চিড়িয়াখানার ইন্দুর বান্দর যে যাই ভাবুক আবার ফেসশিল্ডে ফিরে যাবো

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

চিড়িয়াখানার ইন্দুর বান্দর যে যাই ভাবুক আবার ফেসশিল্ডে ফিরে যাবো

করোনা আর লকডাউন শুরুর পর আমার শহরে অনেক মানুষকে দেখতাম মাস্কের সাথে ফেসশিল্ড পরতেন, টিভিতেও দেখতাম। ভয়েই হোক,আর বাড়ির বাইরে কিছুটা স্বচ্ছন্দে চলা আর নিরাপত্তার আশায় আমিও পরা শুরু করলাম।

দিন গড়াতে লাগল আর ফেসশিল্ড পরা মানুষ কমতে লাগল। লক্ষ্য করে দেখলাম গত তিন-চার মাসে আমার শহরে এক আমি আর অচেনা এক ভদ্রলোক ছাড়া আর কেউ ফেসশিল্ড পরছেন না। শুধু তাই না,সবাই আমার দিকে কেমন করে যেন তাকায়ও। যেন চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে আসা প্রাণী। নিজেকে উজবুক উজবুক মনে হতে লাগল লাগুক, তাকাক যার যেমন খুশি। আমি ফেসশিল্ড ছাড়লাম না।

ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে টিকা নেবার দিনও মুখে ফেসশিল্ড ছিল। টিকার পর মনের জোর আর সাহসটা একটু বাড়ল। টিকা নিয়েছি তার একটা ভাব আছে না! ফেসশিল্ড পরে বাইরে গেলে টিকার কি আর ইজ্জত থাকে।

নামিয়ে দিলাম ফেসশিল্ড। পরতে শুরু করলাম ঘরে মজুদ থাকা সস্তাদামের প্লাস্টিকের বড় চশমা। মন্দ লাগতো না।

টিকা নেবার ২২দিন পর চশমাও বাদ দিলাম। বলে রাখা ভাল  করোনার শুরু থেকে ডাবল মাস্ক ছাড়া একদিনও বাইরে যাইনি। বাড়ি ফেরার আগে বাইরে একমিনিটের জন্যও মাস্ক খুলিনি । কেবল গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পাটগ্রাম অনাথবন্ধু সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ক্রিকেট উৎসবের দিন বার কয়েক মাস্ক খুলেছিলাম। সাহস ছিল টিকা নিয়েছি বলে।

যখন একা থেকেছি,বা তিন, চারফুটের মধ্যে কাউকে না দেখেছি তখন টিকার ভরসায় আমার কর্মক্ষেত্রে মাস্ক খুলে কাজ করেছি, আরাম করেছি।

টিকা নেবার পরও কভিড পজেটিভ হবার খবর জানাজানি হলে গত একসপ্তাহ ধরে আমাদের কুম্ভকর্ণ স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা আমাদের জানাচ্ছেন টিকা নেবার ২২ দিন পর দেহে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মায়, করোনায় আক্রান্তের সম্ভাবনা কমে আসে । ভাল কথা ২২ দিন আমার পার হয়েছে। কিন্তু ২২ দিনের পর একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার করোনায় আক্রান্তের খবরে কুম্ভকর্ণগন আবার নড়েচড়ে বসলেন। বললেন, সেকেণ্ড ডোজ নেবার দুসপ্তাহ পরই নিরাপত্তা জোরদার হবে। এই তথ্যগুলো হয় তারা আগে জানতেন না নয়তো জেনেও ঘুমিয়ে ছিলেন।

আমার ভাবা হয়ে গেছে দ্বিতীয় ডোজ,পারলে তৃতীয় ডোজও যদি দেয় নিয়ে নেব কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কুম্ভকর্ণ বয়ানের অপেক্ষায় থাকবো না।

"চাচা আপন জান বাঁচা" থিওরি অন্তরে ধারণ করে শুরুর দিনগুলোর মত টাইট হয়েই চলতে হবে।


আরও পড়ুনঃ


সুপারফুড কাউন চাল

দশ বছর আগে যা ঘটেছে তার জন্য আমি দায়ী নই : প্রভা

প্রিয়াঙ্কাকে জীবনসঙ্গী করার গোপন রহস্য জানালেন নিক

নুসরাতের বুকে নতুন ট্যাটু, কী লেখা আছে জানতে ব্যাকুল ভক্তরা


মাস্ক চলছে,চলবেই। মাঝেমধ্যে মাস্ক খোলার খেলাটাও বাদ। ভাবছি,  চিড়িয়াখানার ইন্দুর বান্দর যে যাই ভাবুক আবার ফেসশিল্ডে ফিরে যাবো। এতে আমার কাছ থেকে অন্যেরা নিরাপদ থাকবে আমিও কিছুটা নিরাপদ বোধ করবো।

টিকার আনন্দে আর পর্যটক বনে যাবার ক্ষেপাটে জোয়ারে আমার আপনার শহরে মাস্ক পরা মানুষ হাওয়া হয়ে গেলেও আপনি আপনার মাস্ক ছাড়বেন না। মনে রাখবেন খচ্চর করোনার হাত থেকে বাঁচতে মাস্ক আর হাত ধোয়াই আমাদের খড়কুটো বর্ম। এই বর্ম পরতে বাধ্য করারও কেউ নাই,নিজেকেই পড়তে হবে।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

করোনা: আসলে আমরা কেউ কারো নই!

সোহেল সানি

করোনা: আসলে আমরা কেউ কারো নই!

প্রাণঘাতী করোনা মানুষের ভেতরের খোলসটা উন্মোচন করে দিয়েছে। কঠিন এক সত্যের সঙ্গে দিয়েছে পরিচয় করিয়ে। পিতৃত্ব, মাতৃত্ব, ভগ্নি-ভ্রাতৃত্ব, স্বামিত্ব ও স্ত্রীত্ব সর্বপরি সব সম্পর্কই নিছক এক স্বার্থের সুতোয় বাঁধা। স্নেহ, শ্রদ্ধা, প্রেম ভালবাসা এ সবই স্বার্থান্বেষণ ব্যতীত কিছুই নয়। মানুষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক সত্তায় বেড়ে ওঠে, নিজের সুখশান্তি বর্ধনের জন্য সে সমষ্টিগত রূপে কেবল রূপদান করে - যা নিতান্তই অভিনয়। এ অভিনব চরিত্র দিয়েই ঘরেবাইরে তার আধিপত্য বিস্তার করে। রক্তের উত্তরাধিকার বলে পারিবারিক যে সম্পর্কের বেড়াজাল তা যে নিজ নিজ প্রাণ রক্ষায় ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে, প্রাণঘাতী করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে। ‘রক্তের টান’, প্রাণের টান বা ‘আত্মার টান’ এগুলো কথার কথা।

দু-চারটি ব্যতিক্রম ঘটনা লক্ষ্য করা গেলেও তা তো বিরল বিদগ্ধ প্রাণের টান -যেমন অবচেতন মনে প্রেমের টানে কপোত-কপোতীর স্বপ্রনোদিত আত্মাহুতি। মানুষ স্বার্থান্ধ। সে নিজের স্বার্থে অন্যকে ভালবাসে বা আত্মীয়পরিজনকে সূত্র ধরে ব্যবহার করে। রক্তেরের অপেক্ষা অনেকে আত্মার সম্পর্ককে বড় বন্ধন বলে জাহির করি। অবশ্য সমাজবাদীরা রক্তের বন্ধন-কে এগিয়েই রেখেছেন। সমাজের চোখও রক্তকেই প্রকৃত বন্ধন বলে বিবেচনা করে আসছে। সেটাও পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সহায়সম্পদের ভাগবাটোয়ার বিষয়।

প্রত্যেকটি বন্ধন আজ ফাঁপা বেলুনের মতো ফেটে যাচ্ছে। বন্ধনের কোনই স্থায়ীত্ব নেই। মানুষ নিজের সুখবর্ধনের জন্যই স্বার্থান্ধে পরিণত হন। ফলে ঘটে বিপত্তি। স্বার্থে বেঘাত ঘটলেই যেকোন ধরণের বন্ধন চুকে যাওয়ার ঘটনা অহরহ। করোনা প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে পিতার–আর পিতার লাশ রাস্তায় কিংবা হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে পুত্রকন্যা! করোনায় আক্রান্ত হচ্ছ স্বামী-স্ত্রী পালিয়ে যাচ্ছে বাপের বাড়ি। বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ঘটনা যদি হয় নিষ্ঠুর, মর্মান্তিক তাহলে করোনায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাকে কি বলবো?

আমার মানবমনের বন্দরঘাঁটে এখন একটি প্রশ্ন নোঙ্গর করেছে,আসলে রক্তের, বা দৈহিক বন্ধনটা আসলে কি সুখপ্রদ প্রশান্তির হাতিয়ার মাত্র? এর আইনানুগ, সামাজিক, আর্থিক ভিত্তির মূল্য আছে- তবে কেন?

রক্তের বন্ধনের সূত্র, যে উৎস হতে উদ্ভূত সেই জন্মদাতা ও জন্মধাত্রীর সম্পর্কের অবস্থান কি? রক্তের উত্তরাধিকারের সঙ্গে তুলনীয়? রক্তের বন্ধন অবিছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অথচ স্বামীস্ত্রীর সম্পর্ক তা নয়। স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনের স্থায়ীত্ব বরং সর্বদা হুমকীর সম্মুখীন। তাকে বিচ্ছিন্ন হবার আশঙ্কা নিয়ে অগ্রসরমান হতে হয়। মায়ের গর্ভে ও বাবার ঔরস্যে পুত্র কন্যার জন্ম, অর্থাৎ বাবা-মা’র রক্তের সংমিশ্রণের ফসল পুত্রকন্যা।

স্বামীস্ত্রীর দৈহিক বন্ধন রক্তের বন্ধন অপেক্ষা নগণ্য বলেই বিবেচ্য হচ্ছে। অদ্ভূত এক সমীকরণ। দৈহিক সম্পর্কধারী স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ হতে পারে এবং হয়, কিন্তু রক্তের সম্পর্কটা অবিচ্ছেদ্য। তা হত্যা কিংবা ধ্বংসেও পরিত্যক্ত হয় না। স্বামীস্ত্রীর বন্ধনকে আত্মিক বন্ধন বলা হলেও এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বড় কঠিন যেহেতু আত্মার সম্পর্ক অদৃশ্যমান।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলস্থলভাগ বলে পরিচিত প্রশান্ত মহাসাগরের নির্ণয়হীন গভীরতার মতোও যদি হয় রক্তের বা আত্মার সম্পর্ক তাকেও আজ ম্লান করে দিয়েছে প্রাণঘাতী করোনা। আজ রক্তের বা আত্নার বন্ধনের গভীরতা কতটুকু তা আমরা অনুভব করছি করোনা কবলে পড়ে।

আরও পড়ুন


‘আইনগত কোনো জটিলতা নেই সুপার লিগ আয়োজনে’

কষ্টটা ডায়রির পাতায় শব্দে শব্দে বুনে রেখেছিলাম

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র বাবু মারা গেছেন


অবশ্য আত্মার সম্পর্ক বিধাতার সঙ্গে হয় মহামানবের সেই মহামানবের দেখা মিললেও কি আমরা করোনার করুণ ট্রাজেডির কথা কখনো ভুলতে পারবো? পুরুষরাই মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা মূল শেকড় উপরে ফেলে পৃথিবীর বুকে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চালু করেছে। ‘মা’ প্রধান পারিবারিক ঐতিহ্যের অবলুপ্ত ঘটিয়ে। মা’র স্থলে সন্তানদের রক্তের সম্পর্ককে পিতা’র সূত্রে গেঁথে দেয়া হয়েছে। সেই কালের ‘জননী বিধি’র সমাজব্যবস্থাকে বলা হয় অসভ্য যুগ। তখন নারী ছিল পরিবারের অভিভাবক। পুরুষকে ‘দেবী’ হিসাবে নারীকে পুজো দিতে হতো। মায়ের উত্তরাধিকারী হতেন মেয়েরা। ছেলেরা ছিলেন শোষিত। সম্পদ ঐশ্বর্যের অধিকারীও মা সূত্রে মেয়েরা হতো।

পুরুষরা যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার শেকড় উপরে ফেলে চালু করে বর্বর যুগের। মেয়ে বা কন্যা সন্তান জন্মদানের জন্য মা’র ওপর নেমে আসতো অকথ্য নির্যাতন, নিপীড়ন। উত্তরাধিকারী হয়ে ওঠলো ছেলেরা। কায়েম করা হলো জনক বিধি আইন। মানে পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। তারপর মধ্যযুগের শুরু ধর্ম-গীর্জা কেন্দ্রিক শোষণ ব্যবস্থা। তারপর ফরাসী বিপ্লব ও রুশবিপ্লবের মাধ্যমে যে সনাতন বা আধুনিক যুগের শুরু। কিন্তু মানুষ কি মানুষ হতে পেরেছি আমরা? করোনা আজ দিচ্ছে কঠিন শিক্ষা। আর আমরা এমন শিক্ষার সাথে তো আগেই পরিচিত যে, ভাই ও বোনের সম্পর্ক রক্তের। অথচ, আমরা দেখছি, কত ভাই সেই রক্তের বন্ধনকে দু’পায়ে মাড়িয়ে দুচার হাত জমির জন্য বোনকে বিধবাও বানিয়ে দেয়। ধনসম্পত্তির লোভে ভাই- ভাইকে হত্যা রাজ-রাজ্য নিয়ে বিবাদ বিগ্রহ সেও কিন্তু করোনার চেয়ে ভয়ঙ্কর নয়। কথায় কথায় মানুষ মানুষকে খুশী করার জন্য একটি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তাহলো ‘আত্মার বন্ধন।’ ওই বন্ধনকে বিধাতা প্রদত্ত বলে সাফাইও গান তারা। বিধাতার সঙ্গে আসলে সাধারণের বন্ধন হয় কিনা আমার বোধগম্য নয়। অবশ্য, মহামানবদের সঙ্গে বিধাতার আত্মার বন্ধনকে অস্বীকার করা যায়না। চলমান মানবসভ্যতায়।

মানুষের আত্মা যেহেতু ঈশ্বরের সন্ধান করে, সেহেতু আত্মার সম্পর্ক রক্ত বা দৈহিক সম্পর্কের শত-অযুত, লক্ষ-কোটি, মিলিয়ন-বিলিয়নেরও অধিক বড়,গভীর, বিস্তৃত। আমরা সেই বিধাতার আত্মার সন্ধান করি, আর বিধাতাকে ভালবাসি। ভালোবাসি বিশ্বের সকল মানুষকে।  সব স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে। নিশ্চয়ই  বিধাতা কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি করোনা মুক্ত করবেন আমাদের সুন্দর ধরণীকে। 

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ইতিহাস বিশ্লেষক।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আমার কথাগুলো হয়তো পচ্ছন্দ হবে না, তাও বললাম

নাজনীন আহমেদ

আমার কথাগুলো হয়তো পচ্ছন্দ হবে না, তাও বললাম

নাজনীন আহমেদ

আমার এই কথাগুলো হয়তো অনেকের পছন্দ হবে না, তাও বললাম।

#করোনার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার ১০ থেকে ১৫ বাকি ৮৫ ভাগ সুস্থ হয়ে যাবে কিন্তু দারিদ্র্যের কশাঘাতে অপুষ্টির শিকার হলে ধুকে ধুকে মরতে হবে অনেককে।

#লকডাউনে সচ্ছল ধনী মানুষ তার বড় বাসায় সোশ্যাল ডিসটেন্স মানতে পারবে, কিন্তু ঝুপড়ি ঘরে থাকা মানুষগুলো লকডাউনে একে অন্যের সাথে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হয় দিনের বেশিরভাগ সময়।

#লকডাউন দিলে মৃত্যু ঝুঁকি কমানোর শান্তিতে থাকে সচ্ছল মানুষ। কিন্তু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভোগা মানুষদের জন্য লকডাউন কোন শান্তির বার্তা আনে না। বরং তারা করোনার ঝুঁকি নিতে রাজি, কিন্তু আশু ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগতে রাজি নয়।

#লকডাউনে কল কারখানা খোলা রাখার অনুমতি যারা নিতে পেরেছে তারাই আবার প্রণোদনার অর্থ বেশি আদায় করতে পেরেছে। আর লকডাউনে যাদের কলকারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে এদের বেশিরভাগই বঞ্চিত হয়েছে কোন রকম প্রণোদনা পেতে। 

#ধনী দেশগুলোর পক্ষে লকডাউন কার্যকর করা সম্ভব, কিন্তু স্বল্পআয়ের দেশে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন। তাই স্বল্পোন্নত দেশে লকডাউন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো যাবে না।


করোনা সচেতনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ স্টাইল

জিততে এসেছি, ইনশাআল্লাহ জয় পাব: মুমিনুল

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

কানাডার শীর্ষ নেতাদের সবাই অস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন নিচ্ছেন


#করোনার কারণে শিক্ষায় যে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য তৈরী হয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ আয়-বৈষম্য আরো বাড়তে পারে।‌

#লকডাউন ধনী-বান্ধব, দরিদ্রবান্ধব নয় । সরাসরি খাদ্য সহায়তা দিয়ে অতি দরিদ্রদের হয়তো বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব কিন্তু ছোট ছোট শিল্প উদ্যোগগুলো ধ্বংস হলে সেগুলো আবার গড়ে তোলা মুশকিল।

#জীবন-জীবিকার সমন্বয়ে বাঁচতে হলে ভাবতে হবে, এখনই নিতে হবে অন্তত এক বছরের সার্বিক পরিকল্পনা। নয়তো বারবার লকডাউনের অপচয়ে পড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির বোঝা বাড়বে।

নাজনীন আহমেদ: অর্থনীতিবিদ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

করোনা সচেতনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ স্টাইল

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

করোনা সচেতনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ স্টাইল

অসচেতনতার কারণে আমরা একপেশেভাবে বাঙালিদের গালমন্দ করলেও অসচেতনতা আসলে বিশ্বব্যাপী এক ব্যাধি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত একটি দেশেও করোনা ভাইরাসজনিত মহামারীর মাঝেও জনঅসচেতনতা দেখে অবাক হয়েছি। 

সরকারের পক্ষ থেকে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে মাস্ক পরিধানে না করলে জরিমানা নির্ধারণ করা হলেও রাস্তাঘাটে চলাচলককারী লোকজনকে মাস্ক ছাড়াই ঘোরাফেরা করতে দেখছি। শুধু দোকানপাটে প্রবেশ করতে লোকজন পকেট থেকে মাস্ক বের করে নাকে-মুখে এঁটে নেয়। 

রেস্টুরেন্টগুলো চালু থাকলেও সেখানে বসে খাওয়া এখনো নিষিদ্ধ। স্যান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া বা সিলিকন ভ্যালি হিসেবে খ্যাত এলাকা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আয়সম্পন্ন এলাকাগুলোর অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার উচ্চ দক্ষ আইটি প্রফেশনালের মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজারের অধিক লোক সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত। 

এর বাইরেও ওইসব প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য কাজে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক উচ্চ বেতনধারী কর্মী রয়েছে। ফেসবুক, অ্যাপল, অ্যালফাবেট/গুগল, ওরাকল, ভিসা, ওয়েল ফারগো, ইনটেল, ই-বে, ইয়াহু, সিসকো, শেভরন, এনভিডিয়া, নেটফ্লিক্স, হিউলেট প্যাকার্ডের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সদর দফতর ছাড়াও সিলিকন ভ্যালিতে আরও প্রায় ৬৫টি বড় বড় কোম্পানি রয়েছে। 

প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিম্ন পর্যায়ের কর্মীর গড় বেতন বার্ষিক ৫০ হাজার ডলার এবং সর্বোচ্চ বার্ষিক বেতন সাড়ে ৪ লাখ ডলার। বাড়িঘরের দাম ও ভাড়া অত্যধিক। আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে করোনাকালেও ভালো ব্যবসা করছে এবং সে কারণে গত একবছর যাবত কর্মীরা ভার্চুয়াল অফিস করলেও লোক ছাঁটাইয়ের হার প্রায় শূন্য। 

স্যান ফ্রান্সিসকো উপসাগরের দক্ষিণ উপকূল ঘিরে বেশ কয়েকটি সিটি স্যান হোজে, পালো আল্টো, মাউন্টেন ভিউ, মেনলো পার্ক, রেডউড, সানিভেল, স্যান্টা ক্লারা, কুপারটিনো সিলিকন ভ্যালির মধ্যে পড়ে। সিটিগুলোর মধ্যে শুধু স্যান হোজে একটি বড় সিটি। তুলনামূলকভাবে ছোট একটি ভৌগোলিক এলাকায় এতো উচ্চ শিক্ষিত লোকজনের বিপুল উপস্থিতি সত্বেও করোনার ভয়াবহতার মধ্যে তাদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করা খাপছাড়া লাগছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণের চতুর্থ ঢেউ আঘাত হেনেছে। 

গত ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দৈনিক মৃতের হার ৭০০ জনে নেমে এসেছিল তা থেকে বেড়ে গত ১৯ এপ্রিল মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে ১,২৭৫ জন। সংক্রমণ হার ও হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনায় ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছে ৫,৬৭,৮৭১ জন এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৬১,০৪৫।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যে কোনো নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রশাসনকে অনেক ধকল পোহাতে হয়। করোনার বিস্তার প্রতিহত করতে লকডাউন জারি করে, কান ধরে উঠবস করানো, লাঠিচার্জ বা জরিমানা আদায় করেও লোকজনকে রাস্তায় নেমে আসা থেকে বিরত রাখতে হিমসিম খাচ্ছেন্ন ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে।   

করোনাকালে আমাকে দ্বিতীয় দফা আটলান্টিক উপকূল থেকে প্রায় তিন হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে নর্দান ক্যালিফোর্নিয়ায় আসতে হলো। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের মাঝেও এসেছিলাম। তখনও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হয়নি। 

করোনা টেস্টও ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। বিমান যাত্রার প্রাক্কালে করোনা টেস্ট করার কড়াকড়ি ছিল না। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া করোনা সংক্রমণের হটস্পট ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট সরকার নির্দেশ জারি করেছিল যে করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত স্টেটগুলো থেকে কেউ যদি নিউইয়র্কে আসে তাহলে তাকে করোনা টেস্ট করাতে হবে এবং ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে। আমাকেও তা করতে হয়েছিল। তা না হলে আমাকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হতো। 

আইসোলেশনে থাকার প্রতিদিন সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ফোন করে খবর নিয়েছে আমি ঠিক আছি কিনা। আমার কোনো প্রয়োজন আছে কিনা। গতবছরের অক্টোবরে আমার অফিসের একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আমাকে দ্বিতীয় দফা টেস্ট করাতে হয়। 

ইতোমধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের উভয় ডোজ নিয়েছি। ক্যালিফোর্নিয়ার এয়ার টিকেট কেনার সময় দেখা গেল বিমান যাত্রার দশ দিনের মধ্যে টেস্ট করানোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কাজেই আবারও টেস্ট করাতে হলো। 

১৫ অক্টোবর নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে পৌছে যাত্রীদের বেশ ভিড় দেখতে পেলাম। চেক-ইন কাউন্টারগুলোতে বেশ ভিড়। গতবছরের জুনে এয়ারপোর্ট অনেকটাই জনমানবশূন্য ও রীতিমতো ভূতুড়ে পরিবেশ ছিল। ফ্লাইটে প্রতি সারিতে তিন আসনের মাঝেরটি ছিল যাত্রীশূন্য। এবার যাত্রী ও  ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে। 

প্রতি সারির প্রতিটি আসন যাত্রী পূর্ণ। এবার মাঝখানের আসন ফাঁকা নেই। পাইলট বার বার মাস্ক পরে থাকার ফেডারেল গাইডলাইন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। সাড়ে ছয় ঘন্টা পর স্যান ফ্রান্সিসকো এয়ারপোর্টে পৌছে সেখানেও প্রচুর যাত্রী দেখতে পেয়েছি। সবার নাক মুখ মাস্কে ঢাকা। 


জিততে এসেছি, ইনশাআল্লাহ জয় পাব: মুমিনুল

বৈঠকতো দূরের কথা, বাবুনগরী কখনোই খালেদা জিয়াকে সামনাসামনি দেখেননি: হেফাজতে ইসলাম

কানাডার শীর্ষ নেতাদের সবাই অস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন নিচ্ছেন

ফজিলতপূর্ণ ইবাদত তাহাজ্জুদের নামাজ


স্যান ফ্রান্সিসকো এয়ারপোর্ট থেকে বের হই দুপুরের আগে। হাইওয়ে ছেড়ে জনবসতি এলাকা অতিক্রম করার সময় খুব কম লোকের মুখেই মাস্ক দেখেছি। শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ লোকদের একজনও মাস্ক পরা ছিল না। এশিয়ান চেহারার দু’চারজনের মুখে মাস্ক চোখে পড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গেভিন নিউসম রাজ্যজুড়ে মাস্ক পরিধান না করার যে জরিমানা ধার্য করেছেন, তা উচ্চ। বাড়ির বাইরে বের হলে ও অন্য লোকজনের কাছাকাছি এলে মাস্ক বাধ্যতামূলক। 

নির্দেশ ভঙ্গ করলে ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথম বার জরিমানা ১০০ ডলার, একই ব্যক্তি দ্বিতীয় বার নির্দেশ ভঙ্গ করলে জরিমানা ২০০ ডলার এবং তৃতীয় বার ৫০০ ডলার। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানা ধার্যের নিয়ম একটু ভিন্ন। সেখানে প্রথমবারের নির্দেশ ভঙ্গের জরিমানা ২৫০ ডলার, দ্বিতীয় বার ৫০০ ডলার এবং তৃতীয় বার ১,০০০ ডলার। কোনো কোনো কাউন্টিতে নির্দেশ লংঘনে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তৃতীয় বারের জরিমানা ২,০০০ ডলার পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তৃতীয় বারের জরিমানা ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত। 

গত ১৫ এপ্রিল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৬ বছর বয়সের অধিক সকলের জন্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেও মহামারী নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত মাস্ক পরার নির্দেশ বহাল রয়েছে। স্যান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর ও গ্ল্যাডস্টোন সেন্টার ফর এইডস রিসার্চের ডাইরেক্টর ড. মনিকা গান্ধী বলেছেন, “কেউ যদি ভ্যাকসিন নিতে না চায় তাহলে সেটি তার অধিকার, কিন্তু মহামারীর বিস্তার রোধে মাস্ক পরা জরুরী।” 

তাঁর সহকর্মী ড. জর্জ রাদারফোর্ড ২০২২ সাল পর্যন্ত মাস্ক পরার প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। নিউইয়র্কে পথেঘাটে, যানবাহনে মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখিনি। ক্যালিফোর্নিয়ায় মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা থাকা ও প্রশাসনের সতর্কতা সত্বেও মাস্ক পরিধানে ব্যাপক নির্লিপ্ততা আমাকে বিস্মিত করেছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাজনীতি হলো মানুষকে খাঁচায় রাখার কৌশল

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

রাজনীতি হলো মানুষকে খাঁচায় রাখার কৌশল

ইমতিয়াজ মাহমুদ নামের এক ভদ্রলোক বিজ্ঞানকে গালমন্দ করেছেন। গালমন্দটি আমার নজরে এসেছে, এবং পড়ে মনে হয়েছে, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পার্থক্য না জানা কোনো বুড়ো মানুষের প্রলাপ। এ প্রলাপ অনেকে গ্রহণও করেছে, কারণ আলোর সাথে এ অঞ্চলের বাসিন্দারে যোগাযোগ খুব কম। প্রলাপটি তিনি শুরু করেছেন এভাবে:

“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করছে বিজ্ঞান। এমনকি রাজনীতির চেয়েও বেশি।  সহজ ভাষায় পুরোনো কথা বলি, সাগর আর মাটি প্লাস্টিক দিয়ে ধ্বংস করে ফেলছে। সেই প্লাস্টিক বিজ্ঞানের দান। বাতাস ধ্বংস করে ফেলছে, বিজ্ঞান।…..”

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে, আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে একটু ব্যাখ্যা করতে চাই। বিজ্ঞান হলো একটি প্রক্রিয়া, যে-প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে মানুষ নতুন জ্ঞানের অন্বেষণ করে থাকে। আর প্রযুক্তি হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রাপ্ত কোনো জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ। এ প্রয়োগের প্রকৃতি কেমন হবে, তা নির্ধারিত হয় প্রযুক্তিটির ম্যানুফ্যাকচারার বা স্পন্সর দ্বারা। স্পন্সর যদি মাদার তেরেসা হন, তাহলে প্রযুক্তি এক রকম হবে, আর যদি লেসলি গ্রুভস (গ্রুভস ছিলেন ম্যানহাটন প্রজেক্টের পরিচালক) বা প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান হন, তাহলে অন্য রকম হবে। 
মানুষ যখন জঙ্গলে ছিলো, তখন দেখলো যে— কোনো বস্তু যদি শক্ত হয়, যেমন পাথর বা লোহা, এবং এর একটি প্রান্তকে যদি ঘষে ঘষে সরু করা যায়, তাহলে এটি দ্বারা নরম বস্তুদের কাটা বা বিদ্ধ করা সম্ভব হবে। এ চিন্তাটা হলো বিজ্ঞান। আর এ চিন্তার প্রয়োগের ফলে যে-রামদা বা কোদাল বা বর্শা পাওয়া গেলো, তা হলো প্রযুক্তি। কোনো সমাজে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয় রাজনীতি দ্বারা। রাজনীতি যদি গার্হস্থ্য ধরণের হয়, তাহলে রামদা, কোদাল, ও বর্শা ব্যবহৃত হবে পশু শিকারে, কৃষিকাজে, ও রান্নাবান্নায়। আর যদি প্রভাব বিস্তারমূলক হয়, তাহলে তা ব্যবহৃত হবে গোত্র-কলহ ও যুদ্ধে। 

আধুনিক প্রযুক্তি বলতে মানুষ যা বোঝে, তার বয়স খুব বেশি নয়। এসব প্রযুক্তির বহু আগে থেকে পৃথিবীতে বিজ্ঞান ছিলো। নিউটনের কথাই ধরা যাক। তাঁর ল অব গ্র্যাভিটেশন এবং ক্লাসিকেল মেকানিক্সের ফর্মুলেশনগুলো বেশ বয়স্ক। কিন্তু পৃথিবীর ইস্কেইপ ভেলোসিটি আর বায়ুমন্ডলের ফ্রিকশোনাল হিট আমলে নিয়ে আকাশে স্যাটেলাইট ছুড়া হয়েছে মাত্র কয়েক দশক আগে। এই স্যাটেলাইট ছুড়াছুড়ি কিন্তু বিজ্ঞান নয়। এগুলো মানুষের রাজনীতি ও ব্যবসার অংশ মাত্র। 

ইমতিয়াজ মাহমুদের দাবি, প্লাস্টিক বিজ্ঞানের দান। তাকে দোষ দিই না, চিন্তা যখন খর্বাকৃতির হয় তখন প্লাস্টিককে অনেকেই বিজ্ঞানের দান মনে করতে পারেন। বিজ্ঞানের দান হলো পলিমারাইজেশোন ও পলিকনডেনসেশোন নামের দুটি কৌশল, যা ছিনতাই করে পুঁজিবাদী বণিকেরা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করছে প্লাস্টিক। আর এ প্লাস্টিক তারা তুলে দিয়েছে তাদের হাতে, যারা মাটি ও সাগরের প্রতি যত্নশীল নয়। তবে মুফতি ইব্রাহিম আর বাবা রাম রহিমের দেশ দুটি বাদে, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মানুষই তাদের নিজ নিজ মাটি ও সাগরের প্রতি যত্নশীল। তারা প্লাস্টিক বর্জ্যকে এমন একটি ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে এসেছে, যেখানে একটি ছোট্ট পলিথিন ব্যাগের পক্ষেও আর সাগর বা কৃষিজমি ভ্রমণ করা সম্ভব নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এ কৃতিত্ব যতোটা না বিজ্ঞানের, তার চেয়েও বেশি রাজনীতিকদের। ওই দেশগুলোর রাজনীতিকেরা বিচক্ষণ বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। 

আর “বাতাস ধ্বংস করে ফেলেছে, বিজ্ঞান” এ কথাটি দিয়ে তিনি সম্ভবত গাড়ি ও কলকারখানার ধূয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তার বুঝা উচিত ছিলো যে, টয়োটা বা গুয়াংডং কর্পোরেশনের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পর্ক আছে মানুষের লালসা, ও অর্থনীতির। বিজ্ঞান শুধু বলেছে, তাপকে মেকানিক্যাল মোশন ও ইলেকট্রিসিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। বাকিটুকো এগিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকেরা। অটোহানরা শুধু দেখিয়েছিলেন, পরমাণুকে ভাঙা সম্ভব, এবং এ ভাঙন থেকে, যেটিকে আমরা নিউক্লিয়ার ফিশান বলি, পাওয়া যেতে পারে অকল্পনীয় শক্তি। কিন্তু বোমা  বানানোর জন্য লস আলামোস ল্যাব স্থাপন করেছিলো রাজনীতিক ও মিলিটারি জেনারেলরা। আর বায়ুদূষণের একটি বড় কারণ গবাদি পশুর খামার। এ বোভাইনদের পেট থেকেই সবচেয়ে বেশি মিথেন গ্যাস নির্গত হয়। 

আর বাংলাদেশ তো হয়ে উঠেছে জাপানি গাড়ির ডাম্পিং স্টেশন। যেখানে দেশটির উচিত ছিলো ব্রান্ড নিউ এবং ইলেকট্রিক ভেহিকলকে কর সুবিধা দেয়া, সেখানে তারা এগুলোর উপর বেশি করে কর আরোপ করেছে, এবং মানুষজনকে বাধ্য করছে পুরাতন জাপানি ভাঙা গাড়ি ক্রয় করতে। এ রিকন্ডিশোন্ড বা ভাঙা গাড়িগুলোর যে-ইঞ্জিন, তা বাংলাদেশের বাতাসের পুরোটিকেই বিষ বানিয়ে ছাড়বে। এক ভদ্রলোক একটি টেসলা আমদানি করেছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের বুদ্ধিমানেরা ওই লোক থেকে ছয়শো শতাংশ কর আদায় করেছে। যেখানে উচিত ছিলো গাড়িটিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া, সেখানে তারা এটির প্রবেশ রোধ করতে চেয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়ার বাতাসে তোলা ছবি, বাংলাদেশের বাতাসে তোলা ছবির চেয়ে বহুগুণ সুন্দর কেন? একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, এবং সিঙ্গাপুরের ক্ষেত্রে। ওই দেশগুলো তো প্রযুক্তিতে আমাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই, যদিও মূর্খতায় তারা অবশ্যই আমাদের চেয়ে পিছিয়ে আছে। আমার বাড়ির পাশ দিয়ে একটি খাল বয়ে গেছে, যেটিতে ছোটবেলায় আমি সাঁতার কেটেছি। তখন খালটির পানি ছিলো পানি, যা পান করে তৃপ্তি পেতো গ্রামের গরু, ভেড়া, ও হাঁসেরা। কিন্তু এখন, পুরো খালটি হয়ে উঠেছে আলকাতরার নালা। আমি অতিরঞ্জন করছি না, সত্যি সত্যিই আলকাতরা রঙের রাসায়নিকে ঢেকে গেছে খালটি। এ কৃতিত্ব একটি ডেনিম কারখানার। জেলার ডিসিকে আমি বহুবার ব্যাপারটি জানিয়েছি, কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি। ব্যাপারটি এরকম নয় যে শুধু বাংলাদেশেই কল কারখানা আছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলিউশানের জন্ম হয়েছে যে-দেশগুলোতে, সে-দেশগুলোর বাতাস ও পানির মানের দিকে তাকালেই টের পাওয়া যাবে, বিজ্ঞান নয়, আমাদের বাতাস ও পানির দুরবস্থার জন্য দায়ী রাজনীতি, অর্থনীতি, ও দুর্নীতি। আমি চীনের কারখানাগুলোতে যে-মানের ইটিপি দেখেছি, তার এক তৃতীয়াংশ মানের ইটিপিও বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে দেখি নি। যদিও বাংলাদেশের পরিবেশ আইনে, ফুল ফাংশোনাল ইটিপি স্থাপনের বাধ্যবাদকতা রয়েছে। ইটের ভাটাগুলির কথা নাই বা বললাম। ইটের ভাটা যে কতো বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, তা তো আমরা সকলেই জানি। 

ইমতিয়াজ মাহমুদ বলেছেন, “বিভিন্ন দেশ অসংখ্য স্যাটেলাইট পাঠিয়ে পৃথিবীর কক্ষপথরেও বস্তি বানাইয়া ফেলছে”। মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর চারটি কারণ আছে। প্রথম কারণটি গবেষণা, দ্বিতীয়টি বাণিজ্যিক, তৃতীয়টি রাজনীতিক বা সামরিক, আর চতুর্থটি শখ বা অহংকার। সম্প্রতি একটি দেশ, অহংকার প্রদর্শনের জন্য আকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধের সময়, গবেষণার চেয়ে রাজনীতিক কারণেই বেশি স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছিলো। আর এখন এলন মাস্ক নিয়ে এসেছে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বাণিজ্যিক মডেল। আর্থ অরবিটাল যদি কোনো সময় সত্যিই ঢাকার কড়াইল বস্তি ওঠে, তাহলে দায়ী করতে হবে এই দ্বিতীয়, তৃতীয়, ও চতুর্থ কারণকে। বিজ্ঞান বা গবেষণাকে নয়। 

“বিজ্ঞান পৃথিবীরে এক দিলে কেড়ে নিছে দশ” এটি মনগড়া রোম্যান্টিক কথা। এটি বলে কিছু মানুষের মন উদাস করা যেতে পারে, নির্বোধ মর্টালদের কাছ বাহবা পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু বাস্তবতার সাথে এ কথার দূরত্ব আলোক বর্ষের সমান। প্রথমত, মানুষের ম্যাটেরিয়াল অবসেসোনের জন্য বিজ্ঞান দায়ী নয়, দায়ী প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিব্যবসায়ীদের লোভ। পৃথিবীতে ভোগবাদ নামে যে নতুন ধর্মটি তৈরি হয়েছে, তার সাথে বিজ্ঞানের কোনো দেখা সাক্ষাৎ ঘটে না। এটি টিকে আছে মানুষের মগজহীনতাকে পুঁজি করে। দ্বিতীয়ত, আগে প্রকৃতি মানুষকে দশটি সন্তান দিলে কেড়ে নিতো নয়টি, আর এখন বিজ্ঞানের আঘাতে (আসলে হবে প্রযুক্তির আঘাতে) কেড়ে নিতে পারে না একটিও। এ বিষয়ে উদাহরণ দেয়া যাবে অনেক, তবে আমি কথা বাড়িয়ে আলোচনা লম্বা করতে চাই না। 

এবার ইমতিয়াজ মাহমুদ আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিপক্ষকে ডিহিউম্যনাইজ করার কৌশলের। ডিহিউম্যানাইজেশনের বাংলা, হুমায়ুন আজাদ করেছিলেন ‘বিমানবিকীকরণ’, আর আমি করেছিলাম ‘প্রাণীকরণ’ (কারণ গসেতের ডিহিউম্যানাইজেশন অব আর্টের চেয়ে আমার কাছে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিলো মানুষের এনিম্যালাইজেশন)।

তিনি লিখেছেন— “তো, এইসব কথা বললেই বিজ্ঞানরে পবিত্র জ্ঞান করা  কাঁটাবনের বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানানুভূতি আহত হয়। তারা বলে, বিজ্ঞান ঠিক আছে, মানুষ খারাপ। আরে ভোঁদরের দল, ঐ হিসাবে রাজনীতি, ধর্ম ইত্যাদি সবই ঠিক আছে, শুধু মানুষ খারাপ।”
এখানে ইমতিয়াজ মাহমুদ তার প্রতিপক্ষের মোরাল ভেঙে দেয়ার জন্য সাহায্য নিয়েছেন এনিম্যালাইজেশনের, এবং টেনে এনেছেন ভোঁদরের মতো একটি সুন্দর প্রাণীকে। উদ্দেশ্য যখন অসুন্দর হয়, তখন এরকম একটি সুন্দর প্রাণীকে কুৎসিতভাবে উপস্থাপন করাটা বিস্ময়কর কিছু নয়। পুঁটি মাছ যখন কাতলা মাছের চরিত্রে অভিনয় করে, তখন এ বিপর্যয় ঘটে। কবি হুইটম্যান তাঁর একটি কবিতায় ভোঁদরদের (প্রাণীদের) খুব প্রশংসা করেছিলেন, এবং মনে মনে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ভোঁদর (প্রাণী) হওয়ার: 

I think I could turn and live with animals, they are 
so placid and self-contain’d,
I stand and look at them long and long.
They do not sweat and whine about their condition,
They do not lie awake in the dark and weep for their sins,
They do not make me sick discussing their duty to God,
Not one is dissatisfied, not one is demented with the mania of owning things,
Not one kneels to another, nor to his kind that lived thousands of years ago,
Not one is respectable or unhappy over the whole earth….

রাজনীতি আর ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের অত্যন্ত মৌলিক পার্থক্য আছে। ধর্ম স্থির, অবিচল। এর মূলনীতি— প্রচারেই প্রসার। এটি নিজের ধ্বংস অনুমোদন করে না। কিন্তু বিজ্ঞানের এক তত্ত্বকে আরেক তত্ত্ব দিয়ে বাতিল করা যায়। এরিস্টোটলের সময়ে, বিজ্ঞানের চোখে পৃথিবী যেরকম ছিলো, কোপার্নিকাসের সময়ে সেরকম ছিলো না। নিউটনের সময়ে মহাকর্ষ ছিলো একরকম, কিন্তু আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটির পর মহাকর্ষ হয়ে গেলো অন্য রকম। এরিস্টোটলের চারটি স্পিরিটের কথা এখন আর কেউ বলে না। এখন আমরা আত্মা নামক ভূতের আশ্রয় না নিয়ে, মগজে নিরন্তর ঘটতে থাকা বায়ো-কেমিক্যাল রিয়েকশানের সাহায্যে ব্যাখ্যা করতে পারি মানুষের মনকে। আর কাঁটাবনের বিজ্ঞানী কারা, এ সম্পর্কে আমার বিশদ জানা নেই। সম্ভবত তারা মুফতি ইব্রাহিম ঘরানার কেউ হবেন। এরকম হলে, কাঁটাবনের বিজ্ঞানী অভিধাটিতে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ নিজে কাঁটাবনের বিজ্ঞানী কি না এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ থেকে যাবে।
 
রাজনীতি হলো মানুষকে খাঁচায় রাখার কৌশল, আর বৈজ্ঞানিকভাবে রাজনীতিক চিন্তা করা হলো মানুষকে খাঁচা থেকে বের করার কৌশল। দুটি দুই জিনিস। হবস  ও হিউম যেভাবে চিন্তা করতেন, সেটি ছিলো রাজনীতির বৈজ্ঞানিক চিন্তা। একটি লেবিয়াথান লেখা আর ভোটের জন্য রাজনীতি করা এক ব্যাপার নয়। হিউম তাঁর কাজকে বর্ণনা করেছিলেন ‘দ্য সায়েন্স অব হিউম্যান ন্যচার হিশেবে’, যেটিকে আমরা এখন রাজনীতি বলি। সে-হিশেবে রাজনীতিক তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হলেও রাজনীতি করা কিন্তু বৈজ্ঞানিক ব্যাপার নয়। মানুষ রাজনীতি করে থাকে ক্ষমতা উপভোগের জন্যে, আর ক্ষমতার এ উপভোগ টিকিয়ে রাখার জন্যে সে আশ্রয় নেয় প্রযুক্তির। এক প্রযুক্তি দিয়ে মানুষ ফেসবুকে ঢোকে, আর আরেক প্রযুক্তি দিয়ে রাজনীতিকেরা ফেসবুক বন্ধ করে। ম্যাকিয়াভেলি তাঁর প্রিন্সকে মানুষ দমনের যে-বুদ্ধি দিয়েছিলেন, রাজনীতিকেরা প্রযুক্তির সাহায্যে সে-বুদ্ধিরই বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে। এখানে মূল উৎপাদ হলো রাজনীতিকের লক্ষ্য। হ্যাঁ, কিছু বাইপ্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে, যেগুলোর জন্য ইমতিয়াজ মাহমুদ অন্ধভাবে বিজ্ঞানকে গালমন্দ করছেন। আমেরিকার ডিফেন্স পলিসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রি-এম্পটিভ মিজার বা আগাম সতর্কতা। এই প্রি-এম্পটিভ মিজারের অংশ হিশেবেই তারা সাগর মহাসাগরে অনেকগুলো পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে, কিন্তু বাইপ্রোডাক্ট হিশেবে পৃথিবী পেলো তেজস্কক্রিয় জলবায়ু, দূষিত পানি, আর নানা প্রাণীর মৃতদেহ। এ কাজগুলো যারা করেছে তারা অস্ত্রধারী, এবং অস্ত্রধারী কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে আমরা বেশ ভয় পাই। ফলে গালাগালির জন্য অনেকে বেছে নেন নিরস্ত্র বিজ্ঞানকে। ইমতিয়াজ মাহমুদও তাই করেছেন। 

“গ্যালাক্সির দার্শনিক” শব্দগুচ্ছটির ‘গ্যালাক্সি’ অংশটি কিন্তু বিজ্ঞানের আবিষ্কার। আর ‘দার্শনিক’ শব্দটি বাংলাদেশে হয়ে উঠেছে ছাগলের মাথার মুকুটের মতো। যে যেভাবে পারছে শব্দটিকে ব্যবহার করছে। এদেশে যে কোনো কালে কোনো দার্শনিক জন্মান নি, এবং দর্শনের সাথে যে আমাদের কোনো পরিচয় নেই, তার বড় প্রমাণ এ শব্দটির অপপ্রয়োগ। একটি প্রিন্সিপিয়া ম্যাথম্যাটিকা বা ফেনোমেনোলজি অব স্পিরিট কি আমাদের আছে? কান্টের তিনটি ক্রিটিকের সাথে, বা রাসেলের অন ডিনোটিংয়ের সাথে, বা শোপেনহাওয়ারের উইলের সাথে বা বেন্থামের ফ্রাগমেন্টের সাথে কি কোনো ভাবাবেগময় পদ্যের তুলনা করা যায়? কিন্তু বাঙালি করছে কবরবাসীর আচরণ। তারা যাকে তাকে ডাকছে দার্শনিক! আমি বিভিন্ন সভা সেমিনারেও লক্ষ করেছি, সস্তা রাজনীতি ও ইতিহাস উচ্চারণকারীদের দার্শনিক ডাকা হচ্ছে! গল্প, উপন্যাস, ছড়া, এবং কবিতা লেখেন, এমন মানুষদেরও দার্শনিক ডাকা হচ্ছে! এসব দেখে অন্য গ্যালাক্সিতে লুকিয়ে থাকা রুশো, লক, বার্কলেরা নিশ্চয়ই হাসাহাসি করছেন। 

“বিজ্ঞানরে পবিত্র জ্ঞান করার কিছু নাই”, বিজ্ঞান কি কারও কাছে পবিত্রতা দাবি করেছে? বিজ্ঞান কি মানুষ যে এর স্থলন ঘটে? যাদের লুঙ্গি সারাক্ষণ নষ্ট থাকে তারা এ কাজ করলে করতে পারে, কিন্তু এদের সাথে বিজ্ঞানের কোনো যোগাযোগ নেই। এরা বড়জোর প্রযুক্তিভক্ত উন্মাদ। আর মানুষের অভ্যাস বদলিয়েছে মানুষ। এক মানুষ আরেক মানুষকে টোপ দেখিয়েছে নতুন পণ্যের, আর অমনি আলসে মানুষেরা গিলেছে ওই বড়শী। এখন আটকা পড়ে লাথি মারছে বিজ্ঞানের উপর। স্বর্ণ তো এক প্রকার ধাতব পাথর, মানুষের জীবনে এটি কোনো কাজে লাগে বলে শোনা যায় না, কিন্তু এটি লাখ টাকা দিয়ে কেনার অভ্যাস মানুষ কেন করলো? স্বর্ণ মূল্যবান, এটি তো বিজ্ঞান রটায় নি। রটিয়েছিলো অর্থলোভী মানুষেরা। স্মার্টফোনের ব্যবসা তো সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা করছে না, করছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। 

মানুষকে ক্ষুধা, ভয়, মৃত্যু, অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির দায়িত্ব বিজ্ঞান নেয় নি, নিয়েছিলো ধর্মনেতা ও রাজনীতিকেরা। রুশ জারদের হাত থেকে এ দায়িত্ব লেনিন নিয়েছিলো, এবং মানুষ দিয়ে ভরে ফেলেছিলো কারাগার। বহু দেশে এখন, না খেয়ে মারা যাওয়ার চেয়ে মেদ-ভুঁড়িতে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অসুখে মারা যাওয়ার চেয়ে যুদ্ধে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এগুলো মানুষের দুর্দশার বৈজ্ঞানিক কারণ নয়, সামাজিক ও রাজনীতিক কারণ। 

“হাজার হাজার বছরেও মানুষের বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয় নাই। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব অহংকার নিয়ে মানুষ এখনো কুত্তার মতন অসহায়”, এগুলো হলো চিপ রেটোরিক। কুত্তা কখনোই অসহায় ছিলো না। কুত্তা অসহায় হয়েছে মানুষ কর্তৃক কুত্তার ডোমেস্টিকেশন বা গৃহপালিতকরণের পর। মানুষ ও কুত্তা যখন উভয়েই জঙ্গলে ছিলো, তখন কুত্তা মানুষের চেয়ে ভালো খাবার খেতো। মানুষকে দীর্ঘকাল অন্য প্রাণীর উচ্ছিষ্ট খেতে হয়েছে। শক্তিমান প্রাণীরা যখন শিকার ধরে মাংস খেতো, এবং মাংস খেয়ে হাড়গোড় ফেলে যেতো, তখন মানুষ ওই ফেলে যাওয়া হাড় ভেঙে বোনম্যারো খেতো। 
বিজ্ঞানকেও গালমন্দ করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে, কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ ওই পড়াশোনো আর পরিশ্রমের পথে হাঁটতে চান নি। তিনি হেঁটে গিয়েছেন সেই পথে, যে-পথে বাঙালি, লাইন ধরে পিঁপড়ার মতো যায়। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

মহিউদ্দিন মোহাম্মদ 

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

অসময়ের নোট বুক

হারুন আল নাসিফ

অসময়ের নোট বুক

সমসাময়িক ঘটনাবলি আমাকে খুবই প্রভাবিত করে। মাঝে-মধ্য মনের শান্তি কেড়ে নেয়। সারা রাত ঘুমাতে পারি না। একটা ঘটনা অনেক সময় আমার মধ্যে হাজারো প্রশ্নের উদ্রেক করে। ভাবনার অতলে হারিয়ে যাই। কোনো কূল-কিনারা করে উঠতে পারি না। মনে হয় অকূল সমুদ্রে একা ও একাকী ভেসে বেড়াচ্ছি।

অনেক সময় চেষ্টা করি উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে চারপাশের জগৎটাকে ভুলে থাকতে। পারি না। কোনোভাবেই পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন-বিযুক্ত করা যায় না। যা-দেখছি, যা-শুনছি, যা-জানতে পারছি তা সব ঠিক আছে এমন ভাবনা ভাবতে পারলে কোনো অসুবিধে হতো না।

কেনো জানি সমাজের অনেক কিছুই মানতে পারি না। আর পারি না বলেই যতো ঝামেলা। মনের ঘরে সিঁদ কেটে ঢুকে পড়ে অশান্তির সিঁদেল চোর। সে আমার যাবতীয় শান্তি চুরি করে পালিয়ে যায়। আর রেখে যায় রাজ্যের শূন্যতা। আর তা বুকজুড়ে বাজতে থাকে এক মর্মন্তুদ মরমী হাহাকার হয়ে।


মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটুনির ১মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল

ডাক্তার-পুলিশের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত: হাইকোর্ট

একদিনে করোনা শনাক্ত ৪৫৫৯

২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৯১ জন


হেফাজতের মাওলানা মামুন কী করেছে, তার সাথে তারা কী করেছে- এসব নিয়ে আমার না ভাবলেও দিন চলে যেতো। তবু এ ঘটনায় আমার মাথায় অজস্র প্রশ্নের সৃষ্টি হয়, উত্তর পেতে চায় অবুঝ মন। কিন্তু পায় না। না পেয়ে বিমর্ষ হয়, অবসাদে ভোগে। রাগ-ক্ষোভ প্রচুর নেতিবাচক রসায়নের নিঃসরণ ঘটায়। ক্ষতি হয় আত্মার-মননের।

করোনা মহামারীতে মানুষের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, দুনিয়াজুড়ে। যে কোনো সময় নিজের বা পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওযার এবং এর পরিণতি ভোগের আশঙ্কা যে মনকে পীড়িত করবে এটি অস্বাভাবিক নয়। এছাড়া নানা ক্ষেত্রের প্রিয় মানুষদের মৃত্যুর খবর যে মনকে সারাক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখছে তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

মোদির বাংলাদেশে আসার বিরোধিতার নামে সৃষ্ট গোলযোগে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭-এর বেশি মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাঁচ শ্রমিকহত্যার ঘটনা যখন হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে তখন নতুন কোনো চাপ নেওয়ার মতো অবস্থা আমার অন্তত ছিলো না।

না থাকলে তো আর হবে না! কপালে থাকলে গোঁদের ওপর বিষফেঁড়া হতেই পারে। হলোও তা। এলো ডাক্তার বনাম পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট বাহাসের ভাইরাল ভিডিও। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি দিচ্ছেন অনেকে। আমিও আর এর বাইরে থাকতে পারলাম না। নানা প্রশ্ন-উত্তর আমার নাজুক মাথায়ও ঘুরপাক খাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি ঘূর্ণিপাকের মতো আমার চেতনাকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে তা হলো, আমাদের চারপাশে আমরা যে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত অগুনতি, অজস্র সম্মানিত পেশাজীবীদের দেখতে পাচ্ছি তারা কি কেবল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, অধ্যাপক, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ইত্যাদি? মানুষ না?

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর