সংবাদপত্রের হুমকি বাস্তবতা ও হিকির জেল

নঈম নিজাম

সংবাদপত্রের হুমকি বাস্তবতা ও হিকির জেল

নঈম নিজাম

দেখতে দেখতে সময় চলে যায়। ১১ বছর শেষ হলো। আজ এক যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ প্রতিদিন করোনাকালকে জয় করতে পেরেছে। 

১১ বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এই কঠিনতম সময়েও প্রচারসংখ্যার অবস্থান ধরে রেখেছে সবার শীর্ষে। সংবাদপত্রে তৈরি করেছে এক নতুন ইতিহাস, নতুন অধ্যায়। এ অধ্যায় স্বপ্ন জয় করে সৃষ্টিশীলতার সাফল্যকে এগিয়ে নেওয়ার। আগামী দিনের মিডিয়াকে পথ দেখানোর। ১২ বছরে পা রাখার এই দিনে সব পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী, সংবাদকর্মী সবাইকে জানাচ্ছি অভিবাদন। 

আপনাদের ভালোবাসায় আমরা চ্যালেঞ্জ জয় করতে সক্ষম হয়েছি। এগিয়ে চলেছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করে সমাজের অগ্রসর ও অনগ্রসর সব শ্রেণির পাঠকের কাছে পত্রিকাটির গ্রহণযোগ্যতা বজায় রেখে। 

সর্বস্তরের পাঠকই বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বেছে নিয়েছেন তাদের প্রিয় পত্রিকা হিসেবে। এমনকি করোনাকালেও। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তৈরি হয়েছে আলাদা অবস্থান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ব্রিটেনের লন্ডন থেকে প্রিন্ট ভার্সন সপ্তাহে এক দিন প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ প্রতিদিন। আর অনলাইন ভার্সনের গ্রহণযোগ্যতা বিশ্বের ১৭৬টি দেশে। 
আজকের এই দিনে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা করোনাকালের কঠিন সময়সহ ১১টি বছর পাশে থাকার জন্য। করোনা সারা দুনিয়াকে বদলে দিয়েছে। বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে শুধু অনলাইনে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। 

বাংলাদেশ এ চ্যালেঞ্জের বাইরে ছিল না। সেই কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা সহজতর ছিল না। চারদিকে এক উলট-পালট পরিস্থিতি। ভয়, শঙ্কা আর গুজব নিয়েই গেল বছর এই সময়ে করোনাকাল শুরু হয়। পাঠকরা পত্রিকা নিচ্ছিলেন না হাতে, বেসরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়। সংবাদকর্মীদের মাঝেও ছিল নানামুখী আশঙ্কা। এক জটিল পরিস্থিতি। 

কিছু সংবাদকর্মী সামাজিক মাধ্যমে উৎসাহ নিয়ে লিখলেন, পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যারা লিখলেন তারা ভাবলেন না একবার বন্ধ হলে পত্রিকা অফিস আবার চালু করা কঠিন। সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব যৌথভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখার। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। 

সারা দেশে ছিল সাধারণ ছুটি। অনেক এলাকায় পত্রিকার হকাররা প্রবেশ করতে পারতেন না। পাড়ায় পাড়ায় মানুষের প্রবেশে ছিল নিষেধাজ্ঞা। আর কোনো বাড়িতে করোনা রোগী থাকলে তো কথাই নেই। টানিয়ে দেওয়া হতো লাল পতাকা। সে বাড়িটি হয়ে যেত সবার জন্য নিষিদ্ধ। মানুষ হারিয়েছিল সহনশীলতা। মানবিকতাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। করোনা আক্রান্তের ওপর হামলার মতো বর্বরোচিত ঘটনাও ঘটেছিল। অনেক সন্তান আক্রান্ত সন্দেহে বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। একজন মাকে তার সন্তানরা জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়। সে পরিস্থিতিতে চিন্তিত ছিলাম পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখা নিয়ে।

করোনার প্রথম ধাপে নিজেও আক্রান্ত হলাম। চিকিৎসা নিলাম বাসাতেই। কারণ হাসপাতালগুলো তৈরি ছিল না। চারদিকে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয় পেশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানামুখী মানুষের টিকে থাকা নিয়ে। ভাবনায় এলো দীর্ঘদিনের একটি পেশার সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলো যাবে কোথায়? হকার বা বিক্রয় প্রতিনিধিদের কী হবে? প্রেস শ্রমিকদের সংসার চলবে কীভাবে? প্রিন্ট মিডিয়ার আবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কাজ শুরু করলাম গেল বছরের মার্চেই। হকারদের পাশে দাঁড়াল ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। লক্ষ্য ছিল হকাররা যাতে পেশা বদল করে চলে না যান। তার পরও অনেকে ছেড়ে দিয়েছেন এ পেশা। কিন্তু আমরা সরলাম না আমাদের অবস্থান থেকে। গুরুত্ব দিলাম পত্রিকার পাতাজুড়ে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে। 

দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মতামত প্রকাশ করতাম নিয়মিত। তার পরও আতঙ্ক কাটছিল না। এর মাঝে একটা ভালো খবর দিল বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দিল, নিউজ প্রিন্ট করোনাভাইরাস ছড়ায় না। পত্রিকা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এ খবর সংবাদকর্মীদের আশ্বস্ত করল। ঘরে ঘরে পত্রিকা আবার পৌঁছে দিতে সচেষ্ট থাকলেন হকার ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা। সবার মিলিত চেষ্টায় সেসব কঠিন দিন আমরা অতিক্রম করেছি। করোনা মহামারীর দিন শেষ হয়নি। কিন্তু মানুষের মাঝে বিরাজমান আতঙ্ক কমেছে। মানুষ সচেতন হয়েছে। সংবাদপত্রও আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রিয় পাঠক! বিশ্ববাস্তবতা সবাই জানি। করোনাকালে মানুষের সহনশীলতা আরও কমেছে। বিশ্বের অনেক দেশে আজ গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িক চেতনা হুমকির মুখে। আর প্রযুক্তির দাপটে প্রিন্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাপট দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে মিডিয়ার জন্য একটা কঠিন পরিস্থিতি। সবকিছু সামাল দিয়েই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার, বাংলাদেশ প্রতিদিন গণমানুষের পত্রিকা হিসেবেই থাকবে। সব অন্যায় ও অসংগতির বিরুদ্ধেই থাকবে আমাদের অবস্থান। কথা বলবে সাধারণ মানুষের পক্ষে। অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি। বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলিষ্ঠতা নিয়ে। কথা বলবে মানবতার। চেষ্টা থাকবে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার। কারণ দায়িত্বশীল সংবাদপত্র ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। সংবাদপত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পণ। আয়নার মতো সমাজের সব অসংগতি তুলে ধরাই সংবাদপত্রের কাজ। যদিও সে কাজ কে কতটা করতে পারছে তা সারা দুনিয়ার সব দেশের আলোচ্য বিষয়। তার পরও ডেভিড লরেন্স জুনিয়রের একটি কথা আছে, ‘গণতন্ত্রে এটা জরুরি যে সংবাদপত্রের ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং সংবাদপত্রগুলো সে আস্থা দাবিও করতে পারে।’ তবে প্রেসিডেন্ট জেমস মেডিসনের কথাটা অন্য রকম। তিনি বলেছেন, ‘জনপ্রিয় সরকারের জনপ্রিয় তথ্যব্যবস্থা থাকতে হয়, অন্তত জনপ্রিয় তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকতে হয়, না হলে সে সরকার হবে একটি বড় রকমের প্রহসন কিংবা বিয়োগান্ত নাটকের নান্দীপাঠ।’ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। আত্মজীবনীতে তিনি আক্ষেপ করেছেন নানামুখী সরকারি চাপে সংবাদপত্র সঠিক ভূমিকা পালন করতে না পারার। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের পাশে ছিলেন সব সময়। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে মিডিয়ার অবাধ স্বাধীনতা অপরিহার্য। সে স্বাধীনতা ধরে রাখতে মিডিয়া কর্মীদেরও কণ্ঠ থাকতে হবে। ঘরে বসে শুধু আফসোস করলে হয় না। অনেকে এখন সাংবাদিকতা করার চেয়ে দলীয় কর্মী হতে বেশি পছন্দ করেন। সংবাদকর্মী দলীয় কর্মী হলে আর কিছু থাকে না। আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলতে বেশি পছন্দ করেন, নিজের মিডিয়ায় নয়।

প্রিয় পাঠক! নানামুখী জটিলতার এই সময়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে গভীর কৃতজ্ঞতা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহানসহ পরিচালকমন্ডলীর প্রতি। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সফল উদ্যোক্তা আহমেদ আকবর সোবহান। তাঁর সম্পর্কে একটি কথা প্রচলিত আছে, তিনি ছাই ধরলে সোনা হয়ে যায়। দেশের সব খাতেই বসুন্ধরা গ্রুপের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে।


কেক কেটে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা

রাজনীতি ভুলে বিএনপি ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছে: ওবায়দুল কাদের

মোদিবিরোধী মিছিল হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: মনিরুল

ঢাকার মশা নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের আশ্বাস স্পেনের রাষ্ট্রদূতের


আধুনিক চিন্তার এই মানুষটির দিকনির্দেশনা আমাদের পথচলার সাহস ও শক্তি। তাঁর সব চিন্তাভাবনা আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে। কৃতজ্ঞতা শরীরের চেয়ে মন বড়, তারুণ্যের সফল উদ্যোক্তা সায়েম সোবহান আনভীরের প্রতি। আগামী দিনের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্যের স্বপ্নকে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। কৃতজ্ঞতা কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান, ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান ও সাফওয়ান সোবহানের প্রতি। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ প্রিয় পাঠক আপনাদের কাছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের আজকের এ সাফল্য শুধু পাঠকদের ভালোবাসার কারণে তৈরি হয়েছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সব বিজ্ঞাপনদাতা, হকার-এজেন্টসহ বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত সমিতির সদস্য ও সর্বস্তরে জড়িয়ে থাকা সবার প্রতি। বাংলাদেশ প্রতিদিন আজকের অবস্থানে সবার ভালোবাসা নিয়েই। আমার সব সহকর্মীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা। তাদের একাগ্রতা, নিষ্ঠা, টিমওয়ার্ক, কঠোর শ্রমের কারণে বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশ-বিদেশে সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ঢাকার পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও লন্ডন থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয়। প্রবাসের পাঠকদের কাছে সপ্তাহে এক দিন আমরা পত্রিকা পৌঁছে দিই। বাংলাদেশে ঢাকার পাশাপাশি বগুড়া থেকেও নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ লেখা শেষ করছি জেমস অগাস্টাস হিকির উপমা দিয়ে। কলকাতা থেকে বেঙ্গল গেজেট প্রকাশ করেন হিকি। নাম বেঙ্গল গেজেট হলেও পত্রিকার ভাষা ছিল ইংরেজি। ১৭৮০ সালে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র আমাদের এ অঞ্চলে। ইংরেজ মানুষটি পত্রিকা বের করার পর স্বজনরা খুশি হয়েছিলেন। সবাই আশা করেছিলেন হিকি ইংরেজদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবেন। কিন্তু হিকি তা করেননি। তিনি মানুষের কথা বলেছেন সংবাদপত্রে। ইংরেজদের অপকর্ম তুলে ধরেছেন। প্রশাসনের অনিয়মের খবর ছিল তাঁর পত্রিকায়। ইংরেজদের লুটপাটের কাহিনিও বাদ যায়নি। এমনকি ইংরেজ সেনাদের ব্যর্থতা ও লোভের খবরও প্রকাশিত হতো। ব্যস, আর যায় কোথায়? সবকিছু তুলে ধরার কঠিন খেসারত হিকিকে দিতে হয়েছিল। পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়। কারাবরণ করতে হয় তাঁকে। প্রেস জব্দও হয়েছিল। ভারতবর্ষ থেকে আফ্রিকায় দাস পাঠানোর প্রতিবাদ জানিয়েও কলম ধরেছিলেন হিকি। তিনি লিখেছেন, ‘যদি সংবিধান খারিজ হয়, মানুষ দাসত্বে পতিত হয়, একজন সাহসী মানুষ আর একটা স্বাধীন সংবাদপত্র তাদের উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু সংবাদের স্বাধীনতা না থাকলে মস্ত বীরপুরুষও স্বাধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে না।’ ভাবতেও পারছি না সে যুগে এভাবে স্পষ্ট করে কথা বলা আর বলতে পারার বীরত্বটা। এ যুগে রবীন্দ্রনাথের একটি কথা মনে পড়ছে। কবিগুরু বলেছেন, ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম।’ কাঠিন্যকে ভালোবেসে এ পেশাটাতে থাকতে হয়। একজন পরিপূর্ণ সংবাদকর্মীই পারেন অনেক কিছু পরিবর্তন আনতে। আর সে কারণে কাউকে কাউকে কঠিন খেসারতও দিতে হয়। জীবনের সব হিসাব-নিকাশ মেলে না এ পেশায়।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাজনীতিতে ভুল হলে খেসারত দিতে হয়

নঈম নিজাম

রাজনীতিতে ভুল হলে খেসারত দিতে হয়

আমার দাদি বলতেন, জোড়াতালির ঘর, আল্লাহ রক্ষা কর। সেদিন এক চিকিৎসক বন্ধু ফোন করলেন। বললেন, হেফাজত কিন্তু আওয়ামী লীগ, বিএনপির চেয়ে আধুনিক দল। তাদের স্মার্ট বক্তব্য-বিবৃতির প্রশংসা করতে হয়। থ মেরে গেলাম। বলে কী! বন্ধু আরও বললেন, এরশাদের জাতীয় পার্টি এমনকি বামদেরও শেখার আছে। এরশাদ যা পারেননি মামুনুল সাহেব তা করিয়ে দেখিয়েছেন।  এবার আর পারলাম না। বললাম, রহস্য কী? হঠাৎ মামুনুল হকের দলের এত প্রশংসা কেন? জবাবে বন্ধু বললেন, বাস্তবতায় আসুন। চিন্তা করুন একবার, মামুনুলকান্ড আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে ঘটলে কী হতো?  কোনো অবস্থান থাকত না কারও। ধরে নিন, এ দলগুলোর  জাতীয় পর্যায়ের মাঝারি বা উচ্চ কোনো নেতা আবেগে পড়ে এমন কিছু ঘটালেন। তারপর প্রথম বহিষ্কারের প্রস্তাবটা আসত নিজ দলের ভিতর থেকে। নেতা-কর্মী সবাই মিলে আক্রমণ করতেন সেই নেতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করতেন তুলাধোনা। বাধ্য হয়ে বহিষ্কার করত দল। তার পরও নেতা-কর্মীদের লেখালেখি চলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অন্য দলের প্রয়োজন পড়ত না। নিজ দলের হাতেই হতো সব সর্বনাশ।

হেফাজতে ইসলাম এখানে অতি আধুনিক একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সার্বিক বক্তব্য-বিবৃতি, সমর্থন, কান্নাকাটি পশ্চিমাদেরও হার মানিয়েছে। বাবুনগরী সাহেব দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করলেন। তারপর বললেন, রিসোর্টকান্ড মামুনুলের ব্যক্তিগত বিষয়। আহা! কী চমৎকার কথা। পশ্চিমা দুনিয়ায় এমন মন্তব্য-মতামত শোনা যায়।  এভাবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বলতে পারবে না। আর পারলেও মানুষ মেনে নেবে না। শুধু বাবুনগরী নন, মামুনুল সাহেব নিজেও টেলিফোন কথোপকথন অস্বীকার করেননি। বরং বলেছেন, সবকিছু তার নিজের ব্যক্তিগত বিষয়। টেলিফোন কথোপকথন ও রিসোর্টকান্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের নিন্দাও করেছেন তিনি। বিষয়গুলো অনেকের খারাপ লাগলেও আমার পছন্দ হয়েছে। এত আধুনিকতা বিএনপি, আওয়ামী লীগে নেই। তারা হতেও পারবে না। বন্ধুর কাছে জানতে চাইলাম, হেফাজত নিজের বেলায় আধুনিক পরের বেলায় থাকবে তো?  বন্ধু বললেন, বলা কঠিন। নিজের বেলায় সবাই সুনসান, পরের বেলায় ঠনঠন।

আল কোরআনের সুরা বাকারার ৪২ নম্বর আয়াতে বলা আছে, ‘ওয়ালা-তালাবিসুল হাক্বক্বা বিলবা ত্বিলি ওয়া তাকতুমুল হাক্বক্বা ওয়া আনতুম তা’লামুন।’ অর্থাৎ ‘মিথ্যার রং ছড়িয়ে সত্যকে সন্দেহযুক্ত বানাবে না এবং জেনে বুঝে সত্য গোপন করবে না।’ আল্লাহ মাফ করুন সবাইকে। যেভাবে মাটি কামড়িয়ে অবস্থান নিয়েছেন সবাই মিলে, সব অপকর্মের পক্ষে সাফাই গাইছেন, নজিরবিহীন। আগামী দিনে তাদের পুরস্কার দেওয়া উচিত। আর আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির কর্মীদের শেখা উচিত কীভাবে নেতাদের বাজে সময়ে পাশে থাকতে হয়। চিকিৎসক বন্ধু বলেছেন, সবকিছু ইতিবাচকভাবে নিন। গান্ধীবাদে সবকিছু ইতিবাচকভাবে নেওয়ার কথা আছে। হেফাজত নেতারা কেন মামুনুলকে বহিষ্কার করেননি? এ নিয়ে বন্ধুর কাছে শোনা গল্পটা তুলে ধরছি : শীতকালে গ্রামের এক মসজিদের ইমাম সাহেব ভোরবেলায় উঠে অজু করতে গেলেন পুকুরের ঘাটলায়। তিনি খেয়াল করলেন পুকুরের আরেক তীরে আরেকজন হাত-পা পরিষ্কার করছেন। খুশি হলেন ইমাম সাহেব। ভাবলেন, জগতে ইমানদার মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে এ শীতের ভোরেও একজন উঠেছেন নামাজ আদায় করতে! খুব ভালো। ইমাম সাহেব খুশি হলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন এ মানুষটির হায়াত বাড়ানোর জন্য নামাজের পর আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করবেন। অন্যদিকে পুকুরের অন্য পাড়ের মানুষটা ছিলেন এলাকার নামকরা চোর। সারা রাত চুরি করে বাড়ি ফেরার পথে হাত-মুখ পরিষ্কার করতে পুকুরে নেমেছেন। দিনের বেলায় এই চোরা শুধুই ঘুমায়। রাত হলে শুরু হয় তার সব কাজকারবার। এই ভোরে পুকুরের অন্য তীরে আরেকজনকে দেখে মন খারাপ হলো চোরের। তার ধারণা এ গ্রামে চোরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আয়-রোজগারে এবার টান পড়বে। রুটিরুজি নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেন চোর। সিদ্ধান্ত নিলেন দিনের বেলায় তদন্ত করে দেখবেন। তারপর ব্যবস্থা নেবেন। বন্ধু গল্প শেষ করে বললেন, হেফাজতেরও হয়েছে তাই। মামুনুলকে বহিষ্কার করছেন না সিনিয়র নেতারা। তাদের নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে ভয় আছে। দলে মামুনুলের প্রভাব অনেক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সক্রিয়। চিন্তাধারায় অন্যদের চেয়ে আধুনিক। তিনি মুখ খুললে অন্য নেতারা বিপদে পড়তে পারেন। এত ঝামেলার কী দরকার? তার চেয়ে সবাই মিলেমিশে থাকাই ভালো।

এবার আমার বন্ধু সরকারের ওপর এক হাত নিলেন। বললেন, ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের কথা আমরা জানি। তৈরি করা দানবের হাতে খুন হন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন পরিবার। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ইতিবাচক চিন্তায় দানব তৈরি করেছিলেন। হয়েছে বিপরীত। এ জগতের হিসাব-নিকাশ বড় কঠিন। সবকিছু একরকম হবে এমন কথা নেই। অনেক সময় মানুষ শেষ হয়ে যায় নিজের সৃষ্টির হাতে। ক্ষমতাবানরা সাদা চোখে প্রতিপক্ষ মনে করেন একজনকে। বাস্তবে প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন আরেকজন। মহাভারতে এমন উদাহরণ অনেক। নিয়তির বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ ১২ বছর টানা ক্ষমতায়। ওভার কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটি জিম্মি হয়েছে সুবিধাভোগী চক্রের কাছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের দরকার ছিল। সুবিধাবাদী, অতি উৎসাহীরা তা করতে দেয়নি। আর দেয়নি বলে অপশক্তিগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। হেফাজতকে লালনপালন করে আজকের অবস্থানে এনেছেন সরকারের ভিতরের কেউ কেউ। অনেকে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। এতে তাদের কারও মাঝে আফগান, ইরান স্টাইলের স্বপ্ন তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগাররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজেদের বাণিজ্য নিয়ে। ডিজিটাল দুনিয়া এখন হেফাজত কর্মীদের দখলে। আইসিটির ক্ষমতাবানরা ব্যস্ত কামাই রোজগারে। ভাব দেখান ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারেন না। কিন্তু কাজকারবারে বড়ই ওস্তাদ। জানি না আইসিটির এ বসরা ডিজিটাল দুনিয়ার প্রচারণাগুলো দেখার সুযোগ পান কি না। আইসিটি দুনিয়ায় সরকারবিরোধী সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চলছে এখন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা হচ্ছে। আর আইসিটির ক্ষমতাবানরা তামাশা দেখেন, জেগে জেগে ঘুমান। সরকারে ঘুমানো মানুষের সংখ্যাই বেশি। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে নবাগত বহিরাগত, হাইব্রিডের ঘাপটি মেরে থাকা গ্রুপগুলো। ওরা ভালো সময় দেখলে আহা বেশ বেশ করে। আর খারাপ সময়ে ঘাপটি মেরে থাকে।

রাজনীতির কিছু হিসাব-নিকাশ থাকে। তাতে একবার ভুল হলে খেসারত দিতে হয়। ভুলের চক্রবাকে পড়ে বিএনপিকে এখন শুধুই সময় গুনতে হচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে ভুল রাজনীতির কবলে ছিল বিএনপি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গি উত্থান, চট্টগ্রামে ট্রাকে ট্রাক অস্ত্র আটক, বগুড়ায় গোলাবারুদ উদ্ধার, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, নাটোরের মমতাজ উদ্দিন হত্যাকান্ড আন্তর্জাতিক দুনিয়া থেকে বিএনপিকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। সে বিচ্ছিন্নতা থেকে বিএনপি এখনো বেরোতে পারেনি। কবে পারবে নিজেরাও জানে না। অন্যদিকে বিএনপিকে দমনপীড়নে রেখে শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আওয়ামী লীগ ছাড় দিয়েই সম্পর্ক করেছিল হেফাজতের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের ছাড়কে তারা দুর্বলতা হিসেবে নিয়েছে। হেফাজত নেতারা ভুল করেছেন অন্যখানে। তারা বঙ্গবন্ধুর মেয়েকে চেনেন না। শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শেষ ঠিকানা। উদারতা দেখানো মানে তিনি দুর্বল নন। আর বাংলাদেশ ইরান আর আফগান নয়। বাংলাদেশের জন্ম অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর ভিত্তি করে। বঙ্গবন্ধু এ দেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। শেখ হাসিনা তাঁর মেয়ে।

আরও পড়ুন


দিনমজুরের ছেলের হার্ট অপারেশনের ব্যবস্থা করলেন শামীম ওসমানের স্ত্রী

করোনায় ঢাবি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের মৃত্যু

হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় হতাশ করোনা রোগীর আত্মহত্যা

দেশের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতালের উদ্বোধন আজ


ভুলে গেলে হবে না সুফি-সাধক, অলি-আউলিয়ারা এ দেশে ধর্ম প্রচার করেছেন। চাইলেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ সবকিছু পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে তা সম্ভব নয়। এমন স্বপ্ন দেখা সাময়িক হতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। মামুনুল হকেরা ভুলে গেছেন, তাদের চেয়ে বড় দাম্ভিক ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। মুহূর্তে সে অহংকার তছনছ হয়ে গিয়েছিল। আলী আহসান মুজাহিদ কম যেতেন না। নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে বের হয়ে দম্ভ করে বলেছিলেন, পারলে আমাদের কিছু করুন। বুঝতে চাননি রাষ্ট্রের চেয়ে কেউ বেশি ক্ষমতাশালী নন। এ দেশে বাস করবেন আর জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, সংবিধান মানবেন না হতে পারে না। রাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে আইনকানুন মেনেই চলতে হয়। আর তা না মানলে রাষ্ট্রের অধিকার আছে কঠোরতায় যাওয়ার। শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়ে, দাম্ভিকতার প্রকাশ ঘটিয়ে যা খুশি করার সুযোগ নেই।  মাদানি হুজুরের বয়ান দেখছিলাম ইউটিউবে। গ্রোথ হরমোনের কারণে ছোটখাটো রফিকুল ইসলাম মাদানি যা খুশি বলতেন। তিনি বলেছেন, ‘কীসের সংবিধান! কীসের প্রেসিডেন্ট! কীসের প্রধানমন্ত্রী! আমি সংবিধান, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী মানি না।’ হেফাজত তাকে বাজারে ছেড়েছিল পরিস্থিতি গরম করতে। ময়মনসিংহে আরেকজন বক্তব্য দিলেন জবাই করার আহ্বান জানিয়ে। উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রমকারীকে আল্লাহও পছন্দ করেন না। রাষ্ট্রকে হুমকিদানকারীদের সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। আইনের শাসনের ব্যত্যয় কেউ ঘটালে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইতিহাসের দিকে তাকান। এ দেশ জঙ্গিবাদের জন্য নয়। সাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাস আছে ধর্মের প্রতি। কিন্তু কেউ ধর্মান্ধ নয়। ধর্মকর্ম পালন করে সবাই। আবার সংস্কৃতির উৎসবেও যায়। ধর্মের নামে অতীতে অনেক কিছু করার চেষ্টা বহুজন করেছেন। মুফতি হান্নানরা পারেননি। মানুষ ধর্মভীরু। কিন্তু ধর্মের অপব্যবহার কেউ মানে না। সাময়িক উত্তেজনা তৈরি করা যায়। এর বেশি না। সরকারকে পছন্দ অনেকের না-ও হতে পারে। সরকারের অনেক কর্মকান্ডের আমিও সমালোচক। নেতিবাচক কর্মকান্ডের সমালোচনা, আন্দোলন-সংগ্রাম অবশ্যই করার অধিকার সবার রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় উসকানি, খুনখারাবির আহ্বান, জ¦ালিয়ে-পুড়িয়ে সব শেষ করে দেওয়ার প্ররোচনাকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রই থাকে না। শাসকদের সঙ্গে সক্রেটিসের মেলেনি। তিনি কঠোর সমালোচনা করতেন শাসকদের। আর এ কারণেই সক্রেটিসকে মিথ্যা অজুহাত তুলে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। সক্রেটিসের ভক্ত-অনুসারীরা অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে পালিয়ে যেতে। সক্রেটিস আইনকে মহান মেনেই পালাননি। মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছিলেন। শাসকদের কারণে আইনের অপপ্রয়োগের শিকার হয়েছিলেন সক্রেটিস। বিষের পেয়ালা তুলে নিয়েছিলেন। সংবিধান, রাষ্ট্র, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী না মানলে বাংলাদেশ ছাড়ুন। জানি দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের জন্য কোনো অবদান আপনাদের নেই। আর নেই বলেই রাষ্ট্রকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখান। অনেক হয়েছে। এবার থামুন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করুন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন করুন নিজেদের প্রতিষ্ঠানে। আগে প্রমাণ করুন বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। তারপর লম্বা লম্বা কথা বলুন। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধকে মানতে হবে।  আর না মানলে চলে যান অন্য কোথাও। এ দেশে আপনাদের  কোনো অধিকার নেই।

লেখক: লেখক: সিইও, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

হাজী মাস্তান কর্নেল আকবরের গোপন বিয়ে রাম রহিম কাহিনি

নঈম নিজাম

হাজী মাস্তান কর্নেল আকবরের গোপন বিয়ে রাম রহিম কাহিনি

নঈম নিজাম

ছবির নাম ওয়ানস আপন এ টাইম ইন মুম্বাই। অজয় দেবগন অভিনয় করেছেন হাজী মাস্তান চরিত্রে। বোম্বের একসময়ের মাফিয়া ডন ছিলেন হাজী। চলতেন, কাজ করতেন মানবিক গুণ নিয়ে। জীবনের শেষ মুহূর্তে জড়িয়েছিলেন রাজনীতিতে। হাজীর একক অবস্থান ভালো লাগেনি এক বড় পুলিশ কর্মকর্তার। কিন্তু প্রকাশ্যে কেউই হাজীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতেন না। তাই সেই কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নিলেন হাজীর ভিতরে লোক ঢুকিয়ে দেবেন। তারপর ধ্বংস করবেন মাফিয়া-ইজম।  পুলিশ কর্মকর্তা কৌশলে হাজীর দলে ভিড়িয়ে দেন দাউদ নামে একজনকে। এ দাউদ রাস্তার ছিঁচকে মাস্তান ছিলেন। ছোটখাটো চুরি-ডাকাতিও করতেন। থানা পুলিশেও অভিযোগ আসতে থাকে। দাউদের বাবা ছিলেন পুলিশের এএসআই। ছেলের যন্ত্রণায় ছিলেন অতিষ্ঠ। কিন্তু করার কিছু ছিল না। একদিন দুঃখ করেন সিনিয়রের কাছে। আর সেই সুযোগে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে দাউদকে বেছে নেন বড় কর্তা। টার্গেট ছিল হাজীকে শেষ করবেন। অবসান ঘটাবেন বোম্বের ডন যুগের।

হাজী মাস্তান ছিলেন অন্য ধাঁচের মানুষ। বোম্বের বস্তি ও গরিব মানুষের উপকার করতেন। দান করতেন দুই হাতে। দান-খয়রাতে খোলা হাতের কারণে সবার কাছে ছিলেন জনপ্রিয়। সাধারণ মানুষের একটা ভালোবাসা ছিল তার প্রতি। মানুষের সে ভালোবাসা পুঁজি করে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নেন। দলে যোগদান ও মনোনয়নের জন্য গেলেন দিল্লি। দেখা করলেন মন্ত্রীর সঙ্গে। কিন্তু ডনকে কেন নেবে রাজনৈতিক দল? অনেক কাঠখড় পোড়াতে হলো হাজীকে। শেষ পর্যন্ত যোগদান চূড়ান্ত করেই বোম্বে ফেরেন। ইতিমধ্যে তাঁর অবর্তমানে বদলে গেছে বোম্বের চিত্র। দাউদ সেজেছেন বোম্বের নতুন গডফাদার। নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন বোম্বের সব অবৈধ ব্যবসা। হাজী যেসব অবৈধ ব্যবসা করতেন না দাউদ তাতেও জড়িয়ে পড়েন। লাভের অঙ্ক বাড়তে থাকে। মাদক ঢুকে পড়ে বোম্বের মাফিয়া বাণিজ্যে। কথায় কথায় খুন-খারাবিও বেড়ে যায়। এ চিত্র হাজীর সময়ে ছিল না।

বোম্বে ফিরে হাজী মাস্তান সব জানলেন, শুনলেন। তিনি ভালোভাবে নেননি কিছু। দাউদকে ডেকে সতর্ক করলেন। বললেন, সব ছেড়ে দাও। দাউদ গুরুত্ব দিলেন না হাজীর কথায়। বরং হাজীকে টেনে নিতে চাইলেন তাঁর নতুন অবৈধ বাণিজ্যে। হাজী সেদিকে গেলেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন দাউদের ক্ষমতা খর্ব করবেন। কিন্তু পারলেন না। দাউদ তত দিনে তৈরি করে নিয়েছেন নিজস্ব জগৎ। সাধারণ মানুষ ভুল বুঝতে থাকল হাজীকে। হাজী সিদ্ধান্ত নিলেন রাজনীতিতে যোগদান অনুষ্ঠানটি আগে ভালোভাবে শেষ হোক তারপর দেখবেন দাউদের বিষয়টি। সেভাবে সবকিছু যেতে থাকে। দাউদ ইবরাহিম বুঝলেন হাজীর সঙ্গে মিলবে না। নতুনভাবে তৈরি করা জগৎ ধরে রাখতে হলে হাজীকে চিরতরে সরিয়ে দিতে হবে। তারপর বোম্বের একক নিয়ন্ত্রণ আসবে তাঁর হাতে। হাজী চলে গেলে সামনে দাঁড়ানোর কেউ থাকবে না। দাউদ হাজীকে খুনের সিদ্ধান্ত নিলেন। রাজনীতিতে যোগদানের সভামঞ্চে গুলি করলেন হাজীকে। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন হাজী।
দাউদের সব ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতেন তাকে হাজীর গ্রুপে ভিড়িয়ে দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি চেষ্টা করলেন হাজীকে রক্ষা করতে। পারলেন না। পুলিশ কর্মকর্তা বুঝতে পারেন একটা ভুল হয়ে গেছে। হাজী সব সময় সাদা শার্ট, প্যান্ট, জুতা মোজা পরতেন। চলনে-বলনে ছিলেন মানবিক। কিন্তু দাউদ ঠিক হাজীর বিপরীত এক দানবীয় চরিত্র। হতভম্ব হয়ে যান পুলিশ কর্মকর্তা। বুঝতে পারেন গডফাদারকে ধ্বংস করতে গিয়ে তৈরি করেছেন ভয়াবহ দানব। এ দানব পুরো বোম্বেকে শেষ করে দেবে। মুহূর্তে পুড়িয়ে ছারখার করবে। মাফিয়াতন্ত্র আরও ভয়াবহ হবে। কোনো কিছুই আর পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে না। হাজী সিভিলাইজড ছিলেন। বুদ্ধি বিবেচনাবোধটুকু ছিল। মানবিক গুণাবলি ছিল। কোথায় থামতে হবে জানতেন। কিন্তু দাউদ সিভিলাইজড নন। তার সব কাজ লাগামহীন, বেপরোয়া, ধ্বংসাত্মক। শহরের জন্য দাউদ হুমকি। পুলিশ কর্মকর্তা অনুশোচনায় পড়লেন। নিজের বোকামি ও ব্যর্থতার জন্য সিদ্ধান্ত নেন আত্মহত্যার। কাউকে কিছু বলবেন না। নিজের গাড়ি বেসামালভাবে চালিয়ে পড়লেন সমুদ্রে। কাছেই ছিল পুলিশ টহল। তারা দ্রুত গাড়িসহ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করলেন। প্রাণে বাঁচলেন কর্মকর্তা। এ দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলো খোদ পুলিশের ভিতরেই। তদন্ত করে পুলিশ বুঝল এটি দুর্ঘটনা ছিল না। পরিকল্পনা করেই আত্মহত্যার চেষ্টা ছিল। হতবাক হলেন অফিসাররা। তারা বুঝলেন কোথাও একটা সমস্যা আছে। না হলে একজন সফল পুলিশ কর্মকর্তা কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন? সবকিছু জানতে চাইলে সেই কর্মকর্তা বললেন, আমি ভুল করেছি। জীবনের সবচেয়ে একটা বড় ভুল করেছি। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে গিয়ে এ শহরকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছি। একজন ধ্বংসাত্মক মাফিয়ার হাতে তুলে দিয়েছি বোম্বেকে।

আমাদের রাজনীতিতে কি এমন ভুল হয়? সাদা চোখে বিপরীত মেরুকে শেষ করতে গিয়ে রাজনীতিবিদরা তৈরি করেন ভয়ংকর ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানব। স্বাভাবিকতা বাদ দিয়ে তৈরি করেন অস্বাভাবিকতা। আর সে অস্বাভাবিকতা সবকিছু ছারখার করে দেয়। ধ্বংস করে সমাজ, রাজনীতি, উন্নয়ন সবকিছু। এ কারণে বাস্তবতার বাইরে কখনো যাওয়া ঠিক নয়। গেলেই এর প্রভাব পড়ে দীর্ঘমেয়াদে। যা কেউই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পুরনো একটা গল্প মনে পড়ছে। কুমিল্লার কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন ছিলেন অন্য ধাঁচের মানুষ। কুমিল্লা শহরে তাঁর একটা জনপ্রিয়তা ছিল। গল্প করতেন মজা করে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদে পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন। সে সময়ের একটা ঘটনা। তখন কাজ করি ভোরের কাগজে। পত্রিকা অফিসের কাজ চলত মধ্যরাত অবধি। নিউজবিহীন অলস সময় পার করছিলাম। অফিসের ফোনে রিঙের শব্দ পেয়ে ধরলাম। অন্য প্রান্তের মানুষটি বললেন, দৈনিক খবরকে একটি নিউজ দিয়েছি। আপনাদের পত্রিকায়ও দিতে চাই। জানতে চাইলাম কী নিউজ? জবাবে ফোনকারী বললেন, ব্রেকিং নিউজ। নড়েচড়ে বসলাম। এবার ফোনকারী বললেন, আপনি কুমিল্লার মানুষ। কর্নেল (অব.) আকবরও কুমিল্লার। নিউজ ছাপবেন তো? বললাম অবশ্যই নিউজ প্রকাশ হবে।

টেলিফোনকারী বললেন, রেদোয়ান আহমেদ ও মিসেস আকবরকে আপনি ফোন করতে পারেন। তারাও আপনাকে নিউজের সত্যতা নিশ্চিত করবেন। তারপর টেলিফোনকারী জানালেন, মন্ত্রী সাহেব এক নারীকে নিয়ে বিদেশ যাচ্ছিলেন মন্ত্রীর ইমিগ্রেশন ভিআইপি দিয়ে। আর বান্ধবী আলাদা করে সাধারণভাবে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করছিলেন। কিন্তু সমস্যা বাধালেন মন্ত্রীর স্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সব জানিয়ে দিয়েছিলেন আগেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফোনে সেই নারীকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। ভিআইপিতে বসে সব শুনে মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। তিনি সেই নারীকে জোর করে ছাড়িয়ে বিদেশ নিয়ে গেছেন। পুরো বিমানবন্দর তোলপাড়। মিসেস আকবরকে ফোন করলাম। তিনি বললেন, ঘটনা সত্য। রেদোয়ান ভাইকে ফোন করে পেলাম না। সম্পাদক মতিউর রহমানকে জানালাম। তিনি বললেন, প্রথম পৃষ্ঠায় ভালোভাবে যাবে। দেশে ফেরার পর কর্নেল (অব.) আকবরকে পদত্যাগ করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আকবর সবকিছু স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তারপর বললেন, ম্যাডাম! তিনি আমার বৈধ স্ত্রী। দুই বছর আগে শরিয়তসম্মতভাবে বিয়ে করেছি গোপনে। কাউকে জানানো হয়নি। বৈধ স্ত্রীর ঘটনায় আপনি আমাকে বাদ দিতে পারেন না।

কর্নেল (অব.) আকবরের গল্পটা এক বন্ধুকে শোনালাম। সেই বন্ধু শোনালেন আরেক কাহিনি। লকডাউনে দুই বন্ধু একসঙ্গে মদপান করছিলেন রাজধানীর এক হোটেলে বসে। হঠাৎ এক বন্ধুর স্ত্রীর ফোন এলো। বন্ধু মদপানের কথা জানাতেই স্ত্রী হতবাক হয়ে গেলেন। তারপর বললেন, তুমি কি সত্যি সত্যি মদপান করছ এই সময়ে? সেদিন অঙ্গীকার করেছ এসব আর করবে না। জবাবে ভদ্রলোক বললেন, আসলে আমাদের অমুক ভাইয়ের সঙ্গে হঠাৎ হোটেলে দেখা। তুমি আবার অন্য কিছু মনে কোরো না। আমরা ফলের জুস খাচ্ছি যা দেখতে মদের মতো। বাড়ি এসে সব বুঝিয়ে বলব। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে জুস খেতে হোটেলে গেছি। ভদ্রলোক আবার সমাজের একটু চেনাজানা লোক। কোনো এক অনলাইন নিউজ করে দিল লকডাউনে হোটেলে মদ খেয়ে অমুকের বেলেল্লাপনা চলছে। চারদিকে কানাঘুষা শুরু হয়। ভদ্রলোকের স্ত্রী একটু পর ননদের ফোন পেলেন। ননদ বললেন, আমার ভাই হোটেলে মদ খেতে গেছে সত্য। কিন্তু কেউ তোমার কাছে ফোন করলে বলবে তুমি আগে থেকে সব জানতে। তোমার অনুমতি নিয়েই হোটেলে গেছে জুস খেতে। ভদ্রমহিলা বললেন, আমি তো কিছুই জানি না আপা। আপনি বারবার মদ বলছেন, আপনার ও আমার ফোন যদি কেউ রেকর্ড করে? বোন বললেন, আরে কেউ রেকর্ড করবে না। যা বলছি তেমন করে উত্তর দিও। এবার ভদ্রলোক তার বোনকে ফোন দেন। বোন বললেন, ভাই! চিন্তা করিস না। তুই মদ পান কর। তোর বউকে ম্যানেজ করেছি। ভদ্রলোক বোনকে ধন্যবাদ দিয়ে বললেন, বউকে ম্যানেজ করতে প্রয়োজনে মিথ্যা বললে কোনো গুনাহ হয় না। এ কাজটি সওয়াবের। আমিও তাকে মদের পরিবর্তে জুস খাচ্ছি বলেছি।


মিলল মাওলানা মামুনুলের আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য, হতভম্ব গোয়েন্দারা

প্রপারলি রায় কার্যকর হচ্ছে না, এটা দুঃখের বিষয়: প্রধান বিচারপতি

৬ মাস বন্ধের পর ফের প্যারিসের মসজিদে নামাজ শুরু

জাহাজ আসতে দেখেই নৌকার ২০ যাত্রী নদীতে দিল ঝাঁপ

কেন তিমি মারা যাচ্ছে তার তদন্ত চান স্থানীয়রা


বন্ধুর মুখে এ গল্প শুনে মনে পড়ল ভারতের ধর্মগুরু রাম রহিমের কথা। বড়ই আমুদে মানুষ ছিলেন রাম রহিম সিং। তাঁর বিরুদ্ধে ২ হাজারের বেশি সেবিকাকে ধর্ষণের খবর বেরিয়েছিল ভারতীয় মিডিয়ায়। ভক্তকুল তাঁকে ভীষণ ভালোবাসে। তাই সেবিকারা বিপক্ষে বেশি মুখ খোলেনি। মাত্র দুজন মামলা করেন। সে মামলা সিবিআই তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করলে শাস্তি হয় রাম রহিমের। আশ্রমের নাম ছিল ‘বাবা কি গুফা’। গুফায় ‘বাবাকে’ ঘিরে রাখত ২ হাজারের বেশি শিষ্য। নারী ভক্তদের নিয়ে তিনি ধ্যান করতেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোপন অভিযোগের চিঠির সূত্র ধরে সিবিআই নামে তদন্তে। প্রথম নারী অভিযোগ করেন, বাবাজি তাকে গুফার গোপন কক্ষে ডাকেন। তারপর ধর্ষণ করেন। বিষয়টি তখনই তার ভাইকে জানিয়েছিলেন। ভাই তাকে নিয়ে পালিয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাম রহিম খুন করেন তার ভাইকে। আর এ খবর প্রকাশের কারণে এক পত্রিকা সম্পাদককেও খুন করান। দ্বিতীয় নারীর ঘটনাও একই রকম। ধর্ষণের পর এই নারীও পালিয়ে যান। পরে আদালতে গিয়ে তার কাহিনি শোনান পুরো দুনিয়াকে। এই ধর্মগুরু ছিলেন ভীষণ ধোপদুরস্ত। দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি ছিল শতাধিক। বেশির ভাগ বুলেটপ্রুপ। নিজস্ব ফ্যাশন ডিজাইনার ছিল। তারা সিদ্ধান্ত নিত গুরু কী পরবেন। হরিয়ানার সিরসা শহরে ১ হাজারের বেশি একর জমিতে স্থাপিত গুরুর ডেরাটি ছিল ছোটখাটো শহরের মতো। ভিতরে চালডাল আনাজের চাষ হতো। ছিল রিসোর্ট, সিনেমা হল, স্কুল, রেস্তোরাঁ, পেট্রোল পাম্প, নিজস্ব ছাপাখানা, পত্রিকা, স্টুডিওসহ অনেক কিছু। ১০ হাজার কাপড়কাচার ওয়াশিং মেশিনও ছিল। এ আশ্রমের বাইরে দেশ-বিদেশে আরও ৪৬টি আশ্রম ছিল তাঁর। নিজের ঘরসংসার পুত্র-কন্যা ছিল। সবাইকে নিয়েই তিনি থাকতেন। তবে পালিত মেয়ে হানিপ্রীতের ছিল বেশি প্রভাব। গুরুও পালিত কন্যাকে এক দিনের জন্যও স্বামীর সংসার করতে দেননি। রাখতেন নিজের কাছে।

গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের মামলা চলে ১০ বছর। শুনানি হয় ২০০ বারের বেশি। এর ২০ বছর পর জেলের রায় ঘোষণা করে আদালত। তদন্তকালে সিবিআই ডেরার অনেক নারীর সঙ্গে কথা বলেন। অনুরোধ করেন মুখ খুলতে। কিন্তু তারা মুখ খোলেননি। রায় ও তাকে আটকের খবর ভালোভাবে নেননি শিষ্যরা। তারা ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করে দেন অনেক শহর। এতে ৩৮ জন নিহত হন। ৬ কোটি সমর্থক আর ৫ লাখের বেশি সরাসরি শিষ্য ছিল তার। রাজনৈতিক প্রভাবও ছিল অনেক। অনেকের ধারণা ছিল প্রভাবশালী এ ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডেরাতে অভিযান চালায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। রাম রহিম সিং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু অভিযান চালাতে গিয়ে চমকে ওঠে পুলিশ। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক ওষুধ। রাম রহিমের নিজস্ব রুম থেকে গোপন সুড়ঙ্গের মাধ্যমে যাতায়াত করা যেত সাধ্বী বা সেবিকাদের হোস্টেলে। আর সুইমিংপুলের নিচে ছিল যৌনগুহা। এ গুহায় নারী ভক্ত ও সাধ্বীদের সঙ্গে তিনি মিলিত হতেন। নারীদের তিনি বোঝাতেন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক হলে ঈশ্বর খুশি হবেন। ভগবানকে খুশি করার কথা বলে রাম রহিম নিজের ৪০০ অনুগামী পুরুষকে নির্বীজকরণ করেছেন। তাদের বলতেন, ঈশ্বরকে পেতে হলে সবাইকে এমন হতে হবে। তদন্তে জানা যায়, ডেরায় অবস্থানকারী অনুসারীরা যাতে সেবিকাদের সঙ্গে সম্পর্ক করতে না পারে সে কারণেই নির্বীজকরণ। এত কিছুর পরও কেউ প্রতিবাদ করেনি। ধর্মের অন্ধত্বের আড়ালে সবকিছু চাপা পড়ে যায়। ভারতের প্রভাবশালী অনেক নেতা যেতেন রাম রহিমের ডেরায়। তাদেরও আনন্দ-ফুর্তির ব্যবস্থা ছিল। নিয়মিত কনসার্ট হতো। বসত গানবাজনার আসর। অভিনেতা-অভিনেত্রী, ক্রিকেটারদেরও পদচারণ ছিল। এ প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে সবাই ভেবেছিল কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কিন্তু সিবিআই ছিল সাহসী ভূমিকায়। এ ঘটনার পর ভারতের আরও অনেক ধর্মগুরুর মুখোশ উন্মোচন করে দেয় মিডিয়া। এ কারণে মিডিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হয় অন্ধ ভক্তরা। তারা মিডিয়ার ওপর হামলা চালায়। ব্যক্ত করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া।

অন্ধত্ব বড় খারাপ বিষয়। ধর্মগুরুরা তাঁদের অপকর্ম ঢাকতে ভক্তদের অন্ধকার জগতের মায়াবী জালে আটকে রাখেন। এতে তাঁদের অপকর্ম চালিয়ে যেতে সুবিধা হয়। রাম রহিম দিয়ে আজকের লেখা শেষ।  আশা করছি কেউ এ লেখার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কিছু মেলাবেন না।

লেখক: লেখক: সিইও, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রশাসনের কাজ মিছিল নয়, মানুষের জানমাল রক্ষা

নঈম নিজাম

প্রশাসনের কাজ মিছিল নয়, মানুষের জানমাল রক্ষা

নঈম নিজাম

শ্রীকৃষ্ণের জন্ম মথুরায়। রাজা কংস ছিলেন ভয়াবহ অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর। তাঁর নিষ্ঠুরতা থেকে শিশুদেরও নিস্তার ছিল না। কৃষ্ণকে রক্ষায় পদক্ষেপ নেন তাঁর বাবা বসুদেব। তিনি গোপনে জন্মের পর বংশ রক্ষার জন্য কৃষ্ণকে গোকুলে গোপরাজ নন্দের ঘরে রেখে আসেন। একই রাতে গোপরাজ নন্দের ঘরে জন্ম নেন তাঁর কন্যা দেবী মহাশক্তিরূপা যোগমায়া। কংস পাথর নিক্ষেপ  করে যোগমায়াকে হত্যার আদেশ দেন। যোগমায়া পাথর নিক্ষেপের সময় আকাশে উঠে বলেছিলেন, ‘তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে’।

মানতে পারছি না। মানাতে পারছি না নিজেকে। এভাবে হয় না। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিচিহ্নগুলো পুড়িয়ে ছাই করা হলো। সংস্কৃতির শহরকে রক্ষা করতে পারেনি প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। কিছু দিন আগে দেখেছি সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তাকে মিছিল করতে। তখনই ভয়টা পেয়েছিলাম। মিছিল করার কাজ দলীয় নেতা-কর্মীদের। সরকারি কর্মকর্তাদের নয়। সরকারি কর্মকর্তাদের দায় মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। আইনের শাসন রক্ষা করা।

সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা। আজ সে দায়িত্ব পালন প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারি দলের এমপি নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন। ঘনিষ্ঠজনেরা পরামর্শ দিচ্ছেন কম কথা বলতে। তাই চুপচাপ বেড়াতে গেলাম এক বন্ধুর বাড়িতে। বন্ধু আমাকে দেখে মহাখুশি। বললাম আগেই রাজনীতি নিয়ে কথা হবে না। তিনি বললেন, আরে ভাই, রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা নেই। আসুন কুমিল্লার রসমালাই খাই। মুখে দিয়ে বুঝলাম আসল রসমালাই নয়। নকল রসমালাই নিয়েই বন্ধু খুশি। জানতে চাইলাম ঢাকা থেকে কিনেছেন? বন্ধু বলল, আরে না ভাই, চট্টগ্রাম থেকে সড়কপথে ফিরতে কিনে আনলাম। বুঝলাম ঢা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে কিনেছেন। হাসতে দেখে বন্ধু বলল, লেখা ছিল আসল মাতৃভান্ডার। ঢাকায় মাতৃভান্ডার আসলটা পাওয়া যায় না। এবার বললাম, এ মাতৃভান্ডার আসল নয়। নকল।

চৌদ্দগ্রাম থেকে চান্দিনা কয়েক শ নকল মাতৃভান্ডার নামে মিষ্টির দোকান আছে। সবই নকল। আসল মাতৃভান্ডারের দোকানটি কুমিল্লা শহরে। ৫ কেজির বেশি একজনের কাছে বিক্রি করে না। লাইন ধরে মানুষ মিষ্টি কেনে। একবার একজন জেলা প্রশাসক মাতৃভান্ডারের মালিককে বললেন, আপনার দোকানের নামে নকল ব্র্যান্ড কুমিল্লা ছাড়িয়ে অন্য জেলায় চলে গেছে। শত শত নকল দোকান। অথচ আপনার কোনো শাখা নেই। চাইলে প্রশাসনিকভাবে বন্ধ করে দিতে পারি নকল দোকানগুলো। জবাবে মাতৃভান্ডারের মালিক বলেছিলেন, বিক্রি করে শেষ করতে পারছি না। প্রতিদিন যা চাহিদা এত উৎপাদন করতে পারি না। কেউ আমাদের ব্র্যান্ডের নামে খেয়ে-পরে থাকতে পারলে সমস্যা কী?

Bangladesh Pratidinআওয়ামী লীগে এখন বিভিন্ন ঘাটের মানুষের সংখ্যা বেশি। ভাব আর কথায় তারা দলের ঠিকাদারি নিয়ে রেখেছেন। একটি দল দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে এমনই হয়। বিএনপি, জামায়াতের ৫ লাখ নেতা-কর্মী এখন সরাসরি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মাঠ থেকে কেন্দ্রে ২ লাখের পদপদবি আছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরও দলের ঠিকাদারি  প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। তারাও মাঝেমধ্যে মিছিল, সমাবেশ করে জানান দেয় সরকারি দলের লোক হিসেবে। আজব! উইপোকা শুধু কাঠ নয় মাটিও কাটে। উইপোকার মাটির ঢিবি দূর থেকে দেখতে অতীব সুন্দরই লাগে। ঝুরঝুরে এ মাটির স্থায়িত্ব নেই। ঘোড়া, হাতির দরকার নেই ছাগলের পায়ের ছাপে উইপোকার ঢিবি ভেঙে যায়। রাজনীতির মাটি উইপোকায় কেটে ঢিবি বানিয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের ছবির নামের মতো, ‘অশনিসংকেত’ বার্তার নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

এ বার্তা কারও কানে না গেলে কিছু করার নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অসহায়ত্ব দেখে মায়া লেগেছে। তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে পারেনি। নিজেদের রক্ষা নিয়েও টেনশনে ছিল। রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদেরও ঘরবাড়ি পুড়েছে। ঢাকা অথবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ সাপের লেজ নিয়ে নাড়াচাড়ার দরকার ছিল না। সরকারি দলের দিন কাটছে আরাম-আয়েশে। ঘুরে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় এখন তারা আছে কিনা জানি না। দলে ত্যাগীদের অবস্থান নেই। দক্ষ ও শক্তিশালীরা হতাশার সমুদ্রে। অনেকে মানইজ্জতের সঙ্গে দিন কাটাতে পারলে খুশি। সুস্থধারার রাজনীতি না থাকলে দেশে অসুস্থধারার দাপট বাড়ে। মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে অসুস্থধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

অনেক কিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। পরীক্ষিত রাজনৈতিক শক্তি দরকার স্বাভাবিক স্রোতধারার জন্য। নকল আর ভেজাল দিয়ে কঠিন সময় মোকাবিলা করা যায় না। ভেজালরা আস্ফালন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেখায় দলের অভ্যন্তরে। বাইরে তারা বিড়াল। দূরে যাব না। ২০১৪ সালে কঠিন একটা সময় পাড়ি দিতে হয়েছিল সরকারি দলকে। সে সময় দাপুটে অনেক মন্ত্রী-এমপি এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিলেন। র‌্যাবের তখনকার কর্মকর্তা জিয়ার কাছে তালিকা আছে। হেলিকপ্টার পাঠিয়ে তিনি অনেককে ঢাকা এনেছিলেন। সেসব দিনের কথা আজ আর কারও মনে নেই।

আর মনে নেই বলে চারদিকে অশুভ তৎপরতা বেড়েছে। কমেনি সরকারি রাজনীতিতে নকলদের উৎসব। কঠিন আর জটিল পরিস্থিতি সামলানোর সক্ষমতা হাইব্রিড, নকলদের নেই। তারা মধু খেতে এসেছে। মধু খাওয়া শেষ হলে চলে যাবে। কোথায় কী হলো তা নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। এ ধাক্কা খুবই সামান্য। সামনে আরও জটিলতা আসতে পারে। এখনই চোখে ক্লান্তি থাকলে পরেরগুলো কীভাবে সামলাবেন? ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ ছবিতে নারী হকি টিমের কোচ ছিলেন শাহরুখ খান। শূন্য থেকে তিনি টিমকে এগিয়ে নেন। ধীরে ধীরে নিয়ে যান বিশ্বকাপে। পুরনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নানা আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের সাইড লাইনে বসিয়ে দেন। ফাইনালে এসে শাহরুখ বোঝেন জিততে হলে অভিজ্ঞদের দরকার। অন্যথায় জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যাবে না। অভিজ্ঞদের ফাইনালে নামালেন কোচ শাহরুখ। জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় শাহরুখ টিম। রাজনীতির সঙ্গে খেলার তুলনা করছি না। কিন্তু অনেক সময় দরকার হয় তুলনার। সব সংকটের সমাধান আছে।

আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েতের বিদায়ের কথা এখনো মনে আছে। দীর্ঘ সময়জুড়ে সোভিয়েত বাহিনী শক্ত অবস্থান নিয়েছিল আফগানিস্তানে। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে আফগানিস্তানে প্রবেশ করল সোভিয়েত বাহিনী। তারা বলল, আফগান কমিউনিস্ট পার্টিকে রক্ষা করতে ঢুকেছে। থাকবে ছয় মাস। সেই সেনারা ছিল ১০ বছর। আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে জন্ম হয় বিভিন্ন মুজাহিদ বাহিনীর। বিশ্বরাজনীতির চালে আমেরিকা সমর্থন দিল তাদের। রাশিয়াকে বিতাড়িত করতেই ছিল কঠিন খেলা। সে খেলার আগুনে আফগানিস্তান পুড়তে থাকল। অনেক বাংলাদেশিও আফগানিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিলেন।

মুজাহিদদের সহযোদ্ধা ছিলেন তারা। আফগানফেরত সেই যোদ্ধাদের তালিকা সরকারের সংস্থাগুলোর কাছে আছে কিনা জানি না। থাকলে কার কী অবস্থান পরিষ্কার করা দরকার। অনেক কিছুই এখন অনেকের মনে নেই। বাঙালি দ্রুত সব ভুলে যায়। বাংলাদেশের অনেক যুবক যুদ্ধ করতে গিয়েছিল লেবাননে। ফ্রীডম পার্টি আর জাসদ যেত লিবিয়ায় অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিতে। জাসদের সেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কেউ কেউ হিজরত করে আওয়ামী লীগ করছেন। অনেকে গত ১২ বছরে এমপিও হয়েছেন। প্রভাবশালী অবস্থানে আছেন। বড় অদ্ভুত রাজনৈতিক সব সমীকরণ।

১৯৮৯ সালে সোভিয়েত সেনা আফগানিস্তান থেকে ফেরত যায়। দুই বছর পর সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়। আফগানিস্তানে ১৫ হাজার সোভিয়েত সেনা ও ১০ লাখ আফগানের মৃত্যু হয়েছিল। আফগানিস্তানে অবস্থানের জন্য বিশাল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ছিল সোভিয়েতে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ম অনুযায়ী সে প্রশ্ন বাইরে যেত না। বরং তারা আফগানিস্তানে কী ভালো করছে তা প্রচার করত। শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তানে সোভিয়েতের পার্টনার ছিলেন নজিবুল্লাহ। সোভিয়েতের বিদায়ে ১৯৯১ সালে এক ভয়াবহ অবস্থার মাঝে পড়ে নজিবুল্লাহ সরকার। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে কোনো সহায়তা পাননি তিনি। বিদায় বেলা দুঃখ করে এডওয়ার্ড শেভার্দনাদজেকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সে চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতি হতে চাইনি, আপনি আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন, জোর দিয়েছেন, সমর্থনের ওয়াদা করেছেন। এখন আপনি আমাকে পরিত্যাগ করে আফগানিস্তানের প্রজাতন্ত্রকে তার ভাগ্যের ওপর সঁপে দিচ্ছেন।’

১৯৯২ সালে রাশিয়া সরকার নজিবুল্লাহর প্রতি সব সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়। মুজাহিদরা দখল করে নেয় সব শহর। পদত্যাগ করেন নজিবুল্লাহ। কাবুলের পতনের পর দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন, পারেননি। আশ্রয় নেন জাতিসংঘ দফতরে। একপর্যায়ে উত্থান ঘটে তালেবানের। তারা কাবুল দখল করে ১৯৯৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নজিবুল্লাহকে প্রকাশ্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। কী নিষ্ঠুর বীভৎস পরিণতি!


বড় ও মেজ ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে যা বললেন মাওলানা মামুনুল হক (ভিডিও)

স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলাম, আমি হেনস্তার শিকার: মাওলানা মামুনুল হক

আমরা রেস্ট করতে এসেছিলাম-নাগরিক টিভিকে বলেছেন জান্নাত আরা (ভিডিও)

মামুনুল হকের সমর্থকরা সেই রিসোর্ট ভাঙচুর চালাচ্ছে (ভিডিও)

সেই রিসোর্ট থেকে মামুনুল হককে নিয়ে গেল তার সমর্থকরা


বাংলাদেশের জন্ম ৩০ লাখ শহীদের রক্তের স্রোতে। অসাম্প্রদায়িকতা মুক্তিযুদ্ধের অর্জন। এ অর্জনের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। আর আপস হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকে না। বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। এ এগিয়ে চলাকে বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া যায় না। প্রাচীন যুগে ফিরে যেতে পারে না এ দেশ। আবার অকারণে ধর্মকে আঘাত করাও সমর্থন করি না। দুনিয়ার সব সাম্প্রদায়িক বাড়াবাড়ির বিপক্ষে আমাদের অবস্থান। আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবা রাকতা ইয়া জাল-জালালি ওয়াল ইকরাম। অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, তোমার কাছ থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়। তুমি বরকতময়, হে পরাক্রমশালী ও মর্যাদা প্রদানকারী!’ ইসলামে শান্তির কথা বলা আছে। রসুল (সা.) বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে পরিষ্কার বলেছেন, ‘সাবধান! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। জেনে রেখ, তোমাদের পূর্ববর্তীরা এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে।’ ধর্মের নামে কোনো বাড়াবাড়ি ইসলাম সমর্থন করে না। গানপাউডার দিয়ে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিচিহ্ন শেষ করে দেওয়া হলো। প্রেস ক্লাবে হামলা হলো। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকরা কাজ করতে গিয়ে নিস্তার পাননি। আমরা কোথায় যাচ্ছি?

নিউজ টোয়েন্টিফোরের গাড়ির ওপর হামলা হয়। গাড়ির ভিতরে একজন নারী সাংবাদিক আর্তনাদ করছিলেন। রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। ক্যামেরাম্যান ও গাড়ির চালক আহত হন। ১৮ সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের খোঁজ কেউ নেয়নি। মিডিয়ার অবস্থা এখন গরিবের সুন্দরী বউয়ের চেয়েও খারাপ। ঘরে হুমকি আর বাইরে হামলা, মিডিয়াকর্মীরা যাবেন কোথায়? না, এভাবে হয় না। অজ্ঞাত বাড়াবাড়ির শিকার হন সাংবাদিক কাজল। আবার রাস্তায় হেফাজতের নিষ্ঠুর হামলা। মাঝখানে যারা ক্ষমতায় আসতে পারে না তারাও নিজেদের ব্যর্থতার দোষারোপটা মিডিয়ার ওপরই দেয়। আরে ভাই, আপনি ব্যর্থ হলে মিডিয়া কী করবে? দেশে সুস্থধারা না থাকলে মিডিয়ার করার কী আছে?

দেখতে দেখতে বেলা বয়ে যায়। অনেক দেখেছি। জোর, প্রভাব, সারাক্ষণ হুমকি দিয়ে আর হামলা করে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সাময়িক থামিয়ে দেওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত এর পরিণাম ভালো হয় না কারও জন্য। আজ হোক, কাল হোক থলের বিড়াল বেরোবেই। থলের মাঝে বিড়াল নিয়ে রাস্তায় বসে থাকবেন, ভাববেন এ বিড়াল কেউ দেখবে না, কী করে হয়? বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো আপস হবে না। হতে পারে না।

অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। দুর্বল নেতৃত্বের কারণে সে অস্তিত্ব বিলীন হলে আর কিছুই থাকে না। বায়তুল মোকাররমে সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের শোডাউনের কোনো দরকার ছিল না। আইনের শাসন রক্ষার দায়িত্ব আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। জনগণের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। সে কাজে ব্যর্থদের দায়িত্বে থাকার সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কাজ আলাদা। নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সারা দেশে আরও প্রতিবাদের দরকার ছিল, হয়নি। শক্ত মানুষকে দায়িত্ব দিতে হয়।  লুতুপুতু নেতৃত্ব দিয়ে অনেক কিছু হয় না।

লেখক: সিইও, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ময়দান মৌলবাদীদের, নীরব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি

ড. মো. আওলাদ হোসেন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ময়দান মৌলবাদীদের, নীরব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি

ড. মো. আওলাদ হোসেন

মৌলবাদী গোষ্ঠীকে এখন আর আলাদা করে খুঁজতে হয় না, আওয়ামী লীগের ভেতরেই তারা বাসা বেঁধেছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম নামের মৌলবাদী গোষ্ঠী ঢাকায় তাণ্ডব চালাল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে, তাদের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। কিন্তু হেফাজতের আমির আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর নতুন নেতৃত্বে হেফাজত আরও উগ্রবাদী হয়ে উঠেছে। এখন তারা কথায় কথায় সরকারের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে দর কষাকষি করছে। 

রাজধানীর দোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা নিয়ে হেফাজতের ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য আমরা শুনেছি, ওদের বক্তৃতার সময়ের ‘Body language‘ দেখেছি। প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নিবেদিত তৃণমূল নেতাকর্মী-শুভানুধ্যায়ীরা বিক্ষোভ করলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ইনিয়ে-বিনিয়ে এ নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে হেফাজতের সাথে আপোস করার চেষ্টা করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে টেলিফোনে বলেছেন, ‘ভাস্কর্য বিরোধী বিক্ষোভের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। এটা আওয়ামী লীগ এর কর্মসূচি নয়। বিক্ষোভকারীরা কারা, আমরা চিনি না।' অনেক নেতা মনে করেন হেফাজত কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি সংগঠন। এর কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। বরং হেফাজতকে বশে রাখতে পারলে বিএনপি-জামায়াত এ শক্তিকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থে ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু আসলে হেফাজত মৌলবাদীদেরই আরেকটি ‘মিউটেশন’। এরা ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি জামাতেরই একটি ভিন্ন রূপ। এরা আর যা-ই হোক আওয়ামী লীগের মিত্র হবে না। সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগকেই ছোবল মারবে। হেফাজতের সঙ্গে বা কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ আপস করলে তা আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষতিরই কারণ হবে। 

২০০৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর অনেক নেতার পরামর্শে ভোটের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কয়েকটি ধর্মান্ধ মৌলবাদী সংগঠনের সাথে সমঝোতা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যদিও এই সমঝোতাটি বাতিলও করা হয়েছিল।
জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের পরিচয়। আর ধর্মান্ধ মৌলবাদী যে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীই হলো প্রগতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে। এরা কখনো কোনো দিন আওয়ামী লীগের বন্ধু হতে পারে না। আওয়ামী লীগ যদি ভুল করে তাদের আপন মনে করে, তা হলে সুযোগ মত তারা আওয়ামী লীগের ঘাড় মটকাবে। 

বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো দিন মৌলবাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস করবেন না। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনা-আদর্শ শেখ হাসিনা ধারণ করেন। জীবন থাকতে তিনি বঙ্গবন্ধুর দর্শন থেকে একচুলও সরবেন না। কিন্তু ইদানীং বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা সুকৌশলে আওয়ামী লীগে ঢুকে গেছে। ওরা অনুপ্রবেশকারী। ওরা আসল আওয়ামী লীগারদের চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাবান। এসব ‘সুসময়ের আওয়ামী লীগারদের’একটি বড় অংশই মৌলবাদী চিন্তা-চেতনার ধারক-বাহক। এরা না বুঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, না জানে আওয়ামী লীগের নীতি, এদের না আছে জনসেবার মানসিকতা। এদের লক্ষ্য একটাই-নিজেদের আখের গোছানো এবং আওয়ামী লীগ এর মধ্যে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে বিএনপি-জামায়াত এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা। এরা হেফাজত ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে আপোস করে নিরাপদে থাকতে চায়।


জানাজার নামাজের জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

কওমি মাদরাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

গণপরিবহনে আবারো যাত্রী অর্ধেক করার নির্দেশ

করোনা আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫১৮১ জন


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এটা করার সুযোগ ও সাহস কোথায় পেল? কারণ তৃণমূল পর্যায়ে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কোলাহলে প্রতিটি এলাকা আনন্দমুখর থাকা উচিত ছিল। তবে বিভিন্ন স্থানে রাজপথের সরকারি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বাঁধা মাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজলেও নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা ছিল না, কোলাহল ছিল না, ছিল না উচ্ছাস। আওয়ামী লীগ এর ভেতর জামায়াত-বিএনপি অনুপ্রবেশকারীদের আধিক্যের কারণে এমন হয়েছে। আওয়ামী লীগ এর তৃণমূল পর্যায়ের পদ-পদবীগুলো বিভিন্ন কৌশলে অনুপ্রবেশকারীরা দখল করে নিয়েছে। ফলে ৭ মার্চ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ইত্যাদি দিবসগুলো উদযাপনে উৎসাহসহ উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীরা মাঠে নামে না। গত ২৬ মার্চ এই ঐতিহাসিক দিনে আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি থাকলে ওরা সাহস পেত না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির দিনে স্বাধীনতা বিরোধীদের এই আস্ফালন অত্যন্ত দুঃখজনক।

এমনি পরিস্থিতিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করার পাশাপাশি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অপশক্তি এবং সংগঠনে অনুপ্রবেশকারী যারা, মৌলবাদীদের সঙ্গে এক ধরনের আপোষ রফা করতে চাইছে তাদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে এখনই। অন্যথায় ভবিষ্যতে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।

লেখক: ভেটেরিনারীয়ান, পরিবেশবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মী।

news24bd.tv নাজিম  

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সিনেমার কাহিনিকে হার মানায় রাজনীতি

নঈম নিজাম

সিনেমার কাহিনিকে হার মানায় রাজনীতি

সমরেশ মজুমদারের একটি উপন্যাস ‘অনুপ্রবেশ’। বইটি উৎসর্গ করেছেন আমাকে। সমরেশদা রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে লেখেননি। তাঁর বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ আলাদা। রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ নিয়ে ভাবছিলাম অনেক দিন থেকে। স্বার্থের জন্য আদর্শের বুলিও শুনতে হয়। যারা আসেন তারা বলেন, যারা নিয়ে আসেন তারাও সাফাই দেন। অনুপ্রবেশ নিয়ে চাইলে বলিউড সিনেমা তৈরি করতে পারে।  দুই দিন আগের জামায়াত আমির হয়ে যান স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি। নষ্ট রাজনীতির একটা সীমা থাকা দরকার। চার বছর আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষক ছিলেন। এখন আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক নেতা। এমন সব বক্তৃতা দেন শুনতে কষ্ট হয়। সেদিন শাহনেওয়াজ দুলাল বললেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনাকে অকথ্য ভাষা ব্যবহারকারী সাংবাদিক এখন সরকারি দলের নেতা বনে গেছেন। চিকিৎসক কিংবা অনেক আইনজীবীর কথা নাই বা বললাম। মাঠের রাজনীতির দোষ দিয়ে লাভ নেই। মহিউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক বইগুলো পড়তে গিয়ে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাচ্ছি। লাল সন্ত্রাস পড়তে গিয়ে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সম্পর্কে নতুন কিছু জানলাম। সিরাজ সিকদারের দলের উচ্চমহলে ছিলেন। দেশে এখন সবাই আওয়ামী লীগের ঠিকাদারি নিয়েছেন। মাঠের জামায়াত ও বিএনপির হাইব্রিডদের দখলদারি নিয়ে আলোচনা করে আর কী হবে। চারদিকে একটা ফ্রিস্টাইল চলছে। কারও মনে নেই ২০০১ সালের পর কী কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। ’৭৫-পরবর্তী দুঃসময়ের ইতিহাসে নাই বা গেলাম। সময়টা এখন কঠিন। সবকিছুর সরল অঙ্কে দেখার কিছু নেই। ধাক্কা না খেলে রাজনৈতিক দল বাস্তবতা বুঝতে পারে না।

এক বন্ধু বললেন, আপনি বাংলাদেশের অনুপ্রবেশ নিয়ে অস্থির কেন একটু মন দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকান। বাঙালিরা মন বদলে ওস্তাদ। ভারত আর বাংলাদেশ বলে কিছু নেই। বাঙালি বলে কথা। দেখুন না, শিশির অধিকারী দুই দিন আগেও ছিলেন মমতার ঘনিষ্ঠজন। তাকে এমপি করেছেন মমতা। ক্ষমতা দিয়েছেন। টাকা-পয়সা কামাতেও বাধা দেননি। হুট করে সেদিন তিনি উঠে গেলেন অমিত শাহের মঞ্চে। যোগ দিলেন বিজেপিতে। বললেন, ২০১৪ সাল থেকে সম্পর্ক রেখে চলেছেন বিজেপির সঙ্গে। তাজ্জব বনে গেলেন মমতা নিজেই! বলেন কী! দল করেছেন, চলছেন মমতার সঙ্গে। ২০১৪ সাল থেকে গোপন সম্পর্ক বিজেপির সঙ্গে। সরকার রাজ সিনেমার কাহিনিকেও হার মানায়। এরশাদ আমলে এ রকম দেখতাম। সারা দিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলন-আলোচনায় কাটিয়ে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে গিয়ে শপথ নিয়েছিলেন কোরবান আলী। ঘনিষ্ঠ একজন রাজনীতিবিদ পরে জানতে চাইলেন কেন এমন করলেন জবাবে বললেন, শাহ মোয়াজ্জেমের সঙ্গে পাল্লা দিতে বিকল্প ছিল না। এমনো রাজনীতির জন্য অসিলা লাগে। ক্ষমতার মসনদ পেতে কিছু মানুষ যা খুশি তাই করে। শ্রমিক নেতা সিরাজুল হোসেন খান দিনের বেলায় করলেন আন্দোলন। বললেন আদর্শের কথা। সন্ধ্যাবেলায় নিলেন শপথ।


বড় অদ্ভুত সবকিছু। ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার কথা। হঠাৎ গুজব রটল মইন উ আহমেদ দল করবেন। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের আগে দলে দলে রাজনীতিবিদরা নরসিংদীর মাইন উদ্দিন ভূইয়ার বনানীর বাড়িতে ভিড় জমাতে থাকেন। বলতে থাকেন আমাদের সঙ্গে রাইখেন। পরে একটি গোয়েন্দা সংস্থা দায়িত্ব দিল ফেরদৌস আহমদ কোরেশীকে। ষাটের দশকের ছাত্রলীগের এই নেতা বিএনপির যুগ্মমহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে অনেকটা অবসরে ছিলেন। তিনি দৈনিক দেশবাংলা পত্রিকা বের করতেন। তার পত্রিকা অফিস স্লোগানে মুখরিত হতে থাকল হুট করে। বিধিনিষেধের বালাই নেই। জাতীয় পার্টির এক নেতা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যান মানিকগঞ্জ। হাজার হাজার মোটরসাইকেল স্বাগত জানাল। কীসের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ফেরদৌস কোরেশী নিজেই বিরক্ত হলেন। কিন্তু অতি উৎসাহীদের তৎপরতার শেষ ছিল না। এর মাঝে মইন উ আহমেদ রাজনীতি থেকে পিছুটান দিলেন। বিপাকে পড়েন অতি উৎসাহী নেতারা। তারা না পেলেন ঘর না পেলেন বাইর। শেষ হয়ে গেল অনেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার।

অতি উৎসাহ ভালো নয় রাজনীতিতে। পরিণামে আজ ফুলের মালা কাল জুতার মালা। আজকের ক্ষমতার বিস্ময়কর আনন্দ -অনুভূতি কাল করোলার মতো তিতাও লাগতে পারে। আমার দাদি বলতেন, ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না। ক্ষমতার চেয়ারে বসে কারও কিছু মনে থাকে না। আর থাকে না বলেই সমস্যা তৈরি হয়। ২০১৮ সালের কথা। হঠাৎ এক প্রতিমন্ত্রী এলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ে। এসেই শুরু করলেন হম্বিতম্বি। ভাবসাবে মন্ত্রীকেও তিনি পাত্তা দেন না। এক সন্ধ্যায় চিঠি পেলাম মন্ত্রণালয় থেকে। চিঠিতে লেখা বিটিভির আজকের খবরটি রাত ৯টায় দেখাতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে। চিন্তিত হয়ে ফোন করলাম টেলিভিশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা মোজাম্মেল বাবুকে। তিনি বললেন, নিউজটা দেখেছ জবাবে জানালাম তখনো দেখা হয়নি। বললেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা আছে মাত্র দেড় মিনিটের। আর প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বক্তব্য সাড়ে ৭ মিনিটের। নিজের ক্ষমতা জাহির করতে তিনি এভাবে চিঠি দিয়েছেন। জানতে চাইলাম কী করব বাবু ভাই বললেন, আমরা অবশ্যই নির্দেশ মানব। তবে প্রধানমন্ত্রীকে হাইলাইটস রেখে নিউজটা দেখাব। তারানা হালিমকে নয়। তার বিশাল বক্তৃতা সম্প্রচারের দরকার নেই। আমাদের কাছে প্রধানমন্ত্রী বড়। কোনো প্রতিমন্ত্রী বা অন্য কেউ নন। তারানা হালিম মাইন্ড করলেন তাকে না দেখানোর কারণে। তিনি অকারণে অন্য ইস্যুতে ৭১ টিভি ও নিউজ টোয়েন্টিফোরকে নোটিস দিলেন। বিস্মিত হলাম। মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বললেন তিনি কিছু জানেন না। সচিব ও প্রতিমন্ত্রী জানেন। বিস্মিত হলাম মোজাম্মেল বাবু ও আমি। কিছুদিন পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবের সঙ্গে টেলিভিশন মালিকদের বৈঠক ছিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায়। সে বৈঠকে মোজাম্মেল বাবু ও আমি শক্ত অবস্থান নিলাম মন্ত্রণালয়ের আজগুবি কান্ডে। তারানা হালিম আমাদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান অকারণে। তার চোখে-মুখে ক্ষমতার দম্ভ দেখেছিলাম। তিনি বুঝতে চাননি ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। সেই তারানা হালিম ক্ষমতা হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সমালোচনা করতে পিছপা হননি। ক্ষমতার রাজনীতি!

বাস্তবতার কঠিন অবস্থাগুলো দেখে এখন আর বিস্মিত হই না। হতাশ হই না। মনে হয় সবকিছু স্বাভাবিক। সবারই মনে রাখা দরকার ক্ষমতা নিয়ে বড়াইয়ের কিছু নেই। আল্লাহর দুনিয়ায় ক্ষমতা কচুপাতার টলটলায়মান পানি। আজ ক্ষমতা আছে কাল না-ও থাকতে পারে। ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে হয়, অপব্যবহার নয়। হিংসা প্রতিহিংসা ঈর্ষা ভালো কিছুর জন্ম দেয় না। রাজনীতিতে একবার শনির দশা শুরু হলে সহজে কাটে না। আওয়ামী লীগের গত ১২ বছরে অনেক ক্ষমতাবানকে দেখেছি। ক্ষমতা ব্যবহারের প্রতিযোগিতা আর বাড়াবাড়ি দেখেছি। আবার মন্ত্রিসভা বা ক্ষমতার চেয়ার থেকে ছিটকে পড়ে রাস্তায় রাস্তায় আফসোসও কম দেখি না। ক্ষমতা এবং কারাগার পাশাপাশি হাঁটে। একবার হোঁচট খেলে আর সহজে উঠে দাঁড়ানো যায় না। কঠিন খেসারত দিতে হয়।

এটিএন বাংলায় থাকার সময় ২০০৫ সালের ডিসেম্বরের একটি ঘটনা। আমার রুমে এলেন জ্যোতিষ কামাল। মজা করার জন্য হাত দেখাচ্ছিলাম। টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন বিএনপির উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি এলেন আমার রুমে। মন্ত্রীকে দেখে জ্যোতিষ কামাল উঠে যাচ্ছিলেন। বললাম উঠবেন না। বসুন। আমার হাত দেখেছেন এবার মন্ত্রীর হাত দেখুন। দুলু সাহেব হাত বাড়িয়ে দিলেন। জ্যোতিষ গম্ভীরভাবে হাত দেখছিলেন। মাঝেমধ্যে মাথা নাড়ছিলেন নিজে নিজে। ভাবখানা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ। নিস্তব্ধতা ভেঙে বললাম, কী হলো কী দেখলেন বলুন। জ্যোতিষ কামাল বললেন, কঠিন কিছু দেখতে পাচ্ছি। অভয় দিলে সত্য বলতে পারি। দুলু সাহেব বললেন, আপনি নিশ্চিতভাবে যা খুশি বলতে পারেন। আমিও বললাম সমস্যা নেই। বলুন। জ্যোতিষ বললেন, এবার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হলে শনির দশার রাহুগ্রাস আছে। কারাভোগের চিহ্ন হাতের পাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। তিনি জেলে যাবেন। নড়েচড়ে বসলাম। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বললাম প্রেম-ভালোবাসার কথা বলুন। ভাবী কিন্তু কড়া মানুষ। জ্যোতিষ সেসব নিয়ে বেশি কিছু বললেন না। হাত দেখাদেখি শেষ হলো। দুলু হাসতে হাসতে চলে গেলেন। বললেন, ভালোই সময় কাটল। আরও এক বছর মন্ত্রী ছিলেন দুলু। তারপর ওয়ান-ইলেভেন হলো। সত্যি সত্যিই প্রথম ধাপে আটক হলেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

ওয়ান-ইলেভেন শেষে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দাপুটে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় নেত্রীর পক্ষে সাহসী অবস্থানে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ¯েœহ পেয়েছেন। মন্ত্রী থাকাকালে নিউইয়র্কের এক আড্ডায় ধর্ম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন। সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদ হয়। বিদেশে থাকতেই মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল তাকে। আমেরিকা থেকে কলকাতায় আসেন। এক সন্ধ্যায় হুট করে গোপনে আসেন ঢাকায়। আটক হলেন। সোজা জেলখানায় যেতে হয়েছিল। কারাগারে থাকার সময় চিকিৎসার জন্য এলেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। চিকিৎসকরা তাকে কেবিন দিলেন। একই সময় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে আসেন মাহমুদুর রহমান মান্না। কিন্তু ডাক্তার সাহেবরা তাকে দেখছিলেন না। বসিয়ে রাখেন। দুপুরে না খেয়ে বসে থাকা মান্নাকে কেবিনে ডাকলেন লতিফ সিদ্দিকী। বললেন, দুপুরে আমার সঙ্গে খাবে। ক্ষুধার্ত মান্না স্বস্তি নিয়ে বসলেন। মুহূর্তে এক কারা কর্মকর্তা প্রবেশ করলেন রুমে। লতিফ সিদ্দিকীকে বললেন, স্যার ওনাকে নিয়ে যেতে হবে। লতিফ সিদ্দিকী আকুতি জানিয়ে বললেন, খেতে বেশি সময় লাগবে না। কারা কর্মকর্তা শুনলেন না। পাত্তাও দিলেন না। লতিফ সিদ্দিকী হতভম্ব। চুপ মেরে গেলেন মান্নাও। কারাজীবন নিয়ে লেখা বইতে মান্না লিখেছেন সেসব কথা।

ক্ষমতা হলো মানবসেবা। যারা মানবসেবা হিসেবে ক্ষমতাকে নেন তারা বেঁচে থাকেন। কেউ হয়তো বলবেন, এখন সেই যুগ নেই। তাকিয়ে দেখুন, জার্মানির বিদায়ী চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ডোরোটেয়া মেরকেলের দিকে। টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও বিদায়ের দিনটি ছিল পুরো জার্মানির জন্য বিষণœতার। মানুষের ভালোবাসার অশ্রুতে বিদায় নিয়েছেন তিনি। টানা ছয় মিনিট বাড়ির বারান্দায় এসে জার্মানির অধিবাসীরা করতালির মাধ্যমে বিদায় জানান প্রিয় নেত্রীকে। বিদায়ী অনুষ্ঠানটি ছিল অশ্রু আর ডুকরে কেঁদে ওঠার আবেগতাড়িত। মানুষের মন জয় করেছিলেন। দীর্ঘ ক্ষমতায় থাকার পরও কোনো অভিযোগ ছিল না। ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। টিভি পত্রিকায় নিজের গুণকীর্তন করতেন না। বার্লিনের রাস্তায় লাগাতেন না ব্যানার-ফেস্টুন। ক্ষমতা থেকে ফিরে গেছেন সাধারণ নাগরিক জীবনে। থাকছেন সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টে। চড়েন সাধারণ গাড়িতে। ক্ষমতার সময়ও চলনে-বলনে কোনো দেমাগ ছিল না। পোশাক-পরিচ্ছেদে আলাদা নজর ছিল না। একবার এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, মেরকেল তোমাকে সব সময় লাল একটা ব্লেজারে কেন দেখি জবাবে বললেন, আমি রাজনীতিবিদ। মডেল নই। কথায় কথায় সাংবাদিকদের আরেকবার বলেছিলেন, তার বাড়িতে একজন মহিলা আর একজন পুরুষ কাজের লোক থাকেন। মহিলাটি তিনি। আর পুরুষটি তার স্বামী। মজা করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কাপড় ধোয়ার কাজটি কে করে জবাবে বললেন, তিনি এবং তার স্বামী দুজন মিলেই করেন।

এই মেরকেল চ্যান্সেলর হওয়ার আগে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। আশপাশের প্রভাবশালী দেশগুলো তাঁকে গুরুত্ব দিত না একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। একবার তো ইতালির প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখেছিলেন। তিনি ধৈর্য ধরে সে অপেক্ষা গায়ে মাখেননি। আর সেই ধৈর্যের কারণে তিনি ইউরোপের সফল রাষ্ট্রনায়ক হতে পেরেছিলেন। মার্গারেট থেচারের মতোই উচ্চতা তৈরি করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার এক দিনের জন্যও করেননি। ক্ষমতা ছাড়ার পর জার্মানির মানুষ কেঁদেছে। সম্মান জানিয়েছে। সারা দুনিয়া বিস্ময় নিয়ে দেখেছে, কীভাবে মানুষের সম্মান পেতে হয়। এই জার্মানিতে একদা হিটলারও প্রচ- দাপট নিয়ে ক্ষমতায় ছিলেন। পুরো জার্মানি হিটলারকে একক ক্ষমতা দিয়েছিল। হিটলার যা খুশি তাই করতেন। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মানবোধ ছিল না। আর ছিল না বলেই কঠিন খেসারত দিতে হয়েছিল। করুণ পরাজয়ে দুনিয়ার ঘৃণা নিয়ে মৃত্যুকেই বরণ করতে হয়েছিল। ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে আজ হিটলার। একই জার্মানিতে অন্য উচ্চতায় শাসন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন মেরকেল।  তৈরি করেছেন আগামীর রাষ্ট্রনায়কদের জন্য দৃষ্টান্ত।

 লেখক: সিইও, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর