তায়াম্মুম কীভাবে করবেন

অনলাইন ডেস্ক

তায়াম্মুম কীভাবে করবেন

ইবাদত পালনের জন্য ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্রতা অর্জন সাধারণত অজু, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, কোনো স্থানে পবিত্রতা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই, কিংবা পানি ব্যবহার ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর। এমন পরিস্থিতিতে ইসলাম তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছে। 

‘তায়াম্মুম’ শব্দের অর্থ হলো ইচ্ছা করা। শরিয়তের পরিভাষায় তায়াম্মুম বলা হয় পবিত্রতার নিয়তে পবিত্র মাটির ওপর হাত মেরে চেহারা ও কনুই পর্যন্ত হাত মাসেহ করাকে। (আল ফিকহুল ইসলামী : ১/৪৯৮)

তায়াম্মুম বিষয়ে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে থাকো কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে, কিংবা নারীগমন করে থাকো, কিন্তু পরে যদি পানিপ্রাপ্তির সম্ভাবনা না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও। মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করে নাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৪৩)

তায়াম্মুমের ফরজসমূহ

তায়াম্মুমের ফরজ দুটি—

১। পুরো চেহারা একবার মাসেহ করা।

২। উভয় হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করা। (দারাকুতনি : ৬৯৭)

তায়াম্মুমের সুন্নতসমূহ

নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তায়াম্মুমের সুন্নত—

১। তায়াম্মুমের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া। (জমউল জাওয়ামে : ১/১৫৭৮৭)

২। ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭৯)

৩। মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করার মাঝখানে অন্য কোনো কাজ না করা। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৭২)

৪। মাটির মধ্যে হাত আগে-পিছে নড়াচড়া করা। (দারাকুতনি : ৬৯৭)

৫। মাটির ওপর হাত মারার পর উভয় হাত ঝেড়ে ফেলা। (মুসলিম, হাদিস : ৫৫৩; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৫৬৩)

৬। মাটির ওপর হাত রাখার সময় আঙুলগুলো খোলা রাখা। (দারাকুতনি : ৬৯৭)


কেক কেটে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা

মোদিবিরোধী মিছিল হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: মনিরুল

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইসলামী ব্যাংক

ঢাকার মশা নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের আশ্বাস স্পেনের রাষ্ট্রদূতের


 

তায়াম্মুমের পদ্ধতি

তায়াম্মুম করার ইচ্ছাকারী ব্যক্তি উভয় হাতের কাপড়গুলো কনুইয়ের ওপরে উঠিয়ে নেবে। তায়াম্মুম দ্বারা নামাজ পড়ার নিয়ত করে বিসমিল্লাহ পাঠ করবে। নিজের উভয় হাতের তালুকে আঙুলগুলো খোলা রেখে মাটির ওপর রাখবে। হাতকে মাটির ওপর সামান্য ঘষবে। তারপর উভয় হাত উঠিয়ে ঝেড়ে ফেলবে। এরপর পুরো মুখমণ্ডল মাসেহ করবে। অতঃপর আগের মতো উভয় হাতের তালু আঙুল খোলা রেখে মাটির ওপর রেখে সামান্য ঘষবে। এরপর নিজের বাঁ হাত দ্বারা ডান হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করবে। এরপর ডান হাত দ্বারা বাঁ হাত কনুই পর্যন্ত মাসেহ করবে। তাতে তায়াম্মুম পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর তা দ্বারা ফরজ, নফল সব ধরনের ইবাদত আদায় করতে পারবে। (কিতাবুল আসার লি আবি ইউসুফ : ৭৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/১৬০)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

গোসলের ফরজ কয়টি ও কী কী

অনলাইন ডেস্ক

গোসলের ফরজ কয়টি ও কী কী

পেশাব-পায়খানা, ময়লা-আবর্জনা ইত্যাদি নাপাক জিনিস হতে পাক সাফ থাকাকেই পাক-পবিত্রতা বলে। পাক-পবিত্র হওয়ার একটি উপায় হল গোসল। পানি দিয়ে সারা শরীর ধোয়াকে গোসল বলে। 

অনেকেই ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম জানেন না; আবার সংকোচে কাউকে জিজ্ঞেস ও করতে পারেন না। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানার কারণে অসংখ্য মুসলিমের নানা আমল কবুল হয় না। অথচ নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ।

আল্লাহ বলেন- হে ঈমানদার গণ! নামাযের ধারে-কাছে যেয়ো না যখন তোমরা নেশা অবস্থায় মাতাল হয়ে থাকো, যে পর্যন্ত না তোমরা বুঝো কি তোমরা বলছো, অথবা যৌন-সম্ভোগ করার পরবর্তী অবস্থায়, যতক্ষণ না গোসল করেছ। [সূরা আন’নিসা : ৪৩ ]


আধাঘণ্টায় গাজার ৬৫টি স্থানে বিমান হামলার দাবি জিলম্যানের

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ আসছে, আঘাত হানতে পারে সুন্দরবনে

চার ঘণ্টায় গেল ১৮ প্রাণ

হামাসের যে কৌশলে কোণঠাসা ইসরাইল!


এবার আসুন আমরা গোসলের ফরজগুলো জেনে নেই।

গোসলের ফরজ তিনটি:

১. একবার কুলি করা ফরজ।
১. একবার নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌঁছিয়ে পরিস্কার করা ফরজ।
৩. সমস্ত শরীরে পানি পৌঁছানো ফরজ।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে ৬ রোজায় মিলবে বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব

অনলাইন ডেস্ক

যে ৬ রোজায় মিলবে বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের শান্তির বার্তা নিয়ে মাহে রমজান বিদায় নিয়েছে। শুরু হয়েছে বছরজুড়ে রোজার সওয়াব লাভের মাস শাওয়াল। পবিত্র রমাজানের পরবর্তী মাস এবং চন্দ্র মাসের দশম মাস হচ্ছে শাওয়াল মাস। 

শাওয়াল শব্দটি ‘শাওলুন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে- উঁচু করা, উন্নতকরণ, উন্নত ভূমি, পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া, প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা দানে হস্ত প্রসারিত করা।

শাওয়ালের আরেক অর্থ হচ্ছে বের হওয়া। যেহেতু এ মাসে আরববাসী আনন্দ-উল্লাসের জন্য ভ্রমণে বের হয় এজন্য শাওয়ালকে শাওয়াল বলা হয়। (গিয়াসুল্লুগাত-২৮৭)।

রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হলে মোট রোজার সংখ্যা হয় ৩৬। আর প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে কোরআনুল কারিমে। তাহলে ৩৬টি রোজার ১০ গুণ হলে ৩৬০টি রোজার সমান (এটি পুরস্কারের দিক থেকে)। অর্থাৎ সারা বছর রোজার সমান সওয়াব হবে।

ছয় রোজার ফজিলত:

শাওয়াল মাসের ছয় রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পূর্ণ বছরই রোজা রাখল। (সহিহ মুসলিম) অপর বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য। (মুসনাদে আহমাদ) 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন, যারা পবিত্র রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়ালের আরো ছয়টি রোজা রাখবে তারা সেই ব্যক্তির মতো হয়ে যাবে যে ব্যক্তি সদ্য তার মায়ের পেট থেকে দুনিয়াতে আগমন করেছে। অর্থাৎ সে শিশু যেভাবে পুত-পবিত্র তথা নিষ্পাপ, তার কোনো গুনাহ নেই, যারা শাওয়ালের ছয় রোজা রাখবে তারাও সেই নিষ্পাপ শিশুর মতো হয়ে যাবে। (তিরমিজ) 

হযরত উবাইদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার উপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে, কাজেই তুমি সারাবছর রোজা না রেখে রমজানে রোজা রাখো এবং রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের ছয় রোজা রাখো। তাহলেই তুমি সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। (তিরমিজি)

কীভাবে রাখবেন ছয় রোজা:

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) শাওয়াল মাসের ভেতর ছয় রোজা রাখার কথা বলেছেন। মাসের প্রথম দিকে, মধ্যভাগে না শেষাংশে সে কথা হাদিসে উল্লেখ নেই। আবার ছয়টি রোজা একসঙ্গে লাগাতার রাখতে হবে, না-কি বিরতি দিয়ে দিয়ে রাখতে হবে, সে কথারও কোনো উল্লেখ নেই। তাই বিজ্ঞ ফকীহ ও আলিমগণের অভিমত হল, যেহেতু শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উৎসব এবং ওই দিনে রোজা রাখা হারাম, সেহেতু ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যে কোনো ছয়দিনে রোজা রাখলেই উল্লিখিত সওয়াব লাভ করা যাবে।


স্বাস্থ্য বিভাগের পিয়ন থেকে শুরু করে ওপরের সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক

যুদ্ধবিরতির জন্য ফিলিস্তিনিদের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হবে ইসরাইল: হামাস

রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি


এই আরবি শাওয়াল মাসের অর্থাৎ প্রথমদিকে, মাঝামাঝি দিনগুলোতে অথবা শেষদিকে, আবার একাধারে ছয়দিন অথবা একদিন রোজা রেখে তারপর একদিন বা দু’দিন বিরতি দিয়ে আবার একদিন যে কোনোভাবে রোজা রাখা যাবে। শাওয়াল মাসের মধ্যে ছয়টি রোজা রাখলেই হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি

অনলাইন ডেস্ক

আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবেন যে সাত ব্যক্তি

দুনিয়া হচ্ছে পরকালের শস্যক্ষেত্র। পরকালে সবাইকে দুনিয়ার জীবনের সব কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে। হাশরের মাঠে, মাথার খুব নিকটে যখন থাকবে সূর্যটা, সমস্ত মানুষ থাকবে পেরেশান, তখন কিছু মানুষকে আল্লাহ তায়ালা পরম যতনে স্থান দিবেন তার আরশের ছায়ায়। আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামত দিবসে সাত (ধরনের) ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা তার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত ভিন্ন কোন ছায়া থাকবে না। তারা হলো..

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক। যারা ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে শাসন কাজ পরিচালনা করে তারা আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। এখানে শাসক বলতে সর্বস্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। তিনি পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র বা কোনো দলের নেতা যাই হোন না কেন, নেতৃত্বের ব্যাপারে ন্যায় ও ইনসাফ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব না হলে তা অধীনস্তদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। নেতৃত্বের প্রতি অনীহা সৃষ্টির ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের যাবতীয় ব্যাপারে দায়িত্বশীল হওয়ার পর তাদের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করবে, আল্লাহ তার জন্য বেহেশত হারাম করে দেবেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

২. যে যুবক আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে। যৌবনকাল মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময় মানুষ যেকোনো দিকে ধাবিত হতে পারে। আর এই সময়ে যে আল্লাহর ইবাদত করবে, সে এই ছায়ার নিচে আশ্রয় পাবে।

৩. যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলে থাকে। অন্তর মসজিদের সঙ্গে ঝুলে থাকার অর্থ হলো আল্লাহর সঙ্গে সান্নিধ্য লাভের ব্যাপারে তার ব্যাকুলতা। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়ার জন্য ব্যাকুলতা। এক ওয়াক্ত নামাজ পড়ার পর আরেক ওয়াক্ত নামাজ কখন মসজিদে গিয়ে আদায় করবে যার মনের মধ্যে এমন অস্থিরতা কাজ করবে সে আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ মুমিনদের জন্য মেরাজস্বরূপ।’ মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব অনেক।

৪. সেই দুই ব্যক্তি যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই বন্ধুত্ব রাখে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই বিচ্ছিন্ন হয়, তারা আরশের ছায়ায় স্থান পাবে। মুসলমানদের প্রত্যেকটি কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে এবং ঈমানের পরিপূর্ণতার জন্যই হওয়া উচিত। কোনো কিছুকে ভালোবাসলে তা আল্লাহর জন্য এবং পরিত্যাগ করলে তাও আল্লাহর জন্য হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বলুন আমার নামাজ (ইবাদতে বদনি বা শারীরিক ইবাদত), আমার কোরবানি (ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত), আমার জীবন, আমার মরণ সবই একমাত্র আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম : আয়াত ১৩২)। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসা, ঘৃণা করা, দান করা ও দান না করা নিছক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়ে থাকে, সে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার। (বুখারি)

৫. যে ব্যক্তিকে কোনো অভিজাত ও সুন্দরী রমণী ডাকে (ব্যভিচারের জন্য), তখন সে তা প্রত্যাখ্যান করে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি। সেই ব্যক্তি পাবে আরশের ছায়া। যৌবনকালে নারী-পুরুষ একজন অন্যজনের সান্নিধ্য চায়। সৃষ্টিগতভাবে এটা একটা স্বাভাবিক কামনা। তখন সম্ভ্রান্ত ঘরের কোনো সুন্দরী রমণী ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার প্রস্তাব করলে শুধু আল্লাহর ভয়েই তা থেকে বিরত থাকা যায়। এভাবে চরিত্রের হেফাজত করলেই আরশের ছায়ায় স্থান লাভ করা যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং অসৎ পন্থা।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত 

৩২)। তিনি আরও বলেন, ‘লজ্জাহীনতার যত পন্থা আছে তার কাছেও যেও না, তা প্রকাশ্যে হোক বা গোপনে হোক।’ (সুরা আনআম: আয়াত ১৫২)। ইসলাম বিবাহের মাধ্যমে বৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে।


রোজিনার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

নিয়োগ দেবে এসিআই


৬. যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে বাম হাত জানে না। তার মানে সে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই দান করে, মানুষের কাছে দাতা সাজার জন্য নয়। দান করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তোমাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ কর মৃত্যু আসার আগেই।’ (সুরা মুনাফিকুন : আয়াত ১০)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা কিছুতেই কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুগুলোকে আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত ৯২)। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হবে দান করার মূল লক্ষ্য। প্রকাশ্যে দান করলে মনে অহঙ্কার আসতে পারে, এ জন্যই গোপনে দান করার কথা বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের সৌন্দর্য ও সম্পদের দিকে লক্ষ করেন না বরং তোমাদের অন্তঃকরণ ও কাজের দিকে লক্ষ করেন।’

৭. আর যে ব্যক্তি গোপনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং চোখের পানি ফেলে। এর অর্থ হলো সে গোপনে আল্লাহকে স্মরণ করে নিজের পাপ মার্জনার জন্য চোখের পানি বের করে। নির্জনে আল্লাহর ভয়ে দুই কারণে চোখের পানি ফেলা হয়।

ক. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের জন্য।

খ. নিজের অপরাধ স্মরণ করে মুক্তিলাভের জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি ফেলেছে, তার জাহান্নামে প্রবেশ করা তেমনি অসম্ভব, যেমনি অসম্ভব দোহন করা দুধকে পুনরায় ওলানে প্রবেশ করানো। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তার পথে জিহাদ করেছে সে ব্যক্তি আর জাহান্নামের ধোয়া একত্র হবে না।’ (তিরমিজি)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘দুই প্রকার চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করতে পারবে না।

১. ওই চোখ যা আল্লাহর ভয়ে অশ্রু বিসর্জন দেয়। ২. ওই চোখ যা আল্লাহর পথে পাহারাদারিতে রাত জাগে।’ (বুখারি)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

অনলাইন ডেস্ক

যেভাবে সালাতুত তাসবিহ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবী

যে নামাজে বার বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি পড়া হয়, ওই নামাজকে সালাতুত তাসবিহ বা তাসবিহ-এর নামাজ। এ নামাজের ফজিলত বর্ণনা করেছেন বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্ম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যা তিনি তাঁর চাচা হজরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বর্ণনা করে শোনান। হাদিসটি তুলে ধরা হলো-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘একদিন বিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আমার পিতা) হজরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বললেন, ‘হে আব্বাস! হে চাচাজান! আমি কি আপনাকে দেব না? আমি কি আপনাকে দান করব না? আমি কি আপনাকে সংবাদ দেব না? আমি কি আপনার সাথে দশটি সৎকাজ করব না? (অর্থাৎ দশটি উত্তম তাসবিহ শিক্ষা দেব না)

যখন আপনি তা (আমল) করবেন তখন আল্লাহ তাআলা আপনার আগের, পরের, পুরাতন, নতুন, সব প্রকার গোনাহ, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত গোনাহ, সগিরা গোনাহ, কবিরা গোনাহ, গুপ্ত ও প্রকাশ্য গোনাহ মাফ করে দেবেন।

আপনি চার রাকাআত নামাজ পড়বেন এবং প্রত্যেক রাকাআতে সূরা ফাতেহা পাঠ করবেন এবং যে কোনো একটি সূরা মেলাবেন। (অর্থাৎ প্রত্যেক রাকাআতে এ তাসবিহটি ৭৫ বার করে আদায় করতে হবে।)

আরও পড়ুন

  যে সূরাগুলো পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম

  ইসরায়েলি বাহিনী যা করছে, তা যুদ্ধাপরাধ : ইসরায়েলের সাবেক পাইলট

  ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় ‘হতবাক’ জাতিসংঘ মহাসচিব

  ইসরায়েলের স্বয়ংক্রিয় লাইকের সেই পেইজ রিমুভ করল ফেসবুক

 

নামাজের যে সব স্থানে এ তাসবিহ পাঠ করতে হবে। তাহলো-

- প্রথম রাকাআতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলানোর পর রুকুর আগে দাঁড়ানো অবস্থায়
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا اِلهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرُ
(সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার) ১৫ বার।

- অতঃপর রুকুর তাসবিহ-এর পর রুকু অবস্থায় (এ তাসবিহ) ১০ বার।
- তারপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় (এ সাতবিহ) ১০ বার।
- অতঃপর সেজদার তাসবিহ-এর পর মাথা নত করবেন এবং সেজদাবস্থায় (এ তাসবিহ) ১০ বার।
- তারপর দুই সেজদার মাঝে বসে (এ তাসবিহ) ১০ বার।
- অতঃপর পুনরায় দ্বিতীয় সেজদায় ১০ বার এবং
- পুনরায় সেজদা থেকে মাথা ওঠিয়ে ১০ বার। মোট প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার করে ৪ রাকাআতে মোট ৩০০ বার এ তাসবিহ পাঠ করা।

(হে চাচা!) এভাবে যদি প্রতিদিন একবার এ নামাজ পড়তে সক্ষম হন; তবে তা পড়বেন। আর যদি সক্ষম না হন, তবে প্রত্যেক জুমআর দিনে একবার পড়বনে।

তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক মাসে একবার পড়বেন। তাও যদি না পারেন তবে প্রত্যেক বছর একবার পড়বেন, আর যদি তাও না পারেন তবে আপনার জীবনে অন্তত একবার পড়বেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)

এ হলো ফজিলতপূর্ণ সর্বাধিক তাসবিহ সম্বলিত নামাজ ‘সালাতুত তাসবিহ’। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাসবিহ নামাজসহ যে কোনো নামাজ এবং ইবাদত-বন্দেগি যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

যে সূরাগুলো পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম

অনলাইন ডেস্ক

যে সূরাগুলো পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম

পবিত্র কুরআনুল কারিমের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। এই মহাগ্রন্থের যে কোন আয়াতই ফজিলতপূর্ণ। আমরা অনেকেই কুরআনের সূরাগুলোর আমল সম্পর্কে জানি না। তাই এসব সূরার ফজিলত ও আমল সম্পর্কে জানলে জান্নাতের পথ আরও সুগম হবে।

মহাগ্রন্থ আল কুরআনের প্রতিটি সূরার রয়েছে আলাদা আলাদা ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য। যেগুলোর আমল করা মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সূরাগুলোর আমল ও ফজিলত তুলে ধরা হলো-

সূরা যুখরূফ-এর আমলের ফজিলত

তাফসিরে দুরারুন নজমে এসেছে, এ সূরাটি লিখে বৃষ্টির পানি দ্বারা ধৌত করে পান করলে কফ-কাশি দূর হয়।

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে, সূরা যুখরূফ তেলাওয়াত করছে, তার অর্থ দাঁড়াবে ঐ ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে সফল হবে আর পরকালে সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করবে।

সূরা দুখান-এর আমলের ফজিলত

ইবনে মারদুবিয়া হজরত আবু উমামা বাহেলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর রাতে অথবা জুমআর দিনে সূরা দুখান তেলাওয়াত করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য জান্নাতে একটি মহল তৈরি করেন।

বাইহাকি বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর রাতে এ সূরা এবং সূরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে। সে সকালে এমন অবস্থায় জাগ্রত হবে যে, তার সকল গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে।

ইমাম তিরমিজি ও বাইহাকি হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা দুখান তেলাওয়াত করবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতে থাকবে।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যা বেলায় সূরা দুখান, সূরা গাফের ও আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করবে, সকাল পর্যন্ত তাঁর হেফাজত করা হবে এবং সে কোনো প্রকার মন্দ কিছু দেখবে না।

আরও পড়ুন

  ইসরায়েলি বাহিনী যা করছে, তা যুদ্ধাপরাধ : ইসরায়েলের সাবেক পাইলট

  ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় ‘হতবাক’ জাতিসংঘ মহাসচিব

  ইসরায়েলের স্বয়ংক্রিয় লাইকের সেই পেইজ রিমুভ করল ফেসবুক

  আল-জাজিরা ভবনে ‘ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের’ গোয়েন্দা অফিস ছিল : নেতানিয়াহু

 

সূরা ঝাছিয়া-এর আমলের ফজিলত

যে ব্যক্তি স্বপ্নে এ সূরাকে পাঠ করতে দেখে, তার মধ্যে দুনিয়া ত্যাগের ভাব তৈরি হবে এবং সে পরহেজগার তথা আল্লাহভীরু হবে।

সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর কেউ যদি এ সূরা লিবিপদ্ধ করে তার দেহে বেঁধে রাখে, তবে সব ধরনের কষ্টদায়ক বস্তু থেকে নবজাতক শিশু হেফাজত থাকবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ সূরাগুলোর নিয়মিত আমল করার তাওফিক দান করুন। আামিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর