ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লেখনীতে অসৎ ছিলেন না

জ. ই. মামুন

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লেখনীতে অসৎ ছিলেন না

(ছবির-বাঁদিক থেকে) মওদুদ আহমদ, জ. ই. মামুন

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তখন আইন মন্ত্রী। তিনি সাংবাদিক বান্ধব নেতা ছিলেন এবং সাংবাদিকদের সাথে গল্প করতে পছন্দ করতেন। একবার সচিবালয়ে তাঁর সাক্ষাতকার নিতে গিয়েছি। কোনো কারণে সেদিন তিনি বিরক্ত ছিলেন; কথায় কথায় বললেন, “বাংলাদেশে দুই শ্রেণীর মানুষ আইনের উর্ধে- হাইকোর্টের বিচারপতিরা আর তোমরা সাংবাদিকরা।” 

রাজনীতিতে মওদুদ আহমদ বিতর্কিত ছিলেন। বারবার দল বদল, নানা রকম কথা বলার কারণে তিনি সমালোচিতও ছিলেন। কিন্তু তিনি লেখনীতে অসৎ ছিলেন না। তাঁর বইগুলোতে তিনি সত্যি কথা লিখে গেছেন। এমনকি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনাও করেছেন। 


আজ থেকে অনেক দিন পরে যখন এই সময়ের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করবেন তখনকার গবেষকরা, তখন আমার ধারণা ব্যারিস্টার মওদুদ তাদের কাছে সত্যনিষ্ঠ হিসেবে প্রমাণিত হবেন। 

একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে লেখেন- তারা কিছু বলেন না? উনি জবাব দিলেন, “তারা বই টই পড়ে না। ইংরেজি বই তো আরো পড়ে না!”

তবে ভিন্ন ধরণের ঘটনাও অনেক। ২০০৫/৬ সালে বিচারকদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত না করলে তখন রাজনীতি উত্তাল হতো না, দেশে ১/১১ আসতো না। পরবর্তী অনেক ঘটনাই হয়ত ঘটতো না। ওই সময়ের আইন মন্ত্রী হিসেবে ওই ঘটনার সবচেয়ে বড় দায় তাঁর। তিনি রাজনীতিক হিসেবে আরেকটু সৎ থাকলে দেশের ইতিহাস অন্যরকম হতে পারতো। 

ব্যারিস্টার মওদুদের সাথে আমার অনেক স্মৃতি। দোষে গুণে মিলিয়ে মানুষ। আজ তিনি মারা গেছেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। পরপারে ভালো থাকুন মওদুদ ভাই। 

(ছবিগুলো দিন বদলের কথা নামে আমার সঞ্চালনায় এটিএন বাংলার একটি টক শো এর। ওই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সম্পর্কে দুই বেয়াই- তখনকার আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এবং সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, সাথে ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।)

জ. ই. মামুন, সিনিয়র সাংবাদিক। 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

# ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা গেছেন

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে: তসলিমা নাসরিন

তসলিমা নাসরিন

ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে: তসলিমা নাসরিন

ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের সমস্যা আজকের নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র তৈরী হওয়ার পর থেকে। এই রাষ্ট্র  তৈরির পেছনে ছিল ঔপনিবেশিক শক্তি ব্রিটেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর  ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাস করা অত্যাচারিত ইহুদিরা নিজেদের জন্য একটি স্বদেশ চেয়েছিল। সেই স্বদেশই তাদের গড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে ফিলিস্তিনিরা যে অঞ্চলে হাজার বছর ধরে বাস করতো, সেই অঞ্চল থেকে ফিলিস্তিনিদের  উৎখাত ক’রে, উদবাস্তু ক'রে। যারা ইসরায়েল তৈরি করেছিল, তাদের উচিত ছিল ফিলিস্তিনিদের জন্যও একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। ১৯৬৭ সালে  ইসরায়েল ছয় দিন ব্যাপী একটি যুদ্ধ করে মিশর আর জর্দানের  আরও ভূমি দখল করে নিয়েছিল,  তারপরও ফিলিস্তিনিদের তাড়ানো বন্ধ করেনি।

ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়, তা অসম যুদ্ধ। ইসরায়েল পৃথিবীর অন্যতম মিলিটারি মহাশক্তি, আর ফিলিস্তিনিদের হাতে কিছু ইট পাটকেল, কিছু  হাত বোমা, কিছু রকেট। নিজেদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে, আর অসহনীয় শরণার্থী-জীবনের ইতি ঘটাতে যুগে যুগে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলেছে। জঙ্গিরা ইসরায়েলের দিকে রকেট ছুঁড়ে মারে, ২ জন নিহত হয়, আর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল যুদ্ধ-বিমান পাঠায়, মিসাইল ছুঁড়ে ফিলিস্তিনি জঙ্গিসহ সাধারণ মানুষ, তাদের ঘর বাড়ি  সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে আসে, ২০০০ জনের মৃত্যু হয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন দেখে অন্যান্য দেশের মুসলিমরা ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে, ইসরায়েলকে সমর্থন করা ইউরোপ আর আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জঙ্গি হয়ে ওঠে।


আরও পড়ুনঃ


গ্রহাণু ঠেকাতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে: নাসা

তাহসান-মিথিলার ‘সারপ্রাইজ’-এর রহস্য উন্মোচন, আড়ালে অন্য কেউ

ইসরায়েলের হামলা নিয়ে নোয়াম চমস্কির টুইট

ইসরায়েলের হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ: মিয়া খলিফা


আজ ইউরোপ আর আমেরিকা চেষ্টা করে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে। কিছুদিন শান্তি বিরাজ করে, আবার শুরু হয়ে যায় সংঘাত। আমার মনে হয় না এই সংঘাত-সংঘর্ষ অচিরে শেষ হবে। এ আরও দীর্ঘকাল চলবে। ফিলিস্তিনিরা রাষ্ট্র চায়, তবে যে  ভূমিতে তারা বাস করতো, সেই ভূমির কিছুটা হলেও ফেরত চায়। কিন্তু সেই ভূমিতে এখন বাস করছে ইসারেয়েলিরা। এরাও দেবে না, ওরাও ছাড়বে না। এই সম্পর্কের মধ্যে এখন জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের অধিকার নিয়ে আগুন জ্বলছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কালো ধোঁয়া। দূর থেকে এই অসম যুদ্ধ দেখতে হবে আমাদের, এ ছাড়া উপায় কী? যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করছে আজ, তাদের যদি ফিলিস্তিনিদের মতো অবস্থা হতো, তারাও জানে তারা তখন ফিলিস্তিনিরা যা করছে, তাই করতো। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চাইতো।

যুদ্ধ অনেক দেখেছি, আর দেখতে ইচ্ছে করে না। আর দেখতে ইচ্ছে করে না বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা। শান্তি দেখতে  চাই সর্বত্র। কিন্তু শান্তি বোধহয় মানুষ নামক প্রাণীর জন্য খুব সহজ নয় পাওয়া।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

নারীদের ইদগাহে ইদ করা প্রসঙ্গে

হারুন আল নাসিফ

নারীদের ইদগাহে ইদ করা প্রসঙ্গে

রমজান মাসব্যাপী রোজা পালন করার পর রোজাদার তথা মুসলিম পুরুষদের জন্য রয়েছে ইদ বা আনন্দ। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুমিন মুসলমান পুরুষরা দলে দলে ইদগাহে একত্রিত হন। ইদের নামাজ আদায় করেন এবং পরস্পর কুশল বিনিময় করেন। 

কিন্তু নারীদের বেলায় করণীয় কী? তারা কি ইদগাহে যেতে পারবেন বা ইদের নামাজ আদায় করতে পারবেন? নারীদের ইদের নামাজ আদায়ের হুকুমই বা কী? হাদিস অনুযায়ী মুসলিম নারীরা ইদগাহে যেতে পারবেন, ইদের নামাজ পড়তে এবং দোয়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। 

এ প্রসঙ্গে বুখারির ৩২৪ নং ও মুসলিমের ৮৯০ নম্বর হাদিসে এসেছে: হজরত উম্মে আতিয়া (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ(সা,) প্রাপ্তবয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনীসহ সকল নারীকে ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহার নামাজের জন্য বের হওয়ার এবং নামাজে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ঋতুবতী মেয়েরা নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবেন কিন্তু কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় অংশ নেবেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই। রাসুলুল্লাহ(সা.) বললেন, তিনি তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরবেন।

তবে নারীদের ইদের নামাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, সুন্নাত। এ নিয়ে আবার মাজহাবগুলোতে মতভেদ রয়েছে। 
১. ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মতে নারীদের ঈদগাহে নামাজ আদায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

 ২. হানাফি মাজহাব মতে, নারীর জন্য ঈদের নামাজ পড়া নফল। আর নফল নামাজ জামাতে আদায় মাকরূহ। অবার ফেতনার আশংকায় নারীদের ইদের নামাজ আদায় করাও মাকরুহ।

আমাদের দেশে নারীরা সাধারণত ইদের জামাতে অংশ নেন না। এ ব্যাপারে কেউ তেমন কিছু জানেন না, আবার জানার আগ্রহও দেখা যায় না। এ নিয়ে আরো আলাপ-আলোচনা হলে আমাদের জানার সুযোগ হতো। এ নিয়ে আমরা কোনো ভুলে থাকলে তা থেকে বাঁচা যেতো।
নিচের ছবিটি ২০১৬ সালের ৬ জুলাই ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি ইদগাহে নারীদের জামাতের একাংশ।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

লেখক : হারুন আল নাসিফ  : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(ফেসবুক থেকে নেয়া)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

চঞ্চল চৌধুরী

ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়ার মধ্যে কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই

আমার ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল। এতে আমি শুধুই বিব্রত নই, সেই সাথে মানসিকভাবে খুব অস্বস্তিকর সময় পার করছি...।

এখন নিশ্চয়ই আমার পরিচয় নিয়ে কারো কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। ভবিষ্যতে নতুন করে আমার পরিচয় জানার জন্য কেউ আগ্রহী হলে ব্যক্তিগত ভাবে আমাকে ইনবক্স করলে ধন্য হবো। তবে পরিচয়ের নামে, এরকম পরিস্থিতি কাম্য নয়।

গুটি কতক মানুষ যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন, ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়াটা কি কোন অপরাধ? তাদের জন্য বলছি... অপরাধ নয়, এটা যেমন ঠিক, আবার বার বার এই পরিচয়টা জানতে চাওয়ার মধ্যেও তেমন কোন বাহাদুরী বা পৌরুষত্ব নেই।

বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আমাকে ভালোবাসে, আমার কাজ পছন্দ করে, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে যারা আমাকে ভালোবেসে আমার হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেছেন, সকল ধর্মের মানুষ আমার মাকে মা ডেকেছেন, আমার পরিচিত জন, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মীসহ, দেশ বিদেশের হাজার হাজার মানুষ খোঁজ নিয়েছেন, আমি এ হেন পরিস্থিতিতে কেমন আছি...। তাঁদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

আর সামান্য সংখ্যক মানুষ নানান বিব্রতকর প্রশ্ন করে ও গালি গালাজ করে বা আমাকে বর্জন করেও, পরবর্তীতে তাদের কমেন্টগুলো ডিলিট করে দিয়েছেন, তাদের প্রতিও আমার ভালোবাসা রইলো। কারণ তারা এক পর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে পেরেছেন। যে কারণে, অনেকেই পরবর্তীতে আমাকে দেয়া গালিগুলো আর খুঁজে না পেয়ে উল্টো অভিযোগ করেছেন, বলেছেন...কই আমার বিরুদ্ধে তো কেউ তেমন কিছুই লেখেনি....। এ নিয়েও আর কোন বিতর্কের দরকার নেই।

আপনাদের সবার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এই বিষয়টাকে কেউ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউই কাউকে অসম্মান করে কিছু লিখবেন না। পারলে গঠনমুলক কিছু লিখুন। সেটাই হবে সভ্য মানুষের কাজ।

আরও পড়ুন


যার জন্যে মিতুকে হত্যা, কে সেই এনজিও কর্মী গায়েত্রী?

দেশের দুঃসময়ে বিদেশে বসবাসরত ভারতীয় চিকিৎসকদের অনন্য উদ্যোগ

শিমুলিয়া ঘাটে আজও ঘরমুখো মানুষের ঢল, অপেক্ষায় শতশত যান

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই মাইক্রোবাস চালকের লাশ উদ্ধার


শুধু একটি কথা সবাইকে বলতে চাই, আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, যে পেশারই হোন না কেন, আপনার কর্ম দিয়ে দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গল করছেন, সেটাই আসল কথা। সব ধর্মেই ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ রয়েছে। আমার মনে হয় সকল মানুষের পরিচয়টা কর্ম, সহনশীলতা, আর ধর্মীয় উদারতা দিয়ে হোক।

আমাকে নিয়ে অতি:সত্বর এই আলোচনারও পরিসমাপ্তি হোক।

আমার পরিচয়....
আমি মানুষ,আমি বাংলাদেশী,আমি বাঙালী....
আর ধর্ম পরিচয়টা প্রত্যেকের মতই জন্মগত।
এতে কারো কোন আপত্তি থাকলেও, আমার কোন সমস্যা নেই।

আর সবচেয়ে বড় যে পরিচয়ে আপনারা আমাকে চেনেন...। সেটা হলো, আমি একজন শিল্পী....। আমার কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সবাই সমান এবং আপন।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা...
ঈদ মুবারক....

সারা পৃথিবী জুড়ে যে করোনা সংকট চলছে, এই দু:সময়ে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন...। আসুন,আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই। 

মানবতার জয় হোক....
সবার জন্য ভালোবাসা।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

বাবুল আক্তার: বাদী থেকে প্রধান আসামি!

হারুন আল নাসিফ

বাবুল আক্তার: বাদী থেকে প্রধান আসামি!

স্ত্রী হত্যা মামলার বাদী ছিলেন তিনি। পাঁচ বছরের মাথায় তিনি আজ শ্বশুরের করা নতুন মামলায় স্ত্রী হত্যার অভিযোগে প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ঘটনা সচেতন ও চিন্তাশীল মানুষের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। এমন অবিশ্বাস্য ব্যাপারও যে ঘটতে পারে তা অনেকে ভাবতেই পারেননি!

সে সময় বাবুল আক্তারের কান্নার দৃশ্য দেখে অনেকে আর প্রতি সমবেদনা বোধ করেছিলেন। তাকে বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু এ কী কথা! সেই বাবুলই তাহলে স্ত্রী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী? একজন সৎ ও কীর্তিমান অফিসার হিসেবে পরিচিত ও প্রশংসিত ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কথা বিশ্বাস করাকে অন্যায় মনে করেছিলেন বেশির ভাগ মানুষ।

এমন ঘটনা সত্যি না হওয়াই কাম্য। আইন-শৃংখলা বাহিনির গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এমন ছক আঁটা ও তা বাস্তবায়নে যে তিনি তার পদ ও এসংক্রান্ত সুবিধা কাজে লাগিয়েছিলেন তাতে সন্দেহ থাকার কথা নয়। কী ভয়ংকর! ভাবতে গা শিউরে উঠছে। এটাই কি তার একমাত্র অপরাধ সংশ্লিষ্টতা? মনে হয় না। 

২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পরকীয়ার জের ধরে পুলিশের এক এসআই আকরাম হোসেনেকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে একটি মামলা  করা হয়। আকরামের বোন জান্নাতারা রিনি ঝিনাইদহ আদালতে মামলাটি করেন। এমামলার বিষয়টিও এখন নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রতীয়মান হওয়া বিচিত্র নয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, এসআই আকরাম হোসেনের স্ত্রী বনানী বিনতে বছির বর্ণির সঙ্গে বাবুল আক্তারের পরকীয়ার জেরে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মহাসড়কে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয় আকরামকে। নিহত আকরাম হোসেন তখন বিমানবন্দরে স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। 

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন। তাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। 

ওই সময় পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। চট্টগ্রামে ফিরে তিনি পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি বলেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রী হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। 

এরপর দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় বেশ কয়েকজন কথিত জঙ্গি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার প্রথমে ঢাকার মেরাদিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন। শ্বশুর এসময় বাবুল আক্তারের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছিলেন।

তবে সপ্তাহ দুয়েকের মাথায় মিতু হত্যার তদন্ত নতুন মোড় নেয়। বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ, বাবুল আক্তারই মিতুকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন। কিন্তু বাবুল আক্তার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

(ফেসবুক থেকে)

news24bd.tv / কামরুল  

পরবর্তী খবর

যদি চালুই করতে হয়, তবে আজ থেকে নয় কেন?

রউফুল আলম

যদি চালুই করতে হয়, তবে আজ থেকে নয় কেন?

ইউনিভার্সিটিগুলো অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা স্টুডেন্ট নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর তরুণ শিক্ষকদের অনেকেই গড়ে দুই-তিন বছর বা আরো বেশি সময় ব‍্যয় করে বিদেশে মাস্টার্স/পিএইচডি পাওয়ার চেষ্টায়। এতে তাদের পাঠদান ও অন‍্যান‍্য কর্ম ব‍্যাহত হয়। যারা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায়, তারা পাঁচ-সাত বছর ডিপার্টমেন্টে উপস্থিত না থেকেই বেতন পায়। এটা বস্তুত কাজ না করেই বেতন! প্রফেসর কামরুল হাসানের এক লেখায় জানতে পারি, অনেকে এই টাকা ফেরত না দিয়ে বিদেশ থাকার চেষ্টা করে বা থেকে যায়। সে টাকা আদায় করতে সরকারের অনেক বেগ পেতে হয়।

ক্ষতিটা যে শুধু আর্থিক তাই নয়। এই যে পাঁচ-সাত বছর একজন শিক্ষক ডিপার্টমেন্টে নেই, সে কারণে শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক সময় পরীক্ষার ফলাফল দিতে দেরি হয়। অর্থাৎ একজন শিক্ষককে শিক্ষিত করতে গিয়ে বহু তরুণের জীবনকে হুমকিতে ফেলছি আমরা। কী ভয়াবহ! অথচ সেসব তরুণদের মধ‍্যে কতো সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে।

তাহলে, চাকরি জীবনের গড়ে দশ বছরই কাটে উচ্চশিক্ষার পেছনে। আবার এই শিক্ষকদের অনেকেই দেশে ফিরে আর গবেষণার সাথে কোনভাবেই জড়িত থাকেন না। অনেকে করেন রাজনীতি। অনেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নেয়ার জন‍্য দৌঁড়ান। তাহলে, এই দশ বছরে গড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে বেতন ধরলেও, জনপ্রতি রাষ্ট্রের পঞ্চাশ লক্ষ টাকা জলাঞ্জলি।

তাহলে সমাধান কি? সমাধান হলো, রাষ্ট্রকে উচ্চ বেতন-ভাতা দিয়ে বিদেশ থেকে দেশিয় ছেলে-মেয়েদের ফিরিয়ে নেয়ার উদ‍্যোগ নিতে হবে। পিএইচডি করা প্রার্থীদের প্রাধ‍ান‍্য দিয়ে নিয়োগ দিতে হবে। তাদেরকে গবেষণার জন‍্য পর্যাপ্ত ফান্ড দিতে হবে। বিদেশ থেকে শিক্ষক ভাড়া করে আনতে হবে। সারা দেশে যদি হাজার হাজার বিদেশি লোক, কর্পোরেটের চাকরি দখল করে রাখতে পারে, বিশ্ববিদ‍্যালয়ে শিক্ষক বা গবেষক আনা যাবে না কেন?

চলমান এই নিয়ম বা ধারা হয়তো নব্বই দশক পর্যন্ত উপযোগী ছিলো। কিন্তু এখন এই ধারাটা রাখার কোন প্রয়োজন নেই। এখন সময় এসেছে সরাসরি পিএইচডি করা প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার। চাইলেই হয়তো দেশের সব ইউনিভার্সিটির জন‍্য এতো শিক্ষক আমরা একসাথে পাবো না, সেটা সত‍্য। কিন্তু আমার যদি এখন থেকে নিয়মটা চালু করি, চর্চাটা ভালোভাবে শুরু করি, তাহলে সেটা সংস্কৃতিতে দাঁড়াতেও প্রায় এক দশক লেগে যাবে। আমি ভাবতেই পারি না, বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিতে ২০৩০ সালে গিয়েও পিএইচডি ছাড়া নিয়োগ হবে! দুনিয়ায় আমরাই হয়তো তখন এ বিষয়ে একমাত্র উদাহরণ হবো।

আরও পড়ুন


বিবেকবোধ বা মানবিকতায় ‘চুজ অ্যান্ড পিক’ ব্যবস্থা নেই

আবারও করোনায় মৃত্যুর রেকর্ড গড়লো ভারত

পরিচয় পাওয়া গেছে পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই মাইক্রোবাস চালক ও মালিকের

যে ৮ বিভাগে ভারী বর্ষণসহ শিলাবৃষ্টি হতে পারে


সীমিত পরিসরে হলেও, দেশেই উন্নত মানের পিএইচডি ডিগ্রি তৈরি করার চেষ্টা শুরু করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। এটা হলে, আমাদের কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার মান অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। নির্দিষ্ট কিছু সেক্টরকে নির্বাচিত করুন। আমরা হয়তো একবারে সব দাঁড় করাতে পারবো না। কিন্তু আগামী দশ-পনের বছরের জন‍্য পাঁচটা সেক্টর বেছে নিতে পারি। এই সেক্টরগুলোতে পনের বছরে পাঁচশ গবেষক তৈরি করার লক্ষ নেন। যারা হবে বিশ্বমানের। তাদের হাত দিয়ে হবে দেশে গবেষক তৈরির সংস্কৃতি। যতোদিন আমরা দেশে বিশ্বমানের গবেষক তৈরি করতে না পারবো, ততোদিন গবেষণায় আত্মনির্ভরশীলতা আসবে না। কখনোই না!

২০৭১ সালে বাংলাদেশের বয়স হবে একশো বছর। একশো বছরের একটা দেশে যদি বিশ্বমানের কুড়িটা ইউনিভার্সিটি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট না থাকে, আমি স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি, সে দেশ সে সময়ে হাবুডুবু খাবে। তাকে বাঁচানোর জন‍্য পর্যাপ্ত লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সে দেশটা পুরোপুরি হয়ে যাবে অন‍্যদের পণ‍্যের বাজার। সারা পৃথিবী যে পথে হেঁটেছে আমাদেরকে টিকে থাকতে হলে সে পথেই হাঁটতে হবে। এই নিয়মগুলো কখনো না কখনো আমাদের দেশেও হবে। একদিন না একদিন যদি চালুই হয়, তবে আজ থেকে নয় কেন?

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর