এফএম গুলো তোমাদের লজ্জাহীন জয় হোক

ফাহমিদা নবী

এফএম গুলো তোমাদের লজ্জাহীন জয় হোক

ফাহমিদা নবী

আমাদের রেডিও এফএম- এর আরজে (রেডিও জকি)-রা এবং যারা রেডিও গুলো পরিচালনার দায়িত্বে আছেন তাদের বলছি। আমাদের রেডিও বলছি, কারণ এই রেডিও গুলো আমাদের দেশেরই।

অন্য দেশের নয়। তাই নিজের পরিবার মনে করি বলে, আমাদের রেডিও বলছি। “তোমরাই কিন্তু আমাদের গান পছন্দ করোনা। তোমরাই কিন্তু আমাদের গান সত্যি পছন্দ করোনা”। বুঝিয়ে দিয়েছো।

শ্রোতাদের দোষ দিওনা। শ্রোতাকে বোকা বানিওনা। শ্রোতারাই অবাক বিস্মিত ! আর আমি এবং আমরা শিল্পীরা। আমাদের শ্রোতা নিয়ে গর্বিত। অনেকদিন রেডিও এসব কারণে শুনিনা। আজ রেডিও শুনতে গিয়েই ঝামেলাটা হলো!

কারণটা আর বারবার বলতে লজ্জা লাগে। বাংলাদেশের কোন শিল্পীদের গানই ভালোনা। ইন-ডায়রেক্টলি বলে দিচ্ছ, বুঝি...!হাস্যকর! অশিক্ষিত মনোভাব। এমন মাধ্যম নিয়ে কাজ করো, ভাবোনা কেন নিজেস্বতা নিয়ে? ভয় করোনা কেন? সম্মানের ভয় করোনা কেন?

আর পারিনা তোমাদের নিয়ে। অবশ্য পারতেও চাই না। নীতিতে বাঁধে তাই বলা। মানো আর নাই মানো ছোট থেকে গানের সাথে বসবাস তাই  বল্লাম আজ আবার, জানি কোন লাভ নাই। তারপরও বলা!

বাইরের দেশের গান বাজতেই থাকে এবং গান শেষ হবার পর মন্তব্য শুনে ভাষা হারিয়ে ফেলি। এতো মুগ্ধতা প্রকাশ , সত্যি তো অন্য দেশের গানের সুর ,কথা ,তাদের সুরের কম্পোজিশন, সব ভাল ।অপূর্ব তাদের গায়কী! আহা কি বর্ণনা!

মন্দ শুধু নিজেদের দেশের গান হাহাহা...!জ্যামের রাস্তায় রেডিও শুনি।ভাবি একটু ভাল সময় কাটবে! কিন্তু হয় উল্টোটা। টানা অন্য দেশের গান বাজতেই থাকে। শুনতে ভালোই লাগ তাইনা!? কারণা তারা সুরে গান গায়। কথা ভাল শ্রোতারা বুঝতে পারে। 

আর আমাদের দেশের গানের কথা কঠিন, কথা ভালোনা, সুর পচা, ভালোই না
কি দারুন, কি সুখ, কি মজা। আমরা কষ্ট করি আর দেশে বসে অন্য দেশের গানের প্রচার!!!!! 

প্রচারেই প্রসার, সাধু সাধু... ধন্য।কিছু বলার নাই। ভালো ভালো যা ইচ্ছা তাই করো। দায়িত্ব শেখানো যায়না।  আমার বাবা মা বলেননি কখনো এটা করতেই হবে।ওটা করোনা। কিন্তু শিখে গ্যাছি দেখেই, দেশ, মাটিকে ভালবাসতেই হয়।ভালবাসি শ্বাশত সত্য। বোধ শেখানো যায়না, সেটা নিজেস্বতা।

ধন্যবাদ রেডিও এফএম গুলো, তোমাদের লজ্জাহীন জয় হোক।

আমরা একটুও লজ্জা পাচ্ছিনা।

সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী 

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সক্রেটিস আইন মেনে মরলেন, রফিকুল আইন মানেন না

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

সক্রেটিস আইন মেনে মরলেন, রফিকুল আইন মানেন না

কোনো কোনো গ্রেফতারের ঘটনায় আমি ক্ষুব্ধ হই ও দু:খ অনুভব করি। বিনা কারণে গ্রেফতারের পর রাজনৈতিক নেতাদের গাড়ি পোড়ানো, বোমা তৈরি অথবা এ ধরনের মামলায় আসামি করার ঘটনায় আমি বিস্মিত হই। পুলিশী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ‘রিমান্ড,’ ‘ক্রসফায়ার,’ ও ‘এনকাউন্টার’ জাতীয় শব্দগুলো শুনলে ভীত হই। আমি জানি, আমার ‘ক্ষোভ’, ‘বিস্ময়,’ ও ‘ভীতি’তে কোনো কিছুর পরিবর্তন ঘটবে না। যেভাবে যা চলছে, তা চলতেই থাকবে। আমার মাঝে বৈপরীত্যও আছে। কোনো কোনো গ্রেফতারের ঘটনায় আমি বিরল আনন্দও লাভ করি। 

সাম্প্রতিককালের একটি গ্রেফতারে আমি খুশি হয়েছি। সেটি ছিল ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানির গ্রেফতার। তার বয়স ২৭ বছর হলেও তিনি খর্বাকৃতির। ‘গ্রোথ হরমোনের’ ঘাটতির কারণে তার দেহের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটেনি। এতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। সৃষ্টিকর্তা তাকে এভাবেই পৃথিবীতে আনতে পছন্দ করেছেন। তার গ্রেফতারে আমার খুশি হওয়ার কারণ, ধর্মীয় সমাবেশে তার বক্তৃতায় উস্কানিমূলক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ কথাবার্তা। 

আমি সাধারণত কোনো ধর্মীয় বক্তৃতা শুনি না। শৈশবে দাদার হাত ধরে দু’একটি ধর্মসভায় গেছি, ওই পর্যন্তই। তবে এখন মোবাইল সেট হাতে থাকলে স্ক্রল করার সময় অনেক কিছুর সঙ্গে ধর্মনিষ্ঠদের আপলোড করা ভিডিও থাকে এবং বিনোদনমূলক হলে সেসব ভিডিও দেখতে কয়েক মিনিট ব্যয় করি। এভাবেই রফিকুল ইসলামের বক্তৃতার সঙ্গে কিছুটা পরিচয় হয়েছে। আমি তার কিছু জ্বালাময়ী কথা শুনেছি; যেমন: “কিসের সংবিধান, কিসের প্রেসিডেন্ট, কিসের প্রধানমন্ত্রী? আমি সংবিধান মানি না, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী মানি না। আমার সংবিধান কোরআন, আমার প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ইত্যাদি।” তার বক্তৃতা শুনে শ্রোতারা হর্ষধ্বনি তোলো, আল্লাহ-রাসুলের শানে শ্লোগান দেয়। 

রফিকুল ইসলামের পুরো বক্তৃতায় হয়তো এ ধরনের আরও উত্তেজনাপূর্ণ অবান্তর কথাবার্তা রয়েছে। আমার শোনা হয়নি। রফিকুল ইসলাম ছাড়াও আরও কিছু ধর্মীয় বক্তার বক্তৃতায় একই ধরনের ধৃষ্টতামূলক কথা শুনেছি। কাফির, মুশরিকদের হত্যা করার কথা পর্যন্ত উচ্চারিত হয় তাদের কথায়। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এমন বচন যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। বক্তৃতা না শুনলেও আমি ধর্মবিষয়ক প্রচুর গ্রন্থ পাঠ করেছি, এখনো করি। আমি এক সময় বাইবেল স্টাডিজের ছাত্র ছিলাম এবং তিন বছর পড়াশোনার পর পুরস্কৃত হয়েছিলাম। আমি বিভিন্ন ধর্মের অভিন্ন বক্তব্য সততা, অহিংসা, মানবিকতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা থেকে উপকৃত হয়েছি। কিন্তু রফিকুল ইসলাম বা তার মতো অন্যান্য তথাকথিত ধর্মীয় নেতাদের বক্তব্য ও আচরণ আমাকে ব্যথিত করে। 

এসব বক্তা ছাড়াও আমি এমন অনেক নামাজী মানুষকে দেখেছি, যারা বেনামাজীদের মানুষ বলেই মনে করে না। বলা যায় তাদের আচরণেই আমার যৎসামান্য ধর্মচর্চাও ব্যাহত হয়েছে। কিন্তু ওইসব তুখোড় ধর্ম চর্চাকারীদের অনেককেই ধর্মের পথ ছেড়ে দিতেও দেখেছি। অপরদিকে ধর্মে অবিশ্বাসী অনেক কমিউনিষ্টকে দেখেছি, যারা অতি বিনয়ী, পরোপকারী, মৃদুভাষী। 

“বারো হাত বাঙ্গির তেরো হাত বিচি” হলে যা হয় সম্ভবত রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে তাই প্রযোজ্য। ছোটো বেলায় শুনতাম “খাটো মানুষ পয়গম্বের দুশমন।” আমি তা মনে করি না। রফিকুল ইসলাম শুধু খাটো নন, তার দাড়ি গোঁফও গজায়নি। এ ধরনের লোককে আমরা ‘মাকুন্দ’ বলি। এটাও হরমোনগত কারণে হয়। অসামঞ্জ্যপূর্ণ কিছু দেখলেই সেটি নিয়ে হাস্য-পরিহাস করা মানুষের স্বভাব। অতএব খর্বাকৃতি বা মাকুন্দ, টাকমাথা মানুষ দেখলে অনেকে মজা নেওয়ার চেষ্টা করে। যদিও আমরা ‘বাল্যশিক্ষা’য় পড়েছি, “কানাকে কানা ও খোড়াকে খোড়া বলিও না, তাহা হইলে তাহারা মনে কষ্ট পায়।” 

কিন্তু তারা কষ্ট পেলেও আমরা বলি। শুধু আমরাই বলি তা নয়। মহাভারতের কাহিনিতেও দেখা যায় প্রচন্ড শক্তির অধিকারী ‘ভীম’ এর দাড়ি-গোঁফ ছিল না বলে কর্ণ তাঁকে “মাকুন্দ” বলে রসিকতা করতেন। খনার বচনেও দেখা যায়, “যদি দেখ মাকুন্দ চোপা/এক পা যেও না বাপা।” কবি শামসুর রাহমান তাঁর ‘আমার একজন প্রতিবেশী’ কবিতার এক স্থানে বলেছেন, “সেদিন দেখলাম চৌরাস্তায় একজন স্যুট পরা মাকুন্দ/গবাগব গিলছে সংস্কৃতির শালপাতা।” অতএব এসব গায়ে না মেখেই ওই সমস্ত বৈশিষ্টধারী লোকজনকে চলতে হবে। রফিকুল ইসলামের কথামালায় আকৃষ্ট মানুষের সমাগমে সমাবেশ উপচে পড়লেই তার বা মঞ্চে উপবিষ্টদের বুদ্ধিভ্রমের কারণ না ঘটলেই ভালো। 

“সংবিধান মানি না, আইন মানি না” -- এইসব কী? তাকে যারা আমন্ত্রণ করেন তারা তো প্রথমেই সংবিধান অনুযায়ী তৈরি আইনের অধীনে সমাবেশ অনুষ্ঠানের অনুমতি নেন। সমাবেশ করা সংক্রান্ত আইনে উল্লেখ করা আছে কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না। এই অঙ্গীকার করে সমাবেশ আয়োজনের পর যদি কেউ বলে সংবিধান মানি না, অমুক অমুককে মানি না, তাহলে প্রশাসনের এখতিয়ার রয়েছে সমাবেশ বন্ধ করে দেওয়ার। অনেক ক্ষেত্রে তা হয়েছে। কিন্তু ধর্মের নামে দুর্বল লোক প্রশাসনের মধ্যেও থাকতে পারে। তারা আল্লাহওয়ালা লোকের সাথে লাগতে চায় না। তাদের অনেকে ঘুষ খায়, অন্যবিধ অন্যায়-অনাচার করে, অতএব তারাও তাদের দুর্বলতাও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণ হতে পারে। 

ব্যক্তিগতভাবে রফিকুল ইসলামকেও দেশের আইন মেনে মাদ্রাসার উচ্চতর ডিগ্রি হাসিল করতে হয়েছে। খবরে পড়েছি তিনি একটি মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করেছেন। মাশাআল্লাহ! আইন অনুসরণ করেই তা করতে হয়েছে। দেশের সংবিধান কারও পছন্দ না হতে পারে, সরকারকে পছন্দ না হতে পারে। সংবিধান বা সরকারের প্রতি ক্ষোভ পোষণ ও সমালোচনা করা, এমনকি তা পরিবর্তন ও সংশোধনের কী কৌশল হতে পারে সেসব নিয়ে কথা বলা এক বিষয়, প্রকাশ্যে উস্কানি দেওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।  

আইন কেন মানতে হবে, তা জানার জন্য উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ধর্মীয় অথবা অন্যান্য নেতাদের সক্রেটিসের দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহবান জানাই। মহামতি সক্রেটিস এথেন্সবাসীকে অজ্ঞানতা কাটিয়ে জ্ঞান অন্বেষণ করতে বলতেন, যা অনেক প্রভাবশালী, তাদের প্রতিপত্তি ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা হিসেবে দেখেন। সক্রেটিসকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। প্রভাবশালীরা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম বিরোধিতা ও তরুণদের বিভ্রান্ত করার আনেন এবং সিনেট তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেয়। তাঁর বন্ধু ক্রিটো এবং শিষ্য প্লেটো তাঁকে পরামর্শ দেন কারাগার থেকে পালিয়ে যেতে। 

পলায়নে তাঁকে সহায়তা করার জন্য তাঁর যথেষ্ট অনুসারী ও গুণমুগ্ধ রয়েছে বলেও জানান ক্রিটো। কিন্তু সক্রেটিস তাদের কথায় কান দেননি। তাঁর কাছে আইন মহান এবং সবসময় ন্যায়সঙ্গত। হয়তো শাসকের কারণে আইনের অন্যায় প্রয়োগ হয়। শেষ পর্যন্ত প্লেটোও তাঁর ওস্তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে আইনের অন্যায় প্রয়োগের সঙ্গে সমঝোতা করেছেন। সক্রেটিসের মতে, রাষ্ট্র গড়ে ওঠে আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর। তা না হলে সকল আদর্শ, সত্য এবং যা কিছু তাঁর প্রিয় সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে গিয়ে সক্রেটিসকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।  সক্রেটিস করাগার থেকে পালানোর পরামর্শকে অগ্রাহ্য করার যুক্তি হিসেবে বলেছেন, তিনি যদি পলায়ন করেন তাহলে সমগ্র এথেন্সবাসীর কাছে এথেন্সের আদালতের কর্তৃত্ব ও গণতান্ত্রিক সরকারের কর্তৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করা হবে। এথেন্স সক্রেটিসকে আশ্রয় দিয়েছে, তাঁকে শিক্ষিত করেছে, তাঁর পরিবারের দেখাশোনা করেছে, হামলাকারীদের অভিযান থেকে তাঁকে রক্ষা করেছে, তখন তো তাঁর কোনো অভিযোগ ছিল না। এখন তাঁর নিজের জন্য প্রতিকূল অবস্থা সৃষ্টি হযেছে বলে তিনি কেন এথেন্সকে ধ্বংসের উদ্যোগ নেবেন? তিনি বলেছেন, “আমাদের যদি পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা হয় সমাজ ত্যাগ করতে পারি, বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি, অথবা রাষ্ট্রের কাছে অপরাধী বিবেচিত হলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে মেনে নিতে পারি।  একজন সৎ মানুষ ও সুনাগরিকের জন্য এই বাইরে আর কিছু করণীয় নেই।”     

সক্রেটিস ও প্লেটোর কাছে আইন এক ধরনের বিমূর্ত ধারণা, যার প্রতিনিধিত্ব করে একটি আসন। এ আসন শুধু বসার জন্য একটি আসন নয়, এটি যে আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও সংরক্ষিত একটি আসন, সে উপলব্ধি মাথায় থাকতে হবে। অতএব “কোনো কিছু মানি না, কাউকে মানি না, অমুককে হত্যা করতে হবে” ইত্যাদি বলার আগে ভাবতে হবে যে আমি কোথায় বাস করছি, আমার এখতিয়ার কতটুকু, সংবিধান ও আইন কী বলে। সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেছে বলাটাই যথেষ্ট নয়। তা প্রমাণ করতে হবে আন্দোলনের মাধ্যমে অথবা পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করে। কীভাবে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার চেয়ে বড় কথা হলো, একটি সরকার ক্ষমতায় আছে। ক্ষমতায় থাকা সম্পর্কে কোরআন কী বলেছে: “তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল,” (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ২৬)। ধর্মনিষ্ঠরা এটুকু মানলেই যথেষ্ট। 

নেতৃত্বের যোগ্যতা সম্পর্কেও কোরআনে কী বলা হয়েছে রফিকুল ইসলামের মতো আকৃতিতে খাটো ব্যক্তি ও তার অনুরাগীরা স্মরণ রাখলে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এবং সামষ্টিকভাবে তার ভক্তকূল উপকৃত হবেন। সুরা বাকারার ২৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তাঁকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে যথেষ্ট জ্ঞান (ইলম) ও দৈহিক শক্তি (জিসম) দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন।” (ক্বালা ইন্নাল্লা-হাছ্ তোয়াফা হু ওয়াজা-দাহ বাসতোয়াতান ফিল ইলমি ওয়াল জিসম)। এটি যদিও রাজ্য শাসন সংক্রান্ত, কিন্তু যে কোনো পর্যায়ে নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমি আমার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। আশির দশকের সূচনায় মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজজি হুজুর রাজনীতিতে অবতীর্ণ হলেন। যদিও তিনি ইত:পূর্বে রাজনীতি বিমুখ ছিলেন। তখন তিনি বৃদ্ধ, বয়স ৮৫ বছর। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি জয়ীফ, অতিবৃদ্ধ। অন্যের সহায়তায় দাঁড়ান, অন্যের সহায়তায় আসন গ্রহণ করেন। উর্দু বাংলা মিশিয়ে যা বলেন তা বোঝা যায় না, বেশির ভাগ সময় শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক তাঁর কথা ব্যাখ্যা করেন। এমন একজন লোক হবেন বাংলাদেশের নেতা, যিনি বাংলাদেশে ইসলামী খেলাফত কায়েম করবেন। তিনি ‘বটবৃক্ষ’ মার্কা নিয়ে ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। 


সৌদিতে রোজা শুরু মঙ্গলবার

মাওলানা রফিকুল মাদানীর নামে আরেকটি মামলা, আনা হলো যেসব অভিযোগ

দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত ৫ হাজার ৮১৯ জন


বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে দেশে ইসলামী শাসন কায়েম করতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে আমি শেখ সা’দীর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ “গুলিস্তান” এর একটি কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিতে চাই: “লাঠি ছাড়া ওঠে দাঁড়াতে পারে না যে বৃদ্ধ/কী করে তার নিজের লাঠি দাঁড়াবে? ”(An old man who can not rise without the aid of a stick, How can his own stick rise.)

একটি দিকে হাফেজজি হুজুরের চেতনা অত্যন্ত টনটনে ছিল। সাংবাদিক সম্মেলন বা জনসমাবেশে যখনই ফটো সাংবাদিকরা ফটো তুলতে শুরু করতো তিনি মুখের ওপর দ্রুত চাদর টেনে দিতেন। যাতে ফটো সাংবাদিকরা তার জান্নাতি চেহারা ধারণ করে তাকে হুরে জান্নাতদের সাহচর্য লাভের সম্ভাবনায় কোনোরূপ ব্যাঘাত না ঘটায়। তার এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমি সুরা বাকারার ২৪৭ নম্বর আয়াতটি মুখস্থ করে গেলাম, দেখি তিনি কী উত্তর দেন। দু’একজন রিপোর্টার প্রশ্ন করার পর আমি বিনয়ের সঙ্গে আয়াতটি পাঠ করে কোরআনের আলোকে হাফেজজি হুজুর দল বা দেশের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্য কিনা জানতে চাইলাম। হুজুরকে সব প্রশ্নই একজন কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে দেন। 

আমার প্রশ্নে উপস্থিত হাফেজজি হুজুরের গুণমুগ্ধ অন্যান্য আলেমে-দ্বীনদের একটু বিব্রত বলে মনে হলো। যিনি হাফেজজি হুজুরের কানে প্রশ্ন তুলে দেন, আমার প্রশ্নটি তিনি তাঁকে বলছেন না দেখে আমি পুনরায় আয়াতটি উচ্চারণ করে উত্তর জানতে চাইলাম। আমার ঠিক পাশেই ছিলেন শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক। তার সঙ্গে আমার বেশ পরিচয় ছিল। তিনি আমার হাতে চাপ দিয়ে হাসলেন এবং হুজুরের বদলে তিনিই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তার ব্যাখ্যাও যথাযথ ছিল বলে আমার মনে হয়নি। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা বা জ্ঞান অতি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এমনকি নামাজে কে ইমামতি করবেন, সে সম্পর্কে ইসলামে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে।

“ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু মানি না,” “কোরআনের আইন চাই,” শুনতে শুনতে জীবনের সপ্তম দশকে পৌঁছে গেছি। “নয় মণ ঘিও জুটবে না, রাধাও নাচবে না।” বাংলাদেশ কোনো ইসলামী রাষ্ট্র নয়। এখানে আল্লাহর আইন কায়েম নেই। কেউ কোরআন মানলো না, আল্লাহ অস্তিত্ব মানলো না অথবা নবী মুহাম্মদকে (সা:) শেষ নবী বলে মানবো না বলেই কী ধর্মীয় সমাবেশ থেকে তাকে হত্যা করার ঘোষণা দিতে হবে? সেই ঘোষণা মেনে কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে হত্যাও করে সেক্ষেত্রেও তো শেষ পর্যন্ত তো রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত সরকার, বিচার ব্যবস্থার ওপরই দায়িত্ব পড়বে হত্যার তদন্ত ও বিচারের। অতএব কথিত ওয়ায়েজিন, তারা যে আকৃতিরই হোন না কেন ইসলাম চর্চার মাধ্যমে মানুষকে সৎ ও বিনয়ী করে তোলার জন্য নসিহত খয়রাত করলে সেটি তাদের আখিরাতের কল্যাণে কাজে লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছেন। তাঁকে নিশ্চয়ই রিমান্ডেও নেওয়া হবে। রিমান্ডে তথ্য আদায়ে আসামীদের পশ্চাদদেশে কী সব প্রবিষ্ট করানোর, মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেওয়া বা লাল পিঁপড়া ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা শুনি। রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রে ওই ধরনের কিছু না করাই সঙ্গত হবে। আল্লাহ তাকে খর্বাকারে পৃথিবীতে এনেই যথেষ্ট শাস্তি দিয়েছেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সিনিয়র সাংবাদিক (ফেসবুক থেকে নেওয়া)

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কোভিড কেবল জনস্বাস্থ্য নয়- জন নিরাপত্তারও বিষয়

শওগাত আলী সাগর

কোভিড কেবল জনস্বাস্থ্য নয়- জন নিরাপত্তারও বিষয়

সত্যি বলতে কি গত এক বছরে  একবারও এইভাবে ভাবার চিন্তা মাথায় আসেনি। টরন্টো পুলিশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান জেমস র‌্যামারের স্টেটমেন্ট পড়ার পর মনে হলো- আরে- এটাও তো একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

জেমস র‌্যামার বলছেন, ’কোভিড-১৯ কেবল জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি জননিরাপত্তারও  বিষয়। আমাদের কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখার  ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ভূমিকা এবং দায়িত্ব আছে।’

আমরা এতোদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই কেবল ‘জননিরাপত্তা’ হিসেবে ভাবতাম। পুলিশ প্রধান জেমস র‌্যামার কোভিড মহামারীকে ’পাবলিক সেফটির কমপোন্যান্ট’ হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছেন।

অন্টারিওতে এখন ‘স্টে অ্যাট হোম’- ‘ঘরে থাকো’ নির্দেশের আওতায় আছে। জরুরি নয়- এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান পাট বন্ধ আছে। জরুরি না হলে ঘরের বাইরে না যেতে বলা হচ্ছে। বাড়ির বাইরে পাঁচজনের বেশি একত্রিত হওয়া যাবে না- এই ধরনের নির্দেশনা আছে।

পুলিশ বলছে, রেস্টুরেন্ট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- কারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না- সেটি তারা দেখতে শুরু করবে। কোথাও পাঁচজনের বেশি সমাগম হযেছে- এমন অভিযোগ পেলে পুলিশ সেখানে ছুটে যাবে এবং টিকেট (আর্থিক দণ্ড) দেবে অথবা তাদের নামে সমন জারি করবে।

ইমার্জেন্সী ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সিভিল প্রোটেকশন অ্যাক্ট এবং রিওপেনিং অব অন্টারিও অ্যাক্ট এর আওতায় ’স্টে অ্যাট হোম’ নির্দেশনা না মানার জন্য নাগরিকদের অর্থদণ্ড দেওয়া যায়। তবে পুলিশ নিজে সেটা পারে না।তাকে এই কাজটি করতে হয়, সিটির প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে। তা হলে পুলিশ কিভাবে শাস্তি দেবে?

পুলিশ প্রধান জানাচ্ছেন, পুলিশ কর্মকর্তার যদি বিশ্বাস করার কারণ ঘটে কোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করছেন, তা হলে তিনি ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইবেন।

কেউ যদি পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান, তা হলে পুলিশ তাকে ‘পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে’ গ্রেপ্তার করতে পারবেন। আর ভালো ভালোয় পরিচয় প্রকাশ করলে (পরিচয় প্রকাশ করা মানে হচ্ছে নিজের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র দেখানো) পরবর্তীতে নিয়ম মেনে টিকেট ইস্যু করা যাবে।

কোভিডের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই। কোভিডকে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি জননিরাপত্তার বিষয় হিসেবে ভাবাটা জরুরি। সবার ক্ষেত্রেই এটি জরুরি।

শওগাত আলী সাগর, প্রধান সম্পাদক, নতুনদেশ, কানাডা।

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দুঃখ লুকাতে পারা একটা শিল্প

রাউফুল আলম

দুঃখ লুকাতে পারা একটা শিল্প

দুঃখ লুকাতে পারা একটা শিল্প। কষ্ট লুকাতে পারা একটা শিল্প। 

যন্ত্রনা লুকাতে পারা একটা শিক্ষা। একটা যোগ্যতা। একটা আর্ট। একটা অর্জন। 

সফলতার জন্য সাহস লাগে, শ্রম লাগে, ধৈর্য লাগে। তারচেয়ে অনেক বেশি সাহস ও শক্তি লাগে, ব্যর্থতার যন্ত্রনা লুকাতে। হজম করতে।

It is easier to find men who will volunteer to die than to find those who are willing to endure pain with patience—Julius Caesar

আপনি গতো পাঁচ বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত চাকরির জন‍্য চেষ্টা করেছেন। যেই চাকরি পেয়েছেন, সেই সবাই বাহবা দিলো। আপনি যারপরনাই খুশি হলেন। আনন্দে বিগলিত হলেন। ভাসলেন।

কিন্তু আপনি যে গতো পাঁচ বছর দিনের পর দিন পুড়েছেন, কষ্টকে গোপন করেছেন—সেটা কি সবাই দেখেছে? —দেখেনি। আপনি যে পদে পদে লাঞ্ছিত হয়েছেন, সেটা কি সবাই জানে? —জানে না।


খালেদা জিয়াসহ ফিরোজা বাসভবনের সবাই করোনায় আক্রান্ত, চলছে চিকিৎসা

ভ্যাকসিন নিয়ে পাইলট-কেবিন ক্রুরা ৪৮ ঘণ্টা ফ্লাইটে যেতে পারবেন না

মাদরাসা ও মসজিদ লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার দাবি


এই যে লাঞ্ছনাকে পুষতে পেরেছেন, ক্লান্তিকে গিলে মুখে হাসি রেখেছেন—সেটা একটা সংগ্রাম। সেটা একটা যোগ‍্যতা। সেই যোগ‍্যতাই আপনাকে সাফল‍্যের দিকে ধাবিত করেছে। 

একটা রিলেশনশিপ টিকে থাকে কেন? —কারনটা শুধু এই নয় যে আপনি পারফেক্ট পার্টনার পেয়েছন। কারণ, রিলেশনশিপের যে প‍্যারাগুলো আছে, সেগুলো হজম করতে পারছেন। যখন থেকে সেই পেইনগুলো হজম করতে পারবেন না, তখনই রিলেশনশিপ ফেইড হয়ে যায়। 

দীর্ঘদিন যাদের সম্পর্ক টিকে আছে, বিয়ে টিকে আছে সেটা কিন্তু প্রতিদিন তাদের ভালোবাসার হাবুডুবুর কারণে নয়। বরং বিচ্ছেদের কারণ হয় এমন মুহূর্তগুলোকে শিল্পের সাথে মেইকআপ করতে পারার কারণে। সেটাকেই আমরা বলি সেক্রিফাইস, আন্ডারস্টেন্ডিং, মিউচুয়াল কমিটমেন্ট! ভালোবাসায় হাবুডুবু খাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হলো এই সেক্রিফাইস, এই আন্ডারস্টেন্ডিং। বুক ভরা ভালোবাসা সবার থাকে, কিন্তু বুক ভরা সেক্রিফাইস সবার থাকে না। সেখানেই সম্পর্কগুলো টলে যায়। দুর্বল হয়ে ছিঁড়ে যায়। কন্টিনিউয়াস পারস্পরিক বিশ্বাস রাখা—এটা অনেক কষ্টের। এবং এই কষ্টটা হজম শিখতে হয়। এটাই শিল্প! ভালোবাসাটা কিন্তু কাউকে শিখতে হয় না। এইক্ষেত্রে দুজনকেই এটা শিখতে হয়। চর্চা করতে হয়।

দুঃখকে সঙ্গোপনে সাজিয়ে রাখার নাম হলো সাহস। কিন্তু দুঃখের সাথে প্রতিমুহূর্তে বাস করার নাম হলো আত্মাহুতি! আমাদেরকে দুঃখ সাজানোর শিল্প শেখানো হয় না। কষ্ট প‍্যাকেট করে রাখার কৌশল আমাদেরকে শেখানো হয় না। অপমান ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস আমাদেরকে শেখানো হয় না। —এখানেই আমরা বেশিরভাগ মানুষ হেরে যাই।

আমাদেরকে শুধু শেখানো হয় সফল হও। ভালোবেসে উজাড় করে দাও! কিন্তু আমাদেরকে শেখানো হয় না—The art of life is the art of avoiding pain (Thomas Jefferson)। আমাদেরকে শেখানো হয় না—Smooth seas do not make skillful sailors; শান্ত সমুদ্র কখনোই একজন দক্ষ নাবিক তৈরি করে না।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পৃথিবী বড় নির্মম, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে ছিটকে পড়তে হয়

আরিফ জেবতিক

পৃথিবী বড় নির্মম, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে ছিটকে পড়তে হয়

আরিফ জেবতিক

এফডিসির বাংলা সিনেমাওয়ালারা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিলেন যে তাঁদের বানানো ঘর দ্রুতই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে। শুধু এফডিসি বলি কেন, কোডাক কিংবা নোকিয়া যে দশক ঘুরতে না ঘুরতেই বিশ্বের শীর্ষস্থান থেকে নেমে একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে, সেটা কি তাঁরা ভেবেছিলেন?

সরি টু সে, আমার পর্যবেক্ষণ বলে, আমাদের সৃজনশীল প্রকাশকরা যদি এখনও বইমেলা কেন্দ্রিক ব্যবসার মডেল থেকে বের হয়ে না আসেন, তাহলে আগামী দশকে এদের কারোই অস্তিত্ব থাকবে কী না আমার সন্দেহ আছে।

আমাদের দেশে প্রকাশনা এখনও পুরোপুরি শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারেনি। শিক্ষার হার বেড়েছে সে তুলনায় বই প্রকাশনার বড় অংশই টিকে আছে সৌখিন লেখকদের বাইব্যাক, লেখকদের নিজেদের টাকায় বিজ্ঞাপন দেয়া আর আত্মীয় স্বজন বন্ধুবান্ধবদের কাছে পুশ সেল করার মধ্যে। 

এই শখের লিটিলম্যাগ বিক্রি সিস্টেমে ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়াবে না। আশি আর নব্বই দশকের রমরমা ভাব একই মডেলে বসে থেকে এই দশকেও পাওয়া যাবে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। 

বিদেশে ইতিমধ্যে প্রিন্ট অন ডিমান্ড মডেলটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। লেখক ওয়েবসাইটে নিজেদের বই রেখে দেন, আগ্রহী পাঠক অর্ডার দিলে মাত্র সেই এক কপি বইই প্রিন্ট ও বাঁধাই হয়ে পাঠকের কাছে পৌঁছে। যদি বাংলাদেশে প্রিন্ট অন ডিমান্ড কেউ সাকসেসফুলি শুরু করে, তাহলে প্রকাশকদের মাধ্যমে বই প্রকাশ করার ধারা কমে আসবে। 

বই মার্কেটিংয়ের ধারাতেও নতুনত্ব ও চমক আনা দরকার। আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে বটে, কিন্তু পাঠকদের অধিকাংশই প্রিম্যাচিউরড শ্রেণির। প্রথম প্রজন্মের এই শিক্ষিত শ্রেণির কাছে তাই আত্মোন্নয়ন, ধর্মীয় বই, সহজে ইংরেজি শিক্ষা, চাকরি পাওয়া, চাইনিজ রান্না শেখার বইয়ের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি হবে। 


খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের খবর জানে না পরিবার ও দল

খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত কি না তা অফিসিয়ালি জানাবো: ফখরুল

চলছে হেফাজতের সভা, সিদ্ধান্ত হতে পারে মাওলানা মামুনুলের বিষয়ে

করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়া


মার্কেটের এই সেগমেন্ট এখন সার্ভ করা হচ্ছে তুলনামূলক দুর্বল কনটেন্ট দিয়ে। শুধুমাত্র ৫ ফর্মার উপন্যাস এখন আর জনপ্রিয়তা পাবে, এই ডিপজল-সাকিবখান-অপু ফর্মুলা থেকে বের হওয়া দরকার।

পৃথিবী বড় নির্মম, সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারলে এখানে সবাইকেই ছিটকে পড়তে হয়। আমাদের প্রকাশনা শিল্প সময়ের সাথে তাল মেলাবে, এই প্রত্যাশা করা ছাড়া আর কীইবা করতে পারি!

(মত ভিন্ন মত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়।)

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মিতাকে প্রণাম

আলোময় বিশ্বাস

মিতাকে প্রণাম

নিরহঙ্কার, সদাহাস্য মিতা হক এমন এক শিল্পী যার কন্ঠ রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভারবস্তুর রস অনাহত রেখে এগিয়ে চলে, গানটিকে ঐশ্বর্যে এমন এক উচ্চ মাত্রায় জাগিয়ে তোলেন যেখানে আমরা এক সুরের-মিতার দেখা পাই আর সেখানেই সকল শ্রোতার ভালোবাসা অনন্য তাৎপর্যে তাঁকে ছুঁয়ে থাকে।

মিতা হকের জন্ম ১৯৬২ সালে, যখন আয়ুব বিরোধী আন্দোললে উন্মাতাল পূর্ববাংলা, আন্দোলনের হাওয়া লেগেছে কেরানীগঞ্জের ভাওয়াল মনোহরিয়া গ্রামের আবু তৈয়ব মাজহারুল হক সাহেবের বাড়িতেও। জনাব মাজহারুল হক মিতা হকের পিতামহ, তিনি ছিলেন ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির এমএলএ। এই বাড়িতেই এখন মিতা হক তাঁর স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছিলেন। অনেক পরিবর্তন দেখতে দেখতে মিতার জীবন এগিয়ে চলেছে, এখন মনোহরিয়া গ্রাম প্রায় ঢাকা শহরেরই অংশ।

মিতার জন্ম এমন এক পরিবারে যেখানে কণ্ঠে কথা ফোটার আগে সুর খেলেছে। এই সুরের গুরু আর কেউ নন তারই বড়চাচা সংগীতাচার্য ওয়াহিদুল হক, যাঁকে বাঙালি-সমাজ রবীন্দ্রসঙ্গীত ও রবীন্দ্র-গবেষণার অন্যতম পুরোধা পুরুষ হিসাবে গণ্য করে, বাঙালি সঙ্গীতসংস্কৃতি জগতে ওয়াহিদুল হক একেবারেই আলাদা এই কারণে যে তিনি শুধু আত্মমগ্ন হয়ে সংগীত শিক্ষা দেননি, বরং সংগীত শিক্ষা দিতে গিয়ে সংগীতের বাইরের দরজা-জানালাও খুলে রেখেছেন, যেন অন্যান্য আলোও সেখানে প্রবেশ করে।

ওয়াহিদুল হকের হাত ধরেই মিতার সঙ্গীত-যাত্রা, এ এক পরম প্রাপ্তি, মিতার মনন গঠনে ওয়াহিদুল হকের ভূমিকা প্রধান। একটু কান পেতে দাঁড়াতে হবে যদি মিতার কণ্ঠ যদি গেয়ে ওঠে ‘দীর্ঘ জীবনপথ’ কারণ এই সুর মিতা আপনি পেয়ে যান পারিবারিক পরিসরে পায়চারী করতে করতেই। ‘তোমার এই মাধুরী ছাপিয়ে আকাশ ঝরবে’ গানখানি যেন কবিগুরু যত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন মিতাকে দিয়ে গাওয়াবেন বলে। রবীন্দ্রনাথের গানের চিত্রকল্প অনুধাবনে মিতার গানের আগে কান তৈরী হয়ে ছিল।

বাহ্যিক অবয়বে মিতাকে অতি সাধারণ মনে হলেও তিনি অত্যন্ত উচ্চ রুচির কণ্ঠশিল্পী। রাজনৈতিক দৃষ্টিতে তিনি প্রগতিশীল সাম্যের ও মানবতার পক্ষে পরিবারের ঐতিহ্যকেই লালন করেছেন, তাঁর পিতামহ আবু তৈয়ব মাজহারুল হক ছিলেন ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির এমএলএ।


আরও পড়ুনঃ


সন্তানদের লড়াই করা শেখান

শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের নিয়েই হবে প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য

বাংলাদেশের জিহাদি সমাজে 'তসলিমা নাসরিন' একটি গালির নাম

করোনা আক্রান্ত প্রতি তিনজনের একজন মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন: গবেষণা


মিতা অনেক যত্ন নিয়ে, বুঝে গান করতেন, ফলে এই গানের শক্তি অনেক, যা শ্রোতাকে ছুঁয়ে থাকে, স্পর্শকাতর করে রাখে। নাম যশের জন্য নয়, অর্থ প্রাপ্তির জন্য নয় স্বতঃস্ফূর্ত আবেগই তাঁর সঙ্গীতের পথ নির্মাণ করেছে। বড়চাচার মতই তিনি জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের ও ছায়ানটের সাথে থেকে নিরলস কাজ করে গিয়েছেন বাঙালি সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য।

মাত্র এগার বছর বয়সে বার্লিন বিশ্ব-শিশু-উতসবে যোগ দিয়েছিলেন ও গান করেছিলেন সেখানে।

পরিণত মিতা ছিলেন গানের শিক্ষক, তিনি ছায়ানটে গান শেখান, রয়েছে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন সঙ্গীত-প্রতিষ্ঠান ‘সুরতীর্থ’। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসাবে পেয়েছেন একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমির রবীন্দ্র-পদক। এসব ছাপিয়েও বড় বিষয় হলো, রবীন্দ্রসঙ্গীত জগতে মিতা হক এমন একটি নাম, যাঁকে সবাই ভালোবাসে; তাঁর দরাজ কণ্ঠ, তাঁর বিনয়-উজ্জ্বল মুখ, তাঁর নির্মল হাসি, নিরহংকার ব্যক্তিত্ব সবার কাছে ‘নিকট আত্মীয়’ বলে মনে হয়েছে ।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর