সাত মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যে কারণে

সোহেল সানি

সাত মার্চের ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল যে কারণে

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ যখন জাতিসংঘ কর্তৃক "বিশ্বের ভাষণ" বলে সুমহান মর্যাদার অভিষিক্ত। কিন্তু সেই ভাষণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল কিভাবে, ঘরে-বাইরে কি কি ঘটেছিল এবং যেসব বিষয় মনস্তাত্ত্বিকভাবে বঙ্গবন্ধুকে প্রস্তুত করে তুলেছিল, সেসবের অনেক অজানা-অপ্রকাশিত ঘটনাই চমকপ্রদ।

মহান মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রে সেসব খন্ড খন্ড চিত্রের দেখা না মিললেও তা সামগ্রিক ইতিহাসেরই উপাদান। সেসব তথ্য-উপাত্ত ইতিহাসকে সমৃদ্ধি করতে পারে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার বিকৃত ইতিহাস রোধে অবিস্ফোরিত অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখতে পারে। পহেলা মার্চ থেকে টানা সপ্তাহব্যাপী রাজনীতির অন্দরমহলে ঘটে যাওয়া সেসবের ঘটনার বর্ণনা দেয়ার চেষ্টা করছি।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আসা এ ঘোষণাকে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ্যদলের নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাগত জানালেও সংখ্যালঘু দলের নেতা পিপলস পার্টি প্রধান জুলফিকার আলি ভুট্টো বেঁকে বসেন। তিনি পেশোয়ারে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, "মুজিব ৬ দফার পক্ষে আপোষ না করলে তার দল অধিবেশনে যোগদান করবে না।"

১৮ ফেব্রুয়ারি বললেন, "ঢাকা পশ্চিম পাকিস্তানি সদস্যদের জন্য কসাইখানা হবে।" প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহবান জানান অধিবেশন স্থগিত করতে। এসময় প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর সঙ্গে শলাপরামর্শ করতে গোপনে সিন্ধু প্রদেশের লারকানায় পাখী শিকারে গেছেন মর্মে খবর রটে যায়। অধিবেশনের দুদিন আগে পহেলা মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে অধিবেশন বাতিল ঘোষণা করেন। ওই মূহুর্তে বঙ্গবন্ধু হোটেল পূর্বাণীতে শাসনতন্ত্রের খসড়া তৈরিতে সহকর্মীদের সঙ্গে সকাল নয়টা থেকে বৈঠক করছিলেন। সেই নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামান, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও ডঃ কামাল হোসেন। 

পহেলা মার্চ দুপুর বারোটার দিকে তাঁরা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বাতিলের খবরটি পান। প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার বিরুদ্ধে হাজার হাজার ছাত্রজনতা রাস্তায় নেমে পড়েন। বঙ্গবন্ধু হোটেল পূর্বাণীর সামনে ছাত্রজনতার সম্মুখে হাজির হয়ে বলেন, অধিবেশন বাতিল করার ঘোষণা গভীর ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি। বাঙালিরা এই ষড়যন্ত্রকে জীবন দিয়ে হলেও প্রতিহত করবে। ২ মার্চ ঢাকায়, ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল এবং ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে ছাত্র-জনতাকে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

৩ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এডমিরাল আহসানকে পদচ্যুত করে তার স্থলে জেনারেল ইয়াকুব খানকে ভারপ্রাপ্ত করেন। ৪ মার্চ থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত একনাগাড়ে দেশব্যাপী স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হয়। ৪ মার্চ ইয়াহিয়া খান জেনারেল টিক্কা খানকে গভর্নর করেন। ৫ মার্চ টিক্কা খান ঢাকায় পৌঁছেন। ৬ মার্চ শপথ নেয়ার কথা থাকলেও জনরোষের মুখে  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বি এ সিদ্দিক তাকে শপথ পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। ৬ মার্চ বিকেল পাঁচটায় প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন এমন বার্তা ঘোষণা করা হয় ৫ মার্চ।

স্বভাবতই গোটা দেশবাসীর দৃষ্টি তখন ভাষণের দিকে। বঙ্গবন্ধু ওদিন তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। এটা ৫ মার্চের কথা। হঠাৎ ঢাকাস্থ পূর্বাঞ্চলীয়  সামরিক প্রশাসক জেনারেল ইয়াকুবের ফোন আসে। বঙ্গবন্ধুর জামাতা ডঃ এম এ ওয়াজেদ মিয়া ফোন রিসিভ করলে ওপাশ থেকে বলা হয় শেখ সাহেবের সঙ্গে মাননীয়  প্রেসিডেন্ট কথা বলবেন। বঙ্গবন্ধু "কিছু শুনতে পাচ্ছি না, কিছু শুনতে পাচ্ছি না" বলে প্রেসিডেন্টকে বলেন। একটু পরে জেনারেল রাও ফরমান আলীর ফোন।

বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্টের কন্ঠ শুনে বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতি অবহিতপূর্বক তদন্ত কমিশন গঠন ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের কথা বলেন। ৬ মার্চ বিকেলে প্রেসিডেন্টের ভাষণ শোনার জন্য বঙ্গবন্ধু একটি ট্রানজিস্টার নিয়ে তাঁর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে বলেন ভাষণটি টেপ করে রাখার জন্য। প্রেসিডেন্ট বলেন, আওয়ামী লীগের একগুয়েমির জন্য ৩ মার্চের অধিবেশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। ১০ মার্চ ঢাকায় গোলটেবিল সম্মেলন ডেকে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের প্রশ্নে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠানের কথাও বলেন তিনি।

ইয়াহিয়া ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবানের কথাও ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ হওয়ার পর দরজা খুলে ব্যক্তিগত সহকারি মোহাম্মদ হানিফকে শীর্ষ ছয় নেতাকে ডেকে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘন্টাব্যাপী আলোচনা শেষে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর পর পরই বঙ্গবন্ধুর মুখোমুখি হন শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ভাষণের জবাব দিতে ইংরেজিতে একটি ইশতেহার তৈরি করেন তাজউদ্দীন আহমদ ও ডঃ কামাল হোসেন। যাতে বলা হয় "শহীদের রক্তে রঞ্জিত রাস্তার রক্ত এখনো শুকোয়নি। পবিত্র রক্তের ওপর পা রেখে ১০ মার্চ গোল টেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগ যোগদান করতে পারেনা।" ৭ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে লোকে লোকারণ্য। 

বঙ্গবন্ধু প্রথমেই সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এএইচএম কামরুজ্জামান, মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক ও ডঃ কামালের সঙ্গে লাইব্রেরি রুমে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর বৈঠকে মিলিত হন যুব-ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে। এরা হলেন শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, নূরে আলম সিদ্দিকী, আসম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন। দুপুরে এসব বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পক্ষে মত দেন। বঙ্গবন্ধু এরপর সমবেত সকলের উদ্দেশ্যে শুধু বলেন, আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। ছাত্রজনতার দাবি অনুযায়ী চার দফা দাবির প্রতি সমর্থনের কথাও বলেন বঙ্গবন্ধু।

দুপুরে আহারের জন্য নেতারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। বঙ্গবন্ধু আহার শেষে বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এমন সময় ডঃ কামাল প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্রের খসড়াটি বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন। একান্ত সহকারি মোহাম্মদ হানিফকে টাইপ করতে দিয়ে ডঃ কামাল তাঁর বাসায় চলে যান। বিকেল  তিনটায় আসেন খন্দকার মোশতাক। পরক্ষণেই ডঃ কামাল।

বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার আগে চারদফা ঘোষণাপত্রটি জনসভাস্থলে বিতরণ করার নির্দেশ দেন ছাত্র নেতাদের। দফাগুলো হলো এক, সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, দুই যাদেরকে হত্যা করা হয় তা তদন্ত করতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিশন গঠন, তিন, সামরিক আইন প্রত্যাহার ও চার, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার কাছে রাষ্ট্রের ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

এরপর বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দান অভিমুখে একটা ট্রাকে করে রওয়ানা হন। ওই ট্রাকে ছিলেন গাজী গোলাম মোস্তফা, শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন প্রমুখ।

পেছনের ট্রাকে ছিলেন আসম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ, মোস্তফা মোহসীন মন্টু, কামরুল আলম খান খসরু ও মহিউদ্দিন আহমেদ। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে পৌঁছার আগেই সেখানে হাজির হয়ে যান বঙ্গবন্ধুর জামাতা এম এ ওয়াজেদ মিয়া, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা, শেখ জেলি (শেখ হাসিনার খালাতো বোন) ও এটিএম সৈয়দ হোসেনের বড় মেয়ে শেলি।

সেদিনের রেসকোর্স ময়দানে নৌকা আকৃতির সভামঞ্চটি স্থাপন করা হয়েছিল বর্তমান শিশুপার্কের দক্ষিণ -পূর্ব অংশে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্প্রচারিত হবে রেডিও বারবার এমন ঘোষণা হচ্ছিল। শেখ হাসিনা এ কারণে একটি রেডিও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে রেডিও নিস্তব্ধ হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সেই জ্বালাময়ী ভাষণে "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম.. উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাখো লাখো জনতার জনসমুদ্র থেকে জয় বাংলা শ্লোগান ভেসে আসে। বঙ্গবন্ধুও প্রত্যুত্তরে জয়বাংলা বললে এর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয়ে আকাশবাতাসকে অনুরণিত করে তোলে।

বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দান থেকে বাড়িতে ফেরেন। রাত আটটার দিকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন জনপ্রিয় বাংলা সংবাদ পাঠক ইকবাল বাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকিস্তান রেডিও ঢাকাস্থ কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তারা জানান, সেনাবাহিনীর হাইকমান্ডের নির্দেশে তারা ভাষণ সম্প্রচার করতে পারেনি। এখন ভাষণ সম্প্রচারের অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করার কথা বলেন তারা। ফলে সকল অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ৮ মার্চ সকাল আটটায় হঠাৎ পাকিস্তান রেডিও ঘোষণা করে যে, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ নয়টায় প্রচার করা হবে।

বঙ্গবন্ধু রাতে সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ছেলে-মেয়ে শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেলের উপস্থিতিতে বলেন, " আমার যা বলার তা প্রকাশ্যে বলে ফেলেছি -সরকার এখন আমাকে যেকোনো মূহুর্তে হয় গ্রেফতার নয়তো হত্যা করবে। আজ থেকে প্রতিদিন আমার সঙ্গে খাবে। ২৪ মার্চ পর্যন্ত সবাই এক সঙ্গে খেয়েছেন। কিন্তু ২৫ মার্চ ব্যতিক্রম ঘটে। বঙ্গবন্ধু রাত ১১টা পর্যন্ত বাড়ির নীচতলায় আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করেন। ৭ মার্চের ভাষণের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। কার্যত বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:


চাকরি দেবে এসিআই লিমিটেড

ইরানের রেলপথ যাবে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : ইন্দিরা থেকে শেখ হাসিনা

নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সমূহ


৯ মার্চ পল্টন ময়দানে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বলেন, "প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে বলি, অনেক হয়েছে আর নয়। তিক্ততা বাড়াইয়া আর লাভ নাই। লা কুম দ্বিনুকুম ওয়ালইয়া দ্বিন(তোমার ধর্ম তোমার, আমার ধর্ম আমার) - এর নিয়মে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা স্বীকার করিয়া লও। মুজিবের নির্দেশমত আগামী ২৫ তারিখের মধ্যে কোন কিছু করা না হইলে আমি শেখ মুজিবুর রহমানের সহিত হাত মিলাইয়া ১৯৫২ সালের ন্যায় তুমুল আন্দোলন শুরু করিব। খামাকা কেহ মুজিবকে অবিশ্বাস করিবেন না, মুজিবকে আমি ভালো করিয়া চিনি। ১৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ঢাকায় আসেন। ১৬ ও ১৭ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাউসে (বর্তমান সুগন্ধা)  ইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠক হলো। ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ছাত্রজনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। কারফিউ জারি করা হয়। ২০ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ও ইয়াহিয়ার পরামর্শদাতাদের মধ্যে পৃথক বৈঠক হয়। ইতিমধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের ৩৫ জন জাতীয় পরিষদ সদস্য অধিবেশনে যোগদান করতে ঢাকায় এসে পৌঁছেন।

বঙ্গবন্ধু বাড়ি আক্রমণের আশঙ্কা করে ডঃ ওয়াজেদকে বাসা নিতে বলেন। সাত মসজিদ রোডের ওপর ধানমন্ডির (পুরাতন) ১৫ নম্বর রোডস্থ (নতুন ৮/এ-১৭৭ নম্বর) নীচতলাটি মাসিক ৯ শত টাকায় ভাড়া নেয়া হয়। ২১ মার্চ জুলফিকার আলি ভুট্টো ঢাকায় এসে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ওঠেন। ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে তিনি গোপন শলাপরামর্শ করেন। ২২ মার্চ বঙ্গবন্ধু বলেন, " লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এদিন মুজিব-ভুট্টো বৈঠক হয়। একই দিন ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো বৈঠক হলে আবারও সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বলা হয় ২৫ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বিস্তৃত আলোচনার জন্য বাতিল করা হলো।

বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ থেকে অবরোধ আন্দোলন শুরু করার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানান। ২৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের জনসভায় "আমার সোনার বাংলা" গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে বাজিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। নূরে আলম সিদ্দিকী, আসম আব্দুর রব, শাজাহান সিরাজ ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন ছিলেন ছাত্রলীগের প্রধান নেতা। গাঢ় সবুজ কাপড়ের মাঝখানে লাল গোলাকার বলয়ের ভেতর সোনালী রং-এ অঙ্কিত বাংলাদেশের মানচিত্রসহ তৈরি করা পতাকাটি বঙ্গবন্ধুর হাতে তুলে দেন তাঁর বাড়িতে এসে। সামরিক কায়দায় একটি বিশেষ দল বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানায়। ওদিন সচিবালয়, হাইকোর্ট ভবনসহ সর্বত্র বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের পক্ষে ২ মার্চ ডাকসুর ভিপি আসম আব্দুর রব প্রথম পতাকাটি উত্তোলন করেন। ৩ মার্চ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করেন।

২৫ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু নিজ বাড়িতে  নেতাদের সঙ্গে কাটান। সবার চোখে মুখে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে চলে যেতেন বলেন। বিকেল তিনটায় শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষে ছিলেন। রাত আটটার আবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী ও কামরুজ্জামান। রাত ১১ টার  দিকে সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে সিরাজুল আলম খান, আসম আব্দুর রব ও শাজাহান সিরাজের সঙ্গে কথা বলেন।

লন্ডন আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া চৌধুরীর ভাই পরিচয় দিয়ে ঝন্টু নামের এক ব্যক্তি মহিউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর মুখোমুখি হন। সে জানায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। আপনাকে হত্যা করার জন্য তারা আসছে। বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনাকে  বলে তোমরা চলে যাও।আমার অন্যত্র  চলে যাওয়ার উপায় নেই। তারা মারতে চাইলে আমাকে এ বাড়িতেই মরতে হবে । কামাল চলে গেছে। জামাল ওর মাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। মুখে একথা শুনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। একদিকে গণহত্যার তান্ডবলীলা, আরেকদিকে বঙ্গবন্ধুর গ্রেফতারের ইতিহাস। গ্রেফতারের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক বার্তা আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

রোজিনার মুক্তি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই

জুলহাস আলম

রোজিনার মুক্তি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই

জুলহাস আলম

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম দেশকে ভালোবাসেন। রোজিনা আমাদের বন্ধু, আমরা একই ব্যাচের শিক্ষার্থী। 

একবার আমাকে নক করে বললেন: ‘জুলহাস ভাই, বিদেশে যাবার জন্য আপনার কাছ থেকে একটা রিকমেন্ডেশন লাগবে, যদি সম্ভব হয় তাহলে কৃতজ্ঞ থাকবো।’ 

আমি ভাবলাম হয়তো বিদেশ চলে যাবেন একেবারে। অনেকেই যাচ্ছেন। উত্তরে রোজিনা বললেন: ‘না, না, ভাই, নর্থ আমেরিকায় একটা সাংবাদিকতার উপর একটা স্কলারশীপের চেষ্টা করবো, সেজন্য একটা রিকমেন্ডেশন দরকার, আপনার কাছ থেকে পেলে ভালো হয়।’ 

বললাম: ‘কোনো সমস্যা নেই, অবশ্যই দিব।’ 

তার বক্তব্যে পরিষ্কার আবেগ ছিল যে তিনি দেশকে ভালোবাসেন। বলছিনা যে, কেউ বিদেশে চলে গেলে তিনি দেশকে ভালোবাসেন না। 

আমার কাছে মনে হয়, দেশের মধ্যে বিদ্যমান সকল অরাজকতা, অন্যায়, দুর্নীতি, যা ইচ্ছা তাই থাকার পরও এবং বাইরে চলে যাবার সুযোগ থাকার পরও যারা এখানেই পড়ে থাকতে চান এবং থাকেন, তারা একটু বেশিই দেশপ্রেমিক। 

রোজিনাও সেই দলেই পড়েন। তাছাড়া নারী হয়ে এমন শক্তভাবে সাংবাদিকতা করার সাহস দেখানো অতো সহজ নয়। তার সকল চেষ্টা প্রশাসনের বড় কর্তাদের নানা অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির ভেতরে আঘাত করা। জনগণের সামনে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। সেটাকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। তার যে সাহস সেই সাহস আমাদের অনেকের আছে কি না সন্দেহ আছে আমার। 

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম প্রশাসনের অনেক কর্তা ব্যক্তির কমফোর্ট জোন এলোমেলো করে দেবার একজন সৈনিক। আর তার কাজের ফলে আমার ধারণা সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। 


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


যারা উনার চোখের সামনে পর্দা তুলে রাখতে চান যেনো সবকিছু তিনি দেখতে না পান, জানতে না পারেন, তারা একজন রোজিনা ইসলামকে সহ্য করতে পারবেননা, সেটাই কি স্বাভাবিক না? তাই তাকে শায়েস্তা করতে না পারলে বড় বড় নানা দুর্নীতির অভিযোগে নিমজ্জিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সেই দুষ্টচক্র শান্তি পায় কি করে? করোনা শুরু হবার পর থেকে এই মন্ত্রণালয় নিয়ে যত রকমের খবর বেরিয়েছে সেগুলোর পোস্ট মর্টেম করলেতো আর কিছুই বাকি থাকেনা। 

রোজিনার মুক্তি চাই, কোনো শর্ত ছাড়াই।

জুলহাস আলম, ব্যুরো চিফ, এপি

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রোজিনা আপার মুক্তি চাই

আশরাফুল আলম খোকন

রোজিনা আপার মুক্তি চাই

আজকের ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। দোষ কার, কে দায়ী তা জানিনা। তবে মনে হয়েছে, একজন পেশাদার সাংবাদিকের সাথে অন্যভাবে আচরণ করেও বিষয়টি সমাধান করা যেত। গুটি কয়েক কর্মকর্তার জন্য সবসময় সাংবাদিক বান্ধব শেখ হাসিনার সরকার আজ সমালোচনার মুখে। 

সাড়ে সাত বছর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কাজ করেছি। নিজে চোখে দেখেছি তিনি নিজে কতটা সাংবাদিক বান্ধব। সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য নিজে উদ্যোগী হয়ে কত কত কাজ করেছেন। 

এই রকম পরিস্থিতি আগেও হয়েছে। দুই পক্ষের সাথে কথা বলেই সমাধান হয়েছে। এমন অনেক সমাধান নিজেও করেছি। হয়তো কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি অথবা সাংবাদিকের সাথে কথা বলেছি। “পেশাদার” আবারো বলছি পেশাদার সাংবাদিকদের চেষ্টা করেছি ঝামেলামুক্ত রাখতে। 


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


সদিচ্ছা থাকলে অ-সমাধানযোগ্য কোন কিছুই পৃথিবীতে নাই। পেশাদার আর অ-পেশাদারদের সাথে আচরণ একরকম হওয়া উচিত না। রোজিনা আপার মুক্তি চাই।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

এক রিপোর্টারকে লাঞ্ছিত করেছি তাও সচিবালয়ে! ধিক, শত ধিক!

রউফল আলম

এক রিপোর্টারকে লাঞ্ছিত করেছি তাও সচিবালয়ে! ধিক, শত ধিক!

রউফল আলম

আমরা ছোট জিনিস চোখে দেখি না। তাই ব্যবহার করি মাইক্রোস্কোপ। খালি চোখে যা দেখা যায় না, মাইক্রোস্কোপের নিচে সেটা কি দারুণ দৃশ্যমান হয়ে উঠে। 

অনুসন্ধানী রিপোর্টগুলো মাইক্রোস্কোপের মতো কাজ করে। সমাজের সাধারণ মানুষ যেটা দেখে না, জানে না—অনুসন্ধান করে তৈরি করা রিপোর্টগুলো আমাদেরকে তা দেখতে, অনুধাবন করতে ও জানতে সাহায্য করে। এজন্যই মনে হয় বলা হয়—Fake news is cheap to produce. Genuine journalism is expensive. 

করোনার মহামারিতে দেশের স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রথম আলোয় রোজিনা ইসলামের রিপোর্ট পড়তাম! ভাবতাম এই মানুষটার সাহস অনেক। জাঁদরেল সাংবাদিক। 

যে সমাজে কথা বলাই সবচেয়ে বড়ো অপরাধ, সেখানে এমন রিপোর্ট করতে পারা মানুষটিকে নিশ্চয় অনেক ধকল পোহাতে হয়। রিপোর্টারকে না চিনেও তার প্রতি একটা শ্রদ্ধা জাগতো। 

এমন রিপোর্টারকে দুনিয়ার বহু সমাজ সম্মানিত করে। পুরস্কার দেয়! কারণ তারা যোদ্ধা। তারা আলোকিত দেশের স্বপ্নে যুদ্ধ করে। সর্বগ্রাসের হাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে কলম নিয়ে সংগ্রাম করে। কিন্তু এমন এক রিপোর্টারকে আমরা লাঞ্ছিত করেছি। তাও সচিবালয়ে! কী ভয়ংকর! কী বিভৎস! 


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


দেশের সাংবাদিকদের সততা নিয়ে যখন অনেক অভিযোগ, তখন এমন সাহসী রিপোর্টারকে লাঞ্ছিত করা মানে হলো সমাজকে আরো অন্ধকারে ঢেলে দেয়া। অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনাকে উৎসাহিত করা। সমাজের উপর গজবকে আরো তরান্বিত করা। ধিক, শত ধিক! 

রউফল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রোজিনার ঘটনা অন্য সাংবাদিকদের জন্যে সুস্পষ্ট বার্তা

আলী রিয়াজ

রোজিনার ঘটনা অন্য সাংবাদিকদের জন্যে সুস্পষ্ট বার্তা

একজন সাংবাদিককে সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে আটক করে, হেনস্তা করার পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। প্রথম আলো’র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হেনস্তা করা, তাঁকে আটক করার ঘটনা বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেননি। 

এই ঘটনার নিন্দা জানানোই যথেষ্ট নয়, এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতিবাদ এবং এই ধরণের নিপীড়নমূলক আচরণের জন্যে যারা দায়ী তাঁদের বিচার নিশ্চিত করার জন্যে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। 

দলীয় পরিচয়ে বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো এই বিষয়ে কিছু করবেন, বা বিবৃতি দেয়ার বেশি কোন ধরণের পদক্ষেপ নেবেন তেমন আশা করার কারণ নেই। কিন্ত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্তদের সকলেরই এই মুহূর্তে দরকার সম্মিলিত পদক্ষেপ নেবার কথা বিবেচনা করা। 

দেশের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে অবিলম্বে এই বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি, রোজিনা ইসলামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং এই ধরণের আচরণ বন্ধের নিশ্চয়তা আদায় করা। 

রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনা সাংবাদিকদের ওপরে হামলার নতুন অধ্যায়, কিন্ত নতুন ঘটনা নয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়েই সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছেন। তাঁদের পাশে দাড়ানোর লোক পর্যন্ত নেই। সাংবাদিকদের অনৈক্য, দলীয় বিভক্তি এবং পেশাদারী মনোভাবের অনুপস্থিতি এই ধরণের নির্যাতন নিপীড়নকে ক্রমাগতভাবে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করেছে।


সাংবাদিক রোজিনার পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইবে পুলিশ 

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


এই ঘটনা এবং আগেও অসংখ্য ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপরে নির্যাতনের কারণ স্পষ্ট – যখনই কোনও সাংবাদিক ক্ষমতাসীনদের – স্থানীয় বা জাতীয় পর্যায়ে–জবাবদিহির মুখোমুখির চেষ্টা করেছেন সেই সময়েই তাঁদেরকে হয়রানি, নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। জবাবদিহির অনুপস্থিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে কোনও ধরণের জবাবদিহি দাবি করলেই তার পরিণতি হয় নির্যাতন, নিপীড়ন। এই ঘটনা অন্য সাংবাদিকদের জন্যে সুস্পষ্ট বার্তা – তাঁরা সেটা শুনতে/বুঝতে পারছেন কিনা সেটাই আমার প্রশ্ন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দলবদ্ধভাবে একজন নাগরিকের সাথে মাস্তানী করেছেন

শওগাত আলী সাগর

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দলবদ্ধভাবে একজন নাগরিকের সাথে মাস্তানী করেছেন

হে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের  কর্মকর্তারা।রোজিনা ইসলাম যদি আপনাদের ভাষ্যমতো কোনো গোপনীয় নথি ‘চুরি’ করে থাকে, তা হলেও আপনারা তাকে আটকে রাখতে পারেন না, হেনস্তা করতে পারেন না। 

সচিবালয়ে পুলিশ আছে, আপনাদের কাজ হলো পুলিশ ডাকা। পুলিশ আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হলে করবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় সচিবালয়ে তাকে আটকে রেখে আপনারা অপরাধ করেছেন। তার গায়ে হাত দিয়ে অপরাধ করেছেন। তাকে শারীরিক, মানসিকভাবে নিগৃহীত করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন, অপরাধ করেছেন। 

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দলবদ্ধভাবে রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের সাথে মাস্তানী করেছেন, নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। 

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নয়, একজন নাগরিক রোজিনা ইসলাম সরকারি একটি দপ্তরে গিয়ে সংঘবদ্ধ মাস্তানীর শিকার হয়েছেন। এর প্রতিকার হওয়া দরকার।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এই ধরনের একটি মামলা হওয়া দরকার। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন- এমন কোনো আইনজীবীও আদালতে এই মামলাটি করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয়, সম্মানিত কোনো বিচারক যদি নিজে থেকে এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেন।
 
এটি কেবল সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয় নয়, কেবল মত প্রকাশের বিষয় নয়। এটি একজন নাগরিকের রাষ্ট্রীয় কোনো দপ্তরে নিজেকে নিরাপদ ভাববার বিষয়। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সংঘবদ্ধ মাস্তানী বন্ধ করার বিষয়।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর