পরকালের যাত্রা

নবীজি (সা.) এর বর্ণনায় ফেরেশতারা যেভাবে জান কবজ করেন

অনলাইন ডেস্ক

নবীজি (সা.) এর বর্ণনায় ফেরেশতারা যেভাবে জান কবজ করেন

কুরআনে পরকাল সংক্রান্ত ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। স্বর্গের আরব্য শব্দটি হল জান্নাত এবং নরকের আরব্য শব্দটি হলো জাহান্নাম । সমাধিতে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রা সম্পূর্ণরূপে তাদের ঈমানের বা এক সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বোচ্চ সত্তা ঈশ্বর বা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসের মাত্রার উপর নির্ভর করে। সঠিক, দৃঢ় এবং সুস্থ ঈমান অর্জনের জন্য একজনকে অবশ্যই ধর্ম নির্দেশিত কার্যাবলি পালন করতে হবে, অন্যথা তার ঈমান অবশেষে শ্বাসরুদ্ধ ও সংকুচিত হবে, এবং তিনি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম পালন না করলে সেই ঈমান নির্জীব হয়ে যাবে। তাই ইসলাম পালন করা পরকালে পুরস্কৃত হবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কেউ আল্লাহ্‌র নাম জপার জন্য তসবীহ্‌ গ্রহণ করতে পারেন।

মৃত্যু এক নির্মম সত্য। মৃত্যুর হাত থেকে কারোই রক্ষা নেই। মানুষ-পশুপাখি-গাছপালা-তরুলতা সব কিছু এক দিন ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে। পৃথিবীতে এক নির্ধারিত মেয়াদ পরিভ্রমণ করে যাত্রা করে অনন্তকালের পথে। এই যাত্রাপথ কারও জন্য হয় অনন্ত সুখের স্রোতধারা। কারও জন্য হয় নিকষ আঁধারে ঢাকা নরক-গহ্বর। দুনিয়ার পাপ-পুণ্যের ওপর নির্ভর করে কার যাত্রাপথ কেমন হবে। পাপে পাপে যারা কলুষিত করে ফেলে পার্থিব জীবন অনন্তপথের যাত্রায় তারা চরম দুর্ভাগা। মৃত্যু তাদের কাছে সাক্ষাৎযম। মৃত্যু থেকে বাঁচতে তারা প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু মৃত্যুর ফেরেশতাগণ টেনেহিঁচড়ে তাদের প্রাণ বের করে আনেন।

পুণ্য ও সৎকাজে যারা জীবন আবাদ করে তাদের যাত্রা হয় আনন্দমুখর। তারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে হাসিমুখে। মৃত্যুর ফেরেশতাগণ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের প্রাণ হরণ করেন। তাদের আহলান সাহলান জানান। ঈমানদারের মৃত্যু হয় সহজ ও স্বস্তিদায়ক। কাফেরের মৃত্যু হয় অত্যন্ত যন্ত্রণার। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মাজিদে ইরশাদ করেন, ‘ফেরেশতারা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র অবস্থায়, ফেরেশতারা বলে, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।’ (সুরা নাহল : ৩২)। পবিত্র অবস্থা বলে উদ্দেশ্য ঈমানের অবস্থা। সুতরাং ঈমান অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয় ফেরেশতাগণ তাদের শান্তি কামনা করেন।

ফেরেশতাগণ কীভাবে মানুষের প্রাণ হরণ করেন, নবীজি (সা.) একটি দীর্ঘ হাদিসে তা বর্ণনা করেছেন। হজরত বারা ইবনে আজেব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা নবীজির সঙ্গে এক আনসারি সাহাবির জানাজায় গেলাম। আমরা কবরস্থানে পৌঁছলাম তখনও কবর প্রস্তুত হয়নি। নবীজি বসলেন। আমরা তার চারপাশে বসলাম। (আমরা এতটা শান্তস্থির ছিলাম) যেন আমাদের মাথার ওপর পাখি। নবীজির হাতে একটি কাঠি ছিল। সেটা দিয়ে তিনি মাটিতে দাগ কাটছিলেন। তারপর মাথা তুলে তিনি বললেন, তোমরা কবরের আজাব থেকে আল্লাহর পানাহ চাও। কথাটি দুবার বা তিনবার বললেন। তারপর বললেন, নিশ্চয় ঈমানদার বান্দার যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে পরকালের পথে যাত্রার সময় ঘনিয়ে আসে তখন উজ্জ্বল শুভ্র চেহারার ফেরেশতাগণ তার কাছে নেমে আসেন। উজ্জ্বলতায় তাদের চেহারাসমূহ যেন এক একটি সূর্য। তাদের সঙ্গে থাকে জান্নাতি কাফন ও জান্নাতি সুগন্ধি। তারা তার কাছে বসে পড়েন।

তারপর মৃত্যুর ফেরেশতা আজরাইল (আ.) এসে তার মাথার পাশে বসে বলেন, হে পবিত্র আত্মা! আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এস। নবীজি (সা.) বলেন, তারপর পাত্রের মুখ থেকে গড়িয়ে পড়া ফোঁটার মতো তার আত্মা বেরিয়ে আসে। আজরাইল সেই আত্মাকে বরণ করে নেন। আজরাইল হাতে নেওয়া মাত্র চোখের পলকে অন্য ফেরেশতাগণ সেই আত্মাকে সেই জান্নাতি কাফনে ও সেই জান্নাতি সুগন্ধিতে রেখে দেন। তার থেকে মেশকের উত্তম সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে, যা জমিনেও অনুভ‚ত হয়। নবীজি (সা.) বলেন, এরপর তারা সেই আত্মা নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করতে থাকেন। যখনই কোনো ফেরেশতা দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন ফেরেশতা দল জিজ্ঞেস করে, এটা কার পবিত্র আত্মা? তারা দুনিয়াতে থাকা তার ভালো নামসমূহ উল্লেখ করে বলেন, অমুকের ছেলে অমুক।


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সংবাদ উপস্থাপনায় ও নাটকে রূপান্তরিত দুই নারী

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


এভাবে তারা প্রথম আসমানে পৌঁছেন। আসমানের দরজা খুলতে আহ্বান করেন। তাদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হয়। এভাবে প্রত্যেক আসমানের নৈকট্যশীল ফেরেশতাগণ তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে পরবর্তী আসমানে বিদায় জানান। এভাবে সে সপ্তম আসমানে পৌঁছে যায়। তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যিনে রেখে দাও এবং তাকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে নাও। নিশ্চয় আমি তাদেরকে মাটি থেকে সৃজন করেছি এবং তাতেই ফিরিয়ে দেব এবং তার থেকে দ্বিতীয়বার বের করে আনব।

নবীজি (সা.) বলেন, তারপর তার রুহ তার দেহে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন। তারা তাকে বসান। জিজ্ঞেস করেন, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তারা জিজ্ঞেস করেন, তোমার ধর্ম কী? সে বলে আমার ধর্ম ইসলাম। তারা বলেন, তোমাদের নিকট পাঠানো এই লোকটি কে? সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসুল। তারা বলেন, তোমার জ্ঞানের উৎস কী? সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি। তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং তা সত্যায়ন করেছি। তখন আসমানে এক ঘোষক ঘোষণা দেন আমার বান্দা সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। জান্নাতের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও। এরপর তার কাছে জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুরভি আসতে থাকে এবং তার দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। এরপর একজন সুদর্শন সুন্দর পোশাক পরিহিত ও সুগন্ধিযুক্ত লোক আগমন করে বলে, আনন্দদায়ক সুসংবাদ গ্রহণ কর। এটা সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছে। তারপর সে বলবে, কে তুমি হে কল্যাণকামী! সে বলবে, আমি তোমার নেক আমল। তারপর সে বলবে, হে আমার রব! কেয়ামত কায়েম কর, আমি যেন আমার পরিবার ও সম্পদের কাছে ফিরতে পারি।

নবীজি (সা.) বলেন, একজন কাফেরের যখন দুনিয়া থেকে বিদায়ের এবং পরকালের পথে যাত্রার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন আসমান থেকে কদাকার কিছু ফেরেশতা নেমে আসেন। তাদের সঙ্গে থাকে চট। তারা তার সামনে বসেন। তারপর মালাকুল মউত এসে তার মাথার কাছে বসেন। বলেন, হে অপবিত্র আত্মা! আল্লাহর রাগ ও অসন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এস। তারপর তিনি তার দেহে আঁচড়াতে শুরু করেন এবং দেহ থেকে আত্মাকে উৎপাটন করে নিয়ে আসেন।

আজরাইল তা হাতে নেওয়া মাত্র অন্য ফেরেশতাগণ সেই আত্মা চটে ভরে ফেলে। তার থেকে মৃত পচা লাশের দুর্গন্ধ বের হয়, যা দুনিয়ার মানুষও অনুভব করে। তারা একে নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করেন। তারা যখনই ফেরেশতাদের কোনো দলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন ফেরেশতা দল জিজ্ঞেস করে, এই নাপাক আত্মা কার? তখন তারা দুনিয়াতে তার কুৎসিত নামসমূহ উল্লেখ করে বলে অমুকের ছেলে অমুক। এভাবে তারা প্রথম এরপর তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন। তারা তাকে বসান। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ। তারা জিজ্ঞেস করেন, তোমার ধর্ম কী? সে বলে আমার ধর্ম ইসলাম। তারা বলেন, তোমাদের নিকট পাঠানো এই লোকটি কে? সে বলে, তিনি আল্লাহর পৌঁছে। তার জন্য আসমানের দরজা খোলার আহ্বান করা হয়। কিন্তু তার জন্য দরজা খোলা হয় না।

তারপর নবীজি এই আয়াত তেলাওয়াত করেন ‘তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। যতক্ষণ না সুঁচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করবে।’ আল্লাহ তখন বলবেন, তার আমলনামা জমিনের সর্বনিম্নে সিজ্জিনে রেখে দাও। তারপর তার রুহকে ছুঁড়ে ফেলা হয়।

এরপর নবীজি কোরআনের আয়াত পাঠ করেন ‘এবং যে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শরিক করল; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর মৃতভোজী পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে কোনো দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করল।’ (সুরা হজ : ৩১)। এরপর তার রুহ দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসেন। তারা তাকে বসান। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার রব কে? সে বলে, হায় আফসোস! আমি জানি না। তারা জিজ্ঞেস করেন, তোমার ধর্ম কী? সে বলে, হায় আফসোস! আমি জানি না। তারা বলেন, তোমাদের নিকট পাঠানো এই লোকটি কে? সে বলে, হায় আফসোস! আমি জানি না! তখন আসমান থেকে একজন ঘোষক বলবেন, সে মিথ্যা বলেছে। তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও। জাহান্নামের দিকে তার জন্য একটি দরজা খুলে দাও।

 ফলে তার নিকট জাহান্নামের উত্তাপ ও লু হাওয়া আসতে থাকবে। তার কবর এতটা সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, তার এক পাঁজরের হাড়গুলো অন্য পাঁজরে ঢুকে যায়। তার কাছে একজন কুৎসিত চেহারা, দূষিত পোশাক ও দুর্গন্ধযুক্ত এক লোক এসে বলে দুঃসংবাদ গ্রহণ কর। তোমাকে এই দিনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সে বলে, তুমি কে? অকল্যাণ নিয়ে এসেছ? লোকটি বলবে, আমি তোমার বদআমল। তারপর সে বলবে, হে প্রভু! কেয়ামত যেন সংঘটিত না হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস ১৮৫৩৪)

অনেকের ধারণা, সব মানুষের রুহ কবজ করেন আজরাইল (আ.)। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। রুহ কবজ করার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা হলেন মালাকুল মাউত। কিন্তু তাঁর সহযোগী বহু ফেরেশতা আছেন। তাঁরা মালাকুল মাউতের নির্দেশে এ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘বলে দাও, তোমাদের জান কবজের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ফিরে যাবে।’ (সুরা : সাজদাহ, আয়াত : ৩২)

ইবনুল কাইয়েম (রহ.) ‘ইলামুল মুওয়াক্কিঈন’ নামক কিতাবে (১/২১৪) এবং শাইখ আলবানি (রহ.) কিতাবুল জানাইজে (পৃষ্ঠা নং ১৫৯) এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন। এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে মালাকুল মাউত তথা প্রাণ হরণের প্রধান দায়িত্বশীল ফেরেশতার সঙ্গে আরো সহযোগী ফেরেশতা রয়েছেন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কি এমন দোয়া যা বিপদে পড়লেও করতে নিষেধ করেছেন প্রিয় নবী

অনলাইন ডেস্ক

কি এমন দোয়া যা বিপদে পড়লেও করতে নিষেধ করেছেন প্রিয় নবী

বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দোয়াই ইবাদত। মানুষ বিপদ ও হতাশায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে থাকেন। বিপদ-হতাশা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। কি এমন দোয়া? বিপদে পড়লেও যা করতে নিষেধ করেছেন বিশ্বনবী!

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে দুটি দোয়া করতে নিষেধ করেছেন। একটি হলো মৃত্যু কামনা করে দোয়া। দ্বিতীয় হলো শাস্তি কামনা করে দোয়া। হাদিসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত।

০১. দুনিয়াতে মৃত্যু কামনা না করা

এমন কয়েকটি বিষয় রয়েছে, যে সময় চরম বিপদ-মুসিবত হলেও সে বিষয়গুলো কামনা করে দোয়া করা যাবে না। আর তাহলো- দুনিয়াতে মৃত্যু কিংবা শাস্তি কামনা করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক বর্ণনায় তা নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত তিনি হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে যেন মৃত্যুর জন্য দোয়া না করে। কেননা তোমাদের কেউ মারা গেলে তার ‘আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিন লোকের বয়স তার কল্যাণেই বাড়ানো হয়।’ (মুসলিম)

হজরত কায়স ইবনু আবু হাজিম রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা খাব্বাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলাম। তিনি তার উদরে সাতবার লোহা গরম করে সেক দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বললেন, যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মৃত্যু কামনা করে দোয়া করতে বারণ না করতেন তাহলে অবশ্যই আমি মৃত্যুর জন্য দোয়া করতাম। (মুসলিম)

হজরত নাজর ইবনু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, (হজরত) আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন জীবিত ছিলেন। তিনি (নাজর) বলেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি না বলতেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কখনো মৃত্যুর আশা করবে না’। তাহলে অবশ্যই আমি মৃত্যু কামনা করতাম।’ (মুসলিম)

- একান্ত মৃত্যু কামনায় কল্যাণের এ দোয়া পড়া

বিপদে বা কষ্টের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করা ঠিক নয়। একান্তই যদি মৃত্যু কামনা করতে হয়, তবে সে পদ্ধতিও হাদিস পাকে তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যেন বিপদে পড়ার কারণে মৃত্যু কামনা না করে। তবে (একান্তই যদি) মৃত্যু তার কামনা হয়, তাহলে সে যেন (এভাবে) বলে-
اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আহয়িনি মা কানাতিল হায়াতু খাইরান লি ওয়া তাওয়াফফানি ইজা কানাতিল ওয়াফাতু খাইরান লি।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত আমার হায়াত আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়, তবে আমাকে মৃত্যু দিয়ে দিন।’ (মুসলিম)

আরও পড়ুন


রমজানুল মোবারক শুরুর আগে যে ১১ প্রস্তুতি নেয়া জরুরি

হাজী মাস্তান কর্নেল আকবরের গোপন বিয়ে রাম রহিম কাহিনি

মিলল মাওলানা মামুনুলের আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য, হতভম্ব গোয়েন্দারা

লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের দৌড়ঝাঁপ, চাইছেন ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনাও


০২ দুনিয়াতে শাস্তি কামনা না করা

এ ছাড়াও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়ায় শাস্তি কামনা করার ব্যাপারেও নিষেধ করেছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন মুসলিম রোগীর সেবা করতে গেলেন। সে (অসুখে কাতর হয়ে) অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল, এমনকি সে পাখির ছানার মতো হয়ে গেল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, তুমি কি কোনো বিষয় প্রার্থনা করছিলে অথবা আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে কিছু চেয়েছিলে?

সে বলল, হ্যাঁ। আমি বলেছিলাম- হে আল্লাহ! আপনি পরকালে আমাকে যে সাজা দেবেন তা এ দুনিয়াতেই দিয়ে দিন। সে সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- সুবহানাল্লাহ! তোমার এমন সামর্থ্য নেই যে, তা বহন করবে? অথবা তুমি তা সহ্য করতে পরবে না।

তুমি এমনটি বললে না কেন?-
اَللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বানা আতিনা ফিদদুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের কল্যাণ দাও দুনিয়াতে এবং কল্যাণ দান করো পরকালেও। আর জাহান্নাম থেকে আমাদের রক্ষা করো। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। আর আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দেন। (মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, কখনোই বিপদ কিংবা হতাশায় আল্লাহর কাছে মৃত্যু কামনা না করা। একান্তই যদি মৃত্যু কামনা করতে হয় তবে হাদিসে উল্লেখিত নিয়মে তা কামনা করা। আর পরকালের শান্তি দুনিয়ায় কোনোভাবেই কামনা না করা। বরং পরকালের জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তিতে হাদিসে সেখানো দ্বিতীয় দোয়াটি বেশি বেশি পড়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রমজানুল মোবারক শুরুর আগে যে ১১ প্রস্তুতি নেয়া জরুরি

অনলাইন ডেস্ক

রমজানুল মোবারক শুরুর আগে যে ১১ প্রস্তুতি নেয়া জরুরি

পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর দরজায় কড়া নাড়ছে। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আর মাত্র দু থেকে তিন দিন। এর পরেই আল্লাহ তাআলার রহমত বরকত মাগফেরাত নাজাতসহ অনেক কল্যাণের মাস রমজানুল মোবারক শুরু হবে।

রমজানের অবিরত বরকত ও কল্যাণ পেতে হলে আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। কেননা যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভালো প্রস্তুতি মানেই ওই কাজটির অর্ধেক পূর্ণতা ও সফলতা অর্জিত হয়ে যায়।

আর এ জন্য বরকত ও কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ মাস রমজানের বেশকিছু আগাম প্রস্তুতি রয়েছে। মুমিন মুসলমানের জন্য যে প্রস্তুতি পুরো রমজানজুড়ে রহমত বরকত মাগফেরাত নাজাত ও যাবতীয় কল্যাণের দরজা উম্মুক্ত রাখবে।

মুমিন মুসলমানের  জন্য জরুরি হলো রমজানের যাবতীয় কল্যাণ পেতে হলে এখন থেকেই পরিপূর্ণ আত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। হজরত মুয়াল্লা ইবনে ফজল রাহমাতু্ল্লাহি আলাইহি নামে এক বিখ্যাত তাবেয়ী বলেন-

‘সালাফে সালেহিনগণ রমজানের ৬ মাস আগে থেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করেন। আর রমজান শেষে তারা বাকি ৬ মাস দোয়া করতেন- হে আল্লাহ! রমজানে যা আমল করেছি; তা আপনি কবুল করে নিন।’

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো বান্দা যে কোনো ভালো কাজ বা আমল যদি যথাযথভাবে উত্তম উপায়ে করে; তবে সে আমল বা কাজ আল্লাহ তাআলা পছন্দীয় হিসেবে গ্রহণ করেন।’ (তাবারানি)

সুতরাং রমজানের আমল বা কাজ যেনতেনভাবে নয়; বরং পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আদায় করতে হবে। আর তাতে আল্লাহ সন্তুষ্টিও পাওয়া যাবে। আর এতে রমজানের আগাম ১১টি প্রস্তুতিমূলক বিষয় রয়েছে। তাহলো-

০১. তাওবাহ-ইসতেগফার করা

রমজানের আগের সব গোনাহ থেকে তাওবাহ ইসতেগফার করতে হবে। কোনো অন্যায়কারী যদি ভাবে যে, রমজান চলে এসেছে, আর আমার সব গোনাহ এমনিতেই ক্ষমা হয়ে যাবে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। বরং আগে থেকে তাওবাহ-ইসতেগফার করে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ লাভে নিজেকে প্রস্তুত করা খুবই জরুরি। আর তাতে আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার আগের সব গোনাহ মাফ করে দিয়ে রমজানের যাবতীয় কল্যাণ দিয়ে জীবন সুন্দর করে দেবেন। এ জন্য বান্দা বেশি বেশি পড়বে-

- اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ : আল্লাহুম্মাগফিরলি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।

০২. রমজানের সব উপকারিতা স্মরণ করা

বরকতময় মাস রমজান সম্পর্কে কুরআন-সুন্নায় যেসব ফজিলত মর্যাদা ও উপকারিতার বর্ণনা রয়েছে, রমজান শুরু হওয়ার আগেই সেসব সম্পর্কে জেনে নেয়া। সেসব উপকার পেতে কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনাগুলো মেনে চলার প্রস্তুতি নেয়া। মাস রমজান আসতেছে, মানসিকভাবে বারবার এ কথার স্মরণ ও নেক আমলের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে এ দোয়াটি বেশি বেশি করা-

- اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ : আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন।’

০৩. মানসিক প্রতিজ্ঞা নেওয়া

রমজান মাসে পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পেতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। জীবনভর যত গোনাহ করেছি এ রমজানে সেসব গোনাহ বা অন্যায় থেকে পরিপূর্ণ ক্ষমা পেতে হবে। সবচেয়ে বেশি সাওয়াব পেতে হবে। রমজান শুরু হওয়ার আগে এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করা জরুরি।

আফসোসের বিষয়- অনেক সময় পূর্ব প্রস্তুতি না থাকার কারণে রমজান পেয়েও মুমিন মুসলমান পরিপূর্ণ সাওয়াব ও ক্ষমা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়।

প্রতিজ্ঞা এমনভাবে করা যে, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা নিজের কাজ যেমনই হোক, আমি আমার বিগত জীবনের সবে গোনাহ থেকে নিজেকে মাফ করিয়ে নেব। আমার প্রতি আল্লাহকে রাজি-খুশি করিয়েই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।

০৪. কাজা রোজা আদায় করা

রমজান শুরু হওয়ার আগে বিগত জীবনে অসুস্থ হওয়ার কারণে বা সফরের কারণে রমজানের ফরজ রোজা কাজা হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেয়া। বিশেষ করে মা-বোনদের ভাঙতি রোজা থাকতে পারে। তাই রমজানের আগে শাবান মাসের এ সময়ে কাজ রোজা আদায় করে নেয়া। এতে দুইটি ভালো আমল বাস্তবায়িত হবে-

প্রথমটি : বিগত জীবনের কাজা রোজা আদায় হবে। রমজানের রোজা পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

দ্বিতীয়টি : সুন্নাতের অনুসরণ হবে। রমজানের আগের মাস শাবানে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন। রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে। কাজা রোজা আদায় করার মাধ্যমে সুন্নাতের অনুসরণও হয়ে যাবে।

০৫. সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা

আল্লাহ তাআলা রমজান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার ভাগ্যে জুটে না। কেননা এ ক্ষমা পেতে হলে দুইটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ক্ষমা প্রার্থনা করে তা থেকে ফিরে আসতে হবে। তাহলো-

- শিরক থেকে মুক্ত থাকা। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শিরক না করা। কেউ ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায়, ছোট বা বড় শিরক করে থাকলে রমজান আসার আগেই তা থেকে তাওবাহ-ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসা।

- হিংসা থেকে মুক্ত থাকা। কারো প্রতি কোনো বিষয়ে হিংসা না করা। কারণ হিংসা মানুসের সব নেক আমলকে সেভাবে জালিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন কাঠকে জালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভে স্বচ্ছ রাখা।

০৬. ফরজ রোজার নিয়ম-কানুন জেনে নেয়া

রমজান মাস আসার আগে রোজা পালনের মাসআলা-মাসায়েল তথা নিয়ম-কানুনগুলো ভালোভাবে জেনে নেয়া জরুরি। আর তাতে রমজানের রোজা নষ্ট হওয়া থেকে বা মাকরূহ হওয়া থাকে বা অন্যান্য বিষয়গুলো জেনে নেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

০৭. বিগত রমজানের অসমাপ্ত কাজ চিহ্নিত করা

রমজান মাস আসার আগে বিগত রমজানের নেক আমলগুলো করতে না পারার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। যেমন-

- কেন নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করা হয়নি?
- কেন তারাবিহ পড়া হয়নি?
- কেন দান-সহযোগিতা করা হয়নি?
- কেন ইতেকাফ করা হয়নি?
- কেন রোজাদারকে ইফতার করানো হয়নি?
- কেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের স্ঙ্গে আদায় করা সম্ভব হয়নি?
- কেন কুরআন-সুন্নার আলোচনায় বসা হয়নি?
- কেন রমজানের পরিবারের লোকদের হক আদায় করা হয়নি?
- কেন রমজানের পাড়া-প্রতিবেশি বা আত্মীয়দের হক আদায় করা হয়নি?

এ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নেয়া। এ বছর রমজান আসার আগে আগে চিহ্নিত কারণগুলো থেকে নিজেকে বিরত রেখে কিংবা প্রস্তুতি গ্রহণ করে কল্যাণকর সব নেক আমলগুলো করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

০৮. শাবান মাসজুড়ে রমজানের মহড়া চালু রাখা

রমজান মাসের বেশি বেশি ইবাদত করতে এবং রোজা রাখার জন্য শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা। বেশি বেশি কুরআন অধ্যয়ন করা। নফল নামাজ পড়া। তাওবাহ-ইসতেগফার করা। ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা। দান-সাদকাহ শুরু করা। যাতে এ মহড়ার বাস্তবায়ন পুরো রমজানজুড়ে সুন্দরভাবে চালানো যায়।

০৯. রমজানের ২৪ ঘণ্টার রুটিন করা

রমজান মাসজুড়ে যে যেই কাজেই থাকুক না কেন, পুরো সময়টি কোন কোন কাজে কীভাবে ব্যয় হবে তার একটি সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করে নেয়া। আগাম রুটিন থাকলে রমজানে চরম ব্যস্ততার মাঝেও নেক আমলসহ অন্যান্য কাজগুলোও ইবাদতের মধ্যেই কেটে যাবে। এক কথায় সব কাজের তালিকা করে নেয়া।

আরও পড়ুন


হাজী মাস্তান কর্নেল আকবরের গোপন বিয়ে রাম রহিম কাহিনি

মিলল মাওলানা মামুনুলের আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য, হতভম্ব গোয়েন্দারা

লকডাউনে গার্মেন্টস খোলা রাখতে মালিকদের দৌড়ঝাঁপ, চাইছেন ১০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনাও

খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, খবরটি সঠিক নয় বলে জানালেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক


১০. রমজানের চাঁদের অনুসন্ধান করা

শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদের অনুসন্ধান করা সুন্নাত। মুছে যাওয়ার পথে থাকা এ সুন্নাতটিকে আবারও জীবিত করার পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

বর্তমান সময়ে চাঁদ দেখা (হেলাল) কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। আবার অনেকে মোবাইল বা রেডিও টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন। এতে চাঁদ দেখা এবং দোয়া পড়ার সুন্নাতটি থেকে বঞ্চিত হয় মুমিন মুসলমান। তা থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নাতটি জীবিত করার সর্বাত্মক পূর্ব প্রস্তুতি রাখা।

- যারা রহমতের মাস রমজানের নতুন চাঁদ দেখবে তারা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পড়া সেই দোয়াটিও পড়বে। যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রার্থনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

হজরত তালহা ইবনু ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন-

اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله

উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস্সালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।

অর্থ : আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর তুমি যা ভালোবাস এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তাওফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

- রমজানের চাঁদ দেখার খবর শুনেই হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর কাছে মুমিনের আকুতিভরা প্রার্থনা হবে এমন-

اللَّهُمَّ سَلِّمْنِي لرمضان، وسلم رمضان لي، وتسلمه مني مُتَقَبَّلاً

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লিমনি লিরমাদান, ওয়া সাল্লিম রামাদানা লি, ওয়া তাসলিমাহু মিন্নি মুতাক্বাব্বিলা।’ (তাবারানি)

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাকে শান্তিময় রমজান দান করুন। রমজানকে আমার জন্য শান্তিময় করুন। জন্য রমজানকে শান্তিময় করে দিন। রমজানের শান্তিও আমার জন্য কবুল করুন।

১১. বেশি  বেশি দোয়া

রমজানের আগে আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করা। হে আল্লাহ! আমি যতই চেষ্টা করি, তোমার তাওফিক বা ইচ্ছা না থাকলে আমি যেমন রমজান পাবো না। আবার রমজান পেলেও রবকত লাভে সক্ষম হবো না। সুতরাং রমজান ও রমজানের নেক আমল করার তোমার কাছে চাই।

হে আল্লাহ! রমজানে যত মানুষ সৌভাগ্যবানদের কাতারে নাম লেখাবে, তাদের কাতারে আমাকেও শামিল করো; হে রাব্বুল আলামিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের আগে উল্লেখিত ১১টি প্রস্তুতি যথাযথভাবে আগাম নিজেদের জীবনে বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে তিন সময়ে দোয়া কবুল হয়

অনলাইন ডেস্ক

যে তিন সময়ে দোয়া কবুল হয়

মহান আল্লাহপাকের দরবারে প্রত্যেক বান্দারই রয়েছে একান্ত চাওয়া-পাওয়া। এ চাওয়া-পাওয়া কবুলের জন্য রয়েছে একান্ত কিছু সময়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সময় তুলে ধরা হলো-

১. রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া হয় না। যখন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করে। ন্যায় পরায়ণ শাসক। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

২. ফরজ নামাজের পরের দোয়া: হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ সময় এবং ফরজ নামাজের পরে দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)


দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ মৃত্যু

মাওলানা মামুনুলের বিরুদ্ধে সোনারগাঁয়ে আরও এক মামলা

মুন্সীগঞ্জে বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যু

করোনা কাউকে করে না করুণা: ওবায়দুল কাদের


৩. বৃষ্টি হওয়ার সময়ের দোয়া: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরানো হয় না। আজানের সময়ের দোয়া আর বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ইসলামে ব্যভিচার বা অবাধ যৌনাচারের শাস্তি

অনলাইন ডেস্ক

ইসলামে ব্যভিচার বা অবাধ যৌনাচারের শাস্তি

ব্যভিচার বা অবাধ যৌনাচার করা মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন।  ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যভিচার হলো- চারিত্রিক অধঃপতন, অনৈতিকতা, নোংরামি ও অশ্লীলতার শেষ ধাপ। ইসলাম এ কাজকে ঘৃণা করে তা থেকে দূরে থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। অনেকেই নর-নারী সম্মতিতে স্থাপিত যৌন সম্পর্ককে পাপ মনে করে না। শুধু ধর্ষণকে অপরাধ মনে করে। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। মহান আল্লাহ বিয়ে বহির্ভূত সব ধরনের যৌন সম্পর্ককে হারাম করেছেন। ধর্ষণ যেমন অপরাধ, ব্যাভিচারও তেমনি গর্হিত দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রকৃত মুমিন হতে হলে, জান্নাতে প্রবেশ করতে হলে ব্যভিচার থেকে পবিত্র হতে হবে।

আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। তা একটি অশ্লীল কাজ এবং খারাপ পন্থা।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩২)। ব্যভিচারের শাস্তিও মারাত্মক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘(অবিবাহিত) ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারী উভয়কে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো।’ (সুরা : আন নূর ২)

আর বিবাহিত হলে তাদের শাস্তি হলো, কোমর পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। 

যিনা বা ব্যভিচারের কঠিন শাস্তির কথা পবিত্র কোরআন ও হাদীস সমূহে উল্লেখিত আছে। যিনার সম্পর্কে ইসলাম ধর্মে কঠিন বিধান রয়েছে। যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে হজরত মুহম্মদ (সা.) এর হাদিস বর্ণিত আছে যে, ‘আমি একদিন স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার ওপরের দিক ছিল সরু এবং ভেতরের দিক ছিল প্রশস্ত, যেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল এবং তার ভেতরে নারী পুরুষেরা চিৎকার করছিল। আগুনের শিখার উঠানামার সঙ্গে সঙ্গে তারাও উঠানামা করছিল, এ অবস্থা দেখে আমি জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? জিবরাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উত্তর দিল, এরা হলো অবৈধ যিনাকারী নারী ও পুরুষ।’ (সহীহ আল-বুখারী)

হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে মুসলমানগণ ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ করো। কেননা এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। মন্দ পরিণতি এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে। যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে, তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে। আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। ’ –বায়হাকি

মহানবী (সা.) বলেছেন, বিচার দিবসে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হলো ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী দরিদ্র। 

হজরত ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ কী? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। অথচ তিনি প্রত্যেক প্রাণীর স্রষ্টা। 


ঝর্ণার বড় ছেলের দাবী ডিভোর্সের আগেই মাওলানা মামুনুল মাকে কু প্রস্তাব দেয়

রিকশা করে বই মেলায় যেতে বাধা নেই : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

মামুনুল হক অবরুদ্ধের ঘটনায় সোনারগাঁও থানার ওসি বদলি


 

আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কী? তিনি বললেন, তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে আহার করবে—এ আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা। আমি আবার আরজ করলাম, তারপর কী? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমার ব্যভিচার করা। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

আমাদের উচিৎ এসকল পাপকর্ম থেকে দূরে থাকা যেনো ইহজাগতিক ও পরজাগতিক উভয় সফলতা অর্জন করতে পারি। এসকল যিনা বা ব্যভিচার দূর করতে পারলে একটি সুন্দর ও কলুষতামুক্ত সমাজ তথা একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়া সম্ভব হবে।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যেসব পাপের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দেন

অনলাইন ডেস্ক

যেসব পাপের শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতেই দেন

পাপ করলে তার শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। সবারই জানা উচিত যে পাপের অবশ্যই একটা শাস্তি আছে। যদিও আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল। ক্ষমা করা হলো তাঁর দয়া, আর শাস্তি দেওয়া হলো তাঁর আদল বা ন্যায়বিচার। আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো পাপের শাস্তি দুনিয়ায়ও দিয়ে থাকেন। আবার কোনো কোনো পাপের শাস্তি দিতে পরকালের জন্য বিলম্ব করেন। পাঁচটি জঘন্যতম পাপের শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায়ই দিয়ে থাকেন।  

মহানবী (সা.) বলেছেন—১. কোনো জাতি অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে আল্লাহ তাআলা শত্রুদের তাদের ওপর চাপিয়ে দেন। ২. আল্লাহ প্রদত্ত বিধান ছাড়া বিচার ফায়সালা করা হলে তাদের মধ্যে দারিদ্র্য বিস্তারলাভ করে। ৩. কোনো জাতির মধ্যে ব্যভিচার বিস্তারলাভ করলে তাদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। ৪. কোনো জাতি পরিমাপে ও ওজনে কম দিলে তাদের ফসলহানি ঘটে এবং দুর্ভিক্ষ তাদের পাকড়াও করে। ৫. আর কোনো জাতি জাকাত দিতে অস্বীকার করলে, তাদের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ করে দেওয়া হয় (বাজজার, মুয়াত্তা)।

অঙ্গীকার পূর্ণ করা: অঙ্গীকার পূর্ণ করা মুমিনের অন্যতম গুণ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ প্রসঙ্গে অনেক গুরুত্ব বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। অবশ্যই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩৪)।

অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ করো।’ (সুরা : মায়েদা : ১)। অঙ্গীকার ভঙ্গ করা হারাম এবং মুনাফেকি। 

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘চারটি দোষ যায় মধ্যে থাকবে সে পরিপূর্ণ মুনাফিক। আর যার মধ্যে এসবের একটি দোষ থাকবে, তার মধ্যে মুনাফেকির একটি উপাদান থাকবে, যতক্ষণ সে তা বর্জন না করে, কথা বললে মিথ্যা বলে, আমানত রাখলে খেয়ানত করে, অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে এবং ঝগড়া করলে সীমা ছাড়িয়ে ফেলে।’ (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।

কোরআন অনুযায়ী বিচার না করা : কোরআন অনুযায়ী বিচার করা আবশ্যক। কোরআনবর্জিত বিচারকার্য করা মুনাফেকি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী যারা বিচার করে না তারা কাফির।’ (সুরা : মায়েদা : ৪৪)।

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচারকার্য সম্পাদন করে না, তারা জালিম।’ (সুরা : মায়েদা : ৪৫)। যারা আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুসারে বিচার করে না, তারা ফাসিক (সুরা : মায়েদা : ৪৭)।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে বিচারক আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।’ (হাকেম)। হজরত ফুজাইল ইবন ইয়াজ বলেন, ‘একজন বিচারপতির উচিত এক দিন বিচারকার্য পরিচালনা করা, আর এক দিন নিজের জন্য কান্নাকাটি করা।’

ব্যভিচার করা: ব্যভিচার করা মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না। তা একটি অশ্লীল কাজ এবং খারাপ পন্থা।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩২)। ব্যভিচারের শাস্তিও মারাত্মক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘(অবিবাহিত) ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারী উভয়কে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো।’ (সুরা : আন নূর ২)


দশ বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য আমি দায়ী নই : প্রভা

‘চুম্বন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যয়নের আগে একান্তে সময় কাটাই’

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

চুম্বনের দৃশ্যের আগে ফালতু কথা বলতো ইমরান : বিদ্যা


 

আর বিবাহিত হলে তাদের শাস্তি হলো, কোমর পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, বিচার দিবসে তিন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না ও তাদের পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হলো ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী দরিদ্র। হজরত ইবন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বড় গুনাহ কী? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। অথচ তিনি প্রত্যেক প্রাণীর স্রষ্টা। আমি আবার প্রশ্ন করলাম, তারপর কী? তিনি বললেন, তোমার সন্তান তোমার সঙ্গে আহার করবে—এ আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা। আমি আবার আরজ করলাম, তারপর কী? তিনি প্রত্যুত্তরে বলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে তোমার ব্যভিচার করা। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

পরিমাপ ও ওজনে কম দেওয়া: পরিমাপ ও ওজনে কম দেওয়া করিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা মাপে কম দেয়, তাদের জন্য দুর্ভোগ, যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়, আর যখন লোকদের মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।’ (সুরা: আত-তাফফিফ ১-৬)। আরো ইরশাদ করেন, মেপে দেওয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। এটা উত্তম, এর পরিণাম শুভ (সুরা : বনি ইসরাঈল : ৩৫)। অন্যত্র ইরশাদ করেন, সোজা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো। মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না’ (সুরা : শুয়ারা : ১৮২-১৮৩)। আরো ইরশাদ করেন, ন্যায়ের সঙ্গে ওজন ও মাপ পূর্ণ করো (সুরা : আনআম : ১৫২)। হজরত শুয়াইব (আ.) তাঁর জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা মাপ ও ওজনে পূর্ণ করো এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যাদি কম দিয়ো না। (সুরা : আরাফ : ৮৫)

যাকাত না দেওয়া: জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি এবং আর্থিক ইবাদত। কোরআন মজিদে যত স্থানে নামাজ কায়েম করার কথা রয়েছে, সেখানে জাকাত দাও—এ কথাও রয়েছে। স্বীয় সম্পদকে পবিত্র করার উত্তম পন্থা হলো জাকাত প্রদান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর নামাজ কায়েম করো, জাকাত দান করো এবং নামাজে অবনত হও তাদের সঙ্গে যারা অবনত হয়।’ (সুরা : বাকারা : ৪৩)। আরো ইরশাদ করেন, আপনি তাদের সম্পদ থেকে জাকাত গ্রহণ করেন, যা দ্বারা পবিত্র এবং পরিশোধিত করবেন। (সুরা : তওবা : ১০৩)।

মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের জাকাত আদায় করো। আল্লামা শামি বলেছেন, জাকাত প্রদানের দ্বারা সম্পদে বরকত হয়। (রদ্দুল মুহতার, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা : ১)।

ইয়া রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা! আমাদের উক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর