চাকরি নিয়ে দুই কথা

খালেদ মুহিউদ্দিন

চাকরি নিয়ে দুই কথা

খালেদ মুহিউদ্দিন

আমরা যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মেছি, বেড়েছি তাদের সবার গল্প কি মোটের উপর একইরকম না? অল্প রোজগেরে একজন বাবা, কম পড়ালেখা জানা একজন মা, দুই বা তিনজন নানা-দাদা-দাদী-নানী, দুই তিন বড়জোর চার ভাই বোনের একটা সংসার। 

বয়স পাঁচ পেরোতেই আমরা জানি সব খেলনা আমার জন্য না, ঝলমলে জামাটি দোকানে সাজিয়ে রাখার জন্যই, ২০ তারিখের পরের দিনগুলো মুখ বুজে খেয়ে নেবার, মা মানে ছোপ ছোপ হলুদ আর কালিঝুলি মাখানো একজন, বাবা মানে কমদামী সিগারেট ফুঁকে দামি কথা বলা একজন। সাথে থাকবেন একজন কমবয়সে স্বামীহারা খালা, বিবাহ উপযোগী একজন ফুফু আর চালিয়াত ধরনের এক দুইজন তুতো ভাই বা দুলাভাই এইতো!

গল্পে ফিরে আসি, আমাদের বাবা বলিয়ে কইয়ে হলে গল্প করবেন যে, ছেলেবেলায় কত কষ্ট করে কত মাইল হেঁটে স্কুলে গেছেন, ছোটবেলায় কত ভাল ছেলে আর মনোযোগী ছাত্র ছিলেন, কেমন করে ভাগ্য দোষে কেরানি বা টাইপিস্টের চাকরি নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক কিছু হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তার, কাছের মানুষদের হিংসা আর ষড়যন্ত্র শেষ করে দিয়েছে সব। এখন জীবনে আর কোনো চাওয়া পাওয়া নাই শুধু আমাদের মানুষের মত মানুষ হতে দেখা ছাড়া। যদিও তা দেখে যেতে পারবেন কিনা তা ভাল বলতে পারেন না। খানিক কাশি আর অনেকখানি দীর্ঘশ্বাস। 

মা জানাবেন, কিচ্ছু বুঝতে না বুঝতেই বিয়ে হয়ে গেছিল তার। স্কুল থেকে ফিরে কোঁচড়ের ছোট আম ভর্তা করতে না করতেই শাড়ি পরিয়ে একজনের সঙ্গে রিক্সায় তুলে দেওয়া হল। উনি তার বাবা বা স্বামীর নিন্দা মন্দ করবেন না, দোষ দেবেন না, দোষ খালি তার ভাগ্যের। অনেক শখ ছিল তার পড়ালেখা করে দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াবেন। এখন জীবনে আর কোনো চাওয়া পাওয়া নাই শুধু আমাদের মানুষের মত মানুষ হতে দেখা ছাড়া। যদিও তা দেখে যেতে পারবেন কিনা তা ভাল বলতে পারেন না।রান্নাঘরের খুন্তি কড়াই একটু বেশি শব্দ হতেও পারে, একটু সুর অসুরের গুণগুণের মাঝামাঝি। 

তো আমরা জানব, আমাদের মানুষের মত মানুষ হতে হবে। সেটি কিরকম? এক কথায় বলতে গেলে একটা পার্মামেন্ট চাকরি যেখানে পেনশন আছে আর ঢাকায় একটা বাসা। সরকারি চাকরিই সবচেয়ে ভাল কারণ তা কখনো যাবে না, মানে চাকরি খাওয়ার সাধ্য কারো নেই। মুখ বুজে অংক বিজ্ঞান গিলে যদি ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় তবে চাকরির বাজার খুব সহজ, জেনারেল লাইনের ভরসা নাই। ইঞ্জিনিয়ারদের আবার বেতনটাই সব নয় আরও নানা সুযোগ সুবিধা আছে। অথবা ডাক্তার হতে পার। রোগী দেখলেই টাকা, অমুক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দিনে ১০০ রোগী দেখে তমুক হৃদরোগ ২০০ --৫০ টাকা করে ভিজিট। কবিতার মত করে বলা উচিত সিমেন্টের গাঁথুনি দিয়ে দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে আমাদের মগজে মননে।

চাকরি-চাকরি মানে সোনার হরিণ। চাকরি মানেই জীবনের সার্থকতা। চাকরি পেলে তুমি মানুষের মত মানুষ! চাকরি পেলে তবে তুমি গাড়ি ঘোড়া চড়বে, মেলাবে ছোটবেলায় লেখাপড়ার স্বপ্ন। চাকরি পেলে সবাই তোমাকে স্যার ডাকবে নইলে অপরিচিত চ্যাংড়াও তোমাকে তুমি ডাকবে, মোড়ের দোকান থেকে সিগারেট আনার ফরমায়েস দেবে। চাকরি পাওনি বলে বেলা বোস ফোন ধরতে পারবে না। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বা মর্যাদা কম ছিল বলে মেয়েদের পড়ালেখার প্রতি বাবামার উৎসাহ ছিল কম। 

রাজনীতিতেও আমাদের আগ্রহ চাকরির কারণে। আমরা যে কী পরিমাণ চাকরি ভালবাসি তা আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দেখলেও বুঝতে পারবেন। নেতা হাসলে তারা হাসেন, চুপ করে থাকলে মুখে দেন তালা। রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মত এত লয়াল চাকরিজীবী আপনি আর কোথাও পাবেন না। লয়াল না হলে বা কাজে না এলে আপনাকে হুদা মান্না হয়ে গাইতে হবে সবাই তো সুখী হতে চায় তবু..। এইচ টি ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সবচেয়ে তালি পান এই বলে যে, ছাত্রলীগের লোকজনকে চাকরি দেওয়া হবে কারণ তাদের দিয়ে নির্বাচন করিয়ে অনেক সুফল পাওয়া গেছে। রাজনীতিবিদেরা মানুষের জন্য কাজ করেন। কী করেছেন জানতে চাইলে বলেন, প্রথমত অন্তত পাঁচশ লোককে চাকরি দিয়েছেন। 

আমাদের বাবা মা বা শিক্ষকেরা ছেলে মেয়েকে পরীক্ষায় নকল করতে সাহায্য করেন, কারণ কোনোভাবে একটা সার্টিফিকেট বাগানো গেলে নেতার কাছে গিয়ে চাকরির জন্য ধরে পড়া যাবে। আর নকল করবেই বা না কেন? চাকরি করতে গেলে এইসব বই পুস্তকের কথা কোনটা কাজে লাগে? আমাদের শিক্ষকদের তাদের নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন পর্যন্ত করতে দেই না। কারণ আমরা মনে করি পরীক্ষা পরিচালনা করতে দিলে কী কেলেঙ্কারিটাই না জানি তারা করবেন। 


বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতার মিথ্যা ঘোষক দাঁড় করানো হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল হুদা আর নেই

সন্তানের সামনে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের ফাঁসি

ফের ডিম দিয়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা


অতএব, আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য একটি চাকরি বাগানো। সবার মুখে স্যার শোনা। সরকারের পুলিশ খারাপ, আমলা ঘুষখোর, সচিবেরা নির্লজ্জ বেহায়া, ডাক্তারেরা কসাই শুধু সরকারি চাকরিটা ভাল। 

সাংবাদিকদের কথা দিয়ে শেষ করি। অনেককেই বলতে শুনি অনেকদিন বেতন পান না বা বেতনে ঠকায়। তারপরও কেন করেন ভাই? কী করব চাকরি তো করতে হবে। হা ভাই আমাদের সবার বেলাতেই তাই। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির সামনে চেয়ার পেতে বসা ছেলেমেয়েদের নিয়ে হক না হক কথা বলা বা ছবি তোলার আগে একটু ভাল করে দেখেন। দেখেন পুরো দেশ আর আমাদের সবার ছবি তোলার মত লেন্স বা ক্যামেরা আপনার আছে কিনা?

ডয়েচে ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

৪০ বছর দেশের পরিবর্তনের বেশিরভাগটাই হয়েছে শেখ হাসিনার হাতে

মাসুদা ভাট্টি

৪০ বছর দেশের পরিবর্তনের বেশিরভাগটাই হয়েছে শেখ হাসিনার হাতে

৪০ বছর আগে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা যে বাংলাদেশকে পেয়েছিলেন আর আজকে ৪০ বছর পরের বাংলাদেশে আপনি কী দেখছেন-- এই পার্থক্যটা আপনি ধরতে পারেন তো? তাহলেই দেখবেন, এ পরিবর্তনের বেশিরভাগটাই হয়েছে শেখ হাসিনার হাতে কিংবা তার কারণে। প্রধানমন্ত্রীতো বটেই বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এবং এদেশের রাজনীতিকে যা দিয়েছেন তা দেশের অন্য কোনো রাজনীতিবিদ ভাবতেও পারবেন না।

রাজনৈতিক কৌশলেও তিনি যে সক্ষমতা দেখিয়েছেন তার উদাহরণও আমাদের দেশে কিংবা উপমহাদেশে নেই, বিশেষ করে নিজের জীবনকে বাজি রেখে এভাবে একা লড়ে যাওয়া রাজনীতিবিদের সংখ্যা এ উপমহাদেশে নেই। এমনকি উনবিংশ শতকের পরে বিশ্ব-ইতিহাসেও কোনো রাজনৈতিক নেতার এরকম বর্ণাঢ্য, ঘটনাবহুল এবং এত মৌলিক পরিবর্তন ঘটানোর উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর হবে।
 
দু:খজনক সত্য হলো, শেখ হাসিনাই যদি বাংলাদেশের না হয়ে অন্য কোনো দেশের নেতা হতেন তাকে নিয়ে এদেশে হুড়োহুড়ি পড়ে যেত প্রশংসা জানানোয়। যেহেতু তিনি বাংলাদেশের এবং বঙ্গবন্ধু-কন্যা সেহেতু তাকে প্রশংসা জানাতে সকলের কুন্ঠা, সুশীলরা মনে করেন এটা করলে লোকে তাকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে দেবে, যেন আওয়ামী লীগ সমর্থন করা অন্যায়। আর রাজনৈতিক বিরোধীরাতো দিনরাত তার মৃত্যু কামনায় গ্রেনেড কিংবা তলোয়ারে শান দেন। ফলে শেখ হাসিনা থেকে যান প্রশংসার আড়ালে, যতটুকু হয় তার প্রায় সবটুকুই নিন্দা। অথচ, অনেকেই আমরা এটাও স্বীকার করি না যে, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে না এলে আরেকটি দলেও নারী নেতৃত্ব দেখতাম না আমরা, শেখ হাসিনা যা আন্দোলন করে আদায় করেছেন আরেক দলের নেত্রী সেটা "বাই ডিফল্ট" পেয়েছেন। সে হিসেবেও শেখ হাসিনা এদেশে তার বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের কাছ থেকে ধন্যবাদ দাবী করতেই পারেন। 

আজ সেই দিন, ৪০ বছর আগে যেদিন থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুনতর মাত্রা পেয়েছিল। দিনটি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য, অর্থনীতির জন্য সেলিব্রেশনের বা উদযাপনের। থ্রি চিয়ার্স শেখ হাসিনা।

মাসুদা ভাট্টি

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী 

পরবর্তী খবর

ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের অংশ হওয়ার তাগিদ রুমিন ফরাহানার

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের অংশ হওয়ার তাগিদ রুমিন ফরাহানার

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অষ্টম দিনের মতো হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। অন্যদিকে এই বর্বরতার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যার যার পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক নীতি মেনে পাশে দাড়াচ্ছে এই দুই দেশের। থেমে নেই সামাজিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে যোগাযোগ মাধ্যমও। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফিলিস্তিনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের এই সংগ্রামের অংশ হওয়ার জন্য মানুষ ও মুসলিম হিসেবে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও নারী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংবিধানের অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে একটি পোস্ট দিয়ে সবাইকে এই আহ্বান জানান। নিউজ ২৪-এর পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল-

“আসুন বর্ণবাদ, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের নিরন্তর সংগ্রামের অংশ হই মানুষ হিসাবে, মুসলিম হিসাবে আর নিপীড়িতের পাশে থাকার সাংবিধানিক শপথের অংশ হিসাবে (অনুচ্ছেদ ২৫.গ)”

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

হতাহতের সংখ্যা থেকেই বোঝা যায় কার দায় কতটুকু

আলী রীয়াজ

হতাহতের সংখ্যা থেকেই বোঝা যায় কার দায় কতটুকু

গাজায় ইসরাইলের হামলা অব্যাহত আছে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। এই হামলায় নিহত হচ্ছেন ফিলিস্তিনি নাগরিকরা, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৫৫ জন ছাড়িয়েছে। নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন বেসামরিক ব্যক্তিরা, বিমান আক্রমনের লক্ষ্যবস্ত থেকে গণমাধ্যম বাদ যায়নি। একই ভবনের সাতটি গণমাধ্যমের অফিস, স্টুডিও গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর বিপরীতে গাজা থেকে হামাসের রকেট নিক্ষেপ অব্যাহত আছে।

২০১৪ সালের পরে গাজায় এতো বড় আকারের হামলা হয়নি। হতাহতের সংখ্যা বাড়ছেই। ২০১৪ সালে ৫০ দিন এই হামলা চলেছে। এক বছর পরে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বিবাদমান দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। কিন্ত হতাহতের সংখ্যা থেকেই বোঝা যায় কার দায় কতটুকু। ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন ২২৫১ জন, যার মধ্যে বেসামরিক ব্যক্তি ছিলো ১৪৬২ জন; অন্যদিকে ইসরাইলের ৬৭ জন সৈন্য এবং ৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলো।

এই দফা আর কত দিন এই হামলা চলবে তা বলা মুশকিল। ইসরাইলের এই আগ্রাসী হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠি প্রদর্শন; অথচ আন্তর্জাতিক সমাজের কোন প্রতিক্রিয়া নেই। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের ধারাবাহিকতায় ইসরাইলের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে কার্যত ইসরাইলের এই অমানবিক অপরাধের ভাগীদার হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ভিন্ন কোনও ভূমিকা নেবেন বলে যারা  আশা করেছিলেন  তাঁরা হতাশ হয়েছেন। কিন্ত মার্কিন রাজনীতির কাঠামো এবং ইসরাইল বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে যারা পরিচিত তাঁরা এটা সহজেই অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, বাইডেনের পক্ষে নতুন কোন ধরণের নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবেনা।

যে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরাইলকে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক সাহায্য দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ৫০০ মিলিয়ণ ডলার ব্যয় করে মিসাইল প্রতিরক্ষা গবেষণায় ব্যয় করে সেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের ওপর কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারে তা নয়, বরঞ্চ ঘটে উল্টোটা। এখানে ইসরাইল লবির প্রভাব এতটাই যে, ফিলিস্তিনিদের জমি দখল থেকে বাস্তচ্যুত করা, তাঁদের ওপরে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া, নির্যাতন-নিপীড়ন অব্যাহত রাখা স্বত্বেও এই সাহায্যের ব্যত্যয় ঘটানো সম্ভব হয়নি। ফলে বাইডেন প্রশাসন এই আক্রমণের সময় মানবিক বিবেচনা দিয়ে প্রভাবিত হয়নি, ইসরাইলী লবির প্রভাবে তৈরি পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করেছে।

২০১৬ সালে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত সহযোগিতা স্মারকে বলা হয়েছে আগামী দশ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ৩৩ বিলিয়ন ডলার দেবে; আর ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। কিন্ত এই ধরণের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে অতীতে মূলধারার রাজনীতিতে প্রশ্ন না উঠলেও গত বছর থেকে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গাজায় হামলার বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ইসরাইলের সমালোচনা হয়েছে এবং বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিনেট এবং হাউসের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই দাবি তুলেছেন বাইডেন প্রশাসন যেন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়। ডেমোক্রেটদের একাংশ এই নিয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবেই অবস্থান নিয়েছে। সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেনডেজ গতকাল একটি বিবৃতিতে ইসরাইলের যে সমালোচনা করেছেন তা আগে কখনোই দেখা যায়নি।


আরও পড়ুনঃ


করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কবি জয় গোস্বামী

ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে


হোয়াইট হাউস থেকে বলা হচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্ততা করার জন্যে ইতিমধ্যেই হেডি এমির ইসরাইল পৌছেছেন। কিন্ত তাঁর পক্ষে যে কোনও ধরণের মধ্যস্ততার সুযোগ নেই কেননা হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরণের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই, মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনায় কোনও ফলোদয় হবেনা। অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর উদ্দেশ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত এই সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। তদুপরি যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে আগে যেমন মধ্যস্ততাকারী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে তেমনি এবারও কোনও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে না। কেননা যুক্তরাষ্ট্র এখানে ইসরাইলের স্বার্থের প্রতিনিধিত্বই করে। ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যেকার চাপে আশু এই নীতি বদলাবেনা। তবে আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন ফিলিস্তিনীদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। ইসরাইলের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে।

এই সংকটে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে ইউরোপের দেশগুলো যারা অতীতে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সরব এবং সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে তারাও এখন অবধি সমন্বিত কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈঠক ডাকা হয়েছে। কিন্ত সেই বৈঠকের ফলে ইসরাইলের হামলা বন্ধ হবে, কিংবা হামাসের পক্ষ থেকে ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপে বিরতি দেয়া হবে এমন আশাবাদের কোনও কারণ দেখিনা। যার অর্থ হচ্ছে আরও প্রাণনাশ ঘটবে। দীর্ঘ মেয়াদে তা না ইসরাইলের জন্যে, না যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে ইতিবাচক কিন্ত এই দুই দেশের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সেই বোধোদয় নেই। ফিলিস্তিনিদের এই অবস্থার অবসান কবে হবে কেউ তা বলতে পারেনা।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরাইল আর হামাসের লড়াইয়ে এই মানুষগুলোই মরছে প্রতিদিন

শওগাত আলী সাগর

গাজায় ইসরাইল আর হামাসের লড়াইয়ে এই মানুষগুলোই মরছে প্রতিদিন

‘ওখানে আমাদের পরিবারের সদস্যরা আছে, স্বজনরা আছে। তারা কেমন আছে, কিভাবে আছে জানি না। তারা সেখানে অসহায়ভাবে মারা যাচ্ছে, আহত হচ্ছে। তাদের বাড়ীঘর ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমাদের বুক ভেঙ্গে যাচ্ছে।’

কি আশ্চর্য! একদম এই কথাগুলোই বললেন দুই দল মানুষ। কিন্তু তারা এক পক্ষের নয়, পরষ্পরের বিপরীত স্র্রোতের মানুষ তারা। অথচ তাদের অনুভুতি এক, তাদের বেদনা এক, তাদের হাহাকার এক, তাদের আতংকও এক। ।

আগের দিন প্যালেষ্টাইনের সমর্থকরা গাজায় ইসরাইলি তান্ডবের প্রতিবাদ জানাতে অটোয়ায় হিউম্যান রাইটস মনুমেন্টস এর সামনে সমবেত হয়েছিলো। পরের দিন রোববার সমাবেশ করে ইসরাইল সমর্থকরা। দুই দলের পক্ষেই সেখানে বক্তৃতা হয়। কানাডীয়ান মিডিয়া কারো কারো বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রচার করে। সেই বক্তৃতাগুলো শুনতে শুনতে, পড়তে পড়তে কেমন যেনো গা কেঁপে ওঠে। আহা! ইসরাইল থেকে রকেট ছুঁড়ছেন যারা, বিমানে হামলা চালাচ্ছেন যারা, গাজা থেকে রকেট ছুঁড়ছেন যারা তাদের মনে কি এই ভাবনাগুলো একবারের জন্যও উদয় হয়!

সিবিসি টেলিভিশনকে প্যালেস্টিইনিয়ান শাহেদ হেলমি বলছিলেন, ওখানে আমার পরিবারের সদস্যরা আছে। তারা প্রতি মুহুর্তে জীবন মরনের শংকার মধ্যে সময় কাটাচ্ছে।এটা যে কতোটা হৃদয় বিদারক, তুমি তা ভাবতে পারবে না!’ পরের দিন সমাবেশ করতে এসে ঠিক এই কথাগুলো বলছিলেন ইসরাইলী ইয়েল ল্যাভিন- ওখানে আমার পরিবারের সদস্যরা আছে,জীবন আর মৃত্যুকে হাতে নিয়ে কাল কাটাচ্ছে, ভাবতে পারো!


আরও পড়ুনঃ


করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি কবি জয় গোস্বামী

ফিলিস্তিনিদের বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান বাংলাদেশের

ধ্বংসস্তূপে ওপর দাঁড়িয়ে র‍্যাপ গাইল ফিলিস্তিনি শিশু (ভিডিও)

হাঙ্গর পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে জিপিএস হিসেবে ব্যবহার করে


দুই পক্ষের হয়ে সমাবেশ করতে আসা মানুষগুলোই বলছিলো- তোমার কি ধর্ম, তোমার এখনিক ব্যাকগ্রাউন্ড কি সেটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই সংঘাতের শিকার তুমি, তোমার পরিবার। তোমার তো একটাই কেবল চাওয়া শান্তি, তোমার পরিবার যেনো নিরাপদ থাকে। শান্তিতে থাকে।

কি আশ্চর্য! কানাডার রাজধানী অটোয়ায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে অংশ নিতে এসেও অভিন্ন কথাই বলে গেলেন ইসরাইল আর প্যালেস্টাইনিরা। অথচ গাজায় ইসরাইল আর হামাসের লড়াইয়ে এই মানুষগুলোই মরছে প্রতিদিন। সেখানে শান্তির কথা, পরিবারের জন্য উদ্বেগের কথা কোনো গুরুত্বই যেনো পাচ্ছে না।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

কেবল পোশাকে পর্দা রক্ষা হয় না

হারুন আল নাসিফ

কেবল পোশাকে পর্দা রক্ষা হয় না

মানুষ যখন উদ্দেশ্যের চেয়ে কোনো রীতি-নীতি বা বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানকে বেশি গুরুত্ব দেয় অথবা উদ্দেশ্য না বুঝে চোখ বুঁজে নিছক আচার-অনুষ্ঠান পালন করে তখন অনিবার্যভাবেই উদ্বিষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়। একটু খেয়াল করলেই চারপাশে একথার সত্যতা ও প্রমাণ মিলবে।

এরকম একটি বিষয় হলো মুসলমানদের পর্দাপ্রথা। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এর মূল উদ্দেশ্য মানুষের যৌন সততা ও পবিত্রতা বজায় রাখা। এটি নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য হলেও আমাদের এমনকী অন্যান্য সমাজেও নারীদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ বা চল বেশি দেখা যায়।

আমাদের সমাজে ইদানীং পোশাকি পর্দাপ্রথা বেশ মানা হচ্ছে। পেছনের কারণ যা-ই হোক, এটি এখন চোখে পড়ার মতো। কিন্তু এর আসল উদ্দেশ্য কতোটা রক্ষিত হচ্ছে? এ প্রশ্নটা আজ এলো কিশোরগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটজন তরুণ-তরুণীকে আটক করার খবর পড়ে।
সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, অভিযানে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে চারজন তরুণ ও চারজন তরুণীকে আটক করা হয়। এ সময় তারা হোটেলটিতে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন বলে স্বীকার করেন।  এদের মধ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছে বলে জানা যায়।

এ ধরনের খবর নতুন নয়। প্রায়ই এ ধরনের খবর সংবাদ মাধ্যমে আসে। আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী এটি অসামাজিক কাজ। শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু অনেকে আছেন এতে তারা অপরাধ দেখেন না। কিন্তু যারা এসব কাজে জড়িত হয়ে গ্রেপ্তার হন, তাদের দেখে মনে হয় না তারা সেই চিন্তা-চেতনা লালন করেন।

কিশোরগঞ্জে গ্রেপ্তারকৃতদের মতো অন্যদেরও প্রায় সবক্ষেত্রে বোরকা-হিজাব-নেকাব পরা দেখা যায়। ছেলেদের বেলায়ও আপত্তিকর পোশাক দেখা যায় না। মানে তারা পোশাকে ধর্মনিষ্ঠ বলেই প্রতীয়মান হয়। কিন্তু বাস্তবে এই পোশাকের সম্মান রক্ষার বালাই তাদের নেই। এসব দৃশ্য আমাদের চোখে অঙুল দিয়ে পোশাকি ধর্মাচারের অসারতা দেখিয়ে দেয় বৈকি!

মানুষের নৈতিক চরিত্র উন্নত না হলে পোশাক দিয়ে কোনো ফল হয় না। পোশাকি ধর্মাচারের ওপর যতো বজ্র আঁটুনি দেয়া হয়, প্রকৃত ধর্মাচারে ততোই ফসকা গেরো হয়ে যায় বলেই বারবার প্রমাণিত হয়েছে। না হলে ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পরপরই আমাদের এমন খবর শুনতে বা দেখতে হতো না।

তবে এসব ঘটনার একটা দিক হলো, এগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে কেবল পোশাকে পর্দা বা ধর্ম রক্ষা হয় না। প্রকৃত পর্দাশীল বা ধার্মিক পোশাক দিয়ে চেনা যায় না।

লেখক : হারুন আল নাসিফ : কবি, ছড়াকার, সাংবাদিক।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর