নিজের বায়োগ্রাফি নিজে লেখাটা খুব কঠিন

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী

নিজের বায়োগ্রাফি নিজে লেখাটা খুব কঠিন

একটা মানুষ তার বায়োগ্রাফি তৈরিতে বসেছে। মাথায় কারুকাজ খচিত এতো দিনের ঘুমন্ত স্নায়ুগুলো একটু একটু করে নড়েচড়ে উঠেছে। মানুষটা স্মৃতিকে পাগলের মতো হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মানুষটা খুব অবাক হলো। বিস্ময়ে কপালের ভাঁজটা আরও কুঁচকে গেলো। মানুষ অনেকের জন্মটা দেখতে পেলেও নিজের জন্মটা মানুষ নিজের চোখে দেখতে পায়না। বায়োগ্রাফি তৈরির এ জায়গাটাতে এসে কলমটা যেন থেমে গেলো।

হাতটা যেন থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে পাথর হলো। আসলে মানুষ কোথাও কোথাও খুব অসহায়। যেখানে মানুষের করার কিছুই থাকেনা। মানুষ জন্মটা যেমন দেখতে পায়না, নিজের মৃত্যুটাও মানুষ দেখতে পায়না। মানুষ কত কি করতে পারে। তবে নিজের বায়োগ্রাফি লিখতে গিয়ে নিজের জন্ম তারিখটা লিখলেও নিজের মৃত্যুর তারিখটা লিখতে পারেনা। মানুষের মৃত্যুটা যে খুব অনিশ্চিত।

মানুষ যতই বড় হোক না কেন এখানটাতে তার কোনো হাত নেই। তাহলে মানুষ কখনো কি তার পূর্নাঙ্গ বায়োগ্রাফি লিখতে পারে। বোধ হয় না। কবি সুকান্তের কথা মনে পড়ে গেলো। তিনি ছিলেন মানুষের কবি। তার কবিতাগুলো রোদে ঝলসিত আগুনের মতো। মাত্র একুশ বছর বয়সে অসাধারণ এই প্রতিভার মৃত্যু হয়। তাও সেটা যক্ষা রোগে। ১৯৪৭ সাল, তখন যক্ষা হলে মৃত্যু ছিল অবধারিত। কারণ তখনও যক্ষার ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। খুব কষ্ট হয়, কষ্টে বুকটা বিদীর্ণ হয়। এই আধুনিক সময় যক্ষাকে নির্মূল করতে পারে কিন্তু সে সাদাকালো সময় যক্ষার কাছে হেরেছিল।

হয়তো কোনো কোনো মানুষের জন্য সময়টাও অসহায় হয়। আর্তনাদ আর হাহাকারের যন্ত্রনায় দগ্ধ হয়। সে সময়টাকে যদি হাতে পায়ে ধরে হলেও এ সময়ে নিয়ে আসা যেত তবে সুকান্তের মতো শক্তিধর কবির মৃত্যু ঠেকানো যেত। আমি মানুষ হয়ে নিজের বায়োগ্রাফি লিখছি নাকি আমার হাতের অনিয়ন্ত্রিত কলমটা অন্যের বায়োগ্রাফি লিখছে। বোঝাটা বোধ হয় খুব কঠিন। মানুষের শক্তি কতটুকু। উত্তর হয়তো এর নেই। যদি থাকে তবে যতটুকু সময় তাকে বোঝা টানার মতো টেনে নিয়ে যায় মৃত্যুর কাছাকাছি ততটুকু।

তবে বায়োগ্রাফি এখানটায় খুব অসহায়। কারণ সময় মানুষকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যেতেই থাকে তবে কোথায়, কখন থামতে হবে তাতো সময়ও জানেনা। সময়টাও হয়তো কখনো কখনো খুব অসহায় হয়। অথচ সময়কে কেন্দ্র করেই মানুষের বায়োগ্রাফিটা তৈরি হয়। এখন মনে হচ্ছে আমি কি লিখছি আমি নিজেও জানিনা, হয়তো কেউ আমাকে লেখাচ্ছে। সে কেউ টাকে হয়তো কোনোদিনও খুঁজে পাবনা। যেমন বায়োগ্রাফি লিখতে গিয়ে মানুষকে একটা ঠিকানা লিখতে হয়। সেটা কখনো কি মানুষের আসল ঠিকানা হয়ে উঠতে পারে। কে জানে। কারণ মানুষ যা জানে সেটাই তো অজানা আর যেটা অজানা সেটাই হয়তো জানা।


আইসিইউ থেকে কাজী হায়াতের ভিডিও বার্তা (ভিডিও)

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, শুরুতেই শূন্য রানে লিটনের বিদায়

সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিমানবন্দর ছাড়লেন সাকিব

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে দোয়া করা জায়েজ কি?


যে ঠিকানাটা মানুষ লিখে সেটা একটা অস্থায়ী বসতি হতে পারে, স্থায়ী ঠিকানা হতে পারেনা হয়তোবা। মানুষের দেহ মাটিতে থাকে, যে দেহ জীবনকে দেখতে দেখতে একদিন মাটিতে মিলিয়ে যায়। সে মাটির কোনো ঠিকানা থাকেনা। তবে মানুষের মনের ঠিকানা থাকে। কারণ মন মানুষকে মানুষ বানায়। মানুষকে চেনায়। মনের মানুষ হয়ে মন মানুষের চিন্তাকে জানিয়ে দেয় তার পৃথিবীতে কতটা মূল্য। আমরা সময় থাকতে বুঝিনা কোনটা মূল্যবান কোনটা মূল্যহীন। মূল্যহীনকে মূল্যবান বানিয়ে আমরা মূল্যবানকে মূল্যহীনের অপবাদ দেই।

তাই বায়োগ্রাফি যার লেখার কথা সে লিখেনা বরং যার লেখার কথা ছিলনা সে লিখে। একসময় কয়লা পুড়িয়ে পুড়িয়ে স্টিম ইঞ্জিন দিয়ে রেলগাড়ি চলতো। সে পোড়া কয়লাটার দহন জ্বালা মানুষ ভুলে গিয়ে এখন বলছে ম্যাগনেটিক ট্রেনটাই ভালো। অথচ সে সময় কয়লা পোড়ানো রেল গাড়িটাই ভালো ছিল। হয়তো অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে। সে সময়ের মানুষগুলো হয়তো নেই, তবে সেই সময়ের মানুষ থেকেই তো এই সময়ের মানুষের জন্ম হয়েছে ক্রমাগত জীবনের উত্থান পতনে। নিজের বায়োগ্রাফি লেখার সময় মানুষ একদিন কি ছিল, কোথায় ছিল, এখন সে কোনো অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে সেটা মনে রাখাটা খুব দরকার।

যেমন কয়লা পোড়ানো রেলগাড়িটা যদি মানুষ হয়, সেই মানুষটাই যখন ম্যাগনেটিক ট্রেন হয়ে যায় তখন তার শেকড়কে ভোলা ঠিক নয়। যে নিজের শেকড়কে চিনে সে কৃতজ্ঞ হয়। বিনম্র হয়। অবনত হয়। তখন বায়োগ্রাফিটা লিখতে কলম আর যান্ত্রিকতা লাগেনা। মানুষের অলৌকিক শক্তি থেকে উত্থিত অদৃশ্য চিন্তার একটা মূল্যবোধ মানুষকে ধাক্কা দেয়। সেখানটায় মায়ের ছেঁড়া আঁচলের কষ্টটা শক্তি হয়ে তর তরিয়ে মানুষের বায়োগ্রাফিটা লিখে যায়। মানুষ যা লিখে তা তো বায়োগ্রাফি নয়। খুব বেশি হলে সেটা একটা কাগজে লেখা নিজের বড়াই, দম্ভ কিংবা অহংকার।

তবে অহংকারের পতন ঘটে। এখন মানুষ বায়োগ্রাফি মানুষের কল্যাণে লিখেনা, নিজের স্বার্থে লিখে। বড় বড় পদ পদবীর লোভে লিখে। ধন-সম্পদের পাহাড় বানাতে বাড়িয়ে চড়িয়ে নিজের গুণকীর্তন লিখে। মানুষ জানে সে যা লিখছে তা সত্য নয়, সে যা লিখছেনা হয়তো সেটাই সত্য। মানুষ যেটা কাগজে লিখছে সেটা যখন মানুষ মন থেকে দেখছে তখন বুঝতে পারছে তার ভিতর আর বাহিরে যোজন যোজন পার্থক্য। মিথ্যেরা এখন খুব নড়েচড়ে বসেছে আর সত্যরা নাকি এখন ঘুমোতে খুব ভালোবাসে। বায়োগ্রাফি একটা কাগজ মাত্র।

একটা কল্পনা মাত্র। যেটা আমি বায়োগ্রাফি বলেছি সেটা একটা উপমা মাত্র। যেটা আমি বলতে চাই সেটা বায়োগ্রাফির পিছনের একটা গল্প মাত্র। কারণ নিজের বায়োগ্রাফি নিজে লেখাটা খুব কঠিন। সেটা সবাই পারেনা। যারা পারে তারাই পৃথিবী বদলে দেয়। কোথায় যেন শুনেছিলাম পৃথিবীতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটলে মানুষ সেটার বিষক্রিয়ায় মারা যাবে। তবে তেলাপোকারা নাকি তখনও বেঁচে থাকবে। কারণ তাদের দেহ পারমাণবিক বিষক্রিয়ার সাথে লড়ে জিততে জানে।

এখানে তেলাপোকারা মানুষের চেয়ে শক্তিশালী। মানুষরা এখানেও অসহায়। একটা একটা অসহায়ত্বের অক্ষর দিয়ে মানুষের বায়োগ্রাফিটা লেখা হলে তা সব পরীক্ষায় পাশ করতে পারে। তবে যারা ফেল করে তারাও তো মানুষ। আর পাশ-ফেল নিয়েই তো জীবন। ফেলের বায়োগ্রাফিটা তাই ফেলে দেবার মতো নয়। যারা পৃথিবীতে একদিন ফেল করেছিল তারাই একদিন পৃথিবীর জীবন্ত ইতিহাস হয়েছে। খণ্ডিত-অখন্ডিত সময় তাই বায়োগ্রাফির অটোগ্রাফ নেবে বলে বসে আছে। যেখানে সব মানুষ, মানুষ নয়। যেখানে মানুষের অপেক্ষায় বসে আছে জয় কিংবা পরাজয়।

news24bd.tv আয়শা 

পরবর্তী খবর

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

রউফুল আলম

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং কিসের উপর ভিত্তি করে হয়?

অনেকগুলো বিষয়কে বিবেচনা করা হয়। তবে প্রধাণত যে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দেয়া হয়-

এক. প্রতি বছর কী পরিমাণ গবেষণা আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত আর্টিকেলগুলোর আন্তর্জাতিক স্কেলে মান। এই আর্টিকেলগুলো কতোবার সাইট করা হয়—মোট সাইটেশন নাম্বার।

দুই. স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত। যেমন, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট-ফ‍্যাকাল্টি অনুপাত হলো ৫:১।

তিন. প্রতি বছর কি পরিমান ডক্টরেট ডিগ্রি দেয়া হয়।

চার. ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও ছাত্র সংখ‍্যা কেমন। দুনিয়ার যেসব প্রতিষ্ঠানগুলো র‍্যাঙ্কে এগিয়ে থাকে তাদের ক‍্যাম্পাসে একটা ডাইভারসিটি দেখা যায়। বহু দেশের স্টুডেন্টরা এসে পড়াশুনা করে। গবেষণা করে।

পাঁচ. আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে কতো সংখ‍্যক স্টুডেন্ট জব পায়, সেটা বিবেচনা করা হয়। এটা মূলত ইঙ্গিত করে যে একটা প্রতিষ্ঠান তরুণদেরকে কেমন মানের যোগ‍্য করে তুলছে। আমি যে বারবার বিশ্বমানের তারুণ‍্যের কথা বলি—এ জন‍্যই। আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে স্টুডেন্টরা পাশ করে বের হয়েই যদি সরাসরি আন্তর্জাতিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোতে চাকরি পায়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলোতে বিশ্বমানের পড়াশুনা ও গবেষণা হচ্ছে।

ছয়. পড়াশুনা এবং গবেষণার মান সম্পর্কিত “একাডেমিক রেপুটেশন” জরিপ করা হয়।

বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের র‍্যাংকিং একই রকম হয় না। অবশ‍্যই কিছু হেরফের হয়। কিন্তু তাই বলে, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি যদি কোন তালিকায় দশম হয় অন‍্য তালিকায় একশো হবে না।


আরও পড়ুন:


 

নাসির আমার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে: পরীমণি

জি-সেভেনের বিবৃতি চীনের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে মারাত্মক হস্তক্ষেপ: বেইজিং

‘আটলান্টিক মহাসাগরে ইরানি নৌবহরের উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন শত্রুরা’

এমন ফ্রি-কিকে গোল মেসির দ্বারাই সম্ভব (ভিডিও)


 

আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে র‍্যাংকিং চিন্তা করার দরকার নেই। একটা প্রতিষ্ঠানকে যদি ইউনিভার্সিটি বলতে হয়, সেটার মৌলিক কতোগুলো ক্রাইটেরিয়া থাকে। আগে তো ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো ঠিক করা চাই। তারপর আসে র‍্যাংকিং নিয়ে চিন্তা।

ক‍্যাম্পাসে গুণ্ডামি, দলাদলি, ছাত্র-শিক্ষক মিলে রাজনীতি, দেয়ালে দেয়ালে নেতা-নেত্রীর পোস্টার-শ্লোগান, শিক্ষক নিয়মে সীমাহীন অনিয়ম, গবেষণার জন‍্য নামমাত্র বরাদ্ধ, শিক্ষকের সংখ‍্যা বিবেচনা না করে গণহারে ছাত্র ভর্তি, ভিসি’দের সেচ্ছাচারিতা, ব‍্যাচেলর পাশ স্টুডেন্টদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ—এগুলো ইউনিভার্সিটি নামধারী কোন প্রতিষ্ঠানে থাকে না।

এগুলো ঠিক-ঠাক না করে, র‍্যাংক-ফ‍্যাংক নিয়ে চিন্তা করার কোন মানেই নাই! আগে তো খুঁটি, নাইলে চাল দিয়ে কি হবে?

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে!

তসলিমা নাসরিন

প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে!

তসলিমা নাসরিন

পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের বড় বোনকে দিদি বলে ডাকে, অথবা না ডাকলেও দিদি মানে কী, তা জানে। মুসলমানদের মধ্যে দিদিকে বুবু ডাকার চল বেশ। 

আমার কিছু উপন্যাসে ছোটবোন বড়বোনকে বুবু বলে ডাকে। 'অপরপক্ষ' এবং 'ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে' -- এই দুটো উপন্যাসিকায় দু'বোনের কাহিনী বর্ণনা করেছি। ছোটবোন নূপুর বড়বোন যমুনাকে বুবু বলে। 

পশ্চিমবঙ্গে আমার ওই দুটো উপন্যাসিকা যারা পড়েছে, তারা অনেকেই আমার সঙ্গে কাহিনী নিয়ে আলোচনা করেছে। আমাকে কিন্তু বারবারই তখন  মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। তারা ভেবেছে, আমার  কাহিনীর চরিত্র তিনজন, নূপুর, যমুনা আর বুবু। 

তারা বুবু যে দিদি জানে না, তারা মনে করে বুবু কারও নাম,  কারণ তাদের অনেকের  ডাক নাম বুবু। দুটো চরিত্রের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকলে ওরা কিভাবে তিনটে চরিত্রের  মধ্যে কথোপকথন চলছে ভেবে নেয়, আমার মাথায় ঢোকে না। 

একজন বললো, তোমার বইয়ে নূপুর একটু ভীরু, যমুনা ততটা ভীরু নয়, তবে বুবু বেশ সাহসী চরিত্র। আমি বললাম, বুবু আবার আলাদা চরিত্র কী করে হলো, যমুনাই তো নূপুরের বুবু, মানে দিদি!  কী বলছো? 

পাঠিকা অবিশ্বাস চোখে আমার দিকে তাকায়, যেন আমি মিথ্যে বলছি। দিদিকে যে বাঙালি- মুসলমানদের অনেকে বুবু ডাকে, এ তোমার জানা নেই? আকাশ থেকে পড়লো পাঠিকা, 

একেবারেই জানা নেই। তোমার রাজ্যের শতকরা তিরিশ ভাগ তো মুসলমান, তাই না? হ্যাঁ। ওদের দাদা দাদি নানা নানি চাচা ফুপা ডাক জানো না, কিন্তু হিন্দি ছবি দেখে তো জানো ডাকগুলো।

আরও পড়ুন:


পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামী নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার

আওয়ামী লীগ কখনও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না: কাদের

পরীমণিকে নির্যাতনের ঘটনায় সংসদে বিচার চাইলেন এমপি হারুন

মামলার এজাহারে যা বলেছেন পরীমণি


তাছাড়া আমার বই যখন পড়ছো, তখন তো বোঝার কথা যে, বড়বোনকে বুবু বলে ডাকা হচ্ছে। অন্য কোনও কালচারের বা ভাষার বই যদি পড়ো তাহলে কি ওদের অনেক কিছুই জানা হয়ে যায় না? কোনও বইয়ে যদি পিটার নাম দেখ, তাহলে কি ভাবতেই হবে, এ তোমাদের কুকুরকে নিয়ে গল্প, যেহেতু তোমাদের কুকুরের নাম পিটার? 

নিজের ছোট্ট গন্ডি থেকে বেরোতে হয় দুনিয়াকে জানতে হলে! অবশ্য প্রতিবেশীকে যে না জানে, দুনিয়াকে কী করে জানবে! আমি কী বললাম পাঠিকা হয়তো বুঝতেই পারেনি। নূপুর আর যমুনার মতো নয়, বুবুর মতো চরিত্র যেন আরও নির্মাণ করি, সেই আশা ব্যক্ত করে বিদেয় নিয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

এমি জান্নাত

স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মরে যায়!

ঘর-সংসার শব্দটা আমরা একসাথে জুড়ে দেই ঠিকই। কিন্তু ঘর আর সংসারের মধ্যে একটা বিস্তর ফারাক আছে বোধহয়।

আমার সীমিত জ্ঞানে ঘর বলতে বুঝি একটা ভালোবাসার ছায়াতলে বসবাস। যেখানে সুখ না থাকলেও শান্তি থাকে। দিন শেষে ফেরার তাড়া থাকে। কিন্তু সংসার নামক বেড়াজালে মানুষ শুধুই আবদ্ধ থাকে দায়িত্ব, ভাঙা গড়ার খেলায় মত্ত সুখের খোঁজে! প্রশান্তিটা এসবের মাঝেই অস্তিত্বহীন হয়ে যায়। ঘর মানে চার দেয়ালের প্রতিটা কোণায় অভিমান, অনুরাগ আর ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন, যেখানে সংসারে চারটা দেয়াল থাকে আর স্যাক্রিফাইস এর বদলে কম্প্রোমাইজ বেশি থাকে। কোথায় একটা লিখেছিলাম, স্যাক্রিফাইস করলে মন বড় হয়, আর কম্প্রোমাইজ করলে মন মরে যায়! সংসারের সবাই হতে পারে, কিন্তু ঘরের কয়জন!

সংসার থেকে পালিয়ে বাঁচা যায়, ঘর থেকে না। মনের বসত তো ঘরেই হয়। দায়িত্ব থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে সৃষ্টি হওয়া মায়া কাটানো বড় কঠিন!

তাই মনে হয়, সব ঘরই সংসার, কিন্তু সব সংসার ঘর হতে পারে কী?

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

রুবাইয়াত সাইমুম চৌধুরী

এতো মন্ত্রণালয় থেকে কী হবে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হচ্ছে ভালো কথা। যুক্তি বোঝা যায়। যেটা বোঝা যায় না সেটা হলো শিক্ষার ব্যাপারে পরিকল্পনা কি?

কিভাবে ভালো ভাবে ক্লাস নেওয়া যাবে অনলাইনে? কোনো নতুন হাল্কা (লাইট) সফটওয়ার কেনা হয়েছে? পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যাপারে কোনো চিন্তা ভাবনা?

অনলাইনে বেশী মানুষকে কিভাবে এনগেজ করা হবে তার কোনো পরিকল্পনা? বিশ্বের অন্যদেশ অনলাইনে কিভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তার কোনো গবেষণা কি হয়েছে?

কিভাবে ছাত্রদের সৃজনশীলতার বাড়ানো যাবে তার ব্যাপারে কেউ কি কিছু ভেবেছে?

অনলাইনে কিউ এস রাংকিং এর অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রাম পার্টনারশিপ করছে। অল্প কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে। বাকিরা?

ছাত্রদের মোটিভেট করতে কোনো মাস্টারপ্লান আছে?

যেহেতু কোনো ফল দেখছিনা তাই ধরে নেওয়া যায় প্রশ্ন গুলোর পজিটিভ উত্তর নাই।

তাহলে এত মন্ত্রনালয় থেকে কি হয়? কি হবে? দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়ে তৈরি, দেশ সেবায় নিয়জিত ক্যাডার সার্ভিসের মানুষজন কি ভাবে শিক্ষার উন্নয়নে তাদের সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন?


আরও পড়ুন:


ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ: মাঠে যাওয়ার সময় আম্পায়ারদের গাড়িতে হামলা

১০ বছরের জেল হতে পারে নেতানিয়াহুর: ইসরাইলি আইনজীবী

এবার ফিলিস্তিনি নারীকে গুলি করে হত্যা ইসরাইলি বাহিনীর

বিয়ের আসরে নকল গহনা, মারামারি পরে ক্ষতিপূরণ রেখে তালাক


আগেও বলেছি করোনার আগের শিক্ষা ব্যবস্থা আর পরেরটা একই থাকবে না। বদল হবে। হবেই।

এই কথা সরকার-মন্ত্রানালয়-শিক্ষক-ছাত্র-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যত দ্রুত বুঝবে ততই মঙ্গল।

news24bd.tv / নকিব

পরবর্তী খবর

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

আনোয়ার সাদী

সাকিবের একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

সাকিবের আচরণ ক্রিকেটের ভাষায় শোভন নয়। তার সাজা হয়েছে । তিনি সাজা মেনে নিয়েছেন। ঘটনা এখানেই শেষ নয়।  সাকিব পরিকল্পিতভাবে ইউকেটে লাত্থি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের এটাই মত। তিনি বল ছোঁড়ার পর বসে আবেদন করেছেন। ফিরে যখন দেখলেন আম্পায়ার আউট দেননি, সাকিব প্রথমে উইকেটে লাত্থি দিয়েছেন, তারপর আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

এই ভিডিও বিশ্লেষন করে একজন বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছেন, হতে পারে সাকিব আগেই ভেবে রেখেছে, LBW সে পাবে না। কারণ আগের সাত ম্যাচে আবাহনীর বিপক্ষে কোনো LBW নাই। 

এখন বিসিবি একটা তদন্ত কমিটি করেছে । তারা সব ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। ’আম্পায়ার’ বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। 
এর মানে হলো বিসিবি অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতি আছে কী না, তা প্রমাণ করার এটা একটা উদ্যোগ। এটাকে একই সঙ্গে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থাকার বেশ ভালো সম্ভাবনার স্বীকৃতি হিসাবেও কেউ কেউ দেখছেন। 

তাহলে জল গড়ালো অনেক দূর। সাকিব ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রকাশ্যে, ক্ষমা চেয়েছেন প্রকাশ্যে, সাজা পেয়েছেন, তা মেনে নিয়েছেন। তিনি কখনো দাবী করেননি, তিনি সিস্টেমকে লাত্থি দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছেন বলে কোথাও দাবী করেননি। আউট দেয়নি বলে তিনি রেগে গেছেন। 

এমনকী ফেইসবুকে ক্ষমা চাওয়ার সময়ও সিস্টেম নিয়ে তার কোনো জোড়ালো বক্তব্য নেই। 
তাহলে প্রশ্ন, একটা অসদাচরণকে প্রতিবাদ হিসাবে সবার মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে কে?

এটা কার বুদ্ধি ? ​

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

আনোয়ার সাদী, সিনিয়র নিউজ এডিটর, নিউজটোয়েন্টিফোর।

news24bd.tv/আলী

পরবর্তী খবর