ফোনে বোনকে ধর্ষণের কথা বলায় ধর্ষকরা হত্যা করল মাদ্রসাছাত্রীকে

অনলাইন ডেস্ক

ফোনে বোনকে ধর্ষণের কথা বলায় ধর্ষকরা হত্যা করল মাদ্রসাছাত্রীকে

নোয়াখালীতে মাদ্রসাছাত্রীকে(১৬) প্রেমিকসহ একাধিক তরুণ মিলে ধর্ষণের পরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার তরুণী ধর্ষকের বাসা থেকে তার বোনকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর ধর্ষকরা তার ফোন নিয়ে বন্ধ করে দেয়। এরপর ধর্ষণ শেষে তাকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে বলে অভিযোগ জানিয়েছে মাদ্রাসাছাত্রীটির বড় বোন।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মাইজদী রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই কিশোরী উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। অভিযুক্ত ধর্ষক  রায়হান বেগমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ খানপুর গ্রামের ডা.আবদুল মোতালেবের ছেলে।

নোয়াখালীর চরমটুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রাকিবের (২০) সহযোগিতায় প্রেমিক রায়হান উদয় সাধুরহাট বাজার থেকে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে কৌশলে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে মাইজদী রেললাইনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে কথিত প্রেমিক রায়হানসহ একাধিক তরুণ মিলে ওই কিশোরীকে গণধর্ষণ করে।

সুযোগ পেয়ে কিশোরী বেলা ১১টার দিকে কৌশলে তার বড় বোনকে ফোন করে ঘটনাটি জানায়।


রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি যাওয়ার পথে ধর্ষণের শিকার প্রেমিকা

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

কিশোরকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা তরুণী!

অশ্লীল ভিডিও চ্যাটিং ইসলামে ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত


মেয়েটি ফোনে তার বড় বোনকে জানায়, আপু আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমারে এখান থেকে নিয়ে যা। আমি মাইজদীর আশপাশে আছি। তবে একেবারে সঠিকভাবে বলতে পারবো না কোথায় আছি। আমি পরে তোদের সব বলব। এর পরেই ধর্ষণকারীরা নির্যাতিত কিশোরীর ফোন বন্ধ করে দেয়। ধর্ষণ শেষে তাকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে।

দুপুর দেড়টার দিকে অভিযুক্ত রায়হান ওই কিশোরীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে ওই কিশোরীর মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিহতের স্বজনেরা রায়হানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

এদিকে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম থানার ওসি সাহেদ উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ ময়নাতন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে চুরি: গ্রেফতার ১

অনলাইন ডেস্ক

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে চুরি: গ্রেফতার ১

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মালামাল চুরির সময় নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম শাহজাহান শেখ (৪০)। তার কাছ থেকে ২৪০ গজ তামার তার, ২৫ ফুট লম্বা ছয় পিস লোহার রড ও চার ফিট লম্বা ১৫ পিস লোহার অ্যাঙ্গেল জব্দ করা হয়। যার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা।

আজ রোববার সকালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন পশুর নদী থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার শাহজাহানের বাড়ি খুলনা।

এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।  রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।


আরও পড়ুন

নরসিংদীতে মাইক্রোবাস-ট্রাক সংর্ঘষে নিহত ৫

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ, আসামি গ্রেপ্তার

বিগো লাইভ-ফ্রি ফায়ার-পাবজি-টিকটক বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

আবারও জিততে ব্যর্থ স্পেন


news24bd.tv/এমিজান্নাত

 

পরবর্তী খবর

তিন হাজার টাকার জন্য হত্যা

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

তিন হাজার টাকার জন্য হত্যা

মাত্র তিন হাজার টাকা দিতে না পারায় জাহিদ মিয়া (২৮) নামের এক পাওনাদারকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলে। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে নান্দাইল থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা করেন নিহতের বড় ভাই আসাদ মিয়া।

গ্রেপ্তাররা হলেন- হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার নাঈম ইসলাম (১৯), রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার হুসেন আলী (২১), ময়মনসিংহ সদরের নারায়ণপুর এলাকার রাসেল মিয়া (১৯) ও একই এলাকার সুমন মিয়া (১৯)। রবিবার ভোরে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তারা সবাই ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার কোর্টবাড়ী রেলগেট সংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতো।

আরও পড়ুন:


ইরানের নতুন প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলন কাল

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা স্থগিত


রোববার বিকেলে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ক্রোকারিজ ব্যবসা সূত্রে পরিচয় ছিল নান্দাইলের জাহিদ মিয়া ও হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের নাঈম ইসলামের। ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রেক্ষিতে নাঈমের কাছে তিন হাজার টাকা পাওনা ছিলেন জাহিদের। নাঈমকে প্রায়ই তাগাদা দিতেন সেই টাকা দেওয়ার জন্য। তবে পাওনা টাকা না দিয়েই নাঈম চলে যায় ঢাকায়। পরে সেখানে একটি কিলিং গ্রুপের সাথে পরিচয় হয় তার।

তিনি আরও বলেন, পাওনা টাকা যাতে না দিতে হয় সেজন্য ফন্দি আটেন নাঈম ও তার সঙ্গীরা। গত ১৭ জুন রাতে নাঈমসহ চারজন আসেন নান্দাইলের অরণ্য পাশা এলাকার জাহিদের ভাড়া বাসায়, সবাই মিলে ঘুমানও একসাথে। পরে জাহিদ ঘুমিয়ে গেলে তাকে হত্যা করে ঢাকায় ফিরে যায় ওই চার ঘাতক।

news24bd.tv / তৌহিদ

পরবর্তী খবর

বিটকয়েন দিয়ে পর্ণছবি ক্রয়-বিক্রয়, মূল হোতা গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক

বিটকয়েন দিয়ে পর্ণছবি ক্রয়-বিক্রয়, মূল হোতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে অবৈধ বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় চক্রের অন্যতম হোতা হামিমসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৪। রবিবার (২০ জুন) দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

হামিম ২০১৩ সালে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের উপর দক্ষতা লাভ করে। এরপর নিজেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে ৫০ জনকে বিটকয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছিলো।

এই চক্রের সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার। প্রতি মাসে তারা দেড় কোটি টাকা বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন করত। তারা ভার্চুয়াল জগতে অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করে সেগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি র‍্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পারে, একটি চক্র অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি ডার্ক সাইট থেকে ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিট কয়েন ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফি কেনাবেচার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে র‍্যাব-৪ এর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তিনি বলেন, গ্রেফতাররা ভার্চুয়াল জগতে বা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট থেকে অ্যাকাউন্ট করে ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশকিছু অসাধু ডোমেইন হোল্ডার ও ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে। তারা ভার্চুয়াল জগতে অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি ক্রয় করে। এরপর পর্নোগ্রাফিগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ছড়িয়ে দেয়।


আরও পড়ুনঃ

ভাল থাকুক বিশ্বের সকল বাবা, যেভাবে দিবসটির শুরু

বিএনপি থেকে শফি আহমেদ চৌধুরীকে বহিষ্কার

ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট রায়িসিকে অভিনন্দন জানাল হামাস

বিশেষ ট্রেন চালু, মাত্র এক ঘণ্টাতেই ঢাকা-গাজীপুর


এছাড়া তারা বেশকিছু আগ্রহীদেরকে প্রলুব্ধ করে। তারা তাদের কাছ থেকে নেয়া কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত যেখানে বিটকয়েন ব্যবসায় আগ্রহীরা যুক্ত করত। গ্রুপের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। তারা প্রতি মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করে।

বিটকয়েন চক্রের অন্যতম হোতা হামিম প্রিন্স খান (৩২)। এ চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- রাহুল সরকার (২১), সঞ্জিব দে ওরফে তিতাস (২৮) ও মো. সোহেল খান (২০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুইটি ল্যাপটপ ও দুইটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় মুহূর্তে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় মুহূর্তে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা

মসজিদে নামাজে দাঁড়ানোর অবস্থায় এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন।  ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শনিবার রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় শনিবার বিকালে আসরের নামাজে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পূর্ব বিরোধের জেরে উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়িয়া উত্তর-পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষকের নাম মো. পাখি মাস্টার (৫৫)। তিনি পলাশবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হক মোল্যার ছেলে ও পলাশবাড়িয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে পাখি মাস্টারের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত মুন্নাফ মোল্যার ছেলে বাঁশি মোল্যার বিরোধ চলে আসছিল।

শনিবার বিকালে আসরের নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায় পাখি মাস্টার। মসজিদে একা নামাজ আদায় করতে গেছে জানতে পেরে একই গ্রামের রবিউল মোল্যা এবং বাঁশি মোল্যা একই সময়ে মসজিদে প্রবেশ করে।  

নামাজে দাঁড়ানোর মুহূর্তে পাখি মাস্টারকে পেছন থেকে জাপটে ধরে ফেলে মসজিদের ভেতরে বাটাম দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে।

মাস্টারের চিৎকার শুনে পার্শ্ববর্তী লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। তখন রবিউল মোল্যা ও বাঁশি মোল্যা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পাখি মাস্টারকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাত ১১টার দিতে তিনি মারা যান।

মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস বলেন, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:


নরসিংদীতে মাইক্রোবাস-ট্রাক সংর্ঘষে নিহত ৫

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ, আসামি গ্রেপ্তার

বিগো লাইভ-ফ্রি ফায়ার-পাবজি-টিকটক বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

আবারও জিততে ব্যর্থ স্পেন


news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর

স্বামী সঙ্গে বোনের পরকীয়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড করেন মেহজবিন!

অনলাইন ডেস্ক

স্বামী সঙ্গে বোনের পরকীয়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড করেন মেহজবিন!

রাজধানী ঢাকার কদমতলীতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মা-বাবা ও বোনকে হত্যা করেছেন বড় মেয়ে মেহজাবিন ইসলাম মুন। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন ঘাতকের স্বামী ও সন্তান। ঘটনার পর মেহজাবিনকে আটক করেছে কদমতলী থানা পুলিশ। শনিবার দুপুরে তাকে আটকের পর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ভাষ্য, আটক মেহজাবিন নিহত দম্পতির মেয়ে। পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা, মা ও বোনকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর শ্বাস রোধ করে মেহজাবিনই হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। শুধু হত্যাই নয়, পরিবারের তিনজনকে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর খবরের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অন্যথায় স্বামী ও সন্তানকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।  

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে কদমতলী থানা এলাকার মুরাদপুরের ২৮ নম্বর লালমিয়া সরকার রোডের ছয়তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মেহজাবিনের মা মৌসুমী ইসলাম (৪০), বাবা মাসুদ রানা (৫০) এবং বোন জান্নাতুলের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে নিহত মাসুদ-মৌসুমী দম্পতির আরেক মেয়ের জামাইকে।

কেন এই হত্যাকাণ্ড, জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার পেছনে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। তা বিশ্লেষণ করে মনে হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মেহজাবিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। 

আটক মেহজাবিনের চাচাতো বোন শিলা বলেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে মেহজাবিনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ফের মেহজাবিনের বিয়ে হয়। তাঁর পরের স্বামীরও আগে বিয়ে হিয়েছিল। সেই ঘরের এক সন্তান নিয়ে দুই দিন আগে স্বামীর সঙ্গে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন মেহজাবিন। এসেই তাঁর ছোট বোন জান্নাতুলের সঙ্গে তাঁর স্বামীর পরকীয়া প্রেম রয়েছে বলে মা-বাবার কাছে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে অনেক কথা-কাটাকাটি হয়। এমন আরও অনেক ঘটনার জেরেই হয়তো এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।

আরও জানা যায়, পরিবারের সঙ্গে মেহজাবিনের বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে জায়গা-সম্পত্তি নিয়েও পরিবারের সঙ্গে বিরোধ ছিল তাঁর। সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য মা-বাবাকে অনেক চাপ দিতেন তিনি। এ নিয়ে এর আগে সালিসও হয়েছে, তবে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। 

এদিকে এই ঘটনায় সংকটাপন্ন অবস্থায় মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল ইসলামকে ঢাকা মেডিক্যাল (ঢামেক) কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেহজাবিনের স্বামী শফিকুল বলেন, ‘আমার বাসা কদমতলীর বাগানবাড়িতে। শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। গত রাতে খাবার ও চা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি। এতে আমার মেয়েও অচেতন হয়ে যায়। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেখি হাসপাতালে।’

তিনি বলেন, ‘শ্বশুরের পরিবারের সঙ্গে আমার স্ত্রী মেহজাবিনের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারই জের ধরে এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে।’ সূত্র জানায়, মেহজাবিনের মা একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। খুনের দায়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলায় পাঁচ বছর জেল খেটে জামিনে ছিলেন তিনি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, মা-বাবা ও বোনকে মেহজাবিনই হত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে মেহজাবিন পুলিশকে বলেছিলেন, ওই বাসায় দ্রুত না গেলে তিনি তাঁর স্বামী ও সন্তানকেও মেরে ফেলবেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনটি লাশ উদ্ধার করে। সেই সঙ্গে অন্যদের উদ্ধার করে। মেহজাবিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দীন মীর বলেন, ‘গৃহকর্তা মাসুদ রানা, তাঁর স্ত্রী মৌসুমী ও কন্যা জান্নাতুলকে আমরা বাসার ভেতর মৃত অবস্থায় পাই। তাঁদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খুনের আগে রাতে মা-বাবা, বোনসহ পরিবারের সবাইকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মেহজাবিন। সবাই অচেতন হয়ে পড়লে মা-বাবা ও বোনকে রশি দিয়ে বেঁধে শ্বাস রোধ করে হত্যা করেন। রাতে তাঁদের হত্যা করা হতে পারে। স্বামী ও শিশুসন্তানকেও ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। তারা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা মরদেহগুলো হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পেয়েছি। সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে না গেলে দ্বিতীয় স্বামী শফিকুল ইসলাম এবং তাঁর আগের ঘরের মেয়ে তৃপ্তিয়াকে হয়তো মেরে ফেলতেন তিনি।’

ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, ঘুমের ওষুধের পাশাপাশি বিষ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আলামত সংগ্রহ করছি।’

আরও পড়ুন:


নরসিংদীতে মাইক্রোবাস-ট্রাক সংর্ঘষে নিহত ৫

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ, আসামি গ্রেপ্তার

বিগো লাইভ-ফ্রি ফায়ার-পাবজি-টিকটক বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ

আবারও জিততে ব্যর্থ স্পেন


news24bd.tv / কামরুল

পরবর্তী খবর