করোনার টিকা কিনতে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক

অনলাইন ডেস্ক

করোনার টিকা কিনতে বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশে চলমান টিকাদান কর্যক্রম এগিয়ে নিতে ৫০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পর্ষদ। ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে টিকা দিতে এ ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ।

চলতি মাসের ১৮ তারিখে এ ঋণ অনুমোদন করে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়। শুক্রবার (১৯ মার্চ) সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ প্রায় চার হাজার ৩০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে)। পাঁচ বছরের গ্রেস (কিস্তি অব্যাহতি) দিয়ে ৩০ বছর মেয়াদে এ ঋণ বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এই অর্থায়ন করবে। এ ঋণের আওতায় দেশের ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য অগ্রাধিকার পাবে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ‘কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপার্ডনেস প্রজেক্ট’-এর অধীনে বিশ্ব ব্যাংকের অতিরিক্ত এই অর্থায়ন, প্রথম পর্যায়ে দেশের ৪০ শতাংশ নাগরিককে টিকা দেওয়ার সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রমের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ধাপে বিশ্বব্যাংক যে তিনটি দেশের জন্য ঋণ অনুমোদন করেছে, বাংলাদেশ তার অন্যতম।  অন্য দুটি দেশ হচ্ছে নেপাল ও আফগানিস্তান।


ভোলা নদীর চর থেকে মৃত বাঘ উদ্ধার

শ্রীলংকার সঙ্গে হচ্ছে বেশ কিছু চুক্তি

৭ বছরের সন্তানকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল বাবারও

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিককে দল বেঁধে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গ্লোবাল আ্যাকসেস ফ্যাসিলিটির (কোভ্যাক্স)- আওতায় দেশের ২০ শতাংশ নাগরিকের জন্য যে টিকা বাংলাদেশ পাবে, তার ব্যয় বহন করা হবে বিশ্বব্যাংকের এই ঋণের অর্থ থেকে।

এছাড়া আরও ১১ শতাংশ নাগরিকের জন্য টিকা উৎপাদকের কাছ থেকে সরাসরি কেনা বা কোভ্যাক্সের মাধ্যমে পাওয়া টিকা ও টিকাদানের খরচও বহন করা হবে।  এর বাইরে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে বাকি ৯ শতাংশ নাগরিকের টিকার খরচ জোগাবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

রিজার্ভের সব রেকর্ড ভেঙে ৪৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক

রিজার্ভের সব রেকর্ড ভেঙে ৪৫.৪৬ বিলিয়ন ডলার

বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে। তবে এই মহামারির মধ্যেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ে (রিজার্ভ) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য মতে, ১৭ জুন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ রেকর্ড ৪৫.৪৬ বিলিয়ন বা প্রায় চার হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে রিজার্ভের পরিমাণ ৩ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এই সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

চলতি বছরের ১৭ জুন পর্যন্ত রিজার্ভ ২৬.১৫ শতাংশ বা ৯.৪২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ৩০ জুন যা ছিল ৩৬.০৩ বিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ৩ মে দেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। একইদিনে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ৪৪.০২ বিলিয়ন। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ২৮৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। দেশে এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

আরও পড়ুন:


দুর্লভ আবাসিক পাখি ‘জল ময়ূর’

কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়ে ইসরাইলি সেনাদের মনোবল চাঙ্গা হবে না: হামাস

বিবস্ত্র করা ছবি তুলে ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রী, মামলায় আ.লীগ নেতাও আসামি

‘নিখিলকে আগেই বলেছিলাম, নুসরাত তোমাকে ঠকাবে’


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনে ট্রেডমার্ক সনদ পেলো ওয়ালটন

অনলাইন ডেস্ক

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনে ট্রেডমার্ক সনদ পেলো ওয়ালটন

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রেডমার্ক সনদ পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ক্লাশ ১২ ক্যাটাগরিতে ওয়ালটনকে এ সনদ দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন, ২০২১) অফিসার্স ক্লাবে মুজিববর্ষ ও বিশ্ব মেধাসম্পদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) হাতে ট্রেডমার্ক সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে মেধাসম্পদ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেনশিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব লুৎফুন নাহার বেগম এবং সানোয়ার হোসেন, ডিপিডিটির রেজিস্ট্রার আবদুস সাত্তার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির কাছ থেকে সনদ গ্রহণ করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শরীফ হারুনুর রশীদ এবং জাহিদুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, ট্রেডমার্ক নিবন্ধন সনদপত্র পাওয়ায় ওয়ালটন ব্র্যান্ডের নামে সড়কযান যেমন: মোটরসাইকেল, যাত্রীবাহী গাড়ি, ট্রাক, বাস ট্রেইলার, ট্রাক্টর, ভ্যান, স্পোর্টস কার, অমনিবাস, ট্রলার, ইয়ট ইত্যাদির যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন, বডি ও চাকা, আকাশ ও নৌযান, বাইসাইকেল, ইলেকট্রিক বাইসাইকেল, ট্রাইসাইকেল ইত্যাদি পণ্য ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও বাজারজাত করা যাবে।


আরও পড়ুনঃ

চীনের রাস্তায়-গলিতে সরকারদলীয় প্রচারণামূলক বিলবোর্ড

‘নিখিলকে আগেই বলেছিলাম, নুসরাত তোমাকে ঠকাবে’

বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগ মূহুর্তে যে কারণে বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন সালমান

চুরির দায়ে জেলে গেলেন ‘ক্রাইম পেট্রলের’ ২ অভিনেত্রী


অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী গোলাম মুর্শেদ বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিপিডিটি ওয়ালটনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলেই আজ এটি বাংলাদেশের পাইওনিয়ার ব্র্যান্ড। রেফ্রিজারেটর পণ্যে ৭৫ শতাংশেরও বেশি মার্কেট শেয়ার নিয়ে ওয়ালটন এখন শীর্ষে। ৪০টির বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির পাশাপাশি দেশের মেধা যাতে দেশের কাজে লাগে, তার উদ্যেগ নিয়েছে ওয়ালটন। দেশের মেধাবী প্রকৌশলীদের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ওয়ালটন যৌথ উদ্যেগে কাজ করছে। ওয়ালটন হবে দেশীয় প্রকৌশলীদের গবেষণাগার। এর ফলে ব্রেইন ড্রেইন বন্ধ হবে।

দেশের মেধা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় শিল্পের বিকাশে ওয়ালটনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন শিল্পমন্ত্রী এবং শিল্প প্রতিমন্ত্রী। এজন্য তারা ওয়ালটন কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

দেশের বাজারে কমছে সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক

দেশের বাজারে কমছে সোনার দাম

বিশ্ববাজারে বড় দরপতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়া হবে বলে বাজুস সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১০০ ডলারের ওপরে কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হবে।

গত সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের ছিল ১৮৭৭ ডলার। যা সপ্তাহ শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭৬৪ দশমিক ২১ ডলারে। ফলে এক সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ১১২ দশমিক ৭৯ ডলার বা ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে কমেছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

উল্লেখ্য, মে মাসে দেশের বাজারে দু’দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ায় বাজুস। সর্বশেষ গত ২৩ মে থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ৭০ হাজার ৩৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ৬১ হাজার ৫৮৪ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫১ হাজার ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


আরও পড়ুনঃ

বিবস্ত্র করা ছবি তুলে ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রী, মামলায় আ.লীগ নেতাও আসামি

‘নিখিলকে আগেই বলেছিলাম, নুসরাত তোমাকে ঠকাবে’

বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগ মূহুর্তে যে কারণে বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন সালমান

চুরির দায়ে জেলে গেলেন ‘ক্রাইম পেট্রলের’ ২ অভিনেত্রী


বাংলাদেশে যখন স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়, তখন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৮৮১ ডলার। সর্বশেষ গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্সের দাম ১৭৬৪ ডলারে নেমে এসেছে। এ হিসেবে বাংলাদেশে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করার পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১১৭ ডলার কমেছে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশকে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশকে ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

আর্থ-সামাজিক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের জন্য ২৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ দুই হাজার ১২৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা)। 

শুক্রবার (১৮ জুন) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এডিবি জানায়, বাংলাদেশ গত দুই দশকে দারিদ্র্য হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০০ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০১৯ সালের তথ্যানুযায়ী কমে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। 

গত দুই দশকে অনেক লোককে চরম দারিদ্র্য থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত যথেষ্ঠ সংখ্যক জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এর মধ্যে করোনভাইরাস মহামারি দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাবে ২০২০ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বছর শেষে অর্জন হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

আরও পড়ুন:


বাঁচবো কিনা জানি না, সবাই ক্ষমা করে দিয়েন

দুদককে পরীমণির সম্পদের হিসাব চাওয়ার আহ্বান হেলেনা জাহাঙ্গীরের

গণপরিবহনে অবাধে যাতায়াত করায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপেনে ছিলেন আবু ত্ব-হা: পুলিশ


ঋণ সম্পর্কে এডিবির দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর বিশেষজ্ঞ হিরোকো উচিমুরা শিরোশিই বলেছেন, মহামারির প্রভাবগুলো বিবেচনার জন্য সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান পুনরুদ্ধারে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করতে হবে। এডিবির এ অর্থায়ন বাংলাদেশ সরকারকে সামাজিক সুরক্ষাগুলো শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

হাঁড়িভাঙা আসছে

রেজাউল করিম মানিক,রংপুর থেকে

হাঁড়িভাঙা আসছে

রংপুরের বাজারে উঠতে শুরু করেছে হাঁড়িভাঙা আম। ২০ জুনের পর এ আম বিক্রির সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এখনই তা মিলছে হাট-বাজারে। কৃষি বিভাগের আশা, এবার ২০০ কোটি টাকার ওপরে আম বাণিজ্য হবে রংপুরে। কারণ আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমের ফলন হয়েছে ভালো। হাঁড়িভাঙা আম বিদেশে রপ্তানিতে সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

হাঁড়িভাঙা আমের সবচেয়ে বড় হাট মিঠাপুকুরের খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ হাটে সরেজমিন দেখা যায়, মূল সড়কের পাশেই বড় বড় আমগাছের নিচে বসেছে বিশাল আমের হাট। এ আম বিক্রিকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম। ২০ জুন আসার আগেই ভ্যানে করে বাগান থেকে পরিপক্ক আম এনে হাটে তুলেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। আমচাষিরা সকাল-সকাল আম বিক্রি করেই বাড়ি ফিরে গেছেন।

আম ঘিরে নানা অর্থনৈতিক কার্যক্রম: বেচাকেনার জন্য পদাগঞ্জ আমের হাটে খোলা হয়েছে ইসলামী ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকের শাখা। ‘

ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বড় বড় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা ঝামেলামুক্তভাবে বড় ধরনের লেনদেন করছেন। আমের হাট ঘিরে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের শাখাও খোলা হয়েছে। প্রিয়জনের কাছে আম পরিবহনে স্থানীয় স্বজনরা কাজে লাগাচ্ছেন এগুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আম পাঠানোর উপযোগী বাঁশের খাঁচা, প্লাস্টিকের ক্যারেট বিক্রি করছেন স্থানীয় অনেকে। ট্রাকে আম ওঠানামার কাজ করছেন শ্রমজীবীরা। এতে বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে তাদের।

আম বহনের খাঁচা বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, আমের বাজার জমে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খাঁচার চাহিদা বাড়ে। দামও ভালো পাই। প্লাস্টিকের খাঁচা ১০০ টাকা ও বাঁশের তৈরি খাঁচা ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

আম ঘিরে নানা অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে উঠলেও কষ্টার্জিত হাঁড়িভাঙা আমে কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারছেন না বলে জানাচ্ছেন উৎপাদক কৃষকরা। 

প্রতি বছর মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় বড় আড়ত গড়ে তুলে বাজারে আম ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দেয়। ফলে কৃষকরা অনেকটা বাধ্য হয়েই কম দামে মধ্যস্বত্বভোগী-ফড়িয়াদের কাছে হাঁড়িভাঙা বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ সমস্যা দূর করে আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকারদের সঙ্গে চাষিদের ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন বিষয়ে বিপণন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

প্রতিদিন হাটে উঠছে ১০০-১৫০ মণ আম: হাটে আম বিক্রি করতে আসা চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক বাগানের আম আগেই পেকে গেছে। তাই সেগুলো ভ্যানে করে হাটে নিয়ে এসেছি। রংপুরের ব্যবসায়ীরা এসব কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন আকারভেদে এসব আম বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা মণ। সরকারের বেঁধে দেওয়া ২০ জুনের পর বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এলে দাম দুই হাজার টাকা মণ হবে, আশা করছি। আমচাষি আফজালুল বলেন, হাটের অবস্থা তো খুব খারাপ। কোটি কোটি টাকার আম বিক্রি হয়, অথচ হাটের কোনো উন্নয়ন নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রচুর কাদা হয়ে যায়। তাই আম বেচতে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

পদাগঞ্জ ও পাইকারহাটের ইজারাদার আইয়ুব আলী বলেন, হাটে প্রতিদিন ১০০-১৫০ মণ আম উঠছে। তবে বিক্রি শুরু হবে ২০ জুন থেকে। তাই ক্রেতা-বিক্রেতা কম। আমি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে হাটগুলো ইজারা নিয়ে আসছি। প্রতি বছর সরকারকে মোটা অংকের রাজস্ব দিলেও হাটের কোনো উন্নয়ন হয় না।

আমের ক্রেতা শাহীন ইসলাম বলেন, আমের চেয়ে পাঠানো খরচই বেশি। আধা মণ আম পাঠাতে কেজিপ্রতি ১০ টাকা কুরিয়ার খরচ; খাঁচা, লেবারসহ সব মিলিয়ে ২০০ টাকা খরচ হয়। এতে আমাদের কষ্টই হয়। কুরিয়ার সার্ভিস খরচ একটু কমালে ভালো হতো। এ জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবেও পরিবহনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

চাষের আওতায় ১৮৬৫ হেক্টর জমি: রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রংপুরের আট উপজেলায় এক হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে সুস্বাদু, আঁশবিহীন হাঁড়িভাঙা আম। এর মধ্যে মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার সিংহভাগ জমিতে আবাদ হয়েছে এ আম। এবার আমের গড় ফলন হয়েছে হেক্টরপ্রতি ১৫ টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২৭ কোটি টাকা। গত বছর করোনার কারণে আম বিপণনে কৃষকদের সমস্যা চিহ্নিত করে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন। আম বিক্রির জন্য অ্যাপ তৈরি, পরিবহনের জন্য বিশেষ বাস কিংবা ট্রেন সুবিধা নিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা সভা করা হয়েছে। এ ছাড়া রংপুরের আট উপজেলায় এক হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে আম্রপালি, বারি-৪, ফজলি, আশ্বিনা, কেরোয়া, সাদা ল্যাংড়া, কালো ল্যাংড়া ও মিশ্রিভোগের চাষ হয়েছে।

এসব আমের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১৩ টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ কোটি টাকা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, এবার কিছুটা খরা ছিল। তবে হাঁড়িভাঙা আমের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকরা সহজে যাতে আম বিপণন করতে পারেন, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষকদের পাশে রয়েছি।

তৎপর প্রশাসন : রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আম পরিবহনের জন্য গাড়িগুলোতে আমরা স্টিকার সহযোগিতা করছি। এতে আম ব্যবসায়ী-চাষিরা তাদের আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঝামেলা ছাড়াই সরবরাহ করতে পারবেন। পরিবহন সমস্যা এড়াতে মতবিনিময় সভা করে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। তারা আম বিক্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন, রংপুরের কৃষিতে গত ২০ বছরের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলো হাঁড়িভাঙা আম। এ আম দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। কিন্তু একে খুব যত্নসহ রপ্তানি করতে হবে। এ ধরনের আম প্রক্রিয়াজাত করার সুযোগ এখনও দেশে হয়নি। যদি কেউ রপ্তানি করতে চান, তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা দেব। হাঁড়িভাঙা আমের ব্যাপক প্রচারও প্রয়োজন।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর