জরুরি কিছু আমল ও দোয়া
জরুরি কিছু আমল ও  দোয়া

জরুরি কিছু আমল ও দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো কঠিন সমস্যা বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখনই আল্লাহর কাছে একান্তভাবে প্রার্থনা করতেন। বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, এমন অনেক দোয়া পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। দোয়াগুলো ছোট, সহজে মুখস্থও করা যায়। দেহ সজীব ও প্রাণবন্ত রাখার জন্য যেমন খাবার বা আহারের প্রয়োজন, তেমনি কলব বা রুহকে জীবিত রাখার জন্যও খাবারের প্রয়োজন হয়।

আর রুহ বা কলবের সেই খাবার হলো আল্লাহর জিকির করা। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হোয়ো না। ’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫২)।

মহান আল্লাহর তাআলার সন্তুষ্টি পাওয়ার দোয়া : হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এবং বিকালে তিনবার এ দোয়াটি পাঠ করবে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করবেন। -মুসনাদে আহমাদ ‍ 

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا 

উচ্চারণ : রাজিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।  

অর্থ : আমি আল্লাহ তায়ালাকে প্রভু পেয়ে সন্তুষ্ট, ইসলামকে জীবনাদর্শ পেয়ে সন্তুষ্ট ও হজরত মোহাম্মদ (সা.) কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট আছি।

বিপদে পাঠ করার দোয়া: হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বিপদের সময় এই দোয়াটি পাঠ করতেন — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালীমুল হাকীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি- ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম।  

অর্থ : আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহাজ্ঞানী। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি মহান আরশের প্রভু। আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি আকাশমন্ডলী, জমিন ও মহা সম্মানিত আরশের প্রভু। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম

বিশেষ প্রয়োজনীয় কিছু দোয়া: কোনো গুনাহের কাজ অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া ছাড়া কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে যে কোনো দোয়া করুক না কেন, আল্লাহ পাক তাকে ৩ টি জিনিসের যেকোনো একটি অবশ্যই দান করবেন। মানে দোয়ার জবাবে আল্লাহ ৩ টি উত্তর দেন-

 ১) হয় যেটা চেয়েছে সেটাই দান করবেন।  

২) অথবা উহা তার পরকালের জন্য জমা রাখবেন ।  

৩) অথবা উহার অনুরূপ কোনো অমঙ্গলকে তার থেকে দূরে রাখবেন।


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


খেয়াল করবেন আল্লাহ কিন্তু না বলেন না। মানব কল্যাণের জন্য জন্য আল্লাহ যুগে যুগে বহু নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন।  

সর্বশেষ নবী মোহাম্মদ (সা.) এর জীবন আদর্শ মেনে চললে ও তার উপর নাজিলকৃত মহান আল কোরআনে দেয়া দিক নির্দেশনা গুলো মেনে চললে আখিরাত তো অবশ্যই দুনিয়াতেও নিশ্চিত ভাবে সফল হওয়া যায়।  

তবে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার জীবনের চেয়ে পরকালকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। দুনিয়ার সমস্যা গুলোর সমাধান, দোয়া কবুল হওয়ার জন্য ও আখিরাতে উত্তম ফল লাভের জন্য আল্লাহর জিকির ও তার রসূল (সা.) এর উপর দরুদ ও সালাম জানানো খুব ফলপ্রসূ।

নিচের আমলটি দোয়া কবুলের জন্য করতে পারেন।

আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে তার শক্তি সামর্থ্য সম্পর্কে পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে নিচের আমলটি করলে দোয়া কবুল হবে ইনশাআল্লাহ।  

রাতের শেষ তৃতীয়াংশে ওযু করে পবিত্র হয়ে দুই রাকাত সালাতুত তওবার নামাজ পড়ে ও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে- ১০০ বার সুবাহানাল্লা ১০০ বার, আলহামদুলিল্লাহ ১০০ বার, আল্লাহু আকবার ১০০ বার, ইয়া ওয়াহহাব ১০০ বার, আসতাগফিরুল্লাহ ১০০ বার, দোয়া ইউনুছ তথা লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন-তু মিনাজ জোয়ালেমিন ১০০ বার, আল্লাহর মহান রসূল (সা.) এর উপর ১০০ বার দরুদ পড়ে দোয়া করলে ইনশাআল্লাহ দোয়া কবুল হবে।

এই আমল গুলো নিয়মিত করলে, নিয়মিত নামাজ পড়লে ও প্রতিদিন অন্তত কোরআন থেকে ৫ টি আয়াত অর্থ সহ তেলাওয়াত করলে আল্লাহ বান্দার ঈমান বাড়িয়ে দিবেন। ঈমানকে বাড়াতে বাড়াতে আল্লাহ এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবেন যে, দুনিয়ার কাউকে পরওয়া করবেন না সবকিছুতেই একমাত্র আল্লাহর উপরেই ভরসা করবেন।  

নবী করিম (সা.) বলেছেন, সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া হলো ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’। আরও পড়তে পারেন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার।

আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করার আগে প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন।

news24bd.tv/আলী