ভবিষ্যতে কাজের ধরণ বদলে যাবে যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

ভবিষ্যতে কাজের ধরণ বদলে যাবে যেভাবে

করোনা আমাদের অনেক কিছুই শিখিয়ে দিয়েছে। আমরা তাবৎ দুনিয়ার কাজ যে ঘরে বসেই করতে পারি সেটা করোনা হাতে কলমে করে বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। বিশ্বের অনেক নামি দামি প্রতিষ্ঠান এখন ঘরে বসেই চলে। অফিস যে সব কাজের জন্য দরকার নেই সেটা এখন আমাদের আর বুঝতে বাকি নেই। 

করোনাকাল শেষেও পৃথিবীর অনেক প্রতিষ্ঠান হয়তো আর কখনোই অফিসে ফিরে যাবে না। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে বাড়িতে বসেই যে কাজ করা যায়, সেটা করোনাকালে আমাদের জানা হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এমন আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে কাজের ধরনে। মূলত প্রযুক্তির উন্নয়নই এর পেছনের কারণ।

কোনো প্রতিষ্ঠান হয়তো একটু আগেভাগেই ‘প্রযুক্তিময়’ হবে, কেউবা একটু দেরিতে। তবে পরিবর্তনের ধাক্কা যে অনিবার্য, সেটা করোনাকালে আরও স্পষ্ট হয়েছে। পরিবর্তন বা নতুন নতুন পেশার আগমনের পর নিজেকে তৈরি করার চেয়ে, আগে থেকেই নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হতে হবে। কী কী পরিবর্তন আসতে পারে, সে সম্পর্কেও একটা ধারণা দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।

ভবিষ্যতে যেকোনো জায়গা থেকেই কর্মীদের কাজ, প্রকল্প জমা দেওয়ার চল আরও বাড়বে। এক দশক আগেও কাজের জন্য অফিস-টেবিল-মিটিংরুমের প্রয়োজন ছিল ব্যাপকভাবে। বিশ্বব্যাপী স্বাধীন পেশাজীবীর সংখ্যা বাড়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। 


ওমান সাগরে তৈরি হবে ইরানের সর্ববৃহৎ সমুদ্রবন্দর

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে তাই ঘুম হয়নি শ্রাবন্তীর

ট্রাকচাপায় চবি আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্রের মৃত্যু

শতকোটি টাকার মানহানির মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন শমী কায়সার


এখন শহর বা দেশনির্ভর বিশেষ বিশেষ কাজ বা পেশার বিকাশ ঘটতে দেখা যায়। ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে বিভিন্ন অঞ্চল বা এলাকার পরিবেশ ও জনগোষ্ঠীর দক্ষতার ওপর নির্ভর করে কাজ ও পেশার বিকাশ ঘটবে। যুক্তরাষ্ট্রে আমাজনের মতো প্রতিষ্ঠান এ রকম এলাকাভিত্তিক কর্মীদের কাজের সুযোগ তৈরি করছে। 

মুক্ত পেশাজীবী বা ফ্রিল্যান্সাররা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় বড় কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। স্বল্পমেয়াদি কাজ, অন ডিমান্ড পজিশনের জন্য কর্মী নিয়োগ বাড়বে আরও। এভাবে কাজের কারণে কর্মীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কাজ বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজের পরিমাণ ও দক্ষতা অনুসারে কর্মী নিয়োগের সুযোগ পাবে। অ্যাডোবি, উবার, ডেলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে এমন ধরনের কাজের সুযোগ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ভবিষ্যতে নানা ধরনের ‘স্মার্ট’ কাজের সংখ্যা ও পরিধি বাড়বে। একদিকে যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর কাজের ধরন বাড়বে, তেমনি মানুষ ও যন্ত্রের সংযোগে নতুন নতুন কাজ তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্বাহী ও কর্মীদের আরও বেশি সৃজনশীল কাজে যুক্ত করবে। রোবটিকস ও অটোমেশনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে মানুষের অংশগ্রহণ কমে আসবে।

পশ্চিমা দুনিয়ায় অনেক দিন ধরেই কাজ ও জীবনের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কর্মী ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে কাজের প্রকৃতিতে পরিবর্তন আনবে প্রতিষ্ঠানগুলো। জলবায়ু পরিবর্তন, সাম্য-বৈষম্যহীন সমাজের ধারণা কর্মস্থলের পরিবেশ ও কাজের ধরনে পরিবর্তন আনবে। ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য যেমন সততা, দায়িত্বশীলতা, অন্য দেশ, জাতি-বর্ণের মানুষের প্রতি সম্মান, প্রতিষ্ঠানের তথ্যের নিরাপত্তা-গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিশীল আচরণ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে নিয়োগের ক্ষেত্রে।

ভবিষ্যতে কাজের ধরণ পুরোপুরি পাল্টে যাবে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষ অনেক জটিল কাজও ঘরে বসে সহজেই করে ফেরতে পারবে। আবার আরামদায়ক কাজের পরিবেশ, কর্মীবান্ধব কাজ, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্মার্ট কাজের ধরণ হবে। এরপর হয়ত মানুষ আর নয়টা পাঁচটা অফিস করবে না। 

news24bd.tv আয়শা

পরবর্তী খবর

বাঁশের তৈরি নান্দনিক মসজিদ ইন্দোনেশিয়ার ‘সাকা বুয়ানা’

হারুন আল নাসিফ

বাঁশের তৈরি নান্দনিক মসজিদ ইন্দোনেশিয়ার ‘সাকা বুয়ানা’

ইন্দোনেশিয়ায় বাঁশের তৈরি অনেক স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য সুন্দর মসজিদও রয়েছে। সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো একটি অনিন্দ্য সুন্দর মসজিদ। মসজিদটি  দেশটির জাভা দ্বীপের সর্বপশ্চিমের প্রদেশ বান্টেনের সেরাং রিজেন্সির ক্রাগিলান জেলায় অবস্থিত।

২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি সোমবার মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। এর নাম রাখা হয়েছে সাকা বুয়ানা মসজিদ। সংস্কৃত শব্দ ‘সাকা’ অর্থ স্তম্ভ এবং ‘বুয়ানা’ অর্থ বিশ্ব। সুতরাং সাকা বুয়ানা অর্থ দাঁড়ায় ‘বিশ্বের স্তম্ভ’।

ইন্দোনেশিয়া বাঁশ ফাউন্ডেশন ২৬০ বর্গমিটার আয়তনের এ মসজিদটিকে ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম বাঁশের মসজিদ বলে অভিহিত করেছে।

স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রজ্ঞার প্রয়োগে এটিকে অনন্য করে তুলতে এবং নৈসর্গিক ছোঁয়া দিতে মসজিদ ভবনের নকশায় বাঁশকে প্রধান উপাদান হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কাঠামো নির্মাণের ৬০ শতাংশ বাঁশের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে।

মসজিদের দেয়াল, ছাদ ও মিম্বর বেতের কারুকাজ ও বার্নিশ করা বাঁশ দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে নির্মাণ বরা হয়েছে। এর মিনারটিও তিনটি ধাপসহ বাঁশের কাঠামো দিয়ে তৈরি এবং মিনারের চূড়ায় ‘আল্লাহ’ শব্দটির চারুলিপি এবং একটি লাউড স্পিকার স্থাপন করা হয়েছে।

মসজিটি পশ্চিম জাভানিজ স্থাপত্য শৈলীতে ‘পারাহু নাংকুব’ বা উল্টো নৌকার মডেলে নির্মাণে করা হয়েছে। মসজিদে রয়েছে একটি সুদৃশ্য গাজেবো বা আটকোণা দেহলি, যাতে কাঁচের অলঙ্করণ করা ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মাদ’ শব্দদু’টি মুসল্লিদের অভ্যর্থনা জানায়।

মসজিদের পুরো অভ্যন্তর ভাগে বাঁশের অলঙ্করণ ব্যবহার করা হয়েছে। সজ্জায় রয়েছে একটি ইসলামিক দর্শন, মিহরাবে অবস্থিত পাঁচটি সূঁচালো বাঁশ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ এবং বৃত্তাকার হিজাবের আকারে ছয়টি বাঁশ ঈমানের ছয়টি স্তম্ভ মূর্ত করে তোলে। এছাড়া মিহরাবের দুটি বড় বাঁশের খুঁটি কলেমা শাহাদতের দুটি বাক্যের প্রতিনিধিত্ব করে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

বেলুন-গলা ফ্রিগেটবার্ড: সমুদ্রের রূপবান ডাকু পাখি

হারুন আল নাসিফ

বেলুন-গলা ফ্রিগেটবার্ড: সমুদ্রের রূপবান ডাকু পাখি

ফ্র্রিগেটবার্ড একটি বৃহদাকার সামুদ্রিক পাখি। এর কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্র্রিগেটবার্ড প্রজাতিটি বৃহত্তম। মূলত গ্যালাপোগাস ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফ্রিগেটবার্ড দেখা যায়। তবে ফ্লোরিডা, গাল্ফ কোস্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইকুয়েডরের মধ্যবর্তী আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলেও এদের দেখা মেলে।

এদের দেহের পালক তামাটে-কালো এবং পা ধূসর-কালো। মাদি ফ্রিগেটবার্ডের চেয়ে মর্দা ফ্রিগেটবার্ডকে সহজে চেনা যায়। কারণ এদের ঠোঁটের নিচে একটি উজ্জ্বল লাল রঙের থলে থাকে। তারা এটি বলুনের মতো ফুলিয়ে সঙ্গীকে আকর্ষণের চেষ্টা করে থাকে। মাদি ফ্রিগেটবার্ডের গায়ের রঙ কালো। পা গোলাপি। বুক সাদা। পাখায় তামাটে ফুট থাকে। গলার নিচে থলে থাকে না। তবে এরা আকারে মর্দা পাখির চেয়ে বড়ো হয়ে থাকে।

ফরাসি প্রকৃতিবিদ জাঁ-ব্যাপিÍস্ত দু তের্ত্রে ১৬৬৭ সালে এই পাখির নাম রাখেন। তিনি এ পাখিকে জাহাজে ডাকাতি করার জন্য জলদস্যুদের ব্যবহৃত দ্রুতগামী ফ্রিগেট জাহাজের সঙ্গে তুলনা করেন। চার্লস ডারউইন যখন এই পাখিটি প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তিনি মুগ্ধ হয়ে এটিকে ‘সমুদ্রের কনডর’ নাম দিয়েছিলেন। এরও আগে ব্রিটিশ ও স্প্যানিশরা এদের ম্যান-অব-ওয়ার বা ডাকু পখি বলে ডাকতো। নামের সঙ্গে এদের আচরণের বেশ মিল রয়েছে।

এরা বেশ আগ্রাসী ও ডাকু স্বভাবের হয়। এদের জলদস্যুই বলা যায়। যে কারণে তাদের জলদস্যু জাহাজের নামে এদের নামকরণ করা হয়। এরা অন্যান্য পাখি, বিশেষ করে গাংচিলদের হয়রানি করে এবং তাদেও খাবার ডাকাতি করে। তারা প্রায়ই তাদের ঠোঁট দিয়ে অন্য পাখির লেজ ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে তাদের শিকার ফেলে দিতে বাধ্য করে। অন্য পাখির বাসার ডিম চুরি করে খায়। এছাড়া এরা মাছ ধরার নৌকা থেকে ফেলে দেওয়া উড়–ক্কু মাছ, স্কুইড, জেলিফিশ, কচ্ছপ, কাঁকড়াও খেয়ে থাকে। যেভাবেই হোক, ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেটবার্ড বিনাশ্রমে খাবার পেলেই খুশি।

এরা দৈর্ঘে ৩৫ থেকে ৪৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর ওজন হয় ২.৪ পাউন্ড থেকে ৩.৫ পাউন্ড বা ১.১ থেকে ১.৫৯ কেজি। এদের পাখার বিস্তার ৭.১ থেকে ৮.০ ফুট (২.১৭ এবং ২.৪৪ মিটার) হয়ে থাকে। ফলে এরা দীর্ঘ সময় ধরে অনায়াসে এবং অবিচ্ছিন্নভাবে বাতাসে ভেসে চলতে পারে। এর শরীর ও পাখার বিস্তারের অনুপাত পৃথিবীর যে কোনো পাখির চেয়ে বেশি। এরা ১৫ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এরা যখন এদের পাখা ও দ্বিধা-বিভক্ত লেজ ছড়িয়ে আকাশে ওড়ে, তখন এদের দেখতে ঠিক উড়ন্ত ঘুড়ির মতো মনে হয়।

তবে এরা যে নিজেরা একেবারেই শিকার করে না এমনটি নয়। এরা টুনা মাছ ও ডলফিনের ঝাঁকের খোঁজে থাকে। কারণ এরা ছোট মাছদের তাড়িয়ে পানির উপরিভাগে নিয়ে আসে। এ তখনই সুযোগ মতো ফ্রিগেট বার্ড এর লম্বা ও বঁড়শির মতো বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে ছোঁ মেরে মাছ ধরে ওপরে উঠে যায়। একাজে তারা দারুণ পটু বটে। তবে পালক জল-নিরোধী না হওয়ায় এরা পানিতে ডুব দিতে পারে না বা জলে নামে না। পানিতে বেশি ভিজলে এদের শরীর অতিরিক্ত ভারী হয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে। এদের পাজোড়াও ছোট, ফলে পানি থেকে উঠতে সহায়তা করে না।

এরা সাধারণত দল বেঁধে চলে। এরা গাছের ডালে বা ঝোপঁ-ঝাড়ে বাসা বাঁধে। ফ্রিগেটবার্ড প্রজনন মৌসুমে একটি সঙ্গী নির্বাচন করে তার সঙ্গে জোড় বাঁধে। কোনো পুরুষ ও নারী ফ্রিগেটবার্ড যখন জোড় বাঁধতে চায়, তখন পুরুষ পাখিটি বাসা বাধাঁর জন্য ঘাস, লতা-পাতা, গাছের ডাল-পালা, খড়-পালক ইত্যাদি জোগাড় করে দেয়। কখনো-কখনো অন্য পাখির বাসা থেকেও উপকরণ চুরি করে আনে। নারী পাখিটি বাসা বুনে। এক ফুট প্রস্থের একটি বাসা বাধঁতে ১৩ দিন পর্যযন্ত সময় নেয় নারী পাখিটি।

মাদি ফ্রিগেটবার্ড সাধারণত সাত বছর বয়সে ডিম দেয়। এরা বছরে মাত্র একবারই ডিম দেয়। বাকি সময়টা বাচ্চাদের বড় করে তুলতে ব্যয় করে। আর কোনো পাখি এতো দীর্ঘসময় ধরে বাচ্চা লালন-পাল করে না। এরা এক ঋতুতে একটি বা দুটি ধবধবে সাদা ডিম পাড়ে। ডিমটির দৈর্ঘ ২.৭ ইঞ্চি ও বেড় ১.৯ ইঞ্চি হয়ে থাকে। সাধারণত এই প্রজাতির পুরুষ পাখি বাচ্চা দেওয়ার তিন মাস পর্যন্ত নারী পাখির সাথে যৌথভাবে বাচ্চা দেখাশোনা করে। এরপরে পুরুষ পাখিটি তার সাথীকে ছেড়ে চলে যায়। তবে মা-পাখিটি এক বছর অব্দি তার বাচ্চাদের দেখভাল করে। পুরুষ পাখিটি পরের মৌসুমে অন্য পাখির সঙ্গে জোড় বাঁধে।


আরও পড়ুনঃ


ফ্রান্সের ইকুইহেন বিচ: উল্টানো নৌকার নিচে বসবাস

বাড়ছে না ঈদের ছুটি, শুরু আগামীকাল থেকে

ঈদে অর্থ বহনে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের নির্দেশনা

ভারতে বাতিল হল গো-রক্ষা হেল্প ডেস্ক


ম্যাগনিফিসেন্ট ফ্রিগেটবার্ড সম্পর্কে একটি অবাক করা তথ্য হলো এই আশ্চর্যজনক সামুদ্রিক পাখিটি কোথাও না নেমে, না থেমে এবং নামমাত্র ডানা ঝাপটিয়ে দিনে প্রায় ২৫৫ মাইল (৪১০ কিলোমিটার) বেগে কয়েক মাস ধরে উড়তে পারে। এমনকি তারা উড়ালরত অবস্থায় ঘুমায় বলেও মনে করা হয়। এরা তাপীয় কলামে বা উষ্ণ বাতাসের ঊর্ধমুখী স্রোতে নিজেদের ভাসিয়ে দেয়, যা তাদের উচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে তারা ডানা না নেড়েই প্রায় ৪০ মাইল পথ ভ্রমণ করতে পারে। যখন নামতে শুরু করে, তখন তারা ব্যাক-আপ তুলতে কেবল কয়েকবার ডানা ঝাপটায় এবং কিছুক্ষণের জন্য তারা আবারো ভেসে চলতে পারে।

ফ্রিগেটবার্ড সম্পর্কে অনেক গবষণা হয়েছে। তবে এখনো এই পাখিরা উড়ন্ত অবস্থায় কীভাবে ঘুমায় তা কেউ নিশ্চিত নয়। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন পরামর্শ ফ্রিগেটবার্ডদের মস্তিষ্কের কেবল একপাশ ঘুমায়, তখন অপর ভাগ জেগে থাকে এবং কোনো হুমকির জন্য সতর্ক থাকে। অন্য গবেষকরা দাবি করেন যে ফ্রিগেটবার্ডরা দিনে প্রায় ৪৫ মিনিট ঘুমায়। তবে এটি ১০ সেকেন্ডের পর্বে বিভক্ত।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

ফুলের নাম নাচুনে বালিকা

হারুন আল নাসিফ

ফুলের নাম নাচুনে বালিকা

এই ফুলটির নাম ডান্সিং গার্লস। দেখলে শুভ্রবসনা ছোট্ট বালিকা মনের আনন্দে নাচছে বলে মনে হয়। তাই এটির এমন নাম দেওয়া হয়েছে।

এ ফুলের গাছটিও খুব ছোট। সাকুল্যে একফুট মতো বড়ো হয়। ফুলটি হয় আধাইঞ্চি মাত্র। এর রঙ সাদা ছাড়া হালকা গোলাপিও হয়।

এর মাতৃভুমি পূর্ব আফ্রিকা। তবে মাটির নাগাল পেলে সবখানে হয়। কিন্তু এর চারার নাগাল পাওয়া ভার।


বাংলাদেশি নাগরিকদের থাইল্যান্ড ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

ফিতরা দেয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

ঝুম বৃষ্টিতে ভিজলো রাজধানী

নদীতে ভেসে এল ৪০টির বেশি লাশ


বিশ্বকর্মার মনের খেয়ালে নিজের হাতে গড়া এই ফুলটি খুবই বিরল প্রজাতির। ছবি ছাড়া বাস্তব ফুল চোখে দেখার কথা ভাবাই যায় না।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

নৃগোষ্ঠী পাঙন বা মণিপুরি মুসলিমদের কথা

হারুন আল নাসিফ

নৃগোষ্ঠী পাঙন বা মণিপুরি মুসলিমদের কথা

মণিপুরীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারী সম্প্রদায়টি ‘পাঙন’ বা ‘পাঙ্গান’ বা ‘পাঙ্গাল’ বা মণিপুরী মুসলিম হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশের সিলেট, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নানান স্থানে প্রায় পঁচিশ হাজার মণিপুরী মুসলিম বাস করে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাঙনরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য আজো বজায় রেখেছে। তাদের ঘরবাড়ি, পোষাক-পরিচ্ছেদ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্রে ভরপুর।

কথিত আছে যে, মণিপুর রাজ্যে ভারতবর্ষের কোনো এক অঞ্চলের পাঠান মুসলিম ব্যবসা-বাণিজ্য করতে মণিপুর যান। তাঁদের একজন এক মৈতৈ মণিপুরী মেয়ের সঙ্গে প্রেমে আবদ্ধ হন এবং তাঁকে বিবাহ করে সন্তানাদিসহ সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। মৈতৈই  মা ও পাঠান মুসলিম পিতার বংশধররাই পরে পাঙান বা মণিপুরী মুসলিম নামে পরিচিতি পায়। তারা মায়ের ভাষায় কথা বলে এবং পিতার ধর্ম পালন করে। 

ইতিহাসবিদদের মধ্যে মণিপুরে ইসলামের সূচনা এবং পাঙ্গাল নামের উৎপত্তি নিয়ে মতভেদ আছে। কোনো কোনো সূত্র সূচনা সালটি ৯৩০ সালের আগে-পরে বলে মনে করেন। তবে অধিকাংশ সূত্র সালটি ১৬০৬ বলে নিশ্চিত করেন। এ সালে মুসলিম সৈন্যরা বন্দুক প্রস্তুতকারক হিসাবে বা লবণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মণিপুর প্রবেশ করেন। ঘটনাক্রমে তারা একটি চুক্তির মাধ্যমে মণিপুরে থেকে যান।

 ইতোমধ্যে বার্মার সাথে যুদ্ধ বাঁধলে মণিপুরের রাজা মৈতৈ বাহিনির পক্ষে মুসলিম সৈন্যদের সাহায্য চান। যুদ্ধে তারা বীরত্বের পরিচয় দেন। মৈতৈ বাহিনি জিতে যায়। রাজা খুশি হয়ে তাদের ‘পাঙ্গাল’ উপাধি দেন। মৈতৈ ভাষায় পাঙ্গাল মানে শক্তি বা শক্তিশালী। এই সৈন্যরা মৈতৈ সম্প্রদায়ের মেয়েদের সঙ্গে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং মৈতৈ সংস্কৃতির ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এমন দিকগুলো গ্রহণ করেন। কালক্রমে তাদের বংশধররা পাঙ্গাল বা পাঙন নামে পরিচিতি পায়।

পাঙনরা সুন্নী মুসলিম। তবে স্থানীয় বাঙালী মুসলিম জনগোষ্ঠির সঙ্গে পাঙনদের সামাজিক কোনো সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাদের ধর্মাচরণ, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতির সাথে বাঙালি মুসলমানদের পার্থক্য রয়েছে। পাঙনরা প্রচণ্ড ধর্মভীরু ও রক্ষণশীল। পাঙন মেয়েরা কঠোর পর্দাপ্রথা মেনে চলে।  পাঙন সমাজ নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে বৈবাহিক সম্পর্ক অনুমোদন দেয় না। পাঙান মেয়েরা কুর্তি, সালোয়ার ও ফানেকের মতো নিজস্ব পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে। পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলো লুঙ্গি ও পায়জামা।

পাঙনদের মসজিদগুলোতে কেবল পাঙন ইমামরাই ইমামতি করেন। নানান সামজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে কোরান শরিফের তর্জমা ও তাফসীর, বিভিন হাদিসের পাঠ ও ব্যাখ্যা সবকিছু মাতৃভাষায় করা হয়ে থাকে। এছাড়া বিয়ের দিনে ‘কাসিদা’ নামে পরিচিত এক ধরনের লোক ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গান ও নাচের অনুষ্ঠান থাকে যা পাঙনদের একান্ত নিজস্ব।

ঈদ পাঙনদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিনে গোত্র বংশ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর পাঙন এক কাতারে সমবেত হয় এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপন করার জন্য। ঈদের জামাতও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। বলা বাহুল্য, ঈদের জামাতে ইমামতির ভার থাকে যথারীতি পাঙন সম্প্রদায়েরই কোন মৌলভির ওপর। মসজিদে, দোকানে, হাটবাজারে, খেয়াঘাটে সবখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা চলে। 

আত্মীয় স্বজন ও পরিচিত জনদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হয়। পরিবারের সবার জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন মেয়েদের জন্য পর্দা কিছুটা শিথিল থাকে। ঈদের দিনে পাঙন মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পড়ে দল বেঁধে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার দৃশ্য চেয়ে দেখার মতো।

পাঙন জাতির নৃতাত্ত্বিক বিবর্তনের ইতিহাস মণিপুরীদের অপরাপর শাখা বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈদের থেকে আলাদা। যদিও তিনটি জনগোষ্ঠিই অষ্টাদশ শতাব্দিতে আদিভূমি মণিপুর ত্যাগ করে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসতি গড়ে তোলে। মণিপুরে মুসলমানদের সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ অভিভাসন ঘটে মোগল আমলে। 

পাঙনরা প্রচণ্ড পরিশ্রমী জাতি। ভিক্ষাবৃত্তিকে এরা মনুষ্যজন্মের নিকৃষ্ট পেশা বলে মনে করে। কৃষিকাজ ছাড়াও তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃষি সরঞ্জাম ও আসবাব তৈরিতে দক্ষ। পাঙন মেয়েরা কৃষিকাজে পুরুষের সমান পারদর্শী। এছাড়া তাঁতে কাপড় বোনা এবং সূঁচিকর্মে পাঙন মেয়েদের অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। মণিপুরীদের পরিধেয় ফানেক বা চাকসাবির ওপর পাঙন মেয়েদের সূঁই সুতার সুক্ষ্ম কারুকাজ দেখে বিস্মিত হতে হয়।

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায়

দানাদার শস্য কাউন চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার চরাঞ্চলের কৃষক

আব্দুস সালাম বাবু:

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় দানাদার শস্য কাউন চাষে আগ্রহী হচ্ছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সোনাতলার চরাঞ্চলের কৃষক। পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ ছাড়াই কাউনের ভালো ফলন হওয়ায় প্রতিবছর বাড়ছে চাষের জমি। পাখির খাদ্য হিসেবে কাউনের চাহিদা বাড়ায় কৃষকও ভালো দাম পাচ্ছেন। 

অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হওয়ায় যমুনা ও বাঙালি নদীর চরাঞ্চলে কাউন চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। সারিয়াকান্দিতে গত বছর ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হলেও এবছর তা বেড়ে ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

চরাঞ্চলের জমিতে বন্যার কারণে পলি জমে, উর্বর জমিতে কাউনের বীজ বপনের পর থেকেই গাছ বেড়ে উঠতে থাকে। অগ্রহায়ন থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত বীজ বপন এবং বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে কাউন কাটা-মাড়াই হয়। আর চলতি বছর কাউনের বাম্পার ফলনে লাভের আশা চাষিদের।

প্রতি মন কাউন ২ হাজার থেকে ২৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরাও ঝুঁকছেন কাউন চাষে। কাউন থেকে তৈরি হয় পায়েশ, পোলাও, খিচুড়ি, মলা ও বিস্কুটসহ মজাদার বিভিন্ন খাবার। পাখির খাদ্য হিসেবে কাউনের চাহিদাও বর্তমানে অনেক বেশি বেড়েছে।

চলতি বছর বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ১হাজার ৭শ ১০ হেক্টর এবং সোনাতলা উপজেলার  ৪০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষ হয়েছে।

news24bd.tv / কামরুল  

পরবর্তী খবর