্না করেছেন। এর বাইরে আরও কাজ আছে, যেমন ঘর ঝাড়ু দেয়া, ঘর মোছা ইত্যাদি। অর্থাৎ বহু দিনের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ভেঙ্গে গেল। 

আবার স্ত্রী কে কাটতে হয়েছে চুল। আমার কাছে মনে হয় এটা ছিল, স্বামীর বা স্ত্রীর অনেকটা মানোন্নয়ন পরীক্ষার মতো বা প্রমোশনের ইন্টারভিউ এর মত। প্রশ্নকর্তার খুব বেশি আগ্রহ নেই প্রশ্ন করার প্রতি আর উত্তর দাতার ও আগ্রহ কম উত্তর দেয়ার দিকে। বিশ বছরের দম্পতি রবীন্দ্রনাথ এর কথা কে ফলো করেছেন। 

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, “লোকে ভুলে যায়, দাম্পত্যটা একটা আর্ট, প্রতিদিন ওকে নতুন করে সৃষ্টি করা চাই”। বিশ বছরের দম্পতি্র পক্ষে তো আর প্রতিদিন দাম্পত্য সৃষ্টি করা সম্ভব না; করলেও মহা সমস্যা হয়ে যাবে। একটা কৌতুক বলি। স্ত্রী স্বামীকে বলছে, 
“কাল থেকে তোমার অফিস খুলবে, তাই আমার খুব  মন খারাপ।“
স্বামী জিজ্ঞেস করল “কেন”? স্ত্রী বলল, “তোমার হাতের কাজ আমাদের বাসার বুয়ার চেয়ে বহুগুণ ভালো”।  

এসময় একটা জিনিসের দারুন চর্চা হয়েছে। সেটা হলো রান্না। যারা পারেন তারা তো করেছেন। যারা পারেন না, তারা  তাদের বেস্ট দিয়ে চেষ্টা করেছেন। রমজানের ইফতারির মধ্যে জিলাপি খুব প্রিয় একটা আইটেম। রমজানের মধ্যে ইফতারির জন্য জিলাপির বানানোর দারুন চর্চা হয়েছে। নতুন নতুন জিলাপি উদ্ভাবিত হয়েছে। 

আমরা  জানি, জিলাপি আড়াই প্যাঁচ দিয়ে হয়। কেউ কেউ আবার সাড়ে তিন প্যাঁচ দিয়ে  জিলাপি বানিয়েছে। তারা হয়তো ভেবেছে, প্যাঁচ তো লাগানোর জিনিস, আস্তে আস্তে লাগাতে হয় তাই একটু বেশি করে দিলেই ভালো। এরমধ্যে আবার এসেছে পুরুষ জিলাপি। পুরুষ জিলাপি বুঝলেন না তো? পুরুষ জিলাপি হলো একদম সোজা, কোন প্যাঁচ থাকবে না। 

এখানেও একটা পরীক্ষা দিতে হয়েছে। যিনি রান্না পারেন না, তার বানানো জিলিপি বা অন্য কোন কিছু খেতে গেলেই যিনি খাবেন, তিনি বুঝতে পারবেন দুর্গতি টা কি! খাওয়ার সময় কিছুই বলা যাবে না; কোন বদনাম করা যাবেনা শুধু আলতো করে মুখে একটা মিষ্টি হাসি ধরে রেখে বলতে হবে, “তুমি কেমন করে গান কর হে গুনি, আমি অবাক হয়ে শুনি”!   

করোনার মধ্যে আবার সিনেমা বিশারদদের দেখলাম বেশ কদর রয়েছে। সিনেমা তো কমবেশি সবাই দেখি। কেউ ক্লাসিক পছন্দ করেন, কেউ একশন ধর্মী, কেউ আবার রোমান্টিক ঘরানার। অথবা কেউ পছন্দ করেন এডভেঞ্চারাস। ফেসবুকে দেখলাম, অনেককে সিনেমার লিস্ট জিজ্ঞেস করছে, কোন কোন সিনেমা দেখা দরকার। তখন সিনেমা বিশারদ যারা আছেন, তারা দেখলাম লিস্ট দিয়েছে। 

লিষ্টের মধ্যে আবার ভাগ আছে; আর্জেন্ট, সেমি  আর্জেন্ট, অডিনারি ইত্যাদি। লিস্ট এর মধ্যে সিনেমার নামের পাশে লেখা থাকে এটা কি রোমান্টিকধর্মী সিনেমা নাকি একশনধর্মী। রোমান্টিক সিনেমার ক্ষেত্রে আবার পাশে ডট ডট আছে। মানে, এই সিনেমাতে ডট ডট  আছে সুতরাং এটা একা একা দেখতে হবে। 


পুলিশকে কেন প্রতিপক্ষ বানানো হয়, প্রশ্ন আইজিপির

আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে: সামিয়া রহমান

বিমা খাতে সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও প্রচার প্রয়োজন: প্রধানমন্ত্রী

পোশাক খাতে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেললো বাংলাদেশ


তবে অনেকের কমেন্ট পড়ে এবং সিনেমার লিস্ট থেকে মনে হয়েছে, ডট ডট ঘরানার সিনেমা গুলো একটু বেশি জনপ্রিয়! একটা কৌতুক বলি। মাননীয় প্রেসিডেন্ট মহোদয়ের বক্তৃতা থেকে শুনেছি। তাঁর এক বন্ধু একবার সিনেমা হলে গিয়ে একটা ছবি ৪/৫ বার দেখেছেন। ওই সিনেমায় একটা দৃশ্য ছিল, নায়িকা গোসল করছে আর সেই সময় একটা মেইল ট্রেন চলে যায়। তাঁর বন্ধু সিনেমাটা দেখেছিলেন ৫/৬ বার এই আশায় যে যদি একবার মেইল ট্রেন একটু লেট করে আসে!!

পুনশ্চঃ করোনার সময় সবাই সবাইকে সাবধান করেছে, এখন করোনা, ঘর থেকে খবরদার বের হবে না; তবে বের না হয়ে আবার জনসংখ্যা বাডিয়োনা। আল্লাহর রহমতে এখন করোনা কিছুটা কমেছে, তাই উপদেশ দেয়ার মত কেউ নেই। সে সুযোগে যদি কেউ দারুন উৎসাহে কাজে নেমে পড়েন আর গাইতে থাকেন, " আজ খেলা ভাংগার খেলা, খেলবি আয়, আয়, আয় আজ......" তাহলেই বিপদ। সবসময় রবীন্দ্রনাথের কথা শুনতে নেই।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নিজের জন্মস্থানে সন্ত্রাসীদের কারনে যেতেন না তারেক শামসুর রেহমান

মারুফ কামাল খান

নিজের জন্মস্থানে সন্ত্রাসীদের কারনে যেতেন না তারেক শামসুর রেহমান

ড. তারেক শামসুর রহমানের এমন মৃত্যুর সংবাদে আমি স্তম্ভিত। একা বাসায় থাকতেন। নিঃসঙ্গ অবস্থায় সেখানে মারা গেছেন তিনি। সেই ফ্ল্যাটের দরোজা ভেঙ্গে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন একা থাকতেন তিনি? স্ত্রী-কন্যাকে দূরদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পিরোজপুরে পৈত্রিক বাড়িতেও ইচ্ছে সত্বেও যেতে পারতেন না। এসব আমি জানতাম না। জানলাম একটু আগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেনের স্ট্যাটাস পড়ে।

সরোয়ারও পিরোজপুরের সন্তান। তিনি লিখেছেন: তারেক ভাই আমাদের স্কুলের এ্যালামনাই। একই শহরের বাসিন্দা। এ্যালামনাই অনুষ্ঠানেই বেশির ভাগ সময় দেখা হত। তার ছোট বোন আমেরিকা প্রবাসী দিপু আমার সহপাঠী। বছর ৫/৬ আগে পিরোজপুরে গিয়েছিলেন। সন্ত্রাসী গডফাদারের ইংগিতে, সাথে থাকা সুন্দরী মেয়ে সদস্যদের সাথে বেয়াদবি করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। নিজের জন্মস্হান ত্যাগ করলেন সাথে সাথেই। আইনের আশ্রয় নিলেন না। কেননা আইন তো সন্ত্রাসীদের কথায় চলে। এই সন্ত্রাসীরাই তার পিতার সম্পত্তির একাংশ বেআইনী ভাবে দখল করে রেখেছেন। বলেছিলাম একটু ধৈর্য ধরুন। পিরোজপুরে থাকতে চেয়েছিলেন। সন্ত্রাসীদের কারনে যেতেন না।

আমরা কোন সমাজে বাস করছি ওপরের বিবরণগুলো তার একটা ছবি আমাদের সামনে তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, একজন জনপ্রিয় কলাম লেখক, একজন কৃতি গবেষকের পারিবারিক নিরাপত্তা আজ এ পর্যায়ে!

তারেক শামসুর রহমানের এই নিঃসঙ্গ মৃত্যু কারো পরিকল্পিত কিনা সে রহস্য হয়তো আমরা কখনো জানব না। যদি এর পেছনে কোনো ব্যক্তির সরাসরি হাত নাও থাকে তবুও এমন করুণ মৃত্যুর পরিবেশ ও আয়োজন যে বর্তমান রাজনীতি ও সমাজ করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

খুব নিবিড় নৈকট্য ছিল আমাদের মধ্যে একটা সময়ে। বিশেষ করে ১৯৯০ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত। প্রেসক্লাবে, পত্রিকা অফিসে, বিভিন্ন বাসায় ও চেম্বারে এবং রেস্তরাঁয় বসে চায়ের কাপে কত ঝড় তুলেছি আমরা। রাতে-দিনে ঘন্টার পর ঘন্টা চলেছে আড্ডা। আমি, ড. তারেক, আহমেদ মুসা, কাজী সিরাজ, মাহমুদ শফিক এবং কখনো আবু সাঈদ জুবেরী কিংবা আরো কেউ কেউ আমাদের আড্ডাসঙ্গী হতেন। রাজনীতি, সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও সামাজিক নানা প্রসঙ্গ হতো আড্ডার বিষয়বস্তু। কত উত্তপ্ত বিতর্ক, কত তত্ত্বকথা, কত ঐকমত্য ও ভিন্নমতের মধ্য দিয়ে আমরা অনুভব করতাম পারস্পরিক নৈকট্য ও হৃদয়ের উষ্ণতা।

নানান বাস্তবতার কারণে আমাদের সেই বন্ধন ২০০৬ এর পর থেকে কিছুটা শিথিল হয়ে এসেছিল। এক-এগারোর সেই বিভীষিকার দিনগুলোতে পরিস্থিতির মূল্যায়নে আমাদের অবস্থানও কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছিল। পরবর্তীতে সিরাজ ভাই তো মরেই গেলেন, আহমেদ মুসা মার্কিন মুলুকে প্রবাস গড়লেন, আমরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম। সম্পর্ক ঝুলে থাকলো ডিজিটাল যোগাযোগের সূতোয়। সেই ক্ষীণ সুতোটাও ছিঁড়ে চলে গেলেন তারেক শামসুর রহমান। মানুষ হিসেবে খুব উঁচুদরের ছিলেন। তার পাণ্ডিত্য ও বিশ্লেষণী সামর্থ্যের প্রতিও আমার আস্থা ছিল যথেষ্ট। আমি তার পারলৌকিক কল্যাণের জন্য কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছি।

লেখক, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদ্য বিদায়ী প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তাদের আলাপের মূল জায়গাটি বিদেশে তারা কত ভালো আছেন

গুলজার হোসাইন উজ্জ্বল

তাদের আলাপের মূল জায়গাটি বিদেশে তারা কত ভালো আছেন

যারা উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী এবং বিদেশে থাকেন তাদের একটা বড় অংশ দেশ সম্পর্কে সাংঘাতিক নেতিবাচক চিন্তা পোষণ করেন। যেমন এদেশের ভবিষ্যৎ নেই। এদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা যা তা, চিকিৎসা ব্যবস্থা জঘন্য, ভাল হবার কোন সম্ভাবনা নাই এবং আল্টিমেটলি আগামি একশ বছর পর এদেশ শেষ হয়ে যাবে। প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে অবশ্য এরকম চিন্তা খুব একটা দেখিনি।

সম্ভবত এক ধরণের অপ্রাপ্তি, হতাশা ও দুঃখবোধ থেকে তারা এ কাজটি করেন। লক্ষ্য করলে দেখবেন তাদের পারিবারিক আলাপের মূল জায়গাটিই হয় যে বিদেশে তারা কত ভাল আছেন সেই গল্প। তারা আপনাকে এটা বিশ্বাস করাতে মরিয়া যে বিদেশ না গেলে আপনার সব শেষ হয়ে যাবে।

আসলে হয় কি, তারা যেকোন কারণেই হোক দেশ ছেড়েছেন কিন্তু এই দেশ ছাড়াটা তাদের স্বস্তি দেয়না। কোথাও একটা বেদনা তারা অনুভব করেন। আত্মগ্লানি হয়ত অনুভব করেন। দেশ ছাড়ার পেছনে কারো থাকে অভিমানের গল্প, কারো থাকে 'যেভাবে চেয়েছেন সেভাবে না পাওয়ার কষ্ট'। কারো থাকে স্রেফ পশ একটা লাইফ লিড করার ইচ্ছা। সেন্স অব সিকিউরিটিও হয়ত একটা ইস্যু।

উচ্চাভিলাসী মানুষ ক্রমাগত মুভ অন করতে পছন্দ করে৷ কুড়িগ্রামের অজ পাড়াগাঁয়ের মেধাবি ছেলেটা প্রথমে ঢাকায় আসে। তারপর ইউরোপ বা আমেরিকা যায়। আমেরিকার ডিগ্রী নিয়ে এই আত্মপ্রসাদে ভোগে যে আমি 'কোথা থেকে কোথায় এলাম'। এটা তার কাছে সাফল্যের মইয়ে ওঠার মত মনে হয়। সে আবার কুড়িগ্রামে ফিরে যাওয়াটাকে সাপলুডুর সাপে খাওয়া গুটির মত মনে করে৷ আবার অনেকে একারণেও দেশে আসেননা যে, দেশে এলে তারা কি করবেন এই ভেবে৷ তারা যে আসতে চাননা অনেক ক্ষেত্রে তাও না। কিন্তু একটা সময়ের পর দেশে এসে আসলেই কিছু করা যায়না।

একইসাথে এমন মানুষও এই পৃথিবীতে আছে যারা আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে এসে এদেশের সংষ্কৃতিতে জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। জীবনবোধের ব্যাপারটা যে আপেক্ষিক এই সত্যটা ঐসব সফল মানুষেরা বুঝতে চাননা।

একটা মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশে থাকে। নিজের দেশের কোন ভবিষ্যত নেই বলে ভাবে। কিন্তু তার সমস্ত চেতনাজুড়ে থাকে তার দেশ। সারাক্ষণ নেতিবাচক কথা বললেও সেটা সে বলে তার দেশ নিয়েই। বিশ্ব নাগরিক বলে নিজেকে চালিয়ে দিলেও বিশ্ব নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা দেখা যায়না। সে বলে সে দেশপ্রেমিকের প্রচলিত সংজ্ঞায় বিশ্বাস করেনা, দেশপ্রেম নামের সস্তা আবেগে সে বিশ্বাস করেনা কিন্তু দেশটাকে একবার দেখার জন্য, দেশের চেনা গলিতে ফুচকা খাবার জন্য তার মন আনচান করে।

পৃথিবী যদ্দিন থেকে আছে, মানুষ যদ্দিন থেকে আছে তদ্দিন থেকেই মাইগ্রেশন আছে। মানুষ মাইগ্রেট করবে। এটাই নিয়ম। বিদেশে গিয়ে দেশের মানুষ যখন অনেক ভাল করে তাতে দেশেরই নাম হয়। আমরাও গর্বিত হই।


আরও পড়ুনঃ


২৮ হাজার লিটার দুধ নিয়ে নদীতে ট্যাঙ্কার!

গালি ভেবে গ্রামের নাম মুছে দিলো ফেসবুক

ভারতে যেতে আর বাধা নেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের

করোনায় কাজ না থাকলেও কর্মীদের পুরো বেতন দিচ্ছেন নেইমার


তবে মাইগ্রেশন যেমন সত্য মাইগ্রেট করা মানুষের মানসিক দ্বন্দ্বও হয়ত তেমনই সত্য। যাদের ভেতর এই দ্বন্দ্ব প্রকট হয় তাদের থেকে আমি দূরে থাকি।

হঠাৎ এই লেখাটা কেন লিখলাম? NRB এক এক্স ক্যাডেট এবং সাবেক বিতার্কিকের কিছু লেখা ও ভিডিও দেখে আমার মনে হলো এর থেকে দূরে থাকতে হবে। ভয়ানক এই নেতিবাচক মানুষটি আমাকে হতাশ বানিয়ে দিতে পারে।

বিঃদ্রঃ উপরের কথাগুলো সকল NRB এর জন্য প্রযোজ্য নয়। সবেচেয়ে খুশি হব কারো অনুভুতিতে যদি আঘাত না লাগে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

লকডাউন, ক্ষুধা ও ভালোবাসা প্রসঙ্গ

আনোয়ার সাদী

লকডাউন, ক্ষুধা ও ভালোবাসা প্রসঙ্গ

বৃহস্পতিবার আমি একটা পোস্ট লিখেছিলাম লকডাউন মানার তাগিদ দিয়ে । ফেইসবুকে তার নিচে কিছু কমেন্ট পেয়েছি। কমেন্টদাতারা মানুষের ক্ষুধার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ভালো, মানুষ মানুষের জন্য দরদ দেখাবে এটা স্বাভাবিক। কমেন্টগুলো আমি ইতিবাচকভাবে নিতে চাই। 

লকডাউন দেওয়া হয় মানুষের জীবন বাঁচাতে। এটাও মানুষের জন্য একধরনের ভালোবাসার প্রকাশ। আবার না খেয়ে কেউ মারা যাবে তা মানতে না পারাও মানুষের প্রতি একধরনের ভালোবাসার প্রকাশ। এখন মুশকিল হলো ভালোবাসার দুই ধরনকে পরষ্পরের বিপরীতে ব্যবহার করার প্রবণতা কাউকে কাউকে পেয়ে বসেছে। একদল বলছে লডডাউন কড়াকাড়ি বাস্তবায়িত না হলে মানুষ বেঘোরে প্রাণ হারাবে। অপর দল বলছে লকডাউনের নামে সব বন্ধ রেখে মানুষকে ক্ষুধার কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। কাজেই এই বিষয়ে বলার মতো আরো কিছু কথা আমার আছে। আমি সেগুলো আপনাদের কাছে বলতে চাই। 

প্রথম কথা হলো, মানুষ না খেয়ে থাকবে এমন কোনো পরিস্থিতির পক্ষে আমি নই। এই লকডাউনে দেশের সব মানুষ না খেয়ে থাকবে এটা ঠিক নয়। কতোজনের অর্থ বা খাবার সহায়তা লাগবে তার একটা হিসাব সরকারের কাছে থাকা উচিত। সরকারের নানা সামজিক কার্যক্রম আছে, তার আওতায় তাদের খাবার সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। আচ্ছা, এবার সমালোচকরা বলবে, ত্রাণ হাপিস হয়ে যায়। গত লকডাউনে ত্রাণ মেরে দেওয়ার অভিযোগে বেশ কিছু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা না থাকলে, এনজিওর মাধ্যমে অতি দরিদ্রদের লকডাউনের দিনগুলোতে খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যায়। 

আমাদের দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি আছে। গ্রামে গ্রামে তাদের নেতা আছে, কর্মী আছে । তারা চাইলে এই জনবল কাজে লাগিয়ে, ত্রানও দিতে পারে, মাস্ক ব্যবহার করতে আগ্রহী করতে পারে , আরো অনেক কিছু পারে। চাইলে খাবারও দিতে পারে।  এবার একটু ইসলামি প্রসঙ্গ টানি। এখন রমজান মাস চলছে। আল হাদীস অনুযায়ী আশপাশের চল্লিশ বাড়ি আমার বা আপনার প্রতিবেশি। প্রতিবেশীর খোঁজ খবর রাখার বিষয়ে ধর্মে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এখন সরকার বা জনপ্রতিনিধি বা এনজিও  কেউ যদি সহায়তা না করে তাহলে আপনি আপনার আশপাশের চল্লিশ বাড়ির খবর নিতে পারেন। এভাবে পুরো দেশেই্ সবাই সবার নজরে চলে আসতে পারে। সবাই মিলে এই মহামারী তখন সহজেই কাটিয়ে উঠা যাবে। তাই না?  কারোর তো আর না খেয়ে থাকার কথা নয়। 

এবার আসি করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে। কেন আপনাকে আমাকে ঘরের ভেতরে থাকতে বলা হচ্ছে । ভাইরাসটি বহন করে মানুষ। আক্রান্ত মানুষ কথা বলার সময় বা হাঁচি -কাঁশি দেওয়ার সময় মুখ থেকে যে পানি বের হয়, পানির যে অতি ছোট কণা বের হয় তাতে সেই ভাইরাস থাকে। ফলে, মাস্ক ছাড়া হাঁচি-কাশি দিয়ে একজন আক্রান্ত ব্যাক্তি কোটি কোটি ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং তার আশপাশে যারা থাকে তাদেরকে আক্রান্ত করে। এটাকে ড্রপলেট ছড়ানো বলে। আবার নাকদিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস ছাড়ার সময় অতি সূক্ষ্ম পানির কণা বের হয়। এটাকে বলে এরোসল। এতে অনেক ভাইরাস থাকতে পারে। ফলে, মাস্ক ব্যবহার করে ও  তিনি ফুট দূরত্ব বজায় রেখে এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার উপায়কে বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানা। তাহলে প্রশ্ন হলো এটা করে ভাইরাস ঠেকানো গেলে লকডাউন কেন দরকার হলো। দরকার হলো কারণ অনেকেই মাস্ক পরেন না। পরলেও সঠিক নিয়মে পরেন না। আবার বেশ কিছু তথাকথিত শিক্ষিত মানুষকে আমি দেখেছি মাস্ক পরে ঘুরছে, হাঁচি দেওয়ার সময় মাস্ক খুলে হাঁচি দিচ্ছে। তাহলে  স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে না জানা, জানলেও অবহেলা করা, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়।  

যাহোক, যেখানে নাগরিকরা নিজেরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন সেখানে সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়। অনেক উন্নত দেশে এই ভাইরাসকে মোকাবিলার জন্য এমনকী কার্ফিও জারি করা হয়েছে। 

এখন প্রিয় নাগরিক ভাই ও বোনেরা, ভেবে দেখুন স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে ভাইরাসের সংক্রমন থেকে বাঁচাবেন নাকি নিজেও আক্রান্ত হয়ে অন্যের মৃত্যুর কারণ হবেন? ভেবে দেখুন লকডাউন কড়াকড়ি বাস্তবায়িত করবেন নাকি রোগের বিস্তারে ভূমিকা রাখবেন? ভেবে দেখুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু কমেন্ট করেবেন নাকি প্রতিবেশির জন্য আপদকালীন খাবারের ব্যবস্থা করবেন। আর সরকার কী করছে তা দেখার জন্য প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ছি। 
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। 

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজ টোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড

শরিফুল হাসান

দেশে করোনায় একদিনে মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘন্টায় আরও ১০১ জন মানুষ মারা গেলেন। একদিনে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১০১ জন মানুষের মৃত্যু মানে ১০১ টা পরিবার শোকের সাগরে। শুধু তো এই ১০১ জন নয়, গত ১৫ দিনে হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে বহু পরিবারে মানুষটাই হয়তো ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম। এই যে সর্বগ্রাসী করোনায় এর শেষ কোথায়? আর করোনার বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে লড়ছি তাতে আমাদের ভবিষ্যত কী?  

আমার নিজের মনে হয়, প্রথম দফায় করোনা নিয়ে আমাদের কোন প্রস্তুতি না থাকলেও আল্লাহর রহমতে অল্পের উপর দিয়ে গিয়েছিল। আমরা তখন ধরে নিয়েছিলাম, আমাদের আর কিছুই হবে না। নাগরিকরা যেমন আমরা অসচেতন ছিলাম সরকারেরও যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না। দ্বিতীয় দফার বিপদের মাত্রা আঁচ করতে পারিনি বলেই আমাদের সমন্বয়হীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেব্রুয়ারির পর মার্চমাসজুড়ে যখন করোনা বাড়ছিল আমরা যা ইচ্ছে করেছি। 

আমাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয়হীনতার অনেক উদাহরণ আছে। আমরা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট আইসিইউ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি। প্রতিটা জেলায় আইসিইউ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকলেও হয়নি। আজ চারিদেকে আইসিইউর জন্য হাহাকার। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে রোগী ছুটছে। একেকটা পরিবারের উপর দিয়ে যেন ঝড় যাচ্ছে। আচ্ছা আমরা কেন পারছি না যথাযথ ব্যবস্থা নিতে?
আমাদের কী টাকার অভাব আছে? মোটেও না। এই দেশে এখন হাজার কোটি টাকার নিচে প্রকল্পই হয় না। লাখ কোটি টাকার বাজেট। অথচ স্বাস্থ্যখাতের কী ভয়াবহ দশা! বিশ্বব্যাংকের হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আছে অথচ আমরা যন্ত্রপাতি কিনতে পারছি না। আবার যাও বা কিনছি  শত শত ভেন্টিলেটর,  অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ নানা যন্ত্রপাতি পড়ে ছিল বিমানবন্দরে। অন্যদিতে স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগের নামে অনিয়ম আর কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের কথা  আসছে। 

একবার ভাবেন! আমাদের এই দেশে এই সমাজে বহু বিত্তশালী আছে যাদের কোটি কোটি টাকা। একদল আছে যারা শুধু সম্পদ করছেনই। অথচ দেখেন আজ হাহাকার করেও আমরা একটা আইসিইউ পাচ্ছি না। কী হবে এতো ফ্ল্যাট বাড়ি গাড়ি সম্পদ দিয়ে। আমাদের মৌলিক স্বাস্থ্যখাতের তো বেহাল দশা। কাজেই বহু উন্নয়ন বা সম্পদ গড়ার আগে আমাদের উচিত স্বাস্থ্যখাতের দিকে নজর দেয়া। কাজটা শুধু সরকারের একার না, সবাই মিলেই করতে হবে। 

আসলে করোনার এক বছর হয়ে গেলেও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেখা যায়নি। বরং অনেকেই এটিকে দুর্নীতি আর লুটপাটের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। নানা কর্তৃপক্ষই যে শুধু দায়িত্বহীন ছিল তাই নয়, আমাদের নাগিরকরাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন চেষ্টাই আমাদের ছিল না। এতো মৃত্যুর পরও যথেষ্ট সচেতনতা বা সতকর্তা নেই। এভাবে চললে ভবিষ্যত কী?

আমি জানি না ভবিষ্যত কী? লকডাউন দিয়ে করোনা সমস্যার সমাধান হবে না। কীসে যে সমাধান হবে সেটাও আমরা জানি না। কিন্তু এটা অত্যন্ত প্রমানিত যে মানুষজন মাস্ক পরলে, দূরত্ব বজায় রাখলে, হাত ধুলে অন্তত ঝুঁকি কমে। কিন্তু সেগুলোও আমরা মানছি না। কাল পুরান ঢাকার ইফতারের একটা ছবি দেখছিলাম। কে বলবে করোনা আছে। আবার ধানমন্ডিতে শিক্ষিত মানুষের জিলাপি কেনার ভীড়ও আছে। এভাবে চললে ভবিষ্যত কী?

আমার আসলে জানা নেই। গত এক বছরে কতো হাজারবার মাস্ক পরার কথা লিখেছি, স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা লিখেছি গুনে শেষ করতে পারবো না। কিন্তু নূন্যতম সচেতনতা দেখিনি। একইভাবে দায়িত্বশীল যারা, যাদের এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবার কথা ছিল তারাও যথাযথভাবে দায়িত্ববান ছিলেন না। আমার আজকাল ভয় হয়, না জানি আরও কী ভয়ঙ্কর দিন আসছে! 

এই রোযার মাসে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি আমাদের রহম করুন। ভয়াবহ রুগ্ন স্বাস্থ্যখাতের এই দেশে বড় কোন বিপদ এলে আমরা যে শেষ হয়ে যাবো। কাজেই আল্লাহ আমাদের রহম করুক। সরকারের কাছে অনুরোধ, সংকট মোকাবেলায় এমন কিছু করুন যাতে আমরা করোনার আগে ছুটতে পারি। আর জনগনের কাছে অনুরোধ, প্লিজ চলুন আমরা সতর্ক হই। সচেতন হই। মাস্ক পরি। দূরত্ব বজায় রাখি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রহম করুন।

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আইসিইউ নিয়ে প্রশ্নের আগে মানুষকে সহস্রবার ঘরে থাকতে বলা উচিৎ

শওগাত আলী সাগর

আইসিইউ নিয়ে প্রশ্নের আগে মানুষকে সহস্রবার ঘরে থাকতে বলা উচিৎ

পৃথিবীর কোনো দেশেই হাজার হাজার আইসিইউ থাকে না। সেটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন যেখানেই হোক না। সবদেশেই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার একটা সীমা থাকে। অসংখ্য মানুষের এক সাথে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে, আইসিইউর প্রয়োজন হলে, অক্সিজেনের দরকার হলে - পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও তার ব্যবস্থা করতে পারে না।

আমেরিকার মতো মহাপরাক্রমশালী দেশেও কোভিডে যে হাজার হাজার মানুষ মরে গেছে- তার কারণও কিন্তু  ছিলো একটাই। একসাথে এতো মানুষ অসুস্থ হয়েছে, তাদের হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হয়নি, আইসিইউ দেয়া সম্ভব হয়নি। তার মানে কিন্তু এই না, আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ, সরকার সেখানে অবহেলা করেছে। পুরো দেশ অসুস্থ না হলে কারোই এতো বেশি সংখ্যক আইসিউর দরকার হয় না। আমেরিকারও দরকার ছিলো না।

কানাডার অন্টারিওতেও এখন একই অবস্থা, হাসপাতালে সিট নাই, আইসিইউতে জায়গা নেই। রোগীদের নানাস্থানে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যেই কোভিড মহামারীর শুরু থেকে দেশে দেশে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। লকডাউনের প্রয়োজনীয়তাও এসেছে এই ধারনা থেকেই।

বিজ্ঞান বলছে, মানুষ যতো নানা জায়গায় ঘোরাফিরা করবে, ভাইরাসের সংক্রমণ ততো বিস্তৃত হবে। সেই কারণেই মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়। যাতে কম মানুষ সংক্রমিত হয়, কম মানুষ হাসপাতালে যায়, কম মানুষের জন্য আইসিইউর প্রয়োজন হয়। মানুষ ঘরে থাকলেই আইসিউইর উপর, হাসপাতারের উপর চাপ কমে যায়। কারণ তখন কম মানুষ অসুস্থ হয়।

আরও পড়ুন


মামলা-গ্রেপ্তারে কোনঠাসা হেফাজত, সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

পাঞ্জাবির বোতাম লাগানো নিয়ে গোলাগুলি-হামলা, আহত ৪

জিজ্ঞাসাবাদে বেড়িয়ে এলো মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ডেডিকেশন নিয়ে সংসার করেছি, কাজের জায়গাতেও একই রকম


হাসপাতালে সিট নেই কেন, আইসিইউ নাই কেন- এই প্রশ্ন আমরা যতোবার তুলি তার চেয়ে সহস্রবার বেশি মানুষ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, মানুষ যাতে ঘরে থাকে সেই কথা বলা উচিৎ। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হাসপাতালের যে আসন সংখ্যা আছে, যে আইসিইউ আছে তা দিয়েই সবকিছু সামলানো যায়।

কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে, তার অক্সিজেনের দরকার হলে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে সেই খরচ তো সরকার দেয় না। যিনি সংক্রমণের শিকার হোন, তিনিই সেই খরচ বহন করেন। সেই খরচটা বাঁচানোর জন্য হলেও মানুষের কিছু দিন ঘরে থাকা দরকার।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর