চোখ ভেসে যায় জলে!

জসিম মল্লিক

চোখ ভেসে যায় জলে!

সেদিন ছিল শুক্রবার। ২০১৯ সাল। মদিনা ছেড়ে মক্কায় রওয়ানা হওয়ার দিন। মসজিদে নববীতে জুমার নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে দুপুরেই এহরাম বেঁধে রওয়ানা হলাম মক্কায়। বাসে আট ঘন্টার জার্নি। বাসের মধ্যে সম্মিলিতভাবে মুর্হুমুহু লাব্বায়িক আল্লাহুমা লাব্বাইক তালবিয়া ধ্বনি করতে করতে রাতের ঝলমলে পবিত্র নগরী মক্কায় পোৗঁছলাম। 

রাত সাড়ে এগারোটায় আমাদের জন্য নির্ধারিত হোটেল আল সাফওয়ান রয়্যাল অর্কিডে পৌঁছে গেলাম। দীর্ঘ জার্নি করলেও কোনো ক্লান্তি অনুভূব করছি না। ক্লান্ত হলে চলবে না। হোটেলে চেক ইন করে, ফ্রেশ হয়ে রাতেই যাব ওমরাহ করতে। হজ্জের প্রথম ধাম ওমরাহ। আমার আর জেসমিনের জন্য এক রূম রিজার্ভ।

হোটেলেৱ কক্ষে যাওয়ার আগে আমাদের বলে দেয়া হয়েছে কেউ যেনো রুমের জানালার পর্দা না সরাই। কেনো বলেছে সেটা পরে জেনেছি। আমরা মোয়াল্লামের নির্দেশ পালন করি।

রাত দুইটার দিকে সবাই হোটেলের লবিতে মিলিত হলাম। আমাদের গ্রুপের সবাই একসাথে যাব ওমরাহ্ করতে। তাওয়াফ এবং সাফা মারওয়ায় সায়ী করার মধ্য দিয়ে শুরু হবে হজ্জের মূল কার্যক্রম। আমরা হোটেল থেকে বের হয়ে ১ নম্বর গেটের দিকে রওয়ানা হয়েছি। সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে মাথা নিচু করে হেঁটে যেতে। আমরা তাই করছি। 

লম্বা একটা খোলা চত্বর অতিক্রম করে মসজিদুল হারামে প্রবেশ করলাম। বস্তুত বায়তুল্লার চর্তুপার্শ্বেই যে সুদৃশ্য মসজিদ বিস্তৃত ও উন্মুক্ত আঙ্গিনা দ্বারা পরিবেষ্টিত সেটাই মসজিদুল হারাম। সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষে ক্ষানিকটা অগ্রসর হওয়ার পর আমাদের সামনের দিকে তাকাতে বলা হলো। তাকিয়েই চোখের সামনে দেখতে পেলাম সেই বিস্ময়! মহা বিস্ময়! কাবাঘর। যাকে বলে আল্লার ঘর। চোখের সামনে জ্বল জ্বলে করে দন্ডায়মান। 


নিয়োগ দেবে শিল্প মন্ত্রণালয়

দেশের ৬ বিভাগসহ বেশ কিছু এলাকায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস

উষ্ণতা ছড়িয়ে আমির খান-এলি আব্রামের রোমান্স (ভিডিও)

আজ পবিত্র শবে মিরাজ


যেনো এটা কেনো বাস্তব ঘটনা না। যেনো সবকিছু স্বপ্নে ঘটছে এমন মনে হলো আমার কাছে। এখন বুঝতে পারছি কেনো হোটেলের পর্দা সরাতে মানা করা হয়েছিল, কেনো মাথা নিচু করে অগ্রসর হতে বলা হয়েছে। আমাদের হোটেলটা এমন জায়গায় অবস্থিত এবং আমাদের রুমগুলো ছিল কাবামুখী তাই জানালার পর্দা সরালেই কাবাঘরের পুরোটা দেখা যায়।

আগে ভাগেই যেনো আমরা দেখে না ফেলি তাই সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য পর্দা না সরাতে বা ঢোকার সময় মাথা নিচু করে থাকার  জন্য বলা হয়েছিল।

সেই ক্ষনিক মুহূর্তটির অনুভূতি ব্যাখ্যা দেওয়া সত্যি কঠিন। লিখে সেই অনুভূতিকে বোঝানো সম্ভব না আমার পক্ষে। এ এক অন্যরকম শিহরন ছিল, আবেগ ছিল, চোখের জলে ভেসে যাওয়া ছিল। হৃদয় নিংরানো আবেগ উথলে উঠেছিল বুকের ভিতর থেকে। কোথা থেকে এসেছে এই শিহরন, এই আবেগ, এই উদগত কান্নার রোল জানা নাই।

লক্ষ মানুষের ভীড়ে সেই মুহুর্তটা ছিল নিজেকে আবিষ্কারের, নিজেকে চেনার। ইশ্বরের প্রতি অকুন্ঠ নিবেদন ছিল। নিজেকে অতি তুচ্ছ মনে হয়েছিল সেই ক্ষনটিতে। জাগতিক জীবন তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল। পরলৌকিক এক জগতে পৌঁছে গিয়েছিলাম। সে এক অসম্ভব অনুভূতি আর শিহরন জাগানিয়া মুহুর্ত। 

পৃথিবীর সব লোভ লালসা, চাওয়া পাওয়া, মায়া মমতা, স্নেহ ,আকাঙ্খা, কাম  সবকিছু অর্থহীন মনে হয়েছিল। এ এমন এক পবিত্রতম স্থান যেখানে পা রাখা সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার। সত্যি এক স্বপ্ন।

news24bd.tv আয়শা

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

শহর থেকে দলে দলে গ্রামে ছুটলে লকডাউনের মানে হয় না

শওগাত আলী সাগর

শহর থেকে দলে দলে গ্রামে ছুটলে লকডাউনের মানে হয় না

মানুষের ‘মবিলিট’র (Mobility) সাথে কোভিড ভাইরাসের ছড়িয়ে পরার নিবিড় সম্পর্ক আছে। সে কারণেই ‘ঘরে থাকার’ বা ‘লকডাউনে’র প্রসঙ্গটি এসেছে।

মানুষ নিজ নিজ ঘরে থাকলে, বাইরে না বেরুলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পরা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু লকডাউনের ঘোষণায় দলে দলে মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়, শহর থেকে গ্রামে ছুটতে শুরু করলে লকডাউনের মূল যে স্পিরিট সেটি আর কার্যকর থাকে না।
 
লকডাউনের ঘোষণায় হাজার হাজার কিংবা শতশত মানুষ যখন রাস্তায় বেরিয়ে পরে, গ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটতে থাকে, তখন তারা তাদের সাথে কোভিডের  ভাইরাসকেও সঙ্গে নিয়ে যান। সারা রাস্তায় ভাইরাস ছড়াতে ছড়াতে তারা গ্রামে যান। গ্রামে গিয়ে সেখানেও ছড়ান।

আরও পড়ুন


‘দ্রুত মার্কিন সেনা বহিষ্কার ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরবে’

হবিগঞ্জ হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য হলেন কানাডা প্রবাসী মাহমুদ

মামুনুলকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, আ. লীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষ

বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও গণজমায়েত না করার নির্দেশ


আবার যাদের শরীরে এখনো ভাইরাস ঢুকতে পারেনি তারা রাস্তায় ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন। গ্রামে গিয়ে সংস্পর্শে আসেন। আবার লকডাউন কেটে গেলে যখন শহরে ছুটেন তখনো তারা ভাইরাস ছড়াতে ছড়াতে ছুটেন। লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের এই যে মবিলিটি, সেটি বন্ধ করা না গেলে লকডাউন আসলে অর্থহীন হয়ে যায়।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

একসময় কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে না

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

একসময় কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে না

করোনা নিয়ে লেখালেখি, টকশোতে বলাবলি, পরিপত্রের চালাচালিতে একটা কষে লকডাউন দিয়ে দিলেই করোনার ঝামেলা মিটে যায়। 

এরপর যে যার মতো কারখানা খোলা রাখুক, অর্থনীতির চাকা বনবন করে ঘুরুক, ঝাঁকবেঁধে ঈদের শপিং করুক, পকেটে, থুতনীতে মাস্ক টাঙিয়ে চলুক, কোনো সমস্যা নেই।


‘খেলাফত প্রতিষ্ঠা হলে ধরব আর জবাই করব’ বক্তব্য দেওয়া হেফাজত নেতা রিমান্ডে

ফরিদা পারভীনের ফুসফুসের ৫০ শতাংশ আক্রান্ত

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও খোলা বসুন্ধরা সিটি শপিংমল

এদেশে জন্ম নেওয়া কি পাপ, প্রশ্ন নুরুর


একসময় কাউকে কিচ্ছু বলতে হবে না, বীরবাহাদুরদের রশি দিয়ে বেঁধেও ঘরের বাইরে আনা যাবে না,এখন যারা মাস্ক পরে না ওরা নিজেরাই দরজা জানালা আটকে ঘরের মধ্যেই মাস্ক পরে বসে থাকবে।

অটো লকডাউনে শপিংমল, রাজপথ,কারখানা এমনিতেই চিৎ হয়ে পরে থাকবে।

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু'র ফেসবুক থেকে নেওয়া

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

একজন মওলানার অধঃপতন দেখে ইসলামকে গালমন্দ মূর্খতা

আসিফ নজরুল

একজন মওলানার অধঃপতন দেখে ইসলামকে গালমন্দ মূর্খতা

‘স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে, স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনো সত্যকে গোপন করারও অবকাশ রয়েছে। হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হকের দেওয়া এমন বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ব্যাপক সমালোচনায় অবশেষে এমন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও মামুনুল তার ফেসবুক পেইজ থেকে সরিয়ে ফেলেন। এ ইস্যুতে মামুনুল হককে গালি দেওয়ার পাশাপাশি ইসলাম ধর্মকেও গালমন্দ করে অনেকে।


‘খেলাফত প্রতিষ্ঠা হলে ধরব আর জবাই করব’ বক্তব্য দেওয়া হেফাজত নেতা রিমান্ডে

ফরিদা পারভীনের ফুসফুসের ৫০ শতাংশ আক্রান্ত

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও খোলা বসুন্ধরা সিটি শপিংমল

এদেশে জন্ম নেওয়া কি পাপ, প্রশ্ন নুরুর


এ ব্যাপারে ফেইজবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘একজন মওলানার অধঃপতন দেখে ইসলাম ধর্মকে গালমন্দ করা মূর্খতা বা শয়তানী কাজ। একজন মওলানার অধঃপতনকে ইসলাম ধর্মের কথা বলে যৌক্তিকতা দেওয়া তেমনি একটি মূর্খতা বা শয়তানী কাজ।’

আসিফ নজরুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক (ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

তিনি ক্ষান্ত দেন, বাবুনগরী চালিয়ে যাবেন

একরামুল হক

তিনি ক্ষান্ত দেন, বাবুনগরী চালিয়ে যাবেন

মেন্টাল ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য ভোগা লোকজনের আচরণ প্রায় একই রকম। ঢাবি চারুকলার ডিন নোমান সাহেব গতকাল পর্যন্ত গোঁ ধরে ছিলেন প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও তিনি চারুকলায় নববর্ষ উদযাপন করবেন।

আজ ঢাবি উপাচার্য বিধিনিষেধ আরোপ করলে তিনি ক্ষান্ত দেন। আর এদিকে হেফাজতি বাবুনগরী সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন যে, এমন কোনো আদেশ তাঁরা মানবেন না, তারাবি বা এতেকাফ সবকিছু আগের মতোই চালিয়ে যাবেন।


‘খেলাফত প্রতিষ্ঠা হলে ধরব আর জবাই করব’ বক্তব্য দেওয়া হেফাজত নেতা রিমান্ডে

ফরিদা পারভীনের ফুসফুসের ৫০ শতাংশ আক্রান্ত

সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও খোলা বসুন্ধরা সিটি শপিংমল

এদেশে জন্ম নেওয়া কি পাপ, প্রশ্ন নুরুর


অর্থাৎ, করোনা পরিস্থিতি যতই খারাপই হোক।

অথচ সৌদি আরব সরকার ঘোষণা করেছে যে, এবার তারাবি ১০ রাকাত হবে। দেখা যাক, তেনারা কী করেন।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সেঞ্চুরির পথে দেশ

একরামুল হক

সেঞ্চুরির পথে দেশ

সেঞ্চুরির পথে দেশ। মানে দৈনিক মৃত্যু ১০০-এর কাছাকাছি। যদি সেঞ্চুরি হয় তা হবে বেদনার, বিষাদের।

মৃত্যুকূপে পরিণত হচ্ছে দেশ। কিন্তু আমাদের বিবেকবোধ যেন বিলুপ্ত হয়ে গেল। রাস্তাঘাটে প্রচণ্ড ভিড, যানজট।

বেশির ভাগ মানুষ মাস্ক পরেনি কিংবা মাস্ক থুতনিতে। তাহলে করোনার বিস্তার ঘটবে না কেন? এই এক অজানা আতঙ্কে আছে দেশের সচেতন মানুষ। তাহলে? কী হবে গতি, বিশ্বপতি!

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর