আজানের জবাব ও সাওয়াব বিষয়ে কি বলা আছে হাদিসে?

অনলাইন ডেস্ক

আজানের জবাব ও সাওয়াব বিষয়ে কি বলা আছে হাদিসে?

মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে আজানের সুমধুর সুর ভেসে আসে মসজিদের মিনার থেকে। আজানের সেই সুরের মাধ্যমে আহ্বান করা হয় নামাজের জন্য। তবে আজান শোনার পর নামাজে তো যেতেই হবে সেই সাথে আজানের জবাব দেয়ায় রয়েছে উপকারিতা ও সাওয়াব। হাদিসে পাকে প্রিয় নবী হয়রত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

আজান পরবর্তী সময়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যারা আজানের জবাব দেয়ার পর আল্লাহর কাছে কোনো কোনো কিছু প্রার্থনা করেন; আল্লাহ তাআলা বান্দার সে চাওয়া পূর্ণ করেন। আবার যথাযথভাবে আজানের জবাব দেয়ায় রয়েছে চিরস্থায়ী শান্তির স্থান জান্নাতের ঘোষণা।

আজানের জবাব, সাওয়াব ও উপকারিতা সম্পর্কে রয়েছে হাদিসের একাধিক নির্দেশনা ও সুসংবাদ-

হজরত আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান ও ইক্বামতের মাঝে যে দোয়া করা হয়, তা ফেরত দেয়া হয় না।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসুল! মুয়াজ্জিনদের মর্যাদা যে আমাদের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমিও তা-ই বল, মুয়াজ্জিন যা বলে। তারপর আজান শেষ হলে (আল্লাহর কাছে) চাও। (তখন) যা চাইবে তা-ই দেয়া হবে।’ (আবু দাউদ, মেশকাত)

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে যে ব্যক্তি আজানের শব্দগুলো বলবে, সে জান্নাতে যাবে।’ (আবু দাউদ, মেশকাত)

আজানের জবাব দেয়ার বিবরণ ও প্রাপ্তি সম্পর্কে হাদিসের দীর্ঘ এক বর্ণনায় এসেছে-

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যদি মুয়াজ্জিনের-

‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’-এর জাওয়াবে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ বলে এবং
‘আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর জওয়াবে ‘আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে এবং
‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’-এর জওয়াবে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ বলে তারপর - ‘হাইয়্যা আলাস্-সলাহ’-এর জওয়াবে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে, তারপর
‘হাইয়্যা আলাল-ফালাহ’-এর জওয়াবে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে, তারপর
‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’-এর জওয়াবে ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার’ এবং
‘লা-ইলাহা ইল্লল্লাহ’-এর জওয়াবে ‘লা-ইলাহা ইল্লল্লাহ’ বলে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (আবু দাউদ, মুসলিম)

আরও পড়ুন


ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ মারা গেছেন

দুই সপ্তাহ পেরুলেও উৎঘাটন হয়নি মৌমিতার মৃত্যু রহস্য

‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশ

আমাকে হত্যার জন্য সেতুমন্ত্রীর স্ত্রী ১ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন: কাদের মির্জা


সুতরাং আজানে সময় অযথা কথা নয়, বরং মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে হাদিসের নির্দেমনা অনুযায়ী জবাব দেয়া উত্তম। আর আজানের জবাবের প্রাপ্তিও সর্বোত্তম জান্নাত। তারপর যে দোয়া-ই করা হয়; আল্লাহ তাআলা কবুল করে নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবী।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজানের জবাব দেয়ার এবং আজানের পর নিজেদের জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। জান্নাতসহ যাবতীয় নেয়ামতে দুনিয়া ও পরকালের জীবনকে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়বেন

অনলাইন ডেস্ক

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়বেন

আল্লাহ বলেন, 'তোমাদের ঘুম বা নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী হিসেবে। রাত্রিকে করেছি আবরণ। দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়।' (সুরা আন-নাবা; আয়াত -৯, ১০ ও ১১)

দিন ও রাত্রির সৃষ্টি আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের এক বড় নিদর্শন এবং সকল মাখলুকের জন্য মহা নিয়ামত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতে অগণিত অসংখ্য মাখলুক সৃষ্টি করে প্রত্যেককে তার পরিধিতে সংসার জীবন প্রতিপালনে ব্যস্ত করে রেখেছেন এবং এ সকল কাজে সকল মাখলুকের মাঝে ক্লান্তি আসে; আবার তা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন ঘুমের মাধ্যমে।

ঘুমের মাধ্যমে মানুষের প্রশান্তি লাভের পর ঘুম থেকে উঠার সময় মানুষকে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করার কথা বলেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে, আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর। (সহিহ বুখারী)

হযরত হুযাইফা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তিনি জাগ্রত হতেন তখন বলতেন, সমস্ত প্রশংসাই আল্লাহর জন্য। যিনি আমাদেরকে মারার পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে। (সহিহ বুখারী, রিয়াদুস সালেহীন-৮১৭)।

অতঃপর কালিমাতুশ শাহাদাত পড়বে-

আশহাদুআল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু। সূত্র : ইন্টারনেট

------------------------------------------------------------

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

দান-সাদকার পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দান-সাদকার পুরস্কার

দান-সাদকা মুমিনের অন্যতম গুণগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের অসংখ্য আয়াতে দান-সাদকা তথা তার পথে ব্যয় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আর আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৭১)

হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সাদকাহ বা দান অবশ্যই কবরবাসীর কবরের উত্তাপ ঠাণ্ডা করে দেবে এবং মুমিন বান্দা কেয়ামতের দিন তার (সাদকা বা দানের) ছায়াতে অবস্থান করবে।’ (বায়হাকি ফি শুআবুল ঈমান, ৩৩৪৭)।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয় সাহাবি হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকেও দান-সাদকা করার ব্যপারে এ মর্মে বিশেষ নসিহত করেছেন-
وَالصّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النّارَ

অর্থাৎ আর দান সাদকা পাপকে (এমনভাবে নিভিয়ে দেয়) মোচন করে; যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)

আরও পড়ুন: 


এনআইডির দায়িত্ব ইসিতে থাকা উচিত: সিইসি

খুলনায় করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

চার ম্যাচ নিষিদ্ধ সাকিব

ফের ফিলিস্তিনি কিশোরকে হত্যা করল ইসরায়েল


 

হাদিসে পাকে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিদিন আসমান থেকে ২ জন ফেরেশতা (জমিনে) অবতরণ করেন। তাদের মধ্যে একজন (দানকারীর জন্য) দোয়া করে-

‘হে আল্লাহ! যে (তোমার পথে) ব্যয় করে; তাকে বিনিময় দান কর।’

আর দ্বিতীয় ফেরেশতা (দান থেকে বিরত থাকা ব্যক্তির জন্য) বদ-দোয়া (অভিশাপ) করে-
‘হে আল্লাহ! যে (তোমার পথে) সম্পদ ব্যয় করা থেকে বিরত থাকে; তার অর্থ সম্পদ ধ্বংস করে দাও।’ (মেশকাত)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না

অনলাইন ডেস্ক

৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না

করোনা সংক্রমণ রোধে গত বছরের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে ওরস মোবারক উদযাপন করা হয়নি। কিন্তু এবছরও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়াই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে এবছরও ওরস মোবারক উদযাপন হচ্ছে না। গত বছর ৭০১তম ওরস মোবারক উদযাপন হয়নি। এবার ৭০২তম ওরস হচ্ছে না।

শনিবার (১২ জুন) সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের সরেকওম মোতাওয়াল্লি ফাতেহ উল্লাহ আল আমান।

তিনি বলেন, চলতি বছরে ১১ ও ১২ জুলাই শাহজালাল মাজারের ওরস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওরসের আয়োজন করা হলে প্রচুর ভক্ত-অনুরাগী ভিড় করবেন। এতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব হবে না। যে কারণে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। ফলে এবারের ওরস আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাজার কর্তৃপক্ষ।

মাজার সেক্রেটারি সামুন মাহমুদ খান বলেন, ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের বছরও এখানে ওরস হয়েছে। কিন্তু এবার তা করা সম্ভব হচ্ছে না।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

এবছরও হজে যেতে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক

এবছরও হজে যেতে নিষেধাজ্ঞা

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় এবছরও অন্য কোনো দেশ থেকে সৌদি আরবে কেউ হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই হজে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশিদেরও।


আরও পড়ুন

সরকারের সমালোচনা এবং সরকারী বৃত্তি!

স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে কানাডার ফেডারেল রাজনীতিক গ্রেপ্তার

ফ্লয়েডকে নির্যাতনের ভিডিও করা সেই কিশোরী পেলেন পুলিৎজার পুরস্কার

গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের উৎসমূলে মারাত্মক আঘাত হেনেছি: হামাস


আজ শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে‌ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে সৌদি আরবের নাগরিক এবং সেখানে অবস্থানকারী অন্যান্য দেশের মুসলিমরা সীমিত আকারে হজ পালন করতে পারবেন।

news24bd.tv/এমিজান্নাত

পরবর্তী খবর

যৌবনে যে কাজগুলো মেনে চললে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা সুনিশ্চিত

অনলাইন ডেস্ক

যৌবনে যে কাজগুলো মেনে চললে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা সুনিশ্চিত

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে যৌবন বয়সের ইবাদত সবচেয়ে বেশি প্রিয়। সে নারী হোক কিংবা পুরুষ। কেননা এ বয়সের ইসলামের অনুসরণকারীরা কেয়ামতের ময়দানে পাবেন মহান রবের আরশের বিশেষ ছায়া। তাই যুবক-যুবতির ইবাদত ও চলাফেরার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু দিক। যে উপদেশ ও করণীয়গুলো মেনে চলায় দুনিয়া ও পরকালের সফলতা সুনিশ্চিত। সে উপদেশ ও করণীয়গুলো কী?

যৌবনের উম্মাদনায় যুবক-যুবতি!

এখনই সময়- নিজেকে গড়ার; ইবাদত-বন্দেগি করার; নিয়মিত নামাজ আদায় করার। সুখময় জান্নাতের চিরস্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করার সময়ও এখনই। কোনো যুবক-যুবতির জন্যই এ বয়সে অলসতা ও বিলাসিতা করার সময় নয়। বরং অলসতা ও বিলাসিতা ত্যাগ করে যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ও শ্রমকে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণময় কাজে ব্যয় করা জরুরি।

মনে রাখা জরুরি যে, দুনিয়ার মোহ-ই মানুষের যৌবনের এ মূল্যবান সময়কে বিলাসিত ও অলসতার কারণে ধ্বংস করে দেয়। তাই যুবক-যুবতিদের এ যৌবন বয়সে সালাফে সালেহিনদর উপদেশ ও দিকনির্দেশনা থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি। তাহলো-

১. হজরত আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘তোমরা যেভাবে কথা বলতে শিখাও অনুরূপ চুপ থাকাও শিখাও। কেননা, চুপ থাকা বড় সহনশীলতা।’ (মাকারিমুল আখলাক)

২. আল্লামা ইবনুল জাওযি (রাহ.) বলেন, ‘তুমি তোমার নিজের অবস্থার প্রতি দৃষ্টি দাও। তোমার অবস্থা যদি এই হয় যে, তুমি মৃত আর কবরের জন্য প্রস্তুত; তবে তাতেই অবস্থান অব্যাহত রাখো। আর যদি তোমার অবস্থা হয়ে থাকে এমন যে, এই দু’টির কোনোটির জন্যই তুমি উপযোগী নও; তবে এই অবস্থা থেকে আল্লাহর দিকে তাওবাহ কর এবং ফিরে যাও সেদিকে যা তার জন্য উপযোগী।’ (বুস্তানুল ওয়ায়েজিন)

৩. হজরত সুফিয়ান সাওরি (রাহ.) বলেন, ‘যখন তুমি আল্লাহর পথে তোমার ভাইকে ভালোবাসবে; তখন তার জন্য তোমার নফস ও সম্পদ ব্যয় করবে। আর ঝগড়া, মতানৈক্য এবং সন্দেহ-সংশয় থেকে বেঁচে থাকবে। সর্বাবস্থায় তোমার ওপর ধৈর্যধারণ করা জরুরি। কেননা, ধৈর্যই নেক আমলের দিকে টেনে নিয়ে যায় আর নেক আমল টেনে নিয়ে যায় জান্নাতে।’ (হিলইয়াতুল আওলিয়া)

৪. হজরত ইবনু হিব্বান (রাহ.) বলেন, ‘আহমক বা বোকার মাঝে সবচেয়ে বড় আহমকি বা বোকামির আলামত হলো- তার মনে যা উদয় হয়, তার জিহ্বা তা-ই বলে দেয়।’ (আর রাওদাহ)

৫. ইমাম হাসান বসরি (রাহ.) বলেন, ‘মানুষ তোমাকে সম্মান করতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তাদের কাছে যা আছে তা গ্রহণ না করবে। সুতরাং যখন তুমি তা করবে তখন তোমাকে অবজ্ঞা করবে; বিদ্বেষ পোষণ করবে এবং তোমার কথাকে অপছন্দ করবে।’ (হিলইয়াতুল আওলিয়া)

৬. হজরত শামিত বিন আজলান (রাহ.) বলেন, ‘হে আদম সন্তান! যতক্ষণ তুমি চুপ থাক ততক্ষণ নিরাপদ থাক। আর যখনই কথাবলা শুরু কর, সতর্কতা অবলম্বন কর যে- যে যা বলছ তা কি তোমার জন্য উপকারী নাকি তোমার বিপক্ষে যাবে।’ (জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম)

৭. হজরত ইবনু হিব্বান (রাহ.) আরও বলেন, ‘অল্পে তুষ্টি অন্তরে আসে। অতএব যার মন ধনী হয়ে যায় তার হাতও ধনী হয়ে যায়। আর যার মন গরীব থাকে তার প্রাচুর্য তার কোনো কাজে আসে না। আর যে ব্যক্তি অল্পে তৃপ্ত হয়ে যায় সে বিরাগ হয়না এবং প্রশান্তি ও আরামের জীবন যাপন করে। আর যে ব্যক্তি অল্পে তৃপ্ত হয়না; আগ্রহের কারণে তার জন্য মৃত্যুর সময় পরিশেষে অবশিষ্ট কোনো কিছু থাকে না । আর চেষ্টা ও বঞ্চিত হওয়া বান্দার মাঝে কেমন যেন লড়াই করে।’ (রওদাতুল ওকালা)

৮. আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানি (রাহ.) বলেন, ‘মুমিন সবসময় ভীত-সন্ত্রস্ত ও (মোরাক্কাব) নিজের অবস্থার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। নিজের নেক আমলকে ছোট ও তুচ্ছ মনে করে আর সামান্য বদ আমলের ব্যাপারেও ভয়ে থাকে।’ (ফাতহুল বারি)

৯. হজরত ইবনুল আরাবি (রাহ.) বলেন, ‘যখন বান্দা অধিক বিদ্বেষী-ঈর্ষাপরায়ণ, হিংসুটে, অহমিকাপূর্ণ এবং অহংকারী হয় তখন তার অন্তর নিরাপদ থাকে না। অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ঈমানের ক্ষেত্রে শর্ত করে দিয়েছেন যে, নিজের ব্যাপারে যা পছন্দ করে তার অপর ভাইয়ের ব্যাপারেও তা-ই পছন্দ করবে।’ (আহকামুল কুরআন-লিইবনিল আরাবি)

১০. হজরত ইবনু কুদামাহ আল-মাকদিসি (রাহ.) বলেন, ‘যাকে ঈর্ষা করা হয়না তার মাঝে কোন কল্যাণ নেই।’ (আলমুগনি)

১১. ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহ.) বলেন, ‘সব ফাসাদের উৎসমূল হচ্ছে প্রবৃত্তির অনুসরণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। কেননা জানা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রবৃত্তির অনুসরণ ব্যক্তিকে সত্যপথ থেকে অন্ধ করে দেয়। আর উচ্চাকাঙক্ষা পরকালকে ভুলিয়ে দেয় এবং পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বাধা দেয়।

যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার

ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহ.) বলেন, প্রত্যেকের জন্যই এ কাজগুলো বৃথা হবে; যদি তা কোনো উপকারে না আসে। আর তাহলো-

১. এমন ইলম; যার অনুসরণে কোনো আমল করা হয় না।
২. এমন আমল; যার মাঝে ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা নেই।
৩. এমন সম্পদ; যা থেকে (আল্লাহর রাস্তায়) খরচ করা হয় না।
৪. এমন অন্তর; যা আল্লাহর ভালোবাসা থেকে পুরোপুরি উদাসীন।
৫. এমন শরীর ও মন; যা আল্লাহর আনুগত্য থেকে বেকার।
৬. এমন সময়; যা নেক আমল করার মাঝে কাজে লাগানো থেকে বেকার।
৭. এমন চিন্তাভাবনা; যা উপকারহীন বিষয়ের মাঝে ঘুরে বেড়ায়।
৮. এমন ব্যক্তির সেবা যত্ন করা; যার সেবাযত্ন তোমাকে আল্লাহর কাছাকাছি করে না এবং তোমার দুনিয়া সংশোধন করার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে না যায়।
৯. তোমার ভয় ও আশা ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যার কপাল আল্লাহর হাতে। (আল ফাওয়ায়িদ)

আরও পড়ুন


সূরা ইয়াসিন: আয়াত ৫-৯, উদাসিনতা থেকে মুক্তি ও সৃষ্টিরহস্য

বঙ্গবন্ধু শিশু আইন প্রণয়ন ও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন : প্রধানমন্ত্রী

শিশুশ্রম একটি জাতীয় সমস্যা : রাষ্ট্রপতি

চীন ইসলামকেই মুছে ফেলতে চায় : অ্যামনেস্টির রিপোর্ট


যৌবনে করণীয় বিষয়গুলি

১. নিয়মিত নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত এবং সাধ্যমতো নফল রোজার আমল করা।
২. ইলমে দ্বীনের শিক্ষা গ্রহণকারী ওস্তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকা।
৩. যৌবনই প্রত্যেক মানুষের প্রকৃত সম্পদ।
৪. ইলম অনুযায়ী আমল করা এবং দাওয়াতি কাজ করা। কেননা ইলমের বরকত হলো আমল ও দাওয়াত।
৫. পরকালকে নিরাপদ রেখেই দুনিয়ার কাজ করা।
৬. নিজেকে যুবক-যুবতি ভেবে নিরাপদ মনে করার কোনো কারণ নেই, যৌবনেও অনেককে মৃত্যুর স্বাদ নিতে দেখা যায়।
৭. যৌবন বয়সই ইলমে দ্বীন ও জ্ঞানার্জন ও আমলের জন্য সর্বোত্তম সময়।
৮. হালালভাবে আয়-উপার্জনের সর্বোত্তম সময়ও যৌবনকাল।
৯. যৌবনই মসজিদে নামাজ আদায়ের সর্বোত্তম সময়। যুবকরাই মসজিদ আবাদের অনন্য কারিগর।
১০. পরস্পরের মাঝে পুরিপূর্ণ সালাম বিনিময়ই হোক যৌবনের অভ্যর্থনার অন্যতম মাধ্যম।
১১. ইবাদত-বন্দেগি, আয়-রোজগার কিংবা পড়াশোনা- এ সবে যৌবনের শক্তিমত্তাকে কাজে লাগানো।

সুতরাং যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টি কাজে লাগানো সব যুবক-যুবতির জন্য একান্ত আবশ্যক। যাতে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা সুনিশ্চিত। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব যুবক-যুবতিকে এসব উপদেশ ও কাজগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর