সাফ বলে দেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সরকারে তিনি থাকবেন না

শরিফুল হাসান

সাফ বলে দেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সরকারে তিনি থাকবেন না

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক জান্তার লোকজন তাকে শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে আটকে রেখে নির্যাতন করেছিল। নির্যাতন করার কারণ, ওই সামরিক সরকারের উচ্চপদে যোগ দেয়ার আহবান জানানো হয়েছিলে তাকে। কিন্তু হার মানেননি তিনি। সাফ বলে দেন, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সরকারে তিনি থাকবেন না। 

মানুষটার নাম জিল্লুর রহমান। সাতবারের নির্বাচিত সাংসদ আওয়ামী লীগের এই নেতা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ছিলেন। রাজনীতিবিদ হিসেবে কতোটা মননশীল, বিজ্ঞ, সহনশীল এবং একই সাথে বিনয়ী কিন্তু দৃঢ় হওয়া যায় সেটি তিনি দেখিয়েছেন। 

জিল্লুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনটা দারুণ বৈচিত্রের। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটা আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন। 

১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধান প্রণয়নে অংশ নেন জিল্লুর রহমান। ১৯৭৫ সালের পর সামরিক সরকার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ১৯৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সব সময় ছিলেন তিনি। আর সবশেষ ২০০৭ এর  জরুরী অবস্থার সময় তাঁর সাহসী অবস্থান যে কোনো রাজনীতিবিদেরই মনে রাখার কথা। 
 
এই সাহস তো রাতারাতি আসেনি! ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রীয় ছিলেন জিল্লুর রহমান। ১৯৪৬ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সিলেটে গণভোটের কাজ করার সময় তিনি বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসেন। ভাষা আন্দোলনের পর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। 

মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৫৬ সালে কিশোরগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। ১৯৭২ সালেই  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৪, ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ময়মনসিংহ-৩২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

জিল্লুর রহমানের বিনয় আমাকে মুগ্ধ করতো। তাঁর বাবা মেহের আলী মিঞা ছিলেন একজন আইনজীবী, তৎকালীন ময়মনসিংহের লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা বোর্ডের সদস্য। জিল্লুর রহমানের শ্বশুর আইভী রহমানের বাবা জালাল উদ্দিন আহমেদ ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। এই যে পারিবারিক পরিচয় ছাপিয়ে সাধারণ রাজনীতিবিদের মতো থাকা এবং সর্বোচ্চ বিনয়ী হওয়া সেটা তো এই যুগে বিরল!


বগুড়ার শেরপুরে দুই বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪

সুন্দরবনে মারা যাওয়া বাঘটির মৃত্যুরহস্য জানা গেলো

হাসপাতালে ভর্তি বাবা, সব ফেলে দেশে ফিরলেন নায়ক মারুফ

দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইলে বিষদাঁত ভেঙে দেয়া হবে: কাদের


আগেই বলেছি, জিল্লুর রহমানের যে জিনিষটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগতো সেটি হলো বিনয়, ভিন্নমতসহ সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা এবং দৃঢ়তা। তাঁর মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিবৃতিতে বলেছিলেন,জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক অভিজ্ঞ, মননশীল ও সুবিবেচক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। রুচি ও প্রজ্ঞার প্রকট অভাবের এই সময়ে তার মৃত্যু যে শূন্যতা সৃষ্টি করল, তা সহজে পূরণ হবার নয়। জিল্লুর রহমানকে মিতবাক, ভদ্র, নম্র একজন ভালো মানুষ উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পর্কে তিনি কখনো আক্রমণাত্মক ও অশালীন মন্তব্য করতেন না। 

এই যে বেগম খালেদা জিয়াও জিল্লুর রহমানকে শ্রদ্ধা করে এতো কথা বলেছিলেন অথচ বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যই তাকে মানসিকভাবে নিঃসঙ্গ করে দেয়। 

আজকে ২০ মার্চ জিল্লুর রহমানের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। কী ক্ষমতাসীন কি বিরোধী! আমাদের রাজনীতিবিদরা বিনয়, সততা, পরষ্পরকে শ্রদ্ধা, দেশপ্রেম, সাহসসহ মানবিক সব গুণাবলী শিখতে পারেন জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে। দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে বেহেশতে রাখুক। (ফেজবুক থেকে)

শরিফুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক ও উন্নয়ন কর্মী

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

এমি জান্নাত

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

ঘর-সংসার শব্দটা আমরা একসাথে জুড়ে দেই ঠিকই। কিন্তু ঘর আর সংসারের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক আছে বোধহয়।

আমার সীমিত জ্ঞানে ঘর বলতে বুঝি একটা ভালোবাসার ছায়াতলে বসবাস। যেখানে সুখ না থাকলেও শান্তি থাকে। দিন শেষে ফেরার তাড়া থাকে। কিন্তু সংসার নামক বেড়াজালে মানুষ শুধুই আবদ্ধ থাকে দায়িত্ব, ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত সুখের খোঁজে! প্রশান্তিটা এসবের মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ঘর মানে চার দেয়ালের প্রতিটা কোণায় অভিমান, অনুরাগ আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন, যেখানে সংসারে চারটা দেয়াল থাকে আর স্যাক্রিফাইস এর বদলে কম্প্রোমাইজ বেশি থাকে। কোথায় একটা লিখেছিলাম, স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মন মরে যায়! সংসারের সবাই হতে পারে, কিন্তু ঘরের কয়জন!

সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচা যায়, ঘর থেকে না। মনের বসত তো ঘরেই হয়। দায়িত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো বড় কঠিন!

তাই মনে হয়, সব ঘরই সংসার, কিন্তু সব সংসার ঘর হতে পারে কী?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে ভালো কথা। যুক্তি বোঝা যায়। যেটা বোঝা যায় না সেটা হলো শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা কি?

কিভাবে ভালো ভাবে ক্লাস নেওয়া যাবে অনলাইনে? কোনো নতুন হাল্কা (লাইট) সফটওয়ার কেনা হয়েছে? পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কোনো চিন্তা ভাবনা?

অনলাইনে বেশী মানুষকে কিভাবে এনগেজ করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা? বিশ্বের অন্যদেশ অনলাইনে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তার কোনো গবেষণা কি হয়েছে?

কিভাবে ছাত্রদের সৃজনশীলতার বাড়ানো যাবে তার ব্যাপারে কেউ কি কিছু ভেবেছে?

অনলাইনে কিউ এস রাংকিং এর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম পার্টনারশিপ করছে। অল্প কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। বাকিরা?

ছাত্রদের মোটিভেট করতে কোনো মাস্টারপ্লান আছে?

যেহেতু কোনো ফল দেখছিনা তাই ধরে নেওয়া যায় প্রশ্ন গুলোর পজিটিভ উত্তর নাই।

তাহলে এত মন্ত্রনালয় থেকে কি হয়? কি হবে? দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে তৈরি, দেশ সেবায় নিয়জিত ক্যাডার সার্ভিসের মানুষজন কি ভাবে শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন?


আরও পড়ুন:


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মাঠে যাওয়ার সময় আম্পায়ারদের গাড়িতে হামলা

১০ বছরের জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলি আইনজীবী

এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

বিয়ের আসরে নকল গহনা, মারামারি পরে ক্ষতিপূরণ রেখে তালাক


আগেও বলেছি করোনার আগের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরেরটা একই থাকবে না। বদল হবে। হবেই।

এই কথা সরকার-মন্ত্রানালয়-শিক্ষক-ছাত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত বুঝবে ততই মঙ্গল।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

আনোয়ার সাদী

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

সাকিবের আচরণ ক্রিকেটের ভাষায় শোভন নয়। তার সাজা হয়েছে । তিনি সাজা মেনে নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।  সাকিব পরিকল্পিতভাবে ইউকেটে লাত্থি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এটাই মত। তিনি বল ছোঁড়ার পর বসে আবেদন করেছেন। ফিরে যখন দেখলেন আম্পায়ার আউট দেননি, সাকিব প্রথমে উইকেটে লাত্থি দিয়েছেন, তারপর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

এই ভিডিও বিশ্লেষন করে একজন বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছেন, হতে পারে সাকিব আগেই ভেবে রেখেছে, LBW সে পাবে না। কারণ আগের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে কোনো LBW নাই। 

এখন বিসিবি একটা তদন্ত কমিটি করেছে । তারা সব ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। ’আম্পায়ার’ বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। 
এর মানে হলো বিসিবি অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতি আছে কী না, তা প্রমাণ করার এটা একটা উদ্যোগ। এটাকে একই সঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকার বেশ ভালো সম্ভাবনার স্বীকৃতি হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন। 

তাহলে জল গড়ালো অনেক দূর। সাকিব ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রকাশ্যে, ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে, সাজা পেয়েছেন, তা মেনে নিয়েছেন। তিনি কখনো দাবী করেননি, তিনি সিস্টেমকে লাত্থি দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন বলে কোথাও দাবী করেননি। আউট দেয়নি বলে তিনি রেগে গেছেন। 

এমনকী ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়ার সময়ও সিস্টেম নিয়ে তার কোনো জোড়ালো বক্তব্য নেই। 
তাহলে প্রশ্ন, একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

এটা কার বুদ্ধি ? ​

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

শওগাত আলী সাগর

সবার আগে সাকিবের মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া দরকার

ক্রিকেটার সাকিবকে নিয়ে নানা জনের নানা রকমের প্রতিক্রিয়ার কোনোটাই পড়িনি, পড়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাকিব একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, যে কোনো পরিস্থিতিতে তার আচরণ হবে খেলোয়াড়সুলভ- এটিই হচ্ছে বটমলাইন। এর ব্যত্যয় হলে সেটিকে অবশ্যই ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় ‘বিহেভিয়ারাল নর্মস’ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন থাকেন, থাকতে হয়। সেখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়ে পরে। 

সাকিব আল হাসানের ঘটনাকে আমি এই আঙ্গিকে দেখার পক্ষপাতি। একজন খেলোয়াড় হুটহাট রেগে যান না, রেগে গেলেও তারা ভায়োলেন্ট রিঅ্যাকশন দেখান না। যখন এগুলো ঘটে তখন তার মানসিক অবস্থার দিকে মনোযোগ দেয়া জরুরী হয়ে পরে। সাকিব কী কোনো স্ট্রেসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন? তার মানসিক সুস্থতায় কোথাও কী কোনো ধরনের আচড় লেগেছে? কোভিডকালে অনেক মানুষই কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অবসাদে ভোগছেন, মানসিক চাপের মধ্যে পরেছেন। সাকিবেরও সে ধরনের কোনো পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমি মনে করি, সাকিবের সবার আগে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের শ্মরণাপন্ন হওয়া দরকার। সাকিবের যারা শুভাকাংখী তারা নিশ্চয়ই তাকে এই পরামর্শটা দেবেন। 

বাই দ্যা ওয়ে,মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞর শ্মরণাপন্ন হওয়ার কথা শুনে  নাক সিটকাবেন না যেনো। উন্নত দেশগুলোতে যে কোনো মানুষের মানসিক স্বাস্থকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনেক বড় বড় সেলিব্রেটিকেও এমন কি গবেষক, শিক্ষাবিদদেরও  অনেক সময় ’অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট’ এর ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ‘ওয়েলনেস প্রসিডিউর’।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ও তো একটা বেশ্যা

তসলিমা নাসরিন

ও তো একটা বেশ্যা

মেয়েদের আন্দোলনে ''আমার শরীর, আমার সিদ্ধান্ত'' স্লোগানটা কেমন লাগে?
ভীষণ ভালো। 
সমর্থন করো?
ভীষণ। 

এই যে  তোমার শহরে একটি মেয়ে বিবাহিত অবস্থায় স্বামী নয়, অন্য কারো  সঙ্গে শুয়ে প্রেগনেন্ট হলো, একে কিভাবে দেখ? 
ওর কথা বলো না, ও  তো একটা বেশ্যা। 
হলিউডের নায়িকা ''বি'' কে তোমার ভালো লাগে? 
ভীষণ। 

''বি'' তো বিবাহিতা, কিন্তু বয়ফ্রেন্ডের বাচ্চা তার পেটে। তারপরও ভালো লাগে? 
ওর অভিনয়ের কোনও তুলনা হয়? হয় না। 
আর বাচ্চা যে পেটে, একে অবৈধ বলবে না? 
এটা ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। 
নাকি ও তোমার শহরের বা দেশের  মেয়ে নয় বলে মেনে নিচ্ছ? 
পাশ্চাত্যে ওসব চলে। 
এখানে চলে না? 
মোটেও না। 

তাহলে তোমার শহরে  'আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত' স্লোগান দিয়ে যখন মিছিল  বের হয়, সেই মিছিলে কেন সামিল হও? 
হবো না কেন? 
প্রগতিশীল বনার জন্য? 
এ কেমন অদ্ভুত প্রশ্ন? গেট লস্ট।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর