বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও কিছু কথা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও কিছু কথা

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল

আমাদের মহাকাব্যিক মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভন্ন সময়ের বক্তব্য, কথা এবং জীবনযাপন নিয়ে গবেষকরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে যাচ্ছেন। গবেষকরা বঙ্গবন্ধুর কর্মজীবনের বিভিন্ন বিষয় আশয় নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন ইতিবাচক তথ্য উপাত্ত আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন। 

গবেষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত পেয়ে আমরা বাঙ্গালীরা আমাদের মহাকাব্যিক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে জেনে আমাদের জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করছি। একটা সময় ছিল বিরুদ্ধবাদীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নেতিবাচক ও বিকৃত ইতিহাস আমাদের সামনে উপস্থাপন করে আমাদেরকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছিল। 

এই সময়টা ছিল ১৯৭৫এর পরবর্তী সময় থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত। বিরুদ্ধবাদীরা ভেবেছিল বন্দুকের নলের সামনে দেশের জনগণকে জিম্মি করে রেখে, তারা যা ইচ্ছে তা করতে পারবে। তখন বিরুদ্ধবাদীরা বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়ার উপর এমন সব অলিখিত বিধি নিষেধ আরোপ করে, যা দেখে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির লোকজন ভয়াবহ আতংকের মাঝে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। 

কিন্তু বিরুদ্ধবাদীরা এ কথা বুঝেনি মেঘরাশি সূর্যের কিরণকে তার ছায়া দিয়ে ঢেকে রাখতে যতই চেষ্টা করুক না কেন, তাতে সূর্যের আলোকরাশি নিভে যায় না। মেঘ সরে গেলেই সূর্যের অয়ন রেখা পৃথিবীকে তার আলো দ্বারা আলোকিত করে তুলে। 

ঠিক তেমনি করে বিরুদ্ধবাদী দক্ষিণপন্থী আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তির লোকজনও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মজীবনে যে অবদান নিজের জীবনবাজি রেখে এদেশের মানুষের জন্য রেখে গেছেন, তা তারা মুছে ফেলতে পারেনি। 

মেঘরাশি যতই সূর্যের আলোকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করুক না কেন, তাতে কিন্তু সূর্যের আলো বিলোপ কিংবা মিথ্যে হয়ে যায় না। ঠিক সেই ভাবেই বিরুদ্ধবাদীদের জঘন্য মিথ্যাচার আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে খাটো করতে পারেনি। 

এদেশের মাটিতেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে হয়েছে। বিচারে দোষীদের সাজা হয়েছে। পলাতক আসামি ছাড়া অনেকের সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল কিংবা যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নেড়েছিল, তারা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবেনি বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে এবং তাদের সাজা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। 

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা এবং তাদের সহযোগীরা ভুলে গিয়েছিল পাপ বাপকেও ছাড়ে না। পাপ যে বাপকে ছাড়ে না এ কথা তারাই ভুলে যায়, যারা সারা জীবন পাপের মধ্যে বসবাস করে থাকে।

আমরা যদি আমাদের মহাকাব্যিক মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় আশয় নিয়ে তাত্ত্বিক বিচার বিশ্লেষণ করতে যাই, তাহলে দেখতে পাবো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু বলেছেন এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এই যে মুক্তির সংগ্রামের কথা বঙ্গবন্ধু বলেছেন, তাতে কোন মুক্তির কথা রয়েছে তা আমরা একটু চিন্তা ভাবনা করলেই বুঝে নিতে পারবো। এই মুক্তির সংগ্রাম হচ্ছে সেই সব মানুষের মুক্তি সংগ্রাম, যারা ক্রমাগত ভাবে ১৯৪৭ এর পর থেকে পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা প্রতিনিয়ত ভাবে শোষন ও পীড়নের শিকার  হয়ে আসছে। এই মুক্তির সংগ্রাম কথাটা দিয়ে বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের ভৌগলিক মুক্তির কথাই শুধু বুঝান নাই, এই মুক্তি সংগ্রাম দিয়ে এদেশের দরিদ্র মেহনতি মানুষের এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির অর্থনৈতিক মুক্তির কথাই বঙ্গবন্ধু বুঝিয়েছেন। 

যার পরবর্তীতে আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাকশাল গঠন করেছেন। যদিও বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এদেশীয় কিছু সংখ্যক দালাল, দক্ষিণপন্থী প্রতিবিপ্লবীরা এবং তাদরে সঙ্গে থাকা অতিবিপ্লবীরা এক হয়ে বঙ্গবন্ধুর বাকশালের বিরোধীতা করে আসছিল। 

অতিবিপ্লবীরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বলতো দুই কুকুরের লড়াই। তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দালালদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিচার বিশ্লেষণ করতো। অথচ এই অতিবিপ্লবীরা মুখে মুখে সাধারণ মানুষের অর্থাৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুক্তির কথা বললেও তাদের কর্মকাণ্ড কখনো সাধারন মানুষের পক্ষ শক্তির পক্ষে ছিল না। 

তাদের কথাবার্তা আর প্রতিক্রীয়াশীল দক্ষিণপন্থীদের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড এক রকমই  ছিল। এই অতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তারা শ্রেণী শত্রু খতমের নামে বিভিন্ন জায়গায় অনেক দেশপ্রেমিক নেতাদের হত্যা করেছে। 

এমন অভিযোগও আছে অতিবিপ্লবীরা কল-কারখানায় এবং পার্টের গুদামে আগুন দিয়েছে তাদের বিপ্লবের অভিপ্রায়ে। অনেকেই বলে থাকেন তাদের বিশ্বাস ছিল জনগণ দ্বারা মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। বন্দুকের নলের মাধ্যমেই মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। এই শ্রেণির লোকরা অর্থাৎ অতিবিপ্লবীরা জনগণই ক্ষমতার উৎস তা বিশ্বাস করতো না। তারা মনে করতো বন্দুকের নলই ক্ষমতার উৎস। 

এই রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক মেধাবী তরুণ প্রাণ মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছে। তারা নিজেরা যেমন মরেছে। তেমনি করে অন্যকেও মেরেছে। আবার নিজেরা নিজেরা কাটাকাটি মারামারি করে প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। 

অতিবিপ্লবীরা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি তাদের ভুল রাজনীতির জন্য। যে কোনো কাজই করতে হয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে। নিয়মের বাইরে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়। যা আমরা দেখেছি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী জাসদের রাজনীতিতে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছেন এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন এই দেশের মানুষের জীবন যাপন সহজ করতে হলে এবং এদেশের মানুষের দারিদ্রতা দূর করতে হলে প্রথমই যে কাজটি করতে হবে, তাহলো আমাদের দেশমাতৃকাকে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে। 

বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বুঝেছেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের দেশকে শোষনের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো চাইবে না এদেশের মানুষেরা সুখে শান্তিতে থাকুক। তারা চাইবে আমার এই দেশ থেকে কি ভাবে মূল্যবান সম্পদ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করে নেয়া যায় এবং পশ্চিম পাকিস্তানকে সম্পদশালী করা যায়। বঙ্গবন্ধু দেখেছেন এদেশের মানুষ বিভিন্ন সময় জনগন দ্বারা নির্বাচিত হয়েও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি বা যেতে পারেনি। 

১৯৫৪ ইংরেজিতে বাঙ্গালী জয় লাভ করেছে। কিন্তু কি পেয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ সাধারন নির্বাচনে জয়লাভ করেও ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে বাঙ্গালীদেরকে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছেন পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনো এদেশের মানুষকে ক্ষমতার স্বাদ দেবেনা। তাই তাদের কাছে ন্যায্য কিছু আশা করে পাওয়া যাবে না। তারা এদেশের মানুষকে মানুষ বলেই গন্য করে না। 

আমরা দেখেছি পশ্চিম পাকিস্তানিরা একের পর এক ষড়যন্ত্র এদেশের মানুষের বিরুদ্ধে করে গেছে। তারা অর্থাৎ পশ্চিম পাকিস্তানিরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী আমাদের মহাকাব্যিক মুক্তি সংগ্রামের ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার জন্য মিথ্যা ভাবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করেছিল। যাতে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়ে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য বাঙ্গালী নেতাদেরকে হত্যা করা যায়। কিন্তু জনতার আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানিরা ভেসে যায়। 

পশ্চিম পাকিস্তানিরা মিথ্যা এবং তাদের মনগড়া ভাবে সাজানো ষড়যন্ত্র মূলক মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়। যে মামলাটিকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়ে থাকে। আমরা এমন এক ভাগ্যবান জাতি যে, আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো একজন সাহসী এবং নির্লোভী নেতা পেয়েছিলাম। যিনি এদেশের মানুষকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু কোনোদিন ভাবতে পারেননি বাঙ্গালী তাকে হত্যা করতে পারে। কিন্তু বিরুদ্ধবাদী দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রীয়াশীলরা তাদের একাত্তরের পরাজয়ের কথা ভুলে যেতে পারেনি। বিরুদ্ধবাদী আমাদের মুক্তি সংগ্রামের বিপক্ষ শক্তির লোকজন তাদের একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেবার জন্য অস্থির হয়ে থাকে। এই বিরুদ্ধবাদীরা তাদের একাত্তরের প্রতিশোধ নেবার জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। 

বলা হয়ে থাকে বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরাও জড়িত ছিল। এছাড়া পর্দার অন্তরালে থেকে অনেকেই বঙ্গবন্ধু হত্যার পিছনে কলকাঠি নেড়ে জড়িত থেকেছেন। 


আমি সত্যের পক্ষে থাকব, সত্যেও কথা বলব: এমপি একরাম

তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার রক্ষা; সাহসী উদ্যোগ বৈশাখী টিভির

দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গে ছাড় দেবে না আওয়ামী লীগ: হানিফ

যে কারণে বুড়ো সাজলেন রনবীর


আজ দেশের জনগণ পর্দার অন্তরালে থেকে যারা কলকাঠি নেড়ে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিলেন, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার জন্য দাবি তুলছেন। আজ জনগণের মনে প্রশ্ন জেগেছে, আর প্রশ্নটা হল যারা পর্দার অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে কাজ করেছে, তাদেরকে কেন বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে না।

আমরা যদি সামগ্রীক ভাবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন বিচার বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখবো আমাদের মহান নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগত ভাবেই ছিলেন গরিব মানুষের বন্ধু এবং তিনি ছিলেন ভয়হীন চীত্তের অধিকারী। 

আমি জানি আমার মতো একজন সাধারণ মানের লেখকের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের বিচার বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। তবে এইটুকু বুঝতে পারি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষনের মধ্যেই আমাদের স্বাধীনতার বীজ রোপণ করা ছিল। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে দেশের মানুষ জাগ্রত হয়েছিল এই জন্য যে, মানুষ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে তাদের অন্তরের কথার প্রতিধ্বনি শুনতে পেয়েছে।

তাই বলছিলাম, আমাদেরকে ধরে নিতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে বাঙ্গালীর মুক্তির ইতিহাস লিখতে গেলে যে বিষয়টার ওপর জোর দিতে হবে, তা হল বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। আমার মনে হয় বাঙ্গালীর অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলনেরই প্রেরণা হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। এ ব্যাপারে মনে হয় না কেউ বিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

শরদিন্দু ভট্টাচার্য্য টুটুল-আইনজীবী, কবি, গল্পকার

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন মোদী

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন মোদী

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।  
শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকালে নরেন্দ্র মোদী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এসময় শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন তিনি।


শাপলাচত্বর থেকে প্রিজনভ্যানে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

উত্তাপের মধ্যে শাহরুখের পাশাপাশি সাকিব!

এবার পুলিশভ্যানে বসেই লাইভে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল (ভিডিও)


এর আগে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।


শাপলাচত্বর থেকে প্রিজনভ্যানে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

উত্তাপের মধ্যে শাহরুখের পাশাপাশি সাকিব!

এবার পুলিশভ্যানে বসেই লাইভে ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল (ভিডিও)


এ সময় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ত্রিশ লাখ শহীদ, দুই লাখ সম্ভ্রম হারানো মা-বোন, জাতীয় চার নেতা ও ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে স্পিকার কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

news24bd.tv/আলী

 

পরবর্তী খবর

২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী নয় বাঙালী সৈন্যরা দখল করে চট্টগ্রাম শহর

অন্তরা বিশ্বাস


২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী নয় বাঙালী সৈন্যরা দখল করে চট্টগ্রাম শহর

২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী নয় বাঙালী সৈন্যরা দখল করে চট্টগ্রাম শহর। চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার আনে নিজেদের দখলে। ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম সেই মিশনের নেতৃত্ব দেন। এক নম্বর সেক্টরের এই কমান্ডার আরও অগনিত যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন মুক্তিযুদ্ধের সময়। 

২৪শে মার্চ, ১৯৭১। রাত্রিবেলা। চট্টগ্রামে বিদ্রোহ করেন বাঙালী সেনারা। তাদের নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে পাকিস্তানীরা আক্রমণ করবে। তাই তিনিই আগে পাকিস্তানীদের ওপর আক্রমণ করতে চাইলেন। কিস্তু সেনাবাহিনীর কিছু বাঙালী অফিসার তখনই আক্রমণে রাজি হলেন না। ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম তখন তার সৈন্যদের অপেক্ষা করতে বললেন। তখন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এ অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।


‘স্ফুলিঙ্গ’ ভালো লাগলে অন্যদের দেখতে বলুন: তৌকীর আহমেদ

নারী পুলিশকে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

দৃষ্টিনন্দন ১৬ পরীর পালং খাট, দাম হেঁকেছেন কোটি টাকা

প্রেমিকা ছেড়ে যাওয়ায় ফেসবুকে স্টাট্যাস দিয়ে জাবি ছাত্রের আত্মহত্যা


পরের দিন ২৫শে মার্চ। রাত আটটার পরে খবর পেলেন যে পাকিস্তানীরা ঢাকায় আক্রমণের প্রস্ততি নিচ্ছে। সাথে সাথে তিনি চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার দখল করেন।

২৬শে মার্চ ভোর বেলা। তাদের ওপর হেলিকপ্টার দিয়ে আক্রমণ করে পাকিস্তানী সৈন্যরা। বিকেলে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে আসতে থাকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানী সৈন্য। খবর পেয়ে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম দলবল নিয়ে পথেই অ্যামবুশ করেন। পিছু হটে পাকিস্তানী সৈন্যরা। ২রা এপ্রিলের পর পাকিস্তানীরা আবার চট্টগ্রাম দখল করে নেয়।

তখন রফিকুল ইসলাম ভারতের ত্রিপুরায় যান। সেখানে ভারতের কাছ থেকে আরও অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবস্থা করে ফিরে আসেন চট্টগ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে অগনিত যুদ্ধ পরিচালনা করেন ক্যাপ্টেন তিনি। 

news24bd.tv আয়শা 

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস

অন্তরা বিশ্বাস

একাত্তরের ২৩ শে মার্চ পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে পালিত হয় প্রতিরোধ দিবস। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানের পরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জনস্রোত যায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে। সেদিনের সেই ঘটনাপ্রবাহের কথা নিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নূরে আলম সিদ্দিকী।

২৩ শে মার্চ ১৯৭১। ঢাকার পল্টন ময়দানে এক কুচকাওয়াজের আয়োজন করে তখনকার ছাত্রলীগ। পল্টন ময়দানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি বাজানো হয়। সঙ্গে উত্তোলন করা হয় সবুজ লালের মাঝে হলুদ মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা। এরপর ব্রিগেডের একেকটি দল এসে মঞ্চে উপবিষ্টদের অভিবাদন জানাতে থাকে। সেদিন মঞ্চে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় চার খলিফা নামে খ্যাতদের অন্যতম ছাত্রলীগের তখনকার সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী।


আরও পড়ুনঃ


নেত্রকোনায় বেগুনের বাম্পার ফলন

সাকিবকে ধন্যবাদ আলোচনাটা শুরু করার জন্য

‘নেত্রী দ্য লিডার’ এর জন্য গোফ ফেলেও ভাইরাল অনন্ত জলিল

পত্রিকার সাংবাদিকগুলো বিসিএস ক্যাডার চাকরিটাকে বিশাল কিছু বানিয়ে ফেলেছেন


নূরে আলম সিদ্দিকী দলবলসহ পতাকা নিয়ে যান বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসার সামনে। সেখানে বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানাতে উপস্থিত হয় অগনিত মানুষ। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা আসেন। ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে নূরে আলম সিদ্দিকী বঙ্গবন্ধুর হাতে পতাকা তুলে দেন।

পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে সেদিন প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। সেদিন বিমানবন্দর ভবন, প্রেসিডেন্ট ভবন ও লাটভবন ছাড়া আর কোথাও ছিল না পাকিস্তানের পতাকা। রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি ভবনসমূহে, বাড়িতে, গাড়িতে কালো পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

বৈষম্যহীন সমাজ এখনও হয়নি বাংলাদেশে: কামাল হোসেন

তৌহিদ শান্ত

বৈষম্যহীন সমাজ এখনও হয়নি বাংলাদেশে: কামাল হোসেন

“আজ এবং ঠিক এই মুহুর্ত থেকেই আমরা স্বাধীন, আমরা বাঙালি এখন ঐক্যবদ্ধ, তারা যুদ্ধ করবে- জয় সুনিশ্চিত”। একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাত ৯টায় কামাল হোসেনকে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঐ দিন শেষবারের মতো ৩২ নম্বরের বাড়িতে যান তিনি। 

ইয়াহিয়া আর ভুট্টো ঢাকা ছাড়লেন সেনা পাহাড়ায়- কামাল হোসেন তখনই বুঝেছিলেন ভয়ঙ্কর কোন ‘ষড়যন্ত্র’ প্রস্তুত হচ্ছে বাঙালীর জন্য।

এখন অনেক বয়স মুক্তিকামী এই বাঙালীর। অনেক কিছুই স্মৃতিতে ঝাপসা। ইতিহাসের স্বাক্ষী নিজেই, ভুল যেনো না হয় টেনে নিলেন নিজের বই। বললেন, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম আর ব্যবসায়ী মূসাকে নিয়ে ২৫শে মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে রওনা হন তাজউদ্দিন আহমেদকে তুলে নিতে।পথেই ৩২ নম্বর, বাঙালীর মুক্তির স্বপ্ন যে বাড়ি। শেষবারে মতো গেলেন বঙ্গবন্ধুর কাছে।


 

কঠোর নিয়ন্ত্রণ কৌশলে সরকার, হবে না ছুটি বা লকডাউন

ইতিহাস গড়ার ম্যাচে আলো ছড়ালেন মেসি

১২ দেশ থেকে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল পাকিস্তান

‘বিয়ের আশ্বাস পেয়ে’ স্বামীকে তালাক, চার বছর ধরে চলে ধর্ষণ


কামাল হোসেনের আর বুড়িগঙ্গা পাড়ি দেয়া হয়নি। দুই দিন পরেই ধরা পড়েন সেনাবাহিনীর কাছে। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে।

ষড়যন্ত্রকারী ভুট্টো শেষ মুহুর্তে বঙ্গবন্ধুর কাছে নতজানু হয়েছিল, প্রস্তাব দিয়েছিল কোনভাবে, কোন দিক দিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যায় কি না?

পাকিস্তান টেকে নি কারণ শোষণ নির্যাতন নিষ্পেষণ আর বৈষম্যের কারণে। কিন্তু কামাল হোসেন মনে করেন হয়তো সেই নির্যাতন-শোষণ এখন নেই। তবে বৈষম্যহীন সমাজ এখনও হয়নি বাংলাদেশে।

news24bd.tv আয়শা 

 

পরবর্তী খবর