সোনা চোরাচালানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস

অনলাইন ডেস্ক

সোনা চোরাচালানে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস

সোনা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়ছে বেসরকারি উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস লিমিটেড। সংস্থাটির উড়োজাহাজ থেকে দফায় দফায় চোরাচালানের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকারও করেছেন এয়ারলাইনসটির কর্মীরা। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

কাস্টমস সূত্র জানান, সবশেষ মাসকাট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট থেকে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এর আগে গত বছর ১১ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস থেকে ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়। একই বছরের ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
 
২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর ১৭ লাখ টাকা মূল্যের তিনটি সোনার বারসহ আটক হন ইউএস-বাংলার কর্মী। তার আগে ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। একই বছরের ২০ এপ্রিল প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। একই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা হওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সোনা চোরাচালানের বিষয়ে গভীর মনোযোগ রয়েছে কাস্টমসের। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে রয়েছে কাস্টমস। এয়ারলাইনসের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’
 
বাংলাদেশ জুয়েলারি প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এয়ারলাইনসগুলো জড়িত না থাকলে কোনোভাবেই আকাশপথে সোনা চোরাচালান সম্ভব নয়। তাদের সঙ্গে অন্যরাও জড়িত। বিমানবন্দরে ১৭টি সংস্থা কাজ করে, তাদের আড়াল করে সোনা চোরাচালান অনেক কঠিন।’

বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি-বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘এত দিন আমরা জেনেছি সোনা চোরাচালানের সঙ্গে এয়ারলাইনসগুলোর ক্রুরা জড়িত থাকেন।’ তবে সরাসরি এয়ারলাইনসগুলো জড়িত না থাকলে বিপুল পরিমাণ সোনা চোরাচালান কেবিন ক্রুরা করতে পারেন কিনা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর  এই সহসভাপতি।

কাস্টমস সূত্র জানান, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। সোনার বারগুলো কালো স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস৩১৬-এর যাত্রী অবতরণের সিঁড়ির নিচে ৪০টি সোনার বার পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর শাহজালালে তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস। বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন মিয়া নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ট্রানজিট ও বোর্ডিং এলাকায় নজরদারি এবং তল্লাশি করে। আটক যাত্রী ও ইউএস-বাংলার কর্মীকে পুলিশে দেওয়া হয়।

একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ কেজি সোনার বারসহ গ্রেফতার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে। এ সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক তোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তার স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়।

২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। ওই দিন বিকালে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটের টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা জানায়, প্রতিটি ১০ তোলা ওজনের মোট ১২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদ পায়, ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের (বিএস ২১৪) ফ্লাইটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হবে। উড়োজাহাজটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে বিমানের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই বারগুলো পাওয়া যায়।
 
২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস৩২২) ১১ এ ও ১১ বি সিটের ভিতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তখন জানায় ঢাকা কাস্টম হাউস।

একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস২০২) থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতালের উদ্বোধন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতালের উদ্বোধন আজ

রাজধানীর মহাখালীতে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে আজ।  তবে রোগী ভর্তি শুরু হবে আগামীকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে। 

মহাখালীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাইকারি কাঁচাবাজারের ভবনে স্থাপন করা হাসপাতালটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল’। 

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক হাসপাতালটির উদ্বোধন করবেন।

হাসপাতালটি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই হাসপাতাল হতে যাচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল।হাসপাতালটিতে এক হাজার শয্যার সুবিধা থাকবে। এখানে থাকছে ২১২টি আইসিইউ বেড, ২৫০টি এইচডিইউ বেড, ৫০টি ইমার্জেন্সি অবজারভেশন বেড এবং ৫৪০টি আইসোলেশন রুম।


যে সিনেমা নায়ক ওয়াসিমকে সুপারস্টারের খ্যাতি এনে দেয়

বিলবাওকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা খরা ঘুচালো বার্সা

একের পর নক্ষত্রের পতনে শূন্য হয়ে যাচ্ছে চলচ্চিত্র মাধ্যমটি: শাকিব খান

রমজান মানুষের পাপমোচনের অবারিত সুযোগ নিয়ে আসে


হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, 'এটি দেশের সবচেয়ে বড় করোনা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলছি। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে আনা হয়েছে। এখানে করোনা আক্রান্ত রোগীদের সর্বোচ্চ সেবার সুযোগ রাখা হচ্ছে। যারা উপসর্গ নিয়ে আসবে তাদেরও রাখা হবে, যাদের আইসিইউ প্রয়োজন তাদেরও রাখা হবে। সবার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।'

নাসির উদ্দিন জানান, এরই মধ্যে এই হাসপাতালে ৫০০ চিকিৎসক, ৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে করা যাবে। ​হাসপাতালটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল ডিভিশন

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

২৬৫ যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে উড়াল দিল বিমানের বিশেষ ফ্লাইট

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬৫ যাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে উড়াল দিল বিমানের বিশেষ ফ্লাইট

চারটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর ২৬৫ যাত্রী নিয়ে শনিবার জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট। শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে উড়াল দেয় বিমানের ফ্লাইটটি।

যাত্রী স্বল্পতা ও সময়মত ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না মেলায় শনিবার বিমানের বিদেশগামী চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

এর মধ্যে শনিবার সকাল সোয়া ৬টায় রিয়াদগামী বিশেষ একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ওই ফ্লাইটের ২০১ জন যাত্রী ছিল। কিন্তু সময় মতো ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না পাওয়ায় ওই ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইন-শৃংখলা বাহিনী।


আজাদ মসজিদে নায়ক ওয়াসিমের জানাজা, বনানীতে দাফন

বিলবাওকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা খরা ঘুচালো বার্সা

খালেদা জিয়ার জ্বর ১০২ ডিগ্রি : চিকিৎসক

‘মিনা পাল’ থেকে যেভাবে ‘কবরী’ হয়ে ওঠা


বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ শাখার উপ-মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, যাত্রী স্বল্পতা ও ল্যান্ডিংয়ের জন্য সময়মত অনুমতি না মেলায় চারটি বিশেষ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে সন্ধ্যা ৬টায় ২৬৫ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে গেছে।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের মহীসোপান দাবিতে ভারতের আপত্তি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের মহীসোপান দাবিতে ভারতের আপত্তি

বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে জাতিসংঘে আপত্তি জানিয়েছে ভারত। আর এ দাবির ওপর মিয়ানমার দিয়েছে পর্যবেক্ষণ।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিশনে (সিএলসিএস) ভারত এই আপত্তি জানায়।বাংলাদেশ মহীসোপানের যতটুকু অংশ নায্য প্রাপ্য হিসেবে দাবি করছে, সেখানে ভারতের অংশও রয়েছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।

সূত্র জানায়, ২০১১ সালে মহীসোপানে ন্যায্য প্রাপ্য দাবি করে জাতিসংঘে আবেদন করে বাংলাদেশ। ২০২০ সালের অক্টোবরে এই দাবির বিষয়ে সংশোধনী দেয় ঢাকা। ভারতের আপত্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডের যে বেসলাইনের ওপর ভিত্তি করে মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, সেখানে ভারতের একটি অংশও রয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের 'গ্রে এরিয়া' সম্পর্কেও আবেদনে কোনও তথ্য দেয়নি বাংলাদেশ।'

গ্রে এরিয়া প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এমন একটি জটিল এলাকা যেখানে পানির উপরিভাগের সম্পদের মালিক ভারত, কিন্তু ওই অংশে সমুদ্র গর্ভস্থ মাটির নীচের খনিজ সম্পদের মালিক বাংলাদেশ।

অন্যদিকে মিয়ানমার বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দিলেও এ নিয়ে কোন আপত্তি দেয়নি। দুই প্রতিবেশীর আপত্তি আর পর্যবেক্ষণে মহীসোপানে বাংলাদেশের নায্য প্রাপ্য দাবির নিষ্পত্তিতে জটিলতা কাটছে না।

ভারতের আগে এ বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের দাবির বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে মিয়ানমার। কিন্তু বাংলাদেশের দাবির প্রতি আপত্তি জানায়নি দেশটি। বাংলাদেশ আইনগতভাবে মহীসোপানের যতটা প্রাপ্য, তা থেকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করছে দুই প্রতিবেশী দেশ।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে জাতিসংঘের কাছে মহীসোপানের দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ আবেদন জানায়। গত বছরের অক্টোবরে ওই দাবির বিষয়ে সংশোধনী জমা দেয় বাংলাদেশ।

শুক্রবার জাতিসংঘের সিএলসিএস ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভারতের আপত্তিপত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভূখণ্ডের যে বেসলাইনের ওপর ভিত্তি করে মহীসোপান নির্ধারণ করেছে, সেটির মাধ্যমে ভারতের মহীসোপানের একটি অংশ দাবি করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে যে ‘গ্রে এরিয়া’ রয়েছে, সেটির বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো তথ্য দেয়নি। ‘গ্রে এরিয়া’ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে একটি ছোট অংশ, যেখানে পানির মধ্যে যে সম্পদ রয়েছে, যেমন মাছ, সেটির মালিক ভারত; কিন্তু মাটির নিচে যে খনিজ পদার্থ আছে, সেটির মালিক বাংলাদেশ। এই অংশের পরিমাণ প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাতে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে যে যে বিভাগে

অনলাইন ডেস্ক

রাতে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে যে যে বিভাগে

শনিবার রাতে দেশের আট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে  ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে এ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাতে আগামী ১২ ঘণ্টায় দেশের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমক অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো এ হাওয়া সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে পরিণত হয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে রূপ নিতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

খালেদা জিয়ার জ্বর ১০২ ডিগ্রি : চিকিৎসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালেদা জিয়ার জ্বর ১০২ ডিগ্রি : চিকিৎসক

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী  খালেদা জিয়ার জ্বর ১০২ ডিগ্রি বলে জানিয়েছেন  খালেদা জিয়ার চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার এফএম সিদ্দিকী।

অধ্যাপক ডাক্তার এফএম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। আপাতত খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন নেই।

শনিবার রাতে তিনি গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিষয়ে তিনি আরও বলেন, তার পালস ও ব্লাড প্রেসার ভাল। স্যাচুরেশন ৯৬ বা তার বেশি। ড্রপ করেনি স্যাচুরেশন। তার করোনার হবার পর নবমতম দিন। জটিল সময় পার করছে। সবকিছু ঠিকঠাক আছে। পুরো সপ্তাহ না যাওয়া পর্যন্ত  চিকিৎসায় কোন শিথিলতা থাকবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সিটিস্ক্যান শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বাসভবনে ফেরার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট অনেক ভালো অবস্থানে। তার রিপোর্টে যেটা পাওয়া গেছে তা অত্যন্ত মার্জিন পর্যায়ে আছে, যেটাকে মাইনর হিসেবে ধরা যায়। তার করোনার উপসর্গ খুবই কম।

গত  শনিবার খালেদা জিয়ার নমুনা পরীক্ষা শেষে রোববার তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়। চিকিৎসক এফএম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক টিম বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা শুরু করে।  লন্ডন থেকে চিকিৎসক পূত্রবধূ জোবাইদা রহমানও চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

লন্ডনে থেকেই পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান দেশে-বিদেশে বিভিন্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসার তদারকি করছেন। এছাড়া তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সমন্বয়ও করছেন ডা. জোবায়দা রহমান।

৭৫ বছল বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। দণ্ড নিয়ে তিন বছর আগে তাকে কারাগারে যেতে হয়। 

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়; শর্তসাপেক্ষে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। তখন থেকে তিনি গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার সঙ্গে বাইরের কারও যোগাযোগ সীমিত।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর