ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি চাহিদা ৪০ শতাংশ বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক

চলতি অর্থবছরে ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি চাহিদা করোনাপূর্ব সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক পদার্থ, কার্পেট, হস্তশিল্প, সিরামিক ও সুতি উপকরণগুলো চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

বিশ্ববাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান এ পুনরুদ্ধার ভারতের রপ্তানি খাতকে নিয়ে আশাবাদ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন ভারতীয় রপ্তানি সংস্থার মহাপরিচালক।  


মোদির কুশপুত্তলিকা ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়লো ছাত্রলীগ

যদি কিছু ঘটাতে আসেন, বলে দিচ্ছি আত্মহত্যা করবো: ফেসবুক লাইভে কাদের মির্জা

শাল্লার ঘটনায় অনন্তকালের তদন্ত চাই না : জাফরুল্লাহ চৌধুরী

অভাবে গরুর বদলে লাঙ্গল টানছেন দুই বৃদ্ধ


চীন, সিঙ্গাপুর,  জার্মানি ও থাইল্যান্ডে দেশটির ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য চাহিদার বাড়ছে।  এফআইইও আশা করছে ২০২১ অর্থবছরে  ভারতের রফতানি ২৮ হাজার ৫০০ কোটি থেকে  ২৯ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। 

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সূচক বেড়েছে পুঁজিবাজারে

অনলাইন ডেস্ক

সূচক বেড়েছে পুঁজিবাজারে

সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। 

আজ ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে। এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ডিএসইতে ৭২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৬ হাজার ৫১ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে  ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে  অবস্থান করছে ১ হাজার ২৯০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮১ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে ৩৬৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২২০টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টির।

আরও পড়ুন:


স্বাধীনতার মূল শর্ত হচ্ছে বাক, চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা: ফখরুল

এখনও খোঁজ মেলেনি আবু ত্ব-হা আদনানের, যা বলছে পুলিশ

রোনালদোকাণ্ডের পর এবার টেবিল থেকে বিয়ারের বোতল সরালেন পগবা


 

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের উত্থানে লেনদেন চলছে। এই সময়ে সিএসইতে ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

মরিচের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই কৃষকের মুখে

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়

চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে মরিচের আশানুরুপ উৎপাদন হয়েছে। কৃষকরা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে না। এ কারণে মরিচের ন্যায্যমূল্যও পাচ্ছেন না তারা। এ অবস্থায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দিশেহারা তারা। 

চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের মরিচের চাষ করেছেন পঞ্চগড়ের কৃষকরা। গেল বছর নানা রোগের কারণে মরিচের উৎপাদন অর্ধেক হলেও এ বছর ফলন ভাল হয়েছে।

কৃষকরা জানান, গেল বছরের লোকসান পুষিয়ে নেয়ার আশায় এ বছর বেশি জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন তারা। তবে করোনার কারণে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা না আসায় মরিচের বাজারে ধ্বস নেমেছে। এ অবস্থায় লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা তারা।

আরও পড়ুন:


আম্পায়ারের ওপর চড়াও হয়ে লাথি দিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙলেন সাকিব (ভিডিও)

রাজশাহী মেডিকেলে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু

সুযোগ পেলে নায়ক হিসেবে অভিনয় করতে রাজি বেরোবি উপাচার্য কলিমউল্লাহ

পাওনা টাকা না দেওয়ায় প্রায় ৬ কোটি টাকার বাড়ি ভেঙে দিলেন মিস্ত্রি


 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় মরিচের আশানুরুপ ফলন হয়েছে।  এবছর প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হবে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এবছর পঞ্চগড়ে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

আম নিয়েও সফলতার স্বপ্ন দেখছেন দিনাজপুরের চাষিরা

ফখরুল হাসান পলাশ, দিনাজপুর

লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের চাষিরা আম নিয়েও সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। বিশেষ করে নবাবগঞ্জ উপজেলার আম এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অনেক জেলায় সরবরাহ হচ্ছে। 

স্বাদ এবং আকারে ভিন্নতা থাকায় দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে সেখানে উৎপাদিত ফল। এরইমধ্যে সংগঠন করে তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। 

ক্ষিরসাপাত, ল্যাংড়া আম্রপালির পাশাপাশি রংপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় হাড়িভাঙ্গা আমও উৎপাদন হচ্ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। মাটির গুণাগুণের কারনে মানের দিক থেকে অন্য অনেক জেলা থেকে এ অঞ্চলের আম ভালো। তাই বাজারও সম্প্রসারণ হচ্ছে দ্রুত।

চলতি মৌসুমের আম এরইমধ্যে পাকা শুরু হয়েছে। আনাগোনা বেড়েছে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের। এছাড়া অনেক বাগানি অনলাইনে বিক্রি করছেন পণ্য। এতে সফলতাও পেয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:


করোনা: দেশে একদিনে মৃত্যু ছাড়াল অর্ধশতক, বেড়েছে শনাক্তও

পুলিশ বাহিনী আজ জনগণের ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে: আইজিপি

পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা: প্রধান আসামি নাসিরসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার


 

আমের বাজারজাত নিয়ে সমস্যায় আছেন চাষিরা। উপজেলা পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা এর অন্যতম কারণ।

এ বছর উৎপাদন কিছুটা কম হলেও মান ভালো হওয়ায়, কৃষক খরচ পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে দাবি কৃষি কর্মকর্তাদের।

চলতি বছর নবাবগঞ্জে ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান করা হয়েছে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

বিটুমিনের কর কাঠামোতে এক দেশে দুই নিয়মের বৈষম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিটুমিনের কর কাঠামোতে এক দেশে দুই নিয়মের বৈষম্য

সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের অন্যতম উপকরণ বিটুমিনের কর কাঠামোতে এক দেশে দুই নিয়মের বৈষম্য পাওয়া গেছে। এই তথ্য দিয়ে বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আমদানিতে বিশাল ছাড় দিয়ে নজিরবিহীন কর-বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের রাজস্বনীতি দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতির পরিপন্থী। এতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশীয় বিটুমিন শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কর বিদ্যমান থাকলেও, আমদানিতে অনেক কম। বিটুমিন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে অন্যায্যভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বিদ্যমান। অথচ পরিশোধিত বিটুমিন আমদানিতে ভ্যাট নেই। আমদানির বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে যেখানে ভ্যাট মাত্র ৫ শতাংশ, সেখানে দেশীয় উৎপাদকের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের খড়গ রয়েছে। বিটুমিন উৎপাদনে প্রতি টনের কাঁচামাল আমদানিতে খরচ ৫৭০ মার্কিন ডলার হলেও, আমদানিতে তা ২৬০ ডলার। এই বৈষম্যমূলক কর কাঠামো বাতিল করে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও রাজস্বনীতি বিশ্লেষক মনজুর আহমেদ বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর কমাতে হবে। বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা উচিত। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যেহেতু আমদানিতে নেই, তাই উৎপাদনেও রাখা যাবে না। 

এর সঙ্গে আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ বাতিল করতে হবে। কারণ, এই ধরনের কর কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিওর নিয়মনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন-এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, অগ্রিম আয়কর বা এআইটি দিয়ে ব্যবসার পরিচালন খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি আগে ছিল বাণিজ্যিক আমদানিতে। এখন কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর বা এটি আরোপ করা হয়েছে, এটা প্রত্যাহার করা উচিত।

তার মতে, যেখানে তৈরি পণ্য আমদানিতে ভ্যাট নেই, সেখানে উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ অযৌক্তিক ও অন্যায়। দেশীয় বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও অপ্রত্যাশিত।

তথ্যমতে, দেশে এখন বিপুল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। সড়ক ব্যবস্থা প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। টেকসই সড়ক নির্মাণের মূল উপাদান হলো- ভালো মানের বিটুমিন। দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন। যা অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছরই বাড়ছে।

জানা যায়, বিটুমিনের ব্যবহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ, বিমানবন্দরের রানওয়ে নির্মাণসহ ফুটপাথ তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এ ছাড়াও নহর তৈরিতে বা ট্যাংকের ভিতর প্রলেপ হিসাবে, নদী বা সমুদ্রের কিনারে তটরক্ষক হিসেবে ও নৌকার তলদেশে প্রলেপরূপে বিটুমিনের ব্যবহার হয়। ভারী শিল্পেও এর ব্যবহার হয়। এটি বিদ্যুৎরোধকের কাজেও যুক্ত করা হয়। ইন্সুলেটিং টেপ, পানিরোধী কাপড় ইত্যাদি কাজেও বিটুমিন ব্যবহার হয়। বার্নিশ, অয়েল পেইন্ট, রাবার এনামেলের বিকল্প ও কোল্ড স্টোরেজ, ইলেকট্রোনিক ব্যাটারি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।  

জানা যায়, বিটুমিন উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস অ্যান্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, ক্রুড। যার এইচ এস কোড : ২৭০৯.০০.০০। এই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ। এই কর কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়- ৫ শতাংশ সিডিসহ মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেলের ট্যারিফ মূল্য ৪০ মার্কিন ডলার নির্ধারিত আছে।

অন্যদিকে দেশে এইচ এস কোড ২৭১৩.২০.১০ এবং ২৭১৩.২০.৯০ এর মাধ্যমে ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানি হয়ে থাকে। ড্রামে বিটুমিন আমদানিতে প্রতি টনের শুল্ককর নির্ধারিত আছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ এবং আগাম কর বা এটি ৫ শতাংশ। অপরদিকে অন্যান্য বিটুমিন নামে যদি কেউ বাল্ক আকারে আমদানি করে, সে ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আমদানি শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে এআইটি ২ শতাংশ এবং এটি ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হয়।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিটুমিন আমদানির চেয়ে উৎপাদনে বাড়তি কর আরোপ, দেশীয় শিল্পের স্বার্থবিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতিরও পরিপন্থী। দেশীয় শিল্পের সঙ্গে এই বৈষম্যমূলক কর কাঠামো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সংশোধন করা উচিত। কারণ, শিল্পের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের।  এদিকে ফিনিশড বা তৈরি বিটুমিন আমদানিতে মূল্য ঘোষণায় কারসাজির তথ্য পাওয়া গেছে।

কাস্টমস সূত্র বলছে, অসাধু আমদানিকারকরা আন্ডার ইনভয়েসিং বা দাম কম দেখিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বিটুমিন ভর্তি ড্রাম খালাস করেন। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে শুল্কফাঁকি। বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাস্তা নির্মাণে ব্যবহৃত বিটুমিন আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা থামছে না। ভেজাল বিটুমিন আসছেই, নীরব কাস্টমস। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা হচ্ছে বিটুমিন, রাজস্ব ফাঁকি ধরাছোঁয়ার বাইরে। কার্যত বিটুমিন আমদানির পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ। বিএসটিআই, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও বুয়েটের অনুমোদন ছাড়াই বিটুমিন আসছে দেশে। চট্টগ্রাম বন্দরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেগুলো ছাড়পত্রও পেয়ে যাচ্ছে।  

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-সিসিসিআই সভাপতি ও বিটুমিন আমদানিকারক মাহবুবুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর দেখে কাস্টমসকে বিটুমিনের শুল্কায়ন করতে হবে। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কাস্টমসের নজরদারি রাখতে হবে। দেশে যেহেতু উন্নত মানের বিটুমিন উৎপাদন হচ্ছে, তাই আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে।

জানা যায়, এতদিন স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিটুমিনাস ক্রুডের চেয়ে পরিশোধিত বিটুমিনের আমদানি শুল্ক কম রাখা হতো কেবলমাত্র স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু বর্তমানে গুণগতমান সম্পন্ন বিটুমিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা বিবেচনায় আমদানি শুল্ক কাঠামো স্থানীয় শিল্পবান্ধব করে পুনরায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে দেশীয় শিল্পকে রক্ষার্থে এ ধরনের নীতি আমাদেরও অনুসরণ করা উচিত। এদিকে আমদানি হওয়া ফিনিশড বিটুমিন এবং দেশীয় উৎপাদিত বিটুমিনের স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ের বৈষম্যমূলক চিত্রের দেখা মিলেছে।

ড্রাম ও অন্যান্য বিটুমিন আমদানিতে কোনো অগ্রিম ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর-মূসক পরিশোধ করতে হয় না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যসমূহ ‘মূল্য সংযোজন কর’ অব্যাহতি প্রাপ্ত। মূল্য সংযোজন কর ও স¤পূরক শুল্ক আইন-২০১২-এর তৃতীয় তফসিল টেবিল-১ অনুযায়ী, বাল্ক বিটুমিন আমদানিতে স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ১৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট প্রযোজ্য, যা সরবরাহ পর্যায়ে সমন্বয়যোগ্য। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত। ফলশ্রুতিতে আমদানি হওয়া বিটুমিনের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনের উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতার কারণে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না।

জানা যায়, দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উৎপাদিত বিটুমিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ন্যূনতম শুল্ক ও ভ্যাট বিদ্যমান থাকায় কিছু সংখ্যক আমদানিকারক স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানি খাতে দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর খাতে রাজস্ব আয় বিঘ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে চলতে থাকলে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে প্রথম বিটুমিন অ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপিত হয়েছে। যা দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানিতে সক্ষম। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশীয় সিমেন্ট শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে বাল্ক সিমেন্ট আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশ ডিউটি আরোপ করে সিমেন্ট শিল্পকে রক্ষা করেছেন। ঠিক তেমনিভাবে নিম্নমানের বিটুমিন আমদানির ওপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর আরোপ করা হলে দেশীয় প্রিমিয়াম মানের বিটুমিন শিল্প বিকশিত করার পথ প্রশস্ত হবে।

আরও পড়ুন:


ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে যা জানালেন পরীমণি

নেইমার জাদুতে কোপায় উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের জয়

চতুর্থ বিয়ের মধুচন্দ্রিমায় পাহাড়ে যেতে চান শ্রাবন্তী?


news24bd.tv / কামরুল 

পরবর্তী খবর

লকডাউনে রাজশাহীতে আমের বাজারে ধ্বস, আসছেন না পাইকাররা

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

রাজশাহীর আমের খ্যাতি আছে দেশজুড়ে। এখন আমের ভরা মৌসুম। এ অঞ্চলে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারী ব্যবসায়ীরা আসছেন না। 

রাজশাহীতে চলছে বিশেষ লকডাউন। যার প্রভাব পড়েছে আমের দামেও। রাজশাহীর বানেশ্বরে বসে উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট। সারাদেশের আম ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী আম কেনাবেচার মোকাম হিসাবে পরিচিত। 

প্রতি বছর এ সময় পাইকারদের ভিড়ে জমজমাট থাকে হাট। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। করোনার কারণে আগের মতো ব্যবসায়ীরা হাটে না আসায় স্থানীয় ক্রেতারায় ভরসা।

আমের দাম না পেয়ে হতাশ রাজশাহীর বাগান মালিকরা। তাদের দাবি, টানা খরার কারণে এ বছর আমের কাঙ্খিত ফলন তারা পাননি। এরপর করোনার কারণে বাইরের ব্যবসায়ীরা না আসায় ঠিকমতো বিক্রিই করতে পারছেন না বাগানের আম। রাজশাহীতে চলতে থাকা বিশেষ লকডাউন প্রভাব ফেলেছে আমের দামে।

আরও পড়ুন:


করোনা: ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত-মৃত্যু দুটোই বেড়েছে

বাংলাদেশসহ ২৬ দেশের ওপর পাকিস্তানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

কোনো অবস্থাতেই ভারত থেকে যেন কোরবানির পশু না আসে: এলজিইডি মন্ত্রী


 

আমের দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি পাচ্ছেন বাগান মালিকরা, দাবি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের। আর করোনা ভীতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আম প্যাকেট ও সরবরাহের পরামর্শ ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার।

এ বছর রাজশাহী জেলায় ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। যা অর্জন হবে দাবি, কৃষি বিভাগের।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর