মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

আতিকা রহমান

মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মন সুন্দর হওয়া জরুরি

মানুষের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নাই। কে ফর্সা আর কে কালো, গায়ের রং কালো বলে তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা কিংবা কঠাক্ষ করে কথা বলা আমার একদম পছন্দ না।

গায়ের রং নিয়ে এমন বর্ণবাদী আচরণ আমি খুব অপছন্দ করি।  আমি মনে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্টতম কাজ। নোংরা মানসিকতার পরিচয়।

গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিবেচনা করি না কখনো।

তারপরও  কালো বলে খোঁচা মারা কথা শোনার অভ্যাস আমার ছোটবেলা থেকেই আছে। আমার আব্বা আম্মা ফর্সা। তাই অনেকেই আমাকে বলতো, তুমি তো তোমার মায়ের মতো হওনি। মানে ইনডাইরেক্টলি, আমি কালো আমার মা ফর্সা। 
আমার মেয়েকে নিয়েও এরকম কথা শুনতে হয় আমাকে। অনেকেই বলে তোমার মেয়ে অনেক সুন্দর কিউট। আপনার মেয়ে তো একেবারে রাজকন্যা। রূপকথা তো আপনার মতো হয়নি। আপনার সাথে তো মিল নাই। কার মতো হইছে দেখতে?


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


একজন তো বলেই বসলেন,  আপনার মেয়ে এত ফর্সা আর  সুন্দর হলো কীভাবে??

আমি বললাম, আমি কালো বলে আমার মেয়ের ফর্সা হতে তো কোন বাধা নাই। 

অনেকেই ইনডাইরেক্টলি মেয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে আমার ার আমার মেয়ের গায়ের রং এর পার্থ্যক্য বুঝায় দেয়। 
আমার বিয়ের দুই/তিন বছর আগে। তখন বিয়ে করবো না বলে ডিটারমাইন্ড ছিলাম। কোন এক ঈদের পরে, একদিন এক ভদ্রমহিলা আর ভদ্রলোক এলো আমাদের বাসায়। তাদের ছেলের বউ দেখার উদ্দেশ্যে। তারা চাকরিজীবী মেয়ে চায়। 
তো আমাকে দেখে তারা হতাশ হলেন। আমি কালো জন্য ছেলের সাথে বিয়ে দেবেনা। তারা ফর্সা মেয়ে খুজতেছে। 
ভদ্র মহিলা এবং ভদ্রলোকের গায়ের রং কালো। আমাকে দেখে অপছন্দ ভাবটা বুঝলাম।  আমি ভদ্র মহিলাকে বললাম। আন্টি আপনার ছেলের ছবি দেখান।   মহিলা কেন জানি খুব অপ্রস্তুত বোধ করে ছবি দেখালো। আর বললো, আমার ছেলে একটু কালো। ছবিতে দেখলাম। একটু টা ছেলে টা বেশ কালো।

মহিলা আমতা আমতা করে হেসে বললো, আসলে আমার ছেলে অনেক কালো তো। তাই ফর্সা মেয়ে খুঁজতেছি। কারণ নাতি-নাতনি যাতে ফর্সা হয়।

আমি বললাম, দোয়া করি যেন ফর্সা একটা বউ পান। মহিলা আমার এরকম কথায় বেশ অবাক হলেন।

গত বছর আমার খুব ঘনিষ্ট একজন মেয়ের বিয়ের জন্য এক ভদ্রলোককে বললাম। মেয়ে উচ্চ শিক্ষিত, সব রকম যোগ্যতা আছে সব কিছু ভালো। কিন্তু তারা রিজেক্ট করলেন কারন মেয়ে টা কালো।

কিছু লোকজন আবার সরাসরি কালো বলে না, সৌজন্য করে বলে একটু বেশি শ্যামলা, গায়ের রং টা একটু চাপা। 
এই হলো আমাদের দেশের মানুষের নোংরা মেন্টালিটি।

আমাদের দেশের ৯০ শতাংশ কালো মেয়েদের জন্ম থেকে কবর যাওয়া পর্যন্ত কথা শুনতে হয়।

আমার নিজের গায়ের রং নিয়ে আমার কোনো মন খারাপ বা হীনমন্যতা নাই। আমি আমার মতো। আমি আমার মতো সুন্দর। আমার মন সুন্দর। এটা নিয়েই আমি গর্ববোধ করি। মানুষের শারীরিক সৌন্দর্য্যের চেয়ে মনটা সুন্দর হওয়া জরুরি। 
যারা গায়ের রং দিয়ে মানুষকে বিচার করে তাদের আমি ঘৃণা করি।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইহুদী দেশ অর্থ অপচয় করে আমরা মানুষ অপচয় করি

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

ইহুদী দেশ অর্থ অপচয় করে আমরা মানুষ অপচয় করি

$২৭ মিলিয়ন ডলার। মানে বাংলাদেশের টাকাতে প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। এই টাকা একটা পরিবারকে দিচ্ছে মিনিয়াপুলিশ শহরের কর্তৃপক্ষ। 
কেনো দিচ্ছে? 

কারণ তাদের শহরের পুলিশ , জর্জ ফ্লয়েড নামে একজন কৃষনাঙ্গ কে অন্যায় ভাবে হত্যা করেছে। তাই সিভিল ল মামলা সেটেল করার জন্য  শহর কতৃপক্ষ এই টাকা দিচ্ছে। এটা কি হত্যা মামলা নিষ্পত্তি করার জন্য?  মোটেই না। 
এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র নাগরীক অধিকার রক্ষায় ব্যার্থতার জন্য। 


হত্যা মামলা চলছে।  জুড়ি এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে second-degree murder, third-degree murder and second-degree manslaughter দোষী হিসেবেই অভিযুক্ত করেছে।
Second-degree murder এর জন্য ৪০ বছর কারাদন্ড
Third-degree murder এর জন্য ২৫ বছর কারাদন্ড

second-degree manslaughter এর জন্য ১০ বছরের কারাদন্ড হতে পারে। 

পুলিশ অন্যায় ভাবে হত্যা করলে এ ধরনের শাস্তি তারা ( ইহুদী নাছারের দেশ) দেয় আর কি। এর আগের এক শ্বেতাঙ্গ কে $২০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলো তার নাগরীক অধিকার খর্ব হবার কারণে।
খবরটা পরে মনে হলো একটু স্টাটাসে লিখে রাখি। 

মানে এমনিতেই আর কি। ওসব ইহুদী দেশকে ৯০% মুসলিমের দেশের পছন্দ করে না। পছন্দ না করাই উচিত।
আমরা ওদের চেয়ে অনেক ভালো। আমরা অর্থ অপচয় করি না। অর্থ অপচয়কারী শয়তানের ভাই। 
আমরা মানুষ অপচয় করি। 

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী: সহকারি অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি, ঢাকা।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এটি ডারউইন বা বিজ্ঞানের কেউ বলে নি

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এটি ডারউইন বা বিজ্ঞানের কেউ বলে নি

মনে বিজ্ঞান বিদ্বেষ পোষণ করেন, এরকম কয়েকজন বাংলাদেশীর সাথে আমার কথা হয়েছে। তাদের দাবি— ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এরকম একটি কথা না কি বিজ্ঞান বলেছে, এবং এ কারণে তারা বিজ্ঞান থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। শুনে আমি খুব অবাক হলাম। তাদের জিগ্যেস করলাম, এটি আপনারা কোথায় শুনেছেন বা পড়েছেন? তারা বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও পত্রপত্রিকার রেফারেন্স দিলো, এবং বললো— ডারউইন নামের একজন নাস্তিক বিজ্ঞানী এটি বলেছেন। আমি বললাম, কথাটি সত্য কি না তা কি আপনারা যাচাই করেছেন? তাদের উত্তর— না। যেহেতু কথাটি ছাপা অক্ষরে বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে বলা হয়েছে, এবং ওয়াজ মাহফিলের সত্যবাদীরা কথাটিকে বিজ্ঞানের বলে প্রচার করেছে, সেহেতু তারা ধরে নিয়েছেন যে কথাটি সত্য! 

তারপর আমি ওয়াজ করেন, এরকম একজন ভালো মৌলানার সাথে কথা বললাম, যিনি ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এ কথাটি বিভিন্ন মাহফিলে প্রচার করেছেন। জিগ্যেস করলাম, আপনি ডারউইনের ‘দি অরিজিন অব স্পিসিস’, ‘দি ডিসেন্ট অব ম্যান’, এবং ‘দি ভয়েজ অব দি বিগল’ বই তিনটি পড়েছেন কি না? তিনি স্বীকার করলেন, পড়া দূরের কথা, বই তিনটির নামও কখনও শোনেন নি। একই প্রশ্ন কয়েকজন শিক্ষককে করলাম, তারাও না-বোধক উত্তর দিলেন, কিন্তু তারা জানালেন যে এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন টেক্সট বইয়ে পড়েছেন, কিন্তু ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এরকম কোনো কথা তারা পান নি। 

এ পর্যায়ে আমার একটি ছবির কথা মনে পড়লো। ছবিটি প্রথম দেখেছিলাম গাজী আজমলের একটি বইয়ে (সম্ভবত অন্যদের বইয়েও ছবিটি ছিলো)। বইটি উচ্চ মাধ্যমিকে আমাদের টেক্সট বই ছিলো। 

ওই বইয়ে একটি ছবি ছিলো এরকম:
বানর সদৃশ বা গরিলা সদৃশ একটি প্রাণী, ধীরে ধীরে, লাখ লাখ বছরের ব্যবধানে, তার আদল বদলিয়ে মানুষে পরিণত হচ্ছে।
ওয়ালেস, ডারউইন, ও ল্যামার্কের কাজের পর এ ধরণের ছবি বা ইলাস্ট্রেশন অনেক শিল্পীই এঁকেছেন। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত ছবিটি এঁকেছিলেন রুডলফ জালিঙ্গার। ছবিটির নাম ছিলো ‘মার্চ অব প্রোগ্রেস’। গাজী আজমল সম্ভবত ওই ছবিটিকেই, কোনো প্রকার ডিসক্লেইমার ছাড়া, তার বইয়ে ব্যবহার করেছিলেন। আমাদের যেহেতু কোনো কিছুকেই গভীরভাবে তলিয়ে দেখার অভ্যাস নেই, তাই আমরা ধরে নিলাম যে ওই ছবিটি নিশ্চয়ই ডারউনের আঁকা! ডারউইন নিশ্চয়ই বলেছেন ‘মানুষ এসেছে বানর থেকে! 

সত্য হলো, ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এটি ডারউইন বা বিজ্ঞানের কেউ বলে নি। ডারউইনের তিনটি বইয়ের কোথাও আমি এমনটি লেখা পাই নি। এটি রটিয়েছে কবিরাজেরা। কবিরাজেরা তাদের নিজেদের স্বার্থে, ধর্মপাগল মানুষদের লেলিয়ে দিয়েছে বিজ্ঞানের পেছনে। ডারউইনের কোনো বই এ কবিরাজদের পক্ষে পড়া সম্ভব নয়। তারা পড়েছে তাদের আকৃতির পত্রিকা, তারা শুনেছে তাদের আকৃতির রটনা, আর মগজ ধুইয়েছে কোটি কোটি তরুণ ও বৃদ্ধের। এ অঞ্চলে মগজের ময়লা এতো দূর থেকে দেখা যায় যে, তা ধুইয়ে দিতে কাছে আসার প্রয়োজন নেই। দূর থেকে থুথু ছিটিয়ে দিয়েই এ মগজ ধুইয়ে দেয়া সম্ভব। 

যারা এ থুথু ছিটাচ্ছে, তাদের বিজ্ঞানভীতির প্রধান কারণ— বিজ্ঞান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়। গামছার আড়ালের সত্যটুকো যেন মানুষ দেখে না ফেলে, এ জন্যই তাদের এ আয়োজন। একবার যদি মানুষ প্রশ্ন করা শিখে ফেলে, তাহলে তাদের অস্তিত্ব যে বিপন্ন হয়ে যাবে, তা তারা জানে। এজন্য সাধারণ মানুষদের তারা, বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে নানা কৌশলে উস্কে দিচ্ছে। এ কৌশলগুলোর একটি হলো, মানুষের কিছু অপকর্মকে বিজ্ঞানের অপকর্ম হিশেবে প্রচার করা, এবং বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলা, যদিও তারা জানে, বিজ্ঞান ছাড়া আধুনিক মানুষ চলতে পারবে না একটি মিনিটও। 

বিজ্ঞান কোনো প্রাণী নয়, এর হাত পা চোখ দাঁত কোনোটিই নেই। এটি কোনো ভূতও নয় যে মানুষের শরীরে আছর করে, তাকে দিয়ে করিয়ে নেবে অপকর্ম। এটি একটি ধারণা মাত্র। এটি চিন্তা করার একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, এবং মানুষের এটি অংশ, যাদের শরীরে মাংসের চেয়ে মগজের ক্রিয়া বেশি চলে, আদিকাল থেকে এ প্রক্রিয়ায় চিন্তা করে আসছে। এ প্রক্রিয়াতেই তারা পাথরের সাথে পাথর ঘষে আগুন জ্বালিয়েছে, রান্না করেছে, এবং মাঝে মাঝে দুর্ঘটনায় নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। 

মানুষের সাথে বিজ্ঞান কতোটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, তা বুঝতে একটি সাধারণ উদাহরণ দিই:
ধরা যাক আধুনিক বিজ্ঞানের সকল অবদান থেকে আপনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন, এবং চলে গেলেন জঙ্গলে। আপনি ন্যাংটো। গায়ে শার্ট নেই, পরনে লুঙ্গি নেই, কোমরে ঘুনসি নেই। গোসলের জন্য সাবান নেই, চুল ধোয়ার জন্য শ্যাম্পু নেই। এ নিয়ে আপনি চিন্তিত নন, কারণ বেঁচে থাকাই আপনার কাছে মুখ্য। আপনি একটি বড়ই গাছ দেখলেন। বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে বড়ই খেতে হবে। গাছে উঠতে গিয়ে দেখলেন কাঁটা আর কাঁটা। কী করা যায় কী করা যায় ভাবছেন। একদিন দুইদিন তিনদিন পর, ক্ষুধায় যখন প্রাণটি খাঁচাছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন হঠাৎ দেখলেন আপনার অদূরে পড়ে আছে একটি পাথরের নুড়ি। বিদ্যুতের মতো আপনার মাথায় খেলে গেলো, আরে, এটি দিয়ে তো বড়ই গাছে ঢিল ছোঁড়া যাবে! 
এই যে আপনি বড়ই গাছ থেকে বড়ই পেড়ে খাওয়ার একটি মামুলি কৌশল আবিষ্কার করলেন, এটিই বিজ্ঞান। বিজ্ঞান মানে শুধু তা নয়, যা ব্যবহার করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বা পারমাণবিক বোমা বানানো যায়। 

ধর্ম পালন করতে বিজ্ঞানের সাথে কলহে লিপ্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর বহু বিখ্যাত বিজ্ঞানী, বৈজ্ঞানিক কাজকর্ম করেও ধর্ম পালন করেছেন। সম্ভবত তারা কবিরাজ নন বলেই পেরেছেন। 

কিন্তু কবিরাজদের জন্য এটি কঠিন। কবিরাজদের প্রধান কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করা। প্যারাসিটামল নয়, জ্বরে একটি ফুঁ অধিক কার্যকরী, এটি কাউকে না বুঝানো গেলে সে কবিরাজের কাছে যাবে না। এজন্য কবিরাজেরা, নানা প্রলাপ বকে, ‘বানর থেকে মানুষ এসেছে’ এ রটনায় বিশ্বাসীদের কাছ থেকে বাহ্বা কুড়াচ্ছে, এবং নিজেদের বামন মূর্তিটিকে পূজনীয় রাখতে, মানুষকে নানা কৌশলে বিভ্রান্ত করছে।

তারা জানে যে, বৈজ্ঞানিকভাবে চিন্তা করা বেশ পরিশ্রমের কাজ, এবং এ কাজে দরকার পড়ে পড়াশোনোর। এজন্য তারা, নিজেদের হীনমন্যতাকে ঢাকতে গামছা ছুঁড়ে দিয়েছে বিজ্ঞানের গায়ে। মুশকিল হলো, এ গামছা একটু ফুঁ দিলেই উড়ে যাচ্ছে। 
এ কবিরাজদের বলতে চাই, নিউটনের প্রিন্সিপিয়া ম্যাথম্যাটিকা গ্রন্থটি শুরু হয়েছে এডমুন্ড হ্যালির একটি কবিতা দিয়ে। হ্যালি, নিউটনের এ অসামান্য কাজের প্রশংসা করে কবিতাটি লিখেছিলেন। কবিতাটির শিরোনাম— “Ode on This Splendid Ornament of Our Time and Our Nation, the Mathematico-Physical Treatise by the Eminent Isaac Newton”। আমার কাছে প্রিন্সিপিয়ার যে-সংস্করণটি আছে, তার ২৫ পৃষ্ঠায় কবিতাটি আছে। আমি ছবি দিয়ে দিলাম। কোনো কবিরাজের পক্ষে নিউটনের প্রশংসা করা সম্ভব নয়। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী আমলাতন্ত্র নাকি দলের পরীক্ষিত নেতা/ জনপ্রতিনিধি?

বাণী ইয়াসমিন হাসি

সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী আমলাতন্ত্র নাকি দলের পরীক্ষিত নেতা/ জনপ্রতিনিধি?

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রম সুসমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব এবং সচিব পদমর্যাদার ৬৪ সচিবকে দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি এই দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে করোনা মহামারির প্রথম পর্যায়েও ৬৪ জেলায় ৬৪ সচিবকে এমন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। 

ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব/সচিবরা সমন্বয় কাজে তার মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর সংস্থার উপযুক্ত সংখ্যক কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন। এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়সাধন করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার কাজ (সচিবরা) তত্ত্বাবধান ও পরিবীক্ষণ করবেন। তারা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবীক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয়সাধন করবেন। সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্যা/চ্যালেঞ্জ বা অন্য বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থাকে লিখিত আকারে জানাবেন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নিয়মিত অবহিত করবেন বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। 
এখন প্রশ্ন হলো প্রতিটা জেলায় একাধিক এমপি, কোন কোন জেলায় মন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সচিবদেরকে কেন এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হলো? দায়িত্ব পেয়ে সচিবরা কাউকেই তোয়াক্কা করেন না। যেখানে মন্ত্রী এমপিদেরই কোন মূল্যায়ন নেই; সেখানে জনগণ তো নস্যি!

প্রতিটা জেলায় ডিসি এসপিরা এখন রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায়। তারাই এখন সবকিছুর সার্টিফিকেট দেন। আমার মনে আবারও প্রশ্ন; এই যে জেলায় জেলায় হেফাজতের এত তাণ্ডব হলো তখন উনারা কেন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলেন? আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিনিধিদল যখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সফর করলো, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হলো এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে নামলো। তারা হেফাজতের তাণ্ডবের বিরূদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললো। সুবিধাজনক পরিবেশে তখন ডিসি এসপি এবং তাদের অধীনস্তরা মাঠে নামলো। অথচ যেকোন ধরণের বিশৃঙ্খলা এবং নাশকতা কঠোর হাতে দমন করার দায়িত্ব ছিল তাদের।

এই যে পর্দাকাণ্ড, বালিশ কাণ্ড, নারিকেল গাছ কাণ্ড। আলু চাষ, পুকুর খনন শিখতে বিদেশ ভ্রমণ। এগুলোর সবই কিন্তু আমলাদের কাণ্ড। তাদের সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির দায় কিন্তু দিনশেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেই নিতে হয়। জনগণের কাছে গালি খায় মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি। কিন্তু মূল কালপ্রিটরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

একটি প্রকল্পের ডিপিপি থেকে শুরু করে সবই করেন আমলারা। মন্ত্রী মহোদয়ের টেবিলে ৮০০ পাতার ফাইল যায় প্রকল্প পাশের অল্প কিছু আগে। ৮০০ পৃষ্ঠা পড়ে যাচাই করার সুযোগ পান না মন্ত্রীরা। এই শতশত পৃষ্ঠার ঘুপচিতেই লাখ টাকা দামের পর্দা, বালিশ, নারিকেল গাছ লুকিয়ে থাকে।

হ্যাঁ রাজনীতিবিদদেরও দায় আছে। নিজেদের মধ্যেকার গ্রুপিং; একে অন্যকে টেনে নামানোর নোংরা খেলায় রাজনীতিবিদরা একে অন্যের বিরূদ্ধে মিথ্যা কাল্পনিক অভিযোগের পাহাড় দাঁড় করান। তাদের নিজেদের কাঁদা ছুড়াছুড়ির কারণে আমজনতার মধ্যে একটা নেগেটিভ ধারণার জন্ম নেয়। তারা মনে করে রাজনীতিবিদরাই দুর্নীতি করে এবং একমাত্র রাজনীতিবিদরাই দুর্নীতিবাজ। এতসব অপপ্রচারের কারণে মূল অপরাধী সরকারী আমলাদের ব্যাপারে জনগণ অনেকটা স্বচ্ছ ধারণা পোষণ করে।

উদাহরণস্বরূপ ঢাকা ওয়াসার কথা বলা যেতে পারে। ষষ্ঠবারের মতো ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। বর্ষা আসে বর্ষা যায়, দিন বদলায়, কাল বদলায়, বদলায় না শুধু ঢাকা ওয়াসার সেবা। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট আর বর্ষায় হাবুডুবু, নালা খালে পয়:বর্জ্য। টানা ছয়বার নিয়োগ পাওয়া এই কর্মকর্তার নিজের নিয়োগ, তার মাধ্যমে দেওয়া অন্যদের নিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে আছে বিতর্ক। দুর্নীতির অভিযোগ গেছে দুদক পর্যন্ত। জনসেবার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি এখন এমডি–শাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। অথচ সারাবছর জনগণের গালি খায় ঢাকার দুই মেয়র। 

ওয়াসার মতন একই অবস্থা সব সরকারী প্রতিষ্ঠানে। এই বিষবাস্প ছড়িয়ে পড়েছে জেলা উপজেলা পর্যায়েও। অধিকাংশ সরকারী অফিসগুলোতে টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না। সরকারের বড় বড় প্রকল্পগুলোতে কে বা কারা কাজ পাবেন সেটাও ভাগাভাগি করেন আমলারাই।

প্রতিটা জেলায় ডিসিরা এলআর ফান্ডের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন। যেকোন প্রোগ্রাম এলে ব্যবসায়ীরা তটস্থ থাকেন। এই এলআর ফান্ডকে অডিটের আওতায় আনলে জেলা পর্যায়ে দুর্নীতি কিছুটা হলেও কমবে।

সর্বত্রই কেমন যেন অসহিষ্ণুতা। বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র দর্শনের অন্যতম একটি অনুষজ্ঞ হচ্ছে সৎ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। আমলাদের দৌরাত্ম্য থেকে বের হতে না পারলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। পদ নেই, তবু প্রমোশন। গণতন্ত্রের জন্যও ব্যাপারটা ক্ষতিকর।

আমাদের দেশের সরকারি কর্মকর্তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা ভোগ করেন, অনেকে ক্ষমতার দাপটও দেখান। তারা সব সময় চান আলাদা গুরুত্ব, আলাদা মর্যাদা, বাড়তি সুযোগসুবিধা। এই বাড়তি মর্যাদা ও সুযোগসুবিধা ভোগ করতে গিয়ে তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষকে বিড়ম্বনায় ফেলেন। অথচ তাদের সেটা করার কথা না। জনসেবা, জনকল্যাণ, জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করাই যাদের একমাত্র কাজ হওয়ার কথা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা রাষ্ট্রের এসব স্থায়ী কর্মচারীদের ইংরেজিতে বলা হয় পাবলিক সার্ভেন্ট বা জনগণের চাকর। তাদের একমাত্র কাজ জনগণের সেবা করা। কারণ তাদের বেতন-ভাতা হয় সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায়।

আমাদের দেশে বেশিরভাগ আমলা এখন ‘নব্য জমিদারের’ ভূমিকায় অবতীর্ণ। তারা নিজেরাই নিজেদের নামে নানা ধরনের ‘মহত্ত্বের ছায়া’ আরোপ করে থাকেন। আমলাদের কাছ থেকে মানুষ ‘নিরপেক্ষতার নৈতিকতা’ আশা করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা ঘটে না। তারা নিজেরাই ক্ষমতাবান হিসেবে আবির্ভূত হন। ক্ষমতার অপব্যবহার, সমাজে নিজেদের ‘ব্রাক্ষ্মণ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা, যুক্তির জোরের পরিবর্তে ‘জোরের যুক্তি’ প্রতিষ্ঠা করা–এগুলো শেষপর্যন্ত কোন ভালো ফল বয়ে আনে না। এতে জনরোষ সৃষ্টি হতে পারে। এটা রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো না। কাজেই কোথাও যেন কোনরকম বাড়াবাড়ি না হয়, তারা নিজেরা নিজেদের স্বর্গের দেবতা মনে করে ফুল-চন্দনচর্চিত আসনে অধিষ্ঠিত না করেন, সেদিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

আরও পড়ুন


সেই পথশিশুর চোখের নিচের জখম সম্পর্কে যা জানা গেল

যশোরে জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট আগুনে পুড়ে ছাই

পাকিস্তানের বিলাসবহুল হোটেলে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৪, আহত ১১

যাদের জন্য রমজানে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক


রাজনৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতার সুযোগে আমলাতন্ত্র তার নখদন্ত প্রবলভাবে প্রকাশ করতে শুরু করে। এই করোনা সংকটকালে সরকারি আমলাদের মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগও করেছেন। সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ে আমলাতন্ত্রের দাপটে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেক সচিবই মন্ত্রীদের পর্যন্ত গুরুত্ব দেন না। সিদ্ধান্ত নেন নিজেদের মত করে। এতে উপেক্ষিত মন্ত্রী দুঃখ করেন বিভিন্ন মহলে। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের মত মাঠ পর্যায়েও কর্মরত অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিদের তোয়াক্কা করেন না। কেউ কেউ অতি উৎসাহ নিয়ে যোগ দেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। অনেক কর্মকর্তাই নিজের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে ব্যস্ত। তারা আচরণে, কার্যক্রমে চলেন রাজনৈতিক কর্মীর মত করে। আমলাদের সীমাহীন ক্ষমতা প্রদর্শন করার কারণে মন্ত্রী, এমপি, সিটি মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়ররা অনেক সময় নিজের কর্মীদের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

তবে এই দায় রাজনীতিবিদরাও এড়াতে পারেন না। কয়েকজন মন্ত্রী এমপির ব্যর্থতা আর জনসম্পৃক্ততার অভাবে আমলাদের মাথায় তোলা হলো। এদেরকে ঘাড় থেকে নামানো খুউব কঠিন হবে। এটা কারো জন্যই শুভ কিছু বয়ে আনবে না ! গত কয়েক বছর ধরে লোকাল রাজনীতির কার্যক্রম হচ্ছে-থানায় কোন ইউএনও আর ওসি এলো; তাকে কে কার আগে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবে তার প্রতিযোগিতা। রাজনীতির এই দেউলিয়াপনা দীর্ঘমেয়াদে ভোগাবে। মন্ত্রী পরিষদের দিকে তাকান। কয়জন মন্ত্রী সচিবের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন? জনশ্রুতি আছে অনেক মন্ত্রী সচিবকে দেখলে উঠে দাঁড়ান। পাড়ার/ মহল্লার নেতাদের ধরে এনে মন্ত্রী বানানোর ফল এটা।

দিনশেষে একজন রাজনীতিবিদের দায়বদ্ধতা থাকে তার কর্মীর কাছে আর জনপ্রতিনিধির জবাবদিহিতা থাকে তার ভোটার বা জনগণের কাছে। কিন্তু আমলারা সব জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। তাদের কমিটমেন্টের জায়গাটাও বড্ড নড়বড়ে। ক্ষমতা যার; তখন তার। এখন সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী আমলাতন্ত্র নাকি দলের পরীক্ষিত নেতা /জনপ্রতিনিধি?

লেখক: বাণী ইয়াসমিন হাসি, সম্পাদক, বিবার্তা২৪ডটনেট

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ধর্মের নামে অধর্ম

চৌধুরী জহিরুল ইসলাম

ধর্মের নামে অধর্ম

অনেকটা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মত। গ্রাম থেকে শহর অভিমুখে হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোটা, বন্দুক উঁচিয়ে রওয়ানা হলো। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আগুন জ্বললো! তারপর দেশটি নিমজ্জিত হলো চিরস্থায়ী গৃহযুদ্ধে। 

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের এক দশক হতে চলল। নিউইয়র্কে বহু মুদি দোকান এবং গাড়ি চালিয়ে জীবন নির্বাহ করা বহু ইয়েমেনী। তাদের গৃহযুদ্ধের কারণ জিজ্ঞেস করেছি। কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারে না- কেন এই গৃহযুদ্ধ? অশিক্ষা, কুশিক্ষা এবং অপুষ্টিতে জর্জরিত একটি জাতি কেন দিনদিন অন্ধকারের গহ্বরে নিমজ্জিত হচ্ছে!

কোনো কোনো ইয়েমেনী বলেছে- হুতিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ইরানী ভাবধারার বিস্তৃতি ঘটেছে। অনেক সুন্নী ইরানী টাকার লোভে শিয়া হয়ে গেছে। এখন তাই রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলটাই বাকি। ইরান যেহেতু এসেছে, তাই বিপরীতে সৌদি আরবের অংশগ্রহণ অবধারিত। হাতি-ঘোড়ার লডাইয়ে প্রাণ যাচ্ছে উলু-খাগড়ার!

আফগানিস্তানের তালেবান কিংবা পাকিস্তানের তালিবানদের কথাই ধরুন। আফগানিস্তান পুরোটাই জিম্মি তালেবান দমন পীড়নে। পাকিস্তান মাঝেমাঝেই বিস্ফোরিত হয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আস্ফালনে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অঁকেজো করে দেয়ার মত! 

চলতি সপ্তায় এরা লাহোর নগরীকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে। ১১ জন পুলিশ সদস্যকে জিম্মি করে বুঝিয়ে দিয়েছে, এরা ইচ্ছে করলে সিভিল প্রশাসনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারে! বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে সেদিকেই যাচ্ছে!

বাংলাদেশের ভেতরে বাইরে থেকে ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে অনৈতিক কাজে মদত দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করি। একটি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করে এই মদত দেয়ার পেছনে। আড়ালের রাজনৈতিক নেতারা কেবল ব্যবহার করে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের। 

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজনৈতিক নেতাদের অসৎ উদ্দেশ্য ও মিথ্যাচার ধরে ফেলেছে। তাই ব্যাপকভাবে অন্তত ৯০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী আর নেতাদের বিশ্বাস করে না। তাদের কথায় এক মিনিটও সময় নষ্ট করতে চায় না। 

বাকি থাকে ১০ শতাংশ। এদের কেউ কেউ সরকারি ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের আখের গোছানোর মতলবে। এবং খুব সামান্য একটি অংশ হয়ত ন্যায়ের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের নষ্টালজিয়ায় ভোগে। কাজেই নষ্ট রাজনীতির আকাঙ্খা পূরণে এখন তাই মাদ্রাসার ছাত্ররাই একমাত্র ভরসা। 

মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের উস্তাদের উস্কানিতে শ্রেণীকক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় আগুন জ্বালায়। জনগণের সম্পত্তি ধ্বংস করে। কয়েকজন হয়ত পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেয়। বাকিরা আবার ফিরে যায় মাদ্রাসায়। গত এক দশকে এটিই বাংলাদেশের চালচিত্র। 

বাংলাদেশের এইসব মাদ্রাসার ছাত্র কারা? এদের মোচ-দাড়িও গজায়নি ঠিকমত। উস্তাদের রক্তচক্ষু ও উস্কানিকে এরা বিধাতার আদেশ মনে করে। সামাজিকভাবে এরা হীন ও দরিদ্র। উস্তাদ এবং মাদ্রাসার কল্যাণে এদের অন্তত ৮০ শতাংশের ভাত-কাপড়ের সংস্থান হয়েছে!

বাংলাদেশের উঠতি ধনীক শ্রেণীর বদান্যতায় চলে মাদ্রাসাগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত প্রবাসীদের অর্থানুকূল্য। এই দু’টি উৎসই জানে না বাংলাদেশের উত্থান ও জন্মলাভের ইতিবৃত্ত। এরা জীবনযাপনে আধুনিক হলেও পশ্চাদপদ মানসিকতার। 

মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার যে সব সরলপ্রাণ বাংলাদেশী বিনাবাক্য ব্যয়ে বাংলাদেশের মসজিদ মাদ্রাসায় টাকা ঢালেন, তারা কোনোদিন ঘুণাক্ষরেও জানতে চান না সেসব মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়। সেখানে শিক্ষক হিসেবে কারা কর্মরত। 

পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। সেখানে হুজুরদের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করা ব্লাসফেমী আইনের সমতুল্য। এক পাকিস্তানীকে আমি একদিন প্রশ্ন করেছিলাম- এই যে তোমাদের দেশে শিয়া মসজিদে সুন্নীরা গুলি করে মানুষ হত্যা করে, কিংবা শিয়ারা সুন্নী মসজিদে গুলি চালায়, এসব কি ইসলাম সম্মত? 

উত্তরে সে বলেছিল- এরা পরস্পরকে মুসলমানই মনে করে না! বলে ‘ফেৎনা’ সৃষ্টিকারী। আর ‘ফেৎনা’ সৃষ্টিকারীদের ধ্বংস করা না গেলে আসল ইসলাম নাকি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না! 

এই যে ধর্মের নামে অধর্ম চলে, এর বিস্তার শুরু হয়েছে আমাদের দেশেও। এই বিষধর সাপকে রুখবেন কী দিয়ে? কারা বলবে- ধ্বংস, বিভিষিকা, হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও ধর্মের মর্মবাণী নয়! সমাজকে শান্তি ও কল্যাণের পথে ধাবিত করাই ধর্মের কাজ। 

পরস্পরকে জানা, বুঝা, শ্রদ্ধা ও ভালবাসার মধ্যেই ধর্মের মর্মবাণী নিহিত। যতদিন পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে আত্মপোলব্ধি জাগ্রত না হবে, যতদিন পর্যন্ত সমাজের অপশক্তিকে সততা ও সাহসিকতা দিয়ে মোকাবিলার প্রস্তুতি অর্জিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত অন্ধকার এবং কুসংস্কার আমাদের পিছু ছাড়বে না! 

ধর্মকে নিয়ে যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের উপলব্ধির সময় হয়েছে বহু আগেই যে, এই বাড়াবাড়ি ধর্মের কোনো কাজে লাগে না। বরং ধার্মিক মানুষেরা তাদের আচরণে হয় বীতশ্রদ্ধ। যারা সমাজের মঙ্গল এবং কল্যাণ কামনা করেন- উন্নাসিকতা ও নীরবতার দিন শেষ হয়েছে তাদেরও। একটিবার গর্জে উঠুন এবং বলুন- ধর্মের নামে সমাজে অধর্ম চলতে পারে না!

লেখক: চৌধুরী জহিরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কোনও গণ্ডমূর্খও এই কথার বিরোধিতা করবে না

হারুন আল নাসিফ

কোনও গণ্ডমূর্খও এই কথার বিরোধিতা করবে না

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: একটি তরলপাঠ

আধুনিক যুগ বিজ্ঞানের যুগ এমনটি মনে করেন সবাই। কোনো গণ্ডমূর্খও এ কথার বিরোধিতা করবে না। কিন্তু এটা কি সবাই বুঝে বলেন? এমন প্রশ্ন সচরাচর মাথায় আসার কথাই না। এলেও হয়তো উত্তর হবে: এটা না বোঝার কী আছে? আসলেই কি? বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ প্রযুক্তিকেই বিজ্ঞান ঠাওরে বসে আছেন!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পর ঘনিষ্ট সম্পর্কযুক্ত বলেই হয়তো এ দুটোর পার্থক্য এড়িয়ে যাই আমরা। কিন্তু এতে বিপত্তি ঘটতে পারে। আবার প্রযুক্তি ও এর ব্যবহার এক নয়। দুটো গুলিয়ে ফেললে সমস্যা হয়। আর এই দ্বিবিধ কারণেই আমরা প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারকে বিজ্ঞানের অভিশাপ বলে ভুল করি, গাল পাড়ি।

সাধারণভাবে বলা হয় বিজ্ঞান হলো বিশেষ জ্ঞান। কিন্তু এই বিশেষ জ্ঞানটা কী? এটা থাকে কোথায়? আর আমরাই বা কীভাবে এটি পাই? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে বিজ্ঞানের সূচনা পর্বের দিকে নজর দিলে সুবিধা হবে বলে মনে হয়। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি বিজ্ঞানের সঙ্গে আবিষ্কারের একটা সম্পর্ক আছে গোড়া থেকেই।

তো আবিষ্কার জিনিসটা কী? শব্দটি বেশ ভারী ও গুরুগম্ভীর। বই-পুস্তকের সুবাদে এই শব্দটির সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত হলেও বাস্তবে দেখা যায় যে এর অর্থ সম্পর্কে অনেকের ধারণা স্বচ্ছ নয়। শব্দটি সংস্কৃত। এর সহজ বা খাঁটি বাংলা অর্থ হলো কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া বা খুঁজে বের করা। হঠাৎ কোনো কিছু খুঁজে পাওয়াকেও আবিষ্কার বলা হয়।

পৃথিবীতে বসবাসের শুরুতেই মানুষের সবকিছু জানা থাকলে কোনো কিছুই আবিষ্কার হতো না বা করার প্রয়োজন পড়তো না। জগতে আবিষ্কারের সূচনা আছে, কিন্তু শেষ আছে মনে হয় না। এটি একটি চলমান বিষয়। তো কখন ও কীভাবে আবিষ্কারে সূচনা হয়? কোন জিনিসটি মানুষ প্রথম আবিষ্কার করে?

আবিষ্কারে সূচনা ঠিক কখন হয় তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ধারণা করা হয় মানুষ প্রথম যেসব জিনিস আবিষ্কার করে তার মধ্যে আগুন অন্যতম। কীভাবে? মানুষ অবিষ্কার করলো বা দেখতে পেলো যে জঙ্গলে বিজলী বা বজ্রের আঘাতের ফলে আগুন জ্বলে। এটি দেখে তার মধ্যে বিস্ময় ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। 

মানুষ দেখতে পায় আগুন জ্বললে আলো বিচ্ছুরিত হয়। গাছ-পালা পুড়ে যায়। এসময় তাপ নির্গত হয়। এগুলোকে আধুনিক ভাষায় বলে আগুনের ধর্ম। এক পর্যায়ে সে পাথরে পাথর ঘঁষে আগুন জ্বালাতে শেখে। এখানে মূলসূত্র হলো ঘর্ষণ। পরে মানুষ আরো নানাভাবে আগুন জ্বালাতে শেখে। শেখে এর নানা ব্যবহার। উদ্ভাবন করে আগুন জ্বালানোর নানা কৌশল বা প্রযুক্তি।

আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ, আগুনে মাংস সিদ্ধ করা এবং পরে মশাল জ্বালিয়ে অন্ধকার দূরীকরণ রপ্ত করে সে। এই যে মশাল এটি কিন্তু একটি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে সহজে আগুন পরিবহন করা সম্ভব। এছাড়া এর আরো বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। সে ব্যবহার যেমন ইতিবাচক হতে পারে, হতে পারে নেতিবাচক বা ধ্বংসাত্মক।

সে যাই হোক, এতক্ষণ ধরে যে আগুন আগুন করছি সেটি আসলে কী? এটি আসলে এক ধরনের শক্তি। এ শক্তি প্রাকৃতিক। মানুষ তা খুঁজে বের করেছে মাত্র। মানুষ দেখতে পেয়েছে বাতাসে থাকা অক্সিজেন ও জ্বালানি উৎসের মধ্যে বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় আগুন উৎপন্ন হয়। আগুন কী ও কীভাবে জ্বলে তা খুঁজে বের করতে গিয়ে সে যে চিন্তা-ভাবনা করেছে এটাকে বলা যায় গবেষণা।
কথায় কথায় অনেক কথা তো হলো। কিন্তু বিজ্ঞান কী তা কি পরিষ্কার হলো? আমরা দেখতে পেলাম বিজ্ঞান প্রকৃতিতেই নিহিত থাকে। মানুষ পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তা খুঁজে বের করে মাত্র। আধুনিক অর্থে এই বিদ্যাকেই বিজ্ঞান বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, বিধাতা আমাদের চারপাশের জগৎ বা প্রকৃতিতে যে জ্ঞান নিহিত রেখেছেন তা উদ্ঘাটন করার নামই বিজ্ঞান।

আর প্রযুক্তি? এটি হলো বিজ্ঞানের ব্যবহারের নানা কৌশল। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য মানুষের কাজ-কর্ম সহজ করে তোলা। ঢেঁকিও একটি প্রযুক্তি, পুরানো হলেও। অটো রাইসমিল যার আধুনিক সংস্করণ। বিজ্ঞান ব্যবহার করেই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়। কিন্তু তাই বলে প্রযুক্তি বিজ্ঞান নয়। 

প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো-মন্দ দুটোই হতে পারে। তা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর।

আগুন পোড়ায়। এটা তার ধর্ম। আমরা পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আগুনের পুড়ানোর ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে এর উত্তাপকে কাজে লাগিয়ে রান্না করি। এটি প্রযুক্তি। পাত্র ও চুলা দুটোই এক্ষেত্রে প্রযুক্তি। এবং ভালো প্রযুক্তি। এখন কেউ যদি কোনো প্রযুক্তি, যেমন ম্যাচ বা লাইটার ব্যবহার করে কারো ঘরে আগুন দেয়, তাহলে দোষ কি আগুনের না প্রযুক্তির? নাকি বিজ্ঞানের?

হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর