বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মাসুদা ভাট্রি

বিচ্ছিন্ন পৃথিবী পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

এ বছরও পৃথিবী স্বাভাবিক হবে না, নতুন রূপে মহামারী ইউরোপসহ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে— এই ভয়ের কথা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। কোনো দেশই খুলছে না নিজেদের, ভেতরে ভেতরে কাজ করে যাচ্ছে নিজেদের মতো করে। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, এখানেও যতটা সম্ভব জীবন-জীবিকা বাঁচানোর তাগিদ ব্যক্তি ও সামষ্টিক জীবনে লক্ষ্যমান।

বৈশ্বিক রাজনীতিতে এখনও কেবল তরতাজা যুক্তরাষ্ট্রের নয়া সরকারের কায়কারবার আর মধ্যপ্রাচ্য। ইওরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার কোনো খবর নেই। আর দক্ষিণ এশিয়ায়ও ভারতই কেবল শিরোনামে।


সবইতো চলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন ঈদের পরে খুলবে: নুর

আইন চলে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছেমত: ভিপি নুর

রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ


বাংলাদেশকে নিয়ে চেষ্টা হচ্ছে প্রবল কিন্তু করোনা-রাজনীতি বা করোনা-পরিণাম কোনোটিই বাংলাদেশকে ঠিক ‌‘বাটে’ ফেলতে পারছে না। এর কারণ নিশ্চয়ই একেকজনের কাছে একেক রকম, আমি ভাবছি এই যে বিচ্ছিন্ন পৃথিবী আবার পুরোপুরি জোড়া লাগবে কবে?

মানুষে মানুষে যদি যোগাযোগই না থাকে তবে কীসের বেঁচে থাকা কীসের কী বিশ্বায়ন? তৃতীয় মাসে পা দিল ২০২১, কেউ কি বুঝতে পারছেন ২০২০-এর চেয়ে আজকের দিনটি ভিন্ন?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

টিকা নিন নিরাপদ থাকুন

জসিম মল্লিক

টিকা নিন নিরাপদ থাকুন

আ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। ইউরোপ থেকে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্কের বিষয় হচ্ছে ব্লাড কল্ট। কিন্তু হেলথ কানাডা বারবার বলছে এই টিকা এক্সট্রিমলি সেফ। হেলথ কানাডার রিভিউ সিস্টেম ওয়ার্ল্ডক্লাস। সুতরাং দ্বিধাদ্বন্দের কোনো কারণ নাই। তা সত্বেও কানাডায় অনেকেই আ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা নিতে চায়নি। এপয়নমেন্ট করেও টিকা নেয়নি অনেকে। পাইলট প্রোগ্রাম হিসাবে টরন্টোতে ৬০ প্লাস যাদের বয়স তাদের দেওয়া শুরু হলো আ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা। এখন ৪০ প্লাস যাদের তাদের দেওয়া হচ্ছে। শপার্স ড্রাগ মার্টের ফার্মেসিতে ২৪/৭ চলবে টিকা দেওয়া। হটস্পটগুলোতে পপ আপ ক্লিনিক করে ১৮ প্লাস থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ফাইজার, মর্ডানার টিকাও আছে এর মধ্যে। ইতিমধ্যে কানাডার প্রায় এক চর্তুথাংশ মানুষ প্রথম ডোজ পেয়ে গেছে। 

আ্যস্ট্রেজেনেকার টিকা নিয়েছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী বোরিস জনসন, জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ,  অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগফোর্ড, টরন্টোর মেয়ের জন টরি সহ অনেকেই। এখন নেবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন ট্রুডো। 

আ্যস্ট্রেজেনেকার টিকা আমি যখন নিয়েছি তখন এই টিকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক। আমার ফ্যামিলির সবাই  আ্স্ট্রেজেনেকার টিকার ব্যাপারে দ্বিধায় ছিল! জেসমিনতো বারবার বলছিল পরে নিলে হয় না! ফাইজার বা মডার্না নাও। কিন্তু আমি ডিটারমাইন্ড ছিলাম যে আ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকাই নেবো। 

আমি ১৬ মার্চ সুপারস্টোরে যাই টিকা দিতে। আগেই অরিত্রি এপয়নমেন্ট করে দিয়েছিল। টাইম ছিল দুপুর একটা। মনে করেছিলাম বিশাল লাইন হবে। এখন যেমন হচ্ছে। মানুষ তীব্র ঠান্ডার মধ্যেও চার পাঁচ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকা দিচ্ছে। অনেক সময় ফিরেও আসতে হচ্ছে টিকা স্বল্পতার জন্য। এখন টিকা পাওয়াই প্রধান ইস্যু, কোন টিকা সেটা ব্যাপার না। আমি সুপারস্টোরে গিয়ে দেখি কোনো মানুষ নাই। দুটো বুথই খালি। নির্দিষ্ট সময়ের দশ মিনিট আগেই আমার টিকা দেওয়া শেষ। সুদর্শন নার্সটি শুধু বলল, কোন হাতে নিবা! এবং বলল, তোমাকে আ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা দেওয়া হচ্ছে। টিকা নেওয়ার পর আমার কোনো সাইড এফেক্টও হয়নি। সুতরাং টিকা নিন। নিরাপদ থাকুন। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের টিকা পাওয়া নিশ্চিত করুন।

 জসিম মল্লিক । টরন্টো ২৩ এপ্রিল ২০২১

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সিটিস্ক্যন রিপোর্ট নিয়ে আসেন, এখনই বলছি আপনি কোভিড আক্রান্ত কিনা?

আমিনুল ইসলাম

সিটিস্ক্যন রিপোর্ট  নিয়ে আসেন, এখনই বলছি আপনি কোভিড আক্রান্ত কিনা?

ফাইল ছবি।

কিছুদিন আগে একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলাম আমার এক আত্মীয়ের জন্য অনলাইনে কোভিড টেস্টের সিরিয়াল দিতে গিয়ে পরপর চার দিন কোন সিরিয়াল পাইনি।  তো দু তিন সপ্তাহ আগে  এক পেশেন্ট এসেছিল জ্বর কাশি চার পাঁচ দিন হয়ে গেছে এমন করোনার লক্ষণ নিয়ে। 
বাস্তবতা বিবেচনায় তাকে সরাসরি কোভিড টেস্ট করতে না দিয়ে আমি তাকে বলি আপনি যদি Urgent CT স্ক্যান করে এখনই ফিল্ম নিয়ে আসেন তাহলে এখনই  আপনাকে বলে দেয়া যাবে আপনার করোনা সংক্রমণ হয়েছে কি হয়নি। করোণা সংক্রমণ থাকার পরেও টেস্ট নেগেটিভ আসতে পারে তখন কিন্তু আর সিটি স্ক্যান avoid করা যাবেনা, করতে হবে।

তার ডায়াবেটিস ছিল, প্রেসার ছিল, সেচুরেশন ৯৩ শতাংশের কম না হলেও স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম ছিল। এক্সরেটা স্বাভাবিক থাকলেও সিটি স্ক্যানে তার করোনা ধরা পড়বে আমি মোটামুটি নিশ্চিত ছিলাম। (অনেকে বলে এক্সরে নরমাল আবার সিটি কেন- এটা ভয়াবহ ভুল ধারণা)। করোণা পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতার বাস্তবতা চিন্তা করে আমি তাকে সিটি স্ক্যান করার জন্যই উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি এই বলে যে আধাঘন্টার মধ্যেই আপনাকে বলে দেয়া সম্ভব হবে আপনার কোভিড আছে কি নাই, আধাঘন্টা পরে আপনাকে কোভিডের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ঔষধ (Anticoagulant) শুরু করে দেয়া যাবে। রোগী আমার বাবা হলে আমি সেটাই করতাম।

তিনি তাতে রাজি হন না, বলেন আমি কোভিড পরীক্ষা করাবো।  আমি তাকে একটা পালস অক্সিমিটার কিনে অক্সিজেন সেচুরেশন মাপার মধ্যে থাকতে বলি এবং যদি কমে যায় রিপোর্ট আসার আগেই যাতে ফোনে জানায় সেটাও বলি। আমি তাকে ব্যক্তিগত নাম্বারও দিয়ে দিই। কিন্তু রোগী যেহেতু নিশ্চিত না তার কোভিড হয়েছে কিনা তাই সে দু তিন হাজার টাকা খরচ করে মেশিন আর কিনেনি। (সেদিন অন্য যে রোগীকে সিটি স্ক্যান করে করোণা কনফার্ম বলে দিয়েছি তারা কিন্তু pulse oxymeter মেশিন কিনতে ভুল করেনি। কেননা রোগী জেনে গেছে তার কোভিড হয়েছে সুতরাং এর পিছনে যা খরচ করার তা তাকে করতে হবে।)

আট দিনের মাথায় ক্লান্ত শ্রান্ত কাহিল সে রোগী হাঁপাতে হাঁপাতে আমার কাছে কোভিড রিপোর্ট নিয়ে আসে। রিপোর্ট নেগেটিভ।  সেচুরেশন মেপে দেখি সেটা ৮৬%.

এত দেরি কেন জিজ্ঞেস করায় রোগী জানায়, টেস্ট করতে এতদিন লেগেছে, রিপোর্ট পেতে এতদিন লেগেছে.. এই সেই। আমি তাকে দ্রুত সিটি স্ক্যান করাই সেটাতে জ্বলজ্বল করছিল করোনার spot গুলি। এই CT টা ৮ দিন আগে করলে তখনই কিন্তু ডায়াগনোসিস হয়ে যেত। কেউ হয়তো সংবিধান ফলো করে বলতে পারেন test না করে কেন CT? আমি বলবো কেন নয়? বাস্তবতা হল রিপোর্ট পেতে অনেক সময় লাগছে, এতটা সময় নষ্ট করার পরও সেটা false নেগেটিভ আসতে পারে, ultimately প্রায় অর্ধেক রোগীর টেস্ট করার পরও পুনরায় সিটি স্ক্যান করা লাগছে- মাঝখানে হারিয়ে যাচ্ছে সপ্তাহখানেক সময়। এক্সরে, সিটি স্ক্যান এর সাইডইফেক্ট এর কথাও কেউ মনে করিয়ে দিতে পারেন, কিন্তু জীবনরক্ষাকারী সিদ্ধান্ত যেখানে দ্রুত নেয়া প্রয়োজন সেখানে কি এই সাইড ইফেক্ট বিবেচনার দাবি রাখে? মাথাব্যথা এটা-সেটা হলে আমরা সিটি স্ক্যান করে সিরিয়াস কোনকিছু আছে কিনা সেটা নিশ্চিত হই, আর এখন এই করোনাকালে এর দ্রুত রোগ নির্ণয়ের উপকারিতা থেকে রোগীদেরকে বঞ্চিত করার জন্য সেই ইস্যুটা বেছে নিব?

প্রাইভেট হাসপাতালে যদি কোভিড টেস্ট করে সেখানে 4,000 টাকার মত লাগে, রিপোর্ট দ্রুত পাবে তারও গ্যারান্টি নাই, একেক জনের একেক সময় লাগে। একজন এক কর্পোরেট হাসপাতালে করিয়ে রিপোর্ট পেয়েছিল 5 দিন পরে। এখন চার হাজার টাকা দিয়ে একটা টেস্ট করিয়ে সেটা যখন নেগেটিভ আসবে তারপর আবার 4000 টাকা দিয়ে সিটি স্ক্যান করতে বললে রোগী  যুক্তিসঙ্গত ভাবেই নিজেই বলবে, CT তো আপনি আগেই দিতে পারতেন, কেন সে টাকা আর সময়টা নষ্ট করলেন?

গত বছর এক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ৩১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক সিস্টার তার  হাজবেন্ডের কোভিড নেগেটিভ  সার্টিফিকেট দেখিয়ে দেখিয়ে এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের এখানে সেখানে চিকিৎসা নিতে ঘুরে বেরিয়েছে। সমস্যা জ্বর কাশি মাথা ব্যাথা। আমার রুমেও রোগী নিয়ে চলে এসেছিল সেই কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে। তার ব্লাড টেস্টে lymphocyte কম দেখে যখন urgent সিটি স্ক্যান করতে পাঠালাম, আধা ঘণ্টা পরই ফিল্ম নিয়ে আসে, সেখানে দেখা গেল কোভিড, দ্রুতই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়, পরে ICU তেও যেতে হয়েছিল ।

যা হোক প্রসঙ্গে ফিরে আসি, রোগীর যেহেতু অক্সিজেন লাগবে এবং বাসায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নাই আমি তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে পাঠাই। তখন হাসপাতালে বেড সঙ্কটের অবস্থা ছিল ভয়াবহ, এখানে সেখানে ঘুরাঘুরি করে একটা বেসরকারি Clinic এ ভর্তি হয় তাও নিম্নমানের। খরচের ব্যাপারটা খেয়াল করুন।

সে রোগী ভালো হয়ে বাড়ি ফিরেছে না খারাপ হয়ে গেছে সে প্রসঙ্গ তুলে কারো মন ভালো বা খারাপ করবো না। শুধু বলবো, PCR test এর দেশীয় বাস্তবতাটাকে মাথায় রেখে রোগীদেরকে সিটি স্ক্যান এর দ্রুত রোগ নির্ণয়ের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত করার মতো কোন রকমের গাইডেন্স দেয়াটা বাস্তব সম্মত ও মানবিক হবে না।

আমিনুল ইসলাম। (ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এসব ঘটনা থেকে বুঝলাম মানুষ আসলে বোকা প্রাণী

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

এসব ঘটনা থেকে বুঝলাম মানুষ আসলে বোকা প্রাণী

মানুষের বুদ্ধির ব্যাপারে আমার প্রথম সন্দেহ জেগেছিলো ঢাকা যাওয়ার পর। ঢাকা গিয়ে শুনি এক টুকরো জমির দাম একশো কোটি টাকা, কিন্তু সুনামগঞ্জে ওই দামে একটি হাওড় কেনা যাবে।  ঢাকায় জমির দাম এতো কেন? এ জমিতে কী কী ফলে? কিছুই ফলে না, শুধু ইট ফলে। ঢাকার মানুষ বিশ্বাস করে, ইটই তাদের ঈশ্বর। যার ইট নেই, তার দাম এক আনা। 

বাবাকে জিগ্যেস করেছিলাম, আমাদের যে-বিছরাটি আছে, সেটির দাম কতো হবে? বাবা জানালেন, পাঁচ হাজারের মতো হবে। যে-জমিতে মরিচ ফলে, পেঁয়াজ ফলে, ধনেপাতা ফলে, রসুন ফলে, ফুলকপি ফলে, পুঁইশাক ফলে, এবং মানুষ যা যা খায় তার সবই ফলে, সে-জমির দাম মাত্র পাঁচ হাজার? আর যে-জমিতে শুধু ইট ফলে, ময়লা ফলে, কাঁচের ঘর ফলে, সে-জমির দাম একশো কোটি? পরে দেখেছি, সারা পৃথিবীতেই, যারা ভোগ করে, তাদের জমির দাম, যারা উৎপাদন করে, তাদের জমির দামের চেয়ে বেশি। 

যিনি শাক ফলান, আর যিনি শাক খান, তারা দুজন যাপন করেন দুটি ভিন্ন জীবন। একজন থাকেন দূরে, গ্রামে, সম্ভবত কুঁড়েঘরে, আর আরেকজন থাকেন প্রাসাদে, চড়েন শীতাতপ গাড়িতে। দুজনের কখনো দেখা হয় না। তবে খাবার টেবিলে তাদের একজনের শাকের সাথে, মাছের সাথে, চালের সাথে, ধনেপাতার সাথে, আরেকজনের নিয়মিত সাক্ষাৎ ঘটে। 

সতেরো শতকে, ইউরোপে কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি ও ঘরবাড়ি ছিলো না। সবকিছুর মালিক ছিলেন রাজা। জন লক বললেন, ঈশ্বর যেহেতু আমাদের দেহের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে দিয়েছেন, তাই আমরা যা কিছু বানাবো, তার নিয়ন্ত্রণও আমাদের হাতেই থাকা উচিত। রাজা আমাদের দেহের মালিক নন, সম্পদের মালিকও নন। আমাদের সম্পদের মালিক আমরা। আমাদের গরুর গাড়ি আমাদের, আমাদের কুঁড়েঘরও আমাদের। আমাদের ফসল ভোগ করবো আমরা। 

ইমানুয়েল কান্টও একই কথা বলেছিলেন। তাঁর মতে, ব্যক্তি সম্পত্তির মাধ্যমে মানুষ সমাজে নিজেকে সহজে প্রকাশ করতে পারে। সমাজে কারও অস্তিত্ব আছে কি না, সেটি আমরা বুঝতে পারি তার মালিকানাধীন সম্পত্তি দ্বারা। যার কোনো সম্পত্তি নেই, তার অস্তিত্ব মোটামুটি শূন্যের সমান। 
আমাদের পাশের ঘরে একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যার কোনো জমি ছিলো না। এক আত্মীয়ের উঠোনে, একটি শনের ঘর নির্মাণ করে তিনি বাস করতেন তাঁর পরিবার নিয়ে। কারও সাথে ঝগড়া হলে, তাকে গালি দেয়া হতো ‘বাদাইম্যা’। 

বাদাইম্যা শব্দটির অর্থ— যার নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই, যিনি বাস করেন অন্যের আশ্রয়ে। তিনি যখন মারা যান, তখন থানার ইউএনও একটি পতাকা ও কিছু পুলিশ নিয়ে এসেছিলেন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে। দরিদ্র কনস্টেবলদের দিয়ে তিনি কিছু স্যালুট দেয়ালেন, কিন্তু নিজে কোনো স্যালুট দিলেন না। তার মুখভঙ্গী দেখে মনে হয়েছিলো, ওইদিনে ওই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে তিনি খুব বিরক্ত হয়েছেন। ইউএনও যখন চলে যাচ্ছিলেন, তখন আমি জিগ্যেস করলাম- জানাজা পড়বেন না? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, আপনি কী করেন? আমি কী করলে তিনি ওই মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় অংশ নিতেন, তা তিনি স্পষ্ট করেন নি। পরে দেখলাম যে, ইউএনও জানাজায় অংশ নেন নি, এর প্রধান কারণ জমিজমা, দ্বিতীয় কারণ ক্ষমতা; কারণ ওই মুক্তিযোদ্ধার জমিজমা ও ক্ষমতা কোনোটিই ছিলো না। যদি ওই মুক্তিযোদ্ধা কোনো সম্পদশালী মন্ত্রী ও সাংসদ হতেন, তাহলে নিশ্চয়ই তার জানাজায় ইউএনও, ডিসি, এডিসি, সচিব, যুগ্ম সচিবদের ঢল নেমে যেতো।

 মহিউদ্দিন মোহাম্মদ  ফেসবুক হতে নেওয়া।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ভ্যাকসিন নিশ্চিতে রাত থেকে খোলা আকাশের নীচে লাইনে দাড়িয়ে মানুষ

শওগাত আলী সাগর

ভ্যাকসিন নিশ্চিতে রাত থেকে খোলা আকাশের নীচে লাইনে দাড়িয়ে মানুষ

ছবিটি টরন্টো স্টারের রিচার্ডস লটেন্স থেকে তোলা।

অ্যাস্ট্রেজেনেকা নাকি ফাইজার,মডার্না নাকি জনসন অ্যান্ড জনসন- এসব প্রশ্ন এখন আর মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়।মানুষ চায় ভ্যাকসিন। কিন্তু মানুষের চাহিদা মতো ভ্যাকসিনের সরবরাহ দিতে পারছে না কানাডা। ঝূঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় ’পপ আপ  ক্লিনিক’ খুলে ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। আর যেখানেই ‘পপ আপ ক্লিনিক’ সেখানেই হুমড়ি খাওয়া মানুষের ঢল। মাইনাস তাপমাত্রার ঠান্ডা উপক্ষো করে ঘন্টার পর ঘন্টার লাইন দাড়িয়ে থাকছে মানুষ। নিজের ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত  করতে আগের রাত থেকে এসে খোলা আকাশের নীচে লাইনে দাড়িয়ে থেকেছেন- এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

এখন আর ভ্যাকসিন হেসিট্যান্সি নেই, টিকা নিয়ে সংশয় নেই। টিকা পাওয়াটাই মূখ্য হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে।
 

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

news24bd.tv/আলী

 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পেটে ক্ষুধা রেখে লকডাউন মানা সম্ভব না

শঙ্কর মৈত্র

পেটে ক্ষুধা রেখে লকডাউন মানা সম্ভব না

দোকানপাট খুলে দিন। তবে এতো কম সময় নির্ধারণ না করে অর্থাৎ ৭ ঘন্টা না করে ১৫ ঘন্টা করুন। এতে মানুষের ভীড় কমবে। একই অবস্থা ব্যাংক বীমা সরকারি অফিসে করুন। কর্মঘন্টা বেশি করলে ভীড় কম হবে। মানুষ তাড়াহুড়ো করবে না। লকডাউন সমাধান নয়। 

যাদের ঘরে পর্যাপ্ত খাবার আছে, মাস শেষে মোটা অংকের মাইনে পান তারা লকডাউনের পক্ষেই বলবেন। পেটে ক্ষুধা রেখে লকডাউন মানা সম্ভব না। এ ছাড়া এমনতো নয় যে ১৫ দিন পর করোনা ভাইরাস চলে যাবে? এটাকে নিয়েই বাঁচতে হবে। তবে মাস্কপরাসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

শঙ্কর মৈত্র সিনিয়র সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে)

 

আরও পড়ুন:


ওবায়দুল কাদেরকে পদত্যাগের আহ্বান ভাগ্নে মঞ্জুর

২৫ এপ্রিল থেকে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৮৮

বাগেরহাটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২


news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর