পৃথিবীর সেরা উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

শরিফুল হাসান

পৃথিবীর সেরা উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর হতে যাচ্ছে এই মার্চে। আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশের আরেকটি প্রতিষ্ঠান যেটি এখন গোটা পৃথিবীর সেরা উন্নয়ন সংস্থা, সেই ব্র্যাকের ৪৯ বছর হলো আজ ২১ মার্চ। বাংলাদেশ আর ব্র্যাক যেন একসূত্রে গাঁথা। এই বাংলাদেশে এমন লোক পাওয়া মুশকিল যিনি কোন না কোনভাবে ব্র্যাকের কোন একটি সেবা নেননি। 

শুরুতেই বলি সাংবাদিক হিসেবে এদেশের বহু মানুষের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অনেক উদ্যোগ ও প্রতিষ্ঠান দেখেছি। আমার বেশিরভাগ সময় মনে হয়েছে, কী সরকারে কী সরকারের বাইরে এ দেশে অনেক বড় বড় মানুষ আছেন। তারা অনেকেই অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু ব্যক্তি পরিচয় ছাড়িয়ে সত্যিকারের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এমন লোক বিরল। 

আমার কাছে মনে হয়েছে কী সরকারি কী বেসরকারিভাবে আমরা বাংলাদেশে সত্যিকারভাবে কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারিনি। সব হয়েছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। আমার প্রতিষ্ঠান। আমার জিনিষ। আর এখানেই স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্বার্থকতা। তিনি ব্র্যাককে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। সম্ভবত বাংলাদেশ না গোটা বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটা এই ব্র্যাক। 

আমাকে যেটা মুগ্ধ করেছে সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ব্র্যাকের জন্ম। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর মনপুরাতে গিয়ে মানুষের কষ্ট আর ভোগান্তি দেখে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার ভাবনা এসেছিল স্যার ফজলে হাসান আবেদের মাথায়। আর মুক্তিযুদ্ধ সেটিকে বাস্তব করে। স্বাধীনতার পরের বছর ১৯৭২ সালের এই মার্চে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় ব্র্যাকের। পায়ে পায়ে তা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সংস্থা। 

অনেকে কম বেশি জানেন। তারপরেও বলি, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ তখন শেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকতাদের একজন। এর আগে ব্রিটেন থেকে লেখাপড়া করে এসেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হিসেবে চলাফেরার জন্য তাকে বাঘের ছাপ্ওয়ালা পরিচয়পত্র দেওয়া হলো। তিনি যেখানে ইচ্ছে যেতে পারবেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী লোকজনের একটা বড় অংশ তখন ভারত চলে গেলো। ফজলে হাসান আবেদ ঠিক করলেন তাঁর যেহেতু অনেক বন্ধুবান্ধব আছে ইংল্যাণ্ডে কাজেই তিনি সেখানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করবেন। বাংলদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য তহবিল গড়বেন। 

স্যার আবেদের কাছে ব্রিটিশ পাসেপোর্ট ছিল। সেই পাসপোর্টে তিনি পাকিস্তানের শেল অফিসে গেলেন। উদ্দেশ্য সেখান থেকে লন্ডনের ফ্লাইট ধরবেন। কিন্তু তার আগেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকজন তাকে ধরে নিয়ে গেল। আবেদ ভাইয়ের বন্ধু সরকারের উপ সচিব আসাফউদ্দোলা তখন বিষয়টি জানালেন ব্রিটিশ হাইকমিশনে যে তোমাদের একজন নাগরিককে আইএসআই আটকে করেছে। ব্রিটিশ হাইকমিশন তৎপর হলো। 


করোনা মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে আজ থেকে মাঠে পুলিশ

সেন্টমার্টিনে সিয়াম ও পূজা চেরি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোন খারাপ সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত আছি: রাশিয়া

মোদি ও শাল্লা ইস্যুতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে হেফাজত


এর দদিন পর তাকে ছাড়া হলো। পাকিস্তান থেকে তখন কাউকে ব্রিটেনে যেতে হলে বিশেষ অনুমতি নিতে হতো। আবেদ ভাই সেই অনুমতির অপেক্ষা না করে আফগানিস্তান চলে গেলেন। সেখান থেকে টেলিগ্রাম করে লন্ডনে থেকে টিকিট আনালেন। এরপর ইসতানবুল হয়ে গেলেন লন্ডনে। শুরু হলো নতুন এক যুদ্ধ। 

ব্রিটেনে বসে বিদেশি ও বাংলাদেশি বন্ধুদের মিলে শুরু করলেন অ্যাকশন বাংলাদেশ। শুরু হলো বাংলাদেশের জন্য প্রচারণা ও তহবিল সংগ্রহ। আর বিদেশি সব গণমাধ্যমে জানালেন বাংলাদেশের গণহত্যার কথা। এই যে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য লড়াই তা আর কখনো থামাননি আবেদ ভাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গ্রামে গিয়ে মানুষের জন্য কাজ করবেন বলে গড়ে তুললেন বাংলাদেশ রিহ্যাবিলেশন অ্যাসিসটেন্ট কমিটি সংক্ষেপে-ব্র্যাক। 

ব্র্যাকের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম চেয়ারম্যান হলেন কবি সু‌ফিয়া কামাল। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকেই যুক্ত হলেন তাতে। প্রতিষ্ঠান তো হলো টাকা আসবে কোথা থেকে? লন্ডনে নিজের ফ্লাটটি বিক্রি করে দিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে শুরু হলো ব্র্যাকের কাজ। সেই যে শুরু আজ সেই প্রতিষ্ঠানের বয়স ৪৯ বছর। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা আজ ব্র্যাক। 

শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর ভারত থেকে প্রত্যাগত উদ্বাস্তুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে ব্র্যাক বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং দরিদ্র জনগণের ক্ষমতায়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ে মনোনিবেশ করে। বর্তমানে ব্র্যাক  শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবাধিকার, ক্ষুদ্রঋণ, নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতি কার্যক্রমের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। 

শুরুতে যে বলেছিলাম এই বাংলাদেশের এমন লোক খুব কম আছে যিনি কোন না কোনভাবে ব্র্যাকের সেবা পাননি এর কারণ কী? আপনি কী জানেন আশির দশকে এই দেশে যে টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল তার শুরুটা হয়েছির ব্র্যাকের মাধ্যমে।

আমি ব্র্যাকের অতীত ইতিহাস পড়ি আর মুগ্ধ হয়ে ভাবি একটা প্রতিষ্ঠান কী করে এতো কাজ শুরুর সাহস করলো। ১৯৬৮  সালে খাবার স্যালাইন তৈরি হলেও দেশের মানুষ জানতো না। ফলে ডায়রিয়ায় প্রচুর লোক মারা যতেো। ব্র্যাক বাড়ি বাড়ি খাবার স্যালাইন নিয়ে গেলো। সারা বাংলাদেশের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে একজন নারীকে লনবগুড়ের স্যালাইন বানানো শেখাতে ব্র্যাকের সময় লেগেছিল দশ বছর। ফলাফল ডায়রিয়ায় মানুষের মৃত্যু কমে এলো। 

বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের মৃত্যু কমাতে এবং শিশু মৃত্যুর হার কমানোর জন্য টীকা প্রদাণের যে কর্মসূচি তাতে ব্র্যাকের ভূমিকা বিশাল। ১৯৮০ সালে ব্র্যাক সরকারকে টীকা শুরুর প্রস্তাব দিলেও সরকার ১৯৮৬ সালে পুরোদমে কাজটি শুরু করতে রাজি হলো। ভাবতে ভালো লাগে একটা প্রতিষ্ঠানকে সরকার কতোটা আস্থায় নিলে বলতে পারে দেশের চার বিভাগের মধ্যে দুটিতে কাজ করবে ব্র্যাক। বাকি দুটোতে সরকার। 

অবাক করা বিষয় হলো যে দুই বিভাগে ব্র্যাক কাজ করেছিল সেখানে আশি শতাংশ শিশুর টিকাদান সম্পন্ন হয়েছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বৃীকৃতি দিলো ব্র্যাককে। দেশজুড়ে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে এই টীকা কার্যক্রমের ভূমিকা বিশাল। স্বাস্থ্যের কথা বলবেন? মাতৃমৃত্যু কমাতে কাজ করেছে ব্র্যাক। সারাদেশে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস করানোর পেছনেও ব্র্যাক কাজ করেছে।

ব্র্যাকের উপ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর কাজটিও মুগ্ধকর। নব্বইয়ের দশকে ব্র্যাকরে ফোকাস ছিল শিক্ষা। বিশেষ করে মেয়েদের পড়ানোর উদ্যোগ ছিল। সারাদেশে ৬৪ হাজার স্কুল চালিয়েছে ব্র্যাক। এক কোটি ২০ লাখ ছেলেমেয়ে শিক্ষার আলো পেয়েছে। এখন স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। এর পেছনে ব্র্যাক বড় ভূমিকা পালন করেছে। 

কোটি মানুষের দারিদ্র দূর হয়েছে ব্র্যাকের হাত ধরে। আড়ং থেকে শুরু করে ব্র্যাকের প্রতিটিা কর্মসূচিই সময়ের সাথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছে। আজকে জলবায়ু পরিবর্তন বলেন, তরুণদের দক্ষতা তৈরি, অভিবাসন কিংবা নারীদের অধিকার সব কাজেই আছে ব্রাক। 

চারটা মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করে ব্র্যাক। সততা ও নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী মনোভাব, সর্বজনীনতা এবং কার্যকারিতা। আমি মনে করি এসব কারণেই ১৯৭২ সালের ব্র্যাক আজকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেসরকারি সংস্থা। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি লোককে ব্র্যাক তার উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে এসেছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বর্তমানে ব্র্যাকের এক লাখ কর্মী বিশ্বব্যাপী ১১টি দেশে ১৩৮ মিলিয়ন মানুষের জীবনসংগ্রামে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
 
ব্র্যাক আসলে কতো বড়? আমার মঝে মধ্যে মনে হয়, বাংলাদেশের সরকারি কী বেসরকারি কর্মকর্তা, ছাত্র শিক্ষক-পেশাজাবী সবাই যদি দুই-তিনমাসের জন্যে ব্র্যাকে কাজ করতো! তাহলে প্রতিষ্ঠান জিনিষটা সবার বোঝা হয়ে যেত। ফজলে হাসান আবেদ সারাজীবন এই প্রতিষ্ঠান গড়তে চেয়েছেন। 

আমার মনে আছে, এক দশক আগের কথা। আমি তখন প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার। এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর তখনকার মহাপরিচালক যিনি একসময়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ছিলেন এবং এখন সরকারের একজন সিনিয়র সচিব, সেই আসাদুল ইসলাম স্যার আমাকে কথায় কথায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাজ যদি ব্র্যাকের মতো সুন্দর ও স্বচ্ছ হতো তাহলে দেশটা অনেক এগিয়ে যেতো। সেদিন এই কথাটার মানে বুঝিনি। তবে আজ বুঝি প্রতিষ্ঠান কেন জরুরী। 

আর যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম বাংলাদেশে বড় মানুষ অনেক আছে কিন্তু সত্যিকারের প্রতিষ্ঠান খুব কম আছে। ব্র্যাককে আমার মনে হয়েছে সত্যিকারের একটা প্রতিষ্ঠান। সৃষ্টিকর্তার তৈরি ধর্ম নিয়ে মানুষে মানুষে ভিন্নমত থাকে, সমালোচনা থাকে, মানুষের গড়া প্রতিষ্ঠান নিয়েও কথা থাকবে কিন্তু ব্র্যাককে আমার মনে হয়েছে বাংলাদেশের একটা অনন্য প্রতিষ্ঠান। 

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে শুভকামনা। শুভ কামনা ব্র্যাকের বর্তমান নির্বাহী পরিচালকে আসিফ সালেহ ভাইকে। শুভ কামনা তাদের জন্য যারা গত ৪৯ বছর পরিশ্রম করে ব্র্যাককে এই জায়গায় নিয়ে এসেছেন। 

দুঃখজনক হলেও সত্য ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ নেই। এভাবে প্রকৃতির নিয়মে সব মানুষই একদিন মারা যাবে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি ব্র্যাক বেঁচে থাকবে শত শত বছর। শুভ কামনা ব্র্যাকের সাবেক বর্তমান প্রতিটা সহকর্মীকে। আরও এগিয়ে যাক ব্র্যাক। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। সবাইকে শুভ সকাল। শুভ সকাল ব্র্যাক। শুভ সকাল বাংলাদেশ।

শরিফুল হাসান, উন্নয়ন কর্মী

 news24bd.tv আয়শা 

পরবর্তী খবর

এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা!

শওগাত আলী সাগর

এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা!

এই যে মানুষ পরি কি মরি করে গ্রামে ছুটছে তার অন্তর্নিহিত রহস্য কি! প্রতি বছর ঈদের সময় সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়- ‘নাড়ির টানে গ্রামে ছুটছে মানুষ’ এই কি সেই নাড়ির টানে গ্রামে ছুটা! সেই নাড়িটা আসলে কি!

অনন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারের পরিস্থিতিটা অনেক ভিন্ন। তবু মানুষ ছুটছে, পরি কি মরি করে ছুটছে। ফেসবুকে বিভিন্নজনের পোস্ট করা সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি, টিভি চ্যানেলের ভিডিও চিত্রগুলো গভীর মনোযোগসহকার দেখছিলাম। 

মনে হচ্ছিলো শহর থেকে তাড়া খেয়ে মানুষগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কোথাও ছুটছে। অনেকটা যুদ্ধ সময়ের মতো। শহরের কি কোনো যুদ্ধ হচ্ছে তা হলে! ওই যে রশি বেয়ে বেয়ে ফেরিতে উঠছে মানুষ- কিসের তাড়া খেয়ে? কিসের তাড়নায়?

বাচ্চা মতো একটা ছেলে কোনো একটা টিভি চ্যানেলকে বলছিলো- সারা বছর আমরা কষ্ট করে যাই আয় রোজগার করি। বছরের একটা দুইটা ঈদের সময় পরিবারের সবাইকে এ সাথে নিয়ে ঈদ করতে না পারলে কি ভাবে হবে! আমরা মুসলমান তো!  ‘আমরা মুসলমান তো’- কথাটা খট করে বেজে উঠলো কানে। এটি কি তাহলে ধর্মযাত্রা! যারা গ্রামে যাচ্ছেন, তাদের সবার মনে কি এই একই অনুভুতি- ‘আমরা মুসলমান তো!’।


খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত স্বরাষ্ট্রে

যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন

অবশেষে করোনামুক্ত হলেন খালেদা জিয়া

কাবুলে স্কুলের পাশে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৫৫


বিশ্বাস করুন, টেলিভিশনের ভিডিওচিত্রগুলো দেখতে দেখতে একবারের জন্যও কোভিড, স্বাস্থ্যবিধি- এইসব মনে পড়েনি। পৃথিবীতে এখন মহামারী চলছে- এই সত্যটাই যেনো ভুলে গিয়েছিলাম। বার বার মনে হচ্ছিলো- এই মানুষগুলো এইভাবে ‘তাড়া খেয়ে ছুটে পালানোর মতো করে’ ছুটছে কেন? এর মনস্তত্বিক, সমাজতাত্বিক কোনো ব্যাখ্যা কি কারো কাছে আছে!

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মা কিংবা মন খারাপের গল্প

তারিক শামমি

মা কিংবা মন খারাপের গল্প

করোনা সংক্রমণের আগে প্রায় প্রতি শুক্রবার সকালে আমরা রেসিডেনসিয়াল মডেলের স্কুলের বন্ধুরা স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলতাম। সবার বয়স প্রায় চল্লিশের আগে পিছে। টানা অনেকক্ষণ খেলতে পারি না। খেলার ফাঁকে বিরতির সময় আড্ডা হয়। অনেক গল্প হয়। সবই মজার গল্প। একদিন পাভেল বললো, ক্লাস থ্রি তে হাউসে আমরা একসাথে কাঁদতাম। হাউসের পাশে একটা গাছের আড়ালে গিয়ে কাঁদতাম। তপু এসে বলতো, এই কার কার মন খারাপ? চলে আসো। আমরা এখন কাঁদতে যাবো। তারপর সবাই গাছের পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে কাঁদতাম।

পুরোনো সেই কাহিনী শুনে খেলার মাঠে সবাই হো হো করে হাসলাম। কিন্তু বাসায় ফিরে ঘটনাটা যখনি ভাবতাম মনটা কেমন যেন হু হু করে  উঠতো। মায়ের জন্য মন কেমন করা ক্লাস থ্রি'র ছোট ছোট বাচ্চাগুলো গাছের আড়ালে লুকিয়ে একত্রে কাঁদছে। আহারে কি করুণ দৃশ্য!

আমার ক্যাডেটে পড়ার শখ ছিল। চান্স পাইনি। নাইনে রেসিডেনসিয়ালে চান্স পেয়ে তাই খুব খুশি ছিলাম। হাউসে থাকবো। অনেক বন্ধু। অনেক মজা। এক বিকেলে বাবা মা আমাকে ফজলুল হক হাউসে রেখে আসতে গেলেন। আরো ছেলেরা ও তাদের গার্ডিয়ানও এসেছে। সন্ধ্যায় সব গার্ডিয়ানকে চলে যেতে বলা হলো। একমাত্র ছেলেকে রেখে যাচ্ছেন। বিদায় নেয়ার সময় মা আমাকে জড়িয়ে ধরলো। এক পলক মা'র দিকে তাকালাম। মা'র দু"চোখ বেয়ে দুই সারি অশ্রুধারা। ওই এক পলকই। আর একবারও পেছনে ফেরেনি মা। বা পারেনি। এরপর কতো কিছুই শুরু হলো। ভোরে পিটি, সকালে ক্লাস, বিকেলে গেমস, রাতে আড্ডা, কিন্তু এক পলকের সেই অশ্রুজল মুখটা কিছুতেই মন থেকে মুছতে পারিনি। আজও।

সিনেমার অনেক দৃশ্য আমি ঠিক নিতে পারি না। 'তারে জামিন পার' সিনেমায় দারশিলকে যখন বোর্ডিং স্কুলে দিয়ে বাবা মা ফিরে আসে আর 'মেরি মা' গান শুরু হয়-

Main Kabhi Batlaata Nahi, Par Andhere Se Darta Hoon Main Maa
Yuun To Main Dikhlaata Nahi, Teri Parwaah Karta Hoon Main Maa
Tujhe Sab Hai Pata, Hai Na Maa
Tujhe Sab Hai Pata... Meri Maa…

তখন আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারিনা। সারাজীবন আবেগের সাথে লুকোচুরি খেলেছি। কিছুতেই ধরা দেই না। কান বন্ধ করার উপায় নাই। তবে খুব সংগোপনে ল্যাপটপের স্ক্রীণে চোখ না রেখে একটু উপরে তাকিয়ে থাকি। আড়চোখে অন্যদের দিকে তাকাই। ওদের চোখ টলোমলো। পলকেই চোখ সরিয়ে নেই। দ্বিতীয়বার তাকানোর সাহস করি না। চোখের জল যে বড্ড ছোঁয়াচে!

আমার মা বাবা বেঁচে আছেন। তাই সত্যিই জানি না যাদের মা বেঁচে নেই তারা কিভাবে নিতে পারে যখন জেমস গেয়ে ওঠে-

সবাই বলে ঐ আকাশে লুকিয়ে আছে
খুঁজে দেখো পাবে দূর নক্ষত্র মাঝে
রাতের তারা আমায় কি তুই বলতে পারিস
কোথায় আছে কেমন আছে “মা”
ওরে তারা রাতের তারা “মাকে” জানিয়ে দিস
অনেক কেঁদেছি আর কাঁদতে পারি না।

কিংবা যখন ফকির আলমগীর এর সেই বিখ্যাত গান শুনতে পায়-

মায়ের একধার দুধের দাম
কাটিয়া গায়ের চাম
পাপোশ বানাইলে ঋণের শোধ হবে না
এমন দরদি ভবে, কেউ হবেনা আমার মা-গো।

কিংবা যখন জলদ গম্ভীর কন্ঠের আবৃত্তি কানে আসে-

মাকে আমার পড়ে না মনে
শুধু যখন বসি গিয়ে
শোবার ঘরের কোণে,
জানালা থেকে তাকাই দূরে 
নীল আকাশের দিকে
মনে হয়, মা আমার পানে
চাইছে অনিমিখে।
কোলের  পরে ধরে কবে
দেখত আমায় চেয়ে,
সেই চাউনি রেখে গেছে
সারা আকাশ ছেয়ে।

আরও পড়ুন


বাড়িতে যেতে চাইলে হাসবেন-ভয় দেখাবেন, এই আপনাদের বিচার!

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় সীমিত পরিসরে চলছে ফেরি, অপেক্ষায় শতশত যাত্রী

নিয়ন্ত্রণ হারানো চীনের রকেট পড়লো ভারত মহাসাগরে

যাত্রীদের চাপ সামলাতে সব ফেরিঘাটে বিজিবি মোতায়েন


কবি বলেছেন, ''মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই, মায়ের চেয়ে নামটি মধুর ত্রিভুবনে নাই''। তবুও সন্তানেরা মা'কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়। মাকে ফেলে আসে রেলস্টেশনে। জঙ্গলে।

আজ প্রতিটা প্যারা লিখতে বড় সমস্যা হচ্ছে। বারবার দুচোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। এতো জল যে কোত্থেকে আমদানি হয়? আর বুকের ভেতর কোথায়ইবা লুকিয়ে থাকে?

চোখের জলের হয় না কোনো রঙ 
তবু কতো রঙের ছবি আছে আঁকা।

পুনশ্চ: মাকে নিয়ে লেখা কখনো পুরোনো লেখা হয়না। আমার মা, শ্বাশুড়ি মা থেকে শুরু করে বেঁচে থাকা এবং দূর আকাশের তারা হওয়া সকল মায়েদের প্রতি জ্ঞাপন করি বিনম্র শ্রদ্ধা। মা তো নিত্যদিনের, তাই বছরে একদিন মা দিবস নিয়ে অনেকেরই আপত্তি। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আমার মতামতটা বলি, নিস্তরঙ্গ মায়ের জীবনে একটা দিনে আসুক না একটু উদ্বেলিত তরঙ্গ। সন্তানেরা একটা দিন মা'কে নিয়ে করুক না একটু বাড়াবাড়ি। কোনো ক্ষতিতো নেই তাতে।

news24bd.tv আহমেদ

পরবর্তী খবর

আমি একজন ভাঁড় বলছি

খালেদ মুহিউদ্দীন

আমি একজন ভাঁড় বলছি

আমরা যারা ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে হাসাহাসি করছি তারা কি স্বীকার করি যে আমরা ব্যর্থ? আমরা কি জানি বা বুঝতেছি যে আমাদের উৎপাদিত বার্তার কোনো মূল্যই অনেকের কাছে নাই।

আমাদের মেসেজের, তা জীবনসংহারি গণমৃত্যুর হলেও যে লোকে তোয়াক্কা করছে না এতে আপনে কী বুঝতেছেন? এইটা কী বুঝতেছেন, আমাদের পরিবেশিত আর সব বার্তাকে ভোক্তারা কতটুকু গুরুত্ব দেন?

যারা মেসেজ বানান, তাদের সকলেরই কিন্তু বিষয়টা ভেবে দেখা উচিত। আমরা সবাই মিলে বার্তা আর উপদেশ দিতে গিয়ে পরিণত হয়েছি সম্মিলিত ভাঁড়ে। কেউ বাড়ি ফেরা নিয়ে হাসছি, আবার কেউ হাসছি যারা বাড়ি না গিয়ে ফেসবুকে বিপদ সংকেত দিচ্ছেন তাদের নিয়ে। 

আমার মনে হয় ঐতিহাসিকভাবে আমাদের সবচেয়ে প্রিয় সংবাদগুচ্ছ হল, এটা-আমি-আগেই-বলেছিলাম-তখন-কেউ-আমার-কথা-শুনো-নাই। আমরা কিছুতেই বিস্মিত হই না। সবই আমরা আগে বলে রাখি। আমাদের বাবা মা ও ছোটবেলা থেকে আমাদের তাই শিখিয়েছেন। আপনি অংকে ১০০ পেলেও বাবামা বলবেন, তিনি আগে থেকেই তা অনুমান করেছিলেন, মেট্রিকে ফেল করলেও জানবেন যে, পিতামাতা আগেই তা জানতেন। 

করোনা নিয়ে কী কী বিপদ হতে পারে তাও আমি আগে আগে বলে রাখি তা আমার কথা কেউ শুনুন আর নাই শুনুন। আবার এইসব করোনা ওভারহাইপড, আজাইরা এমন কথাও আমরা কেউ কেউ বলে রাখি।

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

আমাদের দেশ হলো পদের নাম ভাঙ্গিয়ে খাওয়ার দেশ

রউফুল আলম

আমাদের দেশ হলো পদের নাম ভাঙ্গিয়ে খাওয়ার দেশ

আমাদের দেশটা হলো নেতা, পিতা ও পদ পরিচয়ের দেশ। বাপের নাম, নেতার নাম, পদের নাম ভাঙ্গিয়ে খাওয়ার দেশ। 
আমরা বাপের সাহসিকতার সনদ নিয়ে বড়াই করি। সেই সনদ নিয়ে চাকরি নেই। বাপের পরিচয় দিয়ে রাস্তায় আকাম-কুকাম করি। বাপের দাপট দেখিয়ে জীবন কাটাই। দেশের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত অসংখ‍্য মানুষ এই “বাপের নাম”, “বাপের স্বপ্ন”, “বাপের ধন” নিয়েই আছে। 

একদল আছে নেতার কাঁধের গামছা হয়ে, জীবন কাটাবে। তুই চিনিস আমি কে? —ওমুক আমার বড়ো ভাই! —আমি ওমুক নেতার চামচা! অর্থাৎ নিজ বাহুতে ছটাক বল না থাকলেও, নেতার বাহুবলে সেরের ওজন দেখিয়ে চলো! 
আরেক দল হলো পদ-পদবী দিয়ে চলো। আমি ওমুক অফিসার! আমি তুমুক সরকারী “উলোট-পালট কর্মকর্তা”। মানুষের কল‍্যাণে কিছু করতে না জানলেও মানুষের কাছে পদ ভাঙ্গিয়ে খেতে পারি ঢেড়! 

আত্মপরিচয়ে, নিজ কর্মে, নিজগুণে বড়ো হওয়ার যে শিক্ষা—সেটা বহুলাংশেই নেই। 

বিদেশে বহু টেলেন্টেড ছেলে-মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছে। সহপাঠী, সহকর্মী, বন্ধু—এমন বহু তরুণ-তরুণী ছিলো, যাদের বাপের অনেক টাকা। কারো বাপ রাজনীতিবিদ। কারো বাপ বড়ো ব‍্যবসায়ী। অথচ, তাদের মুখে কখনো বাপের পরিচয় শুনিনি। বাপের পরিচয় বেচে খেতে দেখিনি। অনেক উদাহরণ আছে। এই মুহূর্তে একটা বলছি। আমেরিকার এমরি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হু ডেভিস, আমাদের ফিল্ডে জাঁদরেল গবেষক। তার ছেলে ও আমি, ইউনিভার্সিটি অব প‍্যানসেলভেনিয়াতে একসাথে কাজ করেছি। কখনো জানতেই পারিনি যে সে প্রফেসর ডেভিসের ছেলে। বহুদিন পর অন‍্যদের কাছ থেকে শুনেছি। 

বহু কর্মকর্তা দেখেছি। নোবেল বিজয়ী দেখেছি। বহু প্রফেসরদের কাছ থেকে দেখেছি। একসাথে কাজ করেছি। কিন্তু কখনো পদ-পদবী নিয়ে হাইলাইট করতে দেখিনি। আপনি হয়তো কফিশপে কফি নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। আপনার পেছনে একজন বিলেনিওয়ার দাঁড়িয়ে আছে। টেরও পাবেন না। আপনার আগে গিয়ে দাঁড়াবে না কোনদিন। 

আমাদের সমাজে এগুলো হলো সামাজিক অপশিক্ষার ফলাফল। কারণ, আমরা পরিবার থেকে, শৈশব থেকে আত্মপরিচয়ে বড়ো হতে শেখাই না। সামাজিকভাবে এই চর্চার অনেক অভাব। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই চর্চা নেই। যারা অগ্রপ্রজন্ম, তারা এই চর্চা করে না। ফলে অনুপ্রজন্মের মধ‍্যেও দেখা যায় না।

মানুষের দুনিয়ায়, আত্মপরিচয়ে বড়ো হতে না পারলে—সে জীবন তুচ্ছ! নিজ কর্মে আলোকিত না হতে পারলে সে জীবনে কোন মহিমা থাকে না। পরিচয় ভাঙ্গিয়ে খাওয়া যে একটা নিকৃষ্টতা—এই শিক্ষাটুকু আমরা পাই না। কী দুর্ভাগ‍্য! 

রউফুল আলম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর

ব্যাপারটাকে ক্রিকেটীয় ভাষায় বুঝতে চেষ্টা করি!

রুমি আহমেদ

ব্যাপারটাকে ক্রিকেটীয় ভাষায় বুঝতে চেষ্টা করি!

ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট কি বাংলাদেশে আসেনি? এসেছে! অনেক আগেই এসেছে! ভ্যারিয়েন্ট টা প্রথম আইডেন্টিফাইড হয় গত অক্টবর মাসের পাঁচ তারিখে মহারাষ্ট্রের একটা স্যাম্পল থেকে! তার মানে ভ্যারিয়েন্ট টা সার্কুলেট করছে আরো আগে থেকেই! এতো দিনে বাংলাদেশে না এসে পারে না! 

আর সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট টাও ডিসকভার হয় একই সময়ে সাউথ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ এর নেলসন মেন্ডেলা বে তে |  আর ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্ট যুক্তরাজ্যের কেন্টে ডিসকভার হয় নভেম্বর মাসে! 

সম্প্রতি ঢাকার মাঠে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো| এই সিরিজে ইংল্যান্ড প্রথম প্রথম ভালো করলেও পরে সাউথ আফ্রিকা পুরো ডমিনেট করেছে! ইংল্যান্ড শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়েছে! ঢাকার মাঠে ভারতীয় টিম পাত্তাই পায় নি! 
কাগজে কলমে কিন্তু ইংল্যান্ড টিম সবচেয়ে শক্তিশালী! ইউরোপিয়ান, নর্থ আমেরিকান টুর্নামেন্টে  ও কাউন্টি লীগ ওদের রেকর্ড ঈর্ষনীয় ও অপ্রতিদ্বন্দী! 

ভারতের নিজের মাটিতে এখন যে সিরিজ টা হচ্ছে - তাতে ইংল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকা বেশ ভালো ভাবেই শুরু করেছিল! ওরাই টুর্নামেন্ট লিড করছিলো! কিন্তু ভারত যা সব সময় করে - হোম গ্রাউণ্ড এডভান্টেজ ( যেমন কুম্ভ মেলা / রামাদান) নিয়ে ইংল্যান্ড আর সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট কে অনেক পিছিয়ে ফেলে এখন পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে আছে! 

এখন নেপালে যে ট্রাই নেশন সিরিজটা শুরু হয়েছে - তাতেও দেখা যাচ্ছে ভারত একচেটিয়া খেলছে! 

ঈদের পর পর বাংলাদেশে আরেকটা ট্রাইনেশন  টুর্নামেন্ট হবার কথা! জাতি রুদ্ধশাসে অপেক্ষা করছে - কে জেতে  ওটাতে তা দেখার জন্য!

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর